সিএএ নিয়ে মমতার সাহায্য চাইলেন দিলীপ

সিএএ নিয়ে মমতার সাহায্য চাইলেন দিলীপ

পশ্চিমবঙ্গে সিএএ কার্যকরে মুখ্যমন্ত্রী মমতার সাহায্য চাইলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। ছবি: পিটিআই

রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ মুখ্যমন্ত্রী মমতার দিকে বল ঠেলে দিয়ে মতুয়াদের ক্ষোভ থেকে বাঁচতে চাইছেন বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।

মতুয়াদের ক্ষোভ থেকে পাশ কাটাতে পশ্চিমবঙ্গ সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন (সিএএ) জারির ঘোর বিরোধী জেনেও রাজ্যটিতে ওই আইন বাস্তবায়ন করতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাহায্য চেয়েছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ।

পশ্চিমবঙ্গে সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন জারির বিরোধী তৃণমূল কংগ্রেস তথা তৃণমূল নেত্রী মমতা।

এবারের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব ভোট প্রচারে নাগরিকত্ব আইন ইস্যু করে ভোটে জিততে চেয়েছিল।

কিন্তু বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে তৃতীয়বারের জন্য আবার সরকার গঠন করে তৃণমূল কংগ্রেস।

গাইঘাটার ঠাকুরনগরে বিধানসভার ভোটের প্রচারে গিয়ে ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের প্রতিশ্রুতি ছিল- করোনা টিকাকরণ শেষ হলে সিএএ মেনে মতুয়াদের নাগরিকত্ব দেয়া হবে।

রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ মুখ্যমন্ত্রী মমতার দিকে বল ঠেলে দিয়ে মতুয়াদের ক্ষোভ থেকে বাঁচতে চাইছেন বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।

কেননা, নাগরিকত্ব দেয়া নিয়ে কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের ওপর মতুয়াদের ক্ষোভ আছে। কারণ বিজেপি নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কথা রাখেনি।

শুক্রবার অশোকনগরের বারাসাত সাংগঠনিক জেলার বৈঠকে যোগ দিয়ে দিলীপ ঘোষ বলেন, ‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় চাইলে এ রাজ্যে তাড়াতাড়ি সিএএ কার্যকর হবে। না হলে কেন্দ্রীয় সরকারের যখন সুবিধা হবে, লকডাউন কেটে গেলে তা কার্যকর হবে।’

সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন নিয়ে তৃণমূলের অবস্থান খুবই স্পষ্ট। এ দেশে বসবাসকারী ভোটদাতা, করদাতা, সম্পত্তির মালিক এবং তাদের পরিবারবর্গ সবাই এ দেশের নাগরিক।

নতুন করে নাগরিকত্ব প্রমাণ করার বা নাগরিকত্বের সার্টিফিকেটের কোনো প্রয়োজন নেই বলে মনে করে তৃণমূল।

তাই এ মুহূর্তে অমিত শাহের মতুয়াদের দেয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা করা সম্ভব নয় বুঝে মতুয়াদের ক্ষোভ থেকে পাশ কাটাতে চাইলেও কেন্দ্রীয় আইন কার্যকর করা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর ওপর নির্ভর করে কি না, প্রশ্নের উত্তরে দিলীপ ঘোষ বলেন, ‘মুখ্যমন্ত্রীর সহযোগিতা চাই।’

উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলা তৃণমূল সভাপতি ও বনমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক এ প্রসঙ্গে বলেন, 'আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই, রাজ্যে নাগরিকত্ব আইন চালু করার প্রয়োজন নেই। আমরা তা করতে দেব না।

‘আমাদের ভোটার কার্ড, আধার কার্ড আছে। আমরা ভোট দিই। আমরা সবাই নাগরিক। তাই নতুন করে নাগরিকত্ব দেয়ার প্রশ্ন নেই।’

জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক আরও বলেন, ‘দিলীপ বাবুর রাজনৈতিক পরিপক্বতা নেই। ওর উচিত সিএএ, এনআরপি, এনআরসি নিয়ে ভালো করে পড়াশোনা করা।’

আরও পড়ুন:
গায়ের রং কালো বলে হেনস্তার শিকার শ্রুতি
পশ্চিমবঙ্গে বিধিনিষেধ: অর্ধেক যাত্রী নিয়ে চালু হলো বাস
পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির বিপর্যয়: ব্যর্থতার দায় রাজ্য নেতাদের ঘাড়ে
ভোট পরবর্তী সহিংসতা: মানবাধিকার কমিশনে আক্রান্তরা
প্রধান বিচারপতির অপসারণ চায় পশ্চিমবঙ্গ বার

শেয়ার করুন

মন্তব্য