ভারতে ফের আলোচনায় অভিন্ন দেওয়ানি বিধি

ভারতে ফের আলোচনায় অভিন্ন দেওয়ানি বিধি

অভিন্ন দেওয়ানি বিধির অর্থ- ভারতের সব নাগরিকের জন্য সমান আইন। বিবাহ, বিবাহবিচ্ছেদ, উত্তরাধিকার, সম্পত্তির অধিকারের মতো বিষয়গুলোতে প্রতিটি ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে যে সব নিয়ম রীতি চালু আছে, তা তুলে দিয়ে গোটা দেশে একটি মাত্র ব্যবস্থার কথা বলেছে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি।

ভারতে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বা ইউনিফর্ম সিভিল কোড ফের আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। ১৯৮৫ সালে শাহবানো মামলার পর বিষয়টি নিয়ে বিতর্কের ঝড় উঠেছিল, তবে সমাধান মেলেনি। দিল্লি হাইকোর্ট সম্প্রতি এক বিবাহ বিচ্ছেদ সংক্রান্ত মামলার পর্যবেক্ষণে এ বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দিয়েছে।

আদালত বলেছে, দেশের সকল নাগরিকের জন্য একটি মাত্র বিধির যথার্থ প্রয়োজনীয়তা আছে। এটি কার্যকর করার ‘সঠিক সময়’ হয়েছে বলে মন্তব্য করে কেন্দ্রীয় সরকারকে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে বলেছে হাইকোর্ট।

মীনা উপজাতির এক নারী এবং তার হিন্দু স্বামীর মধ্যে বিবাহবিচ্ছেদের মামলার সূত্রে আদালত একথা বলেছে।

হাইকোর্টের বিচারপতি প্রতিভা এম সিং রায়ের পর্যবেক্ষণে বলেছেন, ‘ভারতীয় সমাজে বর্ণ, ধর্ম এবং সম্প্রদায়ের সঙ্গে সম্পর্কিত পার্থক্যগুলি অদৃশ্য হয়ে যাচ্ছে। এই পরিবর্তনের কারণে অন্য ধর্ম ও অন্য বর্ণের বিয়ে এবং বিবাহবিচ্ছেদের ক্ষেত্রে সমস্যা রয়েছে। তরুণ প্রজন্মকে এই সমস্যা থেকে বাঁচানো দরকার।

‘এই সময়ে দেশে অভিন্ন সিভিল কোড থাকা উচিত। ইউনিফর্ম সিভিল কোড সম্পর্কিত ৪৪ অনুচ্ছেদে যা বলা হয়েছে তা বাস্তবে রূপান্তরিত করতে হবে।’

হাইকোর্ট তার পর্যবেক্ষণ কার্যকর করতে বিষয়টি কেন্দ্রীয় আইন মন্ত্রকে প্রেরণ করার নির্দেশনা দিয়েছে।

আদালতে যখন বিবাহবিচ্ছেদের মামলাটির শুনানি চলছিল, তখন সামনে চলে আসে অভিন্ন দেওয়ানি বিধির প্রসঙ্গ। বিবাহবিচ্ছেদের বিষয়ে সিদ্ধান্তটি হিন্দু বিবাহ আইন অনুসারে দেওয়া উচিত নাকি মীনা গোত্রের বিধি অনুসারে দেওয়া উচিত, তা নিয়ে চলে যুক্তিতর্ক।

নারীর স্বামী হিন্দু বিবাহ আইন অনুসারে বিবাহবিচ্ছেদ চেয়েছিলেন। কিন্তু স্ত্রী দাবি করেন, মীনা গোত্রের মেয়ে বলে তার ক্ষেত্রে হিন্দু বিবাহ আইনটি প্রযোজ্য নয়। অতএব, পারিবারিক আদালতে স্বামীর দ্বারা দায়ের করা বিবাহবিচ্ছেদের আবেদন নাকচ করা হোক।

স্ত্রীর আবেদনের পরে স্বামী যুক্তি তুলে ধরতে হাইকোর্টে আবেদন করেন। তখন হাইকোর্ট স্বামীর আবেদনের অনুমতি দেয়। এই মামলার শুনানির সময় আদালত ইউনিফর্ম সিভিল কোড বাস্তবায়নের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে। সে মোতাবেক অভিন্ন দেওয়ানি বিধির বিষয় তুলে ধরে নির্দেশনা দেয়।

অভিন্ন দেওয়ানি বিধির অর্থ- ভারতের সব নাগরিকের জন্য সমান আইন। বিবাহ, বিবাহবিচ্ছেদ, উত্তরাধিকার, সম্পত্তির অধিকারের মতো বিষয়গুলোতে প্রতিটি ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে যে সব নিয়ম রীতি চালু আছে, তা তুলে দিয়ে গোটা দেশে একটি মাত্র ব্যবস্থার কথা বলেছে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি।

দেশে বর্তমানে হিন্দু ও মুসলমানদের জন্য পৃথক সামাজিক ও ব্যক্তিগত আইন রয়েছে। সম্পত্তি, বিবাহ, বিবাহবিচ্ছেদ এবং উত্তরসূরির মতো বিষয়গুলো এর অন্তর্ভুক্ত।

দীর্ঘদিন ধরে আলোচনায় থাকা ইউনিফর্ম সিভিল কোড বাস্তবায়নে রয়েছে নানা বাধা ও মতভেদ। ‘ধর্মনিরপেক্ষতা’ সম্পর্কিত বিতর্ক চলে আসে এখানে। যদিও ক্ষমতাসীন দল বিজেপি এটির পক্ষে, তাদের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিতেও বিষয়টি ছিল। কিন্তু কংগ্রেসসহ কয়েকটি দল এর বিরোধিতা করে আসছে। সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্তটিকে বদলানোর জন্য রাজীব গান্ধী সরকার সেসময় সংসদে একটি বিল পাস করিয়েছিল।

দিল্লি হাইকোর্টের নির্দেশনার পর এবার অভিন্ন দেওয়ানি বিধি কার্যকর করার বিষয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের সিদ্ধান্তের দিকে তাকিয়ে দেশবাসী।

শেয়ার করুন

মন্তব্য