বিজেপি ল্যাজ ছাড়া হনু: মমতা

বিজেপি ল্যাজ ছাড়া হনু: মমতা

‘ফল দেখে বোঝা যাচ্ছে কী ফল ধরেছে। মেদিনীপুরের ঘরে ঘরে অত্যাচার করছে। অনেক বিজেপি নেতা-নেত্রীকে চিনতাম কিন্তু এই বিজেপি ল্যাজ ছাড়া হনু।’

ভোটে হেরে গিয়ে বিজেপি বিধানসভা অধিবেশন কক্ষে ল্যাজ ছাড়া হনুর মতো আচরণ করছে বলে কটাক্ষ করেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়।

মঙ্গলবার বিধানসভা অধিবেশনে রাজ্যপালের ভাষণের ওপর আলোচনা করতে গিয়ে নজিরবিহীনভাবে বিজেপির সমালোচনা করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘ফল দেখে বোঝা যাচ্ছে কী ফল ধরেছে। মেদিনীপুরের ঘরে ঘরে অত্যাচার করছে। অনেক বিজেপি নেতা-নেত্রীকে চিনতাম কিন্তু এই বিজেপি ল্যাজ ছাড়া হনু।’

মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, ‘রাজ্যপালকে ভাষণ পাঠ করতে না দিয়ে, আমি কত বড় বলতে এসেছে। পুরো সংবাদ মাধ্যম নির্ভর একটা দল।’

এখানেই শেষ নয়, ভোটের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘বিজেপির যত মিথ্যার বেসাতি। ভোটের আগে এসপি, আইসি বদলেছে।’

‘যা মোদি বলেছে, তাই করেছে। উপযুক্ত অফিসারদের সরিয়ে দেয়া হয়েছিল। তিন মাস অফিসারদের হুমকি দিয়ে রাখা হয়েছিল। আমি নিশ্চিত, বিজেপি ৩০টির বেশি আসন পেত না। নন্দীগ্রামে ভোটারের থেকে বেশি ভোট পড়েছে।’

বহিরাগতদের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, ‘বাংলাকে বহিরাগতদের আখড়া বানিয়ে ফেলেছিল কিন্তু বাংলার মানুষ বহিরাগতদের মেরুদণ্ড ভেঙে দিয়েছে।’

অধিবেশনের শুরুতেই বিজেপি বিধায়করা রাজ্যপালের ভাষণে ভোটপরবর্তী সহিংসতার কথা উল্লেখ নেই বলে রাজ্যপালের ভাষণের ওপর আলোচনায় মুলতবি প্রস্তাব রাখে এবং কসবা টিকা কাণ্ড নিয়ে আলোচনার দাবি তোলে। তারপর হট্টগোল শুরু হয়ে যায়।

পরে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী বক্তব্য রাখতে দাঁড়ালে চরম বিরোধিতার মুখে পড়েন। শুভেন্দু তার বক্তব্যে নন্দীগ্রামের প্রসঙ্গ টেনে আনলে স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়, ‘বিচারাধীন বিষয় নন্দীগ্রাম’ বলে এই বিষয়টি রেকর্ড থেকে বাদ দেয়ার কথা বলেন।

শেয়ার করুন

মন্তব্য

পাহাড়ে ধসে বিপর্যস্ত পশ্চিমবঙ্গের উত্তরাঞ্চল

পাহাড়ে ধসে বিপর্যস্ত পশ্চিমবঙ্গের উত্তরাঞ্চল

পশ্চিমবঙ্গের উত্তরে পাহাড়ি অঞ্চলে ধসে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। ছবি: আনন্দবাজার

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপের জেরে রাজ্যের দক্ষিণাঞ্চলের পর উত্তরাঞ্চলে টানা বৃষ্টি শুরু হয়, যার জেরে এমন পরিস্থিতি। বৃষ্টি অব্যাহত থাকায় এবং একের পর এক ভূমিধসের ফলে উদ্ধারকাজ পরিচালনায় সমস্যায় পড়েছে পুলিশ ও বিপর্যয় মোকাবিলা দল।

একটানা বৃষ্টির কারণে ভারতে পশ্চিমবঙ্গের উত্তরাঞ্চলের পাহাড়ি এলাকায় ব্যাপক ভূমিধস হয়েছে, বিপর্যস্ত জনজীবন।

বুধবারের পরে বৃহস্পতিবার ও নেমেছে ধস। এতে পাহাড় আর সমতলের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। এ অবস্থায় যুদ্ধকালীন তৎপরতায় রাস্তা পরিষ্কারের কাজে হাত লাগিয়েছে প্রশাসন।

ভূমিধসের জন্য শিলিগুড়ি থেকে সিকিম যাওয়ার ১০ নম্বর জাতীয় সড়ক ও শিলিগুড়ি থেকে দার্জিলিং যাওয়ার ৫৫ নম্বর জাতীয় সড়ক বন্ধ রয়েছে।

ফলে জায়গায় জায়গায় আটকা পড়েছেন বহু পর্যটক। অনেকেই মাঝপথে আটকে; যান চলাচল শুরুর অপেক্ষায় বসে আছেন।

দার্জিলিংয়ের ধোতরে, রিম্বিক, মানভঞ্জন, গোক, বিজনবাড়ি এলাকায় ধস নেমেছে। সড়কের একদিক খুলে পর্যটকদের নামিয়ে আনার চেষ্টা চলছে। খুব ধীর গতিতে চলছে গাড়ি।

এ অবস্থায় আগামী তিনদিন পর্যটকদের পাহাড়ের দিকে না যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে প্রশাসন।

শুক্রবার থেকে আবহাওয়ার উন্নতি হতে পারে বলে আলিপুর আবহাওয়া দপ্তর পূর্বাভাসে জানিয়েছে।

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপের জেরে রাজ্যের দক্ষিণাঞ্চলের পর উত্তরাঞ্চলে টানা বৃষ্টি শুরু হয়, যার জেরে এমন পরিস্থিতি। বৃষ্টি অব্যাহত থাকায় এবং একের পর এক ভূমিধসের ফলে উদ্ধারকাজ পরিচালনায় সমস্যায় পড়েছে পুলিশ ও বিপর্যয় মোকাবিলা দল।

আগ্নেয় বা পাললিক- যে শিলা দিয়েই পাহাড় তৈরি হোক না কেন, মুষলধারে বৃষ্টি হলে পাহাড়ের ফাটলে পানি প্রবেশ করে এবং ভূমিধস অবশ্যম্ভাবী হয়ে ওঠে।

তবে সম্প্রতি ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে ভূমিধস বৃদ্ধি পাওয়ার কারণ হিসেবে ভূতাত্ত্বিকরা বলছেন, মানুষের লোভ আর অজ্ঞতার কারণে পাহাড়ি অঞ্চল হুমকির মুখে পড়েছে।

নির্বিচারে বন ধ্বংস আর পাহাড়ের গাছ কেটে ফেলার ফলে পাহাড়ি অঞ্চলের সবুজ আচ্ছাদন সরে যায়। প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে বাঁচার প্রাকৃতিক ঢাল না থাকায় ক্ষতিগ্রস্ত হয় গোটা পাহাড়।

নানা অবকাঠামো নির্মাণে জন্য পাহাড়ের মাটি কেটে, নদী-ঝরণার গতিপথে বাধা সৃষ্টি করে, পাহাড়ের প্রাকৃতিক গঠন নষ্ট করে, মানুষই ধসের মাত্রা বাড়িয়ে দিচ্ছে বলে মত বিশেষজ্ঞদের।

তারা বলছেন, এমনটাই ঘটেছে পশ্চিমবঙ্গের উত্তরাঞ্চলে।

শেয়ার করুন

নিজস্ব নির্মিত প্রথম রকেট মহাকাশে পাঠাল দক্ষিণ কোরিয়া

নিজস্ব নির্মিত প্রথম রকেট মহাকাশে পাঠাল দক্ষিণ কোরিয়া

নুরি নির্মাণে খরচ হয়েছে ১৬০ কোটি ডলার। ছবি: এএফপি

দক্ষিণ কোরীয় সরকার জানিয়েছে, মহাকাশে কৃত্রিম উপগ্রহ বা স্যাটেলাইট পাঠাতে নুরি ব্যবহার করা লক্ষ্য তাদের। কিন্তু এ পরীক্ষাকে অস্ত্র আধুনিকায়নে দেশটির চলমান প্রচেষ্টার অংশ হিসেবেও দেখা হচ্ছে। কারণ মহাকাশযান থেকে শুরু করে জাতিসংঘের নিষিদ্ধ ব্যালিস্টিক মিসাইলও একইরকম প্রযুক্তির অংশ।

দক্ষিণ কোরিয়ার নিজস্ব গবেষণায় নির্মিত প্রথম রকেট মহাকাশে পৌঁছেছে। বিশ্বের সপ্তম রাষ্ট্র হিসেবে সফলভাবে মহাকাশে রকেট পাঠালো দেশটি।

এর মাধ্যমে মহাকাশবিজ্ঞানে উচ্চাভিলাষ পূরণে এক ধাপ এগোলো সিউল।

বিবিসির প্রতিবেদনে জানানো হয়, উৎক্ষেপিত রকেটটির নাম কোরিয়ান স্যাটেলাইট লঞ্চ ভেহিকেল টু, বা সংক্ষেপে নুরি। রাজধানী সিউলের ৫০০ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত গোহিউং থেকে বৃহস্পতিবার ছোড়া হয় রকেটটি।

ধোঁয়ার মেঘের মধ্য থেকে মহাকাশের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করে নুরি। দক্ষিণ কোরিয়ার জন্য ঐতিহাসিক এ ঘটনা সরাসরি সম্প্রচারিত হয় দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন চ্যানেলে। উপস্থাপককে বলতে শোনা যায়, ‘কোনো ত্রুটি ছাড়াই প্রবল গর্জনে আকাশের দিকে ধেয়ে যাচ্ছে নুরি।’

উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যে অস্ত্রের প্রতিযোগিতার মধ্যেই রকেটটি ছুড়েছে সিউল। সম্প্রতি দুটি দেশই নতুন ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষা চালিয়েছে।

নুরি নির্মাণে দক্ষিণ কোরীয় মুদ্রায় খরচ হয়েছে দুই ট্রিলিয়ন ওন, যা ১৬০ কোটি ডলারের সমপরিমাণ।

৪৭ দশমিক দুই মিটার লম্বা নুরির ওজন ২০০ টন। তরল জ্বালানিচালিত ছয়টি ইঞ্জিন রয়েছে এতে।

দক্ষিণ কোরিয়ার মহাকাশ গবেষণা সংস্থা কোরিয়া অ্যারোস্পেস রিসার্চ ইনস্টিটিউট বা কারির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৭ সালের মধ্যে নুরির মতো আরও চারটি রকেট মহাকাশে পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে সিউলের।

বিশ্ব নেতৃত্বে গ্রহণযোগ্যতা বাড়ানোর লক্ষ্যে এমন পরিকল্পনা নিয়েছে দেশটির সরকার।

দক্ষিণ কোরীয় সরকার জানিয়েছে, মহাকাশে কৃত্রিম উপগ্রহ বা স্যাটেলাইট পাঠাতে নুরি ব্যবহার করা লক্ষ্য তাদের।

কিন্তু এ পরীক্ষাকে অস্ত্র আধুনিকায়নে দেশটির চলমান প্রচেষ্টার অংশ হিসেবেও দেখা হচ্ছে। কারণ মহাকাশযান থেকে শুরু করে জাতিসংঘের নিষিদ্ধ ব্যালিস্টিক মিসাইলও একইরকম প্রযুক্তির অংশ।

বিশ্বের প্রযুক্তিগত সক্ষমতার কেন্দ্র হিসেবে মনে করা হয় দক্ষিণ কোরিয়াকে। কিন্তু মহাকাশ গবেষণায় অনেক দেশের তুলনায় বেশ পিছিয়ে দক্ষিণ কোরিয়া।

২০০৯ ও ২০১০ সালেও মহাকাশে রকেট পাঠানোর চেষ্টা করেছিল সিউল। দুটি চেষ্টাই ব্যর্থ হয়েছিল। দ্বিতীয় রকেটটি উড্ডয়নের কয়েক মিনিটের মধ্যেই বিস্ফোরিত হয়েছিল।

২০৩০ সাল নাগাদ চাঁদে একটি অনুসন্ধানী রকেট পাঠাতে চায় দক্ষিণ কোরিয়া।

সম্প্রতি ডুবোজাহাজ থেকে উৎক্ষেপণযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষা চালায় সিউল। চলতি সপ্তাহে অস্ত্রের একটি প্রদর্শনীরও আয়োজন করেছে দেশটি, যা ইতিহাসের বৃহত্তম প্রতিরক্ষা প্রদর্শনী বলে মনে করা হচ্ছে। প্রদর্শনীতে নতুন একটি যুদ্ধবিমান ও মিসাইলের মতো ক্ষেপণাস্ত্রের পর্দা উন্মোচন হবে।

এদিকে, সম্প্রতি বেশ আগ্রাসীভাবেই কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়েছে উত্তর কোরিয়া। শব্দের গতিতে ধাবমান মিসাইল থেকে শুরু করে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রও ছুড়েছে। চলতি সপ্তাহে ডুবোজাহাজ থেকে উৎক্ষেপণযোগ্য একটি মিসাইল জাপান সাগরে ফেলে দেশটি।

পিয়ংইয়ংয়ের এসব পরীক্ষার মধ্যে বেশ কয়েকটি পরীক্ষা আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন।

সম্প্রতি উত্তর কোরিয়াও নিজেদের অস্ত্রভাণ্ডারের একটি প্রদর্শনী করেছে যেখানে ট্যাঙ্ক ও মিসাইল থেকে শুরু করে বিভিন্ন সামরিক সরঞ্জাম হাজির করা হয়েছিল।

এশিয়া মহাদেশে মহাকাশ গবেষণায় এগিয়ে চীন, জাপান ও ভারত। আমেরিকান ধনকুবের ইলন মাস্কের স্পেসএক্স আর জেফ বেজোসের ব্লু ওরিজিনের মতো বেসরকারি প্রতিষ্ঠানও এখন মহাকাশে রকেট পাঠাচ্ছে।

শেয়ার করুন

ফেসবুক-টুইটারের বিকল্প ‘ট্রুথ সোশ্যাল’ আনছেন ট্রাম্প

ফেসবুক-টুইটারের বিকল্প ‘ট্রুথ সোশ্যাল’ আনছেন ট্রাম্প

২০২২ সালের প্রথমার্ধ্বে পূর্ণাঙ্গরূপে চালু হবে ডনাল্ড ট্রাম্পের মালিকানাধীন ট্রুথ সোশ্যাল। ছবি: এএফপি

৭ জানুয়ারি থেকে দুই বছরের জন্য ট্রাম্পকে নিষিদ্ধ করেছে ফেসবুক। ‘তিনি আরও সহিংসতা উসকে দিতে পারেন’-এমন শঙ্কায় টুইটারও ট্রাম্পের অ্যাকাউন্টটি বন্ধ করে দেয়; অ্যাকাউন্টটিতে তার অনুসারীর সংখ্যা সে সময় ছিল প্রায় নয় কোটি। এমন পরিস্থিতিতে গত কয়েক মাস ধরেই ট্রাম্প নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম চালু করবেন বলে শোনা যাচ্ছিল।

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের নিজস্ব একটি অ্যাপ চালু করতে যাচ্ছেন। ফেসবুক-টুইটারের বিকল্প হিসেবে আগামী মাসেই পরীক্ষামূলক যাত্রা শুরু করবে ‘ট্রুথ সোশ্যাল’ অ্যাপ।

বিশ্বের জনপ্রিয়তম ও বহুল ব্যবহৃত সামাজিক মাধ্যম ফেসবুক-টুইটারে নিষিদ্ধ ট্রাম্প জানান, ‘বড় বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াবেন’ তিনি।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, ট্রুথ সোশ্যাল তৈরিতে কাজ করবে একটি নতুন প্রতিষ্ঠান। সাবেক আমেরিকান রাষ্ট্রপ্রধান ও ধনকুবের ডনাল্ড ট্রাম্পের মালিকানাধীন ট্রাম্প মিডিয়া অ্যান্ড টেকনোলজি গ্রুপ (টিএমটিজি) ও একটি বিশেষ অধিগ্রহণ সংস্থা ডিজিটিল ওয়ার্ল্ড অ্যাকুইজিশন করপোরেশন (ডিডব্লিউএসি) একীভূত হয়ে প্রতিষ্ঠানটি গঠন করবে।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বুধবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে দুটি কোম্পানিই। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিটিতে ট্রাম্প একটি লিখিত বক্তব্যও দিয়েছেন।

তিনি লিখেছেন, ‘আমরা এমন এক বিশ্বে বাস করি, যেখানে টুইটারের মতো প্ল্যাটফর্মে তালেবানের মতো কট্টরপন্থিদের বিচরণ দিন দিন বাড়ছে। তাও আপনাদের জনপ্রিয় আমেরিকান প্রেসিডেন্ট নিশ্চুপ। এটা অগ্রহণযোগ্য।

‘টিএমটিজি সব মানুষকে কথা বলার সুযোগ দেয়ার মহৎ লক্ষ্য নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল… ট্রুথ সোশ্যালে আমার সত্যটা আমি প্রকাশ করব খুব শিগগিরই। নিজের চিন্তাভাবনা আপনাদের সঙ্গে ভাগাভাগি করে নেব এবং বড় বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে লড়াই করব।’

চলতি বছরের ৬ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে পার্লামেন্ট ভবন ক্যাপিটল হিলে দাঙ্গার ঘটনায় টুইটার-ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যম ট্রাম্পের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয়। ট্রাম্প সমর্থকদের চালানো ওই সহিংসতার ঘটনায় ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তার উসকানিতেই ঘটেছে নজিরবিহীন ওই ঘটনা।

৭ জানুয়ারি থেকে দুই বছরের জন্য ট্রাম্পকে নিষিদ্ধ করেছে ফেসবুক। ‘তিনি আরও সহিংসতা উসকে দিতে পারেন’-এমন শঙ্কায় টুইটারও ট্রাম্পের অ্যাকাউন্টটি বন্ধ করে দেয়; অ্যাকাউন্টটিতে তার অনুসারীর সংখ্যা সে সময় ছিল প্রায় নয় কোটি।

এমন পরিস্থিতিতে গত কয়েক মাস ধরেই ট্রাম্প নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম চালু করবেন বলে শোনা যাচ্ছিল।

নির্ধারিত তিন ধাপের কর্মপরিকল্পনার প্রথম ধাপ অনুযায়ী, সব ঠিক থাকলে আগামী মাসের কোনো এক সময় যাত্রা শুরু করবে নতুন সামাজিক মাধ্যমটি। ২০২২ সালের প্রথমার্ধ্বেই পূর্ণাঙ্গরূপে চালু হবে ট্রুথ সোশ্যাল।

দ্বিতীয় ধাপে টিএমটিজি প্লাস নামের একটি সাবস্ক্রিপশনভিত্তিক ভিডিও সেবা চালু হবে। এতে থাকবে বিনোদন ও সংবাদমূলক কনটেন্ট আর পডকাস্ট।

নিজেদের ওয়েবসাইটে টিএমটিজি আভাস দিয়েছে, অ্যামাজন ডটকমের এডব্লিউএস ক্লাউড আর গুগল ক্লাউডকে টেক্কা দেয়া লক্ষ্য তাদের।

বিবৃতিতে টিএমটিজি জানিয়েছে, পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার জন্য ডিডব্লিউএসির সঙ্গে একীভূত হবে প্রতিষ্ঠানটি। ডিডব্লিউএসি একটি ‘ব্ল্যাংক চেক কোম্পানি’, অর্থাৎ কোনো সুনির্দিষ্ট ব্যবসায়িক পরিকল্পনা বা লক্ষ্য-উদ্দেশ্য নেই তাদের। বরং অন্য কোনো ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত হওয়াই লক্ষ্য ডিডব্লিউএসির।

২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে পরাজয়ের পর ২০২৪-এ পরবর্তী নির্বাচনে ট্রাম্প প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়। তবে এর মধ্যে নির্বাচনী প্রচারধর্মী বেশ কিছু জনসমাবেশে অংশ নিয়েছেন রিপাবলিকান এ নেতা।

শেয়ার করুন

ভারত-নেপালে বন্যায় মৃত্যু বেড়ে ২০০

ভারত-নেপালে বন্যায় মৃত্যু বেড়ে ২০০

নেপালের বিরাটনগরে বন্যায় পানিবন্দি অভ্যন্তরীণ বিমানবন্দরটিও। ছবি: এএফপি

চলতি বন্যায় ভারত ও নেপাল দুই দেশেই উদ্ধারকাজে সহযোগিতা করছে আন্তর্জাতিক দাতব্য সংস্থা রেড ক্রস। নেপালে সংস্থাটির কর্মকর্তা আজমত উল্লা বলেন, ‘নেপাল ও ভারত করোনাভাইরাস মহামারি আর ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ চিড়েচ্যাপ্টা হচ্ছে। কয়েক কোটি মানুষের জীবন-জীবিকা হুমকির মুখে পড়েছে।’

অতিবৃষ্টির ফলে সৃষ্ট বন্যা ও ভূমিধসে নেপালে সোমবার থেকে দুইদিনে প্রাণ গেছে কমপক্ষে ৯৯ জনের। প্রতিবেশী ভারতেও মুষলধারে বৃষ্টির পর বন্যা ও ভূমিধসের ধ্বংসযজ্ঞে ছয়দিনের মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে কমপক্ষে ৮৮ জনে।

বার্তা সংস্থা এপির প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, প্রতি মুহূর্তেই দেশ দুটিতে দীর্ঘ হচ্ছে মৃত্যুর মিছিল। বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে সড়ক, পানির তোড়ে ভেঙে গেছে সেতু, ভূমিধসে নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে বিপুলসংখ্যক বাড়িঘর।

নেপাল পুলিশ জানিয়েছে, দেশটিতে কমপক্ষে ৪০ জন নিখোঁজ রয়েছে। তাদের সন্ধানে মাঠে রয়েছে উদ্ধারকর্মীরা। প্রাণহানি আরও বাড়তে পারে বলেই শঙ্কা তাদের।

পুলিশের মুখপাত্র বসন্ত বাহাদুর কুনওয়ার জানিয়েছেন, নেপালে প্রাণহানির বেশিরভাগই ঘটেছে দেশের পূর্ব ও পশ্চিমাঞ্চলে। প্রায় এক সপ্তাহ ধরে প্রবল বৃষ্টি হচ্ছে অঞ্চলগুলোতে।

সন্ধান ও উদ্ধারকর্মীরা বন্যাদুর্গতদের উদ্ধার করে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিচ্ছে এবং আহতদের হাসপাতালে চিকিৎসার ব্যবস্থা করছে। বৃষ্টি-বন্যাজনিত দুর্ঘটনায় আহত হয়ে কমপক্ষে ৩৫ জন চিকিৎসাধীন আছে।

নেপালের প্রধানমন্ত্রী শের বাহাদুর বৃহস্পতিবার বন্যাকবলিত পশ্চিমাঞ্চল পরিদর্শন করেছেন এবং উদ্ধার, পুনর্বাসন ও ত্রাণ কার্যক্রমে গতি বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন।

আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার দিনের শেষভাগ থেকে নেপালে বৃষ্টি কমা শুরু হতে পারে। তবে আবহাওয়া স্বাভাবিক হতে হতে প্রায় সপ্তাহখানেক লেগে যেতে পারে।

অন্যদিকে, ভারতের দক্ষিণাঞ্চলীয় রাজ্য কেরালায় গত শুক্রবার থেকে এবং উত্তরের উত্তরাখণ্ডে রোববার থেকে টানা বৃষ্টির পর বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। পাহাড়ি ঢল আর ভূমিধসে কেরালায় কমপক্ষে ৪২ জন আর উত্তরাখণ্ডে ৪৬ জনের মৃত্যু হয়েছে।

দুটি রাজ্যেই সামনের দিনগুলোতে আরও বেশি বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস রয়েছে।

ভারত-নেপালে বন্যায় মৃত্যু বেড়ে ২০০
উত্তরাখণ্ডের ঋষিকেশে গঙ্গা নদীতে পানি বিপৎসীমার ওপরে। ছবি: এএফপি

ভারতে হিমালয়ের কোলঘেঁষা উত্তরাঞ্চল বন্যা ও ভূমিধসপ্রবণ। বিজ্ঞানীদের মতে, বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির প্রভাবে হিমবাহ গলতে থাকায় অঞ্চলটিতে বন্যা ও ভূমিধসের ঘটনা বাড়ছে।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতেই উত্তরাখণ্ডে আকস্মিক বন্যায় প্রায় দুই শ মানুষের মৃত্যু হয়। ভেসে যায় অসংখ্য বাড়িঘর। ২০১৩ সালে একই রাজ্যে বন্যায় মারা গেছিল প্রায় ছয় হাজার মানুষ।

আর ২০১৮ সালে প্রলয়ংকরী বন্যার শিকার হয় কেরালা। সে বছর বর্ষার মৌসুমে অতিবৃষ্টিতে রাজ্যটিতে প্রাণ যায় চার শতাধিক মানুষের, গৃহহীন হয় লাখো মানুষ।

এ বছর বর্ষার মৌসুম পার হয়ে যাওয়ার পর অতিবৃষ্টি হচ্ছে দক্ষিণ এশিয়ার দেশ দুটিতে। আরব সাগরে সৃষ্ট লঘুচাপের কারণে এমন পরিস্থিতি বলে জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদরা।

চলতি বন্যায় ভারত ও নেপাল দুই দেশেই উদ্ধারকাজে সহযোগিতা করছে আন্তর্জাতিক দাতব্য সংস্থা রেড ক্রস। নেপালে সংস্থাটির কর্মকর্তা আজমত উল্লা বলেন, ‘নেপাল ও ভারত করোনাভাইরাস মহামারি আর ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ চিড়েচ্যাপ্টা হচ্ছে। কয়েক কোটি মানুষের জীবন-জীবিকা হুমকির মুখে পড়েছে।’

শেয়ার করুন

তৃণমূল সম্প্রসারণে গোয়া যাচ্ছেন মমতা

তৃণমূল সম্প্রসারণে গোয়া যাচ্ছেন মমতা

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ফাইল ছবি

তৃণমূল নেতা ডেরেক ও’ব্রায়ান ও প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরে এরই মধ্যে গোয়ার কয়েকজন নেতা দলটিতে যোগ দিয়েছেন। এদের মধ্যে আছেন জাতীয় পর্যায়ের দুই খেলোয়াড় ডেনজিল ফ্র্যাঙ্কো ও লেনিন ডা গামা। আর গোয়ার সাবেক মুখ্যমন্ত্রী লুইজিনহো ফেলেইরো আটজন বিধায়ক সঙ্গে নিয়ে কলকাতায় পৌঁছে যোগ দিয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেসে।

অসিত পুরকায়স্থ, কলকাতা

ত্রিপুরার পর গোয়া। ভারতের এই রাজ্যটিতেও রাজনৈতিক কর্মতৎপরতা শুরু করেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

তৃণমূল সম্প্রসারণে বাড়তি গুরুত্ব দিয়ে আগামী সপ্তাহে গোয়া সফরে যাচ্ছেন তিনি।

সূত্রের খবর, রাজ্যের উত্তরে পার্বত্য অঞ্চলে আসন্ন সফর শেষে ২৮ অক্টোবর গোয়া যেতে পারেন মুখ্যমন্ত্রী।

চলতি বছর বিধানসভা নির্বাচনে বিপুল আসনে জয়লাভের পর পশ্চিমবঙ্গ থেকে ভারতের অন্যান্য রাজ্যে সাংগঠনিক কর্মপরিধি বাড়াতে উদ্যোগী হয়েছে তৃণমূল। সে তালিকায় প্রথমেই আছে ত্রিপুরা ও গোয়া।

তৃণমূলের রাজনৈতিক শক্তি বৃদ্ধির লক্ষ্যে দুই নেতা ডেরেক ও’ব্রায়ান ও প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়কে গোয়ায় পাঠিয়েছিলেন তৃণমূল নেত্রী।

তাদের হাত ধরে এরই মধ্যে গোয়ার কয়েকজন নেতা তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন। এদের মধ্যে আছেন জাতীয় পর্যায়ের দুই খেলোয়াড় ডেনজিল ফ্র্যাঙ্কো ও লেনিন ডা গামা।

একই সঙ্গে গোয়ার সাবেক মুখ্যমন্ত্রী লুইজিনহো ফেলেইরো আটজন বিধায়ক সঙ্গে নিয়ে কলকাতায় পৌঁছে যোগ দিয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেসে।

পূজার সময় তৃণমূল কংগ্রেস তাদের রাজনৈতিক কার্যালয় খুলেছে গোয়ায়। এরপরই সেখানে যাচ্ছেন মমতা। গোয়ায় তার বেশ কিছু কর্মসূচি রয়েছে। দুইদিনের সফর শেষে ১ নভেম্বর তিনি কলকাতা ফিরতে পারেন বলে সূত্রের বরাতে জানা গেছে।

এদিকে, পশ্চিমবঙ্গের উত্তরাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতি সরেজমিনে খতিয়ে দেখতে রোববার সেখানে যাওয়ার কথা মমতার। পরদিন জলপাইগুড়ির উত্তরকন্যায় প্রশাসনিক বৈঠক করবেন।

এরপর মঙ্গল ও বুধবার কার্শিয়াং যাওয়ার কথা তার। সেখানে বন্যা পরিস্থিতি পরিদর্শন শেষে ২৮ অক্টোবর বুধবার কলকাতা ফিরেই তিনি গোয়ার উদ্দেশ্যে রওনা দেবেন বলে জানা গেছে।

ত্রিপুরায় তৃণমূলের সংগঠন মজবুত করতে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।

আর গোয়ায় সংগঠনের নেতৃত্বের দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছেন তৃণমূল সভানেত্রী। সবমিলিয়ে গোয়ায় মমতার সফর তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।

শেয়ার করুন

সাংবাদিকদের ফের মারধর তালেবানের

সাংবাদিকদের ফের মারধর তালেবানের

কাবুলে বৃহস্পতিবার নারীদের বিক্ষোভের সময় সাংবাদিকদের মারধর করে তালেবান যোদ্ধারা। ছবি: এএফপি

বিক্ষোভ আয়োজনকারীদের একজন জাহরা মোহাম্মাদি বলেন, ‘আফগান সব মেয়ে ও নারীর প্রতি আমার বার্তা হচ্ছে, তালেবানকে ভয় পেও না। ঘরের বাইরে বের হও। আত্মত্যাগ কর। নিজের অধিকারের জন্য লড়াই কর। পরের প্রজন্ম যাতে শান্তিতে থাকতে পারে, এ জন্য আমাদের আত্মত্যাগ করতে হবে।’

নারী অধিকার রক্ষার দাবিতে চলা বিক্ষোভে সাংবাদিকদের ফের মারধর করেছে তালেবান। হামলার শিকার সাংবাদিকদের একজন বিদেশিও ছিলেন।

আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলের উপকণ্ঠে বৃহস্পতিবার সকালে ওই হামলা হয় বলে বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, অধিকারের দাবিতে কাবুলে প্রায় ২০ জন নারী আফগানিস্তানের শিক্ষা মন্ত্রণালয় ভবনের কাছ থেকে অর্থ মন্ত্রণালয়ের দিকে মিছিল করে যান।

ওই সময় নারীরা প্ল্যাকার্ড হাতে ‘শিক্ষা নিয়ে রাজনীতি বন্ধ কর’ স্লোগান দেন। তাদের প্ল্যাকার্ডে ‘আমাদের পড়াশোনা ও কাজ করার অধিকার নেই’ ও ‘বেকারত্ব, দারিদ্র্য, ক্ষুধার অবসান চাই’ লেখা ছিল।

ওই নারীদের দেড় ঘণ্টা বিক্ষোভের অনুমতি দেয় তালেবান কর্তৃপক্ষ।

বিক্ষোভ চলাকালে দেশি-বিদেশি সাংবাদিকরা তাদের দায়িত্ব পালন করছিলেন। একপর্যায়ে তালেবানের এক যোদ্ধা রাইফেলের বাট দিয়ে বিদেশি এক সাংবাদিককে আঘাত করেন, তাকে লাথি মারেন। আরেক যোদ্ধা ওই সাংবাদিককে ঘুসি মারেন।

এ ছাড়া কমপক্ষে আরও দুই সাংবাদিক ওই সময় তালেবান যোদ্ধাদের হামলার শিকার হন।

বিক্ষোভ আয়োজনকারীদের একজন জাহরা মোহাম্মাদি জানান, ঝুঁকি সত্ত্বেও আফগান নারীরা নিজেদের অধিকারের জন্য মিছিল করেছে।

তিনি বলেন, ‘পরিস্থিতি হচ্ছে, দেশি-বিদেশি সাংবাদিক, নারী থেকে শুরু করে কাউকেই সম্মান করছে না তালেবান।

‘তালেবান মেয়েদের পড়াশোনার অধিকার কেড়ে নিয়েছে। তাদের স্কুল অবশ্যই খুলে দিতে হবে।’

সাংবাদিকদের ফের মারধর তালেবানের

কাবুলের উপকণ্ঠে বৃহস্পতিবার অধিকারের দাবিতে বিক্ষোভ করেন আফগান নারীরা। ছবি: এএফপি

চলতি বছরের মধ্য আগস্টে আফগানিস্তানের ক্ষমতা দখল করে তালেবান। এরপর দেড় মাসের বেশি ধরে দেশটির মাধ্যমিক স্কুলের মেয়েশিক্ষার্থীরা স্কুল যেতে পারছে না। পাশাপাশি আফগান নারীদের কর্মস্থলে কাজ করার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে কট্টর ইসলামপন্থি গোষ্ঠীটি।

মোহাম্মাদি বলেন, ‘আফগান সব মেয়ে ও নারীর প্রতি আমার বার্তা হচ্ছে, তালেবানকে ভয় পেও না। এমনকি তোমাদের পরিবারের সদস্যরা ঘর থেকে বের হওয়ার অনুমতি না দিলেও ভয় পাবে না।

‘ঘরের বাইরে বের হও। আত্মত্যাগ কর। নিজের অধিকারের জন্য লড়াই কর।

‘পরের প্রজন্ম যাতে শান্তিতে থাকতে পারে, এ জন্য আমাদের আত্মত্যাগ করতে হবে।’

বিক্ষোভের সময় নারীদের মিছিলের পাশাপাশি শিশুদেরও হাঁটতে দেখা যায়। তবে তারা মিছিলের অংশ ছিল কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

এর আগে ২৬ আগস্ট কাবুলে আফগান সংবাদমাধ্যম টোলোনিউজের সাংবাদিক জিয়ার খান ইয়াদ ও তার ক্যামেরাম্যান তালেবানের আক্রমণের শিকার হন।

পরে ১০ সেপ্টেম্বর অন্য আরেক নারী বিক্ষোভের প্রতিবেদন তৈরির সময় কমপক্ষে পাঁচ সাংবাদিককে গ্রেপ্তার করে তালেবান। তাদের মধ্যে দুজনকে বেশ কয়েক ঘণ্টা ধরে নির্মমভাবে পেটানো হয়।

শেয়ার করুন

১০০ কোটি ডোজের মাইলফলক পার ভারতের

১০০ কোটি ডোজের মাইলফলক পার ভারতের

দেশের মানুষকে করোনা টিকার ১০০ কোটি ডোজ দেয়া হয় বলে বৃহস্পতিবার জানায় ভারত সরকার। ছবি: এনডিটিভি

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক পরিচালক ড. পুনম ক্ষেত্রপাল সিং বলেন, ‘করোনা প্রতিষেধক টিকাকরণের আরও একটি মাইলফলক পার করার জন্য ভারতকে অনেক অভিনন্দন। স্বল্প সময়ের মধ্যে এই অসাধারণ কীর্তি শক্তিশালী রাজনৈতিক নেতৃত্ব, স্বাস্থ্য এবং সামনের সারির সব কর্মীর নিবেদিত প্রচেষ্টা এবং জনগণের সহযোগিতা ছাড়া সম্ভব ছিল না।’

করোনাভাইরাস টিকাকরণে আরেকটি উল্লেখযোগ্য মাইলফলক অতিক্রম করেছে ভারত।

ভারত সরকার বৃহস্পতিবার সকালে ঘোষণা করে, দেশের মানুষকে ১০০ কোটি ডোজ করোনা টিকা দেয়া হয়েছে।

এ উপলক্ষে দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি রাজধানী নয়াদিল্লির রাম মনোহর লোহিয়া হাসপাতালে যান।

চলতি বছরের জানুয়ারিতে গণটিকাকরণ কর্মসূচি সূচনার পর ভারত সরকার জানায়, ডিসেম্বরের মধ্যে দেশটির ১০০ কোটি মানুষকে করোনা টিকা দেয়া হবে।

১০০ কোটি ডোজ টিকা দেয়ার মাইলফলক পার হতেই প্রধানমন্ত্রী মোদি, স্বাস্থ্যমন্ত্রী মনসুখ মন্দাভিয়া সবাইকে অভিনন্দন জানান।

টিকার ডোজের ৬৫ শতাংশ ভারতের গ্রামাঞ্চলের মানুষ পায়। সামগ্রিকভাবে আনুমানিক প্রাপ্তবয়স্ক জনসংখ্যার ৭৪ শতাংশ প্রথম ডোজ পায়, ৩১ শতাংশ টিকার দুটি ডোজই পেয়েছে।

কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ভারত ১০ কোটি টিকাকরণ করতে ৮৫ দিন সময় নিয়েছে। ২০ কোটি ছাড়িয়ে যেতে আরও ৪৫ দিন এবং ৩০ কোটির অঙ্কে পৌঁছতে আরও ২৯ দিন সময় নেয়।

৩০ কোটি ডোজ থেকে ৪০ কোটিতে পৌঁছতে ২৪ দিন সময় লাগে এবং ৫০ কোটির টিকা চিহ্ন ছাড়িয়ে যেতে আরও ২০ দিন সময় নেয়। পরের ৭৬ দিনে পৌঁছে যায় ১০০ কোটি ডোজ টিকাকরণে।

১৬ জানুয়ারি ভারতজুড়ে টিকাকরণ অভিযান শুরু হয়। প্রথম পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা কর্মীদের টিকা দেয়া হয়। ফ্রন্টলাইন কর্মীদের টিকাদান ২ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হয়।

গত বছরের জুন-জুলাই মাসে গোটা বিশ্ব যখন করোনার সঙ্গে পুরোদমে লড়াই করছিল, সে সময় ভারতে করোনা টিকাকরণের প্রস্তুতি শুরু হয়ে যায়। বছর শেষের আগেই হাতে চলে আসে দুটি করোনার টিকা- কোভ্যাক্সিন ও কোভিশিল্ড।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক পরিচালক ড. পুনম ক্ষেত্রপাল সিং বলেন, ‘করোনা প্রতিষেধক টিকাকরণের আরও একটি মাইলফলক পার করার জন্য ভারতকে অনেক অভিনন্দন।

‘ভারতে কোভিড-১৯ টিকার এক বিলিয়ন ডোজ দেয়া হয়েছে। স্বল্প সময়ের মধ্যে এই অসাধারণ কীর্তি শক্তিশালী রাজনৈতিক নেতৃত্ব, স্বাস্থ্য এবং সামনের সারির সব কর্মীর নিবেদিত প্রচেষ্টা এবং জনগণের সহযোগিতা ছাড়া সম্ভব ছিল না।’

শেয়ার করুন