করোনা কমছে: স্বাভাবিক ছন্দে ফিরছে পশ্চিমবঙ্গ

করোনা কমছে: স্বাভাবিক ছন্দে ফিরছে পশ্চিমবঙ্গ

পশ্চিমবঙ্গে করোনা সংক্রমণ কমছে। ছবি: সংগৃহীত

প্রতিদিন মজুর, হকার, পরিবহন কর্মী, নির্মাণ শ্রমিক নানা পেশায় যুক্ত লাখ লাখ মানুষ শহরে ঢুকছেন আবার বেরিয়ে যাচ্ছেন। এদের নিয়ে চিন্তা বেশি। এদেরই বলা হচ্ছে সুপার স্প্রেডার। সমাজের এই সমস্ত মানুষদের টিকা দিয়ে রাজ্যে করোনাভাইরাস সংক্রমণ কমেছে বলে দাবি করেছেন কলকাতা পৌরসভার মুখ্য প্রশাসক ও পরিবহন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে নিয়ে এসেছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে।

স্বাভাবিক ছন্দে ফিরছে রাজ্যটি।

স্বাস্থ্য দপ্তরের বুলেটিন অনুযায়ী, রাজ্যে মোট আক্রান্ত আক্রান্ত হয়েছেন ১৫ লাখ ৬ হাজার ২৭৯ জন। যাদের মধ্যে ১৪ লাখ ৭০ হাজার ৫১২ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন। ফলে রাজ্যের সুস্থতার হার দাঁড়িয়েছে ৯৭.৬৩ শতাংশে।

২০১১ সালের গণনা অনুযায়ী, কলকাতায় ৫০ লাখ মানুষ বাস করেন।

কিন্তু পৌরসভার মাথাব্যথা, প্রতিদিন লাখ লাখ মানুষ মজুর, হকার, পরিবহন কর্মী, নির্মাণ শ্রমিক নানা পেশায় যুক্ত মানুষ শহরে ঢুকছেন আবার বেরিয়ে যাচ্ছেন। এদের নিয়ে চিন্তা বেশি। এদেরই বলা হচ্ছে সুপার স্প্রেডার।

সমাজের এই সমস্ত মানুষদের টিকা দিয়ে রাজ্যে করোনাভাইরাস সংক্রমণ কমেছে বলে দাবি করে কলকাতা পৌরসভার মুখ্য প্রশাসক ও পরিবহন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম বলেন, ‘যেহেতু পার্শ্ববর্তী জেলা থেকে প্রচুর মানুষ কলকাতার স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে টাকা নিচ্ছেন তাই স্বাস্থ্য দপ্তরকে কলকাতার কোটায় আরও বেশি টিকা দিতে বলেছি। তাহলে কোভিডের সংক্রমণ থেকে শহরকে আরও বেশি সুরক্ষিত রাখতে পারব।’

সোমবার এসএসকেএমের অ্যাকাডেমিক বিল্ডিংয়ে কোভিড কেয়ার নেটওয়ার্কের উদ্যোগে আয়োজিত ‘আসন্ন করোনার তৃতীয় ঢেউ মোকাবিলায় সামাজিক প্রস্তুতি এবং তাতে নাগরিকদের ভূমিকা’ শীর্ষক এক আলোচনায় অংশ নেন চিকিৎসক অভিজিৎ চৌধুরী, দীপেন্দ্র সরকার, অভিনেতা দেবশংকর হালদার, কৌশিক সেন, সাবেক ক্রিকেটার উৎপল চট্টোপাধ্যায় এবং সাংবাদিক গৌতম ভট্টাচার্য।

আলোচনায় বিশিষ্টজনেরা করোনা সংক্রমনের আশু বিপদ থেকে রক্ষা পেতে সবাইকে করোনা বিধি মেনে চলার পরামর্শ দেয়ার পাশাপাশি রাজ্য সরকারকে আত্মতুষ্টিতে না ভুগে টিকা প্রদান কার্যসূচিতে জোর দেয়ার পরামর্শ দেন।

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়ের পরামর্শ মেনে ব্যাপকহারে সুপার স্প্রেডারদের টিকা দিয়ে এবং আত্মশাসন মেনে চলার ফলে রাজ্যে সংক্রমণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে বলে দাবি করে কলকাতা পুরসভার মুখ্য প্রশাসক ফিরহাদ হাকিম বলেন, ‘সুপার স্প্রেডারদের এবং ৪৫ ঊর্দ্ধদের বেশি করে টিকাকরণ করার সুফল কিছুটা পাওয়া গেছে।’

দুমাস আগেও করোনাভাইরাস সংক্রমণ চোখ রাঙাচ্ছিল রাজ্যে।

২০০০-এর গণ্ডি ছাড়িয়ে গিয়েছিল প্রতিদিনের করোনাভাইরাস সংক্রমণের সংখ্যা। জুলাইয়ের শুরুতে ভাইরাস সংক্রমণের সেই হার নিম্নমুখী হয়।

সব মিলিয়ে স্বাভাবিক ছন্দে ফিরছে পশ্চিমবঙ্গ।

সোমবার সন্ধ্যার রাজ্য সরকারের হেলথ বুলেটিন অনুযায়ী, কলকাতায় ৬৪ জন করোনাভাইরাস সংক্রমিত হয়েছেন। গত ২৪ ঘণ্টায় রাজ্যে মৃত্যু হয়েছে ১৮ জনের। কলকাতায় দুজনের মৃত্যু হয়েছে।

রাজ্যের মোট সংক্রমিতের সংখ্যা হাজারের নিচে—৮৮৫ জন। এদের মধ্যে ১০৯ জন উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার। এখন পর্যন্ত এই জেলাতেই দৈনিক সংক্রমণ সর্বোচ্চ।

এ দিন রাজ্যে ৪০ হাজার ৩৮৮টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। তাতে করোনা পজিটিভ রেট ২.১৯ শতাংশে নেমে গেছে।

আরও পড়ুন:
তৃতীয় ধাক্কা সামলাতে দিনে ৮৭ লাখ ডোজ লাগবে ভারতের

শেয়ার করুন

মন্তব্য