যুক্তরাষ্ট্রে গোলাগুলিতে ৭২ ঘণ্টায় নিহত ১৫৪

যুক্তরাষ্ট্রে গোলাগুলিতে ৭২ ঘণ্টায় নিহত ১৫৪

চলতি বছর যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে আগ্নেয়াস্ত্র সহিংসতায় প্রাণ গেছে ২২ হাজার ৬৫১ জনের। এদের মধ্যে আত্মহত্যার সংখ্যা ১২ হাজার ৩৪২। হত্যা করা হয়েছে ১০ হাজার ৩০৯ জনকে।

যুক্তরাষ্ট্রে আগ্নেয়াস্ত্র সহিংসতায় তিন দিনে প্রাণ গেছে কমপক্ষে ১৫৪ জনের। ৪ জুলাই স্বাধীনতা দিবসের ছুটির মধ্যে দেশটি জুড়ে চার শতাধিক এলোপাতাড়ি গুলির ঘটনা ঘটেছে।

সিএনএনের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, শুক্রবার থেকে রোববার পর্যন্ত ৭২ ঘণ্টায় এ বিপুলসংখ্যক গোলাগুলি ও প্রাণহানির খবর জানা গেছে। সময়ের সঙ্গে আরও বাড়ছে এ সংখ্যা।

সবচেয়ে উন্নত দেশে নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে ব্যাপক অবনতির তথ্য নিয়মিত হালনাগাদ করছে যুক্তরাষ্ট্রের গান ভায়োলেন্স আর্কাইভ।

গত কয়েক বছর ধরে সবচেয়ে বেশি আগ্নেয়াস্ত্র সহিংসতা দেখেছে নিউইয়র্ক। ৪ জুলাই পর্যন্ত তিন দিনে ২১টি গোলাগুলির ঘটনায় প্রাণ গেছে ২৬ জনের। গত বছরও একই সময়ে ২৫টি গোলাগুলির ঘটনায় ৩০ জনের প্রাণহানি হয়েছিল বলে জানিয়েছে নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগ (এনওয়াইপিডি)।

শুধু রোববারই শহরটিতে ১২টি গোলাগুলির ঘটনায় নিহত হয়েছে ১৩ জন। গত বছর এ পরিসংখ্যান ছিল আটটি গোলাগুলির ঘটনায় আটজনের মৃত্যু।

এনওয়াইপিডি জানিয়েছে, চলতি বছরের প্রথম পাঁচ মাসে নিউইয়র্কে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় আগ্নেয়াস্ত্র সহিংসতা বেড়েছে প্রায় ৪০ শতাংশ। এ বছর এখন পর্যন্ত ৭৬৭টি গোলাগুলির ঘটনায় নিহত হয়েছে ৮৮৫ জন।

শিকাগোতে সোমবার পর্যন্ত চার দিনে গুলিতে প্রাণ গেছে সেনাসদস্যসহ ১৪ জনের, আহত হয়েছে দুই শিশুসহ ৮৩ জন।

তবে এই শহরটিতে গত বছরের তুলনায় আগ্নেয়াস্ত্র সহিংসতা কিছুটা কমেছে। গুলিতে আত্মহত্যার ঘটনা ৯৮টি থেকে ২০ শতাংশ কমে এ বছর ৭৮টি হয়েছে; হত্যার ঘটনায় ৪১৬টি থেকে ১৩ শতাংশ কমে ৩৬৩। এসব ঘটনায় প্রাণহানি এ বছর ৪৯৯, যা গত বছরের তুলনায় আট শতাংশ কম।

আটলান্টা, টেক্সাস, ভার্জিনিয়া, ওহাইওসহ বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে গত কয়েকদিনে আগ্নেয়াস্ত্র সহিংসতা হয়েছে ব্যাপক।

চলতি বছর যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে আগ্নেয়াস্ত্র সহিংসতায় প্রাণ গেছে ২২ হাজার ৬৫১ জনের। এদের মধ্যে আত্মহত্যার সংখ্যা ১২ হাজার ৩৪২। হত্যা করা হয়েছে ১০ হাজার ৩০৯ জনকে।

আরও পড়ুন:
ভেঙে ফেলা হলো মায়ামির সেই ভবন
যুক্তরাষ্ট্রে মৃত্যুদণ্ড স্থগিত
অভিবাসীদের নাগরিকত্ব দেয়ার পথ খুলছেন বাইডেন
মিস ইউএসএ প্রতিযোগিতায় প্রথমবার ট্রান্সজেন্ডার
মায়ামিতে ভবন ধসে প্রাণহানি বেড়ে ১৮

শেয়ার করুন

মন্তব্য

প্রাথমিকের শিক্ষকদের ১১ দফা নির্দেশনা

প্রাথমিকের শিক্ষকদের ১১ দফা নির্দেশনা

নতুন নির্দেশনা ঠিকমত বাস্তবায়ন হচ্ছে কিনা তা দেখভাল করতেও আলাদা নির্দেশ দিয়েছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। সব বিভাগীয় উপপরিচালক, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, উপজেলা ও থানা শিক্ষা কর্মকর্তাদের এসব নির্দেশ পালন করতে বলা হয়েছে।

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের পাঠ উন্নয়নে কি করতে হবে সে বিষয়ে ১১টি নির্দেশনা দিয়েছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর।

মঙ্গলবার রাতে অধিদপ্তরের এক অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়।

নতুন নির্দেশনা ঠিকমত বাস্তবায়ন হচ্ছে কিনা তা দেখভাল করতেও আলাদা নির্দেশ দিয়েছে অধিদপ্তর। সব বিভাগীয় উপপরিচালক, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, উপজেলা ও থানা শিক্ষা কর্মকর্তাদের এসব নির্দেশ পালন করতে বলা হয়েছে।

যা যা করতে হবে

. নির্দেশনায় বলা হয়, অনুপস্থিত শিক্ষার্থীদের তথ্য রেজিস্ট্রারে সংরক্ষণ করতে হবে। তাতে শিক্ষার্থীর নাম, শ্রেণি, রোল, ঠিকানা, মোবাইল নম্বর, কী কারণে অনুপস্থিত, গৃহীত পদক্ষেপসহ অন্যান্য বিষয় উল্লেখ থাকবে।

. অনুপস্থিত শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের সঙ্গে শিক্ষকরা মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করবেন। শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি নিশ্চিতকরণে প্রয়োজনে হোম ভিজিট করতে হবে।

. প্রতিটি বিদ্যালয়কে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির (শ্রেণিভিত্তিক) হার নিয়মিতভাবে সংরক্ষণ করতে হবে। উপস্থিতি কম হলে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে।

. কোভিড-১৯ এর প্রভাবে শিক্ষার ঘাটতি পূরণে শ্রেণিভিত্তিক শিক্ষার্থীদের পারঙ্গমতা যাচাই করে বিভিন্ন দলে ভাগ করে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড নির্দেশিত পাঠ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হবে।

. অনলাইনে ক্লাস চলবে। সংসদ বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বেতারে সম্প্রচারিত ‘ঘরে বসে শিখি’তে শিক্ষার্থীরা অংশ নেবে।

. বিদ্যালয়ের বিষয় শিক্ষক ও শ্রেণি শিক্ষকরা শ্রেণিভিত্তিক প্রতিটি শিশুর শিখন যোগ্যতার প্রোফাইল (শিখন ঘাটতি পরিস্থিতি) প্রণয়ন করে এ সম্পর্কে তাদের উন্নতির তথ্য সংরক্ষণ করবেন।

. শিক্ষার্থীর ধারাবাহিক মূল্যায়নে ক্লাসের কাজ, বাড়ির কাজ যাচাই করে তাদের ঘাটতির বিষয়গুলো পূরণ করতে শিক্ষকরা সমন্বিত উদ্যোগ নিবেন।

. প্রধান শিক্ষক, শ্রেণি শিক্ষক, বিষয় শিক্ষক ও কর্মচারীদেরকে শিক্ষার্থীদের মনো-সামাজিক স্বাস্থ্যের প্রতি গুরুত্ব দিয়ে সহনশীল ও মানবিক আচরণ করতে হবে।

. প্রতিদিন ২টি করে ক্লাস অনুষ্ঠিত হবে। রুটিন অনুযায়ী যে শিক্ষকের ক্লাস থাকবে না তারা বিদ্যালয়ে বসে গুগল মিট-এ (যেখানে সম্ভব) অন্য ৩টি শ্রেণির ক্লাস নিবেন।

. মাঠপর্যায়ের প্রত্যেক মেন্টরকে পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ থেকে পাঠানো মেন্টরিং গাইডলাইন (মেন্টরদের দায়িত্ব ও কর্তব্য সংক্রান্ত) ও মেন্টরিং টুলস অনুসরণ করে দায়িত্ব পালন করতে হবে।

. সরকার নির্দেশিত স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে।

করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের পর ২০২০ সালের ১৭ মার্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেয়া হয়। দেড় বছর পর গত ১২ সেপ্টেম্বর থেকে খুলে দেয়া হয় প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো। পরের দিন মেডিক্যাল কলেজ, ডেন্টাল ও নার্সিংসংক্রান্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেয়া হয়।

আরও পড়ুন:
ভেঙে ফেলা হলো মায়ামির সেই ভবন
যুক্তরাষ্ট্রে মৃত্যুদণ্ড স্থগিত
অভিবাসীদের নাগরিকত্ব দেয়ার পথ খুলছেন বাইডেন
মিস ইউএসএ প্রতিযোগিতায় প্রথমবার ট্রান্সজেন্ডার
মায়ামিতে ভবন ধসে প্রাণহানি বেড়ে ১৮

শেয়ার করুন

সবার সরকার না হলে আফগানিস্তানে গৃহযুদ্ধ: ইমরান

সবার সরকার না হলে আফগানিস্তানে গৃহযুদ্ধ: ইমরান

কাবুলের রাস্তায় তালেবান যোদ্ধাদের প্রহরা। ফাইল ছবি

ইমরান খান বলেন, ‘তারা (তালেবান) যদি সব গোত্রকে সরকারে অন্তর্ভুক্ত না করে তাহলে আগে বা পরে তাদেরকে গৃহযুদ্ধে পড়তে হবে। যার অর্থ, অস্থিতিশীল, বিশৃঙ্খল আফগানিস্তান সন্ত্রাসীদের জন্য উত্তম জায়গায় পরিণত হবে। আর এটা দুশ্চিন্তার বিষয়।’

আফগানিস্তানে তালেবান সরকারে সবার প্রতিনিধিত্ব না থাকলে দেশটি গৃহযুদ্ধের দিকে এগিয়ে যাবে বলে মনে করছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান।

বিবিসির সাংবাদিক জন সিম্পসনকে দেয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি এ মন্তব্য করেন বলে ডনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

ইমরান খান বলেন, ‘তারা (তালেবান) যদি সব গোত্রকে সরকারে অন্তর্ভুক্ত না করে তাহলে আগে বা পরে তাদেরকে গৃহযুদ্ধে পড়তে হবে। যার অর্থ, অস্থিতিশীল, বিশৃঙ্খল আফগানিস্তান সন্ত্রাসীদের জন্য উত্তম জায়গায় পরিণত হবে। আর এটাই দুশ্চিন্তার বিষয়।’

একের পর এক প্রদেশ জয়ের পর গত ১৫ আগস্ট রাজধানী কাবুল দখলের মধ্য দিয়ে পুরো আফগানিস্তান দখলের ষোলকলা পূর্ণ করে তালেবান।

দুই দশক পর আবার আফগানিস্তান দখল করে তালেবান জানায়, তারা ২০ বছর আগের অবস্থানে নেই। সহনশীলতার কথা বলেছিল কট্টর ইসলামী গোষ্ঠীটি। শত্রুদের সবাইকে ক্ষমা করে দেয়ার কথা জানায় তারা। সবাইকে নিয়ে অন্তর্ভুক্তিমূলক সরকার গঠনের আশ্বাস দেয়। সরকারে নারী প্রতিনিধিত্ব রাখারও ইঙ্গিত দেয়।

তালেবানের এসব আশ্বাসের বাস্তবের কোনো মিল পাওয়া যাচ্ছে না। এর মধ্যে তালেবান যে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ঘোষণা করেছে, সেখানে বেশির ভাগ সদস্যই পশতু জাতিগোষ্ঠীর; মন্ত্রিসভায় নেই কোনো নারী সদস্য। এমনকি নারী শিক্ষার্থীদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও মানা করে দিয়েছে তারা।

সবার অংশগ্রহণমূলক সরকার গঠন করতে এবং মানবাধিকাররের প্রতি সম্মান দেখাতে তালেবান নেতৃত্বের প্রতি ফের আহ্বানও জানান ইমরান খান। তিনি এটাও বলেছেন যে, পাকিস্তানের নিরাপত্তার হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে এমন কোনো সন্ত্রাসীগোষ্ঠীর জন্য আফগানিস্তানের মাটি ব্যবহার করতে দেয়া উচিত হবে না।

ইমরান খান জানান, যেসব শর্ত রাখা হয়েছে তা পূরণ করতে পারলেই কেবল তালেবান নেতৃত্বাধীন আফগান সরকারকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেবে ইসলামাবাদ।

পাকিস্তানের দেয়া শর্ত তালেবান পূরণ করতে পেরেছে কিনা, এমন প্রশ্নে ইমরান খান জানান, এ বিষয়ে এখনই মন্তব্য করাটা খুব দ্রুত হয়ে যাবে। তালেবানকে আরও সময় দেয়ার জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান পাকিস্তানের সরকার প্রধানের।

তালেবান সরকারকে স্বীকৃতি দেয়া বা না দেয়ার বিষয়টি প্রতিবেশী দেশগুলোকে নিয়ে সম্মিলিত সিদ্ধান্ত হবে বলেও জানান ইমরান খান।

তালেবান যে আফগানিস্তানের নারীদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যেতে মানা করেছে সে বিষয়টিও ওঠে আসে বিবিসিকে দেয়া ইমরান খানের সাক্ষাৎকারে। তিনি বলেন, শিক্ষায় নারীদের অংশগ্রহণ করতে না দেয়া ইসলামবিরোধী ধারণা।

গত সপ্তাহে আফগানিস্তানের মাধ্যমিক স্কুলগুলো খুলে দেয়া হয়। তবে ক্লাসে রাখা হচ্ছে না কোনো মেয়ে শিক্ষার্থী। কেবল ছেলে শিক্ষার্থী এবং পুরুষ শিক্ষকদের স্কুলে আসতে অনুমতি দেয়া হয়েছে।

অবশ্য, ইমরান খানের বিশ্বাস আফগান মেয়ে শিক্ষার্থীরা দ্রুতই স্কুলে ফিরবে এবং নারীরা তাদের অধিকার ফিরে পাবে।

তিনি বলেন, ‘তারা (তালেবান) ক্ষমতায় আসার পর যেসব বিবৃতি দিয়েছে তা খুবই উৎসাহ ব্যঞ্জক। আমি মনে করি, তারা নারী শিক্ষার্থীদেরও স্কুলে যেতে অনুমতি দেবে। নারীদের শিক্ষিত করার দরকার নেই, এই ধারণা ইসলামসম্মত নয়। এমন ধারণার সঙ্গে ধর্মের কোনো সম্পর্ক নেই।’

আরও পড়ুন:
ভেঙে ফেলা হলো মায়ামির সেই ভবন
যুক্তরাষ্ট্রে মৃত্যুদণ্ড স্থগিত
অভিবাসীদের নাগরিকত্ব দেয়ার পথ খুলছেন বাইডেন
মিস ইউএসএ প্রতিযোগিতায় প্রথমবার ট্রান্সজেন্ডার
মায়ামিতে ভবন ধসে প্রাণহানি বেড়ে ১৮

শেয়ার করুন

প্রাইভেট কার-ভ্যানের সংঘর্ষে নিহত ২

প্রাইভেট কার-ভ্যানের সংঘর্ষে নিহত ২

এসআই বিল্লাল হোসেন বলেন, ‘ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে উপজেলার বৈলর কালির বাজার এলাকায় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি প্রাইভেট কারের সঙ্গে ভ্যানের সংঘর্ষ হয়। এতে ভ্যানের যাত্রী ঘটনাস্থলেই মারা যান। আর হাসপাতালে নেয়ার পথে মারা যান ভ্যানচালক সৈয়দ আলী।

ময়মনসিংহের ত্রিশালে প্রাইভেট কারের সঙ্গে সংঘর্ষে ভ্যানের চালকসহ দুইজন নিহত হয়েছেন।

ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে উপজেলার বৈলর কালির বাজার এলাকায় মঙ্গলবার রাত ১টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত ভ্যানচালক ৪৮ বছর বয়সী সৈয়দ আলীর বাড়ি উপজেলার কাঠাল ইউনিয়নের সাংরাইল গ্রামে। আরেকজনের পরিচয় এখনও জানাতে পারেনি পুলিশ।

বিষয়টি নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেছেন ত্রিশাল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) বিল্লাল হোসেন।

স্থানীয়দের বরাত দিয়ে তিনি জানান, সৈয়দ আলী ভ্যান নিয়ে মঙ্গলবার রাত ১টার দিকে বাড়ি ফিরছিলেন। তখন তার ভ্যানে এক যাত্রী ছিলেন। পথে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে উপজেলার বৈলর কালির বাজার এলাকায় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি প্রাইভেট কারের সঙ্গে ভ্যানের সংঘর্ষ হয়। এতে ভ্যানের যাত্রী ঘটনাস্থলেই মারা যান।

এ সময় স্থানীয়রা গুরুতর আহত ভ্যানচালক সৈয়দ আলীকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়ার পথে তিনিও মারা যান।

এসআই বিল্লাল হোসেন আরও বলেন, ‘খবর পেয়ে নিহত সৈয়দ আলীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে, এর আগেই ঘটনাস্থল থেকে নিহত আরেকজনের মরদেহ নিয়ে গেছে পরিবার। তার বাড়ি আশপাশের ইউনিয়নে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তার পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে।’

ত্রিশাল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সুমন চন্দ্র দে বলেন, ‘ঘটনাস্থল থেকে প্রাইভেট কারটি জব্দ করা গেলেও চালক পালিয়েছেন। নিহতের পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন।’

আরও পড়ুন:
ভেঙে ফেলা হলো মায়ামির সেই ভবন
যুক্তরাষ্ট্রে মৃত্যুদণ্ড স্থগিত
অভিবাসীদের নাগরিকত্ব দেয়ার পথ খুলছেন বাইডেন
মিস ইউএসএ প্রতিযোগিতায় প্রথমবার ট্রান্সজেন্ডার
মায়ামিতে ভবন ধসে প্রাণহানি বেড়ে ১৮

শেয়ার করুন

ঘর থেকে মা-ছেলের মরদেহ উদ্ধার

ঘর থেকে মা-ছেলের মরদেহ উদ্ধার

কুষ্টিয়া মডেল থানার ওসি সাব্বিরুল ইসলাম জানান, পারিবারিক কলহের জেরে প্রথমে ছেলেকে হত্যার পর আকলিমা আত্মহত্যা করেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

কুষ্টিয়ার থানাপাড়া পুরাতন বাঁধ এলাকার নিজ বাড়ি থেকে মা-ছেলের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

বুধবার সকালে ঘরের মধ্যে গলায় ফাঁস দিয়ে ঝুলন্ত মা ও বিছানায় শুয়ে থাকা অবস্থায় ছেলের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

মৃতরা হলেন, ৩৫ বছর বয়সী আকলিমা খাতুন ও তার ২ বছর বয়সী ছেলে জিম। আকলিমা ওই এলাকার মো. রতনের স্ত্রী। তিনি মানসিক ভারসাম্যহীন ছিলেন।

কুষ্টিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাব্বিরুল ইসলাম জানান, বুধবার সকালে রতনের দেয়া খবরের ভিত্তিতে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে আকলিমা ও জিমের মরদেহ উদ্ধার করে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ দুটি কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

ধারণা করা হচ্ছে, পারিবারিক কলহের জেরে প্রথমে ছেলেকে হত্যার পর আকলিমা আত্মহত্যা করেছেন বলে জানান ওসি।

আরও পড়ুন:
ভেঙে ফেলা হলো মায়ামির সেই ভবন
যুক্তরাষ্ট্রে মৃত্যুদণ্ড স্থগিত
অভিবাসীদের নাগরিকত্ব দেয়ার পথ খুলছেন বাইডেন
মিস ইউএসএ প্রতিযোগিতায় প্রথমবার ট্রান্সজেন্ডার
মায়ামিতে ভবন ধসে প্রাণহানি বেড়ে ১৮

শেয়ার করুন

সাত কলেজে ভর্তি পরীক্ষা: প্রবেশপত্র ডাউনলোড শুরু

সাত কলেজে ভর্তি পরীক্ষা: প্রবেশপত্র ডাউনলোড শুরু

বুধবার সকাল থেকে ছাড়া হয়েছে প্রবেশপত্র। আবেদনকারী শিক্ষার্থীরা ঢাবির ভর্তি বিষয়ক ওয়েবসাইট থেকে প্রবেশপত্র উত্তোলন করতে পারবেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) অধিভুক্ত সরকারি সাত কলেজের স্নাতক প্রথম বর্ষ ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি পরীক্ষার প্রবেশপত্র উত্তোলন শুরু হয়েছে।

বুধবার সকাল থেকে ছাড়া হয় প্রবেশপত্র। আবেদনকারী শিক্ষার্থীরা ঢাবির ভর্তি বিষয়ক ওয়েবসাইট https://bit.ly/3lqzGPo থেকে প্রবেশপত্র উত্তোলন করতে পারবেন।

কবে পরীক্ষা

আগামী ৩০ অক্টোবর কলা ও সামাজিক বিজ্ঞান ইউনিটের পরীক্ষার মাধ্যমে শুরু হবে সাত কলেজের ভর্তি পরীক্ষা। এরপর ৫ নভেম্বর বাণিজ্য ইউনিট ও ৬ নভেম্বর বিজ্ঞান ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

যেভাবে মূল্যায়ন হবে

মোট ১২০ নম্বরের ভিত্তিতে প্রার্থীদের অর্জিত মেধা স্কোরের ক্রমানুসারে মেধাতালিকা তৈরি করা হবে। এ জন্য মাধ্যমিক/ও লেভেল বা সমমানের পরীক্ষায় প্রাপ্ত/হিসাবকৃত জিপিএকে ২ দিয়ে গুণ; উচ্চ মাধ্যমিক/এ লেভেল বা সমমানের পরীক্ষায় প্রাপ্ত/হিসাবকৃত জিপিএকে ২ দিয়ে গুণ করে এই দুইয়ের যোগফল ভর্তি পরীক্ষায় ১০০ তে প্রাপ্ত নম্বরের সঙ্গে যোগ দিয়ে ১২০ নম্বরের মধ্যে মেধাস্কোর নির্ণয় করা হবে। সে অনুযায়ী তৈরি করা হবে মেধাতালিকা।

মেধাস্কোরের ভিত্তিতে নির্ণয় করা মেধাক্রম অনুযায়ী উত্তীর্ণ প্রার্থীদের মেধাতালিকা ও ফলাফল ভর্তি পরীক্ষার পর সাত দিনের মধ্যে ঢাবির ভর্তি ওয়েবসাইটে (http://collegeadmission.eis.du.ac.bd) প্রকাশ করা হবে। প্রার্থী এসএমএসের মাধ্যমেও ফলাফল জানতে পারবেন।

মেধাতালিকা প্রকাশের পর নির্দিষ্ট তারিখের মধ্যে অনলাইনে কলেজ ও বিষয় পছন্দকরণ ফরম পূরণ করতে হবে। পরে শিক্ষার্থীর পছন্দ এবং ভর্তি পরীক্ষার মেধাক্রম ও ভর্তির যোগ্যতা অনুসারে বিভাগ বণ্টনের তথ্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে (https://collegeadmission.eis.du.ac.bd) প্রকাশ করা হবে।

চূড়ান্তভাবে ভর্তির জন্য মনোনীত প্রার্থীর ক্ষেত্রে এসএসসি এবং এইচএসসির মূল নম্বরপত্র সংশ্লিষ্ট কলেজে জমা রাখা হবে।

সাত কলেজ হলো: ঢাকা কলেজ, ইডেন মহিলা কলেজ, সরকারি তিতুমীর কলেজ, সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজে, কবি নজরুল সরকারি কলেজ, বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ ও সরকারি বাঙলা কলেজ।

আরও পড়ুন:
ভেঙে ফেলা হলো মায়ামির সেই ভবন
যুক্তরাষ্ট্রে মৃত্যুদণ্ড স্থগিত
অভিবাসীদের নাগরিকত্ব দেয়ার পথ খুলছেন বাইডেন
মিস ইউএসএ প্রতিযোগিতায় প্রথমবার ট্রান্সজেন্ডার
মায়ামিতে ভবন ধসে প্রাণহানি বেড়ে ১৮

শেয়ার করুন

সৌদি আরবে বাংলাদেশি শ্রমিক নিহত

সৌদি আরবে বাংলাদেশি শ্রমিক নিহত

সৌদি আরবের জিদান বিমানবন্দরে বৈদ্যুতিক খুঁটি থেকে পড়ে বাংলাদেশি এক যুবক নিহত হয়েছেন। ছবি: সংগৃহীত

নিহতের বাবা দুলাল উদ্দিন বলেন, ‘২০১৭ সালে ফসলি জমি বিক্রি করে তামজিরুলকে সৌদি আরবে পাঠিয়েছিলাম। ছেলের ইচ্ছে ছিল পরিবারে সচ্ছলতা আসলেই বাড়ি ফিরে আসবে। ছেলের স্বপ্ন স্বপ্নই থেকে গেল।’   

সৌদি আরবের জিদান বিমানবন্দরে বৈদ্যুতিক খুঁটি থেকে পড়ে বাংলাদেশি এক যুবক নিহত হয়েছেন।

যশরা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান তরিকুল ইসলাম রিয়েল বুধবার সকালে নিউজবাংলাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এর আগে সোমবার বৈদ্যুতিক খুঁটি থেকে পড়ে তামজিরুল ইসলামের মৃত্যু হয়।

নিহত তামজিরুলের বাড়ি ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার যশরা ইউনিয়নের কোর্শাপুর গ্রামে। তিনি জিদান বিমানবন্দরে পরিচ্ছন্নতাকর্মীর কাজ করতেন।

পরিবারের বরাত দিয়ে তিনি বলেন, ‘সোমবার বিমানবন্দরে কাজ করার সময় তাকে পতাকা স্ট্যান্ডে পতাকা বাঁধতে এবং লাইট সেট করতে বলা হয়। সে সময় তামজিরুল কোমরে সেফটি বেল্ট বেঁধে বৈদ্যুতিক খুঁটিতে ওঠেন। এ সময় হঠাৎ সেফটি বেল্টটি ছিঁড়ে গেলে তিনি নিচে পড়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান।

এমন দুঃসংবাদে শোকে স্তব্ধ গোটা পরিবার ও এলাকাবাসী।

নিহতের বাবা দুলাল উদ্দিন বলেন, ‘২০১৭ সালে ফসলি জমি বিক্রি করে তামজিরুলকে সৌদি আরবে পাঠিয়েছিলাম। ছেলের ইচ্ছে ছিল পরিবারে সচ্ছলতা আসলেই বাড়ি ফিরে আসবে। ছেলের স্বপ্ন স্বপ্নই থেকে গেল।’

গফরগাঁও থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মাজহারুল ইসলাম বলেন, ‘সৌদি আরবে ওই যুবকের মৃত্যুর বিষয়টি শুনেছি। তবে কী কারণে মৃত্যু হয়েছে তা জানা যায়নি।’

আরও পড়ুন:
ভেঙে ফেলা হলো মায়ামির সেই ভবন
যুক্তরাষ্ট্রে মৃত্যুদণ্ড স্থগিত
অভিবাসীদের নাগরিকত্ব দেয়ার পথ খুলছেন বাইডেন
মিস ইউএসএ প্রতিযোগিতায় প্রথমবার ট্রান্সজেন্ডার
মায়ামিতে ভবন ধসে প্রাণহানি বেড়ে ১৮

শেয়ার করুন

চাহিদার সময়ই বাড়ল ইউরিয়া সারের দাম

চাহিদার সময়ই বাড়ল ইউরিয়া সারের দাম

নওগাঁয় ইউরিয়া সারের দাম বাড়ায় বিপাকে কৃষক। ছবি: নিউজবাংলা।

কৃষকরা জানিয়েছেন, আমন মৌসুমের শুরুতে ৮১০ থেকে ৮২০ টাকায় ৫০ কেজির প্রতি বস্তা ইউরিয়া সার বিক্রি হয়েছে। তবে গত ১০-১৫ দিন ধরে প্রতি বস্তা ইউরিয়া সার খুচরা বিক্রি হচ্ছে ৮৮০ থেকে ৯২০ টাকায়।

আমন চাষের মধ্যবর্তী সময়ে হঠাৎ নওগাঁয় বেড়েছে ইউরিয়া সারের দাম। ধান চাষে অত্যন্ত প্রয়োজনীয় সারটির প্রতি বস্তায় ৮০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত বাড়ায় বিপাকে পড়েছেন জেলার প্রায় ৬৬ হাজার প্রান্তিক কৃষক।

নওগাঁ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য মতে, এই মৌসুমে জেলায় ১ লাখ ৯৭ হাজার ৫৫ হেক্টর জমিতে আমন ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ ছাড়া বিভিন্ন ধরনের সবজি ও কৃষিশস্য রয়েছে আরও ২৭ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে।

ভরা মৌসুমে জেলায় ইউরিয়া সারের আনুমানিক চাহিদা ৩৩ হাজার টন। এসব সার সরবরাহে জেলায় বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন (বিসিআইসি) নিবন্ধিত সার ডিলার রয়েছেন ১২৭ জন।

প্রতিষ্ঠানটির হিসাবে নওগাঁর ১১টি উপজেলায় ৬৬ হাজার পরিবার কৃষির সঙ্গে সরাসরি জড়িত। একাধিক কৃষকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আমন মৌসুমের শুরুতে ৮১০ থেকে ৮২০ টাকায় ৫০ কেজির প্রতি বস্তা ইউরিয়া সার বিক্রি হয়েছে।

তবে গত ১০-১৫ দিন আগে নানা অজুহাতে সার ডিলার ও খুচরা ব্যবসায়ীরা দাম বাড়িয়ে দেন। বর্তমানে প্রতি বস্তা ইউরিয়া সার খুচরা বিক্রি হচ্ছে ৮৮০ থেকে ৯২০ টাকায়।

এ বিষয়ে সঠিক তদারকি ও বাজার পর্যবেক্ষণ না থাকায় ব্যবসায়ীরা অধিক মুনাফার সুযোগ নিচ্ছেন বলে জানান কৃষকরা।

নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার কাশিয়ারা গ্রামের কৃষক আব্দুল মমিন জানান, ‘হামি পাঁচ বিঘা জমিত আমনের আবাদ করিছি। ধান লাগানার শুরুত ইউরিয়া সারের দাম আছিল বস্তাপ্রতি ৮১০-৮২০ টেকা করা। বর্তমানে প্রতি বস্তা দাম ৮৮০ থ্যাকা ৯২০ টেকা পর্যন্ত বাড়া গেছে।

‘প্রতি বস্তায় যদি কয়েক দিনের মধ্যে ৮০ থ্যাকা ১০০ টেকা পর্যন্ত বাড়া যায় তালে হামরা কীভাবে আবাদ করা পোষামু। বেশি মুনাফার আশায় ব্যবসায়ীরা দাম বাড়াছে ইচ্ছা করা।’

রাণীনগর উপজেলার তিলাবদুর গ্রামের কৃষক সুবল দাস বলেন, ‘হামি ১০ বিঘা জমিত আমন ধানের আবাদ করিছি। প্রতি বিঘাত জমি হালচাষ, নিড়ানি, সার, সেচ, শ্রমিক খরচ দিয়া মোট সাড়ে ৭ হাজার থ্যাকা ৮ হাজারের মতো খরচ হয়। আর ফলন ভালো হলে সর্বোচ্চ ৮ থ্যাকা ১০ মণের মতো ধান পাওয়া যায় প্রতি বিঘাত।

চাহিদার সময়ই বাড়ল ইউরিয়া সারের দাম

‘এখন আমনের ভরা মৌসুম, তাই এখন ইউরিয়া সার জমিত দেওয়া লাগে। তবে বাজারোত প্রতি বস্তাত প্রায় ৮০-১০০ টেকার মতো বেশি দাম বাড়া গেছে। দোকানদাররা কচ্ছে, সারের নাকি সাল্পাই কম, তাই দাম বেশি। এত দাম যদি সারোত বাড়া যায়, জমির অন্য খরচ তো আছেই, সব মিলা তো কুলা উঠা পারমু না হামরা।’

সদর উপজেলার ফতেপুর গ্রামের কৃষক সুজন হোসেন বলেন, ‘হামাকেরে এটি ইউরিয়া সার বস্তাপ্রতি কেনা লাগিচ্ছে ৮৮০ থ্যাকা ৯২০ টাকা দরে। কয়েক দিন আগেই ৮১০ থ্যাকা ৮২০ টেকা বস্তা দাম আছল। হঠাৎ দাম বাড়া গেল। কৃষকরা ধান উৎপাদন করে সবার চাহিদা মিটায়, কিন্তু কৃষকদের সুযোগ-সুবিধা সেভাবে কেউ দেখে না।’

নওগাঁ সদর উপজেলার পাহাড়পুর বাজারের খুচরা সার বিক্রেতা জাহিদুর রহমান জানান, ডিলারদের কাছ থেকে তাদের বেশি দামে সার কিনতে হচ্ছে। আমন মৌসুমের শুরুতে ৮০০ টাকায় এক বস্তা ইউরিয়া সার কিনে খুচরায় বিক্রি করেছেন ৮২০ থেকে ৮৩০ টাকা দরে।

এখন ডিলারদের কাছ থেকেই তাদের ৮৬০ থেকে ৮৭০ টাকায় প্রতি বস্তা ইউরিয়া কিনতে হচ্ছে। পরিবহন খরচ যোগ করে খুচরা পর্যায়ে সেই সার তারা কৃষকের কাছে ৮৯০ কেউ ৯২০ টাকা বস্তা হিসেবে বিক্রি করছেন।

নিয়ামতপুর উপজেলার স্থানীয় ছাতড়া বাজারের সার ডিলার আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘ইউরিয়া সারের চাহিদা অনুযায়ী আমরা পাচ্ছি না। এ ছাড়া গাড়ি ভাড়াও বৃদ্ধি হয়েছে। এসব কারণে খুচরা পর্যায়ে সার কিছুটা বেশি দামে বিক্রি হতে পারে। তবে আমরা ডিলাররা সরকার নির্ধারিত দামেই সার বিক্রি করছি। অতিরিক্ত দামে বিক্রি তো করছি না।’

জেলায় ইউরিয়া সারের কোনো সংকট নেই এবং নির্ধারিত দামে ডিলাররা সার বিক্রি করছেন বলে দাবি করেছেন বাংলাদেশ ফার্টিলাইজার অ্যাসোসিয়েশন (বিএফএ) নওগাঁ জেলা শাখার সভাপতি রেজাউল করিম।

তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘চলতি ভরা মৌসুমে ইউরিয়া ও অন্যান্য সারের কোনো সংকট হয়নি। চলতি সেপ্টেম্বর মাসে ইউরিয়া সারের বরাদ্দ রয়েছে ৩ হাজার ৮০০ টন। ইতিমধ্যে বিসিআইসি ডিলাররা বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার সান্তাহারে বাফার গুদাম থেকে বরাদ্দ অনুযায়ী তাদের সার উত্তোলন করেছেন।

‘এখন পর্যন্ত ডিলাররা বেশি দামে সার বিক্রি করছেন এ ধরনের কোনো অভিযোগ আমাদের কাছে আসেনি। কোনোভাবেই যাতে সরকার নির্ধারিত দামের চাইতে বেশি না নেয়া হয় সেটা ডিলারদের নির্দেশনা দেয়া আছে। তবে অভিযোগ পেলে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে কর্তৃপক্ষ।’

নওগাঁর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ শামসুল ওয়াদুদ জানান, ইউরিয়া সারের দাম বেশি নেয়া হচ্ছে কৃষকদের কাছ থেকে এমন অভিযোগ এখন পর্যন্ত পাননি। তবে কৃষকরা যদি সুনির্দিষ্টভাবে অভিযোগ করেন তাহলে ডিলার ও খুচরা ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

তিনি বলেন, ‘আপনি যেহেতু ইউরিয়া সারের দাম বেশি নেয়ার কথা বললেন, সে ক্ষেত্রে আমরা কৃষি বিভাগ থেকে বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখব।’

আরও পড়ুন:
ভেঙে ফেলা হলো মায়ামির সেই ভবন
যুক্তরাষ্ট্রে মৃত্যুদণ্ড স্থগিত
অভিবাসীদের নাগরিকত্ব দেয়ার পথ খুলছেন বাইডেন
মিস ইউএসএ প্রতিযোগিতায় প্রথমবার ট্রান্সজেন্ডার
মায়ামিতে ভবন ধসে প্রাণহানি বেড়ে ১৮

শেয়ার করুন