ভারতে কারান্তরীণ সমাজকর্মী স্ট্যান স্বামীর মৃত্যু

ভারতে কারান্তরীণ সমাজকর্মী স্ট্যান স্বামীর মৃত্যু

দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর মারা গেলেন কারান্তরীণ আদিবাসী নেতা স্ট্যান স্বামী। ছবি: সংগৃহীত

আদিবাসী অধিকারের জন্য ৮৩ বছরের জীবনে দীর্ঘ সময় লড়াই চালিয়ে গিয়েছেন। তিনি জাতীয় তদন্ত সংস্থার (এনআইএ) ভীমা কোরেগাঁও-এলগার পরিষদ মামলাতে বেআইনি কার্যকলাপ প্রতিরোধ আইনে গ্রেপ্তার হওয়া সর্বশেষ রাজনৈতিক বিরোধী ব্যক্তিত্ব।

দীর্ঘদিন ধরেই অসুস্থ ছিলেন। আদালতেও জানিয়েছিলেন অসুস্থতার কথা। তবে সরকারি হাসপাতালে খারাপ অভিজ্ঞতার কারণে ভর্তি হতে রাজি হচ্ছিলেন না। দীর্ঘ অসুস্থতার কারণে সোমবার বিচারাধীন অবস্থাতেই প্রয়াত হলেন সমাজকর্মী স্ট্যান স্বামী।

আদিবাসী অধিকারের জন্য ৮৩ বছরের জীবনে দীর্ঘ সময় লড়াই চালিয়ে গিয়েছেন। তিনি জাতীয় তদন্ত সংস্থার (এনআইএ) ভীমা কোরেগাঁও-এলগার পরিষদ মামলাতে বেআইনি কার্যকলাপ প্রতিরোধ আইনে গ্রেপ্তার হওয়া সর্বশেষ রাজনৈতিক বিরোধী ব্যক্তিত্ব।

২০২০ সালের ৮ অক্টোবর থেকে তিনি জেলে বন্দি ছিলেন।

উল্লেখ্য ওই একই মামলায় অভিযুক্ত ৮০ বছর বয়স্ক কবি ভরভরা রাও ৬ মাসের সাময়িক জামিনে আছেন অসুস্থতার কারণে।

সোমবার দুপুর আড়াইটায় বম্বে হাইকোর্টে বিচারপতি এস এস শিন্ডে ও বিচারপতি এনজে জামাদারকে নিয়ে গঠিত বেঞ্চ স্ট্যান স্বামীর জামিন আবেদন শুনানির জন্য গ্রহণ করলে সিনিয়র অ্যাডভোকেট মিহির দেশাই জানান, হাসপাতাল থেকে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন দুপুর ১টা ৩০ মিনিটে মৃত্যু হয়েছে স্ট্যান স্বামীর। রোববার থেকেই ভেন্টিলেটর সাপোর্টে ছিলেন তিনি। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ীই গত ২৮ মে থেকে মুম্বইয়ের হলি ফ্যামিলি হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। সেখানেই নানা রোগের চিকিৎসা চলছিল।

ঝাড়খণ্ডের বাসিন্দা ৮৩ বছরের খ্রিস্টান মিশনারি স্ট্যানকে গত বছরের অক্টোবর মাসে গ্রেপ্তার করে এনআইএ। তাঁর বিরুদ্ধে ২০১৭ সালে পুণের ভীমা-কোরেগাঁওয়ে মাওবাদীদের সাহায্যে হিংসা ছড়ানোর অভিযোগ করা হয়েছে। ঘটনায় মাওবাদী ঘনিষ্ঠ সংগঠন এলগার পরিষদও জড়িত ছিল বলে অভিযোগ। তদন্তকারী সংস্থা এনআইএ-র তরফে স্ট্যান স্বামীর বিরুদ্ধে টাকা নেয়ার অভিযোগও করা হয়।

স্ট্যান স্বামী ও তাদের সঙ্গীদের আদালতের নির্দেশে নভি মুম্বইয়ের তালোজা জেলে রাখা হয়েছিল। কিন্তু তাঁরা বারংবার জেলের অব্যবস্থা ও অপর্যাপ্ত চিকিৎসাব্যবস্থার অভিযোগ জানান।

মে মাসে এলগার পরিষদ-মাওবাদী সংযোগ মামলায় ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বিচারপতি এসজে কাঠাওয়ালা ও এসপি তাভাডের সামনে পেশ করা হয় স্ট্যান স্বামীকে। সেখানেস্ট্যান স্বামী জানান, জেলবন্দি হওয়ার পর থেকেই তাঁর শারীরিক অবস্থার ধীরে ধীরে অবনতি হয়েছে। আট মাস আগে যখন তাঁকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে আসা হয়, তখন তিনি সম্পূর্ণ সুস্থ ছিলেন। কিন্তু বিগত আটমাস ধরে শারীরিক অবস্থার ক্রমাগত অবনতিই হয়েছে। আটমাস আগে তিনি একাই স্নান, খাওয়া, হাঁটতে পারতেন, এমনকি লিখতেও পারতেন। কিন্তু যতদিন যাচ্ছে, একে একে সব ক্ষমতা হারিয়ে যাচ্ছে। এখন তিনি ঠিকমতো খেতেও পারেন না। কাউকে চামচ দিয়ে খাইয়ে দিতে হয়।

আদালতের তরফে মুম্বইয়ের জেজে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার প্রস্তাব দেয়া হলে, তা তিনি খারিজ করে দেন। বলেন, ‘আমি আগেও ওই হাসপাতালে দুইবার ভর্তি হয়েছি, আমি ওখানের ব্যবস্থা জানি। এর থেকে আমি রোগে কষ্ট পেয়ে মরে যাওয়া বেশি পছন্দ করব।’ সেই সময় অন্তর্বর্তী জামিনের আবেদন খারিজ করে দেয় আদালত। এরপর গত সপ্তাহেই তিনি ফের একবার আদালতে জামিনের আবেদন জানিয়েছিলেন। আদালতের রায়ের আগেই থমকে গেল তাঁর বলিষ্ঠ কন্ঠস্বর।

শেয়ার করুন

মন্তব্য