রাফায়েল যুদ্ধবিমান ঘিরে ভারতে উত্তেজনা

রাফায়েল যুদ্ধবিমান ঘিরে ভারতে উত্তেজনা

রাফায়েল যুদ্ধবিমান চুক্তি নিয়ে ফের উত্তপ্ত ভারতের রাজনৈতিক অঙ্গন। ছবি: জি নিউজ

শুক্রবার ফ্রান্সের একটি ওয়েবসাইটে রাফায়েল চুক্তির ক্ষেত্রে দুর্নীতির অভিযোগ খতিয়ে দেখতে বিচার বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দেয়ার খবর প্রকাশিত হতেই ভারতের রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে উষ্ণতা বেড়েছে।

ফ্রান্সে বিচার বিভাগীয় তদন্ত শুরু হতেই রাফায়েল যুদ্ধবিমান ঘিরে রাজনৈতিক তরজার দ্বিতীয় ঢেউ আছড়ে পড়েছে ভারতের রাজনৈতিক আঙিনায়।

২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগে দেশের বিরোধী দলগুলোর শাসকবিরোধী প্রচারে প্রধান হাতিয়ার ছিল ফ্রান্স থেকে ৫৯ হাজার কোটি টাকার বিনিময়ে রাফায়েল যুদ্ধবিমান ক্রয় চুক্তিতে দুর্নীতির অভিযোগ।

কিন্তু নির্বাচনি ফলে দেখা যায়, ভোটাররা রাফায়েল নিয়ে বিরোধীদের প্রচারে প্রভাবিত হননি। ফলে নির্বাচনের পর ধামাচাপা পড়ে যায় রাফায়েল ইস্যু।

শুক্রবার ফ্রান্সের একটি ওয়েবসাইটে রাফায়েল চুক্তির ক্ষেত্রে দুর্নীতির অভিযোগ খতিয়ে দেখতে বিচার বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দেয়ার খবর প্রকাশিত হতেই ভারতের রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে উষ্ণতা বেড়েছে।

জোর গলায় রাফায়েল চুক্তিতে দুর্নীতির অভিযোগে সুর চড়াচ্ছে প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস। শনিবার যৌথ সংসদীয় কমিটির তদন্ত দাবি করেছে তারা।

রোববার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে আক্রমণ করেন কংগ্রেসের সংসদ সদস্য ও সাবেক সভাপতি রাহুল গান্ধী।

সোশ্যাল মিডিয়ায় রাহুল একটি ছবি পোস্ট করে শিরোনামে লেখেন, ‘চোরের দাড়ি’, হ্যাশট্যাগ রাফায়েল দুর্নীতি।

ওয়াকিবহাল মহলের মতে, এ ক্ষেত্রে চোরের দাড়ি বলতে প্রধানমন্ত্রীর দাড়িকে বুঝিয়েছেন কংগ্রেস নেতা।

অবশ্য প্রধানমন্ত্রীকে আক্রমণের জবাব দিতে ছাড়েননি বিজেপির আইটি সেলের প্রধান অমিত মালব্য।

টুইটবার্তায় তিনি বলেন, ‘২০১৯ সালে আপত্তিজনক মন্তব্যের পর রাহুল গান্ধী এবার এত নিচে নেমে গিয়েছেন। সারা ভারতের মানুষ তাকে প্রত্যাখ্যান করেছে। ২০২৪ সালের নির্বাচনে এ ইস্যুতে লড়াইয়ের জন্য স্বাগত।’

গত এপ্রিলে ফরাসি ওয়েবসাইট মিডিয়াপোর্টের প্রতিবেদনে বলা হয়, রাফায়েল চুক্তিতে মধ্যস্থতাকারী একটি সংস্থাকে বড় অঙ্কের টাকা ‘উপহার’ দিয়েছে রাফায়েল নির্মাণকারী সংস্থা দাসো।

তবে দাসো দাবি করেছিল, ১.১ মিলিয়ন ইউরো (ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৯ কোটি টাকা) ভারতীয় একটি সংস্থাকে তারা দিয়েছে রাফায়েলের রেপ্লিকা নির্মাণের জন্য।

এই বিতর্ক প্রথম উসকে দিয়েছিল ফরাসি দুর্নীতি দমন শাখা। দাসোর অডিটে এই বেনিয়ম ধরা পড়েছিল বলে দাবি করেছিল ফরাসি সংবাদমাধ্যম।

তাদের দাবি অনুযায়ী, দাসোর কাছ থেকে ‘উপহার’ হিসেবে বড় অঙ্কের টাকা পেয়েছিল অগস্টাওয়েস্টল্যান্ড চপার স্ক্যামের সঙ্গে যুক্ত সুশেন গুপ্তার সংস্থা।

এই প্রতিবেদন প্রকাশের পরে ফরাসি দুর্নীতি দমনবিরোধী এনজিও শেরপা এ চুক্তির ক্ষেত্রে ‘দুর্নীতি’, ‘প্রভাব খাটানো’, ‘অর্থ পাচার’, ‘পক্ষপাতিত্ব’ এবং অযৌক্তিক ট্যাক্স মওকুফের কথা উল্লেখ করে ট্রাইব্যুনাল অফ প্যারিসে (পিএনএফ) অভিযোগ করে।

সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই গত ১৪ জুন ট্রাইব্যুনাল একজন বিচারপতির নেতৃত্বে তদন্তের নির্দেশ দেয়।

প্রথম পর্বের বিরোধিতার সময় রাফায়েল চুক্তি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী মোদির কাছে বিবৃতি দাবি করেছিল কংগ্রেস।

কংগ্রেসের মুখপাত্র রণদীপ সুরজওয়ালা তখন দাবি করেছিলেন, ‘ভারতীয় সবচেয়ে বড় প্রতিরক্ষা চুক্তির বিষয়ে একটি নিরপেক্ষ স্বাধীন তদন্ত হওয়া কি উচিত নয়?

‘যদি কোনো ঘুষ দেয়া হয়ে থাকে, তাহলে সেটা কত- তা কি জানা প্রয়োজন নয়?’

শনিবার রণদীপ সুরজওয়ালা সাংবাদিক বৈঠকে বলেন, ‌‘রাফায়েল দুর্নীতি এবার প্রকাশ্যে এসেছে। ফরাসি সরকার তদন্তের নির্দেশ দেয়ার পর কংগ্রেস ও রাহুল গান্ধীর দাবি সত্য প্রমাণিত হয়েছে।’

রণদীপের দাবি, এর সঙ্গে জাতীয় নিরাপত্তা জড়িয়ে আছে। তাই এ তদন্তের দায়ভার যুগ্ম সংসদীয় কমিটির হাতে তুলে দেয়ার নির্দেশ দিতে হবে প্রধানমন্ত্রীকে।

উল্লেখ্য এর আগে রাফায়েল চুক্তিসংক্রান্ত জনস্বার্থ মামলায় দুর্নীতির অভিযোগ নস্যাৎ করেছিল সুপ্রিম কোর্ট।

তখন সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি ছিলেন রঞ্জন গগৈ। অবসর গ্রহণের পর তাকে রাজ্যসভার সদস্য হিসেবে মনোনীত করেন ভারতের রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ।

আরও পড়ুন:
ভারতে করোনার তৃতীয় ধাক্কা অক্টোবর-নভেম্বরে
রাফায়েল যুদ্ধবিমান: বিচার বিভাগীয় তদন্তের সিদ্ধান্ত ফ্রান্সের
পোল্যান্ড থেকে পার্সেলে এলো ১০৭ বিষাক্ত মাকড়সা
ভারতের জন্য লাখো পাকিস্তানির প্রার্থনা
করোনায় ৪ লাখ মৃত্যু দেখল ভারত

শেয়ার করুন

মন্তব্য