সারদা কাণ্ড: শুভেন্দুর গ্রেপ্তার চাইলেন তৃণমূলের সম্পাদক

সারদা কাণ্ড: শুভেন্দুর গ্রেপ্তার চাইলেন তৃণমূলের সম্পাদক

তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক কুনাল ঘোষ। ছবি: টুইটার

টুইটে কুনাল ঘোষ লিখেছেন, ‘সারদা কর্তার বয়ান অনুযায়ী তার অভিযোগ, শুভেন্দু মোটা অংকের টাকা নিয়েছিলেন। শুভেন্দুর সহযোগী রাখালের নাম নিয়েছিলেন সেন। তিনি এখন হাজতে। রাখালকে জেরা করুক পুলিশ এবং ইডিসিবিআই। তদন্তের স্বার্থে শুভেন্দুকে গ্রেপ্তার করতে হবে।’  

সারদা ও নারদা কাণ্ডে অভিযুক্ত বিরোধী দলনেতা বিজেপির শুভেন্দু অধিকারীর গ্রেপ্তার চেয়ে মূল অভিযুক্ত সুদীপ্ত সেনের চিঠি টুইট করেছেন তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক কুনাল ঘোষ।

শনিবার হাজার হাজার কোটি টাকার সারদা চিটফান্ড কেলেঙ্কারির মূল অভিযুক্ত সুদীপ্ত সেনের চিঠি দাবি করে দুটি ছবি পোস্ট করেন কুনাল ঘোষ।

এগুলো সম্পর্কে তিনি টুইট করে লিখেছেন, ‘সারদা কর্তার বয়ান অনুযায়ী তার অভিযোগ, শুভেন্দু মোটা অংকের টাকা নিয়েছিলেন। শুভেন্দুর সহযোগী রাখালের নাম নিয়েছিলেন সেন। তিনি এখন হাজতে। রাখালকে জেরা করুক পুলিশ এবং ইডিসিবিআই। তদন্তের স্বার্থে শুভেন্দুকে গ্রেপ্তার করতে হবে।’

শুভেন্দু অধিকারী সেচ দপ্তরের দায়িত্বে থাকার সময় চাকরি পাইয়ে দেয়ার নাম করে শুভেন্দু ঘনিষ্ঠ রাখালের বিরুদ্ধে টাকা নিয়ে প্রতারণার অভিযোগ ওঠে। পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করেছে। সুদীপ্ত সেনের মুখে সেই রাখালের নাম শোনা গিয়েছিল বলে কুনালের দাবি।

ওই চিঠি সামনে এনে শুভেন্দুর বিরুদ্ধে আক্রমণ শানিয়েছে তৃণমূল।

টুইটারে কুনাল ঘোষ জানিয়েছেন, আদালত থেকে পাওয়া জেলে বসে লেখা সারদা কর্তার চিঠির প্রতিলিপির ভিত্তিতে শুভেন্দু অধিকারীর গ্রেপ্তারের দাবি জানাচ্ছেন তিনি ।

সারদা কর্তা ওই চিঠি গত বছর ডিসেম্বরে লিখেছিলেন বলে দাবি করা হয়েছে। ভারতের রাষ্ট্রপতি, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী এবং সিবিআই ডিরেক্টরের উদ্দেশ্য করে লেখা চিঠিতে বিজেপি, তৃণমূল কংগ্রেস এবং সিপিএমের কয়েকজন শীর্ষস্থানীয় নেতার বিরুদ্ধে সুদীপ্ত সেন তার কাছ থেকে টাকা নেয়ার অভিযোগ তুলেছিলেন ।

কুণালের দাবি, ‘শুভেন্দুর ঘনিষ্ঠ রাখাল সুদীপ্ত সেনের থেকে বহু টাকা নিয়েছেন।’

তৃণমূলের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, বৃহস্পতিবার দিল্লিতে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী সিবিআই আইনজীবীর সঙ্গে বৈঠক করেছেন মামলা সেটিং করতে। কেননা সিবিআই সারদা নারদা মামলার তদন্ত করছে আর তুষার মেহতা সিবিআইয়ের আইনজীবী।

যদিও শুক্রবার সিবিআই আইনজীবী এবং কেন্দ্রের সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছেন, ‘শুভেন্দু দেখা করতে এসেছিলেন বটে তবে তিনি দেখা করেননি। শুভেন্দুর সঙ্গে দেখা করার প্রশ্নই ওঠে না।

শুভেন্দুও সিবিআই আইনজীবী তুষার মেহতার সঙ্গে বৈঠকের কথা অস্বীকার করে বলেছেন, ‘উনি (তুষার মেহতা) দেখা করেননি।’

তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় শুক্রবার টুইট করে শ্রীযুক্ত অধিকারী মেহতার অফিসে থাকার সময়ের সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন।

এর আগে তৃণমূল সাংসদ ডেরেক ও ব্রায়েন, সাংসদ সুখেন্দু শেখর রায় ও সাংসদ মহুয়া মৈত্র এই মামলায় পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলে তুষার মেহতার অপসারণের আর্জি জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে তৃণমূলের পক্ষ থেকে চিঠি দিয়েছেন।

সূত্রের খবর, আগামী সপ্তাহে রাজ্যের শাসক দলের পক্ষে একটি প্রতিনিধিদল সিবিআই আইনজীবী তুষার মেহতা এবং রাজ্যপাল ধনকড়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানাতে রাষ্ট্রপতির কাছে যেতে পারেন।

এর ফলে রাজ্য রাজনীতিতে তৃণমূল-বিজেপির চলমান সংঘাত আরও জোরালো হলো।

আরও পড়ুন:
সারদা মামলায় দেবযানীর জামিন

শেয়ার করুন

মন্তব্য