ইথিওপিয়ায় দুর্ভিক্ষে ৪ লাখ মানুষ

ইথিওপিয়ায় দুর্ভিক্ষে ৪ লাখ মানুষ

ত্রাণের জন্য ভিড় করছে ট্রাইগ্রের মেকেলেতে আশ্রিত পশ্চিমাঞ্চল থেকে আসা গৃহহীন শিশুরা। ছবি: এএফপি

টাইগ্রে’স পিপলস লিবারেশন ফ্রন্ট (টিপিএলএফ) আর ইথিওপীয় সেনাবাহিনীর মধ্যে লড়াইয়ে প্রাণ গেছে হাজার হাজার মানুষের; গৃহহীন হয়েছে ২০ লাখের বেশি। সংঘাতে জড়িত সব পক্ষই পরস্পরের বিরুদ্ধে নির্বিচার হত্যা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছে।

পূর্ব আফ্রিকার দেশ ইথিওপিয়ার সংঘাতকবলিত টাইগ্রে অঞ্চলে দুর্ভিক্ষের শিকার চার লাখের বেশি মানুষ।

দেশটির পরিস্থিতি নিয়ে প্রথম উন্মুক্ত বৈঠকে শুক্রবার এ কথা জানায় জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ।

বিবিসির প্রতিবেদনে জানানো হয়, দুর্ভিক্ষের শিকার মানুষের মধ্যে কমপক্ষে ৩৩ হাজার শিশু গুরুতর অপুষ্টিতে ভুগছে বলেও নিশ্চিত করেছে জাতিসংঘ।

আট মাসের দীর্ঘ সহিংসতায় দেশটিতে দুর্ভিক্ষের ঝুঁকিতে আছে আরও ১৮ লাখ মানুষ।

নিউইয়র্কের বৈঠকে জাতিসংঘের মানবিক ত্রাণবিষয়ক ভারপ্রাপ্ত প্রধান রমেশ রাজাসিংঘাম জানান, গত কয়েক সপ্তাহে টাইগ্রের নিরাপত্তা পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতি হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘কয়েক দশকে এত ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ পরিস্থিতি আমরা আর দেখিনি যেমন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে এ মুহূর্তে যাচ্ছে ইথিওপিয়া।’

প্রায় ৫২ লাখ মানুষের অবিলম্বে জরুরি মানবিক সহায়তা প্রয়োজন বলেও জানিয়েছেন তিনি। দুর্গতদের বেশির ভাগই নারী ও শিশু।

অস্ত্রবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও অঞ্চলটিতে নতুন করে সংঘাতের শঙ্কা রয়েছে বলেও সতর্ক করেছে জাতিসংঘ।

ইথিওপিয়ার সরকার গত সোমবার সর্বসম্মত অস্ত্রবিরতি কার্যকরের ঘোষণা দেয়।

টাইগ্রের আঞ্চলিক সশস্ত্র বাহিনীগুলোর বিরুদ্ধে লড়ছিল ইথিওপীয় সেনাবাহিনী।

অস্ত্রবিরতির ঘোষণার পরও অঞ্চলটি থেকে ‘শত্রুপক্ষকে’ হটানোর বিষয়ে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বিদ্রোহীরা।

সংঘাত বন্ধে সব পক্ষের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ সত্ত্বেও বিচ্ছিন্ন সহিংসতার খবরও আসছে অনেক।

টাইগ্রে’স পিপলস লিবারেশন ফ্রন্ট (টিপিএলএফ) আর ইথিওপীয় সেনাবাহিনীর মধ্যে লড়াইয়ে প্রাণ গেছে হাজার হাজার মানুষের; গৃহহীন হয়েছে ২০ লাখের বেশি।

সংঘাতে জড়িত সব পক্ষই পরস্পরের বিরুদ্ধে নির্বিচার হত্যা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছে।

বিশেষ করে চলতি সপ্তাহে টাইগ্রের উত্তরাঞ্চলের বড় অংশ বিদ্রোহীরা দখল করে নেয়ার পর থেকে অঞ্চলটিতে ত্রাণ প্রবেশে বাধা দেয়ার অভিযোগ উঠেছে ইথিওপিয়া সরকারের বিরুদ্ধে। অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে সরকার।

এদিকে টাইগ্রের আঞ্চলিক রাজধানী মেকেলের সড়কে শুক্রবার অপহৃত কয়েক হাজার ইথিওপীয় সেনাকে হাঁটিয়ে নেয়া হয় বলে জানিয়েছে নিউইয়র্ক টাইমস।

ইথিওপিয়ায় এ সংঘাতের সূত্রপাত গত বছরের নভেম্বরে। রাজনৈতিক সংস্কার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে সে সময় দেশটির বিভিন্ন সামরিক ঘাঁটি দখল করতে শুরু করে বিদ্রোহীরা।

ওই মাসের শেষ দিকেই মেকেলের নিয়ন্ত্রণ নেয় সরকারি বাহিনী। পাল্টা আক্রমণ ও জোরদার অভিযান চালিয়ে মেকেলে পুনর্দখল করে বিদ্রোহীরা।

চলতি সপ্তাহে তারা শিরে নামের আরেকটি শহরের দখল নিয়েছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ।

আরও পড়ুন:
বাংলাদেশের বিনিয়োগ চাইল ইথিওপিয়া
টাইগ্রে রাজধানীর ‘নিয়ন্ত্রণ’ নিল ইথিওপীয় বাহিনী
আল্টিমেটাম শেষ, ‘চরম পর্যায়ে’ ইথিওপিয়ার সেনারা
আত্মসমর্পণ না করে লড়ে যাচ্ছে ইথিওপিয়ার বিদ্রোহীরা
বাসে বন্দুক হামলায় নিহত ৩৪

শেয়ার করুন

মন্তব্য