ভারতে গুগল থেকে সরানো হয়েছে ৫৯ হাজার লিঙ্ক

ভারতে গুগল থেকে সরানো হয়েছে ৫৯ হাজার লিঙ্ক

মে মাস থেকে কার্যকর হওয়া নতুন তথ্য প্রযুক্তি আইনে সোশ্যাল মিডিয়া সংস্থাগুলিকে কমপ্লায়েন্স রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছিল। ফেসবুকও এই রিপোর্ট জমা দেবে বলে জানা গিয়েছে। তবে টুইটার কবে রিপোর্ট জমা দেবে, সে বিষয়ে এখনও কিছু জানানো হয়নি।

ভারত সরকারের নতুন তথ্য প্রযুক্তি আইন মানতে শুরু করেছে গুগল।

মে মাস থেকে কার্যকর হওয়া নতুন তথ্য প্রযুক্তি আইনে সোশ্যাল মিডিয়া সংস্থাগুলিকে কমপ্লায়েন্স রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছিল। সেই নিয়ম মেনেই গুগল মোট ৫৯ হাজার ৩৫০টি লিঙ্ক সরিয়ে দিয়েছে।

কেন্দ্রের কাছে জমা দেয়া গুগলের কমপ্লায়েন্স রিপোর্টে বলা হয়েছে, কেবল এপ্রিল মাসেই গুগলের কাছে ২৭ হাজার ৭১৬টি অভিযোগ জমা পড়েছিল। এরমধ্যে অধিকাংশই কপিরাইটের। সেগুলি যাচাই করেই লিঙ্কগুলি সরিয়ে দেয়া হয়েছে।

একই সঙ্গে গুগল জানিয়েছে, পরবর্তী রিপোর্ট জমা দিতে দুই মাস দেরি হবে। কারণ প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করতে সময় প্রয়োজন।

অন্যদিকে, দেশীয় সোশ্যাল মিডিয়া কু-ও এই প্রথম রিপোর্ট জমা দিল। কু-এর তরফে জানানো হয়েছে, তাদের কাছে প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজারেরও বেশি লিঙ্ক নিয়ে রিপোর্ট জমা পড়েছিল। সেই রিপোর্ট যাচাই করে মোট ১২৫৩টি লিঙ্ক সরিয়ে দেয়া হয়েছে।

এ ছাড়াও ৪ হাজার ২৪৯টি কু পোস্টগুলিকে সতর্ক করা হয়েছে। নতুন আইন অনুযায়ী, ৫৪ হাজার ২৩৫টি কু মেসেজের বিরুদ্ধে অভিযোগের ভিত্তিতে ১ হাজার ৯৯৬টি মেসেজ সাইট থেকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে।

শুক্রবার ফেসবুকও এই রিপোর্ট জমা দেবে বলে জানা গিয়েছে।

তবে টুইটার কবে রিপোর্ট জমা দেবে, সে বিষয়ে এখনও কিছু জানানো হয়নি। আইনি সুরক্ষা হারানোর পর থেকেই টুইটারের বিরুদ্ধে একের পর এক এফআইআর করা হয়েছে।

গত ২৬ মে থেকে নতুন তথ্য প্রযুক্তি আইন অনুযায়ী, সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলিতে যে অভিযোগ জমা পড়বে, তার ভিত্তিতে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে সংস্থাগুলিকে। এর জন্য প্রতিটি সংস্থায় একজন কমপ্লায়েন্স অফিসার, গ্রিভেন্স অফিসার ও নোডাল অফিসার নিয়োগ করতে হবে।

শেয়ার করুন

মন্তব্য

তালেবানের পক্ষে সমাবেশে নারীদের অংশ নিতে বাধ্য করা হয়েছিল?

তালেবানের পক্ষে সমাবেশে নারীদের অংশ নিতে বাধ্য করা হয়েছিল?

কাবুলের শহীদ রাব্বানি এডুকেশন ইউনিভার্সিটির লেকচার থিয়েটারে সমবেত নারীদের পরনে ছিল তিন খণ্ডের কালো বোরকা। অথচ আফগান নারীদের প্রচলিত বোরকা নীল রঙের এবং একখণ্ড কাপড়। ছবি: এএফপি

অনুষ্ঠানের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের অনেক মানুষ তালেবানের প্রতি নারীদের সমর্থনের সত্যতা ও গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। এর একটি কারণ ছিল, লেকচার থিয়েটারের অনুষ্ঠানে অংশ নেয়ার আগে বা পরে কাবুলের রাস্তায় একই পোশাক আর প্ল্যাকার্ড হাতে নারীদের সারি বেঁধে হেঁটে যাওয়ার ছবি। সেসব ছবিতে নারীদের পাহারায় অস্ত্র হাতে তালেবান যোদ্ধাদেরও উপস্থিত থাকতে দেখা গিয়েছিল। প্রশ্ন উঠেছিল সমাবেশে অংশ নেয়া নারীদের পরনে থাকা বোরকার ধরন নিয়েও।

তালেবানের সমর্থনে আপাদমস্তক কালো কাপড়ে মোড়ানো নারীদের সমাবেশের কিছু ছবি ভাইরাল হয়েছিল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। শতাধিক নারীর অংশগ্রহণে ওই সমাবেশ কাবুলের এক বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয় গত ১১ সেপ্টেম্বর।

সে সময় প্রকাশিত সংবাদ থেকে জানা যায়, তালেবানের জেন্ডার বৈষম্যমূলক কট্টর নীতির প্রতি সমর্থন জানিয়ে ওই সমাবেশে অংশ নেন প্রায় ৩০০ নারী। কথিত ইসলামপন্থিদের সমর্থনে এবং পশ্চিমাদের বিরুদ্ধে সমাবেশে কথা বলেছিলেন নারী বক্তারা; শ্রোতার আসনে থাকা নারীরা উড়িয়েছিলেন তালেবানের পতাকা।

তালেবানের আরোপিত নিয়ম মেনে কঠিন রক্ষণশীল পোশাকে শিক্ষা গ্রহণের বার্তা দিয়েছিলেন তারা। হাতে গোনা কয়েকজন নীল রঙের বোরকা পরলেও বেশির ভাগই ছিলেন কালো নিকাবে। চোখ বাদে পুরো শরীর ঢাকা ছিল তাদের, চোখেও ছিল পাতলা কাপড়ের আবরণ, হাতে ছিল গ্লাভস।

সমাবেশে অংশ নেয়া কয়েকজন নারীর বরাত দিয়ে টার্কিশ রেডিও অ্যান্ড টেলিভিশনের (টিআরটি) প্রতিবেদনে বলা হয়, তালেবানের প্রতি নারীদের সমর্থন দেখানোর ওই আয়োজন পুরোটাই ছিল সাজানো।

তালেবান নারীদের অধিকার হরণ করছে বলে বিশ্বজুড়ে যে অভিযোগ উঠেছে, তা মিথ্যা প্রমাণে নারীদের বাধ্য করা হয়েছিল ওই সমাবেশে অংশ নিতে। উদ্দেশ্য ছিল বিশ্বকে দেখানো যে, আফগান নারীরা তালেবানের শাসনে, নতুন কঠোর জীবনবিধানে সন্তুষ্ট।

সমাবেশে অংশ নেয়া নারী মারজানা (ছদ্মনাম)। আয়োজনে নিজের অংশ নেয়ার নেপথ্যের ঘটনা তিনি জানিয়েছেন নিজ বাড়িতে বসেই। তাও শোনা যায় না এমন কণ্ঠে, রীতিমতো ফিসফিস করে কথা বলছিলেন তিনি। সে কণ্ঠেও স্পষ্ট ছিল আতঙ্ক।

তিনি বলেন, ‘অনেকে বোরকা পরেই উপস্থিত হয়েছিলেন। আমিসহ বাকিদের কালো বোরকা পরতে দেয়া হয়েছিল। আমাদের পুরো মুখ ঢেকে ছিল ওই পোশাকে।’

সেদিন আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলের শহীদ রাব্বানি এডুকেশন ইউনিভার্সিটির লেকচার থিয়েটারে সমবেত হয়েছিলেন ওই নারীরা। তালেবানের সমর্থনে লেখা প্ল্যাকার্ড ছিল তাদের হাতে।

বিশ্ববিদ্যালয়টির অধ্যাপক মারজানা আরও জানান, এক শিক্ষার্থীকে আগে লিখে রাখা একটি বক্তব্য লেকচার হলে পড়ে শোনাতে বলা হয়। ইংরেজি ভাষায় লেখা ছিল বক্তব্যটি।

অনুষ্ঠানের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের অনেক মানুষ তালেবানের প্রতি নারীদের সমর্থনের সত্যতা ও গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।

এর একটি কারণ ছিল, লেকচার থিয়েটারের অনুষ্ঠানে অংশ নেয়ার আগে বা পরে কাবুলের রাস্তায় একই পোশাক আর প্ল্যাকার্ড হাতে নারীদের সারি বেঁধে হেঁটে যাওয়ার ছবি।

তালেবানের পক্ষে সমাবেশে নারীদের অংশ নিতে বাধ্য করা হয়েছিল?

সেসব ছবিতে নারীদের পাহারায় অস্ত্র হাতে তালেবান যোদ্ধাদেরও উপস্থিত থাকতে দেখা গিয়েছিল।

ওই সমাবেশের আগে ও পরে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন তালেবানবিরোধী বিক্ষোভে চড়াও হতে দেখা গিয়েছে সশস্ত্র এই তালেবান যোদ্ধাদের। বিক্ষোভের খবর সংগ্রহ করায় আফগান সংবাদকর্মীদেরও নির্মমভাবে পিটিয়েছিল তালেবান যোদ্ধারা।

সেই তালেবান যোদ্ধারাই আবার তাদের সমর্থনে হওয়া সমাবেশের খবর প্রচারে সাংবাদিকদের ডেকে পাঠিয়েছিল।

প্রশ্ন উঠেছিল সমাবেশে অংশ নেয়া নারীদের পরনে থাকা বোরকার ধরন নিয়েও। বেশির ভাগ নারীই হাত গ্লাভসে আর চোখ-মুখ নিকাবে ঢেকে রেখেছিলেন। পা থেকে মাথা পর্যন্ত পরা ছিলেন কালো বোরকা।

অর্থাৎ বহির্বিশ্ব, বিশেষ করে পশ্চিমা বিশ্বে আফগান নারীদের বোরকা পরা নিয়ে যে ধারণা প্রচলিত, সেটাই স্পষ্ট ছিল সমাবেশে অংশ নেয়া নারীদের পোশাকে।

আরব বিশ্বে প্রচলিত কালো রঙের বোরকার তিনটি অংশ আলাদা- গলা থেকে পা পর্যন্ত একটি ঢোলা আলখাল্লা, মাথা ঢাকার কাপড় ও মুখ ঢাকার নিকাব। এ ধরনের পোশাকই পরেছিলেন সমাবেশে অংশ নেয়া বেশির ভাগ নারী।

অথচ আফগান নারীরা সাধারণত নীল রঙের বোরকা পরেন। আফগানিস্তানের প্রচলিত বোরকা মানে বিশাল একখণ্ড নীল রঙের কাপড়, যা দিয়ে নারীর মাথা থেকে পা পর্যন্ত, এমনকি চোখও ঢাকা থাকে।

তালেবানের সমর্থনে সমাবেশে অংশ নেয়া আরেক নারী নাম-পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘মুখসহ সারা শরীর ঢেকে নিতে কালো রঙের বোরকাগুলো আমাদের তালেবান যোদ্ধারা দিয়েছিল। আমি পরতে চাইনি ওই পোশাক।

‘যখন বলেছিলাম যে আমি পরব না এই বোরকা, ওরা চিৎকার শুরু করল। মোট কথা, ওই পোশাক পরতে তারা আমাদের বাধ্য করেছে। তারপর চুপচাপ থিয়েটারে গিয়ে বসে থাকতে বলেছে।

‘বোরকার ভেতরে ঢোকার পর আমি কিছুই দেখতে পাচ্ছিলাম না। তারা বক্তৃতা দিচ্ছিল। আমি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত শুধু শুনেছি।’

ছবি ও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি বিশ্লেষণেও এটা স্পষ্ট হয়েছে যে ওই সমাবেশ শুধু যে তালেবানের অনুমতিতে হয়েছিল তা-ই নয়, আয়োজনও করেছিল খোদ তালেবানই।

তালেবানের সমর্থনে ওই সমাবেশের এক বক্তা বলেছিলেন, তালেবানবিরোধী বিক্ষোভে অংশ নেয়া নারীরা ‘প্রকৃত আফগান নারীদের প্রতিনিধিত্ব করেন না এবং তারা আফগানিস্তানের মুখ নন। তারা ব্যক্তিগত স্বার্থে আফগান নারীদের মিথ্যা ভাবমূর্তি তুলে ধরছেন।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মীদেরও সাক্ষাৎকার নেয়ার চেষ্টা করেছিল টিআরটি। কিন্তু সাড়া পায়নি। তালেবানের সমর্থনে ওই অনুষ্ঠানে স্বেচ্ছায় অংশ নেয়া নারী শিক্ষার্থীদের সাক্ষাৎকার নেয়ারও চেষ্টা করা হয়েছিল। সাড়া দেননি তারাও।

সমাবেশের ছবি ভাইরাল হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিন্দার ঝড় ওঠে। কয়েক শ আফগান নারী টুইটারে নিজেদের ঐতিহ্যবাহী রঙিন পোশাক পরা ছবি প্রকাশ করেন। ‘ডু নট টাচ মাই ক্লোথস’ হ্যাশট্যাগে টুইটারে প্রতিবাদের ঝড় তোলেন তারা।

টুইটারে বিবিসির সাংবাদিক সোদাবা হায়দারে বলেন, ‘এটাই আমাদের ঐতিহ্যবাহী পোশাক। আমাদের তো ভাত খাওয়ার চালটাও রঙিন। একই রকম রঙিন আমাদের জাতীয় পতাকাও।’

২০০১ সালে যুক্তরাষ্ট্র নেতৃত্বাধীন জোটের সামরিক অভিযানে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার আগ পর্যন্ত প্রথম দফায় প্রায় ছয় বছর আফগানিস্তান শাসন করেছিল ধর্মভিত্তিক সশস্ত্র সংগঠন তালেবান। নব্বইয়ের দশকের শাসনামলে মেয়েশিশু, কিশোরী ও নারীদের শিক্ষা গ্রহণ, জীবিকা উপার্জন, বেড়ানোসহ সব ধরনের মৌলিক অধিকার হরণ করেছিল গোষ্ঠীটি। পরিবারের পুরুষ সদস্য ছাড়া বাড়ির বাইরে পা রাখারও অনুমতি ছিল না নারীদের।

২০ বছরের ব্যবধানে গত ১৫ আগস্ট দ্বিতীয় দফায় দেশের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে তালেবান। শুরুতে নব্বইয়ের দশকের মতো কঠোর নিয়ম চালু না করার আশ্বাস দিলেও সে কথা রাখেনি গোষ্ঠীটি।

এরই মধ্যে আফগানিস্তানের নারী মন্ত্রণালয় স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দিয়েছে নতুন শাসক গোষ্ঠী। রাজধানী কাবুলে নগর প্রশাসনের নারী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বাড়িতে থাকার আদেশ দিয়েছে। ছাত্র-শিক্ষকদের নিয়ে সব স্কুল চালু হলেও স্কুলে যাচ্ছে না ছাত্রী ও শিক্ষিকারা।

ছেলেমেয়েদের একসঙ্গে শিক্ষা গ্রহণে পুরোপুরি নিষেধাজ্ঞা দেয়া হবে বলে রোববার নিশ্চিত করেছেন তালেবানশাসিত সরকারের উচ্চশিক্ষাবিষয়ক মন্ত্রী আব্দুল বাকি হাক্কানি। স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয়ে যেতে হলে নারীদের হিজাব পরতে হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

মারজানা বলেন, ‘আমরা পড়াশোনা করার কিংবা কাজে ফেরার অনুমতি পাব কি না জানি না। স্পষ্ট করে কিছুই বলা হচ্ছে না। ভবিষ্যতে আমাদের জন্য কী অপেক্ষা করছে, কে জানে।’

শেয়ার করুন

বিদেশে কয়লাভিত্তিক প্রকল্পে বিনিয়োগ বন্ধ করছে চীন

বিদেশে কয়লাভিত্তিক প্রকল্পে বিনিয়োগ বন্ধ করছে চীন

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৬তম অধিবেশনে বুধবার চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিনপিং বক্তব্য রাখেন ভিডিও বার্তার মাধ্যমে। ছবি: এএফপি

বিভিন্ন দেশে কয়লা জ্বালানিভিত্তিক প্রকল্প বন্ধের বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানায়নি বেইজিং। কিন্তু এ পদক্ষেপে বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের আওতায় অনেক দেশে কয়লাভিত্তিক কারখানার কর্মপরিধি সীমিত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কয়েক বছরের মধ্যে ২০২১ সালেই প্রথম ছয় মাসে কয়লাভিত্তিক কোনো প্রকল্পে তহবিল দেয়নি বেইজিং।

জ্বালানি হিসেবে কয়লা ব্যবহার করা হবে, বহির্বিশ্বে এমন কোনো প্রকল্পে আর বিনিয়োগ করবে না চীন। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৬তম অধিবেশনে বুধবারের বক্তব্যে এ আশ্বাস দেন চীনের প্রেসিডেন্ট চি শিনপিং।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, বিশ্বজুড়ে কার্বন নিঃসরণ কমাতে চীনের এ পদক্ষেপ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশাবাদী বিশ্ব সম্প্রদায়।

অধিবেশনে ভিডিও বার্তায় শিনপিং বলেন, ‘অন্য দেশের কল্যাণে চীনের সহযোগিতামূলক প্রকল্প অব্যাহত থাকবে। পরিবেশবান্ধব ও জ্বালানি ব্যবহারে ন্যূনতম কার্বন নিঃসরণ ঘটে, এমন প্রকল্পে সাহায্য জোরদার করব আমরা। একই সঙ্গে কোনো দেশে নতুন করে কয়লা জ্বালানিভিত্তিক প্রকল্পে বিনিয়োগ করব না।’

চীনের প্রেসিডেন্টের এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

উচ্চাভিলাষী বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের আওতায় ইন্দোনেশিয়া, ভিয়েতনামসহ বিভিন্ন দেশে কয়লাভিত্তিক প্রকল্পে চীনের বিপুল পরিমাণ বিনিয়োগ রয়েছে। এশিয়া ও ইউরোপকে সড়ক, রেল ও নৌপথে যুক্ত করতে বেইজিংয়ের এ নিউ সিল্ক রোড প্রকল্পও বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের অংশ।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব নিয়ন্ত্রণে প্যারিস জলবায়ু চুক্তি বাস্তবায়নের চেষ্টা করছে বিশ্ব সম্প্রদায়। এ অবস্থায় বিভিন্ন দেশে কয়লাভিত্তিক প্রকল্পে বিনিয়োগ বন্ধে আন্তর্জাতিক অঙ্গণে দীর্ঘদিন ধরেই চাপের মুখে ছিল চীন।

বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের আওতায় বেশিরভাগ উন্নয়নশীলসহ অনেকগুলো দেশে রেল, সড়ক, বন্দর ও কয়লাভিত্তিক কারখানা গড়ে তুলতে বিনিয়োগ করেছে চীন।

বিভিন্ন দেশে কয়লা জ্বালানিভিত্তিক প্রকল্প বন্ধের বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানায়নি বেইজিং। কিন্তু এ পদক্ষেপে বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের আওতায় অনেক দেশে কয়লাভিত্তিক কারখানার কর্মপরিধি সীমিত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

কয়েক বছরের মধ্যে ২০২১ সালেই প্রথম ছয় মাসে কয়লাভিত্তিক কোনো প্রকল্পে তহবিল দেয়নি বেইজিং।

চীন নিজেও বিশ্বের অন্যতম গ্রিনহাউজ গ্যাস নিঃসরণকারী দেশ। অভ্যন্তরীণ জ্বালানির চাহিদা মেটাতেও কয়লার ওপর ব্যাপক নির্ভরশীল দেশটি।

২০৩০ সালের আগেই সর্বোচ্চ কার্বন নিঃসরণ শেষে ২০৬০ সালের মধ্যে চীনকে কার্বন নিরপেক্ষ দেশে পরিণত করা হবে বলে গত বছর আশ্বাস দিয়েছিলেন বেইজিং।

চিনপিংয়ের আগে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বক্তব্য দেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। জলবায়ু পরিবর্তন ও করোনাভাইরাস মহামারিসহ বিভিন্ন বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলায় বিশ্বনেতাদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

শেয়ার করুন

দাবানল-মহামারির মধ্যে শক্তিশালী ভূমিকম্প অস্ট্রেলিয়ায়

দাবানল-মহামারির মধ্যে শক্তিশালী ভূমিকম্প অস্ট্রেলিয়ায়

অস্ট্রেলিয়ার সাম্প্রতিক ইতিহাসে এটি অন্যতম শক্তিশালী ভূমিকম্প হলেও এতে গুরুতর ক্ষতি হয়নি। ছবি: এএফপি

ভৌগোলিক অবস্থানগত কারণে অস্ট্রেলিয়ায় ভূমিকম্প, বিশেষ করে শক্তিশালী কম্পন বেশ বিরল। ভূগর্ভে টেকটনিক প্লেটের মাঝখানে অবস্থিত মহাদেশটি। তবে গড়ে প্রতি ১০ বছরে একবার দেশটিতে ছয় মাত্রার ওপর ভূমিকম্প হয়ে থাকে।

পাঁচ দশমিক নয় মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে অস্ট্রেলিয়ার দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে রাজধানী মেলবোর্নের বেশ কয়েকটি ভবন।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, স্থানীয় সময় বুধবার সকাল সোয়া ৯টার দিকে আঘাত হানে ভূমিকম্পটি। উৎসস্থল ছিল ভিক্টোরিয়া রাজ্যের রাজধানীর অদূরে অবস্থিত ম্যান্সফিল্ডে।

ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা জিওসায়েন্সেস অস্ট্রেলিয়া জানিয়েছে, ভূপৃষ্ঠের ১০ কিলোমিটার গভীরে উৎস ছিল বলে কম্পনের তীব্রতা ছিল বেশি।

ভূমিকম্পের তীব্রতা এত বেশি ছিল যে প্রতিবেশি সাউথ অস্ট্রেলিয়া আর নিউ সাউথ ওয়েলস রাজ্যেও কম্পন অনুভূত হয়েছে।

পরে চার আর তিন দশমিক এক মাত্রার দুটি আফটারশকও অনুভূত হয় অঞ্চলটিতে। আরও আফটারশকের আশঙ্কায় বাসিন্দাদের সতর্ক থাকতে বলেছে ভিক্টোরিয়ার জরুরি সেবা বিভাগ।

অস্ট্রেলিয়ার সাম্প্রতিক ইতিহাসে এটি অন্যতম শক্তিশালী ভূমিকম্প হলেও এতে গুরুতর ক্ষতি হয়নি। কেউ গুরুতর আহতও হয়নি বলে জানিয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন।

ভৌগোলিক অবস্থানগত কারণে অস্ট্রেলিয়ায় ভূমিকম্প, বিশেষ করে শক্তিশালী কম্পন বেশ বিরল। ভূগর্ভে টেকটনিক প্লেটের মাঝখানে অবস্থিত মহাদেশটি। তবে গড়ে প্রতি ১০ বছরে একবার দেশটিতে ছয় মাত্রার ওপর ভূমিকম্প হয়ে থাকে।

অস্ট্রেলিয়ার দ্বিতীয় বৃহৎ শহর মেলবোর্নের জনসংখ্যা প্রায় ৫০ লাখ। করোনাভাইরাস মহামারির প্রকোপ বৃদ্ধিতে লকডাউন চলছে শহরটিতে।

এ ছাড়াও জলবায়ু পরিবর্তন ও বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির প্রভাবে আগে থেকেই বিপর্যস্ত দেশটি। তীব্র দাবদাহ চলছে অস্ট্রেলিয়ার বিস্তীর্ণ অঞ্চলে। সিডনিশহ বিভিন্ন শহর ও অঞ্চলে তাপমাত্রা ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছেছে সম্প্রতি।

গত বছরের ভয়াবহ দাবানলের পর এ বছরও তাপমাত্রার তীব্রতা আর শুষ্ক আবহাওয়ার কারণে বিভিন্ন জায়গায় জ্বলছে আগুন।

শেয়ার করুন

বিজেপির ‘চক্রান্ত’ নিয়ে ভাবনায় মমতা

বিজেপির ‘চক্রান্ত’ নিয়ে ভাবনায় মমতা

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ফাইল ছবি

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন ‘তৃণমূলের সংখ্যাগরিষ্ঠতা আছে, আমি যদি জিততে না পারি তখন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী অন্য কেউ হবেন। এখানে ভোটে হারলে আমি মুখ্যমন্ত্রী থাকতে পারবো না, এটা আমি আপনাদের কাছে বলে গেলাম।'

পশ্চিমবঙ্গের ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনে ভোট প্রচার এখন তুঙ্গে। ৩০ সেপ্টেম্বর ভোট গ্রহণ, ভোট গণনা ৩ অক্টোবর। মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ারে বহাল থাকতে হলে এখানে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জয়ের বিকল্প নেই। আর তাই রাজনীতির খেলায় বিজেপি ‘ভোটের চক্রান্ত’ করতে পারে বলে মন্তব্য করেন মমতা।

ভোট প্রচারে বুধবার চেতলায় গিয়ে মমতা এ উদ্বেগের কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘ভবানীপুরে বহিরাগতদের আনার চেষ্টা হচ্ছে। বিজেপি নানারকম চক্রান্ত করবে। তারা ভবানীপুরের মাটি চেনে না। পূজার আগে আপনারা মাথা ঠান্ডা রেখে ভোট দিন।’

গত নির্বাচনে নন্দীগ্রাম কেন্দ্রে হেরে গিয়েও ৫ মে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ নেন।
সংবিধানের নিয়ম অনুযায়ী, তিনি ভবানীপুরের আসনটিতে হারলে মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্বে থাকতে পারবেন না। তাই সবার আগ্রহের কেন্দ্রে এখন এই আসনের উপনির্বাচন।

তৃণমূল নেত্রী এসব বিষয় মাথায় রেখে বলেন, ‘তৃণমূলের সংখ্যাগরিষ্ঠতা আছে, আমি যদি জিততে না পারি তখন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী অন্য কেউ হবেন। এখানে ভোটে হারলে আমি মুখ্যমন্ত্রী থাকতে পারবো না, এটা আমি আপনাদের কাছে বলে গেলাম।

‘আপনার ভোটটা কেন প্রয়োজন, তা বলেছি। এখন ঝড়-বৃষ্টি হলেও সবাই ভোট দিতে বের হবেন।’

অতীত তুলে ধরে মমতা বলেন, ‘আমি এখানে ছোট থেকে বড় হয়েছি। মা বলেছিলেন, তুই এখানে একবার দাঁড়ালে আমি তোকে একটা ভোট দিতাম। আমারও তো আমার মেয়েকে ভোট দিতে ইচ্ছে করে।

‘আমি সাত দফায় সংসদ সদস্য হয়েছি। প্রতিবার খিদিরপুর সঙ্গে ছিল। ২০১১ ও ২০১৬ সালে এখান থেকে নির্বাচিত হয়েছি। এটা ভাগ্যের খেলা, এবার মুখ্যমন্ত্রী হলে তা হবে ভবানীপুর থেকেই।’

ভোট প্রচারে এবার তৃণমূল কর্মীরা বাংলার মেয়ে, পাড়ার মেয়ে, ঘরের মেয়ে, ভবানীপুরের মেয়ে এসব শ্লোগান তুলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জয়লাভকে সহজ করতে চাইছে।
আলোচিত এ উপনির্বাচনে ভোট প্রচারের জন্য আর পাঁচ দিন হাতে আছে। শেষ সময়ে তৃণমূলের প্রচারে তাই ঘুরে ফিরে আসছে বিজেপির কর্মকান্ড। বিজেপি বহিরাগত এনে এখানে ভোটে ঝামেলা করতে পারে বলে অভিযোগ করেছেন মমতা নিজেই।

ত্রিপুরায় অভিষেকের পদযাত্রায় বাধার কথা উল্লেখ করে মমতা বলেন, ‘বিজেপি ভয় পায়, তাই বাধা দেয়। তৃণমূল ভয় পায় না, তাই ঢুকতে দেয়। বিজেপির এখানে কেউ নেই, সব বহিরাগতরা প্রচার করছে। ওদের জিজ্ঞেস করুন, মানুষের জন্য তারা কি করেছে?’

শেয়ার করুন

ভাতিজির বিরুদ্ধে ট্রাম্পের ১০ কোটি ডলারের মামলা

ভাতিজির বিরুদ্ধে ট্রাম্পের ১০ কোটি ডলারের মামলা

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট প্রার্থীদের কর দাখিল সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশের নিয়ম থাকলেও তা মানেননি ডনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: নিউইয়র্ক টাইমস

মামলার প্রতিক্রিয়ায় মেরি ট্রাম্প চাচার বিষয়ে বলেন, ‘আমি মনে করি, তিনি হেরে যাওয়া একটা মানুষ, যে দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়ায় মরিয়া হয়ে হাতের কাছে যা পাচ্ছে, তাই ছুঁড়ে মারছে। সবসময় এভাবেই তিনি তার দিক থেকে নজর ঘোরানোর চেষ্টা করেছেন।’

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প নিজের ভাতিজি মেরি ট্রাম্প ও প্রখ্যাত সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমসের বিরুদ্ধে ১০ কোটি ডলারের মামলা করেছেন।

নব্বইয়ের দশকে ট্রাম্পের কর জালিয়াতির বিষয়ে একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন ইস্যুতে মামলাটি দায়ের হয়েছে। ট্রাম্পের বিরুদ্ধে নিউইয়র্ক টাইমসের ২০১৮ সালের ওই অনুসন্ধানী প্রতিবেদন সংবাদমাধ্যমের জন্য সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ পুলিৎজার পুরষ্কারও পেয়েছিল।

নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে জানানো হয়, নিউইয়র্কের ডাচেস কাউন্টিতে মঙ্গলবার মামলাটি করা হয়েছে। এতে মেরি ট্রাম্পের পাশাপাশি আসামি করা হয়েছে পত্রিকাটির তিন প্রতিবেদক সুজান ক্রেইগ, ডেভিড বার্সটো ও রাস বিউটনারকে।

তারা ট্রাম্পের করবিষয়ক তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে তার ব্যক্তিগত তথ্যে চরম অনুপ্রবেশ ঘটিয়েছেন বলে অভিযোগ করা হয় মামলায়।

মামলার ২৭ পৃষ্ঠার অভিযোগপত্রে বলা হয়, ‘গোপন ও উচ্চ স্পর্শকাতর ব্যক্তিগত তথ্য হাতিয়ে নিতে গভীর ষড়যন্ত্র করেছিল আসামিরা। এরপর সেসব তথ্য তারা নিজেদের স্বার্থে এবং নিজেদের কাজের মিথ্যা বৈধতা অর্জনের উপায় হিসেবে ব্যবহার করেছে।’

প্রতিবেদনটি ‘ব্যক্তিগত উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ ছিল বলেও দাবি করা হয় মামলায়।

প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছিল, উত্তরাধিকার সূত্রে বাবা ফ্রেড ট্রাম্পের আবাসন ব্যবসা থেকে তৎকালীন বাজারমূল্যে ৪০ কোটি ডলারের বেশি সম্পদ পেয়েছিলেন ডনাল্ড জন ট্রাম্প। এ সম্পদের বেশিরভাগই তিনি উপার্জন করেছিলেন কর ফাঁকি দিয়ে।

প্রতিবেদনটি প্রকাশের পর ২০২০ সালে একটি স্মৃতিকথা প্রকাশ করেন ডনাল্ড ট্রাম্পের ভাতিজি মেরি ট্রাম্প। তিনি ডনাল্ড ট্রাম্পের বড় ভাই ফ্রেড ট্রাম্প জুনিয়রের মেয়ে। অতিরিক্ত মদ্যপানজনিত জটিলতায় ১৯৮১ সালে মৃত্যু হয় ফ্রেড ট্রাম্প জুনিয়রের।

বই হিসেবে প্রকাশিত মেরি ট্রাম্পের স্মৃতিকথার নাম ‘টু মাচ অ্যান্ড নেভার ইনাফ: হাও মাই ফ্যামিলি ক্রিয়েটেড দ্য ওয়ার্ল্ডস মোস্ট ডেঞ্জারাস ম্যান’। বলা বাহুল্য যে বইয়ের শিরোনামে উল্লেখিত ‘বিশ্বের সবচেয়ে বিপজ্জনক ব্যক্তি’টি আর কেউ নন, স্বয়ং মেরি ট্রাম্পের চাচা ডনাল্ড ট্রাম্প।

নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনের তথ্যও নিজের বইয়ে ব্যবহার করেছিলেন মেরি ট্রাম্প।

মামলার প্রতিক্রিয়ায় এনবিসিকে মেরি ট্রাম্প চাচার বিষয়ে বলেন, ‘আমি মনে করি, তিনি হেরে যাওয়া একটা মানুষ, যে দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়ায় মরিয়া হয়ে হাতের কাছে যা পাচ্ছে, তাই ছুঁড়ে মারছে। সবসময় এভাবেই তিনি তার দিক থেকে নজর ঘোরানোর চেষ্টা করেছেন।’

নিউইয়র্ক টাইমসের এক মুখপাত্র বলেছেন, ‘আমাদের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনটি নাগরিকদের কল্যাণে ছিল। জনস্বার্থকে উপেক্ষা করে ঘটানো একটি ঘটনা জনগণের চোখের সামনে তুলে ধরেছিলাম আমরা।

‘এই মামলা স্বাধীন সংবাদমাধ্যমের কণ্ঠরোধের চেষ্টা। যে কোনো মূল্যে এ চেষ্টা প্রতিহত করব আমরা।’

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট প্রার্থীদের কর দাখিল সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশের নিয়ম থাকলেও নিজের আর্থিক বিষয়াদি বরাবরই লোকচক্ষুর আড়ালে রাখার চেষ্টা করেছেন ডনাল্ড ট্রাম্প।

ট্রাম্প ও তার ব্যবসায়িক লেনদেনের বিষয়ে বেশ কিছু অনুসন্ধানে আলো ফেলেছে করবিষয়ক নথিপত্র। সবশেষ যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ দেশটির অভ্যন্তরীণ রাজস্ব বিভাগকে (আইআরএস) ট্রাম্পের কর দাখিল সংক্রান্ত নথিপত্র কংগ্রেসের সংশ্লিষ্ট কমিটিতে জমা দেয়ার নির্দেশ দিয়েছে।

শেয়ার করুন

কোভিশিল্ডে স্বীকৃতির পর টিকা সনদ নিয়ে মুখোমুখি ভারত-যুক্তরাজ্য

কোভিশিল্ডে স্বীকৃতির পর টিকা সনদ নিয়ে মুখোমুখি ভারত-যুক্তরাজ্য

করোনাভাইরাস প্রতিরোধে অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার গবেষণালব্ধ টিকা ভারতের সিরাম ইনস্টিটিউট উৎপাদন করছে কোভিশিল্ড নামে। ছবি: দ্য ট্রিবিউন ইন্ডিয়া

বর্তমানে ভারতে যেসব টিকা অনুমোদিত, নাগরিকরা সেগুলোর যে কোনোটির দুই ডোজ নিলেও একে টিকাগ্রহণ সম্পন্ন বলে এখনও আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দিচ্ছে না ভারত সরকার। এর ফলে দুই ডোজ টিকা নেয়ার পরও ভারতীয় নাগরিকদের যুক্তরাজ্যে পৌঁছে কোয়ারেন্টিনে থাকতে হবে।

ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউট উৎপাদিত করোনাভাইরাস প্রতিরোধী কোভিশিল্ডকে স্বীকৃতি দিয়ে অনুমোদিত টিকার তালিকা সংশোধন করেছে যুক্তরাজ্য। তবে তাতেও কোয়ারেন্টিনবিহীন ভ্রমণের পথ খুলছে না ভারতীয়দের জন্য।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, স্থানীয় সময় বুধবার সকালে বিদেশিদের জন্য ভ্রমণ নীতিমালার সংশোধিত তালিকা প্রকাশ করে লন্ডন। এতে কোভিশিল্ডকে করোনার অনুমোদিত টিকা হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

বিদেশিদের জন্য যুক্তরাজ্যের ভ্রমণ নীতিমালায় প্রাথমিকভাবে অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকা, ফাইজার-বায়োএনটেক, মডার্না ও জনসন অ্যান্ড জনসনের গবেষণালব্ধ করোনা টিকায় অনুমোদন দেয়া হয়েছিল।

বলা হয়েছিল, অস্ট্রেলিয়া, অ্যান্টিগুয়া ও বারবুডা, বারবাডোজ, বাহরাইন, ব্রুনেই, কানাডা, ডোমিনিকা, ইসরায়েল, জাপান, কুয়েত, মালয়েশিয়া, নিউজিল্যান্ড, কাতার, সৌদি আরব, সিঙ্গাপুর, সাউথ কোরিয়া, তাইওয়ান বা সংযুক্ত আরব আমিরাতের সংশ্লিষ্ট সরকারি স্বাস্থ্যবিষয়ক সংস্থা সরবরাহকৃত চারটি টিকার যেকোনোটির দুই ডোজ নেয়া ব্যক্তিরা কোয়ারেন্টিন বা আইসোলেশনের শর্ত ছাড়াই যুক্তরাজ্যে প্রবেশ করতে পারবেন।

আগামী ৪ অক্টোবর যুক্তরাজ্যে স্থানীয় সময় ভোর ৪টা থেকে এ নীতিমালা কার্যকর হবে।

বিদেশিদের জন্য অনুমোদিত টিকার প্রাথমিক তালিকায় অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার গবেষণালব্ধ টিকা থাকলেও স্বীকৃতি ছিল না কোভিশিল্ডের; নাম ছিল না ভারতের। অথচ বিশ্বের সর্ববৃহৎ টিকা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ভারতের সিরাম ইনস্টিটিউট নিজ দেশে অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার গবেষণালব্ধ টিকাই উৎপাদন করছে কোভিশিল্ড নামে।

এমন পরিস্থিতিতে বিষয়টি নিয়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানায় ভারত। দেশটিতে এ পর্যন্ত ৭১ কোটির বেশি মানুষ করোনার টিকা নিয়েছেন। এদের বেশিরভাগই পেয়েছেন কোভিশিল্ড।

বিষয়টি নিয়ে দুই দেশের কূটনীতিতেও উত্তাপ ছড়ায়। কোভিশিল্ডে অনুমোদন না দিলে লন্ডনের বিরুদ্ধে পাল্টা ব্যবস্থা নেয়ারও হুমকি দেয় নয়া দিল্লি। এর প্রেক্ষিতে তালিকা সংশোধন করে যুক্তরাজ্য; স্বীকৃতি দেয় কোভিশিল্ডে।

কিন্তু লন্ডন জানিয়েছে, কোভিশিল্ডে অনুমোদন দেয়া হলেও যুক্তরাজ্যগামী ভারতীয় নাগরিকদের জন্য কোয়ারেন্টিনের জটিলতা কাটছে না। ব্রিটিশ ভূখণ্ডে পৌঁছে ১০ দিন সেলফ আইসোলেশনে তাদের থাকতে হচ্ছেই। কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয় ভারতের টিকা সনদ জটিলতার কথা।

বর্তমানে ভারতে যেসব টিকা অনুমোদিত, নাগরিকরা সেগুলোর যে কোনোটির দুই ডোজ নিলেও একে টিকাগ্রহণ সম্পন্ন বলে এখনও আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দিচ্ছে না ভারত সরকার।

এর ফলে দুই ডোজ টিকা নেয়ার পরও ভারতীয় নাগরিকদের যুক্তরাজ্যে পৌঁছে কোয়ারেন্টিনে থাকতে হবে।

ভারতে করোনাভাইরাস প্রতিরোধে দুই ডোজ টিকা নেয়া ব্যক্তিদের সনদ দেয়া হয় কেন্দ্রীয় সরকার পরিচালিত কোউইন অ্যাপ ও পোর্টাল থেকে।

এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রতিক্রিয়ায় ‘ভারতের টিকা সনদ নিয়ে জটিলতা’র অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন দিল্লির এক শীর্ষ স্বাস্থ্য কর্মকর্তা।

জাতীয় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের প্রধান নির্বাহী ড. আরএস শর্মা বলেন, ‘কোউইন অ্যাপ বা করোনার টিকাবিষয়ক সনদ নিয়ে কোনো জটিলতা নেই। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশনার সঙ্গে সম্পূর্ণ সঙ্গতিপূর্ণ এ ব্যবস্থা।’

ব্রিটিশ হাই কমিশনের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘ভারতের সংশ্লিষ্ট সরকারি স্বাস্থ্য সংস্থা অনুমোদিত টিকাগ্রহীতাদের টিকা সনদে কিভাবে যুক্তরাজ্যের স্বীকৃতি মিলতে পারে, সে বিষয়ে নয়া দিল্লির সঙ্গে আলোচনা চলছে লন্ডনের।’

শেয়ার করুন

আফগানিস্তানে তালেবান শাসনে ভারতে হেরোইন পাচার বাড়ছে

আফগানিস্তানে তালেবান শাসনে ভারতে হেরোইন পাচার বাড়ছে

হেরোইন তৈরির মূল উপাদান আফিম উৎপাদনে বিশ্বের শীর্ষ দেশ আফগানিস্তান। ছবি: টাইমস অফ ইন্ডিয়া

ভারতের মাদক নিয়ন্ত্রণ ব্যুরোর নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা বলেন, ‘যেভাবে বিপুল পরিমাণ হেরোইন ভারতে ঢোকানোর চেষ্টা চলছে এখন, তাতে এটা স্পষ্ট যে মাদক মাফিয়ারা মজুত খালি করার তোড়জোড় চলছে। তাহলে তালেবানের শাস্তি থেকে বেঁচে যাওয়া আর হেরোইন জব্দে আর্থিক ক্ষতির ঝুঁকি কমে যাবে।’

আন্তর্জাতিক পর্যায়ে মাদক চোরাচালানে জড়িত বিভিন্ন চক্র হঠাৎই ভারতে নিষিদ্ধ হেরোইন পাচার বাড়িয়ে দিয়েছে। ভারতের নিরাপত্তায় ও পাচার দমনে তৎপর কয়েকটি সরকারি সংস্থা এ দাবি করেছে।

টাইমস অফ ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়, সম্প্রতি গুজরাট উপকূলে বিপুল পরিমাণ হেরোইন জব্দের ঘটনায় এমন সমীকরণে পৌঁছেছে ভারতীয় গোয়েন্দারা। তাদের মতে, আফগানিস্তানে তালেবানের শাসন প্রতিষ্ঠার ফলে চাপে রয়েছে মাদক পাচারকারীরা।

বিবিসির মঙ্গলবারের একটি প্রতিবেদনে গুজরাটের মুন্দ্রা বন্দর থেকে তিন টনের বেশি হেরোইন জব্দের খবর প্রকাশ করা হয়। বলা হয়, এর সম্ভাব্য মূল্য প্রায় ২৭০ কোটি ডলার। আফগানিস্তান থেকে ইরানের বান্দার আব্বাস পোর্ট হয়ে ভারতে পৌঁছায় চালানটি। কাগজপত্রে চালানটিতে ট্যাল্ক পাথর থাকার কথা উল্লেখ ছিল।

ভারতের মাদক নিয়ন্ত্রণ ব্যুরো (এনসিবি), রাজস্ব গোয়েন্দা অধিদপ্তর (ডিআরআই) ও গুজরাটের সন্ত্রাসবিরোধী স্কোয়াডের (এটিএস) কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন যে, আফগানিস্তানে উৎপাদিত হেরোইন ভারতে পাচারে অব্যাহত চেষ্টা চালাচ্ছে অপরাধী চক্রগুলো।

সংস্থাগুলোর অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে, নিরাপদে মাদক পাচারে ইরান হয়ে সমুদ্রপথের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিতের চেষ্টা করছে চোরাকারবারিরা।

না হলে মাদকসম্রাটদের শঙ্কা, তালেবানের হাতে ধরা পড়লে সোজা মৃত্যুদণ্ড দেয়া হবে তাদের। একই সঙ্গে বিপুল পরিমাণ হেরোইনের সন্ধান পেলে তালেবান যদি তা জব্দ করে, তাহলে অপ্রত্যাশিত আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা তো আছেই।

এসব কারণেই ভারতে মাদকের অনুপ্রবেশ তীব্র রূপ নিয়েছে বলে জানান গোয়েন্দারা।

এনসিবির এক কর্মকর্তা জানান, ভারতীয় জলসীমায় যে অস্বাভাবিক হারে হেরোইনের চালান ধরা পড়ছে, তা উপেক্ষা করার উপায় নেই।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘মুন্দ্রা বন্দরে তিন হাজার কেজি হেরোইন জব্দের বিষয়টি এখনও খতিয়ে দেখছে ডিআরআই। ওই হেরোইন আফগানিস্তান থেকে চোরাই পথে এসেছে। আফিম উৎপাদনে আফগানিস্তান শীর্ষ দেশ। সেই সঙ্গে আফিম থেকে হেরোইন তৈরির জন্য দেশটিতে প্রযুক্তিও আছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘যেভাবে বিপুল পরিমাণ হেরোইন ভারতে ঢোকানোর চেষ্টা চলছে এখন, তাতে এটা স্পষ্ট যে মাদক মাফিয়ারা মজুত খালি করার তোড়জোড় চলছে। তাহলে তালেবানের শাস্তি থেকে বেঁচে যাওয়া আর হেরোইন জব্দে আর্থিক ক্ষতির ঝুঁকি কমে যাবে।’

জাতিসংঘের মাদক ও অপরাধবিষয়ক কার্যালয় ইউএনওডিসির তথ্য অনুযায়ী, আফিমের সর্ববৃহৎ উৎপাদনকারী দেশ আফগানিস্তান। সারা বিশ্বে আফিম সরবরাহের ৮০ শতাংশের বেশি চাষ হয় আফগান ভূখণ্ডে। পপি গাছের বিশেষ একটি প্রজাতির নির্যাস আফিম থেকে হেরোইনসহ বিভিন্ন উচ্চ মাত্রার মাদক তৈরি করা হয়।

জাতিসংঘ আরও জানায়, আফগানিস্তানে আফিম চাষে ২০১৯ সালে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হয়েছিল প্রায় ১২ হাজার মানুষের।

ধারণা করা হয়, তালেবানের বার্ষিক আয়ের প্রায় ৬০ শতাংশের উৎস অবৈধ মাদক বাণিজ্য।

শেয়ার করুন