বিজেপি বিধায়কদের হট্টগোলে ভাষণ দিতে পারলেন না রাজ্যপাল

বিজেপি বিধায়কদের হট্টগোলে ভাষণ দিতে পারলেন না রাজ্যপাল

বিজেপির নিয়োগ করা বিধায়ক ধনকড় ভাষণ নিয়ে আগেই আপত্তি তুলেছিলেন। ছবি: সংগৃহীত

প্রথা অনুসারে রাজ্যপালের বিধানসভায় পড়ার ভাষণটি লিখে দেয় রাজ্য সরকার। রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড় ভাষণটি নিয়ে শুরুতেই আপত্তি তোলেন। নির্বাচনপরবর্তী সহিংসতার উল্লেখ না থাকায় তার ভাষণটি পছন্দ হয়নি। একই সংকটের কথা উল্লেখ করেন বিজেপির বিধায়করাও। বিক্ষোভ করার বিষয়টি তাদের পূর্বপরিকল্পিত।  

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভায় রাজ্যপালের ভাষণ পড়া শুরু হতেই বিক্ষোভ শুরু করেন বিজেপি বিধায়করা। বিজেপি বিধায়কদের তুমুল বিক্ষোভে ৪ মিনিটের মধ্যেই ভাষণ পড়া বন্ধ করে বিধানসভা ছেড়ে বেরিয়ে যান রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড়।

রাজ্যে তৃতীয়বারের জন্য সরকার গঠন করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। শুক্রবার রাজ্য বিধানসভার প্রথম অধিবেশনে প্রথা মতো রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড়ের উদ্বোধনী ভাষণ দিয়ে অধিবেশন শুরু হলে বিজেপি বিধায়করা ওয়েলে নেমে তুমুল হট্টগোল শুরু করেন।

সূত্রের খবর, বিজেপির এই বিক্ষোভ পূর্বপরিকল্পিত।

শুক্রবার ১টা ৫০ মিনিট নাগাদ রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড় বিধানসভায় পৌঁছলে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায় স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় তাকে পুষ্পস্তবক দিয়ে স্বাগত জানান। রাজ্যপাল, মুখ্যমন্ত্রী ও স্পিকার বিধানসভা চত্বরে বাবা সাহেব আম্বেদকরের মূর্তিতে মাল্যদান করেন।

এরপর রাজ্যপাল বিধানসভা অধিবেশনে তার উদ্বোধনী ভাষণ শুরু করতেই বিজেপি বিধায়করা আসন ছেড়ে ভোটপরবর্তী সন্ত্রাসের পোস্টার নিয়ে ওয়েলে নেমে বিক্ষোভ করেন।

রাজ্যপালের লিখিত ভাষণে রাজ্যের ভোট পরবর্তী হিংসার কথা উল্লেখ নেই বলে, তারা রাজ্যপালের ভাষণ পড়তে বাধা দেন বলে তাদের দাবি।

রাজ্যের ভোটপরবর্তী সহিংসতা নিয়ে সরব রাজ্যপালের রাজ্যের ক্ষমতাসীনদের লিখে দেয়া ভাষণ যে পছন্দ হয়নি তা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়কে আগেই জানিয়েছিলেন ধনকড়।

কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী বুঝিয়ে দেন, মন্ত্রিসভার অনুমোদিত ভাষণ রাজ্যপালকে পাঠানো হয়েছে। ফলে কিছু আর পাল্টানো যাবে না । বৃহস্পতিবার শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে রাজ্যপালের সঙ্গে বৈঠক করেন।

রাজ্যপাল তার ভাষণ শুরু করতেই বিজেপি বিধায়করা ওয়েলে নেমে সন্ত্রাসবিরোধী পোস্টার নিয়ে তুমুল হট্টগোল শুরু করেন। যাতে রাজ্যপালের ভাষণ না শোনা যায়।

রাজ্যপাল একটু পড়ার চেষ্টা করে সেটি রেখে দেন। পরে স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় ও মুখ্যমন্ত্রীর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে কথা বলে আবার পড়া শুরু করলে তুমুল হট্টগোলের মধ্যে তিনি লিখিত ভাষণটি টেবিলে রেখে ৭ মিনিটের মধ্যে বিধানসভা ছেড়ে বেরিয়ে যান।

বিজেপি বিধায়কদের অভিযোগ, রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। তাদের বহু কর্মী ঘর ছাড়া। বহু কর্মী নিহত হয়েছেন। সরকারকে এর দায় নিতে হবে। যা বিধানসভা অধিবেশনের ইতিহাসে নজিরবিহীন ঘটনা বলে মনে করছেন অনেকে।

তৃণমূল বিধায়করাও ‘রাজ্যপাল হটাও’ বলে স্লোগান দেন বিধানসভা চত্বরে।

এ প্রসঙ্গে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী সাংবাদিক সম্মেলন করে বলেন, ‘রাজ্যপালের যে ভাষণ রাজ্য সরকার লিখে দিয়েছিল তাতে ভোট-পরবর্তী হিংসার কথা উল্লেখ নেই। ভোটের পর আমাদের ৪১ জন কর্মীর মৃত্যু হয়েছে । নতুন সরকার গঠনের আগেই সহিংসতা। এর দায় কমিশনের। সহিংসতার কথা রাজ্যপালের লিখিত ভাষণে উল্লেখ করা হলে আমরা প্রতিবাদ করতাম না। আমরা সংসদীয় গণতন্ত্রের নিয়ম মেনে প্রতিবাদ করেছি।’

শেয়ার করুন

মন্তব্য