পশ্চিমবঙ্গে বিধিনিষেধ: অর্ধেক যাত্রী নিয়ে চালু হলো বাস

পশ্চিমবঙ্গে বিধিনিষেধ: অর্ধেক যাত্রী নিয়ে চালু হলো বাস

করোনা বিধিনিষেধের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের রাস্তায় শর্তসাপেক্ষে চলাচল শুরু করেছে বাস। ছবি: সংগৃহীত

বেসরকারি বাসমালিকদের দাবি, তাদের আর্থিক সমস্যা না মেটালে বাস চালানো সম্ভব নয়। করোনার কারণে দীর্ঘদিন ধরে বাস চলছে না; অনেক গাড়ির ইঞ্জিন বসে গেছে। গাড়ির বিভিন্ন যন্ত্রাংশ খারাপ হয়ে গেছে। সেসব ঠিক করতে অনেক খরচ।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে ভারতের পশ্চিমবঙ্গে সরকারি বিধিনিষেধ জারি থাকছে ১৫ জুলাই পর্যন্ত। তবে শর্তসাপেক্ষে কিছু ছাড় দেয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার থেকে ৫০ শতাংশ যাত্রী নিয়ে চালু হয়েছে বাস সার্ভিস।

শর্ত মেনে সরকারি ও বেসরকারি মালিকানাধীন বাস রাস্তায় নামাতে নির্দেশনা জারি হলেও ভোগান্তি কমেনি যাত্রীদের। সরকারি বাস যা নেমেছে, তা প্রয়োজনের তুলনায় সামান্য। আর খরচের ভাবনায় বেসরকারি বাস রাস্তায় নামেনি বললেই চলে। ফলে রাস্তায় বেরিয়ে অনেক মানুষ পড়েছেন চরম ভোগান্তিতে।

রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় দেখা যায়, যাত্রীরা এক থেকে দেড় ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকেও বাসের দেখা পাচ্ছেন না। গন্তব্যে পৌঁছানো জরুরি হলেও রাস্তায় নেই বাস। তবে দীর্ঘ অচলাবস্থার পর রাস্তায় অল্প বাস নেমে কিছুটা হলেও ‘সুরাহা’ হয়েছে বলে মনে করছেন অনেকে।

করোনা সংক্রমণ রোধে রাজ্যজুড়ে লকডাউনসহ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেয়ায় পরিস্থিতির উন্নতি ঘটেছে অনেকটাই। সার্বিক বিষয় বিবেচনায় পশ্চিমবঙ্গ সরকার করোনা বিধিনিষেধে কিছুটা ছাড় দিয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ১৫ জুলাই পর্যন্ত করোনা বিধিনিষেধ বাড়ালেও বাস চলাচলের অনুমতি দিয়েছেন।

৫০ শতাংশ যাত্রী নিয়ে বাস ১ জুলাই থেকে চলতে পারবে বলে আগেই ঘোষণা দেয়া হয়েছিল। সরকারি বাস নির্ধারিত তারিখে রাস্তায় নামলেও বেসরকারি বাস মালিকরা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারেননি। শর্তসাপেক্ষে বাস চালাতে গিয়ে বড় ধরনের লোকসানে পড়তে হবে বলে তারা মনে করছেন।

ক্ষুব্ধ এক বাসমালিক বলেন, ‘মালিকরা বাস চালাবে কী করে? প্যাসেঞ্জার তো নেই। ৫০ শতাংশ যাত্রী নিয়ে খরচ উঠবে? তেলের যা দাম! মালিকরা তো আর ঘর থেকে টাকা দিয়ে বাস রাস্তায় নামাবে না।’

বেসরকারি বাস মালিকদের দাবি, তাদের আর্থিক সমস্যা না মেটালে বাস চালানো সম্ভব নয়। করোনার কারণে দীর্ঘদিন ধরে বাস চলছে না; অনেক গাড়ির ইঞ্জিন বসে গেছে। গাড়ির বিভিন্ন যন্ত্রাংশ খারাপ হয়ে গেছে। সেসব ঠিক করতে অনেক খরচ। গাড়ির চালক, খালাসি, কন্ডাক্টরসহ বাসের সঙ্গে যুক্ত কর্মীরা অর্থসংকটে পড়েছেন।

নাম প্রকাশ না করে এক বাসমালিক বলেন, ‘এখন বাস চালিয়ে তেমন আয় হয় না। তারপর ৫০ শতাংশ যাত্রী নিয়ে বাস চালু করলে ঘর থেকে টাকা দিতে হবে। ফলে ভাড়া না বাড়ানো পর্যন্ত বেসরকারি বাস রাস্তায় নামবে কি না সন্দেহ আছে।’

বাসমালিকদের সংগঠন থেকে কাউকে বাস চালাতে বলা হচ্ছে না। আবার কেউ বাস চালাতে চাইলে তাকে বাধা দেয়া হচ্ছে না।

অল বেঙ্গল মিনিবাস সমন্বয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক এ বিষয়ে বলেন, ‘কেউ যদি বাস চালাতে চান, চালাবেন আমরা কাউকে জোর করব না। তবে পুরোনো ভাড়ায় বাস চালানো অসম্ভব।’

সিটি সাবআরবার্ন বাস সার্ভিসের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘আমরা আশাবাদী, সরকার নিশ্চয় কোভিড স্পেশাল ফেয়ার চালু করবে।’

পরিবহনমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম এ বিষয়ে বলেন, ‘যাত্রীদের ভোগান্তি লাঘবে রাস্তায় সরকারি বাস নামানো হবে।’

তিনি বেসরকারি বাসমালিকদের সংগঠনগুলোকেও রাস্তায় বাস নামানোর জন্য অনুরোধ করেন।

বেসরকারি বাসমালিক সংগঠনগুলো বৃহস্পতিবার এ ব্যাপারে জরুরি বৈঠকে বসবে বলে জানা গেছে।

এদিকে রাজ্য পরিবহন সূত্রের খবর, এই মুহূর্তে বাস ভাড়া বাড়ানোর ব্যাপারে সরকারি সিদ্ধান্ত হয়নি। আপাতত রাজ্য পরিবহন দপ্তর ৮০০ বাস চালাবে। প্রয়োজনে বাসের সংখ্যা বাড়ানো হবে।

যেসব রুটে যাত্রীদের চাপ বেশি সেগুলোতে সরকারি বাস বেশি দেয়া হবে বলে চিন্তা করা হচ্ছে। কলকাতা, হাওড়া, হুগলি, বর্ধমান, নৈহাটি, ব্যারাকপুর, বারাসাত, হাওড়া, রানাঘাট রুটে বাস চালানোর ওপর জোর দেয়া হচ্ছে বলে খবর পাওয়া গেছে।

আরও পড়ুন:
পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির বিপর্যয়: ব্যর্থতার দায় রাজ্য নেতাদের ঘাড়ে
করোনার নয়, হামের টিকা নিয়েছিলেন মিমি

শেয়ার করুন

মন্তব্য