জরিমানা দিয়ে জমা পড়ল মমতার হলফনামা

জরিমানা দিয়ে জমা পড়ল মমতার হলফনামা

সময়মতো হলফনামা জমা না দেয়ার জন্য রাজ্য, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং মলয় ঘটককে ৫ হাজার টাকা করে জরিমানা করেছে হাইকোর্ট। বুধবার কলকাতা হাইকোর্ট নারদা মামলায় মুখ্যমন্ত্রীর হলফনামা গ্রহণ করেছে। পরবর্তী শুনানি ১৫ জুলাই।

বুধবার নারদা মামলায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, আইনমন্ত্রী মলয় ঘটকের হলফনামা গ্রহণ করেছে কলকাতা হাইকোর্ট। তবে সময়মতো হলফনামা জমা না দেয়ার জন্য রাজ্য, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং মলয় ঘটককে ৫ হাজার টাকা করে জরিমানা করেছে হাইকোর্ট।

রাজ্য লিগ্যাল সার্ভিস অথরিটিকে ওই টাকা জমা দিতে হবে। সিবিআইকেও পাল্টা হলফনামা পেশের জন্য ১০ দিন সময় দিয়েছে আদালত।

নারদা কাণ্ডের হলফনামা মামলায় রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল কিশোর দত্ত আদালতকে জানান, ‘আইনশৃঙ্খলা রাজ্যের বিষয়। তাই এ বিষয়ে রাজ্যের বক্তব্য জানানো জরুরি। সেজন্য হলফনামা জমা দিতে হবে।’

এই আবেদনের প্রেক্ষিতে বিচারপতি ইন্দ্র প্রসন্ন মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘শুনানি যত দ্রুত সম্ভব শেষ করতে হবে। এমন বিষয়ের ক্ষেত্রে শুনানি বেশি দিন চলতে পারে না। তাহলে মানুষের কাছে ভুল বার্তা যাবে।’

যদিও তুষার মেহতা, সিবিআই আইনজীবী, কেন্দ্রের সলিসিটর জেনারেল এর বিরোধিতা করে বলেন, ‘এতদিন হয়ে যাওয়ার পর, কেন হলফনামা জমা দিতে চাইছেন মুখ্যমন্ত্রী, আইনমন্ত্রী ?’

উত্তরে বিচারপতি সৌমেন সেন সিবিআই আইনজীবীকে পাল্টা প্রশ্ন করে বলেন, ‘রাজ্যের হাতে যদি তথ্য থাকে, তাহলে সেটা হলফনামা দিয়ে জানাতে চাইলে, সমস্যা কোথায় ?’

এরপরই মুখ্যমন্ত্রী, আইনমন্ত্রী এবং রাজ্যকে ৫ হাজার টাকা করে জরিমানা ধার্য করে, হলফনামা গ্রহণ করে আদালত।

প্রসঙ্গত ১৭ মে নারদা কেলেঙ্কারিতে অভিযুক্ত তৃণমূলের চার নেতা ও মন্ত্রীকে আচমকা গ্রেপ্তার করে সিবিআই। সেসময় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, কলকাতায় সিবিআইয়ের নিজাম প্যালেসের অফিসে, সুব্রত মুখার্জি, ববি হাকিমদের ছাড়াতে ধরণায় বসে ছিলেন। তৃণমূল কংগ্রেস এই গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে সিবিআই অফিসের সামনে বিক্ষোভ দেখিয়েছিল। আইনমন্ত্রী মলয় ঘটক আদালতে উপস্থিত হয়েছিলেন।

এসব কারণে অভিযুক্তদের আদালতে তোলা যায়নি বলে সিবিআইয়ের অভিযোগ। সেজন্য ভার্চুয়ালি শুনানি করতে হয়।

আর এইসব কারণ দেখিয়ে সিবিআই, কলকাতা হাইকোর্টের ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি রাজেশ বিন্দলের নেতৃত্বে গঠিত ৫ সদস্যের বেঞ্চে, তদন্ত প্রক্রিয়া সুষ্ঠুভাবে করার জন্য এই মামলা এ রাজ্য থেকে সরিয়ে অন্য রাজ্যে নিয়ে যাওয়ার আবেদন জানায়।

রাজ্য সরকার এর বিরোধিতা করে হলফনামা দিতে চাইলে, আদালত নেয়নি। এই অবস্থায় সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা কিন্তু সুপ্রিমকোর্ট পুনরায় হাইকোর্টে হলফনামা জমা দেয়ার আবেদন করতে বলে এবং ভারতের শীর্ষ আদালত সেইমতো হাইকোর্টকেও নারদা মামলায় মুখ্যমন্ত্রীর আর্জি আগে শুনতে হবে বলে নির্দেশ দেয়।

বুধবার কলকাতা হাইকোর্ট নারদা মামলায় মুখ্যমন্ত্রীর হলফনামা গ্রহণ করেছে। পরবর্তী শুনানি ১৫ জুলাই।

আরও পড়ুন:
জামিন নয়, নারদাকাণ্ডে গৃহবন্দি চার নেতা

শেয়ার করুন

মন্তব্য