রাজ্যপালকে দুর্নীতিগ্রস্ত বললেন মমতা

রাজ্যপালকে দুর্নীতিগ্রস্ত বললেন মমতা

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়

ভারতের কেন্দ্রে ক্ষমতাসীন বিজেপির নিয়োগকৃত পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপালের সঙ্গে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়ের বিরোধ নতুন নয়। তবে পশ্চিমবঙ্গে তৃতীয় মেয়াদে মমতা ক্ষমতাসীন হওয়ার পর এই বিরোধ প্রকাশ্যে চলে আসে। দিন যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে এর তীব্রতাও।

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকার-রাজ্যপাল সংঘাত আরও চরমে উঠেছে।

রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড়কে দুর্নীতিগ্রস্ত বলে তোপ দেগে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায় বলেন, ‘এমন রাজ্যপাল আগে দেখিনি। কেন্দ্র সরাচ্ছে না কেন? রাজ্যপালের অপসরণ চেয়ে পরপর তিনটি চিঠি লিখেছি, কাজ হয়নি।’

পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল সোমবার উত্তরবঙ্গ সফর শেষে কলকাতায় ফেরার আগে জিটিএ-কে (গোর্খাল্যান্ড টেরিটোরিয়াল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন) দুর্নীতির আখড়া বলে অভিযোগ করে সিএজি (কম্পট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেল) দিয়ে তদন্ত করা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন।

নবান্নে সংবাদ সম্মেলন করে রাজ্যপালকে দুর্নীতিগ্রস্ত বলে তারই জবাব দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘রাজ্যপাল নিজেই দুর্নীতিগ্রস্ত। ১৯৯৬ সালের হাওলা-জৈন কেলেঙ্কারির চার্জশিটে নাম ছিল ওনার। কীভাবে পার পেলেন? জিটিএ দুর্নীতির কথা বলার আগে, উনি কাদের নিয়ে কত খরচ করে দার্জিলিঙ গেলেন, রাজভবনে খরচ কত হল? সেসব নিয়ে তদন্ত হোক।’

এদিন রাজ্যপাল ধনকড়ের সমালোচনা করে সাংবাদিক সম্মেলনে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘এই সময় কেন হঠাৎ উত্তরবঙ্গ গেলেন রাজ্যপাল? অশান্তি ছড়াতে জেনে বুঝে গেছেন। উত্তরবঙ্গে বিচ্ছিন্নতাবাদী শক্তিকে উস্কানি দিতেই গেছেন রাজ্যপাল।’

বিজেপির তরফে জিটিএ-কে (গোর্খাল্যান্ড টেরিটোরিয়াল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন) দেয়া কেন্দ্রীয় সাহায্য নয়ছয়ের অভিযোগ তুলে, জিটিএ নিয়ে অডিট না হওয়া পর্যন্ত, সব বরাদ্দ বন্ধ করে দেয়ার দাবিতে আগেই সরব হয়েছিলেন দার্জিলিংয়ের এমপি রাজু বিস্ত।

এবার সরাসরি সরকারের দিকে অভিযোগের আঙুল তুলে রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড় বলেন, ‘কোটি কোটি টাকার দুর্নীতি চলছে জিটিএতে। জিটিএ এখন দুর্নীতির আখড়া হয়ে গেছে। দীর্ঘদিন কোনো অডিট হয়নি। সিএজি (কম্পট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেল) দিয়ে অডিট করাব। জিটিএয়ের স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনতে হবে। যে লক্ষ্য নিয়ে জিটিএ গঠন হয়েছিল, তার কিছুই হয়নি। কোন লক্ষ্য পূরণ হয়নি। উন্নয়নের বদলে জিটিএতে বছরের পর বছর দুর্নীতি হয়েছে।’

সিএজি দিয়ে অডিটের বিরোধিতা করে মুখ্যমন্ত্রী এদিন সাংবাদিকদের জানান, ‘রাজ্য সরকার নিজেই জিটিএ-র অডিট করছে, সিএজি অডিট প্রয়োজন নেই।’

শেয়ার করুন

মন্তব্য