সপ্তাহে ৩ দিন ছুটির প্রস্তাব জাপানে

সপ্তাহে ৩ দিন ছুটির প্রস্তাব জাপানে

বার্ষিক অর্থনৈতিক নীতিমালা নির্দেশিকা প্রকাশের সময় এ পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে জাপান সরকার। এতে সব প্রতিষ্ঠানকে কর্মীদের সপ্তাহে ৩ দিন ছুটি দেয়ার সুপারিশ করা হয়, যা আগে ছিল ২ দিন।

জাপানে নাগরিকদের ব্যক্তিগত ও কর্মজীবনের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষায় সাপ্তাহিক কর্মদিবস পাঁচ দিন থেকে কমিয়ে ৪ দিনে আনার প্রস্তাব দিয়েছে দেশটির সরকার।

এটি কার্যকর হলে টানা ৩ দিন সাপ্তাহিক ছুটির সুবিধা পাবেন জাপানের মানুষ।

ডয়চে ভেলের প্রতিবেদনে জানানো হয়, বার্ষিক অর্থনৈতিক নীতিমালা নির্দেশিকা প্রকাশের সময় এ পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে জাপান সরকার। এতে সব প্রতিষ্ঠানকে কর্মীদের সপ্তাহে ৩ দিন ছুটি দেয়ার সুপারিশ করা হয়, যা আগে ছিল ২ দিন।

জাপানে বেতনভুক্ত নারী ও পুরুষ কর্মীরা ভীষণ পরিশ্রমী হিসেবে সারা বিশ্বে সুপরিচিত। এ অবস্থায় জাতীয় জীবনে ভারসাম্য আনতে কাজের সময় কমানোর ওপর জোর দিচ্ছে দেশটির সরকার।

পরিকল্পনায় বলা হয়, কর্মঘণ্টা কমলে একই সঙ্গে স্ত্রী-সন্তান ও পরিবারের বয়স্ক সদস্যদের বাড়তি সময় দিতে পারেন কর্মীরা। এতে মানসিকভাবে স্বাচ্ছন্দ্যে থাকেন তারা।

এতে আরও বলা হয়, বাড়তি অবসর সময় পাওয়ায় শিক্ষা ও অন্যান্য দক্ষতা বৃদ্ধিতে প্রশিক্ষণ নিতে পারেন তারা। সব মিলিয়ে সপ্তাহে ৪ দিনের কর্মদিবসের ফলে কর্মীদের উৎপাদনশীলতাও বাড়ে।

বাড়তি ছুটির ফলে প্রতি সপ্তাহে লোকজন বাইরে বেড়াতে যাওয়ার বিষয়ে উৎসাহ পেলে সরকারের পর্যটনকেন্দ্রিক আয় বাড়বে বলেও আশাবাদী টোকিও।

এর মাধ্যমে তরুণ-তরুণীদের একে অপরকে জানার সময় পাওয়ার পাশাপাশি বিয়ে, সন্তান নিয়েও আগ্রহ পাবেন বলে মনে করা হচ্ছে।

জাপানের স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলোতে কর্মীদের অতিরিক্ত কাজের ফলে অসুস্থতা ও মানসিক অবসাদের কারণে আত্মহত্যার খবর প্রায় নিয়মিত।

অতিরিক্ত কাজের চাপে মৃত্যুর ঘটনা অনুসন্ধান করে দেখা যায়, বেশিরভাগ কর্মীই মাসের পর মাস নির্দিষ্ট কর্মঘণ্টার চেয়ে অনেক বেশি সময় ধরে অফিসে কাজ করেছেন।

এ ধরনের ঘটনাও কমিয়ে আনতে চায় টোকিও।

আরও পড়ুন:
জাপানের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা পেলেন দুই বাংলাদেশি
বাংলাদেশে বিনিয়োগে নজর জাপানের নির্মাণ জায়ান্টের
জাপানি গাড়ি তৈরি হবে দেশেই
নিষেধাজ্ঞা মানছে না উ. কোরিয়া: জাপান
ডাকবাক্সকে ‘ডাস্টবিন’ ভেবে ভুল, আটক ১

শেয়ার করুন

মন্তব্য

৫ থেকে ১১ বছর বয়সীদের ওপর কার্যকর ফাইজারের টিকা

৫ থেকে ১১ বছর বয়সীদের ওপর কার্যকর ফাইজারের টিকা

শিশুদের দেহে টিকার পরীক্ষামূলক প্রয়োগে প্রাক-প্রাথমিক স্কুলশিক্ষার্থীদের খুব অল্প পরিমাণে ডোজ দিয়েছে ফাইজার। প্রাপ্তবয়স্কদের প্রতি ডোজের এক-তৃতীয়াংশ দিয়ে এক ডোজ দিয়েছে শিশুদের। তাও দ্বিতীয় ডোজ নেয়ার পর শিশুদের দেহে কিশোর ও তরুণ প্রাপ্তবয়স্কদের সমপরিমাণই করোনাবিরোধী অ্যান্টিবডি তৈরি হয়েছে।

পাঁচ থেকে ১১ বছর বয়সী শিশুদের ওপর কার্যকর ফাইজার-বায়োএনটেকের করোনাভাইরাস প্রতিরোধী টিকা। ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে শিশুদের দেহে টিকাটি নিরাপদ ও কার্যকর বলে প্রমাণ মিলেছে।

সোমবার যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ফার্মাসিউটিক্যাল প্রতিষ্ঠান ফাইজার ও জার্মানির জৈবপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান বায়োএনটেক যৌথ ঘোষণায় জানায় এ খবর। বলা হয়, শিগগিরই পাঁচ থেকে ১১ বছর বয়সীদের টিকাটি প্রয়োগে যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর অনুমোদন চাইবে ফাইজার।

বার্তা সংস্থা এপির প্রতিবেদনে বলা হয়, ১২ বছর ও এর বেশি বয়সীদের টিকাটি প্রয়োগে আগেই অনুমোদন দেয়া হয়েছে। কিন্তু এখন সববয়সী শিশুরা স্কুলে ফিরেছে। এমন সময়ে করোনাভাইরাসের অধিক সংক্রামক ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের বিস্তার বাড়ছে বলে উদ্বিগ্ন শিশুবিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও অভিভাবকরা। তারা শিশুদের টিকার জন্য উদগ্রীব।

শিশুদের দেহে টিকার পরীক্ষামূলক প্রয়োগে প্রাক-প্রাথমিক স্কুলশিক্ষার্থীদের খুব অল্প পরিমাণে ডোজ দিয়েছে ফাইজার। প্রাপ্তবয়স্কদের প্রতি ডোজের এক-তৃতীয়াংশ দিয়ে এক ডোজ দিয়েছে শিশুদের।

তাও দ্বিতীয় ডোজ নেয়ার পর শিশুদের দেহে কিশোর ও তরুণ প্রাপ্তবয়স্কদের সমপরিমাণই করোনাবিরোধী অ্যান্টিবডি তৈরি হয়েছে।

ফাইজারের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ড. বিল গ্রুবার বলেন, ‘শিশুদের জন্য নির্ধারিত স্বল্প পরিমাণের ডোজ নিরাপদ। টিকাগ্রহণে প্রাপ্তবয়স্করা যেমন কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় ভুগতে পারেন, তেমনই জ্বর, চুলকানি, হাতে ব্যথার মতো সাধারণ কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া শিশুদের দেহেও দেখা যেতে পারে।

পাঁচ থেকে ১১ বছর বয়সীদের টিকাদানে জরুরি অনুমোদনের জন্য এ মাসেই যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ নিয়ন্ত্রক সংস্থার (এফডিএ) কাছে আবেদন করবে ফাইজার। পরে যুক্তরাজ্য আর ইউরোপের ওষুধ নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর কাছেও আবেদন করবে।

পশ্চিমা দেশগুলোর বেশিরভাগই ১২ বছরের কমবয়সীদের করোনা প্রতিরোধী টিকা এখনও দিচ্ছে না। এই বয়সী শিশুদের জন্য সঠিক ডোজের মাত্রা জানার অপেক্ষায় রয়েছে দেশগুলো।

তবে ক্যারিবীয় দেশ কিউবায় দুই বছরের বেশি বয়সী শিশুদেরও নিজস্ব গবেষণায় আবিষ্কৃত টিকা দেয়া হচ্ছে। তিন বছরের বেশি বয়সীদের জন্য চীনও নিজস্ব টিকাদানে অনুমতি দিয়েছে।

আরও পড়ুন:
জাপানের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা পেলেন দুই বাংলাদেশি
বাংলাদেশে বিনিয়োগে নজর জাপানের নির্মাণ জায়ান্টের
জাপানি গাড়ি তৈরি হবে দেশেই
নিষেধাজ্ঞা মানছে না উ. কোরিয়া: জাপান
ডাকবাক্সকে ‘ডাস্টবিন’ ভেবে ভুল, আটক ১

শেয়ার করুন

১৫ মিনিটের ব্যবধানে নারীকে টিকার দুই ডোজ

১৫ মিনিটের ব্যবধানে নারীকে টিকার দুই ডোজ

এক দিনে দুই ডোজ টিকা নেয়া ৭৪ বছর বয়সী খুদেজা খাতুন। ছবি: নিউজবাংলা

খুদেজা খাতুনের স্বামী খেলু মিয়া বলেন, ‘স্ত্রীকে দুইবার টিকা দেয়া হইছে, আমি বিষয়টি আরেকজন নার্সরে জানাইলে তাইন কইছোইন কিছু অইতো না, বাড়িত চলে যাও।’

সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে ৭৪ বছর বয়সী এক নারীকে এক দিনে দুইবার সিনোফার্মের করোনা টিকে দেয়ার ঘটনা ঘটেছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সোমবার দুপুরে টিকা নিতে আসেন খুদেজা খাতুন। তাকে দুইবার ভ্যাকসিন দেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

খুদেজা বেগম উপজেলার শ্রীপুর দক্ষিণ ইউনিয়নের নোয়ানগর গ্রামের খেলু মিয়ার স্ত্রী।

খুদেজা জানান, স্বামীর সঙ্গে টিকা কেন্দ্রে গিয়েছিলেন। এক ডোজ টিকা দেয়ার পর তার শরীর দুর্বল লাগছিল। তাই তিনি পাশে আরেকটি চেয়ারে গিয়ে বসেন। প্রায় ১৫ মিনিটের মধ্যে আরেক নার্স এসে তার শরীরে আরেকটি টিকা পুশ করেন।

খুদেজা খাতুনের স্বামী খেলু মিয়া বলেন, ‘স্ত্রীকে দুইবার টিকা দেয়া হইছে, আমি বিষয়টি আরেকজন নার্সরে জানাইলে তাইন কইছোইন কিছু অইতো না বাড়িত চলে যাও।’

তবে এক ব্যক্তিকে দুইবার টিকা দেয়ার বিষয়ে জানা নেই স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের।

তাহিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা সৈয়দ আবু আহম্মেদ শাফি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমি ঢাকায় রয়েছি। এ বিষয়ে কিছু জানি না। তবে এক ব্যক্তিকে একই দিনে দুইবার ভ্যাকসিন দেয়ার কোনো নিয়ম নেই। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখছি।’

সুনামগঞ্জের সিভিল সার্জন শামস উদ্দিন বলেন, ‘এমন কোনো ঘটনা আমি শুনিনি। তবে খোঁজ নিয়ে দেখছি।’

এর আগে ১০ আগস্ট খুলনায় রোকনুজ্জামান নামের এক যুবককে এক মিনিটে দুই ডোজ করোনা টিকা দেয়ার অভিযোগ ওঠে।

এ ছাড়া রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দিতে ৭ আগস্ট এক নারীকে দুই ডোজ টিকা দেয়া হয়।

আরও পড়ুন:
জাপানের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা পেলেন দুই বাংলাদেশি
বাংলাদেশে বিনিয়োগে নজর জাপানের নির্মাণ জায়ান্টের
জাপানি গাড়ি তৈরি হবে দেশেই
নিষেধাজ্ঞা মানছে না উ. কোরিয়া: জাপান
ডাকবাক্সকে ‘ডাস্টবিন’ ভেবে ভুল, আটক ১

শেয়ার করুন

করোনায় ১১৬ দিনে সর্বনিম্ন মৃত্যু

করোনায় ১১৬ দিনে সর্বনিম্ন মৃত্যু

গত ২৪ ঘণ্টায় ৮১০ ল্যাবে ২৭ হাজার নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। পরীক্ষা বিবেচনায় শনাক্তের হার ৫ দশমিক ৬৭ শতাংশ। গতকাল এই হার ছিল ৫ দশমিক ৬২ শতাংশ, যা গত ১৯৪ দিনের মধ্যে সর্বনিম্ন। গত ৯ মার্চ পরীক্ষার বিপরীতে শনাক্তের হার ছিল ৫ দশমিক ১৩ শতাংশ।

করোনায় আক্রান্ত হয়ে দেশে আরও ২৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এই মৃত্যু গত ২৭ মের পর সবচেয়ে কম। সে হিসাবে দেশে ১১৬ দিন পর সর্বনিম্ন মৃত্যুর রেকর্ড হয়েছে। সে দিন দেশে করোনায় ২২ জনের মৃত্যু সংবাদ দিয়েছিল স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

সোমবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে করোনা শনাক্ত হয়েছে আরও ১ হাজার ৫৫৫ জনের শরীরে।

গত ২৪ ঘণ্টায় ৮১০ ল্যাবে ২৭ হাজার নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। পরীক্ষা বিবেচনায় শনাক্তের হার ৫ দশমিক ৬৭ শতাংশ। গতকাল এই হার ছিল ৫ দশমিক ৬২ শতাংশ, যা গত ১৯৪ দিনের মধ্যে সর্বনিম্ন। গত ৯ মার্চ পরীক্ষার বিপরীতে শনাক্তের হার ছিল ৫ দশমিক ১৩ শতাংশ।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এ পর্যন্ত করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে ১৫ লাখ ৪৪ হাজার ২৩৮ জনের দেহে। এর মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ২৭ হাজার ৪৩১ জনের। গত ২৪ ঘণ্টায় মৃত ব্যক্তিদের মধ্যে পুরুষ ১১ ও নারী ১৫ জন। মৃত্যুর হার ১ দশমিক ৭৬ শতাংশ।

মৃত ব্যক্তিদের মধ্যে ত্রিশোর্ধ্ব ১, চল্লিশোর্ধ্ব ৩, পঞ্চাশোর্ধ্ব ৯, ষাটোর্ধ্ব ৬, সত্তরোর্ধ্ব ৩ ও অশীতিপর ৪ জন।

বিভাগ অনুযায়ী সর্বোচ্চ ১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে ঢাকা বিভাগে। এরপর চট্টগ্রামে ৫, রাজশাহী ৪, খুলনাতে ২, বরিশাল ১, সিলেটে ১, রংপুরে ১ ও ময়মনসিংহে ১ জনের মৃত্যু হয়েছে।

গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা থেকে সুস্থ হয়েছেন ১ হাজার ৫৬৫ জন। এখন পর্যন্ত সুস্থ হয়েছেন ১৫ লাখ ৩ হাজার ১০৬ জন। সুস্থতার হার ৯৭ দশমিক ২৩।

করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে গত মার্চ থেকে ভারতীয় ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট ছড়িয়ে পড়ার মাস পাঁচেক পর পরিস্থিতি উন্নতির চিত্র দেখা যাচ্ছে। গত কয়েক দিন ধরেই ধারাবাহিকভাবে কমছে মৃত্যু ও শনাক্তের সংখ্যা। সেই সঙ্গে কমছে শনাক্তের হার।

এর আগে চলতি বছরের এপ্রিল, মে, জুন ও জুলাই মাসে পরীক্ষার বিপরীতে শনাক্তের হার ২০ শতাংশ ছাড়িয়ে যায়। একপর্যায়ে তা ৩০ শতাংশও হয়ে যায়। এ অবস্থায় এপ্রিলে লকডাউন ও পরে জুলাইয়ে দেয়া হয় শাটডাউন নামে বিধিনিষেধ। ১১ আগস্ট বিধিনিষেধ প্রত্যাহার করা হলেও এরপর থেকে রোগী ও মৃত্যু ধীরে ধীরে কমে আসছে।

এ বিষয়ে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. লেনিন চৌধুরী নিউজবাংলাকে বলেন, ‘করোনার ক্ষেত্রে আমরা দেখছি সংক্রমণের ধারাটা নিম্নগামী। করোনা যা পরীক্ষা হচ্ছে, গেল এক সপ্তাহ ধরে করোনা শনাক্তের হার ৫ থেকে ৬ শতাংশের ঘরে। তবে এখনই আমরা বলতে পারব না, এটা নিয়ন্ত্রণে এসেছে।

‘সংক্রমণ যখন ৫ শতাংশের নিচে আসবে এবং এটা যদি তিন সপ্তাহ পর্যন্ত একইভাবে চলে, তাহলে আমরা বলতে পারি সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে চলে এসেছে।’

আশঙ্কা প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘প্রতিবেশী ভারতসহ বিভিন্ন দেশে আবার সংক্রমণ বাড়ছে। আমাদের এখনও দ্বিতীয় ঢেউ নিয়ন্ত্রণে আসেনি। আমার মনে করছি, আগামী ১৫ দিনের মধ্যে এই ঢেউ নিয়ন্ত্রণে আসবে। নিয়ন্ত্রণে আসার চার থেকে ছয় সপ্তাহ পরে আবার কিন্তু নতুন ঢেউ আসার আশঙ্কা থাকে।’

আরও পড়ুন:
জাপানের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা পেলেন দুই বাংলাদেশি
বাংলাদেশে বিনিয়োগে নজর জাপানের নির্মাণ জায়ান্টের
জাপানি গাড়ি তৈরি হবে দেশেই
নিষেধাজ্ঞা মানছে না উ. কোরিয়া: জাপান
ডাকবাক্সকে ‘ডাস্টবিন’ ভেবে ভুল, আটক ১

শেয়ার করুন

চুক্তিতে অনিয়ম: সাহেদের সঙ্গে আসামি স্বাস্থ্যের সাবেক ডিজি

চুক্তিতে অনিয়ম: সাহেদের সঙ্গে আসামি স্বাস্থ্যের সাবেক ডিজি

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক ডিজি আবুল কালাম আজাদ।

আসামিদের বিরুদ্ধে লাইসেন্স নবায়ন না করা এবং বন্ধ ঘোষিত রিজেন্ট হাসপাতালকে ডেডিকেটেড কোভিড হাসপাতালে রূপান্তর, সমঝোতা স্মারক সই এবং নমুনা পরীক্ষা ও করোনা চিকিৎসার খরচ বাবদ ৩ কোটি ৩৪ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে।

অনুমোদনহীন রিজেন্ট হাসপাতালের সঙ্গে করোনা পরীক্ষার চুক্তিসহ নানা অনিয়মে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক (ডিজি) আবুল কালাম আজাদসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র অনুমোদন করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

আসামিদের বিরুদ্ধে লাইসেন্স নবায়ন না করা এবং বন্ধ ঘোষিত রিজেন্ট হাসপাতালকে ডেডিকেটেড কোভিড হাসপাতালে রূপান্তর, সমঝোতা স্মারক সই এবং নমুনা পরীক্ষা ও করোনা চিকিৎসার খরচ বাবদ ৩ কোটি ৩৪ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে।

সোমবার বিকেলে এক ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান দুদক সচিব মু. আনোয়ার হোসেন হাওলাদার। দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে ওই চার্জশিট অনুমোদন দেয়া হয়েছে।

গত বছরের ২৩ সেপ্টেম্বর করা মামলায় সাহেদ করিম ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের চার কর্মকর্তাসহ পাঁচ জনকে আসামি করা হয়। তবে সে সময় অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদের নাম আসামির তালিকায় ছিল না।

সংস্থাটির উপপরিচালক মো. ফরিদ আহমেদ পাটোয়ারী বাদী হয়ে মামলাটি করেন। সে মামলার চার্জশিটে তার নাম দেয়া হলো।

মামলার অন্য আসামিরা হলেন, রিজেন্ট হাসপাতাল লিমিটেডের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাহেদ করিম, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক পরিচালক আমিনুল হাসান, উপপরিচালক (হাসপাতাল-১) ইউনুস আলী, সহকারী পরিচালক (হাসপাতাল-১) শফিউর রহমান এবং গবেষণা কর্মকর্তা দিদারুল ইসলাম।

তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে ক্ষমতার অপব্যবহার করে লাইসেন্স নবায়নবিহীন বন্ধ রিজেন্ট হাসপাতালকে ডেডিকেটেড কোভিড হাসপাতালে রূপান্তর, সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর ও সরকারি প্রতিষ্ঠান নিপসমের ল্যাবে ৩ হাজার ৯৩৯ জন কোভিড রোগীর নমুনা বিনামূল্যে পরীক্ষা করিয়েছেন।

সেখান থেকে অবৈধ অর্থ বাবদ রোগী প্রতি ৩ হাজার ৫০০ টাকা হিসেবে ১ কোটি ৩৭ লাখ ৮৬ হাজার ৫০০ টাকা নিয়েছেন।

এ ছাড়া অনুসন্ধান প্রতিবেদনে রিজেন্ট হাসপাতালের মিরপুর ও উত্তরা শাখার চিকিৎসক, নার্স, ওয়ার্ড বয় ও অন্যান্য কর্মকর্তাদের খাবার খরচ বরাদ্দের বিষয়ে ১ কোটি ৯৬ লাখ ২০ হাজার টাকার মাসিক চাহিদা তুলে ধরাসহ সমঝোতা স্মারকের খসড়া স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর উদ্যোগ নেয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে।

গত বছরের ২৩ সেপ্টেম্বর লাইসেন্সের মেয়াদ না থাকায় করোনাভাইরাসের নমুনা সংগ্রহ ও চিকিৎসার জন্য চুক্তি করে সরকারের ৩ কোটি ৩৪ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ ওঠে রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাহেদ ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের চার কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। সে অভিযোগে মামলা করে দুদক। তবে সেই মামলায় বাদ পড়েছিলেন আবুল কালাম আজাদ।

দুদক সূত্রে জানা গেছে, এক বছর তদন্তের পর রিজেন্ট হাসপাতালে অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় স্বাস্থের সাবেক ডিজির যোগসূত্র খুঁজে পায় সংস্থাটি। নতুন করে স্বাস্থ্যের চার কর্মকর্তার সঙ্গে তার নাম যুক্ত করে অভিযোগপত্র কমিশনে অনুমোদনের জন্য জমা দিয়েছিলেন তদন্ত কর্মকর্তা ফরিদ আহমেদ পাটোয়ারী।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে সঙ্গে জেকেজির মতো প্রতিষ্ঠানের চুক্তি, রিজেন্ট হাসাপাতালের সঙ্গে চুক্তি, স্বাস্থ্যের এক গাড়ি চালককের শত কোটি টাকার সম্পদসহ নানা অভিযোগে জড়িত থাকার নাম আসে সাবেক মহাপরিচালক আবুল কালাম আজাদের। এরপর তদন্ত শুরু করে দুদক।

আরও পড়ুন:
জাপানের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা পেলেন দুই বাংলাদেশি
বাংলাদেশে বিনিয়োগে নজর জাপানের নির্মাণ জায়ান্টের
জাপানি গাড়ি তৈরি হবে দেশেই
নিষেধাজ্ঞা মানছে না উ. কোরিয়া: জাপান
ডাকবাক্সকে ‘ডাস্টবিন’ ভেবে ভুল, আটক ১

শেয়ার করুন

ভারত থেকে টিকা আসার বাধা কাটল

ভারত থেকে টিকা আসার বাধা কাটল

গত ২৫ জানুয়ারি সিরাম থেকে টিকার প্রথম চালান আসার চার দিন আগে দেশটি উপহার হিসেবে পাঠায় ২০ লাখ টিকা।

বাংলাদেশ ভারতীয় কোম্পানি সিরাম থেকে মোট ৩ কোটি ৪০ লাখ টিকা কিনেছিল। এর মধ্যে গত ২৫ জানুয়ারি প্রথম চালানে ৫০ লাখ টিকা আসার পর জানানো হয়েছিল, প্রতি মাসেই আসবে সম পরিমাণ টিকা। কিন্তু ফেব্রুয়ারিতে দ্বিতীয় চলানে পাঠানো হয় ২০ লাখ টিকা। এরপর ভারত সরকারের নিষেধাজ্ঞায় তারা আর টিকা পাঠায়নি।

করোনার টিকা রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা তুলে দিয়েছে ভারত। ফলে বাংলাদেশ দেশটির টিকা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান সিরাম ইনস্টিটিউট থেকে যে টিকা কিনেছিল, তার চালান আসতে আর বাধা নেই। আগামী মাস থেকেই ভারত টিকা রপ্তানি শুরু করতে যাচ্ছে।

দেশটির স্বাস্থ্যমন্ত্রী মানসুক মান্দাভিয়া সোমবার ভারতীয় গণমাধ্যমকে এক ভিডিও বার্তায় এই কথা জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘চতুর্থ প্রান্তিকে অর্থাৎ অক্টোবরে ৩০ কোটির বেশি টিকা পাওয়ার সম্ভাবনা আছে। এর মধ্যে উৎপাদন আরও বাড়বে। আরও কিছু উৎপাদন প্রতিষ্ঠান বাজারে আসছে। এসব বিবেচনায় নিয়ে বছরের চতুর্থ প্রান্তিকে আমরা আমাদের টিকার চাহিদা পূরণ করেও এত বেশি উৎপাদন করতে পারব যে, সারা বিশ্বকেই আমরা সহায়তা করতে পারব। কোভ্যাক্সকেও টিকা দিতে পারব।’

মান্দাভিয়া বলেন, ‘টিকা দেয়ার ক্ষেত্রে বৈশ্বিক টিকা-শেয়ারিং প্ল্যাটফর্ম কোভ্যাক্স এবং প্রতিবেশী দেশগুলোকে প্রাথমিক অগ্রাধিকার দেয়া হবে।’

তবে ভারত সরকারের এই ঘোষণার বিষয়ে কিছুই জানেন না স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবুল বাশার খুরশীদ আলম। যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘আমরা এই বিষয়টি এখনও জানি না।’

সিরামের টিকার লোকাল এজেন্ট বেক্সিমকো ফার্মার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো জবাব মেলেনি। কোম্পানিটির প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা রাব্বুর রেজাকে ফোন করলে তিনি তা গ্রহণ করেননি। পরে এসএমএস পাঠালেও কিছু লেখেননি।

ভারত থেকে টিকা আসার বাধা কাটল
ভারতের স্বাস্থ্যমন্ত্রী মানসুক মান্দাভিয়া। ছবি: সংগৃহীত

তার এই ঘোষণা বাংলাদেশের জন্য খুবই স্বস্তিদায়ক এ কারণে যে সিরাম ইনস্টিটিউট থেকে কেনা টিকার চালান ভারত সরকারের নিষেধাজ্ঞায় আসতে পারছিল না।

বাংলাদেশ ভারতীয় কোম্পানি সিরাম থেকে মোট ৩ কোটি ৪০ লাখ টিকা কিনেছিল। এর মধ্যে গত ২৫ জানুয়ারি প্রথম চালানে ৫০ লাখ টিকা আসার পর জানানো হয়েছিল, প্রতি মাসেই আসবে সম পরিমাণ টিকা। কিন্তু ফেব্রুয়ারিতে দ্বিতীয় চলানে পাঠানো হয় ২০ লাখ টিকা। এরপর আর টিকা তারা পাঠায়নি।

এর মধ্যে ভারতে করোনার ব্যাপক বিস্তারের কারণে দেশটি টিকার ক্ষেত্রে নিজের চাহিদাও মেটাতে পারছিল না। বিশ্বজুড়ে ন্যায্যতার ভিত্তিতে টিকা বিতরণে গড়ে উঠা আন্তর্জাতিক জোট কোভ্যাক্সকেও দেশটি টিকা দিতে পারেনি।

আর এই অবস্থায় টিকার চাহিদা পূরণে বাংলাদেশ সরকার চীনের সঙ্গে চুক্তি করে। সেই সঙ্গে চুক্তির চেষ্টা করা হচ্ছে রাশিয়ার সঙ্গে।

কোভ্যাক্সও ভারতের কাছ থেকে টিকা না পেয়ে পরে মডার্না ও ফাইজারের টিকা পাঠাচ্ছে। এই বৈশ্বিক উদ্যোগ থেকে বাংলাদেশ সাড়ে ১০ কোটি টিকা কিনতে চাইছে।

তবে সিরামের টিকা বাংলাদেশের জন্য সুবিধাজনক এই কারণে যে, এখন পর্যন্ত যত টিকা এসেছে, তার মধ্যে সবচেয়ে কম দাম এই সিরামেরই।

চীন থেকে সরকার কত দামে টিকা পাচ্ছে, সেই বিষয়টি প্রকাশ করেনি। এর আগে গণমাধ্যমে দাম প্রকাশের পর টিকা কেনা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। সে দাম সিরামের দামের দ্বিগুণের চেয়ে বেশি ছিল।

সিরাম থেকে বাংলাদেশের টিকা কেনার ক্ষেত্রে চুক্তিটি অভিনব। ভারত সরকার যদি ৪ ডলারের কমে টিকা পায়, তাহলে বাংলাদেশ দাম দেবে ভারত সরকারের সমান। অন্যদিকে ভারত সরকার যদি ৪ ডলারের বেশি দামে টিকা কেনে, তাহলে বাংলাদেশ টিকা পাবে ৪ ডলারেই।

ভারত সরকার ডিসেম্বরের মধ্যে তার ৯৪ দশমিক ৪ কোটি প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিকদের টিকা দিতে চায়। এখন পর্যন্ত এদের ৬১ শতাংশকে কমপক্ষে একটি ডোজ দেয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার থেকে প্রধানমন্ত্রী মোদির ওয়াশিংটন সফর শুরু হওয়ার আগে রপ্তানি আলোচনা আবার শুরু হয়েছে।

ওয়াশিংটনে চতুর্ভুজ (কোয়াড) দেশের শীর্ষ নেতাদের একটি বৈঠকে টিকা নিয়ে আলোচনার সম্ভাবনা রয়েছে। কোয়াডের সদস্য দেশগুলো হলো যুক্তরাষ্ট্র, ভারত, জাপান এবং অস্ট্রেলিয়া।

এপ্রিল থেকে ভারতের মাসিক টিকা উৎপাদন দ্বিগুণেরও বেশি হয়েছে। আগামী মাসে সেটি চারগুণ বেড়ে ৩০ কোটি ডোজে পৌঁছাবে।

ভারত রপ্তানি বন্ধ করার আগে প্রায় ১০০টি দেশে ৬ দশমিক ৬ কোটি ডোজ দান বা বিক্রি করেছিল বলে জানিয়েছেন দেশটির স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

আরও পড়ুন:
জাপানের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা পেলেন দুই বাংলাদেশি
বাংলাদেশে বিনিয়োগে নজর জাপানের নির্মাণ জায়ান্টের
জাপানি গাড়ি তৈরি হবে দেশেই
নিষেধাজ্ঞা মানছে না উ. কোরিয়া: জাপান
ডাকবাক্সকে ‘ডাস্টবিন’ ভেবে ভুল, আটক ১

শেয়ার করুন

২০ দিনে ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে সাড়ে ৫ হাজার, মৃত্যু ১৩

২০ দিনে ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে সাড়ে ৫ হাজার, মৃত্যু ১৩

করোনার মধ্যে ডেঙ্গু নিয়ে হাতপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছে এক শিশু। ছবি: সাইফুল ইসলাম

চলতি বছর ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ১৫ হাজার ৯৭৬ জনের মধ্যে সুস্থ হয়ে বাসায় ফিরেছে ১৪ হাজার ৮৪৫ জন। বর্তমানে ভর্তি রয়েছে ১ হাজার ৭২ জন। এদের মধ্যে ঢাকার ৪১ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ৮৫৭ ডেঙ্গু রোগী।

দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে আরও ২৭৫ জন। এ নিয়ে মাসের ২০ দিনে ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হলেন ৫ হাজার ৬২০ রোগী। এদের মধ্যে মারা গেছে ১৩ জন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে সোমবার বিকেলে এ তথ্য জানানো হয়।

কন্ট্রোল রুমের তথ্য বলছে, গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ভর্তি ২৭৫ জনের মধ্যে শুধু ঢাকা বিভাগেই ভর্তি হয়েছে ২১১ জন। অন্য বিভাগের হাসপাতালগুলোতে ভর্তি হয়েছে ৬৪ জন।

চলতি বছর ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ১৫ হাজার ৯৭৬ জনের মধ্যে সুস্থ হয়ে বাসায় ফিরেছে ১৪ হাজার ৮৪৫ জন। বর্তমানে ভর্তি রয়েছে ১ হাজার ৭২ জন। এদের মধ্যে ঢাকার ৪১ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ৮৫৭ ডেঙ্গু রোগী।

রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর) জানিয়েছে, ডেঙ্গু উপসর্গ নিয়ে চলতি বছর ৫৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে গত সাত মাসে ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। আগস্টে ৩৪ জনের মৃত্যু হয়। চলতি মাসের ২০ দিনে ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।

২১ বছর ধরে দেশে ডেঙ্গুর সার্বিক বিষয় নিয়ে তথ্য জানাচ্ছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। ২০১৯ সালে ডেঙ্গুর প্রকোপ মারাত্মক আকার ধারণ করে। সেই বছর ১ লাখের বেশি মানুষ ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়। মারা যায় ১৪৮ জন। ডেঙ্গুতে এত মৃত্যু আর কখনও দেখেনি দেশ।

তার আগে ডেঙ্গুতে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ মৃত্যু হয় ২০০২ সালে, সেবার ৫৮ জনের মৃত্যুর সংবাদ দেয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এ ছাড়া ২০০১ সালে ৪৪ জন মারা যায়। ২০১৯ সালে ডেঙ্গু ভয়ংকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করলেও করোনা মহামারির মধ্যে ২০২০ সালে ডেঙ্গু তেমন প্রভাব ফেলতে পারেনি। তবে এবার উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে ডেঙ্গু রোগী ও মৃত্যুর হার।

আরও পড়ুন:
জাপানের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা পেলেন দুই বাংলাদেশি
বাংলাদেশে বিনিয়োগে নজর জাপানের নির্মাণ জায়ান্টের
জাপানি গাড়ি তৈরি হবে দেশেই
নিষেধাজ্ঞা মানছে না উ. কোরিয়া: জাপান
ডাকবাক্সকে ‘ডাস্টবিন’ ভেবে ভুল, আটক ১

শেয়ার করুন

স্তন ক্যানসার রোধে অ্যাস্ট্রাজেনেকার যুগান্তকারী সাফল্য

স্তন ক্যানসার রোধে অ্যাস্ট্রাজেনেকার যুগান্তকারী সাফল্য

অ্যাস্ট্রাজেনেকার এনহার্টু ট্রায়ালে এশিয়া, ইউরোপ, উত্তর আমেরিকা, ওশেনিয়া ও দক্ষিণ আমেরিকার অন্তত ৫০০ রোগীকে পর্যবেক্ষণের আওতায় আনা হয়।

বিশ্বে প্রতি আটজনে অন্তত একজন নারী স্তন ক্যানসারে আক্রান্ত হন। জাতীয় ক্যানসার গবেষণা ইনস্টিটিউটের হিসাব অনুযায়ী, বাংলাদেশেও প্রতিবছর দেড় লাখের বেশি মানুষ স্তন ক্যানসারে আক্রান্ত হন।

এবার স্তন ক্যানসার প্রতিরোধে সাফল্যের দাবি করেছে গবেষণাভিত্তিক বায়োফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানি অ্যাস্ট্রাজেনেকা। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, তাদের আবিষ্কৃত একটি ওষুধ স্তন ক্যানসারে প্রচলিত চিকিৎসা পদ্ধতির চেয়ে ৭২ শতাংশ বেশি কার্যকর। তাদের ওষুধ রোগীর শরীরে প্রয়োগ করলে মৃত্যুর ঝুঁকি এবং রোগটি ছড়িয়ে পড়া অনেকাংশেই কমে যায়।

ব্রিটিশ ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানিটি দাবি করছে, স্তন ক্যানসারের ক্ষেত্রে তাদের ‘এনহার্টু’ ট্রায়ালে যুগান্তকারী ফলাফল দেখা গেছে। রোগীকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য এটি শক্তিশালী প্রমাণ দিয়েছে।

গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে জানা গেছে, অ্যাস্ট্রাজেনেকার এই এনহার্টু ট্রায়ালে এশিয়া, ইউরোপ, উত্তর আমেরিকা, ওশেনিয়া ও দক্ষিণ আমেরিকার অন্তত ৫০০ রোগীকে পর্যবেক্ষণের আওতায় আনা হয়।

ইনডিপেন্ডেন্টের খবর- ট্রায়ালে অংশ নেওয়া রোগীদের মধ্যে ৭৫ শতাংশের শরীরেই স্তন ক্যানসার আর বাড়তে পারেনি। সেই তুলনায় ট্রাস্টুজুমাব এমটানসাইন (টি-ডিএম১) নামে প্রচলিত চিকিৎসা পদ্ধতিতে মাত্র ৩৪.১ শতাংশের শরীরে এমন সাড়া মিলেছে। এনহার্টু পদ্ধতিতে রোগটি না বাড়ার সময়সীমা ৭.২ মাস থেকে ২৫.১ মাসে উন্নীত হয়েছে।

তিন ধাপের এই ট্রায়ালে অংশ নেওয়ার ১২ মাস পর অ্যাস্ট্রাজেনেকার এনহার্টু গ্রহণ করা রোগীদের মধ্যে ৯৪.১ শতাংশ বেঁচে ছিলেন। আর ট্রাস্টুজুমাব এমটানসাইন গ্রহণ করাদের মধ্যে বেঁচেছিলেন ৮৫.৯ শতাংশ।

ট্রায়ালের ফলাফলের কথা জানিয়ে অ্যাস্ট্রাজেনেকার অঙ্কোলজি বিভাগের নির্বাহী উপপ্রধান সুসান গ্যালব্রেইথ বলেছেন, ‘এই ফল যুগান্তকারী।’

আরও পড়ুন:
জাপানের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা পেলেন দুই বাংলাদেশি
বাংলাদেশে বিনিয়োগে নজর জাপানের নির্মাণ জায়ান্টের
জাপানি গাড়ি তৈরি হবে দেশেই
নিষেধাজ্ঞা মানছে না উ. কোরিয়া: জাপান
ডাকবাক্সকে ‘ডাস্টবিন’ ভেবে ভুল, আটক ১

শেয়ার করুন