ভারতে রেকর্ড টিকাদানের উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন

ভারতে রেকর্ড টিকাদানের উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন

ভারতে রেকর্ড টিকাদানের পরিকল্পনা সামনে রেখে বেশ কিছু রাজ্য আগের দিনগুলোতে ডোজ মজুত করছিল বলে অভিযোগ উঠেছে। ছবি: এনডিটিভি

টিকা সরবরাহে ব্যাপক ঘাটতি থাকায় সোমবার সামনে রেখে বেশ কিছু রাজ্য আগের দিনগুলোতে টিকা মজুত করছিল। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, মধ্য প্রদেশে সোমবার টিকা নিয়েছে সর্বোচ্চ ১৭ লাখ মানুষ। এক দিন পরই মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা পর্যন্ত টিকা পাননি পাঁচ হাজার মানুষও, যা সর্বনিম্ন।

রেকর্ড টিকাদানের এক দিনের মাথায় দৈনিক টিকাগ্রহীতার সংখ্যা অর্ধেকে নেমে এসেছে ভারতে। ফলে বড় পরিসরে টিকাদান শুধুই কৃতিত্ব নেয়ার কৌশল কি না, তা নিয়ে প্রশ্নের মুখে পড়েছে নরেন্দ্র মোদির সরকার।

এনডিটিভির প্রতিবেদনে জানানো হয়, মঙ্গলবার ভারতজুড়ে করোনাভাইরাস প্রতিরোধী টিকা নিয়েছেন মাত্র ৫৪ লাখ ২২ হাজার মানুষ। অথচ এক দিন আগেই সোমবার মধ্যরাত পর্যন্ত এ সংখ্যা ছিল রেকর্ড ৮৮ লাখ।

অভিযোগ উঠেছে, মহামারি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার দায় নিয়ে চলা বিজেপি সরকারের জনপ্রিয়তা বাড়ানোর কৌশল ছিল ‘ম্যাজিক মানডে’। ২১ জুনের দিনটিতে ২৪ ঘণ্টার হিসাবে সর্বোচ্চসংখ্যক মানুষকে করোনার টিকা দিতে কয়েক দিন ধরেই মজুত করা হচ্ছিল বিপুল পরিমাণ ডোজ।

টিকা সরবরাহে ব্যাপক ঘাটতি থাকায় সোমবার সামনে রেখে বেশ কিছু রাজ্য আগের দিনগুলোতে টিকা মজুত করছিল।

মধ্য প্রদেশে সোমবার টিকা নিয়েছে সর্বোচ্চ ১৭ লাখ মানুষ। একদিন পরই স্থানীয় সময় মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা পর্যন্ত টিকা পাননি পাঁচ হাজার মানুষও, যা সর্বনিম্ন।

রাজ্যটির দৈনিক টিকাদানের তথ্যে দেখা যায়, গত ১৫ জুন টিকা নিয়েছে প্রায় ৩৮ হাজার মানুষ। ২০ জুন এ সংখ্যা নেমে আসে ৪ হাজার ৯৮ জনে। ঠিক তার পরদিন ২১ জুন টিকা নিয়েছেন ১৬ লাখ ৯৫ হাজার ৫৯২ জন। ২২ জুনই আবার এ সংখ্যা নেমে এসেছে ৪ হাজারে।

টিকাদানে দৈনিক রেকর্ড করার লক্ষ্যে ডোজ মজুতের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে রাজ্য সরকার।

মধ্য প্রদেশের চিকিৎসা শিক্ষামন্ত্রী বিশ্বাস সংরং বলেন, ‘টিকা জমানোর কোনো বিষয়ই নেই এখানে। হয়তো তথ্য নথিভুক্ত করায় কিছু ভুল হয়েছে, যে কারণে আগে টিকাদানের সংখ্যা কম দেখানো হচ্ছে।

‘সোমবার যা টিকা দেয়া হয়েছে, সবটা আমাদের চোখের সামনেই হয়েছে। এখানে লুকানোর কিছু নেই। সাংবাদিকদের প্রশ্নে বরং আমি হতবাক হয়ে যাচ্ছি।’

অবশ্য দুয়েকটি রাজ্যে আবার মঙ্গলবার টিকা নিয়েছেন সোমবারের চেয়েও বেশিসংখ্যক মানুষ।

উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, উত্তর প্রদেশে সোমবার রেকর্ড ৬ লাখ মানুষ টিকা নেন। এক দিন পরই পুরোনো রেকর্ড ভেঙে ৭ লাখ ডোজ দিয়ে দৈনিক টিকাদানের নতুন রেকর্ড করে রাজ্যটি।

রেকর্ডসংখ্যক মানুষকে টিকাদানের দিনটিতে যে ১০টি রাজ্যে সর্বাধিক টিকা নিয়েছে মানুষ, তার মধ্যে সাতটিই বিজেপিশাসিত।

ভারতের প্রাপ্তবয়স্ক জনগোষ্ঠীর শতভাগকে চলতি বছরের মধ্যে দুই ডোজ টিকাদান সম্পন্নের লক্ষ্য ঘোষণা করেছে কেন্দ্রীয় সরকার।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, ১৩৩ কোটি মানুষের দেশটিতে এ লক্ষ্য পূরণে বছরের এ পর্যায়ে প্রতিদিন টিকা দিতে হবে কমপক্ষে ৯৭ লাখ মানুষকে। কিন্তু টিকার বর্তমান জোগানে তা আদৌ সম্ভব নয় বলে মনে করছেন অনেকে।

যদিও প্রতিদিনের জন্য প্রয়োজনীয় টিকা প্রয়োগ ও মজুতের সক্ষমতা আছে বলে দাবি কেন্দ্রীয় সরকারের।

ভারতের টিকাবিষয়ক কেন্দ্রীয় পরামর্শক সংস্থা এনটিএজিআইয়ের চেয়ারম্যান ড. এনকে অরোরা বলেন, ‘সরকারের লক্ষ্য দিনে এক কোটি করে ডোজ দেয়া। আর আমাদের সক্ষমতা আছে প্রতিদিন সোয়া কোটি ডোজ মজুত করার।’

কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যসচিব রাজেশ ভূষণ বলেন, ‘এ বিষয়ে রাজ্য সরকারগুলোকে পূর্ণ সহযোগিতা করছে কেন্দ্র। পরবর্তী ১৫ দিনে কতগুলো ডোজ পাঠানো হবে, তা আগেই জানিয়ে দেব আমরা। এতে রাজ্যগুলোতে টিকাদান কর্মসূচি সফল করতে কার্যকর পরিকল্পনা নিতে পারবে।’

ভারতের অনেক রাজ্যে টিকাদানের লক্ষ্য অজর্নের পথে বড় বাধা ব্যাপক ঘাটতি।

আরও পড়ুন:
ভারতে সীমা ছাড়াচ্ছে পেট্রল-ডিজেলের দাম
ছত্তিশগড়ে ৮০০ কেজি গোবর চুরি
করোনাতেও ভারতে বিদেশি বিনিয়োগের জোয়ার
কংগ্রেসকে ছাড়াই মোদিবিরোধী জোটের জল্পনা
বিহারে ৫ মাসে হিসাবের বাইরে ৭৫ হাজার মৃত্যু

শেয়ার করুন

মন্তব্য