বাইডেনের সঙ্গে বৈঠক ফলপ্রসূ: এরদোয়ান

বাইডেনের সঙ্গে বৈঠক ফলপ্রসূ: এরদোয়ান

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ও তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোয়ানের মধ্যে সোমবার ইতিবাচক আলোচনা হয়। ছবি: এএফপি

এরদোয়ান বলেন, ‘সমাধানযোগ্য নয় এমন কোনো বিষয় তুরস্ক-যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কে থাকতে পারে বলে আমরা মনে করি না। পারস্পরিক মর্যাদা ও স্বার্থের ওপর নির্ভর করে সব ক্ষেত্রে নতুন করে শুরু করার দৃঢ় আকাঙ্ক্ষা দুই দেশেরই রয়েছে।’

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সঙ্গে ‘ফলপ্রসূ ও আন্তরিক’ বৈঠক হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান।

বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসে সামরিক জোট ন্যাটোর সম্মেলনের একপর্যায়ে স্থানীয় সময় সোমবার অনুষ্ঠিত বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।

তুরস্ক ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের ইতিবাচক বৈঠকের মধ্য দিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে দেশ দুটির সম্পর্কে টানাপোড়েনের অবসান ঘটতে যাচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এরদোয়ান বলেন, ‘সমাধানযোগ্য নয় এমন কোনো বিষয় তুরস্ক-যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কে থাকতে পারে বলে আমরা মনে করি না।

‘পারস্পরিক মর্যাদা ও স্বার্থের ওপর নির্ভর করে সব ক্ষেত্রে নতুন করে শুরু করার দৃঢ় আকাঙ্ক্ষা দুই দেশেরই রয়েছে।’

তিনি জানান, বাইডেনের সঙ্গে তার বিস্তৃত আলোচনায় আঞ্চলিক বিষয়ে সহযোগিতা নিয়ে কথা হয়।

তুরস্কের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের বাইডেন বলেন, ‘আমাদের মধ্যে ইতিবাচক বৈঠক হয়েছে। বেশ কিছু বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

‘তুরস্ক ও যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ এজেন্ডা রয়েছে। উভয় দেশের কর্মকর্তারা আলোচনা চালিয়ে যাবেন। আমাদের সম্পর্কে প্রকৃত অগ্রগতির বিষয়ে আশাবাদী আমি।’

আল জাজিরামিডল ইস্ট আইয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়, বাইডেন ও এরদোয়ান এক ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে একান্তে বৈঠক করেন। সে সময় সেখানে কোনো কর্মকর্তা ছিলেন না।

এর আগে রোববার যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জেইক সালিভান বলেছিলেন, সিরিয়া, লিবিয়া থেকে শুরু করে পূর্বাঞ্চলীয় ভূমধ্যসাগরসহ গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক বিষয় নিয়ে বাইডেন ও এরদোয়ানের মধ্যে আলোচনা হবে।

গত কয়েক বছর ধরে তুরস্ক ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কে উত্তেজনা চলছে।

সিরিয়ায় কুর্দি সংগঠনকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহযোগিতা ক্ষুব্ধ করে তুরস্ককে। একে জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে দেখে আঙ্কারা।

গত বছর রাশিয়া থেকে তুরস্কের এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র কেনার ঘটনায় আঙ্কারার ওপর অবরোধ আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্র।

এ ছাড়া দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালে আর্মেনীয়দের ওপর ওসমানীয় সাম্রাজ্যের হত্যাযজ্ঞকে ‘গণহত্যা’ হিসেবে চলতি বছরের এপ্রিলে স্বীকৃতি দেয় বাইডেন। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো রাষ্ট্রপ্রধান এই স্বীকৃতি দেননি। বাইডেন প্রশাসনের ওই স্বীকৃতিতে ক্ষুব্ধ হয় তুরস্ক।

গত মাসে গাজা উপত্যকায় ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরায়েলের বিমান হামলা নিয়েও তুরস্ক ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়।

শেয়ার করুন

মন্তব্য

অবশেষে বিচ্ছিন্ন বিল-মেলিন্ডা

অবশেষে বিচ্ছিন্ন বিল-মেলিন্ডা

বিল ও মেলিন্ডা গেটসের বিচ্ছেদ সোমবার আনুষ্ঠানিকভাবে চূড়ান্ত হয়। ছবি: ব্লুমবার্গ

গেটস দম্পতি জানান, নিজেদের বৈবাহিক সম্পদ কীভাবে ভাগ হবে, সে বিষয়ে তারা একটি চুক্তিতে পৌঁছেছেন। অবশ্য ওই চুক্তির বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সিয়াটল শহরের কিং কাউন্টি সুপিরিয়র কোর্টের বিচ্ছেদের চূড়ান্ত আদেশে কিছু বলা হয়নি।

মাইক্রোসফট করপোরেশনের সহপ্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস ও তার স্ত্রী মেলিন্ডা ফ্রেঞ্চ গেটসের বিচ্ছেদ আনুষ্ঠানিকভাবে চূড়ান্ত হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের এক আদালতের নথিতে স্থানীয় সময় সোমবার এমনটাই বলা হয়েছে বলে বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

৬৫ বছর বয়সী বিল গেটস বিশ্বের চতুর্থ শীর্ষ ধনী। অন্যদিকে মাইক্রোসফটের সাবেক ব্যবস্থাপক ৫৬ বছর বয়সী মেলিন্ডা বৈশ্বিক স্বাস্থ্য ইস্যু ও নারীদের সমঅধিকার প্রতিষ্ঠায় সোচ্চার।

২৭ বছর বৈবাহিক জীবন কাটিয়ে চলতি বছরের ৩ মে বিচ্ছেদের আবেদন করেছিলেন বিল ও মেলিন্ডা।

বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নিলেও নিজেদের জনহিতৈষীমূলক কর্মকাণ্ডে এর কোনো প্রভাব পড়বে না বলে সে সময়ই অঙ্গীকার করেন এই দম্পতি।

বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ব্যক্তিগত দাতব্য সংস্থা বিল অ্যান্ড মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশনের কাজ আগের মতোই একসঙ্গে করার বিষয়ে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ তারা।

গেটস দম্পতি জানান, নিজেদের বৈবাহিক সম্পদ কীভাবে ভাগ হবে, সে বিষয়ে তারা একটি চুক্তিতে পৌঁছেছেন।

অবশ্য ওই চুক্তির বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সিয়াটল শহরের কিং কাউন্টি সুপিরিয়র কোর্টের বিচ্ছেদের চূড়ান্ত আদেশে কিছু বলা হয়নি।

কোর্টের আদেশে বলা হয়, বিচ্ছেদ চুক্তির শর্ত অবশ্যই বিল-মেলিন্ডা দম্পতিকে মেনে চলতে হবে।

২০০০ সালে পথ চলতে শুরু করা সিয়াটলভিত্তিক বিল অ্যান্ড মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশন বৈশ্বিক জনস্বাস্থ্য খাতে অল্প সময়ে বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী ও প্রভাবশালী দাতব্য সংস্থায় পরিণত হয়।

বিল ও মেলিন্ডার ম্যালেরিয়া ও পোলিও নির্মূল, শিশু পুষ্টি ও টিকাদান কর্মসূচি বিশ্বজুড়ে ব্যাপক প্রশংসা পায়।

করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াই, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা ও নারী অধিকার প্রচারে বিল ও মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশন ৫ হাজার কোটি ডলারের বেশি অর্থ দান করে।

বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নেয়ার পর যৌথ এক বিবৃতিতে এই দম্পতি বলেছিলেন, ‘অনেক ভেবে-চিন্তে এবং সম্পর্কের অনেক খুঁটিনাটি বিষয় খতিয়ে দেখে আমরা বৈবাহিক জীবনের ইতি টানার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘গত ২৭ বছরে আমরা দুর্দান্ত তিন সন্তানকে বড় করেছি এবং একটি ফাউন্ডেশন গড়ে তুলেছি, যা বিশ্বব্যাপী সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে স্বাস্থ্যকর, কর্মক্ষম জীবনযাপনে সক্ষম করে তুলতে কাজ করছে।’

গেটস দম্পতির বিচ্ছেদ সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় ধনীদের বৈবাহিক সম্পর্কের ইতি টানার দ্বিতীয় ঘটনা।

ব্লুমবার্গ বিলিয়নিয়ার ইনডেক্স অনুযায়ী বর্তমানে বিশ্বের শীর্ষ ধনী জেফ বেজোস ও ম্যাকেঞ্জি স্কট ২০১৯ সালে বিচ্ছেদের ঘোষণা দিয়েছিলেন।

এ দম্পতির বিচ্ছেদে সম্পদের ভাগাভাগিতে রাতারাতি বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ ধনী বনে যান ম্যাকেঞ্জি।

শেয়ার করুন

যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা তোলার চেষ্টা করব: রাইসি

যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা তোলার চেষ্টা করব: রাইসি

মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ তোলার চেষ্টার কথা জানান ইরানের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসি। ছবি: সংগৃহীত

ইরানের সদ্য নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট রাইসি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের নিষ্ঠুর নিষেধাজ্ঞা তোলার চেষ্টা আমরা অবশ্যই করব। আমরা ইরানের জনগণের জীবনযাত্রা এবং অর্থনীতি শর্তের ভেতর আটকে থাকতে দেব না। দেশের ভবিষ্যৎ পশ্চিমাদের মর্জির ওপর নির্ভর করবে না।’

ক্ষমতা গ্রহণের পর যুক্তরাষ্ট্রের আরোপ করা কঠোর নিষেধাজ্ঞা তুলতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবেন বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের সদ্য নির্বাচিত কট্টরপন্থি প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসি।

পাশাপাশি দেশের অসন্তুষ্ট বিরোধী মতাবলম্বীদের সঙ্গে দূরত্ব কমাতে উদ্যোগ নেয়া হবে বলেও জানান তিনি।

টেলিভিশনে দেয়া বক্তব্যে মঙ্গলবার রাইসি এসব মন্তব্য করেন বলে আল-জাজিরা ও বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

এদিন ইরানের অষ্টম প্রেসিডেন্ট হিসেবে ইব্রাহিম রাইসিকে আনুষ্ঠানিক অনুমোদন দেন দেশটির সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি।

ওই অনুষ্ঠান শেষে রাইসি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের নিষ্ঠুর নিষেধাজ্ঞা তোলার চেষ্টা আমরা অবশ্যই করব।

‘আমরা ইরানের জনগণের জীবনযাত্রা এবং অর্থনীতি শর্তের ভেতর আটকে থাকতে দেব না। দেশের ভবিষ্যৎ পশ্চিমাদের মর্জির ওপর নির্ভর করবে না।’

৬০ বছর বয়সী রাইসি জানান, ২০১৫ সালের পরমাণু চুক্তি পুনরুজ্জীবিত করার লক্ষ্যে পরাশক্তি দেশগুলোর সঙ্গে অস্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনায় চলমান আলোচনা অব্যাহত রাখবেন তিনি।

২০১৫ সালে চীন, ফ্রান্স, রাশিয়া, জার্মানি, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে জয়েন্ট কম্প্রেহেন্সিভ প্ল্যান অফ অ্যাকশন (জেসিপিওএ) নামে পরমাণু চুক্তি স্বাক্ষর করে ইরান।

এতে বলা হয়, ইরানের পরমাণু কর্মসূচি সীমিতকরণের বিনিময়ে দেশটির ওপর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়া হবে।

বারাক ওবামার আমলের সেই চুক্তি থেকে একতরফাভাবে ২০১৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহার করে নেন দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প।

এরপরই ইরানের ওপর একের পর এক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে ট্রাম্প প্রশাসন।

পরমাণু চুক্তিতে ফেরা নিয়ে চলতি বছরের এপ্রিল থেকে ভিয়েনায় ইরানের সঙ্গে আলোচনায় বসে চুক্তি স্বাক্ষরকারী দেশগুলো।

আর ওই আলোচনায় পরোক্ষ অংশগ্রহণ রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের।

ভিয়েনায় চলমান আলোচনার বিষয়ে ইরান ও পশ্চিমা কর্মকর্তাদের ভাষ্য, ২০১৫ সালের চুক্তিতে ফেরা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে এখনও ঐকমত্যে পৌঁছানো যায়নি।

এপ্রিলে শুরু হওয়া আলোচনা ইরানের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের কারণে জুনে মুলতবি হয়। ওই তিন মাসে ছয়বার ইরানের সঙ্গে আলোচনায় বসে পশ্চিমা দেশগুলো।

প্রেসিডেন্ট হিসেবে রাইসি আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমতা গ্রহণের পর আলোচনা ফের শুরুর কথা জানিয়েছিল ইরান।

তবে বৈঠকের পরবর্তী তারিখ এখন পর্যন্ত ঘোষণা করেনি কোনো পক্ষ।

বৃহস্পতিবার ইরানের অষ্টম প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নিতে যাচ্ছেন রাইসি।

১৮ জুন ইরানের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বিশাল ব্যবধানে জয় পান দেশটির কট্টর রক্ষণশীল ধর্মীয় নেতা ও প্রধান বিচারপতি ইব্রাহিম রাইসি।

ইরানে চার বছরের মেয়াদে টানা দুবার ক্ষমতায় থাকা প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানির স্থলাভিষিক্ত হবেন রাইসি।

শেয়ার করুন

পশ্চিমবঙ্গে বন্যায় ১৬ জনের মৃত্যু

পশ্চিমবঙ্গে বন্যায় ১৬ জনের মৃত্যু

পশ্চিমে বাঁকুড়া থেকে পূর্বে হাওড়া-- সর্বত্র বিপদসীমার ওপর দিয়ে বইছে নদী। ভেসে গেছে অসংখ্য গ্রাম। ছবি: সংগৃহীত

মুখ্যমন্ত্রী মমতা মন্ত্রিপরিষদের বৈঠকে বলেন, ‘নিজের জেলায় বানভাসিদের পাশে থেকে কাজ করুন। ত্রাণ যেন সময়মতো পৌঁছে দেয়া হয়, সেটা দেখুন। সমস্যা হলে ত্রাণমন্ত্রী জাভেদ খান ও পানিসম্পদ উন্নয়নমন্ত্রী মানস ভুঁইয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করবেন।’ এ ছাড়া মৃতদের পরিবারপ্রতি এক লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন মমতা।

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে নিম্নচাপের কারণে অতিবৃষ্টিতে দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। দেয়াল ভেঙে ও বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মৃতদের পরিবারপ্রতি লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেয়ার কথা ঘোষণা করেছেন।

সোমবার নবান্নে মন্ত্রিসভার বৈঠকে রাজ্যের বন্যায় মৃতদের তালিকা তৈরি করে দ্রুত দুর্গতদের পরিবারের হাতে ক্ষতিপূরণ তুলে দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

মুখ্যমন্ত্রী এদিন অন্য মন্ত্রীদের বলেন, ‘নিজের জেলায় বানভাসিদের পাশে থেকে কাজ করুন। ত্রাণ যেন সময়মতো পৌঁছে দেয়া হয়, সেটা দেখুন। সমস্যা হলে ত্রাণমন্ত্রী জাভেদ খান ও পানিসম্পদ উন্নয়নমন্ত্রী মানস ভুঁইয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করবেন।’

বৃষ্টি কিছুটা কমলেও বন্যা নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা দামোদর ভ্যালি করপোরেশনের (ডিভিসি) একাধিক জলাধার থেকে পানি ছাড়ার ফলে দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলোতে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। ডিভিসির পাঞ্চেত ও মাইথন জলাধার থেকে প্রতিদিন গড়ে ১ লাখ কিউসেক পানি ছাড়ার ফলে দুর্গাপুর ব্যারাজ থেকে দেড় লাখ কিউসেক পানি ছাড়তে হচ্ছে। ফলে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। বিপদের আশঙ্কায় ৩৯ হাজার ৩৮০ জনকে সরিয়ে নেয়া হয়েছে। তাদের রাজ্যে তৈরি ৩৫০টি ত্রাণশিবিরে রাখা হয়েছে।

সোমবার হাওড়ার আমতা ও উদয় নারায়ণপুরের ১৫টি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকা সম্পূর্ণ পানির তলায় চলে যায়। এই দুটি ব্লকের আড়াই লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। উদ্ধারকাজ শুরু করেছে সরকার। রূপনারায়ণ ও মুন্ডেশ্বরী নদীতে পানির স্তর বৃদ্ধি পাওয়ায় খানাকুলের বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে।

এখানকার পানিবন্দি ৩০ জনকে বিমানবাহিনীর হেলকপ্টার উদ্ধার করেছে। কংসাবতী ব্যারাজ থেকে পানি ছাড়ায় পাঁশকুড়া রানিহাটি এলাকার নদী বাঁধে ফাটল দেখা দিয়েছে।

সোমবার দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা, হাওড়া, বাঁকুড়া, পশ্চিম মেদিনীপুর, দুই বর্ধমানের বন্যা পরিস্থিতি দেখতে যান রাজ্যের পঞ্চায়েত মন্ত্রী সুব্রত মুখোপাধ্যায় এবং সেচমন্ত্রী সৌমেন মহাপাত্র।

অন্য মন্ত্রীদের বন্যা পরিস্থিতির ওপর নজরদারি করার নির্দেশ দেয়ার পাশাপাশি নিজেও বন্যা পরিস্থিতি পরিদর্শনে যাবেন বলে সোমবার নবান্নে মন্ত্রিসভার বৈঠকে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। হেলিকপ্টারে দুর্গতদের সাহায্যের সঙ্গে ড্রোন উড়িয়ে পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে প্রশাসন।

মন্ত্রী সুব্রত মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘ঘাটালে অনেকবার বন্যা পরিস্থিতি দেখতে এসেছি। এবার দেখছি ১৯৭৮ সালের চেয়েও অনেক বেশি ভয়াবহ। এ রকম পরিস্থিতি আগে কখনও দেখেনি।’

শেয়ার করুন

টিকা না নিলে ক্যাম্পে আটকে রাখতে বলেননি বাইডেন

টিকা না নিলে ক্যাম্পে আটকে রাখতে বলেননি বাইডেন

ভাইরাল হওয়া এই বার্তা ব্যঙ্গাত্মক নিবন্ধ থেকে নেয়া হয়েছে বলে অনুসন্ধানে জানা যায়। ছবি: ইন্ডিয়া টুডে

ওয়েবসাইটের হোমপেজের নিচের অংশে বলা হয়েছে, ‘দ্যস্টঙ্কমার্কেট.কম আর্থিকবিষয়ক ব্যঙ্গাত্মক সাইট। আর্থিক শিল্প, শেয়ারবাজার, হেজ ফান্ড ও বৈশ্বিক বাজার নিয়ে ব্যঙ্গাত্মকধর্মী প্রতিবেদন প্রকাশ করাই এই ওয়েবসাইটের লক্ষ্য।’

করোনার ডেল্টা ধরনের প্রভাবে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ভাইরাসটির ফের ব্যাপক সংক্রমণ দেখা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে।

এমন পরিস্থিতিতে ভাইরাল হওয়া এক বার্তায় দাবি করা হয়েছে, টিকা না নিলে কোয়ারেন্টিন ক্যাম্পে বন্দি করে রাখার ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন।

ইন্ডিয়া টুডের অ্যান্টি ফেইক নিউজ ওয়ার রুম (এএফডব্লিউএ) এ দাবির সত্যতা অনুসন্ধান করে।

এতে দেখা যায়, ভাইরাল বার্তাটি ব্যঙ্গাত্মক এক নিবন্ধ থেকে নেয়া হয়েছে।

চলতি বছরের ১৭ জুন ‘দ্য স্টঙ্ক মার্কেট’ নামের এক ওয়েবসাইটে নিবন্ধটি প্রথম প্রকাশ হয়।

নিবন্ধটির শিরোনাম ছিল, ‘২০২২ সালের মধ্যে টিকা না নেয়া ব্যক্তিদের ক্যাম্পে রাখার ঘোষণা দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট বাইডেন।’

নিবন্ধে আরও বলা হয়, ‘যুক্তরাষ্ট্রের যেসব নাগরিক টিকা না নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তাদের কোয়ারেন্টিন ক্যাম্পে পুরবেন বাইডেন।

‘অনির্দিষ্টকাল ধরে তাদের ক্যাম্পেই আটকে রাখা হবে। টিকা নিলে তাদের ছেড়ে দেয়া হবে।’

করোনা সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতি ঠেকাতে জরুরি পদক্ষেপের অংশ হিসেবে বাইডেন এ সিদ্ধান্ত নেন বলেও নিবন্ধটিতে উল্লেখ করা হয়।

নিজেদের পরিষ্কারভাবে ব্যঙ্গাত্মক প্ল্যাটফর্ম হিসেবেই দাবি করে দ্য স্টঙ্ক মার্কেট ওয়েবসাইট।

ওয়েবসাইটের হোমপেজের নিচের অংশে বলা হয়েছে, ‘দ্যস্টঙ্কমার্কেট.কম আর্থিকবিষয়ক ব্যঙ্গাত্মক সাইট।

‘আর্থিক শিল্প, শেয়ারবাজার, হেজ ফান্ড ও বৈশ্বিক বাজার নিয়ে ব্যঙ্গাত্মকধর্মী প্রতিবেদন প্রকাশ করাই এ ওয়েবসাইটের লক্ষ্য।’

করোনার ডেল্টা ধরনের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়ায় সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের জনস্বাস্থ্য সংস্থা রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র (সিডিসি) দেশটির স্বাস্থ্যকর্মীদের টিকা নেয়া বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব করেছে।

পাশাপাশি টিকা নেয়া ব্যক্তিদেরও চার দেয়ালের ভেতর যেকোনো জনসমাগমস্থলে মাস্ক পরার নির্দেশনা জারি করেছে সিডিসি।

এর আগে চার দেয়ালের ভেতর টিকা নেয়া ব্যক্তিদের মাস্ক পরার প্রয়োজন নেই বলে নিজেদের নির্দেশনায় বলেছিল সংস্থাটি।

তবে করোনার ডেল্টা ধরনের প্রকোপে নির্দেশনায় পরিবর্তন আনতে বাধ্য হয় সিডিসি।

বিশেষজ্ঞদের বরাতে দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে সম্প্রতি বলা হয়, করোনা সংক্রমণ মোকাবিলায় বাধ্যতামূলক টিকা নীতি যৌক্তিক পদক্ষেপ হতে পারে।

তবে এখন পর্যন্ত নাগরিকদের জন্য করোনা টিকা বাধ্যতামূলক করেনি যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসন।

শেয়ার করুন

চীনে বন্যায় প্রাণহানি ৩ গুণ বেড়ে ৩০২

চীনে বন্যায় প্রাণহানি ৩ গুণ বেড়ে ৩০২

চীনের ঝেংঝৌতে বন্যার পানির তোড়ে উল্টেপাল্টে পড়ে আছে গাড়ি। ছবি: এএফপি

১৭ জুলাই থেকে মাত্র তিন দিনে ৬১৭ দশমিক ১ মিলিমিটার বা ২৪ দশমিক ৩ ইঞ্চি বৃষ্টি রেকর্ড করে ঝেংঝৌ। শহরটিতে বার্ষিক গড় বৃষ্টি ৬৪০ দশমিক ৮ মিলিমিটার বা ২৫ দশমিক ২ ইঞ্চি। গত এক হাজার বছরে চীনে এত বৃষ্টি আর হয়নি বলে সে সময় জানায় স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।

চীনের মধ্যাঞ্চলীয় হেনান প্রদেশে গত মাসের বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩০২ জনে, যা গত সপ্তাহে হালনাগাদকৃত তথ্যের প্রায় তিন গুণ বেশি। এখনও নিখোঁজ অর্ধশতাধিক মানুষ।

আল-জাজিরার প্রতিবেদনে জানানো হয়, বন্যায় সবচেয়ে বিপর্যস্ত প্রাদেশিক রাজধানী ঝেংঝৌ। শহরটিতে বন্যায় মারা গেছে কমপক্ষে ২৯২ জন, নিখোঁজ ৪৭ জন। প্রদেশের অন্যান্য শহরে নিখোঁজ আরও তিনজন।

স্থানীয় সরকার সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে জানায়, সোয়া এক কোটি বাসিন্দার শহর ঝেংঝৌতে অন্যান্য সময়ে সারা বছরে যে পরিমাণ বৃষ্টিপাত হয়, জুলাইয়ে মাত্র তিন দিনেই সে পরিমাণ বৃষ্টি রেকর্ড হয়েছে সেখানে।

১৭ জুলাই থেকে মাত্র তিন দিনে ৬১৭ দশমিক ১ মিলিমিটার বা ২৪ দশমিক ৩ ইঞ্চি বৃষ্টি রেকর্ড করে ঝেংঝৌ। শহরটিতে বার্ষিক গড় বৃষ্টি ৬৪০ দশমিক ৮ মিলিমিটার বা ২৫ দশমিক ২ ইঞ্চি।

গত এক হাজার বছরে চীনে এত বৃষ্টি আর হয়নি বলে সে সময় জানায় স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।

অতিবৃষ্টির ফলে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যায় পাতাল রেল, মাটির নিচে গাড়ি পার্কিং এলাকা আর সুড়ঙ্গ সড়ক ডুবে যায় পানিতে। আটকা পড়ে কয়েক হাজার মানুষ।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিও ফুটেজে ডুবে যাওয়া রাস্তাঘাট, বন্যার পানির তোড়ে ভেসে আসা ধ্বংসস্তূপ, আর সাবওয়ে স্টেশনে গলা পানিতে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষদের উদ্ধারের অপেক্ষায় থাকার দৃশ্য দেখা গেছে।

মেয়র হৌ হং সাংবাদিকদের জানান, গাড়িং পার্কিংসহ বিভিন্ন বেজমেন্ট থেকে ৩৯ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। পাতাল রেলে পানিতে আটকে প্রাণ গেছে ১৪ জনের।

কিছুদিন আগে ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত লুওইয়াং শহরে একটি বাঁধ বন্যায় ভেঙে পড়ার আশঙ্কায় সেনা মোতায়েন করা হয় সেখানে। বাঁধটিতে ৬৫ ফুট দীর্ঘ ফাটল সৃষ্টি হয়েছে।

অতিবৃষ্টি, বন্যা, খরাসহ সাম্প্রতিক প্রাকৃতিক দুর্যোগের জন্য জলবায়ু পরিবর্তন ও বৈশ্বিক উষ্ণতাকে দায়ী করেছেন পরিবেশবিদরা।

গত দুই সপ্তাহে বিরূপ আবহাওয়ার সাক্ষী হয়েছে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চল। ইউরোপের পশ্চিমাঞ্চল, এশিয়ায় চীন, ভারত, আফগানিস্তান, আফ্রিকায় নাইজার বন্যায় ব্যাপক প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। দাবদাহ ও দাবানলে বিপর্যস্ত উত্তর আমেরিকা ও ইউরোপ।

শেয়ার করুন

ফের করোনার হানায় সতর্ক চীন, কঠোর উহান

ফের করোনার হানায় সতর্ক চীন, কঠোর উহান

চীনের উহানে করোনা শনাক্তে গণহারে নমুনা সংগ্রহ চলছে। ফাইল ছবি

রাজধানী বেইজিংসহ বিভিন্ন শহরে আবাসিক এলাকাগুলো ঘিরে ফেলা হয়েছে এবং সংক্রমিতদের সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের কোয়ারেন্টিনে নেয়া হয়েছে।  করোনা পরীক্ষা করা হয়েছে কোটি মানুষের। সবশেষ নানজিংয়ের নিকটবর্তী ইয়াংঝৌ শহরে বাসিন্দাদের ঘরে থাকার নির্দেশ দিয়েছে প্রশাসন।

চীনের উহানে ত্বরিত গতিতে এক কোটি ১০ লাখ বাসিন্দার করোনাভাইরাস পরীক্ষার ব্যবস্থা নিয়েছে প্রশাসন। এক বছরের বেশি সময় পর মধ্যাঞ্চলীয় শহরটিতে করোনাভাইরাসের স্থানীয় সংক্রমণ শনাক্ত হওয়ায় সতর্ক অবস্থানে পুরো দেশ।

উহানের কর্মকর্তা লি তাও মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, দ্রুততম সময়ে করোনার সংক্রমণ শনাক্ত করে আক্রান্তদের কোয়ারেন্টিনে নিতে শহরের সব বাসিন্দার ‘কমপ্রিহেন্সিভ নিউক্লিক অ্যাসিড টেস্ট’ সম্পন্ন করা হবে।

ফ্রান্স টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রতিবেদনে জানানো হয়, এর আগে সোমবার স্থানীয়ভাবে সাতজনের দেহে করোনা শনাক্তের খবর জানায় প্রশাসন। সংক্রমিতদের সবাই উহানে অভিবাসী শ্রমিক।

২০১৯ সালের শেষে উহানেই করোনাভাইরাসের অস্তিত্ব প্রথম শনাক্ত হয়, পরে যা রূপ নেয় বৈশ্বিক মহামারিতে। ছোঁয়াচে ভাইরাসটির বিস্তার রোধে দীর্ঘ সময় নজিরবিহীন লকডাউনে পার করে বিশ্বের অর্ধেকের বেশি জনগোষ্ঠী।

কঠোর লকডাউন ও অন্য স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করে সে সময় দ্রুতই চীনা ভূখণ্ডে ভাইরাসটির বিস্তার নিয়ন্ত্রণে আনে দেশটির সরকার।

এবার করোনার বিস্তার নিয়ন্ত্রণহীন হওয়া ঠেকাতে বিভিন্ন শহরে বাসিন্দাদের ঘর থেকে বের হওয়া নিষেধাজ্ঞা জারি, পরিবহণ ও যোগাযোগ বন্ধ করা এবং গত কয়েকদিনে গণস্বাস্থ্যপরীক্ষা কার্যক্রমসহ নানা ব্যবস্থা নিয়েছে প্রশাসন।

চীনজুড়ে মঙ্গলবার স্থানীয় সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে ৬১ জনের দেহে। জুলাইয়ের মাঝামাঝি থেকে দেশটিতে নতুন করে করোনা শনাক্ত হয়েছে চার শতাধিক মানুষের দেহে। বিশেষ করে বিভিন্ন শহরে ছড়িয়েছে রূপ পরিবর্তিত করোনার ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট।

অধিক সংক্রামক ভিন্ন বৈশিষ্ট্যের ভাইরাসটি নানজিং শহরের বিমানবন্দরে পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের মধ্যে প্রথম শনাক্ত হয়। এরপরই হুনানসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ডেল্টা শনাক্তের খবর আসতে থাকে।

এরই মধ্যে রাজধানী বেইজিংসহ বিভিন্ন শহরে আবাসিক এলাকাগুলো ঘিরে ফেলা হয়েছে এবং সংক্রমিতদের সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের কোয়ারেন্টিনে নেয়া হয়েছে। করোনা পরীক্ষা করা হয়েছে কোটি মানুষের।

সবশেষ নানজিংয়ের নিকটবর্ত ইয়াংঝৌ শহরে বাসিন্দাদের ঘরে থাকার নির্দেশ দিয়েছে প্রশাসন। গত ২৪ ঘণ্টায় শহরটিতে গণপরীক্ষা কর্মসূচিতে ৪০ জনের দেহে করোনা শনাক্তের পর নেয়া হয় এ ব্যবস্থা।

এর ফলে ইয়াংঝৌয়ের ১৩ লাখের বেশি মানুষ ঘরবন্দি হয়ে পড়েছে। দৈনন্দিন জরুরি কেনাকাটার জন্য প্রতি পরিবারের একজন প্রতিদিন বাড়ির বাইরে যাওয়ার অনুমতি পাবে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।

হুনান প্রদেশে পর্যটন শহর ঝাংজিয়াজি ও নিকটবর্তী ঝুঝৌ শহরেও গত কয়েক দিনে একইরকম ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। শহর দুটিতে জনসংখ্যা ২০ লাখের বেশি।

শেয়ার করুন

পার্লামেন্টের বক্তব্যে সংযমী হোন: দলীয় এমপিদের মোদি

পার্লামেন্টের বক্তব্যে সংযমী হোন: দলীয় এমপিদের মোদি

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ছবি: সংগৃহীত

ভারতে এক সপ্তাহের মধ্যে দুবার পার্লামেন্টে অচলাবস্থা সৃষ্টির জন্য নরেন্দ্র মোদি সরাসরি দায়ী করেছেন কংগ্রেসকে। অধিবেশনে কংগ্রেস কোনো কাজ করতে দিচ্ছে না বলে তিনি গত সপ্তাহে অভিযোগ করেছিলেন।

ভারতের পার্লামেন্টে বর্ষাকালীন অধিবেশন শুরু থেকেই উত্তাল। নানা ইস্যুতে বিরোধী দলের প্রতিবাদ চলছে। বিরোধীদের বিক্ষোভের মুখে দলীয় সহকর্মীদের সংসদে সংযম বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

পেগাসাস কেলেঙ্কারি, কৃষি বিল, পেট্রোপণ্যের মূল্যবৃদ্ধিসহ একাধিক ইস্যুতে ভারতের পার্লামেন্টে সরব কংগ্রেসসহ সব বিরোধী দল। উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে বারবার লোকসভা ও রাজ্যসভার অধিবেশন মুলতবি করে দিতে হচ্ছে।

সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি মঙ্গলবার এক বৈঠকে বিরোধীদের ‘আচরণ’ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

বিজেপির সংসদ সদস্যদের (এমপি) সাপ্তাহিক বৈঠক হয় এদিন সকালে। বর্ষাকালীন অধিবেশন বারবার মুলতবি হয়ে যাওয়ার প্রসঙ্গে বৈঠকে মোদি বলেন, ‘এটা সংসদের অপমান, সংবিধানের অপমান, গণতন্ত্রের অপমান, মানুষের অপমান।’

দলীয় সহকর্মীদের প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সংসদে বিরোধী বিক্ষোভের মুখে সংযম বজায় রাখতে হবে। সংসদের মর্যাদা রক্ষার জন্য সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।’

বৈঠকের তথ্য ও প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য সম্পর্কে সাংবাদিকদের জানান বিজেপির সংসদীয় মন্ত্রী প্রহ্লাদ যোশী। বিজেপি সাংসদদের এ বৈঠকে অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন দেশের আর্থিক পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করেন।

এক সপ্তাহের মধ্যে দুবার পার্লামেন্টে অচলাবস্থা সৃষ্টির জন্য নরেন্দ্র মোদি সরাসরি দায়ী করেছেন কংগ্রেসকে। অধিবেশনে কংগ্রেস কোনো কাজ করতে দিচ্ছে না বলে তিনি গত সপ্তাহে অভিযোগ করেছিলেন।

এদিকে পার্লামেন্টে সরকারবিরোধী অবস্থান জোরদার করতে ও বিজেপি-আরএসএস বিরোধী ঐক্য গড়ে তুলতে মঙ্গলবার সকালেই এক বৈঠকে বসেন রাহুল গান্ধী। বিভিন্ন দলের প্রতিনিধির সঙ্গে বৈঠকের পর পেট্রোপণ্যের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে সাইকেল চালিয়ে পার্লামেন্টে যান রাহুল।

পার্লামেন্টে অচলাবস্থার বিষয়ে শুধু প্রধানমন্ত্রী নন, লোকসভার অধ্যক্ষ ওম বিড়লাও কথা বলেছেন। তার চেয়ার লক্ষ্য করে বেশ কয়েকজন বিরোধী এমপি কাগজ ছুড়েছিলেন।

অধ্যক্ষ ওম বিড়লা এমপিদের সেই আচরণকে ‘অত্যন্ত দুঃখজনক’ বলে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, ‘এমপিরা কয়েক লাখ মানুষের প্রতিনিধিত্ব করেন। পার্লামেন্টের নীতি মেনে চলা ও গৌরব বৃদ্ধি করা তাদের কর্তব্য।

‘যেকোনো সমস্যা আলোচনার মাধ্যমে মেটানো উচিত। এই চেয়ারের বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগ থাকলে সরাসরি আমার চেম্বারে আসুন। পেপার ছোড়ার মতো ঘটনা কখনোই গ্রহণযোগ্য নয়।’

শেয়ার করুন