ইংল্যান্ডে ৪ সপ্তাহ পেছাল স্বাস্থ্যবিধি শিথিল

ইংল্যান্ডে ৪ সপ্তাহ পেছাল স্বাস্থ্যবিধি শিথিল

বরিস জনসন জানান, পূর্বনির্ধারিত তারিখ ২১ জুন চতুর্থ ও শেষ ধাপের লকডাউন প্রত্যাহার করা হলে টিকা কার্যক্রমের তুলনায় ছাড়িয়ে যেতে পারে ভাইরাস সংক্রমণের সংখ্যা। সে ক্ষেত্রে আবারও প্রাণহানি বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

ইংল্যান্ডে শেষ ধাপে লকডাউন শিথিলের তারিখ চার সপ্তাহ পিছিয়ে ১৯ জুলাই করা হয়েছে। এর ফলে ২১ জুন থেকে করোনাকালীন যেসব স্বাস্থ্যবিধি উঠে যাওয়ার কথা ছিল, সেগুলো বহাল থাকছে।

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন জানিয়েছেন, দুই সপ্তাহ পর পরিস্থিতি আবার পর্যালোচনা করা হবে।

১৯ জুলাইয়ের পর স্বাস্থ্যবিধি বহাল রাখার দরকার হবে না বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।

কিন্তু পরে ডাউনিং স্ট্রিটে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তারিখ পেছানোর সম্ভাবনা পুরোপুরি উড়িয়ে দেয়ার উপায় নেই বলেও জানান তিনি।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, ২১ জুন স্বাস্থ্যবিধি পুরোপুরি প্রত্যাহার করা হলে হাসপাতালে করোনা রোগী ভর্তির সংখ্যা আবারও বাড়ার শঙ্কা রয়েছে বলে সরকারকে সতর্ক করেছেন বিজ্ঞানীরা।

করোনাভাইরাসের ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টে (যেটি ভারতে প্রথম শনাক্ত হয়েছিল) যুক্তরাজ্যে সংক্রমণ বাড়তে শুরু করায় এ সতর্কতা জারি করা হয়।

বরিস জনসন জানান, পূর্বনির্ধারিত তারিখ ২১ জুন চতুর্থ ও শেষ ধাপের লকডাউন প্রত্যাহার করা হলে টিকা কার্যক্রমের তুলনায় বেড়ে যেতে পারে ভাইরাস সংক্রমণের সংখ্যা। সে ক্ষেত্রে আবারও প্রাণহানি বৃদ্ধির আশঙ্কা রয়েছে।

কিন্তু লকডাউন শিথিলে বিলম্বের ফলে আরও বেশিসংখ্যক মানুষকে করোনাভাইরাস প্রতিরোধী টিকা দেয়ার সময় পাবে ব্রিটেনের জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা সংস্থা এনএইচএস।

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘করোনার নতুন সংক্রমণ শনাক্তের বিপরীতে গুরুতর অসুস্থ বা হাসপাতালে রোগীর ভর্তির সংখ্যা এখনও নিম্নমুখী আছে।

‘আমরা প্রতিদিনই পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করব। এ ধারা অব্যাহত থাকলে দুই সপ্তাহ পর আমরা ধরে নেব যে ঝুঁকি কেটে গেছে। এরপর পূর্ণাঙ্গ রূপে অর্থনীতি সচল ও লকডাউন শিথিলের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘একটা সময়ে আমরা এই ভাইরাসের সঙ্গে পুরোপুরি খাপ খাইয়ে নিতে শিখব।’

পার্লামেন্টের হাউজ অফ কমন্সে ব্রিটিশ স্বাস্থ্যমন্ত্রী ম্যাট হ্যানকক জানান, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে টিকা কার্যক্রমের গতি আরও জোরদার করতে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। বিশেষ করে মঙ্গলবার থেকে ইংল্যান্ডে ২৩ ও ২৪ বছর বয়সীদেরও টিকা দেয়া শুরু হচ্ছে।

শেষ ধাপের স্বাস্থ্যবিধি শিথিল হলে বিয়ের মতো আয়োজনে সামাজিক দূরত্বের নির্দেশনা থাকলেও অতিথির সংখ্যা সীমিত রাখার নির্দেশনা উঠে যাবে। প্রতি টেবিলে ছয়জনের বেশি বসা যাবে না এবং বদ্ধ জায়গায় নাচা যাবে না।

প্রবীণ নিবাস কেন্দ্রেও নিয়মনীতি শিথিল হবে।

১৯ জুলাইয়ের মধ্যে দুই ডোজ টিকাই নিয়ে নেবেন যুক্তরাজ্যে প্রাপ্তবয়স্ক ও করোনার ঝুঁকিতে থাকা জনগোষ্ঠীর দুই-তৃতীয়াংশ। এরপর ইংল্যান্ডে চল্লিশোর্ধ্বদের দুই ডোজ টিকা নেয়ার মধ্যে সময়ের ব্যবধান ১২ সপ্তাহ থেকে ৮ সপ্তাহে নামিয়ে আনা হবে।

আরও পড়ুন:
‘ইউকে ৯৪’ গ্রুপের সদস্যদের জমজমাট পুনর্মিলনী
যুক্তরাজ্যে আসছে কোলাকুলি আড্ডার সময়
জাতিসংঘে সাহায্য কমানোর সাফাই যুক্তরাজ্যের
লকডাউনে জন্মনিয়ন্ত্রণে ধস, রেকর্ড নবজাতকের শঙ্কা
ইংল্যান্ডে খুলেছে পাব, সেলুন

শেয়ার করুন

মন্তব্য

এবার ফাইজারের টিকা যাবে জেলা-উপজেলায়

এবার ফাইজারের টিকা যাবে জেলা-উপজেলায়

ভ্যাকসিন ডেপ্লয়মেন্ট কমিটির সদস্য সচিব শামসুল হক বলেন, ‘ফাইজারের টিকা জেলা-উপজেলায় দেয়ার জন্য আমাদের কাছে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। আমরা সব প্রস্তুতি নিয়েছি। প্রশিক্ষণও বুধবার শেষ হয়েছে। মহাপরিচালক এ বিষয়ে নির্দেশনা পেলে দ্রুত সময়ের মধ্যে টিকাদান শুরু হবে।’

করোনাভাইরাস প্রতিরোধী ফাইজার-বায়োএনটেকের টিকা এবার রাজধানীর বাইরের জেলা-উপজেলায় দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। ইতোমধ্যে জেলা-উপজেলার স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রশিক্ষণও দেয়া হয়েছে। নির্ধারণ করা হয়েছে টিকা রাখার সংরক্ষণাগার। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী সপ্তাহেই ঢাকার বাইরে প্রথমবারের মতো ফাইজার টিকা পাওয়া যাবে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দেশে করোনাভাইরাস প্রতিরোধে গণটিকা কার্যক্রম শুরু হয় গত ফেব্রুয়ারিতে। তাপমাত্রা জটিলতার কারণে অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা দিয়েই টিকা কর্মসূচি শুরু হয়।

পরে ৩১ মে কোভ্যাক্স থেকে ফাইজারের ১ লাখ ৬২০ ডোজ টিকা দেশে আসে। এই টিকা সংরক্ষণ জটিলতায় শুধুমাত্র রাজধানীর সাতটি হাসপাতালে দেয়া হয়। তবে এখন এই সংকট কেটে গেছে।

অতি নিম্ন তাপমাত্রার টিকা সংরক্ষণে কোভ্যাক্স সুবিধার আওতায় ২৬টি ফ্রিজার আসছে। তাই সরকার এবার ফাইজারের টিকা জেলা-উপজেলা পর্যায়েও নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আগামী মাসে ফাইজারের ৬০ লাখ টিকা দেশে আসবে। এই টিকা দেয়ার আগে নানা পরিকল্পনা করছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। ঢাকার পাশাপাশি এবার এই টিকা পাবেন জেলা-উপজেলার মানুষ।’

ফাইজারের টিকা জেলায় পর্যায়ে সংরক্ষণ করা যাবে কিনা জানতে চাইলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এই কর্মকর্তা বলেন, ‘আমরা ফাইজার মডার্নার টিকা সংরক্ষণের জন্য কোভ্যাক্স সুবিধার আওতায় অতি নিম্ন তাপমাত্রার ২৬টি ফ্রিজার পেয়েছি। এই ২৬টি ফ্রিজারে প্রায় ৯০ লাখ টিকা সংরক্ষণ করা যাবে। তাই এই টিকা সংরক্ষণের জটিলতা আর নেই।’

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ভ্যাকসিন ডেপ্লয়মেন্ট কমিটির সদস্য সচিব শামসুল হক নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ফাইজারের টিকা জেলা-উপজেলায় দেয়ার জন্য আমাদের কাছে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। আমরা সব প্রস্তুতি নিয়েছি। প্রশিক্ষণও বুধবার শেষ হয়েছে।

‘মহাপরিচালক এ বিষয়ে নির্দেশনা পেলে দ্রুত সময়ের মধ্যে টিকাদান শুরু হবে। ফাইজারের আরও কিছু টিকা আসার কথা রয়েছে। সেগুলো আসলেই শুরু করা যাবে।

তিনি বলেন, ‘ইতোমধ্যে চীনের টিকাগুলো জেলা-উপজেলা সব জায়গায় পাঠিয়ে দিয়েছি। ফাইজারের টিকা জেলা-উপজেলায় দেয়ার জন্য পরিকল্পনা অনুযায়ী আগাচ্ছি।’

টিকা দেশে আসলেও প্রয়োগে দেরির কারণ ব্যাখ্যা করে শামসুল হক বলেন, ‘ফাইজার টিকা সব জায়গায় সংরক্ষণ করা যায় না। অনেক সিলেকশন করে আমাদের এই টিকা নিয়ে যেতে হচ্ছে। সব টিকাকেন্দ্র এই টিকা নেয়া যাবে না। আবার ঢাকার বাইরেও এই টিকা নিতে চাচ্ছি।

‘টিকাকেন্দ্র নির্বাচন করা, তাদের প্রশিক্ষণ দেয়া অনেক জটিল বিষয়। জেলা-উপজেলায় এই টিকা সংক্ষণের বিষয়ে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে এ বিষয়ে স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রশিক্ষণ শেষ হয়েছে।’

মূলত ফাইজারের টিকা সংরক্ষণ করতে মাইনাস ৬০ থেকে ৭০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার ফ্রিজার দরকার হয়। এই ফ্রিজার পাওয়ায় কোভ্যাক্স সুবিধার আওতায় পাওয়া ফাইজার টিকা সংরক্ষণে অসুবিধা অনেকটাই দূর হবে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, দেশে করোনাভাইরাস প্রতিরোধে চার ধরনের টিকা ব্যবহার করা হচ্ছে। গোড়াতে অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা দিয়ে শুরু হয় গণটিকা কার্যক্রম। ধাপে ধাপে মডার্না, ফাইজার, সিনোফার্ম এসেছে। অ্যাস্ট্রাজেনেকা ও সিনোফার্মের টিকা সংরক্ষণ করতে হয় প্লাস দুই ডিগ্রি থেকে আট ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড তাপমাত্রায়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এসব টিকা সংরক্ষণ করা হচ্ছে বেক্সিমকো, ইনসেপ্টা ও বিএসডিসি ওয়্যারহাউসে। এসব হাউসে সব মিলিয়ে তিন কোটি টিকা সংরক্ষণ সম্ভব।

মডার্নার টিকা মাইনাস ২৫ সেন্টিগ্রেডে রাখা হয়। তবে এটিকে একবার গলানোর পর দুই থেকে আট ডিগ্রি সেন্টিগ্রেডে সরক্ষণ করা যায় এক মাস পর্যন্ত। এ টিকা দেশে এক কোটি ৫০ লাখ ডোজ সংরক্ষণ করা যাবে।

এছাড়া ফাইজার মাইনাস ৭০ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড তাপমাত্রায় সংগ্রহ করতে হয়। আর এটি গলানোর পর প্লাস দুই থেকে আট ডিগ্রি সেন্টিগ্রেডে সংরক্ষণ করা সম্ভব।

দেশে বর্তমানে এই টিকার ৩৫ লাখ ডোজ সংরক্ষণের সক্ষমতা আছে। ২৬টি ফ্রিজার যোগ হওয়ার পর এই সক্ষমতা দাঁড়াবে ১ কোটি ২৫ লাখে ডোজে।

আরও পড়ুন:
‘ইউকে ৯৪’ গ্রুপের সদস্যদের জমজমাট পুনর্মিলনী
যুক্তরাজ্যে আসছে কোলাকুলি আড্ডার সময়
জাতিসংঘে সাহায্য কমানোর সাফাই যুক্তরাজ্যের
লকডাউনে জন্মনিয়ন্ত্রণে ধস, রেকর্ড নবজাতকের শঙ্কা
ইংল্যান্ডে খুলেছে পাব, সেলুন

শেয়ার করুন

৬ মাস ধরে বিকল ডিজিটাল এক্স-রে মেশিন, ভোগান্তিতে রোগী

৬ মাস ধরে বিকল ডিজিটাল এক্স-রে মেশিন, ভোগান্তিতে রোগী

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের এক্স-রে মেশিন নষ্ট হওয়ায় ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন রোগীরা। ছবি: নিউজবাংলা

শহরের কাজী পাড়া এলাকার মন্তাজ মিয়া বলেন, ‘বারান্দা থেকে পড়ে হাতের কনুইতে ব্যথা পেয়েছি। ডাক্তার এক্স-রে করাতে বলেছেন। কিন্তু এখানে এক্স-রে করার সুযোগ নেই। তাই বাধ্য হয়ে প্রাইভেট ক্লিনিকে যেতে হচ্ছে।’

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের ডিজিটাল এক্স-রে মেশিনটি ছয় মাস ধরে নষ্ট হয়ে পড়ে আছে। এতে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন সেবাপ্রার্থীরা। বেশি টাকায় বেসরকারি হাসপাতাল বা ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে এক্স-রে করাতে হচ্ছে রোগীদের।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ২০১৬ সালের মাঝামাঝি ডিজিটাল ৫০০ এমএম এক্স-রে মেশিনটি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে বরাদ্দ দেয় স্বাস্থ্য বিভাগ। বেঙ্গল সায়েন্টিফিক অ্যান্ড সার্জিক্যাল কোম্পানি নামের একটি প্রতিষ্ঠান হাসপাতালে এই মেশিনটি বসায়।

চালুর পর দুই থেকে তিনবার যন্ত্রটিতে সমস্যা দেখা দিলে তা মেরামত করে দেয় প্রতিষ্ঠানটি। এরপর গত ৩০ মার্চ এক্স-রে মেশিনটির ফিল্ম প্রিন্ট করার অংশে সমস্যা দেখা দেয়। এই অংশের মেরামতের জন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ওই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করলেও তা মেরামত করতে ব্যর্থ হন বেঙ্গল সায়েন্টিফিকের প্রকৌশলীরা। মেশিনটির নষ্ট হওয়া যন্ত্রাংশ বাংলাদেশে নেই বলে মেরামত সম্ভব নয় বলে জানায় প্রতিষ্ঠানটি। পাশাপাশি মেরামতের ওয়ারেন্টির সময়সীমাও শেষ হয়ে গেছে বলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়।

রোগীরা এক্স-রে পরীক্ষার জন্য গেলে মেশিন বিকল জানিয়ে তাদের বাইরে থেকে করানোর পরামর্শ দেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিন গড়ে ৭০ থেকে ৮০টি ডিজিটাল এক্স-রে পরীক্ষা হতো। এর মধ্যে সিঙ্গেল এক্স-রে পরীক্ষার জন্য ২০০ টাকা এবং ডাবল এক্স-রে পরীক্ষা জন্য ৪০০ টাকা নেয়া হতো। এভাবে প্রতি মাসে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সরকারি কোষাগারে কয়েক লাখ টাকা জমা দিতেন। মেশিনটি বিকল হয়ে পড়ায় সরকারি কোষাগারে কোনো অর্থ জমা পড়ছে না। এতে সরকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টায় হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, বহির্বিভাগের নারী ও পুরুষ কাউন্টার দুটিতে তখন পর্যন্ত বিভিন্ন উপজেলা ও গ্রাম থেকে ২২০ জন রোগী চিকিৎসা নেয়ার জন্য টিকিট কেটেছেন। তাদের অনেকেরই ব্যবস্থাপত্রে চিকিৎসক ডিজিটাল এক্স-রে করানোর জন্য লিখে দিয়েছেন।

চিকিৎসা নিতে আসা চিনাইরের বাসিন্দা ফজলু মিয়া বলেন, ‘খেলতে গিয়ে আমার ছোট মেয়ে ব্যথা পেয়ে পা ফুলে গেছে। ডাক্তার পায়ের ডিজিটাল এক্স-রে করাতে বলছেন। এসে শুনি হাসপাতালের এক্স-রে মেশিন নষ্ট। তাই ১ হাজার টাকা দিয়ে শহরের মর্ডান ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে মেয়ের এক্স-রে করেছি। অথচ সরকারি হাসপাতালে একই পরীক্ষার ফি ৪০০ টাকা।’

শহরের কাজী পাড়া এলাকার মন্তাজ মিয়া বলেন, ‘বারান্দা থেকে পড়ে হাতের কনুইতে ব্যথা পেয়েছি। ডাক্তার এক্স-রে করাতে বলেছেন। কিন্তু এখানে এক্স-রে করার সুযোগ নেই। তাই বাধ্য হয়ে প্রাইভেট ক্লিনিকে যেতে হচ্ছে।’

হাসপাতালের মেডিক্যাল টেকনোলজিস্ট জহিরুল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বেঙ্গল সায়েন্টিফিক অ্যান্ড সার্জিক্যাল কোম্পানির প্রকৌশলী বলেছেন, বিকল এক্স-রে মেশিনের যন্ত্রাংশ মেরামতের ওয়ারেন্টির সময়সীমা শেষ হয়ে গেছে। কিন্তু গত মাসে স্বাস্থ্য বিভাগ এক চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছে, মেরামতের সময়সীমা চলতি বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত রয়েছে। যোগাযোগ করলে এক্স-রে যন্ত্র মেরামত করে দেবে বলে জানিয়েছে ওই প্রতিষ্ঠান।’

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক মো. ওয়াহীদুজ্জামান বলেন, ‘যে কোম্পানি এটি দিয়েছিল, ওই কোম্পানি আর ব্যবসা করে না। তারপরেও সেই কোম্পানির প্রকৌশলীদের সঙ্গে কথা হয়েছে। যদি তারা আসে তাহলে দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে ঠিক হয়ে যাবে। তবে হাসপাতালের অ্যানালগ মেশিন চালু আছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘কোম্পানির লোকজন যদি না আসে, তাহলে ডিসেম্বরের আগে মেরামত সম্ভব না। আর যদি মেরামত না হয়, তাহলে আরেকটি নতুন মেশিন কিনতে হবে। তবে এখন নতুন মেশিন কেনার মতো অর্থ আমাদের কাছে নেই।’

আরও পড়ুন:
‘ইউকে ৯৪’ গ্রুপের সদস্যদের জমজমাট পুনর্মিলনী
যুক্তরাজ্যে আসছে কোলাকুলি আড্ডার সময়
জাতিসংঘে সাহায্য কমানোর সাফাই যুক্তরাজ্যের
লকডাউনে জন্মনিয়ন্ত্রণে ধস, রেকর্ড নবজাতকের শঙ্কা
ইংল্যান্ডে খুলেছে পাব, সেলুন

শেয়ার করুন

টিকা নিবন্ধনের নির্দেশ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের

টিকা নিবন্ধনের নির্দেশ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের

যারা ইতোমধ্যেই টিকার প্রথম ও দ্বিতীয় ডোজ গ্রহণ করেছেন তাদের তথ্য জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠানোর জন্য বলা হয়েছে।

আগামী ২৭ সেপ্টেম্বরের মধ্যে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সব শিক্ষার্থীকে করোনাভাইরাসের টিকা নিবন্ধনের নির্দেশ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। সরকার ঘোষিত নির্দিষ্ট তারিখের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় খুলে দিতেই এ নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার জাতীয় বিশ্ববিদ্যালযয়ের এ সংক্রান্ত জরুরি নির্দেশনা অধিভুক্ত সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠানো হয়েছে।

নির্দেশনায় বলা হয়, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সব শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী এবং অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের করোনার টিকা গ্রহণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। যারা এখনও টিকা গ্রহণ করেননি তাদের আগামী ২৭ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সুরক্ষা অ্যাপে নিবন্ধন সম্পন্ন করে টিকা গ্রহণ করতে হবে।

আরও বলা হয়েছে, যেসব শিক্ষার্থীর বয়স ১৮ বা তার বেশি এবং যাদের জাতীয় পরিচয়পত্র নেই, তাদেরকে ২১ সেপ্টেম্বরের মধ্যে জন্মনিবন্ধন সনদের নম্বর এই লিংকে- http://103.113.200.28/student_covidinfo/ প্রবেশ করাতে হবে। সনদপ্রাপ্তি সাপেক্ষে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থী যেন স্থানীয় পর্যায়ে টিকা পান তার জন্য জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় যথাযথ পদক্ষেপ নেবে।

এ ছাড়া যারা ইতোমধ্যেই টিকার প্রথম ও দ্বিতীয় ডোজ গ্রহণ করেছেন তাদের তথ্য জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠানোর জন্য বলা হয়েছে।

এর আগে গত ১৪ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) ও বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যদের সঙ্গে বৈঠক করেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। সেখানে আগামী ২৭ সেপ্টেম্বরের মধ্যে দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের টিকার নিবন্ধন শেষ করার নির্দেশনা দেয়া হয়। এরপর বিশ্ববিদ্যালয়গুলো নিজ নিজ একাডেমিক কাউন্সিল ও সিন্ডিকেটের অনুমোদন নিয়ে পাঠদান কার্যক্রম শুরু এবং আবাসিক হল খুলে দিতে পারবে।

আরও পড়ুন:
‘ইউকে ৯৪’ গ্রুপের সদস্যদের জমজমাট পুনর্মিলনী
যুক্তরাজ্যে আসছে কোলাকুলি আড্ডার সময়
জাতিসংঘে সাহায্য কমানোর সাফাই যুক্তরাজ্যের
লকডাউনে জন্মনিয়ন্ত্রণে ধস, রেকর্ড নবজাতকের শঙ্কা
ইংল্যান্ডে খুলেছে পাব, সেলুন

শেয়ার করুন

আরও ৫১ মৃত্যু, শনাক্তের হার কমে পাঁচের ঘরে

আরও ৫১ মৃত্যু, শনাক্তের হার কমে পাঁচের ঘরে

প্রতীকী ছবি

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশনা অনুযায়ী, যদি কোনো দেশে করোনা শনাক্তের হার ৫ শতাংশের নিচে থাকে, আর সেটা যদি দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে একই পরিস্থিতিতে থাকে, তাহলে করোনা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে এসেছে বলে ধরে নেয়া যায়। সে জন্য বাংলাদেশকে আরও দুই সপ্তাহ অপেক্ষা করতে হবে।

দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৫১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ সময় ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে এক হাজার ৮৬২ জনের শরীরে, যা মোট নমুনার ৫.৯৮ শতাংশ।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বৃহস্পতিবারের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এ পর্যন্ত করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে ১৫ লাখ ৩৮ হাজার ২০৩ জনের দেহে। এর মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ২৭ হাজার ১০৯ জনের।

দেশে করোনাভাইরাস পরিস্থিতি অনেকটা নিয়ন্ত্রণে চলে এসেছে। গত শুক্রবার নমুনা পরীক্ষার বিপরীতে সংক্রমণের হার ছিল ৭ দশমিক ৯১ শতাংশ। শনিবার ২৪ ঘণ্টায় ছিল ৭ দশমিক ০৩ শতাংশ। রোববার শনাক্তের হার ৭ দশমিক ৪৬ শতাংশ ছিল। সোমবার শনাক্তের হার ৭ দশমিক ৬৯ শতাংশ।

দেশে গত দেড় মাস ধরে মৃত্যু ও শনাক্ত নিম্নমুখী।

গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের ৮০৮টি ল্যাবে ৩১ হাজার ১৪৯টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষা বিবেচনায় শনাক্ত হার ৫ দশমিক ৯৮ শতাংশ।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশনা অনুযায়ী, যদি কোনো দেশে করোনা শনাক্তের হার ৫ শতাংশের নিচে থাকে, আর সেটা যদি দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে একই পরিস্থিতিতে থাকে, তাহলে করোনা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে এসেছে বলে ধরে নেয়া যায়। সে জন্য বাংলাদেশকে আরও দুই সপ্তাহ অপেক্ষা করতে হবে।

গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা থেকে মুক্ত হয়েছেন ৩ হাজার ৫৪৯ জন। এখন পর্যন্ত সুস্থ হয়েছেন ১৪ লাখ ৯৪ হাজার ৯০ জন। সুস্থতার হার ৯৭ দশমিক ১৩।

গত ২৪ ঘণ্টায় মৃতদের মধ্যে পুরুষ ২৫ ও নারী ২৬ জন। মৃত্যুর হার ১ দশমিক ৭৬ শতাংশ।

গত এক দিনে মৃতদের মধ্যে একটি শিশু আছে। বাকিদের মধ্যে বিশোর্ধ্ব ১, ত্রিশোর্ধ্ব ৪, চল্লিশোর্ধ্ব ৩, পঞ্চাশোর্ধ্ব ১৪, ষাটোর্ধ্ব ১৯, সত্তরোর্ধ্ব ৭ ও অশীতিপর দুজন রয়েছেন।

বিভাগ অনুযায়ী, সর্বোচ্চ ২৯ জনের মৃত্যু হয়েছে ঢাকা বিভাগে। এ ছাড়া চট্টগ্রাম বিভাগে ৮, খুলনায় ৬, বরিশালে ৩, রাজশাহীতে ৪ ও রংপুরে একজনের মৃত্যু হয়েছে।

করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে গত মার্চ থেকে ভারতীয় ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট ছড়িয়ে পড়ার মাস পাঁচেক পর পরিস্থিতির উন্নতির চিত্র দেখা যাচ্ছে। গত কয়েক দিন ধরেই ধারাবাহিকভাবে কমছে মৃত্যু ও শনাক্তের সংখ্যা। সেই সঙ্গে কমছে শনাক্তের হার।

চলতি বছরের এপ্রিল, মে, জুন ও জুলাই মাসে পরীক্ষার বিপরীতে শনাক্তের হার ২০ শতাংশ ছাড়িয়ে যায়। একপর্যায়ে তা ৩০ শতাংশও হয়ে যায়। এ অবস্থায় এপ্রিলে লকডাউন ও পরে জুলাইয়ে দেয়া হয় শাটডাউন নামে বিধিনিষেধ।

গত ১১ আগস্ট থেকে বিধিনিষেধ প্রত্যাহার করা হলেও এরপর থেকে রোগী ও মৃত্যু ধীরে ধীরে কমে আসছে। শাটডাউন চলাকালে নিয়মিতভাবে ২৪ ঘণ্টায় আড়াই শর বেশি মানুষের মৃত্যুর তথ্য এসেছে। এ ছাড়া করোনার উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন আরও অনেকে।

আরও পড়ুন:
‘ইউকে ৯৪’ গ্রুপের সদস্যদের জমজমাট পুনর্মিলনী
যুক্তরাজ্যে আসছে কোলাকুলি আড্ডার সময়
জাতিসংঘে সাহায্য কমানোর সাফাই যুক্তরাজ্যের
লকডাউনে জন্মনিয়ন্ত্রণে ধস, রেকর্ড নবজাতকের শঙ্কা
ইংল্যান্ডে খুলেছে পাব, সেলুন

শেয়ার করুন

কোভিড হাসপাতালে কমেছে চাপ, বেশির ভাগ শয্যা ফাঁকা

কোভিড হাসপাতালে কমেছে চাপ, বেশির ভাগ শয্যা ফাঁকা

দেশের সবচেয়ে বড় করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতাল রাজধানীর ডিএনসিসি কোভিড হাসপাতালের সাধারণ শয্যায় এখন কোনো রোগী নেই। ছবি: নিউজবাংলা

দেশের সবচেয়ে বড় করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতাল রাজধানীর ডিএনসিসি কোভিড হাসপাতালে সাধারণ শয্যায় কোনো রোগী ভর্তি নেই। এক হাজারের বেশি শয্যার হাসপাতালটিতে এখন মাত্র ১১৯ জন রোগী ভর্তি রয়েছেন। তার সবাই এখন আইসিইউতে।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ধীরে ধীরে কমে আসায় দেশের কোভিড হাসপাতালগুলোতে ৮২ শতাংশ শয্যাই এখন ফাঁকা। নতুন রোগী আসছে খুব কম। এতে চাপ কমেছে চিকিৎসক ও নার্সদেরও; ফিরছে স্বস্তি।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, করোনা রোগীর সেবায় ১৫ হাজার ৬১৬টি শয্যার মধ্যে বর্তমানে ১২ হাজার ৭৭৫টি শয্যা খালি পড়ে আছে। কমে আসছে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রের (আইসিইউ) শয্যার চাহিদাও। দেশের ৬২ শতাংশ আইসিইউ বেড এখন ফাঁকা। করোনা রোগীর সেবায় ১ হাজার ৩১৪টি আইসিইউ থাকলেও বর্তমানে ফাঁকা রয়েছে ৮১৫টি।

রাজধানীর হাসপাতালগুলোতে ৩ হাজার ৮৯০ শয্যার মধ্যে ফাঁকা ২ হাজার ৭৮৩টি, যা শতাংশ হিসেবে ৭১ শতাংশ। আর ৩৮২টি আইসিইউ বেডের মধ্যে ফাঁকা ১৭৬টি, ৪৬ শতাংশ।

তবে সরকারির চেয়ে বেসরকারি হাসপাতালে করোনারোগীর জন্য শয্যা সংখ্যা কম ফাঁকা। বেসরকারি হাসপাতালে খালি পড়ে থাকা শয্যার সংখ্যা ২৭ শতাংশ। আর আইসিইউ ফাঁকা ৩২ শতাংশ।

ডিএনসিসি হাসপাতালের সাধারণ শয্যায় রোগী নেই

দেশের সবচেয়ে বড় করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতাল রাজধানীর ডিএনসিসি কোভিড হাসপাতালে সাধারণ শয্যায় কোনো রোগী ভর্তি নেই। এক হাজারের বেশি শয্যার হাসপাতালটিতে এখন মাত্র ১১৯ জন রোগী ভর্তি রয়েছেন। তাদের সবাই আইসিইউতে।

এক মাস ধরে এই হাসপাতালে করোনারোগী কমছে তো কমছেই। বিশাল হাসপাতালে এখন সুনশান নীরবতা। এই হাসপাতালে নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলার দায়িত্বে বিভিন্ন রোস্টারে ৭৪ জন আনসার সদস্য দায়িত্ব পালন করেন।

তাদের একজন হাবিবুর রহমান বুধবার বিকেলে নিউজবাংলাকে জানান, আগের তুলনায় অনেক কম রোগী আসে এখন। সকাল থেকে এ পর্যন্ত কোনো রোগী আসেনি। মূলত গত এক মাস থেকে রোগী আসার প্রবণতা কমে আসছে। জুলাইয়ের শেষের দিকে এই হাসপাতালের সামনে সারি সারি অ্যাম্বুলেন্স থাকত। রোগীদের সামাল দিতে হিমশিম খেতে হয়েছে। এখন ওভাবে নতুন রোগী নেই বললেই চলে।

রোগী কম থাকায় মানুষের আনাগোনাও কম। ফলে এসব আনসার সদস্য এখন অনেকটাই অলস সময় পার করেন। মোবাইল নিয়ে ব্যস্ত থাকতে দেখা গেছে টিকিট কাউন্টার কর্মচারীদের।

হাসপাতালের সামনে চার থেকে পাঁচজন কর্মচারী এবং পুরাতন রোগীদের স্বজনরা অবস্থান করছিলেন। কাউন্টার, অবজারভেশন কক্ষেও নিরবতা। শুধু এ হাসপাতালেই নয় করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতালগুলোতে এখন স্বস্তির চিত্রই দেখা যায়।

ডিএনসিসি কোভিড-হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. নাসির উদ্দিন নিউজবাংলাকে জানান, গত এক মাস ধরেই রোগী ভর্তির সংখ্যা কমে আসছে। এমন পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে নতুন নির্দেশনা এসেছে। করোনা রোগীর সেবার পাশাপাশি নন-কভিড শয্যা চালু করার বিষয়ে।

তিনি বলেন, ‘এই নির্দেশনা পাওয়ার পর নতুন পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। শুধুমাত্র করোনা রোগীর চিকিৎসায় হাসপাতালটি প্রতিষ্ঠান হলেও আগামীতে সাধারণ রোগীদের চিকিৎসার দেয়া হবে। আমাদের পক্ষ থেকেও কিছু প্রস্তাব অধিদপ্তরে পাঠানো হয়েছে। অনুমতি মিললে এবং সংক্রমণ কমে আসলে ডেঙ্গু রোগীদের সেবার ব্যবস্থার পাশাপাশি এই হাসপাতালে করা হবে।’

কোভিড হাসপাতালে কমেছে চাপ, বেশির ভাগ শয্যা ফাঁকা

ধারণক্ষমতার অর্ধেকের কম রোগী রয়েছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) অস্থায়ী করোনা হাসপাতালে। আইসিইউ বেডগুলোর বেশির ভাগই ফাঁকা।

এই হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. নজরুল ইসলাম খান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘করোনা সংক্রমণ কমে আসায় কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে হাসপাতালে। আইসিইউ চাহিদা কমতির দিকে।’

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে কোভিড রোগীদের ৮৪৫ শয্যার মধ্যে ৪৭৩ শয্যা এখন ফাঁকা। তবে এই হাসপাতালের ২০টি আইসিইউ বেডের সবকটিতেই রোগী রয়েছেন।

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. নাজমুল হক বলেন, ‘গত এক সপ্তাহ ধরে শ্বাসকষ্ট নিয়ে আসা রোগীর সংখ্যা একটু কমেছে। তখন ঢাকা ও বাইরের জেলা থেকে আসা রোগীদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। রোগীর সংখ্যা কমে আসায় আগামী দুই-তিন সপ্তাহের মধ্যে এতদিন বন্ধ থাকা বিভিন্ন চিকিৎসাসেবা আবার চালু করা হবে।’

সংক্রমণ কমলেও এখনই আত্মতুষ্টির কিছু দেখছেন না স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মুখপাত্র নাজমুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘দেশে সংক্রমণের হার এখন ৬ শতাশের ঘরে। তবে এটা নিয়ে আমাদের আত্মতুষ্টির সুযোগ নেই। সংক্রমণে যে জায়গাতে আমরা অবস্থান করছি, এটা ধরে রাখা আমাদের জন্য চ্যালেঞ্জ।

‘আমার যদি সঠিকভাবে স্বাস্থ্যবিধি ও সামাজিক দূরুত্ব নিশ্চিত করতে পারি তাইলেই সংক্রমণের এই হারটি ধরে রাখা সম্ভব। এর পাশাপাশি যারা টিকার প্রথম ডোজের এসএসএস পেয়েছেন তারা দ্রুত সময়ের মধ্যে টিকা নিয়ে নেবেন।’

আরও পড়ুন:
‘ইউকে ৯৪’ গ্রুপের সদস্যদের জমজমাট পুনর্মিলনী
যুক্তরাজ্যে আসছে কোলাকুলি আড্ডার সময়
জাতিসংঘে সাহায্য কমানোর সাফাই যুক্তরাজ্যের
লকডাউনে জন্মনিয়ন্ত্রণে ধস, রেকর্ড নবজাতকের শঙ্কা
ইংল্যান্ডে খুলেছে পাব, সেলুন

শেয়ার করুন

সোফিয়া থেকে এলো ২ লাখ ৭০ হাজার টিকা

সোফিয়া থেকে এলো ২ লাখ ৭০ হাজার টিকা

বুলগেরিয়া অ্যাস্ট্রাজেনেকার যেসব টিকা কিনেছিল, তার একটা অংশ অব্যবহৃত থেকে যায়। সেটাই বাংলাদেশকে উপহার দিয়েছে তারা।

ভারত ও জাপানের পর এবার করোনা প্রতিরোধী অক্সফোর্ড–অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা আসলো পূর্ব ইউরোপের দেশ বুলগেরিয়া থেকে। যদিও তাদের টিকাদানের হার ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের সদস্য দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে কম।

বুধবার টার্কিশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে ২ লাখ ৭০ হাজার ডোজ টিকার এই চালানটি হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরে এসে পৌঁছায় বলে এক বিবৃতিতে জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বিমানবন্দরে চালানটি গ্রহণ করেন।

গত সপ্তাহে ঢাকাকে এই টিকা উপহার দেয়ার কথা ঘোষণা করে সোফিয়া।

মন্ত্রণালয় জানায়, বুলগেরিয়া অ্যাস্ট্রাজেনেকার যেসব টিকা কিনেছিল, তার একটা অংশ অব্যবহৃত থেকে যায়। সেটাই বাংলাদেশকে উপহার দিয়েছে তারা।

সূত্র জানায়, বুলগেরিয়ায় টিকা অব্যবহৃত আছে জেনে রোমানিয়ার বুখারেস্টে নিযুক্ত বাংলাদেশি রাষ্ট্রদূত দাউদ আলী বুলগেরিয়ার কাছে ওই টিকা থেকে বিক্রি বা উপহার পেতে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুরোধ জানান।

এই অনুরোধে সাড়া দিয়ে বুলগেরিয়া ২ লাখ ৭০ হাজার অ্যাস্ট্রাজেনেকা টিকা বাংলাদেশে পাঠিয়েছে।

বুলগেরিয়া এর আগে দক্ষিণ এশিয়ার দেশ ভুটানকেও টিকা উপহার দিয়েছিল।

আরও পড়ুন:
‘ইউকে ৯৪’ গ্রুপের সদস্যদের জমজমাট পুনর্মিলনী
যুক্তরাজ্যে আসছে কোলাকুলি আড্ডার সময়
জাতিসংঘে সাহায্য কমানোর সাফাই যুক্তরাজ্যের
লকডাউনে জন্মনিয়ন্ত্রণে ধস, রেকর্ড নবজাতকের শঙ্কা
ইংল্যান্ডে খুলেছে পাব, সেলুন

শেয়ার করুন

টেকনোলজিস্টের ওষুধে রাফির শরীরজুড়ে ফোসকা

টেকনোলজিস্টের ওষুধে রাফির শরীরজুড়ে ফোসকা

রাজশাহীতে টেকনোলজিস্টের দেয়া ওষুধ খেয়ে অসুস্থতায় ভুগছে সাত বছরের শিশু আব্দুর রাফি। ছবি: নিউজবাংলা

চোখ ছাড়া পুরো শরীরজুড়ে ক্ষত দেখা দিয়েছে রাফির। ফোসকা পড়লে যেমন হয়, ঠিক সে রকম ক্ষত। শরীরের কোথাও কোথাও চামড়া উঠে গেছে। ঠোটের ওপরেও ক্ষতের কারণে শিশুটি কিছু খেতে পারছে না। টানা কয়েকদিন কথাও বলতে পারেনি সে। শরীরে তার মলম লাগিয়ে রাখা হয়েছে।

দাঁতের ব্যথা সারাতে গিয়ে টেকনোলজিস্টের দেয়া ওষুধ খেয়ে এক অস্বাভাবিক অসুস্থতায় ভুগছে সাত বছরের শিশু আব্দুর রাফি। গত বৃহস্পতিবার থেকে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বিছানায় ছটফট করছে সে।

চোখ ছাড়া তার পুরো শরীরজুড়ে ক্ষত দেখা দিয়েছে। ফোসকা পড়লে যেমন হয়, ঠিক সে রকম ক্ষত। শরীরের কোথাও কোথাও চামড়া উঠে গেছে। ঠোটের ওপরেও ক্ষতের কারণে শিশুটি কিছু খেতে পারছে না। টানা কয়েকদিন কথাও বলতে পারেনি সে। শরীরে তার মলম লাগিয়ে রাখা হয়েছে।

রাজশাহীর কাঁটাখালীতে কথিত মেডিক্যাল টেকনোলজিস্টের পরামর্শে ওষুধ সেবন করে শিশুটি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

নিজেকে মেডিক্যাল টেকনোলজিস্ট দাবি করা ওই ব্যক্তির নাম মফিজুল হক। কাটাখালী বাজারে তার একটি চেম্বার আছে। সেখানে তিনি নিয়মিত রোগীদের চিকিৎসা দেন।

অভিযুক্ত মেডিক্যাল টেকনোলজিস্টের দাবি, রাজশাহী ইনস্টিটিউট অফ হেলথ টেকনোলজি (আইএইচটি) থেকে ২০০৭ সালে ডেন্টাল বিভাগ থেকে উত্তীর্ণ হয়েছেন তিনি। অবশ্য রাজশাহী আইএইচটির অধ্যক্ষ ফারহানা হক বলেছেন, ডেন্টাল বিভাগের মেডিক্যাল টেকনোলজিস্ট হিসেবে উত্তীর্ণ হলেও কেউ রোগী দেখতে পারেন না। তিনি শুধু একজন ডেন্টাল সার্জনকে সহায়তা করতে পারেন।

মফিজুল হকের চেম্বার আছে রাজশাহীর পবা উপজেলার কাটাখালী বাজারে। প্যাডে তিনি ব্যবস্থাপত্রও দেন। তার প্যাডে নিজের নামের নিচে পদবি হিসেবে লিখেছেন, মেডিক্যাল টেকনোলজিস্ট (ডেন্টাল), এফটি রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, বাংলাদেশ রাষ্ট্রীয় চিকিৎসা অনুষদ রেজিস্ট্রেশন নম্বর- ৭৬৫৩।

এই নিবন্ধন নম্বরের ব্যাপারে জানতে বাংলাদেশ রাষ্ট্রীয় চিকিৎসা অনুষদের সচিব জাহিদুর রহমান বলেন, ‘এ ধরনের কোনো নিবন্ধন নম্বর আমরা মেডিক্যাল টেকনোলজিস্টদের দেই না, যা দিয়ে তারা রোগী দেখতে পারেন। রোগী শুধু এমবিবিএস চিকিৎসক ও ডেন্টাল সার্জনরাই দেখতে পারেন। আর তাদের নিবন্ধন দেয় বাংলাদেশ মেডিক্যাল কাউন্সিল। তাই বলতেই পারি মফিজুলের ওই নিবন্ধন নম্বর ভুয়া।’

টেকনোলজিস্টের ওষুধে রাফির শরীরজুড়ে ফোসকা
রাজশাহীতে টেকনোলজিস্টের দেয়া ওষুধ খেয়ে অসুস্থতায় ভুগছে সাত বছরের শিশু আব্দুর রাফি। ছবি:সংগৃহীত

শিশু রাফির দাঁতে পোকা লাগার কারণে আগস্ট মাসের শেষের দিকে মফিজুলের চেম্বারে নিয়ে গিয়েছিলেন তার বাবা আয়নাল হক। মফিজুল হক তখন একটি দাঁত তুলে ফেলেন। এরপর কয়েকদিনেও ব্যথা না কমার কারণে আয়নাল গত ২৬ আগস্ট রাফিকে নিয়ে আবার মফিজুলের চেম্বারে যান।

আয়নাল জানান, মফিজুল তার বাচ্চাকে এনলেপটিক নামের একটি সিরাপ লিখে দেন। দিনে দুবার এই ওষুধ খাওয়াতে বলা হয়। বাড়ি যাওয়ার পর আয়নাল রাত ৮টার দিকে রাফিকে সিরাপটি খাওয়ান। এর আধাঘণ্টা পরই সারাশরীর চুলকাতে শুরু করে। সকালের মধ্যেই শরীর তার ফুলে ফোসকা পড়ে যায়।

এরপর রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বহির্বিভাগে নিয়ে রাফির চিকিৎসা করানো হয়। তারপরও কোনো উন্নতি হয়নি; বরং দিন দিন অবস্থা খারাপের দিকে যেতে থাকে। তাই গত ৯ সেপ্টেম্বর তাকে হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছে।

শিশুটির এ অবস্থা নিয়ে জানতে চাইলে মফিজুল হক বলেন, ‘এ রকম যে কেন হলো বুঝতে পারছি না। আর শিশুর বাবার সঙ্গে কথা হয়েছে। তিনি তো কাউকে বিষয়টি জানানোর কথা নয়।’ মেডিক্যাল টেকনোলজিস্ট ব্যবস্থাপত্র দিতে পারেন কি না সে প্রশ্ন তিনি এড়িয়ে যান। বাংলাদেশ রাষ্ট্রীয় চিকিৎসা অনুষদের ভুয়া নিবন্ধন নম্বর ব্যবহারের বিষয়েও মন্তব্য করেননি। তবে প্যাডে রাজশাহী মেডিক্যাল হাসপাতাল লিখে রাখার বিষয়ে তিনি দাবি করেন, সেখানে তিনি ইন্টার্নশিপ করেছেন। তাই লিখেছেন।

হাসপাতালের শিশু বিভাগের প্রধান বেলাল উদ্দিন বলেন, ‘‘বাচ্চাটাকে যে ওষুধ দেয়া হয়েছিল, সেটা খিঁচুনির। কিন্তু তার খিঁচুনি ছিল না। দাঁতব্যথা ছিল। সে কারণে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও দেখা দিয়েছে। একে ‘স্টভেন জনসন সিনড্রম’ বলে। বাচ্চাটার শারীরিক অবস্থা খুবই খারাপ ছিল। এখন একটু ইমপ্রুভ করছে।’’

শিশুটির বাবা আয়নাল হক জানান, মঙ্গলবার তার ছেলের অপচিকিৎসার ব্যাপারে তিনি মামলা করার জন্য কাটাখালী থানায় গিয়েছিলেন। কাটাখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিদ্দিকুর রহমান তাকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অভিযোগ দেয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। সেখানে অভিযোগ দিলে তিনি তাৎক্ষণিক ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে ব্যবস্থা নিতে পারেন।

আরও পড়ুন:
‘ইউকে ৯৪’ গ্রুপের সদস্যদের জমজমাট পুনর্মিলনী
যুক্তরাজ্যে আসছে কোলাকুলি আড্ডার সময়
জাতিসংঘে সাহায্য কমানোর সাফাই যুক্তরাজ্যের
লকডাউনে জন্মনিয়ন্ত্রণে ধস, রেকর্ড নবজাতকের শঙ্কা
ইংল্যান্ডে খুলেছে পাব, সেলুন

শেয়ার করুন