উইঘুর নিয়ে বলায় জি-সেভেন নেতাদের নিন্দা চীনের

উইঘুর নিয়ে বলায় জি-সেভেন নেতাদের নিন্দা চীনের

জি-সেভেন সম্মেলনে শিনজিয়াং ও হংকংয়ে চীনের কার্যকলাপের সমালোচনা করেন জোটের নেতারা। ছবি: এএফপি

শুক্রবার শুরু হওয়া ৩ দিনের সম্মেলন শেষে জি-সেভেনের প্রজ্ঞাপনে শিনজিয়াংয়ে জাতিগত সংখ্যালঘু মুসলমান সম্প্রদায় ও হংকংয়ে গণতন্ত্রপন্থি অধিকারকর্মীদের ওপর চীনের নির্যাতনের সমালোচনা করা হয়।

বিশ্বের ধনী দেশের জোট জি-সেভেনের সম্মেলনে উইঘুরসহ অন্যান্য মুসলমান সম্প্রদায় ও হংকংয়ে গণতন্ত্রপন্থিদের ওপর চীনের নির্যাতনের সমালোচনা করে জোটটির নেতারা। এতে চটেছে চীন; দিয়েছে কড়া বিবৃতি।

যুক্তরাজ্যে চীনের দূতাবাস সোমবার ওই বিবৃতি দেয় বলে বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

শুক্রবার শুরু হওয়া ৩ দিনের সম্মেলন শেষে জি-সেভেনের প্রজ্ঞাপনে শিনজিয়াংয়ে জাতিগত সংখ্যালঘু মুসলমান সম্প্রদায় ও হংকংয়ে গণতন্ত্রপন্থি অধিকারকর্মীদের ওপর চীনের নির্যাতনের সমালোচনা করা হয়।

জি-সেভেনের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ‘আমরা আমাদের মূল্যবোধ প্রচারে আগ্রহী। এরই অংশ হিসেবে মানবাধিকার ও মৌলিক স্বাধীনতার প্রতি সম্মান জানাতে চীনের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হচ্ছে।’

সম্মেলনে মানবাধিকার বিষয়ে আন্তর্জাতিক নীতি মেনে আরও দায়িত্বশীল আচরণ করতে চীনের প্রতি আহ্বান জানান যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন।

চীনের দূতাবাসের এক মুখপাত্র বিবৃতিতে বলেন, ‘শিনজিয়াং সংশ্লিষ্ট বিষয়কে ঘিরে রাজনৈতিক রং দেয়ার চেষ্টা করছে জি-সেভেন। পাশাপাশি চীনের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপেরও সুযোগ নিতে চাইছে তারা। আমরা এর তীব্র বিরোধিতা করি।’

বিশ্বের মানবাধিকার সংগঠনগুলো বিভিন্ন সময় বলে আসছে, শিনজিয়াংয়ের বন্দিশিবিরে প্রায় ১০ লাখ উইঘুরসহ অন্যান্য সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষকে আটকে রেখেছে চীন।

উইঘুর নিয়ে বলায় জি-সেভেন নেতাদের নিন্দা চীনের

নিউ ইয়র্কে উইঘুরদের মুক্তির দাবিতে বিক্ষোভ। ছবি: এএফপি

অন্যদিকে চীনের ভাষ্য, সন্ত্রাসবাদ ও উগ্রবাদবিরোধী পদক্ষেপের অংশ হিসেবে বন্দিশিবিরগুলোকে মূলত কারিগরি শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।

যুক্তরাজ্যের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় কর্নওয়াল কাউন্টিতে শুক্রবার থেকে টানা তিন দিনব্যাপী সম্মেলনে বসেন জি-সেভেনভুক্ত সাত দেশ কানাডা, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, জাপান, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের নেতারা। সেখানে করোনাভাইরাস প্রতিরোধী টিকা, জলবায়ু পরিবর্তন, মানবাধিকার ও বাণিজ্য নিয়ে আলোচনা হয়।

সম্মেলনে চীনে করোনার উৎস নতুন করে অনুসন্ধানেরও আহ্বান জানান জি-সেভেনের নেতারা। এ নিয়েও প্রতিক্রিয়া জানায় চীনের দূতাবাস।

দূতাবাসের পক্ষ থেকে বিবৃতিতে বলা হয়, ‘সাম্প্রতিক মহামারি এখনও বিশ্বব্যাপী দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। বৈশ্বিক বিজ্ঞানীদের অংশগ্রহণেই করোনার উৎস সংক্রান্ত অনুসন্ধান শুরু করা উচিত। এ নিয়ে রাজনীতি করা ঠিক হবে না।’

২০১৯ সালের শেষের দিকে চীনের উহান শহরে করোনার প্রাদুর্ভাব শুরু হয়। চলতি বছরের জানুয়ারিতে ভাইরাসটির উৎস অনুসন্ধানে আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞ নিয়ে গঠিত দল উহানে পাঠায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)।

তবে মার্চে প্রকাশিত বিশেষজ্ঞ দলটির অনুসন্ধানের প্রতিবেদন সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়। প্রতিবেদনটিতে স্বচ্ছতার অভাব রয়েছে বলে বিশ্বব্যাপী এ নিয়ে সমালোচনাও হয়।

আরও পড়ুন:
উইঘুর মুসলমান নির্যাতন: পুলিৎজার পেলেন মেঘা
শিনজিয়াংয়ে বিভীষিকাময় পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে চীন
উইঘুর ট্রাইব্যুনালে গণহত্যার ইস্যুতে সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু
উইঘুরদের ওপর নজরদারি যন্ত্রের পরীক্ষা চালাচ্ছে চীন
উইঘুরদের প্রতি চীনের আচরণ ‘মানবতাবিরোধী অপরাধ’

শেয়ার করুন

মন্তব্য

দলিত শিশুকে ‘ধর্ষণ-হত্যায়’ উত্তাল দিল্লি

দলিত শিশুকে ‘ধর্ষণ-হত্যায়’ উত্তাল দিল্লি

কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী বুধবার দলিত শিশুর বাড়িতে গিয়ে কথা বলেন পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে। ছবি: সংগৃহীত

শিশুর মা সুনীতা দেবী অভিযোগ করেন, তাদের সম্মতি ছাড়াই পুরাতন নাঙ্গল শ্মশানে শিশুকে দাহ করা হয়। ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনা আড়াল করতেই এ কাজ করেছেন অপরাধীরা।

নয় বছরের এক দলিত শিশুকে ‘ধর্ষণ ও খুনের’ ঘটনায় উত্তাল ভারতের রাজধানী শহর দিল্লি।

এ ঘটনায় জনতার বিক্ষোভ ও প্রতিবাদে শামিল হয়েছেন রাজনৈতিক নেতারা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও চলছে প্রতিক্রিয়া।

দিল্লি ক‌্যান্টনমেন্টের পুরাতন নাঙ্গল এলাকার ৯ বছর বয়সী এক দলিত শিশুকে ধর্ষণ করে পুড়িয়ে মারার অভিযোগ উঠেছে। রোববার সন্ধ্যার এ ঘটনায় তিন দিন ধরে চলছে প্রতিবাদ। ক্ষোভের দাবানল ছড়িয়ে পড়ছে দিল্লির অলিগলিতে। সরকার ও প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে উঠেছে বিস্তর প্রশ্ন।

কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী বুধবার সকালে ছুটে গেছেন ওই শিশুর বাড়িতে। ন্যায়বিচার না পাওয়া পর্যন্ত তিনি দলিত পরিবারটির পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন।

শিশুর অভিভাবকদের সঙ্গে কথার বলার পর গণমাধ্যমের মুখোমুখি হন কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধী।

তিনি বলেন, ‘আমি নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে কথা বলেছি। তারা ন্যায়বিচার চান; সেটা পাচ্ছেন না। ন্যায়বিচার পাইয়ে দিতে আমরা তাদের সাহায্য করব।’

বিচার না পাওয়া পর্যন্ত পরিবারটির পাশে থাকার আশ্বাস দেন রাহুল।

মর্মান্তিক এই ঘটনায় মঙ্গলবারও নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান কংগ্রেসের এ নেতা। তিনি টুইট করে শিশুটিকে ‘দেশের মেয়ে’ বলে অভিহিত করে প্রশাসনের ভূমিকার সমালোচনা করেন।

যে ঘটনায় বিক্ষোভ

দিল্লি ক‌্যান্টনমেন্টের পুরাতন নাঙ্গল এলাকায় বসবাস এক দলিত পরিবারের। রোববার বিকেল পাঁচটা নাগাদ এ পরিবারের ৯ বছর বয়সী শিশু মায়ের অনুমতি নিয়েই ঠান্ডা পানি নিতে পাশের শ্মশান চত্বরে যায়। সেখানকার কুলার মেশিন থেকে পানি নিয়ে শিশুটি আর বাড়ি ফেরেনি।

সন্ধ্যা ছয়টার দিকে শ্মশানের পুরোহিত রাধে শ্যাম কয়েকজনকে নিয়ে পৌঁছান শিশুর বাড়িতে। তিনি শিশুর বাবা-মাকে জানান, কুলারে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা গেছে শিশুটি। তার বাম হাতের কবজি ও কনুইয়ের অংশ পুড়ে গেছে। নীল হয়ে গেছে ঠোঁটসহ শরীরের একাংশ।

শিশুর মা পুলিশকে ফোন করতে চাইলে বাধা দেয়া হয়। পুরোহিত তখন জানান, পুলিশ জানলে মামলা হবে। ময়নাতদন্তের সময় অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ চুরি হয়ে যাওয়ার শঙ্কার কথাও বলা হয়।

শিশুর মা সুনীতা দেবী অভিযোগ করেন, তাদের সম্মতি ছাড়াই পুরাতন নাঙ্গল শ্মশানে শিশুকে দাহ করা হয়। ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনা আড়াল করতেই এ কাজ করেছেন অপরাধীরা।

ঘটনা জানাজানি হতেই এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। খবর দেয়া হয় পুলিশে। শ্মশান ঘেরাও করেন স্থানীয় লোকজন।

এ ঘটনায় অভিযুক্ত পুরোহিত রাধে শ্যাম ছাড়াও কুলদীপ কুমার, লক্ষ্মী নারাইন ও মহম্মদ সেলিম নামে তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।

আলোচিত এ ঘটনায় দিল্লি পুলিশের পাশাপাশি নারী কমিশনের পক্ষ থেকে একটি তদন্ত শুরু হয়েছে।

ভারতের রাজধানী দিল্লিতে ২০১২ সালে চলন্ত বাসে নির্ভয়া নামের তরুণীকে ধর্ষণের পর হত্যাচেষ্টা করা হয়। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় নির্ভয়ার মৃত্যু হয়।

সে সময়ে নির্ভয়াকাণ্ডের প্রতিবাদে মাঠে নামে হাজার হাজার মানুষ। রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন শামিল হয় জোরালো এ প্রতিবাদে। বিচার শেষে নির্ভয়া হত্যা মামলার চার আসামির এরই মধ্যে ফাঁসি কার্যকর হয়েছে।

নির্ভয়া হত্যার মতোই দলিত শিশু হত্যার এ ঘটনায় আবার উত্তাল হয়ে উঠেছে রাজধানী।

সরকারবিরোধীরা মাঠে

শুধু কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধী নন, দিল্লির এ ঘটনায় টুইটারে সরব তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও।

তিনি বলেন, ‘একটি নয় বছরের মেয়েকে ধর্ষণের পর জোর করে দাহ করা হয়েছে। এ দেশের তফসিলি মেয়েদের প্রতিদিন যে ধরনের অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যেতে হয়, তাতে বোঝা যায় আমাদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সত্যিই কতটা অসংবেদনশীল।’

অন্যদিকে দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল জানিয়েছেন, তিনি শিশুটির পরিবারের সঙ্গে দেখা করে আইনি লড়াইয়ে সাহায্য করবেন।

এরই মধ্যে দলিত নেতা তথা ভিম সেনার প্রধান শেখর আজাদ মেয়েটির পরিবারের সঙ্গে দেখা করেছেন। নাঙ্গাল গ্রামের আন্দোলনে তিনি যোগ দেবেন বলে জানিয়েছেন।

ক্ষোভ প্রকাশ করে আজাদ বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী থেকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, সকলেই এখানে থাকেন। তবুও নারী সুরক্ষা নেই কেন? এখন পর্যন্ত মুখ্যমন্ত্রী দেখা করতে আসেননি কেন?’

আরও পড়ুন:
উইঘুর মুসলমান নির্যাতন: পুলিৎজার পেলেন মেঘা
শিনজিয়াংয়ে বিভীষিকাময় পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে চীন
উইঘুর ট্রাইব্যুনালে গণহত্যার ইস্যুতে সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু
উইঘুরদের ওপর নজরদারি যন্ত্রের পরীক্ষা চালাচ্ছে চীন
উইঘুরদের প্রতি চীনের আচরণ ‘মানবতাবিরোধী অপরাধ’

শেয়ার করুন

আবার হাসপাতালে বুদ্ধদেব, নেয়া হয়েছে আইসিইউতে

আবার হাসপাতালে বুদ্ধদেব, নেয়া হয়েছে আইসিইউতে

সাহিত্যিক বুদ্ধদেব গুহ। ছবি: আনন্দবাজার

সাহিত্যিক বুদ্ধদেব গুহ গত এপ্রিলে করোনায় আক্রান্ত হয়েছিলেন। এর পর থেকে তিনি বিভিন্ন সমস্যায় ভুগছিলেন।

শ্বাসকষ্ট ও বার্ধক্যজনিত একাধিক সমস্যা নিয়ে ফের হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন সাহিত্যিক বুদ্ধদেব গুহ। তাকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) নেয়া হয়েছে।

কয়েক দিন আগে করোনাভাইরাস থেকে সেরে উঠে বাড়ি ফিরেছিলেন বুদ্ধদেব। ফের শারীরিক সমস্যা দেখা দেয়ায় রোববার তাকে কলকাতার বেলভিউ নার্সিং হোমে ভর্তি করা হয়। সেখানেই তার চিকিৎসা চলছিল। মঙ্গলবার রক্তচাপ কমে গেলে তাকে আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়।

গত এপ্রিলে বুদ্ধদেব গুহ করোনায় আক্রান্ত হয়েছিলেন। এর পর থেকে তিনি বিভিন্ন সমস্যায় ভুগছিলেন।

হাসপাতাল সূত্রের খবর, শ্বাসকষ্টের পাশাপাশি বুদ্ধদেবের মূত্রনালিতে সংক্রমণ ধরা পড়েছে। কিডনি, লিভারের সমস্যাও রয়েছে তার।

সাহিত্যিক বুদ্ধদেব গুহের আবার করোনা পরীক্ষা করা হলে প্রতিবেদন নেগেটিভ এসেছে। তার শরীরে অ্যামোনিয়ার মাত্রা বেশি বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। দরকার হলে প্রতি মিনিটে তাকে দুই লিটার করে অক্সিজেন দিতে হবে।

করোনামুক্ত হয়ে ৩৩ দিন পর হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরেছিলেন বুদ্ধদেব। সে সময় তিনি বলেছিলেন, ‘আমি এখনই ফুরোব না।’

জঙ্গলমহল, মাধুকরী, ঋজুদার সঙ্গে জঙ্গলের স্রষ্টা সাহিত্যিক বুদ্ধদেব গুহের অসুস্থতার খবরে উদ্বিগ্ন তার ভক্তরা।

আরও পড়ুন:
উইঘুর মুসলমান নির্যাতন: পুলিৎজার পেলেন মেঘা
শিনজিয়াংয়ে বিভীষিকাময় পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে চীন
উইঘুর ট্রাইব্যুনালে গণহত্যার ইস্যুতে সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু
উইঘুরদের ওপর নজরদারি যন্ত্রের পরীক্ষা চালাচ্ছে চীন
উইঘুরদের প্রতি চীনের আচরণ ‘মানবতাবিরোধী অপরাধ’

শেয়ার করুন

নিউইয়র্কে বাড়ির বাইরে গেলে থাকতে হবে টিকা সনদ

নিউইয়র্কে বাড়ির বাইরে গেলে থাকতে হবে টিকা সনদ

যুক্তরাষ্ট্রে করোনা প্রতিরোধী টিকা নেয়ার প্রমাণ হিসেবে বেশিরভাগ মানুষই সিডিসি কর্তৃক সরবরাহকৃত এই ভ্যাকসিন কার্ড পেয়েছেন। ছবি: ইউএসএ টুডে

ধারণা করা হচ্ছে, মাস্ক পরা ও গত বছর ঘরে থাকার নির্দেশনার মতোই সবাইকে করোনার টিকার আওতায় আনার এ প্রচেষ্টা নিয়েও বিরোধিতার মুখে পড়বে যুক্তরাষ্ট্রের সরকার। এরই মধ্যে আমেরিকান জনগণ, বিশেষ করে রক্ষণশীলদের মধ্যে সরকারের ‘ভ্যাকসিন পাসপোর্ট’ কর্মসূচি নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম শহর হিসেবে ‘ভ্যাকসিন পাস’ বা টিকা সনদ চালু করল নিউইয়র্ক। অর্থাৎ বাড়ি থেকে বের হতে হলে নগরবাসীদের সঙ্গে থাকতে হবে করোনাভাইরাস প্রতিরোধী টিকা নেয়ার প্রমাণপত্র।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়, বিশেষ করে যে কোনো রেস্তোরাঁ, জিম ও অন্যান্য ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে প্রবেশ করার আগে দেখাতে হবে টিকা সনদ।

নিউইয়র্কের মেয়র বিল ডি ব্লাসিও জানান, আগামী ১৩ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হবে নতুন নিয়ম। কমপক্ষে এক ডোজ টিকা নেয়ার প্রমাণ দেখাতে হবে নগরবাসীকে।

যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে রূপ পরিবর্তিত করোনাভাইরাসের ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের বিস্তার বাড়তে থাকার মধ্যেই এলো এ ঘোষণা।

গত বছরের মতো এ বছরও সবকিছু বন্ধ রেখে জনগণকে ঘরবন্দি না রাখতে বিকল্প খুঁজছে প্রশাসন। সংক্রমণ বৃদ্ধির বাস্তবতা মাথায় রেখেই চলছে অর্থনীতি সচলের চেষ্টা। তাই টিকা সহজলভ্য হতে থাকায় সবাইকে ডোজ নিয়ে ও মাস্ক পরে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার আহ্বান জানানো হচ্ছে।

এদিকে, ডেল্টার বিস্তারের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র (সিডিসি) নতুন একটি নির্দেশনা জারি করেছে। এতে উচ্চ সংক্রমিত এলাকাগুলো থেকে বাসিন্দাদের বের হওয়া বন্ধে ৬০ দিনের স্থগিতাদেশ রয়েছে।

যদিও এ ধরনের স্থগিতাদেশ কার্যকরে কংগ্রসকে নতুন আইন পাস করতে হবে বলে চলতি বছরের জুনে এক সিদ্ধান্তে জানায় যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট।

যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় সরকার এবং বেশ কয়েকটি অঙ্গরাজ্য হাসপাতাল ও বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মীদের জন্য টিকাগ্রহণ বাধ্যতামূলক করেছে। গুগল, ফেসবুক, টাইসন ফুডসসহ বেশ কয়েকটি বেসরকারি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানও কর্মীদের জন্য একই নীতিমালা নিয়েছে।

ধারণা করা হচ্ছে, মাস্ক পরা ও গত বছর ঘরে থাকার নির্দেশনার মতোই সবাইকে করোনার টিকার আওতায় আনার এ প্রচেষ্টা নিয়েও বিরোধিতার মুখে পড়বে যুক্তরাষ্ট্রের সরকার।

এরই মধ্যে আমেরিকান জনগণ, বিশেষ করে রক্ষণশীলদের মধ্যে সরকারের ‘ভ্যাকসিন পাসপোর্ট’ কর্মসূচি নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ নিয়ন্ত্রক সংস্থা (এফডিএ) সেপ্টেম্বরের শুরুতেই ফাইজার-বায়োএনটেকের টিকায় পূর্ণ অনুমোদন দিতে পারে বলে সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে নিউইয়র্ক টাইমস। করোনা প্রতিরোধী সব টিকাই এখন পর্যন্ত দেয়া হচ্ছে জরুরি অনুমোদন সাপেক্ষে।

আরও পড়ুন:
উইঘুর মুসলমান নির্যাতন: পুলিৎজার পেলেন মেঘা
শিনজিয়াংয়ে বিভীষিকাময় পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে চীন
উইঘুর ট্রাইব্যুনালে গণহত্যার ইস্যুতে সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু
উইঘুরদের ওপর নজরদারি যন্ত্রের পরীক্ষা চালাচ্ছে চীন
উইঘুরদের প্রতি চীনের আচরণ ‘মানবতাবিরোধী অপরাধ’

শেয়ার করুন

ধারণার চেয়েও পুরোনো মাচু পিচু

ধারণার চেয়েও পুরোনো মাচু পিচু

১৫ শতকে নির্মিত ইনকা সভ্যতার নিদর্শন পেরুর মাচু পিচু বিশ্বের অন্যতম সপ্তাশ্চর্য। ছবি: এএফপি

পূর্বধারণা অনুযায়ী, মাচু পিচুর নির্মাণকাল ১৪৪০ থেকে ১৪৫০ সালের আশপাশে। কিন্তু সেখানে পাওয়া মানুষের ২৬টি দেহাবশেষ বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানীরা বলছেন, ১৪২০ থেকে ১৫৩০ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত টানা ১১০ বছর ব্যবহার হয়েছে মাচু পিচু।

বিশ্বের সপ্তাশ্চর্যের অন্যতম পেরুর মাচু পিচু। প্রাচীন ইনকা সভ্যতার স্থাপনাটির নির্মাণকাল ১৪৩৮ খ্রিস্টাব্দের পরে বলে ধারণা প্রতিষ্ঠিত ছিল এতদিন। কিন্তু নতুন গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এর চেয়েও কমপক্ষে ২০ বছর আগে তৈরি হয়েছে প্রত্নতত্ত্বের অনন্য এ নিদর্শন।

জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতিবিষয়ক সংস্থা ইউনেস্কোঘোষিত বিশ্ব ঐতিহ্যের একটি মাচু পিচু। ইনকা সাম্রাজ্যের সময়ে এটি প্রাসাদ হিসেবে ব্যবহৃত হতো বলে ধারণা করা হয়।

দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়, ৭৫ বছরের বেশি সময় ধরে মাচু পিচু নিয়ে কাজ করেছেন অনেক ইতিহাসবিদ, প্রত্নতত্ত্ববিদ ও বিজ্ঞানীরা। যে অঞ্চলে এটির অবস্থান, ১৬ শতকে সেখানে স্প্যানিশ সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা হয়। এর ভিত্তিতে মাচু পিচু ১৫ শতকে তৈরি বলে ধারণা করে আসছিলেন তারা।

কিন্তু রেডিওকার্বন ডেটিং পদ্ধতিতে মাচু পিচুর ধ্বংসাবশেষ থেকে সংগৃহীত নমুনা বিশ্লেষণের মাধ্যমে আরও আগে এটি তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন গবেষকরা।

পূর্বধারণা অনুযায়ী, মাচু পিচুর নির্মাণকাল ১৪৪০ থেকে ১৪৫০ সালের আশপাশে। কিন্তু সেখানে পাওয়া মানুষের ২৬টি দেহাবশেষ বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানীরা বলছেন, ১৪২০ থেকে ১৫৩০ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত টানা ১১০ বছর ব্যবহার হয়েছে মাচু পিচু। দেহাবশেষ বিশ্লেষণে ‘অ্যাক্সিলারেটর ম্যাস স্পেকট্রোমেট্রি’ ডেটিং পদ্ধতি ব্যবহার করেছেন তারা।

মাচু পিচু নিয়ে সম্পূর্ণ বিজ্ঞাননির্ভর এ গবেষণার ফলে আধুনিক পশ্চিমা ইতিহাসবিদদের দেয়া ঔপনিবেশিক তথ্যের নির্ভরযোগ্যতা এখন প্রশ্নের মুখে।

গবেষণা প্রতিবেদনের প্রধান লেখক ইয়েল ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক রিচার্ড বার্গার বলেন, ‘সাম্প্রতিক গবেষণার ফল থেকে এটাই প্রমাণ হয় যে, ইনকা সাম্রাজ্য গড়ে ওঠা নিয়ে যা কিছু আমরা জানি, তা ঔপনিবেশিক শাসনামলে নথিভুক্ত তথ্যনির্ভর, প্রাথমিক এবং এসব রেকর্ড সংশোধন করতে হবে।

‘ঐতিহাসিক তথ্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক আধুনিক রেডিওকার্বন পদ্ধতিতে প্রাপ্ত তথ্য। কিন্তু ইনকা সময়কাল বোঝার এটা আরও ভালো উপায়।’

বিশ্বে এখন পর্যন্ত যত প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন কেন্দ্র আবিষ্কার ও জনপ্রিয় হয়েছে, সেগুলোর অন্যতম মাচু পিচু।

এটির অতীত ইতিহাস ও পরিত্যক্ত হওয়ার আগ পর্যন্ত অঞ্চলটিতে বসবাস করা মানুষ আজও রহস্য, যা উদঘাটনের চেষ্টা করে যাচ্ছেন পশ্চিমা ইতিহাসবিদরা।

আরও পড়ুন:
উইঘুর মুসলমান নির্যাতন: পুলিৎজার পেলেন মেঘা
শিনজিয়াংয়ে বিভীষিকাময় পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে চীন
উইঘুর ট্রাইব্যুনালে গণহত্যার ইস্যুতে সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু
উইঘুরদের ওপর নজরদারি যন্ত্রের পরীক্ষা চালাচ্ছে চীন
উইঘুরদের প্রতি চীনের আচরণ ‘মানবতাবিরোধী অপরাধ’

শেয়ার করুন

এবার আমিরাতের জলসীমায় ট্যাংকার ছিনতাই

এবার আমিরাতের জলসীমায় ট্যাংকার ছিনতাই

আরব সাগরে তেলবাহী জাহাজ। ফাইল ছবি

ছিনতাইয়ের শিকার ‘অ্যাসফল্ট প্রিন্সেস’ নামের ট্যাংকারটি বিটুমিন নিয়ে হরমুজ প্রণালির দিকে যাচ্ছিল। পানামার পতাকা ছিল সেটিতে। এ ঘটনায় সম্পৃক্ততার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান।

আরব সাগরে সংযুক্ত আরব আমিরাতের জলসীমা থেকে একটি তেলের ট্যাংকার ছিনতাই হয়েছে।

যুক্তরাজ্যের নৌপথে বাণিজ্যবিষয়ক সংস্থা মঙ্গলবার ট্যাংকারটি ছিনতাই হয়েছে বলে শঙ্কা জানায়। পরে আরব আমিরাতের জলসীমা নিরাপত্তার তিনটি সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করে।

সূত্রের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানায়, ছিনতাইয়ের শিকার ‘অ্যাসফল্ট প্রিন্সেস’ ট্যাংকারটি বিটুমিন নিয়ে হরমুজ প্রণালির দিকে যাচ্ছিল। পানামার পতাকা ছিল সেটিতে।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, অ্যাসফল্ট প্রিন্সেসে নয়জন সশস্ত্র দুর্বৃত্ত অবস্থান করছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। এ ঘটনায় কোনো গোষ্ঠী দায় স্বীকার করেনি।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়, ট্যাংকার ছিনতাইয়ের ঘটনায় ইরান সমর্থিত মিলিশিয়াদের সন্দেহ করা হলেও অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে তেহরান।

ইরানের বার্তা সংস্থা ফার্স নিউজের খবরে বলা হয়, দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর জ্যেষ্ঠ মুখপাত্র আব্দুলফজল শেকারচি এ ঘটনায় তেহরানকে দায়ী করার নিন্দা জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘সাগরে এসব ঘটনা আর পারস্য উপসাগরে জাহাজ ছিনতাইয়ের মতো বিষয়গুলো এক ধরনের মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ। ইরানের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ নতুন ধরনের রাজনৈতিক হঠকারিতা মাত্র।’

আরব নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়, মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের নেতিবাচক তৎপরতা বাড়ছে বলে অভিযোগ করেছেন সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান।

তিনি বলেন, ‘পুরো অঞ্চলকে ভীতসন্ত্রস্ত করে রেখেছে ইরান।’

ইরানের আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বী সৌদির দাবি, ইয়েমেনে হুতি বিদ্রোহীদের অস্ত্র সরবরাহ ও লেবাননের রাজনৈতিক অচলাবস্থার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত তেহরান।

যুক্তরাষ্ট্র-যুক্তরাজ্যের উদ্বেগ

জাহাজ ছিনতাইয়ের বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। নজর রাখার জন্য পারস্য উপসাগরে কমপক্ষে একটি নৌযান অ্যাসফল্ট প্রিন্সেসের কাছাকাছি নেয়ার পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী।

জাহাজ ছিনতাইয়ের বিষয়টি খতিয়ে দেখার কথা জানিয়েছে যুক্তরাজ্যও। দেশটির নৌপথে বাণিজ্যবিষয়ক সংস্থা ইউকেএমটিও আরব আমিরাতের ফুজাইরা উপকূলের ৬০ নটিক্যাল মাইল পর্যন্ত এলাকার মধ্যে চলাচলরত জাহাজগুলোকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে।

গত সপ্তাহেই ওমান উপসাগরে ইসরায়েলের একটি ট্যাংকারে হামলার ঘটনায় উত্তেজনা বাড়ে অঞ্চলটিতে। ওই হামলায় দুই ক্রু নিহত হন।

হামলার ঘটনায় ইরানকে দায়ী করে নিন্দা জানায় ইসরায়েল, যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য। সে অভিযোগও প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান।

আরও পড়ুন:
উইঘুর মুসলমান নির্যাতন: পুলিৎজার পেলেন মেঘা
শিনজিয়াংয়ে বিভীষিকাময় পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে চীন
উইঘুর ট্রাইব্যুনালে গণহত্যার ইস্যুতে সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু
উইঘুরদের ওপর নজরদারি যন্ত্রের পরীক্ষা চালাচ্ছে চীন
উইঘুরদের প্রতি চীনের আচরণ ‘মানবতাবিরোধী অপরাধ’

শেয়ার করুন

আফগান প্রতিরক্ষামন্ত্রীর বাড়িতে হামলা, নিহত ৪

আফগান প্রতিরক্ষামন্ত্রীর বাড়িতে হামলা, নিহত ৪

কাবুলে অতি সুরক্ষিত কূটনৈতিক এলাকা গ্রিন জোন। ছবি: এএফপি

হামলার দায় স্বীকার করেনি কোনো গোষ্ঠী। তবে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, আফগানিস্তানের সশস্ত্র গোষ্ঠী তালেবানের ‘সব চিহ্ন বহন করছে’ হামলার ধরন।

আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে প্রতিরক্ষামন্ত্রী বিসমিল্লাহ খান মোহাম্মদির বাড়িতে হামলা চালিয়েছে বন্দুকধারীরা।

তাদের দমাতে নিরাপত্তা বাহিনীর পাল্টা অভিযানে চারজন নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো।

বিবিসির প্রতিবেদনে জানানো হয়, ঘটনার সময় বাড়িতে ছিলেন না মন্ত্রী। তার পরিবারের অন্য সদস্যদেরও নিরাপদে সরিয়ে নেয়া হয়েছে।

অতি সুরক্ষিত গ্রিন জোন এলাকায় মঙ্গলবার হয় এ হামলা। সে সময় একটি গাড়িবোমার বিস্ফোরণ ঘটায় সন্ত্রাসীরা; হয় ব্যাপক গোলাগুলিও।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টুইটারে মোহাম্মদি লিখেন, ‘চিন্তার কোনো কারণ নেই। এখন সবকিছু ঠিক আছে!’

নিরাপত্তা বাহিনীর সূত্র উল্লেখ করে চারজন নিহতের তথ্য নিশ্চিত করেছে বার্তা সংস্থা এএফপি। চারজনের মরদেহ গ্রহণ ও চিকিৎসার জন্য যাওয়া আহত ১১ জনকে সেবা দেয়ার তথ্য জানিয়েছে আফগানিস্তানে সক্রিয় ইতালির দাতব্য চিকিৎসা সংস্থা ইমার্জেন্সি।

হামলার দায় স্বীকার করেনি কোনো গোষ্ঠী। তবে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, আফগানিস্তানের সশস্ত্র গোষ্ঠী তালেবানের ‘সব চিহ্ন বহন করছে’ হামলার ধরন।

আফগানিস্তানের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি শহরে তালেবান ও আফগান সেনাদের মধ্যে সশস্ত্র লড়াইয়ের মধ্যেই হলো এ হামলা। অবিলম্বে সহিংসতা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ।

কাবুলে হামলার কয়েক ঘণ্টা পর সন্ধ্যায় রাস্তায় নেমে ও বিভিন্ন বাড়ি আর ভবনের ছাদে উঠে আরবি ভাষায় ‘আল্লাহু আকবর’ বলে স্লোগান দিতে শুরু করেন বাসিন্দারা। তালেবানের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ প্রদর্শনে এ কর্মসূচির ভিডিও প্রকাশ করা হয় বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে।

এর আগে তালেবানবিরোধী জনমত প্রদর্শনে একই ধরনের কর্মসূচি নেয় হেরাত শহরের বাসিন্দারাও। আফগানিস্তানের তৃতীয় বৃহৎ শহরটি দখলে অভিযান শুরু করেছে তালেবান।

পাল্টা অভিযান চালাচ্ছে নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে মরিয়া আফগান বাহিনীও। সব মিলিয় চরম সহিংস রূপ নিয়েছে শহরটির পরিস্থিতি।

আরও পড়ুন:
উইঘুর মুসলমান নির্যাতন: পুলিৎজার পেলেন মেঘা
শিনজিয়াংয়ে বিভীষিকাময় পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে চীন
উইঘুর ট্রাইব্যুনালে গণহত্যার ইস্যুতে সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু
উইঘুরদের ওপর নজরদারি যন্ত্রের পরীক্ষা চালাচ্ছে চীন
উইঘুরদের প্রতি চীনের আচরণ ‘মানবতাবিরোধী অপরাধ’

শেয়ার করুন

‘একজন তালেবানকেও জীবিত ছাড়ব না’

‘একজন তালেবানকেও জীবিত ছাড়ব না’

শুক্রবার আফগানিস্তানের হেরাত প্রদেশে তালেবানের বিরুদ্ধে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী ও আফগান মিলিশিয়া অবস্থান নেয়। ছবি: এএফপি

লস্কর গাহর দুই লাখ বাসিন্দার উদ্দেশে জেনারেল সাদাত বলেন, ‘আপনারা যত তাড়াতাড়ি পারেন বাড়িঘর ছেড়ে চলে যান। আপনারা গেলেই আমরা অভিযান শুরু করব।’

আফগানিস্তানের দক্ষিণাঞ্চলীয় হেলমান্দ প্রদেশের অবরুদ্ধ রাজধানী লস্কর গাহ থেকে বাসিন্দাদের দ্রুত সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে দেশটির সেনাবাহিনী।

তালেবানের বিরুদ্ধে সেনাবাহিনীর অভিযানের ঠিক আগমুহূর্তে এ আহ্বান জানানো হয় বলে জানিয়েছে বিবিসি ও বার্তা সংস্থা এএফপি

হেলমান্দে তালেবানের বিরুদ্ধে অভিযানে নেতৃত্ব দিচ্ছেন জেনারেল সামি সাদাত।

জাতিসংঘের পক্ষ থেকে বলা হয়, গত কয়েক দিনে লড়াইয়ে লস্কর গাহ শহরে তালেবান ও আফগান বাহিনীর তীব্র লড়াইয়ে কমপক্ষে ৪০ বেসামরিক নাগরিকের মৃত্যু হয়।

প্রাদেশিক রাজধানী শহরটির বেশির ভাগ অংশ তালেবান কবজা করে নিয়েছে বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়।

তবে আফগানিস্তানের সেনাবাহিনী তালেবানের কাছে লস্কর গাহ না হারানোর প্রতিজ্ঞা করায় সেখানে এখনও সংঘর্ষ চলছে।

লস্কর গাহর দুই লাখ বাসিন্দার উদ্দেশে জেনারেল সাদাত বলেন, ‘আপনারা যত তাড়াতাড়ি পারেন বাড়িঘর ছেড়ে চলে যান। আপনারা গেলেই আমরা অভিযান শুরু করব।’

তিনি বলেন, ‘আমি জানি, আপনাদের পক্ষে বাড়িঘর ছাড়া কঠিন। আমাদের জন্যও এটা কঠিন।

‘আপনারা যদি কিছুদিনের জন্য বাস্তুচ্যুত হন, তাহলে দয়া করে আমাদের ক্ষমা করবেন।’

জেনারেল সাদাত আরও বলেন, ‘তালেবানরা যেখানেই রয়েছে, সেখানেই লড়াই হবে। তাদের কোনো সদস্যকে জীবিত ছাড়া হবে না।’

আফগানিস্তানে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের সামরিক অভিযানে হেলমান্দ ছিল কেন্দ্রস্থল।

ওই অঞ্চল কোনোভাবে তালেবানের দখলে গেলে তা হবে আফগান সরকারের বড় ধরনের কৌশলগত ও মনস্তাত্ত্বিক পরাজয়।

লস্কর গাহ তালেবান নিয়ে নিলে ২০১৬ সালের পর এটাই হবে সংগঠনটির প্রথম প্রাদেশিক রাজধানী দখল।

‘রাস্তায় লাশের পর লাশ’

লস্কর গাহর বাসিন্দাদের ভাষ্য, তালেবানের ভয়াবহ হামলায় আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন তারা।

এক বাসিন্দা বিবিসিকে বলেন, ‘তালেবান আমাদের প্রতি সদয় হবে না। আর আফগান সরকারও বোমা হামলা থামাবে না।

‘রাস্তায় লাশের পর লাশ। আমরা জানি না, তারা তালেবান নাকি বেসামরিক নাগরিক।’

আরেক বাসিন্দা বলেন, ‘শহরের সব প্রান্তেই লড়াই চলছে। আমি জানি না কোথায় যাব।’

প্রেক্ষাপট

আফগানিস্তান থেকে বিদেশি সেনা সরে যাওয়ার প্রক্রিয়া শুরুর পর থেকেই দেশটি দখলে মে মাসের শুরু থেকেই তৎপরতা চালায় তালেবান।

এ নিয়ে আফগান নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে প্রতিদিনই তাদের সংঘর্ষ বাধছে।

এরই মধ্যে আফগানিস্তানের বেশ কয়েকটি জেলা এবং গুরুত্বপূর্ণ বর্ডার ক্রসিং নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে তালেবান।

২০০১ সালে টুইন টাওয়ারে হামলা চালানো জঙ্গি সংগঠন আল-কায়েদার সঙ্গে তালেবানের সম্পর্কের জেরে আফগানিস্তানে সে সময় সামরিক অভিযান চালায় যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন ন্যাটোভুক্ত দেশগুলো।

মিত্র বাহিনীর সম্মিলিত অভিযানে ওই বছরই আফগানিস্তানের ক্ষমতা থেকে তালেবানকে উৎখাত করা হয়।

তালেবান উৎখাত হলেও আফগানিস্তানে দীর্ঘ প্রায় ২০ বছর অবস্থান করে যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটোভুক্ত দেশের সেনারা।

চলতি বছরের ১১ সেপ্টেম্বরের আগেই আফগানিস্তান থেকে সব সেনা সরাতে নিজেদের সেনাবাহিনীকে নির্দেশ দেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন।

এপ্রিলে বাইডেনের ওই ঘোষণার পর ন্যাটোর অন্য সদস্যরাষ্ট্রগুলোও আফগানিস্তান থেকে তাদের সেনা প্রত্যাহারের কথা বলে। ধীরে ধীরে দক্ষিণ এশিয়ার দেশটি থেকে বিদেশি সেনা সরতে শুরু করে, যা এখন প্রায় শেষের পথে।

আরও পড়ুন:
উইঘুর মুসলমান নির্যাতন: পুলিৎজার পেলেন মেঘা
শিনজিয়াংয়ে বিভীষিকাময় পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে চীন
উইঘুর ট্রাইব্যুনালে গণহত্যার ইস্যুতে সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু
উইঘুরদের ওপর নজরদারি যন্ত্রের পরীক্ষা চালাচ্ছে চীন
উইঘুরদের প্রতি চীনের আচরণ ‘মানবতাবিরোধী অপরাধ’

শেয়ার করুন