চীনকে রুখতে জি-সেভেনের পরিকল্পনা

চীনকে রুখতে জি-সেভেনের পরিকল্পনা

যুক্তরাজ্যে জি-সেভেন জোটভুক্ত দেশের প্রতিনিধিরা। ছবি: সংগৃহীত

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের নেয়া হাজার কোটি ডলারের বেল্ট অ্যান্ড রোডস ইনিশিয়েটিভ কর্মসূচীর (বিআরআই) প্রভাব থেকে বিশ্বের শতাধিক দেশকে মুক্ত করতেই পাল্টা পরিকল্পনা নিয়েছেন জি-সেভেনভুক্ত দেশগুলোর প্রতিনিধিরা।

বিশ্বে চীনের আধিপত্য ও আগ্রাসন রুখে দিতে কৌশলগত পরিকল্পনা ঘোষণা করতে যাচ্ছে ধনী দেশের জোট গ্রুপ অব সেভেনভুক্ত (জি-সেভেন) দেশগুলো।

যুক্তরাজ্যের দক্ষিণপশ্চিমাঞ্চলে চলা জি-সেভেন সামিটে এমন পরিকল্পনা চূড়ান্ত করেছে এই জোটভুক্ত দেশের প্রতিনিধিরা।

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের নেয়া হাজার কোটি ডলারের বেল্ট অ্যান্ড রোডস ইনিশিয়েটিভ কর্মসূচীর (বিআরআই) প্রভাব থেকে বিশ্বের শতাধিক দেশকে মুক্ত করতেই পাল্টা পরিকল্পনা নিয়েছেন তারা।

একইসঙ্গে, গত ৪ দশক ধরে অর্থনৈতিক ও সামরিক শক্তিতে অপ্রতিরোধ্য চীন ও শি জিনপিংয়ের নেতৃত্বে নতুন মাত্রা পাওয়া দেশটিকে পরিকল্পনা অনুযায়ী রুখতে মরিয়া হয়ে উঠেন জোটের নেতারা।

বিল্ড ব্যাক বেটার ওয়ার্ল্ড (বি৩ডব্লিউ) কর্মসূচীর আওতায় উন্নয়নশীল দেশগুলোতে কাঠামোগত উন্নয়নে বিশাল অঙ্কের সহায়তা দিতে যাচ্ছে জি- সেভেন। এর আওতায় ২০৩৫ সালের মধ্যে ৪০ ট্রিলিয়ন ডলার সহায়তা দেয়া হতে পারে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স ও সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে উঠে আসে এমন তথ্য।

২০১৩ সালে হাজার কোটি ডলারের বিআরআই কর্মসূচী হাতে নেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। এর আওতাভুক্ত দেশগুলো এশিয়া থেকে ইউরোপ পর্যন্ত এবং এর সীমাও ছাড়িয়ে গেছে।

এক শর বেশি দেশ এখন পর্যন্ত এই পরিকল্পনার আওতাভুক্ত হয়েছে। এবং চীনের সঙ্গে চুক্তি সই করে নিজ দেশের রেল, বন্দর, মহাসড়ক ও অন্যান্য অবকাঠামোগত তৈরিতে কাজ করছে।

এদিকে, জি-সেভেনভুক্ত দেশগুলোর প্রতিনিধিদের দাবি, মানবাধিকার লঙ্ঘন ও করোনাভাইরাসের উৎস অনুসন্ধানে চীনের গড়িমসি, তাইওয়ান ইস্যুতে বেইজিংয়ের বিতর্কিত ভূমিকা দেশটির বিরুদ্ধে এমন পদক্ষেপ নিতে বাধ্য করেছে তাদের।

এ বিষয়ে জো বাইডেনের এক প্রতিনিধি জানান, চীনের ভেতরে জোরপূর্বক শ্রম ও মানবাধিকার লঙ্ঘনরোধে বেইজিংয়ের বিরুদ্ধে জোটভুক্ত দেশগুলোর জোরালো পদক্ষেপ নেয়া উচিত।

এদিকে, চীনের বিরুদ্ধে এমন পদক্ষেপ না নিতে জোটের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে অনুরোধ জানিয়েছেন জি-সেভের বর্তমান চেয়ারম্যান ও ইতালির প্রধানমন্ত্রী মারিয়ো দ্রাঘি। তিনি বলেন, ‘ চীনের বিরুদ্ধে এমন পাল্টা পদক্ষেপ নিলে বিশ্বে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু যেমন জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব প্রতিরোধে আমরা চীনের সহযোগিতা হারাতে পারি।’

আরও পড়ুন:
বৈশ্বিক মহামারি মোকাবিলায় ধনীদের মহাপরিকল্পনা

শেয়ার করুন

মন্তব্য

যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা তোলার চেষ্টা করব: রাইসি

যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা তোলার চেষ্টা করব: রাইসি

মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ তোলার চেষ্টার কথা জানান ইরানের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসি। ছবি: সংগৃহীত

ইরানের সদ্য নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট রাইসি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের নিষ্ঠুর নিষেধাজ্ঞা তোলার চেষ্টা আমরা অবশ্যই করব। আমরা ইরানের জনগণের জীবনযাত্রা এবং অর্থনীতি শর্তের ভেতর আটকে থাকতে দেব না। দেশের ভবিষ্যৎ পশ্চিমাদের মর্জির ওপর নির্ভর করবে না।’

ক্ষমতা গ্রহণের পর যুক্তরাষ্ট্রের আরোপ করা কঠোর নিষেধাজ্ঞা তুলতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবেন বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের সদ্য নির্বাচিত কট্টরপন্থি প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসি।

পাশাপাশি দেশের অসন্তুষ্ট বিরোধী মতাবলম্বীদের সঙ্গে দূরত্ব কমাতে উদ্যোগ নেয়া হবে বলেও জানান তিনি।

টেলিভিশনে দেয়া বক্তব্যে মঙ্গলবার রাইসি এসব মন্তব্য করেন বলে আল-জাজিরা ও বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের নিষ্ঠুর নিষেধাজ্ঞা তোলার চেষ্টা আমরা অবশ্যই করব।

‘আমরা ইরানের জনগণের জীবনযাত্রা এবং অর্থনীতি শর্তের ভেতর আটকে থাকতে দেব না। দেশের ভবিষ্যৎ পশ্চিমাদের মর্জির ওপর নির্ভর করবে না।’

৬০ বছর বয়সী রাইসি জানান, ২০১৫ সালের পরমাণু চুক্তি পুনরুজ্জীবিত করার লক্ষ্যে পরাশক্তি দেশগুলোর সঙ্গে অস্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনায় চলমান আলোচনা অব্যাহত রাখবেন তিনি।

২০১৫ সালে চীন, ফ্রান্স, রাশিয়া, জার্মানি, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে জয়েন্ট কম্প্রেহেন্সিভ প্ল্যান অফ অ্যাকশন (জেসিপিওএ) নামে পরমাণু চুক্তি স্বাক্ষর করে ইরান।

এতে বলা হয়, ইরানের পরমাণু কর্মসূচি সীমিতকরণের বিনিময়ে দেশটির ওপর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়া হবে।

বারাক ওবামার আমলের সেই চুক্তি থেকে একতরফাভাবে ২০১৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহার করে নেন দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প।

এরপরই ইরানের ওপর একের পর এক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে ট্রাম্প প্রশাসন।

পরমাণু চুক্তিতে ফেরা নিয়ে চলতি বছরের এপ্রিল থেকে ভিয়েনায় ইরানের সঙ্গে আলোচনায় বসে চুক্তি স্বাক্ষরকারী দেশগুলো।

আর ওই আলোচনায় পরোক্ষ অংশগ্রহণ রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের।

ভিয়েনায় চলমান আলোচনার বিষয়ে ইরান ও পশ্চিমা কর্মকর্তাদের ভাষ্য, ২০১৫ সালের চুক্তিতে ফেরা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে এখনও ঐকমত্যে পৌঁছানো যায়নি।

এপ্রিলে শুরু হওয়া আলোচনা ইরানের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের কারণে জুনে মুলতবি হয়। ওই তিন মাসে ছয়বার ইরানের সঙ্গে আলোচনায় বসে পশ্চিমা দেশগুলো।

প্রেসিডেন্ট হিসেবে রাইসি আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমতা গ্রহণের পর আলোচনা ফের শুরুর কথা জানিয়েছিল ইরান।

তবে বৈঠকের পরবর্তী তারিখ এখন পর্যন্ত ঘোষণা করেনি কোনো পক্ষ।

বৃহস্পতিবার ইরানের অষ্টম প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নিতে যাচ্ছেন রাইসি।

১৮ জুন ইরানের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বিশাল ব্যবধানে জয় পান দেশটির কট্টর রক্ষণশীল ধর্মীয় নেতা ও প্রধান বিচারপতি ইব্রাহিম রাইসি।

ইরানে চার বছরের মেয়াদে টানা দুবার ক্ষমতায় থাকা প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানির স্থলাভিষিক্ত হবেন রাইসি।

আরও পড়ুন:
বৈশ্বিক মহামারি মোকাবিলায় ধনীদের মহাপরিকল্পনা

শেয়ার করুন

পশ্চিমবঙ্গে বন্যায় ১৬ জনের মৃত্যু

পশ্চিমবঙ্গে বন্যায় ১৬ জনের মৃত্যু

পশ্চিমে বাঁকুড়া থেকে পূর্বে হাওড়া-- সর্বত্র বিপদসীমার ওপর দিয়ে বইছে নদী। ভেসে গেছে অসংখ্য গ্রাম। ছবি: সংগৃহীত

মুখ্যমন্ত্রী মমতা মন্ত্রিপরিষদের বৈঠকে বলেন, ‘নিজের জেলায় বানভাসিদের পাশে থেকে কাজ করুন। ত্রাণ যেন সময়মতো পৌঁছে দেয়া হয়, সেটা দেখুন। সমস্যা হলে ত্রাণমন্ত্রী জাভেদ খান ও পানিসম্পদ উন্নয়নমন্ত্রী মানস ভুঁইয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করবেন।’ এ ছাড়া মৃতদের পরিবারপ্রতি এক লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন মমতা।

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে নিম্নচাপের কারণে অতিবৃষ্টিতে দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। দেয়াল ভেঙে ও বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মৃতদের পরিবারপ্রতি লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেয়ার কথা ঘোষণা করেছেন।

সোমবার নবান্নে মন্ত্রিসভার বৈঠকে রাজ্যের বন্যায় মৃতদের তালিকা তৈরি করে দ্রুত দুর্গতদের পরিবারের হাতে ক্ষতিপূরণ তুলে দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

মুখ্যমন্ত্রী এদিন অন্য মন্ত্রীদের বলেন, ‘নিজের জেলায় বানভাসিদের পাশে থেকে কাজ করুন। ত্রাণ যেন সময়মতো পৌঁছে দেয়া হয়, সেটা দেখুন। সমস্যা হলে ত্রাণমন্ত্রী জাভেদ খান ও পানিসম্পদ উন্নয়নমন্ত্রী মানস ভুঁইয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করবেন।’

বৃষ্টি কিছুটা কমলেও বন্যা নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা দামোদর ভ্যালি করপোরেশনের (ডিভিসি) একাধিক জলাধার থেকে পানি ছাড়ার ফলে দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলোতে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। ডিভিসির পাঞ্চেত ও মাইথন জলাধার থেকে প্রতিদিন গড়ে ১ লাখ কিউসেক পানি ছাড়ার ফলে দুর্গাপুর ব্যারাজ থেকে দেড় লাখ কিউসেক পানি ছাড়তে হচ্ছে। ফলে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। বিপদের আশঙ্কায় ৩৯ হাজার ৩৮০ জনকে সরিয়ে নেয়া হয়েছে। তাদের রাজ্যে তৈরি ৩৫০টি ত্রাণশিবিরে রাখা হয়েছে।

সোমবার হাওড়ার আমতা ও উদয় নারায়ণপুরের ১৫টি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকা সম্পূর্ণ পানির তলায় চলে যায়। এই দুটি ব্লকের আড়াই লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। উদ্ধারকাজ শুরু করেছে সরকার। রূপনারায়ণ ও মুন্ডেশ্বরী নদীতে পানির স্তর বৃদ্ধি পাওয়ায় খানাকুলের বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে।

এখানকার পানিবন্দি ৩০ জনকে বিমানবাহিনীর হেলকপ্টার উদ্ধার করেছে। কংসাবতী ব্যারাজ থেকে পানি ছাড়ায় পাঁশকুড়া রানিহাটি এলাকার নদী বাঁধে ফাটল দেখা দিয়েছে।

সোমবার দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা, হাওড়া, বাঁকুড়া, পশ্চিম মেদিনীপুর, দুই বর্ধমানের বন্যা পরিস্থিতি দেখতে যান রাজ্যের পঞ্চায়েত মন্ত্রী সুব্রত মুখোপাধ্যায় এবং সেচমন্ত্রী সৌমেন মহাপাত্র।

অন্য মন্ত্রীদের বন্যা পরিস্থিতির ওপর নজরদারি করার নির্দেশ দেয়ার পাশাপাশি নিজেও বন্যা পরিস্থিতি পরিদর্শনে যাবেন বলে সোমবার নবান্নে মন্ত্রিসভার বৈঠকে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। হেলিকপ্টারে দুর্গতদের সাহায্যের সঙ্গে ড্রোন উড়িয়ে পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে প্রশাসন।

মন্ত্রী সুব্রত মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘ঘাটালে অনেকবার বন্যা পরিস্থিতি দেখতে এসেছি। এবার দেখছি ১৯৭৮ সালের চেয়েও অনেক বেশি ভয়াবহ। এ রকম পরিস্থিতি আগে কখনও দেখেনি।’

আরও পড়ুন:
বৈশ্বিক মহামারি মোকাবিলায় ধনীদের মহাপরিকল্পনা

শেয়ার করুন

টিকা না নিলে ক্যাম্পে আটকে রাখতে বলেননি বাইডেন

টিকা না নিলে ক্যাম্পে আটকে রাখতে বলেননি বাইডেন

ভাইরাল হওয়া এই বার্তা ব্যঙ্গাত্মক নিবন্ধ থেকে নেয়া হয়েছে বলে অনুসন্ধানে জানা যায়। ছবি: ইন্ডিয়া টুডে

ওয়েবসাইটের হোমপেজের নিচের অংশে বলা হয়েছে, ‘দ্যস্টঙ্কমার্কেট.কম আর্থিকবিষয়ক ব্যঙ্গাত্মক সাইট। আর্থিক শিল্প, শেয়ারবাজার, হেজ ফান্ড ও বৈশ্বিক বাজার নিয়ে ব্যঙ্গাত্মকধর্মী প্রতিবেদন প্রকাশ করাই এই ওয়েবসাইটের লক্ষ্য।’

করোনার ডেল্টা ধরনের প্রভাবে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ভাইরাসটির ফের ব্যাপক সংক্রমণ দেখা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে।

এমন পরিস্থিতিতে ভাইরাল হওয়া এক বার্তায় দাবি করা হয়েছে, টিকা না নিলে কোয়ারেন্টিন ক্যাম্পে বন্দি করে রাখার ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন।

ইন্ডিয়া টুডের অ্যান্টি ফেইক নিউজ ওয়ার রুম (এএফডব্লিউএ) এ দাবির সত্যতা অনুসন্ধান করে।

এতে দেখা যায়, ভাইরাল বার্তাটি ব্যঙ্গাত্মক এক নিবন্ধ থেকে নেয়া হয়েছে।

চলতি বছরের ১৭ জুন ‘দ্য স্টঙ্ক মার্কেট’ নামের এক ওয়েবসাইটে নিবন্ধটি প্রথম প্রকাশ হয়।

নিবন্ধটির শিরোনাম ছিল, ‘২০২২ সালের মধ্যে টিকা না নেয়া ব্যক্তিদের ক্যাম্পে রাখার ঘোষণা দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট বাইডেন।’

নিবন্ধে আরও বলা হয়, ‘যুক্তরাষ্ট্রের যেসব নাগরিক টিকা না নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তাদের কোয়ারেন্টিন ক্যাম্পে পুরবেন বাইডেন।

‘অনির্দিষ্টকাল ধরে তাদের ক্যাম্পেই আটকে রাখা হবে। টিকা নিলে তাদের ছেড়ে দেয়া হবে।’

করোনা সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতি ঠেকাতে জরুরি পদক্ষেপের অংশ হিসেবে বাইডেন এ সিদ্ধান্ত নেন বলেও নিবন্ধটিতে উল্লেখ করা হয়।

নিজেদের পরিষ্কারভাবে ব্যঙ্গাত্মক প্ল্যাটফর্ম হিসেবেই দাবি করে দ্য স্টঙ্ক মার্কেট ওয়েবসাইট।

ওয়েবসাইটের হোমপেজের নিচের অংশে বলা হয়েছে, ‘দ্যস্টঙ্কমার্কেট.কম আর্থিকবিষয়ক ব্যঙ্গাত্মক সাইট।

‘আর্থিক শিল্প, শেয়ারবাজার, হেজ ফান্ড ও বৈশ্বিক বাজার নিয়ে ব্যঙ্গাত্মকধর্মী প্রতিবেদন প্রকাশ করাই এ ওয়েবসাইটের লক্ষ্য।’

করোনার ডেল্টা ধরনের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়ায় সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের জনস্বাস্থ্য সংস্থা রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র (সিডিসি) দেশটির স্বাস্থ্যকর্মীদের টিকা নেয়া বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব করেছে।

পাশাপাশি টিকা নেয়া ব্যক্তিদেরও চার দেয়ালের ভেতর যেকোনো জনসমাগমস্থলে মাস্ক পরার নির্দেশনা জারি করেছে সিডিসি।

এর আগে চার দেয়ালের ভেতর টিকা নেয়া ব্যক্তিদের মাস্ক পরার প্রয়োজন নেই বলে নিজেদের নির্দেশনায় বলেছিল সংস্থাটি।

তবে করোনার ডেল্টা ধরনের প্রকোপে নির্দেশনায় পরিবর্তন আনতে বাধ্য হয় সিডিসি।

বিশেষজ্ঞদের বরাতে দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে সম্প্রতি বলা হয়, করোনা সংক্রমণ মোকাবিলায় বাধ্যতামূলক টিকা নীতি যৌক্তিক পদক্ষেপ হতে পারে।

তবে এখন পর্যন্ত নাগরিকদের জন্য করোনা টিকা বাধ্যতামূলক করেনি যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসন।

আরও পড়ুন:
বৈশ্বিক মহামারি মোকাবিলায় ধনীদের মহাপরিকল্পনা

শেয়ার করুন

চীনে বন্যায় প্রাণহানি ৩ গুণ বেড়ে ৩০২

চীনে বন্যায় প্রাণহানি ৩ গুণ বেড়ে ৩০২

চীনের ঝেংঝৌতে বন্যার পানির তোড়ে উল্টেপাল্টে পড়ে আছে গাড়ি। ছবি: এএফপি

১৭ জুলাই থেকে মাত্র তিন দিনে ৬১৭ দশমিক ১ মিলিমিটার বা ২৪ দশমিক ৩ ইঞ্চি বৃষ্টি রেকর্ড করে ঝেংঝৌ। শহরটিতে বার্ষিক গড় বৃষ্টি ৬৪০ দশমিক ৮ মিলিমিটার বা ২৫ দশমিক ২ ইঞ্চি। গত এক হাজার বছরে চীনে এত বৃষ্টি আর হয়নি বলে সে সময় জানায় স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।

চীনের মধ্যাঞ্চলীয় হেনান প্রদেশে গত মাসের বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩০২ জনে, যা গত সপ্তাহে হালনাগাদকৃত তথ্যের প্রায় তিন গুণ বেশি। এখনও নিখোঁজ অর্ধশতাধিক মানুষ।

আল-জাজিরার প্রতিবেদনে জানানো হয়, বন্যায় সবচেয়ে বিপর্যস্ত প্রাদেশিক রাজধানী ঝেংঝৌ। শহরটিতে বন্যায় মারা গেছে কমপক্ষে ২৯২ জন, নিখোঁজ ৪৭ জন। প্রদেশের অন্যান্য শহরে নিখোঁজ আরও তিনজন।

স্থানীয় সরকার সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে জানায়, সোয়া এক কোটি বাসিন্দার শহর ঝেংঝৌতে অন্যান্য সময়ে সারা বছরে যে পরিমাণ বৃষ্টিপাত হয়, জুলাইয়ে মাত্র তিন দিনেই সে পরিমাণ বৃষ্টি রেকর্ড হয়েছে সেখানে।

১৭ জুলাই থেকে মাত্র তিন দিনে ৬১৭ দশমিক ১ মিলিমিটার বা ২৪ দশমিক ৩ ইঞ্চি বৃষ্টি রেকর্ড করে ঝেংঝৌ। শহরটিতে বার্ষিক গড় বৃষ্টি ৬৪০ দশমিক ৮ মিলিমিটার বা ২৫ দশমিক ২ ইঞ্চি।

গত এক হাজার বছরে চীনে এত বৃষ্টি আর হয়নি বলে সে সময় জানায় স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।

অতিবৃষ্টির ফলে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যায় পাতাল রেল, মাটির নিচে গাড়ি পার্কিং এলাকা আর সুড়ঙ্গ সড়ক ডুবে যায় পানিতে। আটকা পড়ে কয়েক হাজার মানুষ।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিও ফুটেজে ডুবে যাওয়া রাস্তাঘাট, বন্যার পানির তোড়ে ভেসে আসা ধ্বংসস্তূপ, আর সাবওয়ে স্টেশনে গলা পানিতে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষদের উদ্ধারের অপেক্ষায় থাকার দৃশ্য দেখা গেছে।

মেয়র হৌ হং সাংবাদিকদের জানান, গাড়িং পার্কিংসহ বিভিন্ন বেজমেন্ট থেকে ৩৯ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। পাতাল রেলে পানিতে আটকে প্রাণ গেছে ১৪ জনের।

কিছুদিন আগে ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত লুওইয়াং শহরে একটি বাঁধ বন্যায় ভেঙে পড়ার আশঙ্কায় সেনা মোতায়েন করা হয় সেখানে। বাঁধটিতে ৬৫ ফুট দীর্ঘ ফাটল সৃষ্টি হয়েছে।

অতিবৃষ্টি, বন্যা, খরাসহ সাম্প্রতিক প্রাকৃতিক দুর্যোগের জন্য জলবায়ু পরিবর্তন ও বৈশ্বিক উষ্ণতাকে দায়ী করেছেন পরিবেশবিদরা।

গত দুই সপ্তাহে বিরূপ আবহাওয়ার সাক্ষী হয়েছে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চল। ইউরোপের পশ্চিমাঞ্চল, এশিয়ায় চীন, ভারত, আফগানিস্তান, আফ্রিকায় নাইজার বন্যায় ব্যাপক প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। দাবদাহ ও দাবানলে বিপর্যস্ত উত্তর আমেরিকা ও ইউরোপ।

আরও পড়ুন:
বৈশ্বিক মহামারি মোকাবিলায় ধনীদের মহাপরিকল্পনা

শেয়ার করুন

ফের করোনার হানায় সতর্ক চীন, কঠোর উহান

ফের করোনার হানায় সতর্ক চীন, কঠোর উহান

চীনের উহানে করোনা শনাক্তে গণহারে নমুনা সংগ্রহ চলছে। ফাইল ছবি

রাজধানী বেইজিংসহ বিভিন্ন শহরে আবাসিক এলাকাগুলো ঘিরে ফেলা হয়েছে এবং সংক্রমিতদের সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের কোয়ারেন্টিনে নেয়া হয়েছে।  করোনা পরীক্ষা করা হয়েছে কোটি মানুষের। সবশেষ নানজিংয়ের নিকটবর্তী ইয়াংঝৌ শহরে বাসিন্দাদের ঘরে থাকার নির্দেশ দিয়েছে প্রশাসন।

চীনের উহানে ত্বরিত গতিতে এক কোটি ১০ লাখ বাসিন্দার করোনাভাইরাস পরীক্ষার ব্যবস্থা নিয়েছে প্রশাসন। এক বছরের বেশি সময় পর মধ্যাঞ্চলীয় শহরটিতে করোনাভাইরাসের স্থানীয় সংক্রমণ শনাক্ত হওয়ায় সতর্ক অবস্থানে পুরো দেশ।

উহানের কর্মকর্তা লি তাও মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, দ্রুততম সময়ে করোনার সংক্রমণ শনাক্ত করে আক্রান্তদের কোয়ারেন্টিনে নিতে শহরের সব বাসিন্দার ‘কমপ্রিহেন্সিভ নিউক্লিক অ্যাসিড টেস্ট’ সম্পন্ন করা হবে।

ফ্রান্স টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রতিবেদনে জানানো হয়, এর আগে সোমবার স্থানীয়ভাবে সাতজনের দেহে করোনা শনাক্তের খবর জানায় প্রশাসন। সংক্রমিতদের সবাই উহানে অভিবাসী শ্রমিক।

২০১৯ সালের শেষে উহানেই করোনাভাইরাসের অস্তিত্ব প্রথম শনাক্ত হয়, পরে যা রূপ নেয় বৈশ্বিক মহামারিতে। ছোঁয়াচে ভাইরাসটির বিস্তার রোধে দীর্ঘ সময় নজিরবিহীন লকডাউনে পার করে বিশ্বের অর্ধেকের বেশি জনগোষ্ঠী।

কঠোর লকডাউন ও অন্য স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করে সে সময় দ্রুতই চীনা ভূখণ্ডে ভাইরাসটির বিস্তার নিয়ন্ত্রণে আনে দেশটির সরকার।

এবার করোনার বিস্তার নিয়ন্ত্রণহীন হওয়া ঠেকাতে বিভিন্ন শহরে বাসিন্দাদের ঘর থেকে বের হওয়া নিষেধাজ্ঞা জারি, পরিবহণ ও যোগাযোগ বন্ধ করা এবং গত কয়েকদিনে গণস্বাস্থ্যপরীক্ষা কার্যক্রমসহ নানা ব্যবস্থা নিয়েছে প্রশাসন।

চীনজুড়ে মঙ্গলবার স্থানীয় সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে ৬১ জনের দেহে। জুলাইয়ের মাঝামাঝি থেকে দেশটিতে নতুন করে করোনা শনাক্ত হয়েছে চার শতাধিক মানুষের দেহে। বিশেষ করে বিভিন্ন শহরে ছড়িয়েছে রূপ পরিবর্তিত করোনার ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট।

অধিক সংক্রামক ভিন্ন বৈশিষ্ট্যের ভাইরাসটি নানজিং শহরের বিমানবন্দরে পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের মধ্যে প্রথম শনাক্ত হয়। এরপরই হুনানসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ডেল্টা শনাক্তের খবর আসতে থাকে।

এরই মধ্যে রাজধানী বেইজিংসহ বিভিন্ন শহরে আবাসিক এলাকাগুলো ঘিরে ফেলা হয়েছে এবং সংক্রমিতদের সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের কোয়ারেন্টিনে নেয়া হয়েছে। করোনা পরীক্ষা করা হয়েছে কোটি মানুষের।

সবশেষ নানজিংয়ের নিকটবর্ত ইয়াংঝৌ শহরে বাসিন্দাদের ঘরে থাকার নির্দেশ দিয়েছে প্রশাসন। গত ২৪ ঘণ্টায় শহরটিতে গণপরীক্ষা কর্মসূচিতে ৪০ জনের দেহে করোনা শনাক্তের পর নেয়া হয় এ ব্যবস্থা।

এর ফলে ইয়াংঝৌয়ের ১৩ লাখের বেশি মানুষ ঘরবন্দি হয়ে পড়েছে। দৈনন্দিন জরুরি কেনাকাটার জন্য প্রতি পরিবারের একজন প্রতিদিন বাড়ির বাইরে যাওয়ার অনুমতি পাবে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।

হুনান প্রদেশে পর্যটন শহর ঝাংজিয়াজি ও নিকটবর্তী ঝুঝৌ শহরেও গত কয়েক দিনে একইরকম ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। শহর দুটিতে জনসংখ্যা ২০ লাখের বেশি।

আরও পড়ুন:
বৈশ্বিক মহামারি মোকাবিলায় ধনীদের মহাপরিকল্পনা

শেয়ার করুন

পার্লামেন্টের বক্তব্যে সংযমী হোন: দলীয় এমপিদের মোদি

পার্লামেন্টের বক্তব্যে সংযমী হোন: দলীয় এমপিদের মোদি

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ছবি: সংগৃহীত

ভারতে এক সপ্তাহের মধ্যে দুবার পার্লামেন্টে অচলাবস্থা সৃষ্টির জন্য নরেন্দ্র মোদি সরাসরি দায়ী করেছেন কংগ্রেসকে। অধিবেশনে কংগ্রেস কোনো কাজ করতে দিচ্ছে না বলে তিনি গত সপ্তাহে অভিযোগ করেছিলেন।

ভারতের পার্লামেন্টে বর্ষাকালীন অধিবেশন শুরু থেকেই উত্তাল। নানা ইস্যুতে বিরোধী দলের প্রতিবাদ চলছে। বিরোধীদের বিক্ষোভের মুখে দলীয় সহকর্মীদের সংসদে সংযম বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

পেগাসাস কেলেঙ্কারি, কৃষি বিল, পেট্রোপণ্যের মূল্যবৃদ্ধিসহ একাধিক ইস্যুতে ভারতের পার্লামেন্টে সরব কংগ্রেসসহ সব বিরোধী দল। উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে বারবার লোকসভা ও রাজ্যসভার অধিবেশন মুলতবি করে দিতে হচ্ছে।

সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি মঙ্গলবার এক বৈঠকে বিরোধীদের ‘আচরণ’ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

বিজেপির সংসদ সদস্যদের (এমপি) সাপ্তাহিক বৈঠক হয় এদিন সকালে। বর্ষাকালীন অধিবেশন বারবার মুলতবি হয়ে যাওয়ার প্রসঙ্গে বৈঠকে মোদি বলেন, ‘এটা সংসদের অপমান, সংবিধানের অপমান, গণতন্ত্রের অপমান, মানুষের অপমান।’

দলীয় সহকর্মীদের প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সংসদে বিরোধী বিক্ষোভের মুখে সংযম বজায় রাখতে হবে। সংসদের মর্যাদা রক্ষার জন্য সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।’

বৈঠকের তথ্য ও প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য সম্পর্কে সাংবাদিকদের জানান বিজেপির সংসদীয় মন্ত্রী প্রহ্লাদ যোশী। বিজেপি সাংসদদের এ বৈঠকে অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন দেশের আর্থিক পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করেন।

এক সপ্তাহের মধ্যে দুবার পার্লামেন্টে অচলাবস্থা সৃষ্টির জন্য নরেন্দ্র মোদি সরাসরি দায়ী করেছেন কংগ্রেসকে। অধিবেশনে কংগ্রেস কোনো কাজ করতে দিচ্ছে না বলে তিনি গত সপ্তাহে অভিযোগ করেছিলেন।

এদিকে পার্লামেন্টে সরকারবিরোধী অবস্থান জোরদার করতে ও বিজেপি-আরএসএস বিরোধী ঐক্য গড়ে তুলতে মঙ্গলবার সকালেই এক বৈঠকে বসেন রাহুল গান্ধী। বিভিন্ন দলের প্রতিনিধির সঙ্গে বৈঠকের পর পেট্রোপণ্যের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে সাইকেল চালিয়ে পার্লামেন্টে যান রাহুল।

পার্লামেন্টে অচলাবস্থার বিষয়ে শুধু প্রধানমন্ত্রী নন, লোকসভার অধ্যক্ষ ওম বিড়লাও কথা বলেছেন। তার চেয়ার লক্ষ্য করে বেশ কয়েকজন বিরোধী এমপি কাগজ ছুড়েছিলেন।

অধ্যক্ষ ওম বিড়লা এমপিদের সেই আচরণকে ‘অত্যন্ত দুঃখজনক’ বলে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, ‘এমপিরা কয়েক লাখ মানুষের প্রতিনিধিত্ব করেন। পার্লামেন্টের নীতি মেনে চলা ও গৌরব বৃদ্ধি করা তাদের কর্তব্য।

‘যেকোনো সমস্যা আলোচনার মাধ্যমে মেটানো উচিত। এই চেয়ারের বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগ থাকলে সরাসরি আমার চেম্বারে আসুন। পেপার ছোড়ার মতো ঘটনা কখনোই গ্রহণযোগ্য নয়।’

আরও পড়ুন:
বৈশ্বিক মহামারি মোকাবিলায় ধনীদের মহাপরিকল্পনা

শেয়ার করুন

বিশ্বের সবচেয়ে ‘মেধাবীদের’ ১ জন নাতাশা

বিশ্বের সবচেয়ে ‘মেধাবীদের’ ১ জন নাতাশা

প্রতীকী ছবি

ভারতীয়-আমেরিকান নাতাশা পেরি যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির থেলমা এল স্যান্ডমায়ার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। পেরি তার দক্ষতার মাধ্যমে এই অসামান্য সম্মান অর্জন করেছে।

নাতাশা পেরি, ১১ বছরের এই শিশু ভারতীয়-আমেরিকান। এখন সে বিশ্বের সবচেয়ে ‘মেধাবীদের’ একজন।

যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয় দুটি মানের পরীক্ষা এসএটি ও এসিটি নেয়ার পর এই ঘোষণা দিয়েছে।

স্কলাসটিক অ্যাসেসমেন্ট টেস্ট (এসএটি) এবং আমেরিকান কলেজ টেস্টিং (এসিটি) হচ্ছে এমন একটি স্ট্যান্ডার্ড বা মান যা নিয়ে যাচাই করা হয়, কোনো কলেজে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে কি না।

এনডিটিভির খবরে বলা হয়, অনেক ক্ষেত্রে কিছু কোম্পানি ও অলাভজনক প্রতিষ্ঠান এই পরীক্ষার নম্বরের ওপর ভিত্তি করে বৃত্তিও প্রদান করে।

দেশটিতে সব কলেজে এসএটি এবং এসিটি পরীক্ষা নিতে হয়, পরীক্ষায় পাওয়া নম্বর জমা দিতে হয় বিশ্ববিদ্যালয়ে।

নাতাশা পেরি যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির থেলমা এল স্যান্ডমায়ার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। পেরি তার দক্ষতার মাধ্যমে এই অসামান্য সম্মান অর্জন করেছে।

এক বিবৃতিতে সোমবার জানানো হয়, জন হপকিনস সেন্টার ফর ট্যালেন্টেড ইয়ুথ ট্যালেন্ট (সিটিওয়াই) ব্যতিক্রমী দক্ষতার এমন শিক্ষার্থীদের খুঁজে বের করতে এসএটি, এসিটি অথবা সমমানের পরীক্ষা নেয়।

সিটিওয়াই-এর ২০২০-২১ সালের সেরা ‘মেধাবী’ খুঁজে বের করার সেই পরীক্ষায় ৮৪ দেশের ১৯ হাজার শিক্ষার্থীর মধ্যে পেরি একজন।

সিটিওয়াই বিশ্বব্যাপী ‘মেধাবী’ শিক্ষার্থীদের চিহ্নিত করতে এবং তাদের প্রকৃত অ্যাকাডেমিক দক্ষতার একটি পরিষ্কার চিত্র তুলে ধরতে উচ্চ স্তরের এই পরীক্ষা নেয়।

পেরি জন হপকিনসের এই মেধাবীদের খুঁজে বের করা প্রতিযোগিতায় অংশ নেয় বসন্ত ২০২১ সেশনে। এটা ছিল পঞ্চম স্তরের পরীক্ষা। সেখানে পেরি মৌখিক ও কোয়ান্টিটিভ সেকশনে ৯০ শতাংশ নম্বর পেয়েছে, যা আরও উন্নত বা অষ্টম লেভেলের সমান।

এরপর পেরি জন হপকিনসের সিটিওয়াই-এর ‘হাই অনার অ্যাওয়ার্ড’ অর্জন করে।

পেরি বলে, ‘এটি আমাকে আরও বেশি কিছু করতে অনুপ্রাণিত করবে।’

ডুডলিং ও জে আর আর টোলকিনের উপন্যাস পড়া তার জন্যে এমন কাজে আরও বেশি ফল দিয়েছে বলেও যুক্ত করে পেরি।

সিটিওয়াই মেধাবী খোঁজার সেই পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ২০ শতাংশের কম উত্তীর্ণ হয়ে ‘হাই অনার অ্যাওয়ার্ড’ পেয়েছে।

আরও পড়ুন:
বৈশ্বিক মহামারি মোকাবিলায় ধনীদের মহাপরিকল্পনা

শেয়ার করুন