নাইজেরিয়ায় বন্দুকধারীদের গুলিতে অর্ধশতাধিক গ্রামবাসী নিহত

নাইজেরিয়ায় বন্দুকধারীদের গুলিতে অর্ধশতাধিক গ্রামবাসী নিহত

নাইজেরিয়ায় বন্দুকধারীর গুলিতে শুক্রবার ৫৩ গ্রামবাসী নিহত হয়।

দাউরানের বাসিন্দা মুসা আরজিকা বলেন, ‘নিহতদের দাফনকাজ করা বিপজ্জনক; কারণ দস্যুরা পাশের জুরমি বনে আশ্রয় নিয়েছে। দাফনে তারা হামলা চালাতে পারে।’

নাইজেরিয়ার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় জামফারা রাজ্যে সশস্ত্র গবাদিপশু চোরদের গুলিতে ৫৩ গ্রামবাসী নিহত হয়েছে।

শনিবার দেশটির পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের বরাতে বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

স্থানীয়দের কাছে ‘দস্যু’ নামে পরিচিত বন্দুকধারীরা জামফারা রাজ্যের জুরমি জেলায় বৃহস্পতি ও শুক্রবার টানা দুই দিন মোটরসাইকেলে চড়ে তাণ্ডব চালায়।

ওই সময় জেলার কাদাওয়া, কোয়াতা, মাদুবা, গান্দা সামু, সাউলাওয়া ও আসকাওয়া গ্রাম দখলে নেয় বন্দুকধারীরা। দখল চলাকালে গ্রামবাসীর উদ্দেশে গুলি ছোড়ে তারা।

জামফারা পুলিশের মুখপাত্র মোহাম্মদ শেহু বলেন, শুক্রবার নিহত ১৪ জনের মরদেহ রাজ্যের রাজধানী গুসাউতে পাঠানো হয়েছে। হামলার পর এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, আরও ৩৯ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। পার্শ্ববর্তী শহর দাউরানে ওই সব মরদেহ কবর দেয়া হয়।

দাউরানের বাসিন্দা হারুনা আব্দুল করিম বলেন, ‘গতকাল (শুক্রবার) আমরা ২৮ জনের মরদেহ উদ্ধার করেছি। আজ সকালে বিভিন্ন গ্রাম থেকে আরও ১১টি মরদেহ উদ্ধার হয়।’

দাউরানের আরেক বাসিন্দা মুসা আরজিকা বলেন, ‘নিহতদের দাফনকাজ করা বিপজ্জনক; কারণ দস্যুরা পাশের জুরমি বনে আশ্রয় নিয়েছে। দাফনে তারা হামলা চালাতে পারে।’

জুরমি জেলার বিভিন্ন গ্রামে প্রায়ই হানা দেয় দস্যুরা। গত সপ্তাহে হামলা বন্ধে কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়ে মহাসড়ক আটকে দিয়েছিল গ্রামবাসী।

শুক্রবার ‘খুনি দস্যুদের’ হাত থেকে নিজেদের আত্মরক্ষায় গ্রামবাসীর প্রতি আহ্বান জানান জামফারা রাজ্যের গভর্নর বেলো মাতাওয়ালে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নাইজেরিয়ার উত্তর-পশ্চিম ও মধ্যাঞ্চলের গ্রামে গ্রামে হামলা চালানো অব্যাহত রেখেছে দেশটির গবাদিপশু চোর ও অপহরণকারীরা। খুনোখুনি, গ্রামবাসী অপহরণ, গবাদিপশু চুরির পাশাপাশি বাড়িঘর লুটপাট করে জ্বালিয়ে দেয় তারা।

সম্প্রতি দেশটির দুর্বৃত্তরা মুক্তিপণের দাবিতে স্কুলে হামলা চালিয়ে শিক্ষার্থী অপহরণ করা শুরু করেছে।

গত বছরের ডিসেম্বর থেকে এখন পর্যন্ত সাড়ে আট শর বেশি শিক্ষার্থী অপহরণ করা হয়। তাদের বেশির ভাগকে মুক্তিপণ দেয়ার পর ছেড়ে দেয়া হয়।

টাকাপয়সার লোভে দস্যুরা এসব অপরাধ কর্মকাণ্ড চালায় বলে ধারণা করা হয়। তাদের মতাদর্শগত কোনো অবস্থান নেই।

তবে নাইজেরিয়ার উত্তর-পূর্বে ১২ বছর ধরে ইসলামিক স্টেট (আইএস) প্রতিষ্ঠার লড়াই চলছে। সেখান থেকে আইএস জঙ্গিরা দস্যু দলে যোগ দিতে পারে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে স্থানীয়রা।

আরও পড়ুন:
বোকো হারামের প্রধান আত্মহত্যা করেছেন: আইএস
নাইজেরিয়ায় ইসলামি স্কুল থেকে ২০০ শিশুকে অপহরণ
নৌকা দ্বিখণ্ডিত, নিখোঁজ ১৪০ যাত্রী
নাইজেরিয়ায় অপহৃত ২৭৯ স্কুলছাত্রী মুক্ত

শেয়ার করুন

মন্তব্য

গরুর দুধে সোনা তত্ত্বে মজলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি

গরুর দুধে সোনা তত্ত্বে মজলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি

বিজেপির সাবেক পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষের সঙ্গে সুকান্ত মজুমদার। ছবি: সংগৃহীত

দিলীপ ঘোষের তত্ত্ব অনুযায়ী গরুর যে কুঁজ থাকে, তার মধ্যে স্বর্ণনাড়ি থাকে। সেখানে সূর্যের আলো পড়লে তার থেকে সোনা তৈরি হয়। এ নিয়ে সে সময় তুমুল বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। তবে দিলীপ ঘোষ তার সিদ্ধান্তে অনড় থাকেন।

পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির সাবেক সভাপতি দিলীপ ঘোষের বহুল বিতর্কিত ‘গরুর দুধে সোনা’ তত্ত্বে সমর্থন দিয়েছেন রাজ্য বিজেপির নতুন সভাপতি বালুরঘাটের সাংসদ সুকান্ত মজুমদার।

সোমবার বিজেপির রাজ্য সভাপতি হয়েছেন সুকান্ত। মঙ্গলবার কলকাতায় মুরলী ধর সেন লেনের বিজেপি অফিসের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে পূর্বসূরি দিলীপ ঘোষের ভূয়সী প্রশংসা করেন।

দিলীপ প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে গরুর দুধে সোনা থাকার বিষয়টি উঠে আসে।

সুকান্ত মজুমদার বলেন, ‘এটা সমর্থন বা অসমর্থনের বিষয় নয়। বিষয়টিকে পেশ করা হয়েছে অন্যভাবে। ওই সময় একটি আন্তর্জাতিক জার্নালে ভারতীয় গরুর দুধে সোনার অস্তিত্ব নিয়ে একটা পেপার বেরিয়েছিল। আমি ওই সময় এটা পড়েছিলাম। সেটাই দিলীপদা বলেছিলেন।’

তিনি বলেন, ‘খাবার খেলে শরীরে আয়রন তৈরি হয়, তার মানে এই নয় যে সেই লোহার টিএমটি বার দিয়ে গাড়ি বানাবেন।’

২০১৯ সালের নভেম্বরে বিজেপির সদ্য সাবেক রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ দাবি করেছিলেন, ‘ভারতীয় গরুর বৈশিষ্ট্য হচ্ছে তার দুধের মধ্যে সোনার ভাগ থাকে। এজন্য দুধের রং একটু হলদে হয়।’

দিলীপ ঘোষের তত্ত্ব অনুযায়ী গরুর যে কুঁজ থাকে, তার মধ্যে স্বর্ণনাড়ি থাকে। সেখানে সূর্যের আলো পড়লে তার থেকে সোনা তৈরি হয়। এ নিয়ে সে সময় তুমুল বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। তবে দিলীপ ঘোষ তার সিদ্ধান্তে অনড় থাকেন।

বিজেপির নতুন রাজ্য সভাপতির বক্তব্য প্রসঙ্গে তৃণমূল সাংসদ সুখেন্দু শেখর রায় বলেন, ‘ওদের পুরোটাই গরু বিজ্ঞানীদের দল। সেটা যারা বিশ্বাস করার, করবে।’

বিজেপিতে এত লোক থাকতে সুকান্ত মজুমদারের মতো কম পরিচিত একজন তরুণ শিক্ষক ও সাংসদকে রাজ্য সভাপতির গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেয়ার কারণ কী?

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, জেলার মানুষ নিজেদের বঞ্চিত মনে করেন। ওই অভিযোগকে কাজে লাগিয়ে জেলায় বিজেপি তাদের সংগঠন বাড়াতে জেলার লোককে নেতৃত্বে এনেছে।

উত্তরবঙ্গ বনাম দক্ষিণবঙ্গ বিভাজনের স্লোগান দিয়ে উত্তরবঙ্গ থেকেই বিজেপির উত্থান হয়েছে।

২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে এবং ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ভালো ফল করেছে এই অঞ্চলে।

রাজ্যজুড়ে বিজেপি ব্যর্থ হলেও সুকান্ত মজুমদারের নেতৃত্বে তারা বালুরঘাট সাংসদ এলাকার তিনটি বিধানসভা কেন্দ্রের তিনটিতে জয়লাভ করেছে। তার রিপোর্ট কার্ডে তিনে তিন হয়ে যায়। এর ফলে সুকান্ত নজরে আসেন কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের।

উত্তরবঙ্গকে ঘাঁটি করে সমগ্র পশ্চিমবঙ্গে সংগঠন বাড়ানোর কাজে বালুরঘাটের সাংসদ, সাবেক কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী দেবশ্রী রায়ের বোনের ছেলে, অল্প বয়স থেকেই রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (আরএসএস) করা সুকান্ত মজুমদারের ওপর নির্ভর করেছে বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব।

আরও পড়ুন:
বোকো হারামের প্রধান আত্মহত্যা করেছেন: আইএস
নাইজেরিয়ায় ইসলামি স্কুল থেকে ২০০ শিশুকে অপহরণ
নৌকা দ্বিখণ্ডিত, নিখোঁজ ১৪০ যাত্রী
নাইজেরিয়ায় অপহৃত ২৭৯ স্কুলছাত্রী মুক্ত

শেয়ার করুন

ফ্রান্সে নির্বাচনের আগে মুসলিমবিরোধী পদক্ষেপ

ফ্রান্সে নির্বাচনের আগে মুসলিমবিরোধী পদক্ষেপ

ফ্রান্সে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বাকি নেই আট মাসও। এখনই প্রেসিডেন্ট ইম্যানুয়েল মাখোঁ প্রায় ৬০ শতাংশ সমর্থন হারিয়েছেন বলে উঠে এসেছে বিভিন্ন জনমত জরিপে। এ অবস্থায় কট্টর ডানপন্থিদের ভোট পেতে মুসলিমবিরোধী বিভিন্ন প্রস্তাব উপস্থাপন করছে তার দল। মাখোঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী কট্টর ডানপন্থি মেরি ল্যু পেন আগে থেকেই নিজের ইসলামবিরোধী ও মুসলিমবিদ্বেষী অবস্থানের জন্য পরিচিত।

ফ্রান্সে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন সামনে রেখে বিভিন্ন মুসলিম প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রচার চালাচ্ছেন দেশটির রাজনীতিবিদরা। ভোটারদের সমর্থন পেতে হাতিয়ার করেছেন ইসলামভীতিকে; আশ্বাস দিচ্ছেন মুসলিম সংগঠনগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার।

ফ্রান্সের কট্টর ডানপন্থি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জেরাল্ড ডার্মানিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টুইটারে জানিয়েছেন, মুসলিমদের একটি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে যাচ্ছেন তিনি। প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে ইসলামের ইতিহাসে ধর্মবিশ্বাসের দোহাই দিয়ে লড়াই করা মুসলিম নেতাদের কথা বলা বই বিক্রির অভিযোগ রয়েছে।

প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানটির নাম ‘নাবা এডিশন্স’। এরই মধ্যে প্রতিষ্ঠানটির নামে থাকা সব ব্যাংক হিসাব এবং তাদের অন্যতম দুই প্রধান লেখক আইসাম আইত ইয়াহইয়া ও আবু সোলাইমান আল কাবির ব্যাংক হিসাব জব্দ করেছে প্যারিস।

মন্ত্রীর দাবি, প্রতিষ্ঠানটির সম্পাদকীয় নীতিমালা ‘সার্বজনীনতাবাদ-বিরোধী ও পশ্চিমা মূল্যবোধের সঙ্গে সরাসরি সাংঘর্ষিক’। জিহাদকে বৈধতা দিয়ে প্রতিষ্ঠানটি বেশ কিছু বই প্রকাশ করেছে বলেও অভিযোগ তার।

এসব প্রকাশনার একটি হলো সপ্তম শতকের মুসলিম সেনা অধিপতি খালিদ ইবনে আল-ওয়ালিদের জীবনী।

টার্কিশ রেডিও অ্যান্ড টেলিভিশনের (টিআরটি) প্রতিবেদনে বলা হয়, ফ্রান্সের সাম্রাজ্যবাদী ইতিহাসে বর্বরতার অভিযোগে বিতর্কিত বিভিন্ন চরিত্র ও ঔপনিবেশিক শাসকদের প্রতি পক্ষপাতিত্ব রয়েছে ফরাসি প্রশাসনের। কিন্তু দেশটিতে মুসলিমরা নিজেদের ইতিহাস ও সাংস্কৃতিক পরিচয়ের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিবেচিত ব্যক্তিবর্গকে নিয়ে বই প্রকাশ করলে তা উগ্রবাদ হিসেবে গণ্য করে প্যারিস।

এক বিবৃতিতে নাবা এডিশন্স ফ্রান্সের এ ‘দ্বিমুখী আচরণের’ নিন্দা জানিয়ে বলেছে, এটি রাষ্ট্রের ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ আচরণ।

গত বছর ফ্রান্সের সর্ববৃহৎ মুসলিম দাতব্য সংস্থা বারাকা সিটি বন্ধ করে দেয় সরকার। এরপরে ইসলামভীতির বিরুদ্ধে কাজ করা পরামর্শক সংস্থা সিসিআইএফও ভেঙে দেয়া হয়। ফ্রান্সে মুসলিমদের বিরুদ্ধে সহিংসতার বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করা একমাত্র প্রতিষ্ঠান ছিল সেটি।

ফ্রান্সে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বাকি নেই আট মাসও। এখনই প্রেসিডেন্ট ইম্যানুয়েল মাখোঁ প্রায় ৬০ শতাংশ সমর্থন হারিয়েছেন বলে উঠে এসেছে বিভিন্ন জনমত জরিপে। এ অবস্থায় কট্টর ডানপন্থিদের ভোট পেতে মুসলিমবিরোধী বিভিন্ন প্রস্তাব উপস্থাপন করছে তার দল।

মাখোঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী কট্টর ডানপন্থি মেরি ল্যু পেন আগে থেকেই নিজের ইসলামবিরোধী ও মুসলিমবিদ্বেষী অবস্থানের জন্য পরিচিত।

আরও পড়ুন:
বোকো হারামের প্রধান আত্মহত্যা করেছেন: আইএস
নাইজেরিয়ায় ইসলামি স্কুল থেকে ২০০ শিশুকে অপহরণ
নৌকা দ্বিখণ্ডিত, নিখোঁজ ১৪০ যাত্রী
নাইজেরিয়ায় অপহৃত ২৭৯ স্কুলছাত্রী মুক্ত

শেয়ার করুন

মোদি-বাইডেন বৈঠকে গুরুত্ব পাবে সন্ত্রাসবাদ

মোদি-বাইডেন বৈঠকে গুরুত্ব পাবে সন্ত্রাসবাদ

জো বাইডেন দায়িত্ব গ্রহণের পর নরেন্দ্র মোদি এবারই প্রথম যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন। ফাইল ছবি

ভারতের পররাষ্ট্রসচিব হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা বলেন, ‘মোদি-বাইডেন বৈঠকে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে শক্তিশালী এবং বহুমুখী সম্পর্কের পর্যালোচনা হবে। তারা ভারত-মার্কিন বৈশ্বিক অংশীদারত্বকে আরও সমৃদ্ধ করার উপায় নিয়ে আলোচনা করবেন।'

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ওয়াশিংটনে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বসছেন ২৪ সেপ্টেম্বর। এ বৈঠকে দুই দেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় ছাড়াও আলোচনা হবে আন্তর্জাতিক মৌলবাদ ও সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলার উপায় নিয়ে।

ভারতের পররাষ্ট্রসচিব হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা মঙ্গলবার এ কথা জানান।

শ্রিংলা বলেন, ‘মোদি-বাইডেন বৈঠকে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে শক্তিশালী এবং বহুমুখী সম্পর্কের পর্যালোচনা হবে। তারা ভারত-মার্কিন বৈশ্বিক অংশীদারত্বকে আরও সমৃদ্ধ করার উপায় নিয়ে আলোচনা করবেন। আন্তর্জাতিক মৌলবাদ ও সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলার উপায় নিয়েও আলোচনা হবে।

‘দুই দেশের মধ্যে প্রতিরক্ষা ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদার করার উপায় নিয়েও দুই নেতা আলোচনা করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে আঞ্চলিক উন্নয়ন নিয়েও আলোচনা হবে।’

ভারতের পররাষ্ট্র দপ্তর জানায়, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সফর হবে ২২ থেকে ২৭ সেপ্টেম্বর। এ সময় তিনি ওয়াশিংটন ও নিউ ইয়র্ক যাবেন। ২৪ সেপ্টেম্বর হোয়াইট হাউসে রয়েছে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক। সেদিন হোয়াইট হাউসে ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া ও জাপানকে নিয়ে গঠিত কোয়াডের শীর্ষ নেতাদের বৈঠকও হবে।

কোয়াড নেতাদের এটাই হবে প্রথম মুখোমুখি বৈঠক। সেখানে আফগানিস্তানে উদ্ভূত সংকট মোকাবিলা ছাড়াও ইন্দো-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের জন্য বিশেষ এজেন্ডা নিয়ে আলোচনা হবে বলে সূত্রের দাবি।

নরেন্দ্র মোদি ২৫ সেপ্টেম্বর নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৭৬তম অধিবেশনে অংশ নেবেন।

জো বাইডেন দায়িত্ব গ্রহণের পর এটাই হবে মোদির প্রথম যুক্তরাষ্ট্র সফর। যদিও গত মার্চে কোয়াড সম্মেলন, এপ্রিলে জলবায়ু পরিবর্তন শীর্ষ সম্মেলন ও জুনে জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনে তাদের কথা হয়েছে। তিনটি অনুষ্ঠানই ছিল ভার্চুয়াল।

আরও পড়ুন:
বোকো হারামের প্রধান আত্মহত্যা করেছেন: আইএস
নাইজেরিয়ায় ইসলামি স্কুল থেকে ২০০ শিশুকে অপহরণ
নৌকা দ্বিখণ্ডিত, নিখোঁজ ১৪০ যাত্রী
নাইজেরিয়ায় অপহৃত ২৭৯ স্কুলছাত্রী মুক্ত

শেয়ার করুন

চাঁদে বরফ খুঁজতে রোবট পাঠাচ্ছে নাসা

চাঁদে বরফ খুঁজতে রোবট পাঠাচ্ছে নাসা

সৌর জগতের অন্যতম শীতল অঞ্চল চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে অবতরণ করবে রোভার ভাইপার। ছবি: নাসা

সৌর জগতের অন্যতম শীতল অঞ্চল চাঁদের দক্ষিণ মেরু। বেশ কিছু গবেষণায় প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে ধারণা মিলেছে যে, চাঁদের মেরু অঞ্চলের খাদে কয়েক শ কোটি টন বরফ সংরক্ষিত আছে। অঞ্চলটিতে কখনও সূর্যের আলো পড়েনি এবং তাপমাত্রা হিমাঙ্কের ২২৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস নিচেও থাকে।

চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে পানিতে তৈরি বরফের অস্তিত্ব আছে কি না, তা নিশ্চিতে একটি রোবটিক রোভার পাঠাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা। ২০২৩ সালে চাঁদের নোবিলে ক্রেটারের পশ্চিম প্রান্তে অবতরণ করবে রোবটটি।

৭৩ কিলোমিটার চওড়া নোবিলে ক্রেটার খাদটি প্রায় স্থায়ীভাবে ছায়ায় ঢাকা।

বিবিসির প্রতিবেদনে জানানো হয়, ভোলাটাইলস ইনভেস্টিগেটিং পোলার এক্সপ্লোরেশন রোভার, সংক্ষেপে ভাইপার মিশন নামের ওই অভিযানের মাধ্যমে চাঁদে মানুষ পাঠানোর পরিকল্পনার সম্ভাব্যতা যাচাই করা হবে। কারণ পর্যাপ্ত পরিমাণ বরফের সন্ধান মিললে এবং খননযোগ্য হলে তা খাবার পানি ও মহাকাশযানের জ্বালানির চাহিদার গুরুত্বপূর্ণ উৎস হতে পারে।

চাঁদে অবস্থানরত অবস্থায় চন্দ্রপৃষ্ঠ থেকে মহাকাশযান জ্বালানি নিতে পারলে মহাকাশভ্রমণের খরচ অনেক কমে আসবে।

২০১৮ সালের এক প্রতিবেদনে আভাস দেয়া হয়, চন্দ্রপৃষ্ঠে রকেটের জ্বালানির কেজিপ্রতি খরচ পড়বে ৫০০ ডলার। আর পৃথিবী থেকে চাঁদের কক্ষপথে সেই একই পরিমাণ জ্বালানি পাঠানোর খরচ হবে ২০ গুণ বেশি, প্রায় ১০ হাজার ডলার।

চলতি দশকেই চন্দ্রপৃষ্ঠে নভোচারীদের পাঠাতে চায় নাসা। সংস্থাটির আর্টেমিজ কর্মসূচির মাধ্যমে প্রথম নারী ও প্রথম মিশ্র বর্ণের কোনো ব্যক্তি চাঁদে পা রাখতে যাচ্ছে।

গবেষকদের প্রত্যাশা, পৃথিবীর একমাত্র প্রাকৃতিক উপগ্রহটিতে মানুষের দীর্ঘমেয়াদি উপস্থিতির পথ খুলে দিতে পারে এ কর্মসূচি।

ভাইপারের প্রকল্প ব্যবস্থাপক ও ক্যালিফোর্নিয়ায় নাসার এমিজ রিসার্চ সেন্টারের কর্মকর্তা ড্যানিয়েল অ্যান্ড্রুজ জানান, ২০২৩ সালের অভিযানের মাধ্যমে বিজ্ঞানীরা বুঝতে পারবেন যে চন্দ্রপৃষ্ঠ থেকে পানির বরফ খনন মানুষের জন্য কতটা কঠিন কিংবা সহজ হতে পারে।

সৌর জগতের অন্যতম শীতল অঞ্চল চাঁদের দক্ষিণ মেরু। বেশ কিছু গবেষণায় প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে ধারণা মিলেছে যে, চাঁদের মেরু অঞ্চলের খাদে কয়েক শ কোটি টন বরফ সংরক্ষিত আছে। অঞ্চলটিতে কখনও সূর্যের আলো পড়েনি এবং তাপমাত্রা হিমাঙ্কের ২২৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস নিচেও থাকে।

ড্যানিয়েল অ্যান্ড্রুস জানান, চন্দ্রপৃষ্ঠের ঠিক কোথায় বরফ আছে, এর ঘনত্ব কেমন, গভীরতা কত- এমন অনেক গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর মিলতে ভাইপার অভিযানের মাধ্যমে।

এ অভিযানে পরিচালনায় সক্ষম রোভারের নকশা তৈরি প্রাথমিক চ্যালেঞ্জ বলে জানিয়েছেন ভাইপারের প্রধান প্রকল্প বিজ্ঞানী অ্যান্থনি কোলাপ্রিট। তিনি বলেন, ‘চাঁদের দক্ষিণ মেরু মানুষের জন্য একেবারেই অপরিচিত।

‘একে তো বিশাল বিশাল গর্ত আছে সেখানে, যার কাছে পৃথিবীর সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ এভারেস্টও শিশু; তার ওপর ভয়ঙ্কর শীতল রাত আর তারপর দিনে উষ্ণ পরিবেশে কাজ করার উপযোগী রোভার তৈরি করতে হবে।’

রোভারটি পাঠানো হবে যুক্তরাষ্ট্রের পিটসবার্গভিত্তিক বেসরকারি মহাকাশযান নির্মাতা প্রতিষ্ঠান অ্যাস্ট্রোবটিকের তৈরি একটি মহাকাশযানের মাধ্যমে। নাসার কমার্শিয়াল লুনার পেলোড সার্ভিসেসের অধীনে ভাইপার রোভারটি সরবরাহ করতে অ্যাস্ট্রোবটিক।

এ জন্য ২০২০ সালের জুনে প্রায় ২০ কোটি ডলারের একটি চুক্তি পেয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

এদিকে চলতি মাসে ওরিয়ন ক্যাপসুলের কাঠামো তৈরি সম্পন্ন করেছে নাসা। ১৯৭২ সালের পর প্রথমবার চাঁদে মানুষ পাঠানোর অভিযানে অংশ নেয়া নভোচারীরা চড়বেন এই ক্যাপসুলে।

আরও পড়ুন:
বোকো হারামের প্রধান আত্মহত্যা করেছেন: আইএস
নাইজেরিয়ায় ইসলামি স্কুল থেকে ২০০ শিশুকে অপহরণ
নৌকা দ্বিখণ্ডিত, নিখোঁজ ১৪০ যাত্রী
নাইজেরিয়ায় অপহৃত ২৭৯ স্কুলছাত্রী মুক্ত

শেয়ার করুন

অর্থসংকটে আফগান গণমাধ্যম, তথ্যে প্রবেশাধিকার খর্ব

অর্থসংকটে আফগান গণমাধ্যম, তথ্যে প্রবেশাধিকার খর্ব

তালেবানের তথ্য ও সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী জাবিহুল্লাহ মুজাহিদের দাবি, আফগানিস্তানের সংবাদমাধ্যম মুক্ত, কোনো বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়নি।

অর্থসংকটে পড়েছে আফগানিস্তানের গণমাধ্যমগুলো। একই সঙ্গে তালেবান শাসনে কঠোরভাবে সীমিত করে দেয়া হয়েছে তথ্যে প্রবেশাধিকারও।

আফগানিস্তান ফেডারেশন অফ জার্নালিস্টস ও আফগানিস্তান ন্যাশনাল জার্নালিস্টস ইউনিয়নসহ সংশ্লিষ্ট কয়েকটি পর্যবেক্ষক সংস্থা জানিয়েছে, গত এক মাসে কার্যক্রম সংকুচিত হয়ে গেছে ১৫৩টি আফগান সংবাদমাধ্যমের। অর্থসংকট ও তথ্যে প্রবেশাধিকার না থাকায় এমন পরিস্থিতি।

টোলো নিউজের মঙ্গলবারের প্রতিবেদনে বলা হয়, এর ফলে দীর্ঘমেয়াদি সংকটের মুখে পড়তে যাচ্ছে আফগান সংবাদমাধ্যম।

পর্যবেক্ষক সংস্থাগুলোর মতে, আফগান গণমাধ্যমে অর্থসংকটের মূল কারণ দেশটিতে চলমান অর্থনৈতিক সংকট।

বোস্ট রেডিওর প্রধান আব্দুল সালাম জাহিদ বলেন, ‘আগে আমরা সরকার ও বিভিন্ন বেসরকারি সাহায্য সংস্থার প্রকল্পে কাজ করতাম, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে বিজ্ঞাপন প্রচার বাবদ অর্থ পেতাম। কিন্তু এখন দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা ভালো নয় বলে সেসবই বন্ধ।’

সংবাদ প্রতিবেদক বিসমিল্লাহ ওয়াতানদোস্ত বলেন, ‘গণমাধ্যমের আয় বিজ্ঞাপনের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু এখন কোনো বিজ্ঞাপন নেই আমাদের হাতে। ফলে অর্থ উপার্জনের পথও বন্ধ।’

এ ছাড়া তালেবান দেশের শাসনব্যবস্থার নিয়ন্ত্রণ নেয়ার পর অনেক অভিজ্ঞ সংবাদকর্মী আফগানিস্তান ছেড়ে পালিয়ে গেছেন। ফলে সংবাদমাধ্যমে অভিজ্ঞ সাংবাদিকদেরও ব্যাপক অভাব লক্ষ করা যাচ্ছে বলেও জানিয়েছেন অনেকে।

এ বিষয়ে তালেবানের তথ্য ও সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী জাবিহুল্লাহ মুজাহিদের দাবি, আফগানিস্তানের সংবাদমাধ্যম মুক্ত, কোনো বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়নি।

আরও পড়ুন:
বোকো হারামের প্রধান আত্মহত্যা করেছেন: আইএস
নাইজেরিয়ায় ইসলামি স্কুল থেকে ২০০ শিশুকে অপহরণ
নৌকা দ্বিখণ্ডিত, নিখোঁজ ১৪০ যাত্রী
নাইজেরিয়ায় অপহৃত ২৭৯ স্কুলছাত্রী মুক্ত

শেয়ার করুন

আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেলে মানবাধিকার নিয়ে আলোচনা: তালেবান

আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেলে মানবাধিকার নিয়ে আলোচনা: তালেবান

আফগানিস্তানে তালেবান শাসকগোষ্ঠীর তথ্য ও সংস্কৃতিবিষয়ক উপ-মন্ত্রী জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ। ছবি: টোলো নিউজ

আফগানিস্তানের স্বতন্ত্র মানবাধিকার কমিশন এআইএইচআরসি এক বিবৃতিতে বলেছে, ১৫ আগস্ট দেশটির বেসামরিক সরকার পতনের পর থেকে নিজেদের দায়িত্ব পালন করতে পারছে না সংস্থাটি। তালেবান এআইএইচআরসির কার্যালয় অবরুদ্ধ করে রেখেছে এবং তাদের সরঞ্জাম ব্যবহার করছে বলেও অভিযোগ তাদের।

আফগানিস্তানের সরকার হিসেবে তালেবান বিশ্ব সম্প্রদায়ের স্বীকৃতি পেলেই দেশটির মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হতে পারে। শাসকগোষ্ঠীর তথ্য ও সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রিসভার উপপ্রধান জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ এ কথা বলেছেন।

আফগান সংবাদমাধ্যম টোলো নিউজের সোমবারের প্রতিবেদনে বলা হয়, আফগানিস্তানে মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের উদ্বেগ প্রকাশের প্রতিক্রিয়ায় এ কথা বলেছেন মুজাহিদ।

টোলো নিউজকে দেয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘যতদিন না আমরা স্বীকৃতি পাচ্ছি, ততদিন অধিকার খর্বের বিষয়ে আমাদের নিয়ে তাদের সমালোচনা একপাক্ষিক হিসেবে গণ্য করা হবে।

‘আমাদের প্রতি তাদের আচরণ দায়িত্বজ্ঞানসম্পন্ন হওয়া উচিত এবং আমাদের বর্তমান সরকারকে দায়িত্বজ্ঞানসম্পন্ন প্রশাসন হিসেবে স্বীকার করে নেয়া উচিত।

‘তারপরে তারা আইন অনুযায়ী তাদের সব উদ্বেগ আমাদের জানাক। আমরাও তাদের উদ্বেগ নিরসনে ব্যবস্থা নেব।’

এর আগে রোববার আফগানিস্তানে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) প্রতিনিধি দলের প্রধান ও রাষ্ট্রদূত আন্দ্রিয়াজ ভন ব্রান্ত জানান, আফগানিস্তানে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অব্যাহত অভিযোগে ইইউ গভীরভাবে উদ্বিগ্ন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টুইটারে তিনি লেখেন, ‘বিশেষ করে নারী ও কিশোরীদের শিক্ষা ও জীবিকা উপার্জনের অধিকারে তালেবানের হস্তক্ষেপ নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন।’

তবে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেতে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ খতিয়ে দেখা উচিত হবে না বলে মন্তব্য করেছেন তালেবান সমর্থকগোষ্ঠী হিজব-ই-মুতাহিদ-ফিকর মারদুম আফগানিস্তানের প্রধান সেলিম পাইগার।

আফগানিস্তানের স্বতন্ত্র মানবাধিকার কমিশন এআইএইচআরসি এক বিবৃতিতে বলেছে, ১৫ আগস্ট দেশটির বেসামরিক সরকার পতনের পর থেকে নিজেদের দায়িত্ব পালন করতে পারছে না সংস্থাটি।

তালেবান এআইএইচআরসির কার্যালয় অবরুদ্ধ করে রেখেছে এবং তাদের সরঞ্জাম ব্যবহার করছে বলেও অভিযোগ করেছে সংস্থাটি।

আফগানিস্তানের মানবাধিকার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে স্বাধীন সংস্থা প্রতিষ্ঠায় জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদ ইউএনএইচআরসির প্রতি আহ্বান জানিয়েছে এআইএইচআরসি।

আরও পড়ুন:
বোকো হারামের প্রধান আত্মহত্যা করেছেন: আইএস
নাইজেরিয়ায় ইসলামি স্কুল থেকে ২০০ শিশুকে অপহরণ
নৌকা দ্বিখণ্ডিত, নিখোঁজ ১৪০ যাত্রী
নাইজেরিয়ায় অপহৃত ২৭৯ স্কুলছাত্রী মুক্ত

শেয়ার করুন

পশ্চিমবঙ্গে প্রথম সফল ফুসফুস প্রতিস্থাপন

পশ্চিমবঙ্গে প্রথম সফল ফুসফুস প্রতিস্থাপন

কলকাতার মেডিক্যা সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল।

চিকিৎসকদের বক্তব্য, ফুসফুস প্রতিস্থাপনের ক্ষেত্রে বেশ কিছু জটিলতা রয়েছে। কারণ অঙ্গ প্রতিস্থাপনের মধ্যে ফুসফুস প্রতিস্থাপন অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করা হয়। পাশাপাশি রোগী সম্প্রতি করোনা মুক্ত হয়েছেন।

পশ্চিমবঙ্গে প্রথমবারের মতো ৬ ঘণ্টা অস্ত্রোপচারের পর সফলভাবে ফুসফুস প্রতিস্থাপন করেছে কলকাতার মেডিকা সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল। রোগীকে রাখা হয়েছে ৭২ ঘণ্টার পর্যবেক্ষণে।

সোমবার কলকাতা থেকে একদল চিকিৎসক গুজরাটের সুরাটে গিয়ে সেখানে ব্রেইন স্ট্রোকে মৃত ৫২ বছর বয়সী এক ব্যক্তির শরীর থেকে ফুসফুস সংগ্রহ করেন। পরে গুজরাট থেকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে কলকাতায় আনা হয় ওই ফুসফুস। মৃত ব্যক্তি মরণোত্তর ফুসফুস দান করেছিলেন।

কলকাতা বিমানবন্দর থেকে রাত ৯টায় গ্রিন করিডর অর্থাৎ সব সিগন্যাল সবুজ করে দিয়ে ওই ফুসফুসবাহী অ্যাম্বুলেন্স বাইপাসের কাছে মেডিকা সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে পৌঁছায়।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, যে রোগীর দেহে সোমবার রাতে ফুসফুস প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, তিনি সম্প্রতি করোনা মুক্ত হয়েছেন। টানা ১০৩ একমো সাপোর্টে ছিলেন। কিন্তু তাতেও কাজ হচ্ছিল না। ৪৬ বছরের ওই রোগীর ফুসফুস সম্পূর্ণ বিকল হয়ে যাওয়ায় চিকিৎসকরা ফুসফুস প্রতিস্থাপনের পরামর্শ দিয়েছিলেন।

ফুসফুসের খোঁজ শুরু করে রোগীর পরিবার। অবশেষে গুজরাটের সুরাটে মেলে ফুসফুসের দাতা। দুই রাজ্যের চিকিৎসকদের মধ্যে সমন্বয়ের মাধ্যমে ফুসফুস পৌঁছায় কলকাতায়।

চিকিৎসকদের বক্তব্য, ফুসফুস প্রতিস্থাপনের ক্ষেত্রে বেশ কিছু জটিলতা রয়েছে। কারণ অঙ্গ প্রতিস্থাপনের মধ্যে ফুসফুস প্রতিস্থাপন অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করা হয়। পাশাপাশি রোগী সম্প্রতি করোনা মুক্ত হয়েছেন।

প্রখ্যাত চিকিৎসক কুনাল সরকারের নেতৃত্বে পাঁচজনের চিকিৎসক দল ফুসফুস প্রতিস্থাপনে অস্ত্রোপচার করে সফল হন।

আরও পড়ুন:
বোকো হারামের প্রধান আত্মহত্যা করেছেন: আইএস
নাইজেরিয়ায় ইসলামি স্কুল থেকে ২০০ শিশুকে অপহরণ
নৌকা দ্বিখণ্ডিত, নিখোঁজ ১৪০ যাত্রী
নাইজেরিয়ায় অপহৃত ২৭৯ স্কুলছাত্রী মুক্ত

শেয়ার করুন