বিজেপিতে বড় ভাঙন, তৃণমূলে পুত্রসহ মুকুল

বিজেপিতে বড় ভাঙন, তৃণমূলে পুত্রসহ মুকুল

পশ্চিমবঙ্গের বিধায়ক মুকুল রায় বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দিলেন। ছবি: আনন্দবাজার

‘ভারতকে যিনি আগামী দিনে নেতৃত্ব দেবেন, তিনি আমাদের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে ফেরা নিয়ে বিস্তারিত আমি পরে জানাব। বিজেপি করতে পারব না। তাই ঘরে ফিরেছি।’

বিজেপি ছেড়ে আবার তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন মুকুল রায়। সঙ্গে এনেছেন তার পুত্র শুভ্রাংশু রায়কেও। শুক্রবার তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক ব্যানার্জি তাদের উত্তরীয় পরিয়ে স্বাগত জানান।

এ সময় তৃণমূল ভবনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, তৃণমূল মহাসচিব পার্থ চ্যাটার্জি, সুব্রত বক্সী, ফিরহাদ হাকিমসহ অনেকে। একসময় মমতার পর মুকুল রায়কে তৃণমূলের সবচেয়ে প্রভাবশালী ব্যক্তি গণ্য করা হতো।

তার ফিরে আসার প্রেক্ষাপটে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সাংবাদিকদের বলেন, ‘এখন ও এখানে এসে শান্তি পেল। বিজেপি করা যায় না।’

আর মুকুল রায় বলেন, ‘নিজের খুব ভালো লাগছে। পুরোনো ছেলেদের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। বিজেপি থেকে বেরিয়ে এসে ভালো লাগছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘ভারতকে যিনি আগামী দিনে নেতৃত্ব দেবেন, তিনি আমাদের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে ফেরা নিয়ে বিস্তারিত আমি পরে জানাব। বিজেপি করতে পারব না। তাই ঘরে ফিরেছি।’

সাংবাদিকদের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘মুকুলের ওপর অনেক অত্যাচার হয়েছে। ও মুখে বলতে পারছিল না।’

মমতা ও মুকুল দুজনেই বলেন, ‘আমাদের মধ্যে কখনও কোনো মতবিরোধ ছিল না।’

মমতা আরও বলেন, ‘যারা গাদ্দারি করে চলে গেছে দল ছেড়ে, তাদের আমরা দলে ফেরাব না।’

মুকুলের তৃণমূলে যোগ দেয়ার বিষয়ে বিজেপি নেতা শমীক ভট্টাচার্য বলেন, ‘একজন চলে গেলে দলের কিছু এসে যায় না। আমাদের দল নেতানির্ভর নয়।’

রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি ধরাশায়ী হয়েছে। সরকার গঠন তো দূর অস্ত, ১০০ আসনের গণ্ডি পেরোতে পারেনি। এই প্রেক্ষাপটে বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দেয়ার জন্য মুখিয়ে আছেন অনেকে। তবে মুকুল রায়ের ক্ষেত্রে তেমনটা নয়। তিনি বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি। বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে তার সরাসরি যোগাযোগ। বলতে গেলে তার হাত ধরে তৃণমূল ছেড়ে একের পর এক নেতা মন্ত্রী বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন।

রাজ্য বিজেপির উত্থানে মুকুল রায়ের অবদান অনস্বীকার্য কিন্তু পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের আগে কোথায় যেন বেঁধে তাকে রেখে বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব রাজ্য দাপিয়ে বেড়িয়েছে। মুকুল রায়কেও সেভাবে নির্বাচনে পাওয়া যায়নি। বিজেপির সঙ্গে মুকুলের দূরত্ব বাড়ছিলই।

কৃষ্ণনগর বিধানসভা কেন্দ্র থেকে নির্বাচনে তৃণমূল প্রার্থীর বিরুদ্ধে প্রায় কোনো শব্দ খরচ করেননি মুকুল। আগে পরে কখনও তৃণমূল নেত্রীর বিরুদ্ধে কোনো বাজে শব্দ ব্যবহার করেননি। তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও বিভিন্ন সময়ে নরম মনোভাব দেখিয়েছেন মুকুল রায়ের প্রতি।

ভোটের প্রচারে গিয়ে তৃণমূল নেত্রী বলেন, ‘মুকুল বেচারার জন্য কষ্ট হয়। কোথায় তাকে কৃষ্ণনগরে ফেলে রেখেছে।’ কিংবা ‘মুকুল অতটা খারাপ নয়।’ এসব মন্তব্য থেকে রাজ্যের রাজনীতিতে মুকুলের তৃণমূলে ফেরা নিয়ে জল্পনা শুরু হয়।

বিধানসভা নির্বাচনে কৃষ্ণনগর কেন্দ্র থেকে জিতে বিধায়ক হিসেবে শপথ নিতে গিয়ে তৃণমূলের সুব্রত বক্সীর সঙ্গে অনেকক্ষণ কথা বলেন মুকুল রায়। বিজেপির বিষয়ে মুকুল কোনো আগ্রহ দেখাননি। তখন সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরও এড়িয়ে গেছেন।

মুকুলের পুত্র শুভ্রাংশুও দলের বিরুদ্ধে গিয়ে ফেসবুকে পোস্ট দেন। তিনি লেখেন, ‘একটি সদ্য নির্বাচিত সরকারকে আক্রমণ করার আগে আত্মসমালোচনা করা দরকার।’ তারা যে সাম্প্রদায়িক মেরুকরণের রাজনীতি পছন্দ করছেন না, সেটাও বুঝিয়ে দেন শুভ্রাংশু।

তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক ব্যানার্জি সম্প্রতি মুকুল রায়ের অসুস্থ স্ত্রীকে দেখতে হাসপাতালে যান। অথচ বিজেপির তরফে কোনো খোঁজখবর নেয়া হয়নি বলে অভিযোগ। যদিও অভিষেকের হাসপাতালে শুভ্রাংশুর মাকে দেখতে যাওয়া নিয়ে তখন বলা হয়, এটা পারিবারিক সৌজন্যে।

নির্বাচনের পর মঙ্গলবার রাজ্য বিজেপির সভাপতি দিলীপ ঘোষের সাংগঠনিক বৈঠকে পুত্রসহ মুকুলের অনুপস্থিতিতে তাদের তৃণমূলে যোগ দেয়ার আভাস আরও স্পষ্ট হয়। মুকুলের ঘনিষ্ঠরা মনে করেন, মুকুল বিজেপি থেকে তার প্রাপ্যটা পাননি।

১৯১৭ সাল থেকে বিজেপিতে ছিলেন মুকুল। বিজেপির ভেতরের অনেক আটঘাট তার জানা হয়ে গেছে । তাই পুত্রসহ মুকুলকে ফিরিয়ে তৃণমূল কংগ্রেস দিল্লি জয়ের পথে এক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিল বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

মুকুল রায়ের পুরোনো পদ তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের পদে এখন অভিষেক ব্যানার্জি। সে ক্ষেত্রে ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচন মাথায় রেখে মুকুল রায়কে তৃণমূলের রাজ্যসভার সদস্য করা হতে পারে। পাশাপাশি কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে তার বিশাল যোগাযোগ কাজে লাগাতে চাইছে তৃণমূল।

আরও পড়ুন:
ভুয়া পোস্ট দিয়ে আটক বিশ্ব হিন্দু পরিষদ নেতা
কলকাতায় ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত ২
কলকাতার ‘জোমাটো গার্ল’ সংগীতা
দিলীপের বৈঠক নিয়ে বিজেপির দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে
পশ্চিমবঙ্গে এনআরসির দাবি বিজেপি নেতা শুভেন্দুর

শেয়ার করুন

মন্তব্য

কাকাবাবুর জন্মদিনে আত্মজিজ্ঞাসার পরামর্শ বিমান বসুর

কাকাবাবুর জন্মদিনে আত্মজিজ্ঞাসার পরামর্শ বিমান বসুর

ভারতের কম্যুনিস্ট আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃত প্রয়াত কমরেড মুজাফফর আহমেদের ভবনে তার ভাস্কর্যে লাল সালাম জানাচ্ছেন সাবেক রাজ্য সম্পাদক বর্ষীয়ান সিপিএম নেতা বিমান বসু। ছবি: সংগৃহীত

সপ্তাহ খানেক আগে প্রয়াত সিপিএম নেতা অনিল বিশ্বাসের কন্যা অজন্তা বিশ্বাস তৃণমূলের মুখপত্র দৈনিক জাগো বাংলায় উত্তর সম্পাদকীয়তে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রশংসা করে দলকে বিড়ম্বনায় ফেলে দিয়েছেন। অজন্তা বিশ্বাসের লেখার পর বিমান বসুর এই লেখা, স্বাভাবিকভাবে প্রশ্ন উঠতেই পারে, যারা পার্টির লাইনের বাইরে গিয়ে কথা বলছেন, প্রচার করছেন সেইসব অজান্তাদের উদ্দেশে বর্ষীয়ান সিপিএম নেতার এই পরামর্শ কিনা।

ভারতের কম্যুনিস্ট আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃত প্রয়াত কমরেড মুজাফফর আহমেদের (কাকাবাবু) ১৩৩তম জন্মদিনে পশ্চিমবঙ্গের বিরোধীদল সিপিএমের দৈনিক মুখপত্র গণশক্তির উত্তর সম্পাদকীয়তে সহকর্মীদের আত্মজিজ্ঞাসার পরামর্শ দিয়েছেন দলের সাবেক রাজ্য সম্পাদক ও বর্ষীয়ান নেতা বিমান বসু।

পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে সিপিএমের আসন শূন্য হয়ে যাওয়ার পর তা নিয়ে দলের ভিতরে-বাইরে জোর কাটাছেঁড়া, তর্ক বিতর্ক চলছে। এ নিয়ে দলের অনেক নেতাকর্মী দলের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে মুখ খুলেছেন।

সপ্তাহ খানেক আগে প্রয়াত সিপিএম নেতা অনিল বিশ্বাসের কন্যা অজন্তা বিশ্বাস তৃণমূলের মুখপত্র দৈনিক জাগো বাংলায় উত্তর সম্পাদকীয়তে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রশংসা করে দলকে বিড়ম্বনায় ফেলে দিয়েছেন।

আর এই প্রেক্ষাপটে বৃহস্পতিবার প্রয়াত সিপিএম নেতা মুজাফফর আহমেদের জন্মদিনে দলের প্রতি তার অবদানের কথা স্মরণ করে বিমান বসু লেখেন, ‘আমরা যারা এখন ভারতের মার্কসবাদী কমিউনিস্ট পার্টির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত রয়েছি, আমিসহ তাদের সবাইকে জিজ্ঞাসা করা প্রয়োজন যে, আমরা দলের জন্য কত সময় ব্যয় করি?’

কাকাবাবুদের সময় নেতাকর্মীদের ধ্যান-জ্ঞান ছিল কি করে দল জনসাধারণের সমস্যার সমাধান করতে পারে। একাজে কত ভালোভাবে নিজেকে যুক্ত রাখা যায়। জনসাধারণের মধ্যে দলের বিস্তার ঘটাতে, পার্টি পরিচালিত বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিদিনের কার্যকলাপ পরিচালনা করতে, যা যা করা উচিত তা কি আমরা ঠিকঠাক মতো করতে না পারলে তার জন্য উদ্বেগ প্রকাশ করি? কাকাবাবুরা তা করতেন।’

বিমান বসু লিখেছেন, ‘আজ আমাদের স্মরণ করতে হবে যে কাকাবাবুরা তৎকালীন সময়ে শোষিত বঞ্চিত মানুষের শোষণ মুক্তির লড়াই করার জন্য যে সংগঠিত প্রয়াস অব্যাহত রেখেছিলেন তার ফলশ্রুতিতে বিশের দশক ও তিরিশের দশকে অসংখ্য ছোট ছোট লড়াই সংগ্রামের পথ বেয়ে বড় লড়াইয়ের ভিত্তি গড়ে উঠেছে।

আমরা যেন ভুলে না যাই, আজকেও স্থানীয় ভিত্তিতে ছোট ছোট লড়াই সফলভাবে সংগঠিত করার ভিতের ওপর দাঁড়িয়ে ভবিষ্যতে বড় লড়াই সংগঠিত করার দামামা বেজে উঠবে।

কমরেড মুজাফফর আহমেদ ১৯১৭ সালে রাশিয়ায় সফল বলশেভিক বিপ্লবের বার্তা পাওয়ার পর থেকে আমাদের দেশে (বর্তমান ভারতে) শ্রমিক কৃষকদের সংগঠিত করা এবং স্বাধীনতা সংগ্রামে পরিকল্পিতভাবে অংশ নেয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন। আন্দোলন-সংগ্রামে তিনি যুক্ত থাকার ফলশ্রুতিতে ইংরেজ পুলিশরা তার ওপর নজরদারি চালাতে থাকে। তাই তাকে অনেক সময় পুলিশের নজর এড়িয়ে আত্মগোপনে থেকেও আন্দোলন-সংগ্রাম ও সংগঠনের কাজ পরিচালনা করতে হয়েছে।

একবার আত্মগোপনে থাকার সময়েই তার পরিচয় গোপন করার উদ্দেশে তাকে সবাই কাকাবাবু নামে সম্বোধন করা শুরু করেন। আর এই থেকে কমরেড মুজাফফর আহমেদ সবার কাছে কাকাবাবু হয়ে ওঠেন।’

ভারতের কম্যুনিস্ট আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃত প্রয়াত কমরেড মুজাফফর আহমেদের ১৩৩তম জন্মদিনে তারই সতীর্থ কমরেড বিমান বসুর এই উত্তর সম্পাদকীয়র সপ্তাহ খানেক আগে, তারই দলের আরেক সদস্য প্রয়াত অনিল বিশ্বাসের কন্যা অজন্তা বিশ্বাস তৃণমূলের দৈনিক মুখপত্র জাগো বাংলায় উত্তর সম্পাদকীয় লিখে দলকে বিড়ম্বনায় ফেলেছেন। ওই লেখায় দলের সময়োপযোগী না হয়ে উঠতে পারার ব্যর্থতা, রাজ্যের বিধানসভায় সিপিএমের আসন শূন্য হয়ে যাওয়া থেকে তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জয় গান পর্যন্ত করা হয়েছে।

অজন্তা বিশ্বাসের লেখার পর বিমান বসুর এই লেখা, স্বাভাবিকভাবে প্রশ্ন উঠতেই পারে, যারা পার্টির লাইনের বাইরে গিয়ে কথা বলছেন, প্রচার করছেন সেইসব অজান্তাদের উদ্দেশ্যে বিমানের এই পরামর্শ কিনা।

আরও পড়ুন:
ভুয়া পোস্ট দিয়ে আটক বিশ্ব হিন্দু পরিষদ নেতা
কলকাতায় ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত ২
কলকাতার ‘জোমাটো গার্ল’ সংগীতা
দিলীপের বৈঠক নিয়ে বিজেপির দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে
পশ্চিমবঙ্গে এনআরসির দাবি বিজেপি নেতা শুভেন্দুর

শেয়ার করুন

ইরানে হামলায় প্রস্তুত ইসরায়েল

ইরানে হামলায় প্রস্তুত ইসরায়েল

ইরানে হামলায় নিজের সেনাবাহিনী প্রস্তুত বলে বৃহস্পতিবার জানান ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী বেনি গানৎজ। ছবি: এএফপি

সাক্ষাৎকারে ইরানের ওপর হামলা চালাতে ইসরায়েল প্রস্তুত কি না, জানতে চাইলে ইসরায়েলের মন্ত্রী গানৎজ বলেন, ‘হ্যাঁ, আমরা প্রস্তুত। ইরান বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক সমস্যার জন্য দায়ী। কয়েকটি ফ্রন্টে হামলা হতে পারে।’

ইরানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ইসরায়েলের সেনাবাহিনী প্রস্তুত বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী বেনি গানৎজ।

আরব অঞ্চলে চলমান উত্তেজনার মধ্যে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ওয়াইনেটে বৃহস্পতিবার সাক্ষাৎকারে তিনি এ মন্তব্য করেন বলে আল-জাজিরার প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

গত সপ্তাহে ওমান উপসাগরে ইসরায়েলের ট্যাংকারে ভয়াবহ ড্রোন হামলা হয়। একে ঘিরে ওই অঞ্চলে আক্রমণাত্মক অবস্থানে রয়েছে ইসরায়েল।

ওই হামলায় ইরানকে দায়ী করে ইসরায়েল জানিয়েছে, ট্যাংকার মারসার স্ট্রিটে হামলার পেছনে ইরানের যে হাত রয়েছে, তার প্রমাণ মিত্রদের দেয়া হবে।

তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানায়নি ইহুদি রাষ্ট্রটি।

ইসরায়েলি ট্যাংকার হামলায় ইরানকে দায়ী করে পাল্টা জবাবের অঙ্গীকার করে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য।

হামলায় যুক্তরাজ্য ও রোমানিয়ার দুই ক্রু নিহত হয়।

ইসরায়েলসহ পশ্চিমা দুই দেশের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে ইরান জানায়, কোনো দেশ তেহরানের স্বার্থে আঘাত হানার সিদ্ধান্ত নিলে সমুচিত জবাব দেয়া হবে।

সাক্ষাৎকারে ইরানের ওপর হামলা চালাতে ইসরায়েল প্রস্তুত কি না, জানতে চাইলে ইসরায়েলের মন্ত্রী গানৎজ বলেন, ‘হ্যাঁ, আমরা প্রস্তুত।’

তিনি বলেন, ‘ইরান বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক সমস্যার জন্য দায়ী। কয়েকটি ফ্রন্টে হামলা হতে পারে।’

এ বিষয়ে ইরানের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানা যায়নি।

ইরানের কট্টরপন্থি নতুন প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসি পার্লামেন্টে শপথ নেয়ার দিনই ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী গানৎজ এ হুঁশিয়ারি দিলেন।

বুধবার ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড করপসের (আইআরজিসি) সেনাপ্রধান হোসেন সালামি জানান, ইসরায়েলসহ যেসব দেশ হুমকি দিচ্ছে, তাদের ইরানের আত্মরক্ষামূলক ও আক্রমণাত্মক সক্ষমতা বিবেচনা করা উচিত।

আরও পড়ুন:
ভুয়া পোস্ট দিয়ে আটক বিশ্ব হিন্দু পরিষদ নেতা
কলকাতায় ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত ২
কলকাতার ‘জোমাটো গার্ল’ সংগীতা
দিলীপের বৈঠক নিয়ে বিজেপির দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে
পশ্চিমবঙ্গে এনআরসির দাবি বিজেপি নেতা শুভেন্দুর

শেয়ার করুন

লোকসভার নিরাপত্তা কর্মীকে নিগ্রহের অভিযোগ তৃণমূল সাংসদদের বিরুদ্ধে

লোকসভার নিরাপত্তা কর্মীকে নিগ্রহের অভিযোগ তৃণমূল সাংসদদের বিরুদ্ধে

ভারতের সংসদ। ফাইল ছবি

রাজ্যসভার কাচের দরজা ভেঙে আহত হওয়ার ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ জানিয়ে লোকসভার সচিবকে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন নারী নিরাপত্তাকর্মী চন্দ্রকলা। এ ঘটনায় অল্পবিস্তর জখম হয়েছেন সাংসদ অর্পিতা ঘোষও।

রাজ্যসভা থেকে সাসপেন্ড হওয়া তৃণমূল সাংসদদের বিরুদ্ধে দুর্ব্যবহার এবং শারীরিক নিগ্রহের অভিযোগ এনেছেন লোকসভার নারী নিরাপত্তাকর্মী চন্দ্রকলা।

রাজ্যসভার কাচের দরজা ভেঙে আহত হওয়ার ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ জানিয়ে লোকসভার সচিবকে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন তিনি। এ ঘটনায় অল্পবিস্তর জখম হয়েছেন সাংসদ অর্পিতা ঘোষও।

সব মিলিয়ে বুধবার রাজ্যসভায় তৃণমূল সাংসদদের বরখাস্ত হওয়ার ঘটনার রেশ তো কাটলই না, বরং নতুন মাত্রা পেল।

তৃণমূল অবশ্য বুধবার থেকেই অন্য দাবি জানিয়ে আসছে। বৃহস্পতিবার সময় ধরে ধরে ওই দিনের ঘটনার বিবরণ দিয়েছেন তৃণমূল সাংসদ ডেরেক ও ব্রায়েন।

টুইটারে একটি ভিডিও তুলে দিয়ে ডেরেক লিখেছেন, সকাল সাড়ে ১১টার দিকে পেগাসাস কাণ্ডে আলোচনা করতে রাজি হয়নি সরকার। এরপর ৩০ জন বিরোধী সাংসদ ওয়েলে নেমে বিক্ষোভ দেখাতে থাকে। সকাল ১১টা ১৩ মিনিটের দিকে প্ল্যাকার্ড হাতে থাকার কারণে বরখাস্ত করা হয় ছয় সাংসদকে।

দুপুর ৩টা ৩৫ মিনিটের দিকে সেদিনের মতো স্থগিত হওয়ার পরই তিন তৃণমূল সাংসদকে সংসদ কক্ষে ঢুকতে বাধা দেন একজন পুরুষ মার্শাল। গোটা ঘটনা তুলে ধরে ডেরেকের প্রশ্ন, ‘এটা কী গণতন্ত্র চলছে?’

তৃণমূলের যুক্তি, সদনের মধ্যে রাজ্যসভায় সাংসদ দোলা সেনের ব্যাগ রয়ে গিয়েছিল। তিনি সেটি আনতে যেতে চাইলেও তাকে আনতে দেয়া হচ্ছিল না। অথচ অধিবেশন শেষ হয়ে গিয়েছিল সেদিনের মতো অর্থাৎ সাসপেনশান উঠেও গিয়েছিল।

পরে ডেরেক ও ব্রায়েন নিয়ম দেখিয়ে সুর চড়াতেই সুর নরম করে সরকার পক্ষ। ঘটনা পরম্পরা বলছে একদিনে পেগাসাস নিয়ে যেমন বিরোধী-সরকার দ্বন্দ্ব চরমে, তখন নিরাপত্তার প্রশ্নটি নতুন মাত্রা নিতে পারে।

তৃণমূল ছেড়ে কথা বলবে না। দেখার বিষয় সরকার কী অবস্থান নেয়। একটি সূত্রের খবর, চারদিক থেকে কোণঠাসা সরকার চাইছে যত দ্রুত সম্ভব লোকসভা অধিবেশন শেষ করতে।

আরও পড়ুন:
ভুয়া পোস্ট দিয়ে আটক বিশ্ব হিন্দু পরিষদ নেতা
কলকাতায় ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত ২
কলকাতার ‘জোমাটো গার্ল’ সংগীতা
দিলীপের বৈঠক নিয়ে বিজেপির দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে
পশ্চিমবঙ্গে এনআরসির দাবি বিজেপি নেতা শুভেন্দুর

শেয়ার করুন

দেশকে পিছিয়ে দিচ্ছে স্বার্থপর বিরোধীরা: মোদি

দেশকে পিছিয়ে দিচ্ছে স্বার্থপর বিরোধীরা: মোদি

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ছবি: সংগৃহীত

সংসদের চলতি বর্ষাকালীন অধিবেশন শুরুর দিন থেকে বিরোধীরা পেগাসাস আড়িপাতা কেলেংকারি, তিনটি নতুন কৃষি আইন, মূল্যবৃদ্ধির বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট নিয়মের আওতায় আলোচনার দাবি জানিয়ে আসছে। প্রধানমন্ত্রী সংসদে সব বিষয়ে আলোচনার আশ্বাস দিলেও পেগাসাস কেলেংকারিকে ‘নন ইস্যু’ আখ্যা দিয়ে আলোচনার দাবি মানতে অস্বীকার করেছেন সংসদীয় মন্ত্রী প্রহ্লাদ যোশী।

ভারতীয় সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশনের শুরু থেকে বিরোধীদের বিক্ষোভে কার্যত বারবার উত্তাল হয়েছে রাজ্যসভা ও লোকসভা। সংসদে ২২টি বিল পাশ হয়েছে আলোচনা ছাড়াই। এমন পরিস্থিতিতে আগেও বিরোধীদের দোষারোপ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

আবার একবার নাম না করে বৃহস্পতিবার বিরোধীদের বিরুদ্ধে আক্রমণ শানালেন তিনি। বিরোধীরা নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থ চরিতার্থ করতে দেশকে পিছিয়ে নিয়ে যাচ্ছে বলে দাবি করলেন মোদি।

তার কথায়, ‘এভাবে দেশের অগ্রগতি আটকানো যাবে না।’

উত্তর প্রদেশে ‘প্রধানমন্ত্রী গরিব কল্যাণ অন্নযোজনা’র প্রাপকদের উদ্দেশে ভাষণ দিতে গিয়ে এ কথা বলেন মোদি।

সংসদের চলতি বর্ষাকালীন অধিবেশন শুরুর দিন থেকে বিরোধীরা পেগাসাস আড়িপাতা কেলেংকারি, তিনটি নতুন কৃষি আইন, মূল্যবৃদ্ধির বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট নিয়মের আওতায় আলোচনার দাবি জানিয়ে আসছে।

প্রধানমন্ত্রী সংসদে সব বিষয়ে আলোচনার আশ্বাস দিলেও পেগাসাস কেলেংকারিকে ‘নন ইস্যু’ আখ্যা দিয়ে আলোচনার দাবি মানতে অস্বীকার করেছেন সংসদীয় মন্ত্রী প্রহ্লাদ যোশী।

ভার্চুয়াল মাধ্যমে ভাষণ দিতে গিয়ে এদিন মোদি বলেন, ‘একদিকে আমার দেশ, দেশের যুব সম্প্রদায় জয়ের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। আর বিরোধীরা রাজনৈতিক স্বার্থ চরিতার্থ করতে এমন কাজ করছে, যাতে তারাই আত্মঘাতী গোল করছে। নিজের স্বার্থে দেশের সময় নষ্ট করছে।’

প্রধানমন্ত্রীর কথায়, ‘দেশ কী চায়, দেশ কী পাচ্ছে, দেশ কীভাবে বদলাচ্ছে তাতে কিছু যায় আসে না বিরোধীদের।’

এদিন তিনি বিরোধীদের বার্তা দিয়ে সাফ জানান, বিরোধীদের জন্য দেশ কখনও থেমে থাকবে না, দেশের অগ্রগতি আটকানো যাবে না।

বিরোধীদের প্রতি মোদির ক্ষোভ নতুন নয়। এর আগে কংগ্রেস, তৃণমূল কংগ্রেসসহ বিরোধী সাংসদদের বার্তা দিয়েছেন তিনি। এর আগে দলীয় সাংসদদের বৈঠকে একই বার্তা দিয়েছিলেন তিনি।

রাজ্যসভার তৃণমূল সাংসদ শান্তনু সেনের প্রসঙ্গে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘যিনি কাগজ ছিনিয়ে নিয়ে ছিঁড়ে ফেললেন, তার কোনো অনুতাপ নেই।’

টুইটে ডেরেক ও ব্রায়েন বিল পাস করানোকে ‘পাপড়ি চাট’ তৈরির সঙ্গে তুলনা করেছিলেন। বৈঠকে সেই প্রসঙ্গ টেনে মোদি বলেন, ‘বিল পাস করানো নিয়ে একজন বর্ষীয়ান সাংসদ অপমানজনক মন্তব্য করেছেন। এর আগে সরাসরি কংগ্রেসের নাম করে দলীয় বৈঠকে বার্তা দেন তিনি। কংগ্রেস অধিবেশনে কোনো কাজ করতে দিচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছিলেন তিনি।’

এ প্রসঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ সুখেন্দু শেখর রায় বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির হাতে দেশের নিরাপত্তা সুরক্ষিত নয়। ভারতের ইতিহাসে কখনও ফোনে আড়িপাতার মতো ঘটনা ঘটেনি। পেগাসাস স্পাইওয়্যার কিনে সেগুলো ব্যবহার করা হয়েছে।’

সাংসদের দাবি, এই অভিযোগ নিয়ে নরেন্দ্র মোদি ও অমিত শাহ দুজনেই রহস্যজনকভাবে নিরব। কেন গণতন্ত্র মানা হচ্ছে না, সেটি নিয়ে মুখ খোলার দাবি জানিয়েছেন তিনি। সুখেন্দু শেখরের প্রশ্ন, ‘এ বিষয়ে সংসদে আলোচনা হবে না তো কোথায় হবে?’

আরও পড়ুন:
ভুয়া পোস্ট দিয়ে আটক বিশ্ব হিন্দু পরিষদ নেতা
কলকাতায় ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত ২
কলকাতার ‘জোমাটো গার্ল’ সংগীতা
দিলীপের বৈঠক নিয়ে বিজেপির দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে
পশ্চিমবঙ্গে এনআরসির দাবি বিজেপি নেতা শুভেন্দুর

শেয়ার করুন

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় জানা যাবে ভবিষ্যৎ

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় জানা যাবে ভবিষ্যৎ

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ভবিষ্যৎ আগেই জানাবে বলে জানায় যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহিনীর কর্মকর্তা জেনারেল গ্লেন ডি ভ্যানহার্ক বলেন, ‘তথ্য ও ডেটা কীভাবে আমরা ব্যবহার করব, সে বিষয়ে জিআইডিই মৌলিক পরিবর্তন হাজির করেছে। এর মাধ্যমে কৌশলগত পর্যায়ে নেতাদের সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষেত্র বাড়বে। শুধু সামরিক নেতাই নন, বেসামরিক নেতারাও এতে উপকৃত হবেন।’

সময়ের সঙ্গে সঙ্গে উন্নত হচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবস্থা। নানা ধরনের বিস্ময়কর কাজ করতে সক্ষম হচ্ছে এআই।

তবে এবার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে ভবিষ্যৎ নিয়ে তাক লাগানো কাজে হাত দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী। এর মাধ্যমে ভবিষ্যতের ঘটনা আগেই জানিয়ে দেবে এআই।

যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর পরীক্ষামূলক এই কাজের নাম দেয়া হয়েছে গ্লোবাল ইনফরমেশন ডমিনেন্স এক্সপেরিমেন্টস (জিআইডিই)। বেশ কয়েকটি ধাপে এ পরীক্ষা চলবে।

স্যাটেলাইট ছবি, গোয়েন্দা প্রতিবেদন, সেন্সর, রাডার থেকে শুরু করে আরও অনেক সূত্র থেকে পাওয়া ডেটা ওই সব পরীক্ষায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

এ পরীক্ষায় ক্লাউড কম্পিউটিংও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। এতে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সংগ্রহ করা ডেটা দক্ষতার সঙ্গে প্রক্রিয়াজাত করা সম্ভব হবে।

সামরিক কর্মকর্তা বা সংস্থা যাদের এসব ডেটার প্রয়োজন পড়বে, তারা তা ব্যবহারের সুযোগ পাবে।

গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহিনীর কর্মকর্তা জেনারেল গ্লেন ডি ভ্যানহার্ক এক প্রেস ব্রিফিংয়ে বলেন, ‘তথ্য ও ডেটা কীভাবে আমরা ব্যবহার করব, সে বিষয়ে জিআইডিই মৌলিক পরিবর্তন হাজির করেছে।

‘এর মাধ্যমে কৌশলগত পর্যায়ে নেতাদের সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষেত্র বাড়বে। শুধু সামরিক নেতাই নন, বেসামরিক নেতারাও এতে উপকৃত হবেন।’

সায়েন্স এলার্টের প্রতিবেদনে বলা হয়, অন্যান্য দেশের পদক্ষেপ সময়ের আগেই এই প্রযুক্তির মাধ্যমে জানা যাবে।

এতে সংঘর্ষ বা শত্রুতামূলক কর্মকাণ্ড শুরুর আগেই সতর্কতা ও প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা নেয়া সহজ হবে।

উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, বন্দর ছাড়ার আগে সাবমেরিনের গতিপথ নিয়ে প্রস্তুতি নেয়া থাকে। সাগরে ভাসার পর এটির চলাচল জানাই থাকে।

তবে এআই এ ক্ষেত্রে যা করবে তা হচ্ছে, সাবমেরিনসংক্রান্ত সব তথ্য একত্রিত করে আগেই অনেক দ্রুত জানাবে।

ভ্যানহার্ক বলেন, ‘আমরা ডেটাগুলো সহজলভ্য করে ক্লাউডে শেয়ার করছি। সেখানে মেশিন লার্নিং ও এআই ডেটাগুলো খতিয়ে দেখবে।

‘পরে এআই সেগুলো দ্রুত প্রক্রিয়াজাত করে সিদ্ধান্ত গ্রহণকারীদের কাছে পাঠাবে।’

তিনি বলেন, ‘এর মাধ্যমে আমরা অগ্রিম সতর্কবার্তা পাব এবং সেই অনুযায়ী কাজ করতে সক্ষম হব।’

এআইয়ের এই নতুন ব্যবস্থা ঠিক কীভাবে কাজ করবে বা সংগ্রহ করা তথ্য কীভাবে প্রক্রিয়াজাত করা হবে, সেসব বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।

তবে যা জানা গেছে তা হলো, দ্রুততম সময়ে এখন ডেটা প্রক্রিয়াজাত করা সম্ভব।

জিআইডিইর তৃতীয় ধাপের পরীক্ষা সম্প্রতি শেষ হয়েছে। চতুর্থ ধাপের পরীক্ষার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন:
ভুয়া পোস্ট দিয়ে আটক বিশ্ব হিন্দু পরিষদ নেতা
কলকাতায় ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত ২
কলকাতার ‘জোমাটো গার্ল’ সংগীতা
দিলীপের বৈঠক নিয়ে বিজেপির দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে
পশ্চিমবঙ্গে এনআরসির দাবি বিজেপি নেতা শুভেন্দুর

শেয়ার করুন

টেক্সাসে সড়ক দুর্ঘটনায় ১০ অভিবাসনপ্রত্যাশীর মৃত্যু

টেক্সাসে সড়ক দুর্ঘটনায় ১০ অভিবাসনপ্রত্যাশীর মৃত্যু

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে সড়ক দুর্ঘটনায় বুধবার ১০ অভিবাসনপ্রত্যাশীর মৃত্যু হয়। ছবি: এএফপি

টেক্সাসের জননিরাপত্তা দপ্তরের (ডিপিএস) পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়, মেক্সিকো সীমান্ত থেকে কয়েক মাইল দূরে অঙ্গরাজ্যের ফালফুরিয়াস শহরে দুর্ঘটনাটি হয়। এ বিষয়ে তদন্ত চলছে।

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যে মেক্সিকো সীমান্তের কাছে অভিবাসনপ্রত্যাশী বহনকারী ভ্যান দুর্ঘটনায় কমপক্ষে ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে।

স্থানীয় সময় বুধবার বিকেলে এ ঘটনা ঘটে বলে টেক্সাস কর্তৃপক্ষের বরাতে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি

টেক্সাসের জননিরাপত্তা দপ্তরের (ডিপিএস) পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়, মেক্সিকো সীমান্ত থেকে কয়েক মাইল দূরে অঙ্গরাজ্যের ফালফুরিয়াস শহরে দুর্ঘটনাটি হয়। এ বিষয়ে তদন্ত চলছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বুধবার বিকেল ৪টার দিকে যাত্রীবাহী একটি ভ্যান নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মহাসড়ক থেকে হঠাৎ ছিটকে রাস্তার ধারে খুঁটিকে ধাক্কা দেয়।

টেক্সাস হাইওয়ে প্যাট্রোল এক বিবৃতিতে জানায়, ভ্যানের চালকসহ ১০ যাত্রীর ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয়।

টেক্সাসের ব্রুকস কাউন্টির শেরিফ উরবিনো মারটিনেজের বরাতে দ্য নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, ভ্যানটিতে ৩০ জন যাত্রী ছিল।

টেক্সাসের জননিরাপত্তা দপ্তরের মুখপাত্র সার্জেন্ট নাথান ব্র্যান্ডলি এএফপিকে বলেন, ‘ধারণা করা হচ্ছে, ভ্যানে থাকা যাত্রীরা নথিবিহীন অভিবাসী। এ বিষয়ে দূতাবাসের সঙ্গে আমরা কথা বলব।’

এর আগে জননিরাপত্তা দপ্তর জানিয়েছিল, দুর্ঘটনার পর আহত ২০ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

পাচারকারীরা প্রায়ই ভ্যানগাড়িতে গাদাগাদি করে মেক্সিকো থেকে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের পাচার করে।

চলতি বছরের মার্চে ক্যালিফোর্নিয়ার দক্ষিণাঞ্চলে ভারী ট্রাকের সঙ্গে অভিবাসনপ্রত্যাশী বহনকারী গাড়ির সংঘর্ষে ১৩ জন প্রাণ হারায়।

ওই ঘটনায় পাচারের অভিযোগে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়।

আরও পড়ুন:
ভুয়া পোস্ট দিয়ে আটক বিশ্ব হিন্দু পরিষদ নেতা
কলকাতায় ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত ২
কলকাতার ‘জোমাটো গার্ল’ সংগীতা
দিলীপের বৈঠক নিয়ে বিজেপির দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে
পশ্চিমবঙ্গে এনআরসির দাবি বিজেপি নেতা শুভেন্দুর

শেয়ার করুন

ব্লাসফেমি মামলায় জামিন, মন্দির ভাঙচুর

ব্লাসফেমি মামলায় জামিন, মন্দির ভাঙচুর

পাকিস্তানে বুধবার এক মন্দিরে হামলা হয়। ছবি: ডন

পাকিস্তানের একটি মাদ্রাসার অভিযোগের ভিত্তিতে হিন্দু ধর্মাবলম্বী ​৯ বছরের ছেলেকে গ্রেপ্তার করা হয়। আদালত শিশুটিকে জামিন দিলে মেনে নিতে পারেননি স্থানীয়রা। লাঠিসোঁটা ও রড নিয়ে গণেশ মন্দির ভাঙচুর করেন তারা।

ব্লাসফেমি মামলায় হিন্দু ধর্মাবলম্বী ৯ বছরের এক ছেলেকে জামিন দেয়ায় পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশে একটি মন্দির ভাঙচুর করেছে ইসলাম ধর্মাবলম্বী শতাধিক মানুষ।

পাঞ্জাবের রহিম ইয়ার খান জেলার ভং শহরে বুধবার ওই ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে বলে ডন ও বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

ডনের প্রতিবেদনে বলা হয়, ভং শহরে এক মাদ্রাসায় শিশুছেলেটি প্রস্রাব করেছিল বলে অভিযোগ আছে।

সূত্রের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়, ২৪ জুলাই দারুল উলুম আরবিয়া তেলিমুল কোরান মাদ্রাসার হাফেজ মোহাম্মদ ইব্রাহিমের অভিযোগের ভিত্তিতে ৯ বছরের ছেলেটির বিরুদ্ধে মামলা করে ভং পুলিশ।

পাকিস্তান দণ্ডবিধির ২৯৫-এ ধারায় মামলাটি হয়।

মামলার পর মাদ্রাসা প্রশাসনের কাছে ক্ষমা চান স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের বয়োজ্যেষ্ঠরা। তাদের ভাষ্য, আসামি অপ্রাপ্তবয়স্ক এবং মানসিক প্রতিবন্ধী।

তবে চার দিন আগে ওই ছেলে জামিন পাওয়ায় বুধবার কয়েকজন ব্যক্তি আদালতের জামিন নির্দেশের বিরুদ্ধে স্থানীয়দের প্ররোচিত করেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া এক ভিডিওতে দেখা যায়, লোকজন লাঠিসোঁটা ও রড নিয়ে গণেশ মন্দির ভাঙচুর করছেন। পরে ভাঙচুরকারীরা তিন ঘণ্টারও বেশি সুক্কুর-মুলতান সড়ক অবরোধ করেন।

স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা রিয়াসাত আলী বলেন, ‘ভাঙচুরে মন্দির ভবনের আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।’

রহিম ইয়ার খান জেলা পুলিশের মুখপাত্র আহমেদ নাওয়াজ চীমা জানান, ওই এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

চীমা জানান, আসামি অপ্রাপ্তবয়স্ক। তবে তার মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে এখন পর্যন্ত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

নিরাপত্তার স্বার্থে ওই ছেলেকে রহিম ইয়ার খান জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলেও জানান তিনি।

বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, ওই অঞ্চলে হিন্দু ও মুসলমানদের মধ্যে অর্থসংক্রান্ত বিরোধ চলছিল, যা বিশৃঙ্খলার মূল কারণ হিসেবে ধারণা করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন:
ভুয়া পোস্ট দিয়ে আটক বিশ্ব হিন্দু পরিষদ নেতা
কলকাতায় ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত ২
কলকাতার ‘জোমাটো গার্ল’ সংগীতা
দিলীপের বৈঠক নিয়ে বিজেপির দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে
পশ্চিমবঙ্গে এনআরসির দাবি বিজেপি নেতা শুভেন্দুর

শেয়ার করুন