বিজেপিতে বড় ভাঙন, তৃণমূলে পুত্রসহ মুকুল

পশ্চিমবঙ্গের বিধায়ক মুকুল রায় বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দিলেন। ছবি: আনন্দবাজার

বিজেপিতে বড় ভাঙন, তৃণমূলে পুত্রসহ মুকুল

‘ভারতকে যিনি আগামী দিনে নেতৃত্ব দেবেন, তিনি আমাদের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে ফেরা নিয়ে বিস্তারিত আমি পরে জানাব। বিজেপি করতে পারব না। তাই ঘরে ফিরেছি।’

বিজেপি ছেড়ে আবার তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন মুকুল রায়। সঙ্গে এনেছেন তার পুত্র শুভ্রাংশু রায়কেও। শুক্রবার তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক ব্যানার্জি তাদের উত্তরীয় পরিয়ে স্বাগত জানান।

এ সময় তৃণমূল ভবনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, তৃণমূল মহাসচিব পার্থ চ্যাটার্জি, সুব্রত বক্সী, ফিরহাদ হাকিমসহ অনেকে। একসময় মমতার পর মুকুল রায়কে তৃণমূলের সবচেয়ে প্রভাবশালী ব্যক্তি গণ্য করা হতো।

তার ফিরে আসার প্রেক্ষাপটে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সাংবাদিকদের বলেন, ‘এখন ও এখানে এসে শান্তি পেল। বিজেপি করা যায় না।’

আর মুকুল রায় বলেন, ‘নিজের খুব ভালো লাগছে। পুরোনো ছেলেদের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। বিজেপি থেকে বেরিয়ে এসে ভালো লাগছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘ভারতকে যিনি আগামী দিনে নেতৃত্ব দেবেন, তিনি আমাদের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে ফেরা নিয়ে বিস্তারিত আমি পরে জানাব। বিজেপি করতে পারব না। তাই ঘরে ফিরেছি।’

সাংবাদিকদের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘মুকুলের ওপর অনেক অত্যাচার হয়েছে। ও মুখে বলতে পারছিল না।’

মমতা ও মুকুল দুজনেই বলেন, ‘আমাদের মধ্যে কখনও কোনো মতবিরোধ ছিল না।’

মমতা আরও বলেন, ‘যারা গাদ্দারি করে চলে গেছে দল ছেড়ে, তাদের আমরা দলে ফেরাব না।’

মুকুলের তৃণমূলে যোগ দেয়ার বিষয়ে বিজেপি নেতা শমীক ভট্টাচার্য বলেন, ‘একজন চলে গেলে দলের কিছু এসে যায় না। আমাদের দল নেতানির্ভর নয়।’

রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি ধরাশায়ী হয়েছে। সরকার গঠন তো দূর অস্ত, ১০০ আসনের গণ্ডি পেরোতে পারেনি। এই প্রেক্ষাপটে বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দেয়ার জন্য মুখিয়ে আছেন অনেকে। তবে মুকুল রায়ের ক্ষেত্রে তেমনটা নয়। তিনি বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি। বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে তার সরাসরি যোগাযোগ। বলতে গেলে তার হাত ধরে তৃণমূল ছেড়ে একের পর এক নেতা মন্ত্রী বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন।

রাজ্য বিজেপির উত্থানে মুকুল রায়ের অবদান অনস্বীকার্য কিন্তু পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের আগে কোথায় যেন বেঁধে তাকে রেখে বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব রাজ্য দাপিয়ে বেড়িয়েছে। মুকুল রায়কেও সেভাবে নির্বাচনে পাওয়া যায়নি। বিজেপির সঙ্গে মুকুলের দূরত্ব বাড়ছিলই।

কৃষ্ণনগর বিধানসভা কেন্দ্র থেকে নির্বাচনে তৃণমূল প্রার্থীর বিরুদ্ধে প্রায় কোনো শব্দ খরচ করেননি মুকুল। আগে পরে কখনও তৃণমূল নেত্রীর বিরুদ্ধে কোনো বাজে শব্দ ব্যবহার করেননি। তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও বিভিন্ন সময়ে নরম মনোভাব দেখিয়েছেন মুকুল রায়ের প্রতি।

ভোটের প্রচারে গিয়ে তৃণমূল নেত্রী বলেন, ‘মুকুল বেচারার জন্য কষ্ট হয়। কোথায় তাকে কৃষ্ণনগরে ফেলে রেখেছে।’ কিংবা ‘মুকুল অতটা খারাপ নয়।’ এসব মন্তব্য থেকে রাজ্যের রাজনীতিতে মুকুলের তৃণমূলে ফেরা নিয়ে জল্পনা শুরু হয়।

বিধানসভা নির্বাচনে কৃষ্ণনগর কেন্দ্র থেকে জিতে বিধায়ক হিসেবে শপথ নিতে গিয়ে তৃণমূলের সুব্রত বক্সীর সঙ্গে অনেকক্ষণ কথা বলেন মুকুল রায়। বিজেপির বিষয়ে মুকুল কোনো আগ্রহ দেখাননি। তখন সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরও এড়িয়ে গেছেন।

মুকুলের পুত্র শুভ্রাংশুও দলের বিরুদ্ধে গিয়ে ফেসবুকে পোস্ট দেন। তিনি লেখেন, ‘একটি সদ্য নির্বাচিত সরকারকে আক্রমণ করার আগে আত্মসমালোচনা করা দরকার।’ তারা যে সাম্প্রদায়িক মেরুকরণের রাজনীতি পছন্দ করছেন না, সেটাও বুঝিয়ে দেন শুভ্রাংশু।

তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক ব্যানার্জি সম্প্রতি মুকুল রায়ের অসুস্থ স্ত্রীকে দেখতে হাসপাতালে যান। অথচ বিজেপির তরফে কোনো খোঁজখবর নেয়া হয়নি বলে অভিযোগ। যদিও অভিষেকের হাসপাতালে শুভ্রাংশুর মাকে দেখতে যাওয়া নিয়ে তখন বলা হয়, এটা পারিবারিক সৌজন্যে।

নির্বাচনের পর মঙ্গলবার রাজ্য বিজেপির সভাপতি দিলীপ ঘোষের সাংগঠনিক বৈঠকে পুত্রসহ মুকুলের অনুপস্থিতিতে তাদের তৃণমূলে যোগ দেয়ার আভাস আরও স্পষ্ট হয়। মুকুলের ঘনিষ্ঠরা মনে করেন, মুকুল বিজেপি থেকে তার প্রাপ্যটা পাননি।

১৯১৭ সাল থেকে বিজেপিতে ছিলেন মুকুল। বিজেপির ভেতরের অনেক আটঘাট তার জানা হয়ে গেছে । তাই পুত্রসহ মুকুলকে ফিরিয়ে তৃণমূল কংগ্রেস দিল্লি জয়ের পথে এক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিল বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

মুকুল রায়ের পুরোনো পদ তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের পদে এখন অভিষেক ব্যানার্জি। সে ক্ষেত্রে ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচন মাথায় রেখে মুকুল রায়কে তৃণমূলের রাজ্যসভার সদস্য করা হতে পারে। পাশাপাশি কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে তার বিশাল যোগাযোগ কাজে লাগাতে চাইছে তৃণমূল।

আরও পড়ুন:
ভুয়া পোস্ট দিয়ে আটক বিশ্ব হিন্দু পরিষদ নেতা
কলকাতায় ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত ২
কলকাতার ‘জোমাটো গার্ল’ সংগীতা
দিলীপের বৈঠক নিয়ে বিজেপির দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে
পশ্চিমবঙ্গে এনআরসির দাবি বিজেপি নেতা শুভেন্দুর

শেয়ার করুন

মন্তব্য

মিয়ানমারের বিরুদ্ধে অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা জাতিসংঘের

মিয়ানমারের বিরুদ্ধে অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা জাতিসংঘের

নির্বাচিত নেতা অং সান সু চিসহ দেশটির রাজনৈতিক বন্দিদের মুক্তির পাশাপাশি শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে সহিংসতা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ।

অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা নেয়া মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর কাছে অস্ত্র বিক্রি বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ।

গত ফেব্রুয়ারিতে সামরিক জান্তা দেশটির নির্বাচিত সরকারকে হটিয়ে ক্ষমতা নেয়ারও নিন্দা প্রস্তাব করেছে সংস্থাটির সাধারণ পরিষদ।

এ ছাড়া নির্বাচিত নেতা অং সান সু চিসহ মিয়ানমারের রাজনৈতিক বন্দিদের মুক্তি দেয়ার পাশাপাশি শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে সংহিসতা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, আইনগত বাধ্যবাধকতা না থাকলেও জাতিসংঘের এই আহ্বান খুব গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

মিয়ানমারে জাতিসংঘের বিশেষ দূত ক্রিস্টিয়ান শারনার বার্গনার সাধারণ পরিষদকে বলেন, ‘দেশটিতে বড় পরিসরে গৃহযুদ্ধের আশঙ্কা সত্যির পথে যাচ্ছে।

‘সময়ই মূল কথা। সামরিক বাহিনীর হাতে ক্ষমতা যাওয়ার পর সেখানে সুযোগ খুব সীমিত।’

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে অস্ত্র বিক্রি বন্ধের প্রস্তাব আহ্বানের পর ১১৯টি দেশ এতে সমর্থন জানিয়েছে। শুধু বেলারুশ এর বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছে।

প্রস্তাবের পক্ষে-বিপক্ষে ভোট দেয়নি ৩৬ দেশ। এর মধ্যে মিয়ানমারে সবচেয়ে বেশি অস্ত্র সরবরাহকারী রাশিয়া ও চীন রয়েছে।

এদের মধ্যে কোনো কোনো দেশ বলেছে, বিষয়টি মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ।

তারা বলছে, চার বছর আগে যখন সামরিক বাহিনী মিয়ানমারের মুসলিম রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর নির্যাতন চালায়, প্রায় ১০ লাখ রোহিঙ্গাকে দেশছাড়া করে তখন সাধারণ পরিষদ এমন কোনো উদ্যোগ নেয়নি।

জাতিসংঘে ইউরোপীয় ইউনিয়নের দূত ওলোফ স্কুগ বলেন, প্রস্তাবটি সামরিক জান্তার বৈধতা নাকচ করে। এর মাধ্যমে নিজ জনগণের ওপর তাদের নির্যাতন ও সহিংস আচরণের নিন্দা জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে বিশ্বের চোখে জান্তাদের বিচ্ছিন্ন হওয়ার বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে।

তবে দেশটির নির্বাচিত বেসামরিক সরকারের প্রতিনিধিত্বকারী, জাতিসংঘে মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত কিয়াউ মো তুন এত দেরিতে প্রস্তাব পাস হওয়ায় হতাশা করেছেন।

তার মতে, বিলম্বে প্রস্তাব পাস বিষয়টিকে দুর্বল করে ফেলেছে।

গত ফেব্রুয়ারিতে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী অভ্যুত্থানের মাধ্যমে দেশটির ক্ষমতা দখল করে। এর পর থেকে চলা বিক্ষোভে নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে ৮৬০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয় বলে জানিয়েছে পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা অ্যাসিস্ট্যান্স অ্যাসোসিয়েশন ফর পলিটিক্যাল প্রিজনার্স (এএপিপি)।
জান্তা সরকারের হাতে আটক হয়েছে প্রায় ৫ হাজার মানুষ।
আরও পড়ুন:
ভুয়া পোস্ট দিয়ে আটক বিশ্ব হিন্দু পরিষদ নেতা
কলকাতায় ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত ২
কলকাতার ‘জোমাটো গার্ল’ সংগীতা
দিলীপের বৈঠক নিয়ে বিজেপির দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে
পশ্চিমবঙ্গে এনআরসির দাবি বিজেপি নেতা শুভেন্দুর

শেয়ার করুন

জাতিসংঘের নেতৃত্বে আবার গুতেরেস

জাতিসংঘের নেতৃত্বে আবার গুতেরেস

জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস। ফাইল ছবি

আন্তরাষ্ট্রীয় সংস্থাটিতে ফের মহাসচিব পদে শপথ নিয়ে সাধারণ পরিষদের উদ্দেশে গুতেরেস বলেন, ‘বড় থেকে ছোট রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে বিশ্বাসের বীজ জন্মানো ও সেতুবন্ধ তৈরিতে আমি সর্বশক্তি নিয়োগ করব। একই সঙ্গে আস্থা সৃষ্টিতে নিরলসভাবে কাজ করে যাব।’

জাতিসংঘের মহাসচিব হিসেবে দ্বিতীয়বারের মতো নিয়োগ পেয়েছেন অ্যান্তোনিও গুতেরেস।

১৯৩ সদস্যের জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ শুক্রবার গুতেরেসকে ফের পাঁচ বছরের জন্য নিয়োগ দেয়।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়, এ মাসের শুরুতে গুতেরেসকে জাতিসংঘের মহাসচিব হিসেবে পুনর্নিয়োগ দিতে সাধারণ পরিষদের কাছে সুপারিশ করেছিল ১৫ সদস্যের নিরাপত্তা পরিষদ।

বর্তমান মহাসচিবের দ্বিতীয় মেয়াদ শুরু হবে ২০২২ সালের পয়লা জানুয়ারি।

আন্তরাষ্ট্রীয় সংস্থাটিতে ফের মহাসচিব পদে শপথ নিয়ে সাধারণ পরিষদের উদ্দেশে গুতেরেস বলেন, ‘বড় থেকে ছোট রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে বিশ্বাসের বীজ জন্মানো ও সেতুবন্ধ তৈরিতে আমি সর্বশক্তি নিয়োগ করব। একই সঙ্গে আস্থা সৃষ্টিতে নিরলসভাবে কাজ করে যাব।’

২০১৭ সালের জানুয়ারিতে বান কি-মুনের উত্তরসূরি হয়ে জাতিসংঘের নেতৃত্বে আসেন গুতেরেস। তার নিয়োগের কয়েক সপ্তাহের মাথায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেন ডনাল্ড ট্রাম্প।

প্রথম মেয়াদে গুতেরেস বড় অংশ ব্যয় করেছেন ট্রাম্পকে (যিনি জাতিসংঘের মূল্যবোধ ও বহুপাক্ষিকতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেন) সামলাতে।

জাতিসংঘের সবচেয়ে বড় আর্থিক পৃষ্ঠপোষক যুক্তরাষ্ট্র। সংস্থাটির নিয়মিত বাজেটের ২২ শতাংশের জোগান দেয় দেশটি। আর শান্তিরক্ষীদের বাজেটের প্রায় এক-চতুর্থাংশের জোগানদাতা বৈশ্বিক পরাশক্তিটি।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের আমলে জাতিসংঘের বিভিন্ন অঙ্গ সংস্থায় অর্থ কমিয়ে দিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। তবে চলতি বছরের জানুয়ারিতে ক্ষমতায় বসার পর বাইডেন অর্থ দেয়া স্বাভাবিকের পাশাপাশি জাতিসংঘের সঙ্গে আগের মতো সম্পৃক্ত হওয়ায় মনোযোগ দিয়েছেন।

জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত লিন্ডা টমাস-গ্রিনফিল্ড বলেন, ঐতিহাসিক চ্যালেঞ্জের সামনে জাতিসংঘ।

তার আশা, গুতেরেসের আগামী পাঁচ বছর আগের চেয়ে বেশি শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও সমৃদ্ধির হবে।

৭২ বছর বয়সী গুতেরেস ১৯৯৫ থেকে ২০০২ সাল পর্যন্ত পর্তুগালের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। ২০০৫ থেকে ২০১৫ পর্যন্ত তিনি জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থার প্রধান ছিলেন।

জাতিসংঘের মহাসচিব হিসেবে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় তৎপরতা, করোনাভাইরাসের টিকার সুষম প্রাপ্তি ও ডিজিটাল সহযোগিতার ক্ষেত্রে সোচ্চার দেখা গেছে তাকে।

গুতেরেসের দায়িত্ব নেয়ার সময় সিরিয়া, ইয়েমেনে যুদ্ধ বন্ধ ও মানবিক সংকট নিরসনে হিমশিম খাচ্ছিল জাতিসংঘ।

এ দুই সংকটের সুরাহা এখনও হয়নি। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে মিয়ানমার, ইথিওপিয়ার তাইগ্রে অঞ্চলের জরুরি পরিস্থিতি।

আরও পড়ুন:
ভুয়া পোস্ট দিয়ে আটক বিশ্ব হিন্দু পরিষদ নেতা
কলকাতায় ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত ২
কলকাতার ‘জোমাটো গার্ল’ সংগীতা
দিলীপের বৈঠক নিয়ে বিজেপির দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে
পশ্চিমবঙ্গে এনআরসির দাবি বিজেপি নেতা শুভেন্দুর

শেয়ার করুন

চলে গেলেন ‘দ্য ফ্লাইং শিখ’ 

চলে গেলেন ‘দ্য ফ্লাইং শিখ’ 

মিলখা সিং। ফাইল ছবি

করোনাভাইরাস জটিলতায় মারা গেছেন ৯১ বছর বয়সী মিলখা সিং। তার মৃত্যুর খবর ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে নিশ্চিত করেন তার ছেলে শীর্ষ গলফার জিভ মিলখা সিং।

ভারতের কিংবদন্তি স্প্রিন্টার মিলখা সিং আর নেই। করোনাভাইরাস জটিলতায় মারা গেছেন ৯১ বছর বয়সী এই সাবেক অ্যাথলেট।

গত মাসে মিলখা ও তার স্ত্রী নিরমাল কউরের কোভিড ধরা পড়ে। কোভিড-সংক্রান্ত জটিলতায় গত সপ্তাহে মারা যান নিরমাল। আর শুক্রবার রাতে ভারতের চণ্ডীগড়ে মারা গেলেন মিলখা সিং।

তার মৃত্যুর খবর ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে নিশ্চিত করেন তার ছেলে শীর্ষ গলফার জিভ মিলখা সিং। জিভ ছাড়াও তার মোনা সিং, আলিজা গ্রোভার ও সোনিয়া সানওয়ালকা নামের তিন মেয়ে আছে।

১৯২৯ সালে ভারতের গোভিন্দপুরার (বর্তমানে পাকিস্তানে) জন্মগ্রহণ করা মিলখা সিং কমনওয়েলথ গেমসে স্বর্ণ জেতা ভারতের প্রথম অ্যাথলেট। ১৯৫৮ সালের কার্ডিফ গেমসে তিনি এই কৃতিত্ব দেখান।

২০০ মিটার, ৪০০ মিটার ও ৪x ৪০০ মিটার রিলেতে এশিয়ান গেমসের স্বর্ণ জিতেন মিলখা। ১৯৬০ রোম অলিম্পিকসে তিনি ফটো ফিনিশে চতুর্থ হয়ে অল্পের জন্য ব্রোঞ্জ পদক হাতছাড়া করেন।

ভারত সরকারের কাছ থেকে ক্রীড়া ক্ষেত্রে অবদানের জন্য পদ্মশ্রী পুরস্কার পান মিলখা। ‘দ্য ফ্লাইং শিখ’ নামে খ্যাত এই অ্যাথলেটের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

এক টুইট বার্তায় ভারতের প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘শ্রীমিলখা সিংয়ের চলে যাওয়ায় আমরা মহান এক ক্রীড়াব্যক্তিত্বকে হারালাম, যিনি ভারতের মানুষের স্বপ্নের প্রতীক ছিলেন ও অগণিত মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছিলেন। তার প্রেরণাদায়ক ব্যক্তিত্ব লাখ লাখ মানুষের কাছে তাকে প্রিয় করে তুলেছিল। তার বিদায়ে অত্যন্ত ব্যথিত।’

মিলখা সিং নিজের বর্ণাঢ্য ক্রীড়াজীবন নিয়ে ‘দ্য রেইস অব মাই লাইফ’ নামের আত্মজীবনী লেখেন। যার ওপর ভিত্তি করে ভারতীয় চলচ্চিত্র নির্মাতা রাকেশ ওম প্রকাশ মেহরা তৈরি করেন ‘ভাগ মিলখা ভাগ’ নামে জনপ্রিয় এক সিনেমা।

আরও পড়ুন:
ভুয়া পোস্ট দিয়ে আটক বিশ্ব হিন্দু পরিষদ নেতা
কলকাতায় ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত ২
কলকাতার ‘জোমাটো গার্ল’ সংগীতা
দিলীপের বৈঠক নিয়ে বিজেপির দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে
পশ্চিমবঙ্গে এনআরসির দাবি বিজেপি নেতা শুভেন্দুর

শেয়ার করুন

‘ভারতের আইন মানতে বাধ্য টুইটার’

‘ভারতের আইন মানতে বাধ্য টুইটার’

টুইটারের কর্মকর্তারা স্বীকার করেছেন যেসব টুইটকে তারা পরিচ্ছন্ন বলে মনে করেন সেগুলিকেই প্রোমোট করেন বা ছড়িয়ে দিতে সাহায্য করেন, আর যেসব টুইটে সমস্যা থাকে, সেগুলোকে আটকে দেন।

কিছুদিন ধরেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম টুইটার ও ভারত সরকারের সংঘাত চরমে পৌঁছেছে। কেন প্রধান অভিযোগ কর্মকর্তা নিয়োগ করা হল না, সেটি নিয়ে প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়েছে এই প্রতিষ্ঠানকে।

শুক্রবার দেশের তথ্য ও প্রযুক্তি সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সামনে হাজিরা দিলেন টুইটার ইন্ডিয়ার পাবলিক পলিসি ম্যানেজার শাগুফতা কামরান এবং আইনজীবি অতসুশি কাপুর।

কংগ্রেসে সাংসদ শশী থারুরের নেতৃত্বে গঠিত ওই কমিটিতে তাদের কড়া প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়েছে বলে সূত্রের খবর।

জানা গেছে, এদিন ওই কমিটি সংস্থার কর্মকর্তাদের সাফ জানিয়েছে, ‘ভারতের আইনই শেষ কথা আর সংস্থা সেটি মানতে বাধ্য।’

দল নির্বিশেষে সাংসদরা রয়েছেন ওই কমিটিতে। এদিন প্রায় ৯৫ মিনিট ধরে জবাবদিহি করতে হয়েছে টুইটার কর্মকর্তাদের। একের পর এক প্রশ্নবাণ ছুড়ে দেওয়া হয় তাদের দিকে। এখনও কেন সংশ্লিষ্ট বিভাগে স্থায়ী অফিসার নিয়োগ করা হল না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

বিতর্কিত কনটেন্ট নিয়েও প্রশ্ন করা হয় তাদের। কর্মকর্তারা স্বীকার করেছেন যেসব টুইটকে তারা পরিচ্ছন্ন বলে মনে করেন সেগুলিকেই প্রোমোট করেন বা ছড়িয়ে দিতে সাহায্য করেন, আর যে সব টুইটে সমস্যা থাকে, সেগুলোকে আটকে দেন।

জানা গেছে, কেবল টুইটারই নয়, ফেসবুকসহ অন্যান্য সোশ্যাল মিডিয়া সংস্থাগুলিকেও সংসদীয় স্ট্যান্ডিং কমিটির পক্ষ থেকে নাগরিকদের অধিকার সংরক্ষণ ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের অপব্যবহার সম্পর্কে নোটিশ পাঠানো হয়েছিল।

সেখানে টুইটারের প্রতিনিধিদের মতামত জানতে চাওয়া হয় এবং নাগরিকদের অধিকার সুরক্ষা ও সামাজিক মাধ্যমের অপব্যবহার হচ্ছে কিনা, সেটি নিয়ে প্রমাণও সামনে আনতে বলা হয়। এই সামাজিক মাধ্যমগুলিতে মেয়েরা কতটা সুরক্ষিত সে বিষয়েও জানতে চাওয়া হয়।

চলতি সপ্তাহেই ভারত সরকারের নয়া তথ্য-প্রযুক্তি আইন অনুসরণ না করায় আইনি সুরক্ষা হারিয়েছে টুইটার। গাজিয়াবাদে এক বৃদ্ধকে নিগ্রহের ঘটনাতেও ভাইরাল ভিডিওটিকে বিকৃত হিসাবে চিহ্নিত না করায় উত্তর প্রদেশ ও দিল্লিতে টুইটারের ভারতীয় কর্মকর্তা মনীশ মাহেশ্বরীর বিরুদ্ধেও অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

এছাড়া কংগ্রেসের টুলকিট কাণ্ড নিয়ে লাগাতার প্রশ্নের মুখে পড়তে হচ্ছে টুইটারকে। সূত্রের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, সংসদীয় কমিটি সিদ্ধান্ত নিয়েছে ফেসবুক, ইউটিউব ও গুগলের মতো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোকেও ডেকে পাঠানো হবে সরকারের আইন অনুযায়ী তারা পদক্ষেপ নিচ্ছে কিনা সেটি জানতে।

আরও পড়ুন:
ভুয়া পোস্ট দিয়ে আটক বিশ্ব হিন্দু পরিষদ নেতা
কলকাতায় ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত ২
কলকাতার ‘জোমাটো গার্ল’ সংগীতা
দিলীপের বৈঠক নিয়ে বিজেপির দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে
পশ্চিমবঙ্গে এনআরসির দাবি বিজেপি নেতা শুভেন্দুর

শেয়ার করুন

নদী-ঝিলের জলেও করোনাভাইরাসের নমুনা

নদী-ঝিলের জলেও করোনাভাইরাসের নমুনা

সবরমতীর জলের নমুনা পরীক্ষা করে দেখা যায়, নদীর জলে অবাধে বেঁচেবর্তে রয়েছে করোনাভাইরাস। গান্ধীনগর আইআইটির আর্থ সায়েন্সেস বিভাগের অধ্যাপক মণীশ কুমার জানান, ঝিল ও নদীর জলে ভাইরাসের উপস্থিতি যথেষ্ট উদ্বেগের।

এবার ভারতে নদীর জলেও মিললো করোনাভাইরাসের নমুনা। আসামের গুয়াহাটি এবং গুজরাটের আহমেদাবাদে সবরমতীর জলে করোনার নমুনা পাওয়া গিয়েছে। একইসঙ্গে সে শহরের কাঁকরিয়া ও চন্দোলা ঝিলের জলেও করোনার উপস্থিতি মিলেছে।

গান্ধীনগর ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি (আইআইটি) ও দিল্লির জওহরলাল নেহরু ইউনিভার্সিটির স্কুল অফ এনভায়রনমেন্ট সায়েন্স যৌথভাবে সবরমতীর জলের নমুনা পরীক্ষা করে।

সেখানেই দেখা যায় নদীর জলে অবাধে বেঁচেবর্তে রয়েছে করোনাভাইরাস। গান্ধীনগর আইআইটির আর্থ সায়েন্সেস বিভাগের অধ্যাপক মণীশ কুমার জানান, ঝিল ও নদীর জলে সার্স-কোভ-২র উপস্থিতি যথেষ্ট উদ্বেগের।

গোটা রাজ্যের জন্য সেটি ভয়াবহ হতে পারে। নমুনা পরীক্ষার প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে ইউনিসেফকে। নদী ও ঝিলের জলে করোনাভাইরাসের নমুনা পাওয়ার খবর প্রকাশ্যে আসতেই আহমেদাবাদ মিউনিসিপ্যাল করপোরেশন সিদ্ধান্ত নেয়, নিয়মিতভাবে জলের নমুনা পাঠানো হবে গুজরাট বায়োটেকনোলজি রিসার্চ সেন্টারে।

জলের প্রাকৃতিক উৎসেও করোনার বাস সম্ভব কিনা সেটি খতিয়ে দেখতে লাগাতার সমীক্ষা চালাচ্ছে আইআইটি গান্ধীনগরসহ দেশের আটটি প্রতিষ্ঠান। তারা ইতোমধ্যেই ‘ন্যাচরাল ওয়াটার সোর্সে’ করোনাভাইরাসের উপস্থিতি পেয়েছে। তারা অসমের গুয়াহাটিতে ভারু নদীর জলেও সমীক্ষা চালায়। সেই নদীর জলেও করোনার উপস্থিতি দেখা গিয়েছে।

২০২০ সালের ৩ সেপ্টেম্বর ও ২৯ ডিসেম্বরের মধ্যে সপ্তাহে একবার জলের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে সাবরমতী নদী এবং কাঁকরিয়া ও চান্দোলা হ্রদ থেকে। সাবরমতী নদী থেকে ৬৯৪টি, চান্দোলা থেকে ৫৪৯ এবং কাঁকরিয়া হ্রদ থেকে ৪০২টি নমুনা নেয়া হয়।

অধ্যাপক মণীশ কুমার বলেন, ‘আমাদের দল নদী থেকে জলের নমুনা নিয়ে পরীক্ষা করেছে। আহমেদাবাদের ওয়েস্ট ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট সবচেয়ে বেশি। অন্যদিকে গুয়াহাটিতে এরকম প্ল্যান্ট একটিও নেই। আমরা তাই এই দুই জায়গাকেই পরীক্ষার কেন্দ্র হিসাবে বেছে নিই। কিন্তু দেখলাম দুই জায়গাতেই জলে করোনার উপস্থিতি।’

শুধু বর্জ্য মিশ্রিত জলই নয়, স্বচ্ছ টলটলে জলেও অবাধে থেকে যেতে পারে করোনাভাইরাস। অন্তত এই সমীক্ষায় তেমনটাই দাবি করা হয়েছে।

আরও পড়ুন:
ভুয়া পোস্ট দিয়ে আটক বিশ্ব হিন্দু পরিষদ নেতা
কলকাতায় ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত ২
কলকাতার ‘জোমাটো গার্ল’ সংগীতা
দিলীপের বৈঠক নিয়ে বিজেপির দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে
পশ্চিমবঙ্গে এনআরসির দাবি বিজেপি নেতা শুভেন্দুর

শেয়ার করুন

‘নন্দীগ্রাম মামলার বিচারপতি বিজেপির লোক’

‘নন্দীগ্রাম মামলার বিচারপতি বিজেপির লোক’

বিজেপির পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষের সঙ্গে এক সভায় বিচারপতি কৌশিক চন্দ। ছবি: সংগৃহীত

তৃণমূলের রাজ্য সম্পাদক কুণাল ঘোষ ফেসবুক পোস্টে লেখেন, ‘বিচারপতি কৌশিক চন্দের এজলাসে রয়েছে নন্দীগ্রাম মামলা। ইনি বিজেপি দরদী। নিরপেক্ষ বিচার কি সম্ভব?

তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের করা নন্দীগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্রে ভোট গণনায় কারচুপি মামলার দায়িত্বে থাকা বিচারপতির বিজেপি সংশ্লিষ্টতার কারণ দেখিয়ে মামলাটি অন্য বেঞ্চে সরানোর জন্য হাইকোর্টের ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতিকে অনুরোধ জানিয়ে চিঠি দিয়েছেন মমতার আইনজীবী।

বিচারপতি কৌশিক চন্দের বিজেপির কর্মী ছিলেন অভিযোগে শুক্রবার হাইকোর্টের আইনজীবীদের একাংশ মুখে কালো মাস্ক, হাতে পোস্টার নিয়ে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ করেন।

পোস্টারে লেখা ছিল, ‘বিচার ব্যবস্থার সঙ্গে রাজনীতি করবেন না।’

যদিও মামলাকারী মমতা ব্যানার্জির অনুপস্থিতিতে এদিন শুনানি হয়নি। শুনানির দিন পিছিয়ে ২৪ জুন ঠিক করা হয়েছে। কিন্তু শুনানি না হলেও বিচারপতির বিজেপি সংশ্লিষ্টতা নিয়ে বিক্ষোভ হয়েছে।

বিক্ষোভ করা আইনজীবীদের পক্ষে অচিন্ত্য কুমার বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘কৌশিক চন্দ এক সময় বিজেপির সক্রিয় কর্মী ছিলেন। এ ধরণের গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক মামলা তার বেঞ্চে গেলে, বিচার ব্যবস্থা নিয়ে সাধারণ মানুষের প্রশ্ন উঠবে। আমাদের দাবি অন্য বেঞ্চে এই মামলা পাঠানো হোক।’

বিক্ষোভকারী আইনজীবীদের মধ্যে থেকে এ প্রশ্নও করা হয়েছে, নন্দীগ্রাম কেন্দ্রে ভোট গণনায় কারচুপি মামলার গুরুত্ব বুঝেও কেন সেটি বিচারপতি কৌশিক চন্দের বেঞ্চে পাঠানো হলো?

বিচারপতি কৌশিক চন্দের অতীত বলছে, বিভিন্ন সময়ে তিনি আইনজীবী হিসেবে বিজেপির হয়ে মামলা লড়েছেন। এই রাজ্যে এক সময় তিনি কেন্দ্রের অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল নিযুক্ত হয়েছিলেন।

তৃণমূলের রাজ্য সম্পাদক কুণাল ঘোষ এ প্রসঙ্গে তার ফেসবুক পোস্টে বিচারপতি কৌশিক চন্দের বিজেপি সংশ্লিষ্টতার ছবি দিয়ে বিচার ব্যবস্থার প্রতি সম্মান জানিয়ে লেখেন, ‘বিচারপতি কৌশিক চন্দের এজলাসে রয়েছে নন্দীগ্রাম মামলা। ইনি বিজেপি দরদী। নিরপেক্ষ বিচার কি সম্ভব? প্রশ্ন থাকবেই। অনুরোধ, বিচারপতি চন্দ এই মামলা ছেড়ে দিন। রাজনৈতিক কোনো মামলা তিনি না নিলেই ভালো হয়।’

এ নিয়ে টুইট করেছেন তৃণমূলেরর রাজ্যসভার সাংসদ ডেরেক ও ব্রায়েনও। বিজেপি নেতারা অবশ্য এ নিয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া দেননি।

পাশাপাশি আইনজীবীদের একাংশের মত, পেশাদার আইনজীবী হিসেবে কৌশিক চন্দ যে কোনো মক্কেলের কাজ করতেই পারেন। সেটী তার পেশাগত সিদ্ধান্ত।

আরও পড়ুন:
ভুয়া পোস্ট দিয়ে আটক বিশ্ব হিন্দু পরিষদ নেতা
কলকাতায় ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত ২
কলকাতার ‘জোমাটো গার্ল’ সংগীতা
দিলীপের বৈঠক নিয়ে বিজেপির দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে
পশ্চিমবঙ্গে এনআরসির দাবি বিজেপি নেতা শুভেন্দুর

শেয়ার করুন

মহানবী মোহাম্মদের সমর্থনে মিছিলে ইসরায়েলের হামলা

মহানবী মোহাম্মদের সমর্থনে মিছিলে ইসরায়েলের হামলা

শুক্রবার আল-আকসা মসজিদে মহানবী মোহাম্মদের সমর্থনে ফিলিস্তিনিদের মিছিলে হামলা চালায় ইসরায়েলের নিরাপত্তা বাহিনী। ছবি: আনাদোলু এজেন্সি

কর্মসূচির অংশ হিসেবে নামাজ শেষে আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণে মুসল্লিরা জড়ো হলে মসজিদের অন্যতম প্রবেশপথ বাব আল-সিলসিলা দিয়ে ইসরায়েল বাহিনী ঢোকে। ওই সময় আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণে থাকা হাজার হাজার মুসল্লির ওপর স্টিল বুলেট, কাঁদানে গ্যাস ও স্টান গ্রেনেড ছোড়ে ইসরায়েলের নিরাপত্তা বাহিনী।

ইসরায়েল অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমের আল-আকসা মসজিদে মহানবী হজরত মোহাম্মদের সমর্থনে ফিলিস্তিনিদের মিছিলে হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলের নিরাপত্তা বাহিনী। এতে সাংবাদিকসহ আহত হয়েছেন তিনজন।

মিডল ইস্ট আইআল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, মঙ্গলবার পূর্ব জেরুজালেমে কট্টর ইহুদি জাতীয়তাবাদীরা তাদের শোভাযাত্রায় মহানবী হজরত মোহাম্মদ (সা.)-কে উদ্দেশ করে অবমাননাকর মন্তব্য করে।

ওই সময় ‘মহানবী মোহাম্মদ মৃত’, ‘আরবরা মরুক’, ‘শিগগিরই ২য় নাকবা (ভূমি থেকে উৎখাত) আসছে’, ‘শরণার্থী শিবিরেই তোমাদের (ফিলিস্তিনি) জীবন শেষ হবে’, ‘তোমাদের গ্রাম পুড়ে যাক’ স্লোগান দেয়া হয়।

এর প্রতিবাদে শুক্রবার জুমার নামাজের পর মহানবীর সমর্থনে আল-আকসা থেকে আদি জেরুজালেমের দামেস্ক গেট পর্যন্ত বিক্ষোভ মিছিলের কর্মসূচি নেয় ফিলিস্তিনি মুসল্লিরা।

কর্মসূচির অংশ হিসেবে নামাজ শেষে আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণে মুসল্লিরা জড়ো হলে মসজিদের অন্যতম প্রবেশপথ বাব আল-সিলসিলা দিয়ে ইসরায়েল বাহিনী ঢোকে।

ওই সময় আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণে থাকা হাজার হাজার মুসল্লির ওপর স্টিল বুলেট, কাঁদানে গ্যাস ও স্টান গ্রেনেড ছোড়ে ইসরায়েলের নিরাপত্তা বাহিনী।

হামলার সময় লাতিফেহ আবদেললাতিফ নামে মিডল ইস্ট আইয়ের এক নারী সাংবাদিকের হাঁটুতে রাবার বুলেট ছোড়ে ইসরায়েল। আহত সাংবাদিককে পরে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

অন্যদিকে ফিলিস্তিন রেড ক্রিসেন্টের পক্ষ থেকে বলা হয়, শুক্রবার অধিকৃত গাজা উপত্যকার বেইতা শহরের কাছে ইসরায়েলি বাহিনীর কাঁদানে গ্যাস ও রাবার বুলেট নিক্ষেপের ঘটনায় কমপক্ষে ৪৭ ফিলিস্তিনি আহত হয়।

আরও পড়ুন:
ভুয়া পোস্ট দিয়ে আটক বিশ্ব হিন্দু পরিষদ নেতা
কলকাতায় ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত ২
কলকাতার ‘জোমাটো গার্ল’ সংগীতা
দিলীপের বৈঠক নিয়ে বিজেপির দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে
পশ্চিমবঙ্গে এনআরসির দাবি বিজেপি নেতা শুভেন্দুর

শেয়ার করুন