শিনজিয়াংয়ে বিভীষিকাময় পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে চীন

শিনজিয়াংয়ে উইঘুরদের ওপর নির্যাতনের নিন্দা জানিয়ে ইস্তাম্বুলে চীনের কনস্যুলেটের বাইরে বিক্ষোভ। ছবি: এএফপি

শিনজিয়াংয়ে বিভীষিকাময় পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে চীন

অ্যামনেস্টির পক্ষ থেকে বলা হয়, বন্দিশিবিরে আন্তর্জাতিক আইনের মৌলিক নীতি পরিপন্থি কর্মকাণ্ড (নির্যাতন, নিপীড়ন, কারাবাস) সংঘটনের প্রমাণ পাওয়া গেছে।

উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় শিনজিয়াং প্রদেশে বসবাসরত উইঘুরসহ অন্যান্য মুসলমান সংখ্যালঘুর উপর চীন গুরুতর মানবতাবিরোধী অপরাধ করছে বলে মন্তব্য করেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল।

স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলনে শিনজিয়াং নিয়ে ১৬০ পৃষ্ঠার প্রতিবেদন হাজির করে অ্যামনেস্টি। সেখানে এই মন্তব্য করে সংস্থাটি।

প্রতিবেদনে বলা হয়, শিনজিয়াংয়ে উইঘুর, কাজাখসহ অন্যান্য মুসলমান সম্প্রদায়ের ওপর গণ আটক, নজরদারি ও নির্যাতন চালাচ্ছে চীন। এসব বিষয় তদন্তে জাতিসংঘের প্রতি আহ্বান জানায় মানবাধিকার সংস্থাটি।

শিনজিয়াং প্রদেশে ‘বিভীষিকাময় পরিস্থিতি’ সৃষ্টির জন্য চীনা কর্তৃপক্ষকে দায়ী করেন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের মহাসচিব আনিয়েস ক্যালামার্দ।

তিনি বলেন, ‘শিনজিয়াংয়ে বন্দি শিবিরে বিপুল সংখ্যক মানুষ মগজ ধোলাই, নির্যাতন ও অন্যান্য অবমাননাকর পরিস্থিতির শিকার হচ্ছেন। এ ছাড়া শিবিরের বাইরে লাখ লাখ মানুষ ব্যাপক নজরদারির মধ্যে রয়েছেন। এ নিয়ে আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন ওখানকার বাসিন্দারা। এমন পরিস্থিতি মানবতার বিবেকে ধাক্কা দেয়া উচিত।’

জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেসের বিরুদ্ধে ম্যান্ডেট অনুযায়ী কাজ করতে ব্যর্থ হওয়ার অভিযোগ আনেন অ্যামনেস্টির মহাসচিব ক্যালামার্দ।

ক্যালামার্দ বিবিসিকে বলেন, ‘শিনজিয়াং পরিস্থিতির নিন্দা জানাননি গুতেরেস। আন্তর্জাতিক তদন্তেরও আহ্বান জানাননি তিনি।

‘মানবিক মূল্যবোধের সুরক্ষা নিশ্চিতের ওপর প্রতিষ্ঠিত জাতিসংঘ। সে হিসেবে শিনজিয়াং নিয়ে কথা বলা সংস্থাটির মহাসচিবের দায়িত্ব। মানবতবিরোধী অপরাধের ঘটনায় চুপ করে থাকা তাকে মানায় না।’

শিনজিয়াং শিবিরের ৫৫ সাবেক বন্দির সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়।

অ্যামনেস্টির পক্ষ থেকে বলা হয়, বন্দিশিবিরে আন্তর্জাতিক আইনের মৌলিক নীতি পরিপন্থি কর্মকাণ্ড (নির্যাতন, নিপীড়ন, কারাবাস) সংঘটনের প্রমাণ পাওয়া গেছে।

এর আগে এপ্রিলে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচের প্রতিবেদনেও অ্যামনেস্টির মতো প্রায় একই বক্তব্য উঠে আসে। শিনজিয়াংয়ে মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য চীনের সরকারকে দায়ী করে সংস্থাটি।

সংবাদ সম্মেলনে অ্যামনেস্টির প্রতিবেদনের লেখক জোনাথান লোয়েব বলেন, গণহত্যা অপরাধের সব প্রমাণ প্রতিবেদনে হাজির হয়নি। এটিতে কেবল ভয়াবহতার সামান্য অংশই প্রকাশ হয়েছে।

শিনজিয়াং প্রদেশে ২০১৭ সাল থেকে শুরু হওয়া লাখ লাখ উইঘুরসহ অন্যান্য মুসলমানদের শিবিরে আটকে রেখে চীন সরকারের নির্যাতন চালানোর বিষয়ে একমত বিশেষজ্ঞরা।

তবে এসব অভিযোগ বরাবরই প্রত্যাখ্যান করে আসছে চীন। দেশটির ভাষ্য, ঐচ্ছিক কারিগরী শিক্ষা দেয়া হয় শিবিরে। পাশাপাশি সেখানে সন্ত্রাসবাদ ঠেকাতে মৌলবাদ নির্মূলকরণ কর্মসূচিও পরিচালনা করা হয়।

আরও পড়ুন:
উইঘুর ট্রাইব্যুনালে গণহত্যার ইস্যুতে সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু
উইঘুরদের ওপর নজরদারি যন্ত্রের পরীক্ষা চালাচ্ছে চীন
উইঘুরদের প্রতি চীনের আচরণ ‘মানবতাবিরোধী অপরাধ’
উইঘুর: চীনা কর্মকর্তাদের ওপর পশ্চিমা দেশগুলোর অবরোধ
উইঘুরদের ওপর গণহত্যার অভিযোগ অযৌক্তিক: চীন

শেয়ার করুন

মন্তব্য

মায়ামিতে বহুতল ভবন ধসে নিহত ১, নিখোঁজ ৯৯

মায়ামিতে বহুতল ভবন ধসে নিহত ১, নিখোঁজ ৯৯

মায়ামি বিচ এলাকার উত্তরের এই ভবনটির আংশিক ধসে পড়ে স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায়। ছবি: এএফপি

মায়ামির মেয়র ড্যানিয়েল লেভিন-শাভা জানিয়েছেন, স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে ভবনটি ধসে পড়ার সময় সেখানে কতজন অবস্থান করছিলেন, সে বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে শতাধিক ব্যক্তি জীবিত বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের মায়ামি শহরে একটি ১২ তলা আবাসিক ভবনের আংশিক ধসে প্রাণ গেছে কমপক্ষে একজনের। এ ঘটনায় নিখোঁজ হয়েছে ৯৯ জন।

বিবিসির প্রতিবেদনে জানানো হয়, নিখোঁজ ব্যক্তিদের বেশির ভাগই লাতিন আমেরিকার বিভিন্ন দেশের নাগরিক বলে নিশ্চিত করেছে কয়েকটি দেশের কনস্যুলেট।

মায়ামির মেয়র ড্যানিয়েল লেভিন-শাভা জানিয়েছেন, স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে ভবনটি ধসে পড়ার সময় সেখানে কতজন অবস্থান করছিলেন, সে বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে শতাধিক ব্যক্তি জীবিত বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

১৯৮১ সালে সার্ফসাইড শহরে নির্মাণ হয় আবাসন কমপ্লেক্সটি। ভবন ধসের ফলে কমপ্লেক্সের ১৩০টি ইউনিটের অর্ধেকই ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

ভবন ধসের পরপর ছোটখাটো অগ্নিকাণ্ডও হয় সেখানে। ২০ মিনিটের মধ্যে আগুন নিয়ন্ত্রণেও আনে ফায়ার ব্রিগেড।

এ পর্যন্ত ৩৫ জনকে ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। এখনও চলছে উদ্ধারকাজ।

ধ্বংসস্তূপ সরাতে ক্রেনসহ বিভিন্ন ভারী সরঞ্জাম ব্যবহার করা হচ্ছে। মানুষের সন্ধান পেতে সহযোগিতা করছে পুলিশের প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কুকুর।

নিখোঁজ ব্যক্তিদের মধ্যে আছেন প্যারাগুয়ের ফার্স্ট লেডির বোন, ভগ্নিপতি, তাদের তিন সন্তান ও একজন গৃহকর্মী।

ধসের কারণ জানা যায়নি। তবে ভবনটির ছাদে সংস্কারকাজ চলছিল।

ক্ষয়ক্ষতির কারণ জানতে এবং ধসের কারণ অনুসন্ধানে ঘটনাস্থলে কাজ করছেন প্রকৌশলীরা।

আরও পড়ুন:
উইঘুর ট্রাইব্যুনালে গণহত্যার ইস্যুতে সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু
উইঘুরদের ওপর নজরদারি যন্ত্রের পরীক্ষা চালাচ্ছে চীন
উইঘুরদের প্রতি চীনের আচরণ ‘মানবতাবিরোধী অপরাধ’
উইঘুর: চীনা কর্মকর্তাদের ওপর পশ্চিমা দেশগুলোর অবরোধ
উইঘুরদের ওপর গণহত্যার অভিযোগ অযৌক্তিক: চীন

শেয়ার করুন

জম্মু-কাশ্মীরকে পূর্ণ রাজ্যের মর্যাদা সময়মতো: মোদি

জম্মু-কাশ্মীরকে পূর্ণ রাজ্যের মর্যাদা সময়মতো: মোদি

কাশ্মীরের বিশেষ ক্ষমতা প্রত্যাহারের পর দীর্ঘদিন চলে কারফিউ। ছবি: এএফপি

কাশ্মীরের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও ন্যাশনাল কনফারেন্স নেতা ওমর আব্দুল্লাহ বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দুজনই আশ্বাস দিয়েছেন শিগগিরই রাজ্যের তকমা ফেরানো হবে এবং নির্বাচনপ্রক্রিয়া শুরু হবে।’

২০১৯-এর তুমুল বিতর্ক তোলা সিদ্ধান্তের পর প্রথমবার ফারুক আব্দুল্লাহ, মেহবুবা মুফতিদের মুখোমুখি হলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, অমিত শাহরা।

কয়েক দিন ধরে তাই উপত্যকা নিয়ে জল্পনা ছিল তুঙ্গে। বৃহস্পতিবার দিল্লিতে সাড়ে তিন ঘণ্টা চলল সেই বৈঠক।

জম্মু-কাশ্মীরকে পূর্ণ রাজ্যের মর্যাদা বা দ্রুত বিধানসভা নির্বাচন শুরুর বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী মোদির কাছ থেকে কোনও আশ্বাস দেয়া হয়নি।

প্রধানমন্ত্রী বৈঠকে উপস্থিত নেতাদের বিধানসভা কেন্দ্রের সীমানা পুনর্নির্ধারণপ্রক্রিয়ায় অংশ নিতে জোর দিয়েছেন।

কাশ্মীর থেকে ৩৭০ ধারা তুলে নেওয়ার পর যেসব নেতাকে দীর্ঘদিন বন্দি করে রাখা হয়েছিল, তারাও এদিন সব সমস্যার কথা খুলে বলেছেন প্রধানমন্ত্রীকে।

বৈঠক শেষে এমনটাই জানিয়েছেন কাশ্মীরের নেতারা। সূত্রের খবর, রাজ্যের তকমা ফেরানো নিয়েও আলোচনা হয়েছে এদিন। প্রধানমনন্ত্রী বলেছেন, ‘ঠিক সময়ে কাশ্মীরকে রাজ্যের মর্যাদা ফিরিয়ে দেয়া হবে।’

বৈঠক শেষে গুলাম নবী আজাদ বলেন, ‘কাশ্মীরকে রাজ্যের মর্যাদা ফিরিয়ে দেয়া, অবিলম্বে বিধানসভা নির্বাচন করে গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফেরানো, সব রাজনৈতিক বন্দির মুক্তি, ডোমিসাইল চালু এবং কাশ্মীরি পণ্ডিতদের পুনর্বাসন। এই পাঁচটি দাবি প্রধানমন্ত্রীর সামনে রাখা হয়েছিল।’

বৈঠক শেষে মোদি বলেন, ‘ভোট করে উপত্যকায় নির্বাচিত সরকার প্রতিষ্ঠা করা হবে।’

তিনি বলেন, ‘কাশ্মীরের নেতা-নেত্রীদের সঙ্গে বৈঠক আদতে উন্নয়নের পথে এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। কাশ্মীরের মানুষ, বিশেষত যুবসমাজের আশা পূরণ করা হবে।’

মেহবুবা মুফতি জানান, তিনি বৈঠকে ৩৭০ ধারা বা স্পেশাল স্ট্যাটাস ফেরানোর পক্ষে সওয়াল করেছেন। বলেছেন, ‘এটা কাশ্মীরের আত্মপরিচয়ের প্রশ্ন। আমরা এই স্ট্যাটাস পাকিস্তান থেকে পাইনি, ভারত সরকার আমাদের দিয়েছে। নেহরু আমাদের দিয়েছেন। তাই আমরা চাই কয়েক মাস লাগুক বা বছর, ৩৭০ ধারা ফেরাতেই হবে।’

এদিন বৈঠক থেকে বেরিয়ে কাশ্মীরের আপনি পার্টির নেতা আলতাফ বুখারি বৈঠক শেষে জানিয়েছেন, কাশ্মীরে ভোটের জন্য প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী বলেছেন যে আমরা কাশ্মীরকে রাজ্যের তকমা ফিরিয়ে দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’

বৈঠক নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে বুখারি বলেন, ‘ভালো পরিবেশে আজ কথাবার্তা হয়েছে।’

একই কথা বলেছেন জম্মু ও কাশ্মীরের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও ন্যাশনাল কনফারেন্স নেতা ওমর আব্দুল্লাহ। বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দুজনই আশ্বাস দিয়েছেন শিগগিরই রাজ্যের তকমা ফেরানো হবে ও নির্বাচনপ্রক্রিয়া শুরু হবে।’

‘দিল কি দূরি’ ও ‘দিল্লি কি দূরি’ মেটানোর পথে যে কেন্দ্র এগোচ্ছে সে কথাও জানিয়েছেন ওমর আব্দুল্লাহ।

ন্যাশনাল কনফারেন্স বিধানসভা কেন্দ্রের সীমানা পুনর্নির্ধারণপ্রক্রিয়ায় অংশ নিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। যদিও আগে তারা ওই প্রক্রিয়া বয়কট করেছিল।

বৈঠকে পূর্ণ রাজ্যের মর্যাদার দাবিতে দলগুলোর মধ্যে ঐকমত্য থাকলেও প্রধানমন্ত্রী তাদের বলেন যে, সীমানা নির্ধারণপ্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর অন্য সব বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন কাশ্মীরের আট রাজনৈতিক দলের ১৪ জন নেতা-নেত্রী। তাদের মধ্যে ছিলেন রাজ্যের সাবেক চার মুখ্যমন্ত্রী।

২০১৮ সালে মেহবুবা মুফতি সরকারের ওপর থেকে সমর্থন তুলে নেয় বিজেপি। তারপর থেকেই রাষ্ট্রপতি শাসনে রয়েছে ভূ-স্বর্গ। ২০১৯-এর ১ অগস্ট শেষবার প্রধানমন্ত্রীর মুখোমুখি হয়েছিলেন ফারুক ও ওমর আব্দুল্লাহ।

এর ঠিক তিন দিন পর ৪ অগস্ট তাদের আটক করা হয় ও কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ৩৭০ ধারা তুলে নেয়ার কথা ঘোষণা করা হয়।

বৈঠক শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ জানান, কাশ্মীরের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে এদিন।

তিনি উল্লেখ করেন, বৈঠকে প্রত্যেকেই সংবিধানের প্রতি গণতন্ত্রের প্রতি আস্থা রাখার কথা বলেছেন।

তিনি টুইটে লিখেছেন, ‘কাশ্মীরের সার্বিক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে চাই আমরা। শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচন হবে সেখানে।’

রাজ্যের স্বীকৃতি ফেরানোর ক্ষেত্রেও প্রতিশ্রুতির কথা উল্লেখ করেছেন তিনি। রাজনৈতিক মহলের মতে, গত দুই বছর দমবন্ধ অবস্থায় থাকা কাশ্মীরের বরফ গলছে একটু একটু করে।

আরও পড়ুন:
উইঘুর ট্রাইব্যুনালে গণহত্যার ইস্যুতে সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু
উইঘুরদের ওপর নজরদারি যন্ত্রের পরীক্ষা চালাচ্ছে চীন
উইঘুরদের প্রতি চীনের আচরণ ‘মানবতাবিরোধী অপরাধ’
উইঘুর: চীনা কর্মকর্তাদের ওপর পশ্চিমা দেশগুলোর অবরোধ
উইঘুরদের ওপর গণহত্যার অভিযোগ অযৌক্তিক: চীন

শেয়ার করুন

ডেল্টা প্লাস ধরন কি ডেকে আনবে তৃতীয় ধাক্কা

ডেল্টা প্লাস ধরন কি ডেকে আনবে তৃতীয় ধাক্কা

নতুন ডেল্টা প্লাস ধরন করোনার তৃতীয় ধাক্কার কারণ হতে পারে বলে শঙ্কা অনেকের। ছবি: ডিএনএইন্ডিয়া

ভারতে এখন পর্যন্ত ৪০ জন ডেল্টা প্লাস ধরনে আক্রান্ত হওয়ার খোঁজ মিলেছে। এরই মধ্যে তিন রাজ্য- মহারাষ্ট্র, কেরালা ও মধ্যপ্রদেশে বিশেষ সতর্কবার্তা পাঠিয়েছে কেন্দ্র। সংক্রমণ রুখতে কন্টেনমেন্ট পদ্ধতি অনুসরণ করতে বলা হয়েছে।

ভারতের তিন রাজ্যে করোনাভাইরাসের ডেল্টা প্লাস ধরনের খোঁজ মিলতেই তৈরি হয়েছে নতুন উদ্বেগ। ডেল্টা প্লাস ধরনে আক্রান্ত হওয়া এক নারীর মৃত্যু হয়েছে মধ্যপ্রদেশে।

এ ধরনে আক্রান্ত হওয়া রোগীর মধ্যে ওই রাজ্যে এটাই প্রথম মৃত্যু। মৃত নারী উজ্জয়িনীর বাসিন্দা।

সেখানকার স্থানীয় প্রশাসন বুধবার তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে।

অনেকেরই আশঙ্কা, তৃতীয় ধাক্কার কারণ হয়ে উঠতে পারে করোনার এই নতুন ধরন।

তবে ইনস্টিটিউট অফ জিনোমিক্স অ্যান্ড ইন্টেগ্রেটেড বায়োলজির পরিচালক ড. অনুরাগ আগরওয়াল জানান, এখনই আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই।

ভারতে করোনার দ্বিতীয় ধাক্কার জন্য ডেল্টা ধরনই দায়ী বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

ভাইরাসের এই ধরনের প্রথম খোঁজ মিলেছিল ভারতেই। জিনোম সিকোয়েন্সিংয়ের মাধ্যমে তা শনাক্ত হয়।

ভাইরাসের মিউটেশন হয়েছে কি না, তা জানার জন্য প্রয়োজন জিনোম সিকোয়েন্সিং। করোনায় আক্রান্তদের জিনোম সিকোয়েন্সিং করেই অস্তিত্ব মিলেছে ডেল্টা প্লাস ধরনের।

এ বিষয়ে আগরওয়াল বলেন, ‘আপাতত এমন কোনো প্রমাণ নেই যে, তৃতীয় ধাক্কার কারণ হিসেবে ডেল্টা প্লাস ধরনই দায়ী থাকবে।’

তিনি বলেন, ‘কেবল জুন মাসেই মহারাষ্ট্র থেকে সংগৃহীত ৩ হাজার ৫০০-এর বেশি নমুনার জিনোম সিকোয়েন্সিং করা হয়েছে। এ নমুনাগুলো এপ্রিল ও মে মাসে সংগ্রহ করা হয়। নমুনাতেই ডেল্টা প্লাস ধরনের খোঁজ মেলে।

‘তবে এখন পর্যন্ত এতে সংক্রমণের হার ১ শতাংশের কম। তৃতীয় ধাক্কা আসার আগে তা নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার চেয়ে দ্বিতীয় ধাক্কা এখনও কেন শেষ হয়নি, তা নিয়ে চিন্তিত হওয়া উচিত।’

একই সঙ্গে সংক্রমণ রুখতে যাবতীয় স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণের আবেদনও জানান তিনি।

ভারতে এখন পর্যন্ত ৪০ জন ডেল্টা প্লাস ধরনে আক্রান্ত হওয়ার খোঁজ মিলেছে। এরই মধ্যে তিন রাজ্য- মহারাষ্ট্র, কেরালা ও মধ্যপ্রদেশে বিশেষ সতর্কবার্তা পাঠিয়েছে কেন্দ্র। সংক্রমণ রুখতে কন্টেনমেন্ট পদ্ধতি অনুসরণ করতে বলা হয়েছে।

আরও পড়ুন:
উইঘুর ট্রাইব্যুনালে গণহত্যার ইস্যুতে সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু
উইঘুরদের ওপর নজরদারি যন্ত্রের পরীক্ষা চালাচ্ছে চীন
উইঘুরদের প্রতি চীনের আচরণ ‘মানবতাবিরোধী অপরাধ’
উইঘুর: চীনা কর্মকর্তাদের ওপর পশ্চিমা দেশগুলোর অবরোধ
উইঘুরদের ওপর গণহত্যার অভিযোগ অযৌক্তিক: চীন

শেয়ার করুন

ইরানের যে দ্বীপ শুধু নারী জেলেদের

ইরানের যে দ্বীপ শুধু নারী জেলেদের

কঠিন পুরুষতান্ত্রিক ইরানের সঙ্গে তাল মিলিয়ে হেনগ্যাম দ্বীপটিতেও একসময় কেবল পুরুষ সদস্যরাই মাছ ধরার কাজ করতেন। পরিবারকে আর্থিকভাবে স্বচ্ছল করতে নারীরা বড় জোর কিছু হাতের কাজ করতেন কিংবা মাছের দোকানে বসতেন। তবে বদলে গেছে সেই দিন।

ইরানের ছোট্ট দ্বীপ হেনগ্যাম। ছোট ছোট নৌকায় কন্যা সন্তানদের নিয়ে জেলেদের মাছ ধরা সেখানকার প্রতিদিন ভোরের নিয়মিত দৃশ্য।

তীব্র স্রোতেও এই কিশোরী-তরুণী জেলেরা পিছু হটেন না। প্রতিদিনের মাছ ধরতে তাদের পারি দিতে হয় একের পর এক উঁচু ঢেউ। হাসিমুখেই সেসব ঢেউ পার করে মাছ নিয়ে ঘরে ফেরেন তারা।

কারণ তাদের মায়েরা একই শিক্ষা পেয়েছেন, একই শিক্ষা দিয়েছেন মেয়েদেরও।

ভাইস এর প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, রক্ষণশীল ইরানে হেনগ্যাম একমাত্র দ্বীপ যেখানে পুরুষের সাহায্য ছাড়াই কাজের জন্য সাগরে ভাসেন নারীরা।

ইরানের দক্ষিণে পারস্য উপসাগরীয় এই দ্বীপে বসবাস প্রায় ৫০০ পরিবারের। তাদের জীবিকার প্রধান উৎস মাছ ধরা।

কঠিন পুরুষতান্ত্রিক ইরানের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এই দ্বীপটিতেও একসময় কেবল পুরুষেরাই মাছ ধরতেন। পরিবারকে আর্থিকভাবে স্বচ্ছল করতে নারীরা বড় জোর কিছু হাতের কাজ করতেন বা মাছের দোকানে বসতেন।

তবে দৃশ্যপট বদলাতে শুরু করে কয়েক বছর আগে। বাড়তি আয় আর উন্নত জীবনের আশায় দ্বীপ ছেড়ে কাজের জন্য ইরানের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে জেলে পরিবারের তরুণেরা।

আর পরিবারের প্রধান আয়ের উৎস মাছ শিকার ধরে রাখতে এতে যুক্ত হতে শুরু করেন নারীরা।

বাবা, স্বামী, ভাই বা সন্তান যখন অন্য শহরে জীবিকা উপার্জনের আরও ভালো মাধ্যম খুঁজছে, তখন তাদের অনুপস্থিতিতে পরিবারের শক্তি হয়ে ওঠার লক্ষ্য নিতে শুরু করেন নারীরা।

এভাবেই দ্বীপটির নারীদের জীবিকা উপার্জনের প্রধান উৎস হয়ে উঠেছে মাছ ধরা।

ইরানের দক্ষিণ প্রান্তের দ্বীপটির আছে স্বতন্ত্র সংস্কৃতি। শিল্প, সঙ্গীত আর খাবারের ঐতিহ্যের পাশাপাশি কয়েক শ বছর ধরে সেখানে চল ছিল উন্নতমানের রেশম উৎপাদন।

দাস ব্যবসার জন্য মানুষ পাচারের অন্যতম রুটও ছিল এটি।

পুরোনো সব পেছনে ফেলে দ্বীপটির নারীরা এখন সাগরকে জীবীকার প্রধান অবলম্বন করতে উঠেপড়ে লেগেছেন।

তরুণী জেলে খাদিজা গোডসি বলেন. ‘আমরা মাছ ধরার সরকারি স্বীকৃতি পেলে জ্বালানি আর আমাদের নৌকার বিমায় ভর্তুকি পাব।’

একই কারণে দ্বীপের অন্য তরুণীরাও চান জেলে হিসেবে সরকারি স্বীকৃতি। এতে নৌকার দুর্ঘটনাজনিত ক্ষতিপূরণের পাশাপাশি পর্যটকদের সাগরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরিয়ে দেখাতে পারবেন তারা।

তবে এই সরকারি অনুমোদন পেতে পার হতে হবে বড় বাধা।

অনুমতিপত্রের জন্য নারীরা প্রথম আবেদন করার পর স্থানীয় মৎস্যবিভাগ জানায়, নিরাপত্তার কারণে দুইজন নারীকে একটি করে অনুমতিপত্র দেয়া হবে।

সে ক্ষেত্রে দুটি নৌকার মালিক দুইজন নারী আর তাদের অনুমতিপত্র একটি হলে সেটি কার কাছে থাকবে, মাছ ধরা ও আয়ের ভাগাভাগি কীভাবে হবে- ইত্যাদি প্রশ্নের উত্তর নেই।

বিষয়টির মীমাংসায় গভর্নরের কাছে মাসের পর মাস দেনদরবারের পর চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ৩০ জন নারীকে আলাদাভাবে জেলে হিসেবে স্বীকৃতি দেয়ার নিশ্চয়তা দেয় কর্তৃপক্ষ।

যদিও আবেদনের এক বছর পেরিয়ে গেলেও এখনও নিবন্ধন পাননি কেউ।

অনুমতিপত্রের জন্য অপেক্ষা করার সময়ে সংসার তো থেমে নেই। এ অবস্থায় আপাতত হাতে তৈরি বিভিন্ন পণ্য বিক্রি বা সেবা দিয়ে আয় করার চেষ্টা করছেন তারা।

আরও পড়ুন:
উইঘুর ট্রাইব্যুনালে গণহত্যার ইস্যুতে সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু
উইঘুরদের ওপর নজরদারি যন্ত্রের পরীক্ষা চালাচ্ছে চীন
উইঘুরদের প্রতি চীনের আচরণ ‘মানবতাবিরোধী অপরাধ’
উইঘুর: চীনা কর্মকর্তাদের ওপর পশ্চিমা দেশগুলোর অবরোধ
উইঘুরদের ওপর গণহত্যার অভিযোগ অযৌক্তিক: চীন

শেয়ার করুন

পরমাণু নিয়ে মন্তব্য করার ইমরান কে: মরিয়ম নওয়াজ

পরমাণু নিয়ে মন্তব্য করার ইমরান কে: মরিয়ম নওয়াজ

পাকিস্তানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে মন্তব্য করার অধিকার ইমরান খানের নেই বলে মন্তব্য করেন মরিয়ম নওয়াজ। ছবি: এএফপি

পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফের মেয়ে মরিয়ম বলেন, ‘ইমরান পাকিস্তানের জনগণের প্রতিনিধিত্ব করেন না। তাকে মনোনীত করা হয়েছে। দেশের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে কোনো কথা তিনি বলতে পারেন না।’

পাকিস্তানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে মন্তব্য করার কোনো অধিকার দেশটির প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের নেই বলে মন্তব্য করেছেন পাকিস্তান মুসলিম লীগের (পিএমএল-এন) ভাইস প্রেসিডেন্ট মরিয়ম নওয়াজ।

ইমরানের সাক্ষাৎকারের প্রতিক্রিয়ায় বুধবার সাংবাদিকদের তিনি ওই কথা বলেন।

ডনের প্রতিবেদনে বলা হয়, শনিবার যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসকে সাক্ষাৎকার দেন ইমরান।

সেখানে তিনি বলেন, ‘কাশ্মীর নিয়ে মীমাংসায় পৌঁছানো গেলেই ভারত ও পাকিস্তান দুই প্রতিবেশী দেশ সভ্য মানুষের মতো বসবাস করা শুরু করবে। আমাদের পরমাণু অস্ত্রের দরকার পড়বে না।’

এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে চাওয়া হলে পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফের মেয়ে মরিয়ম বলেন, ‘ইমরান পাকিস্তানের জনগণের প্রতিনিধিত্ব করেন না। তাকে মনোনীত করা হয়েছে। দেশের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে কোনো কথা তিনি বলতে পারেন না।’

মরিয়ম আরও বলেন, ‘পাকিস্তানের পরমাণু কর্মসূচির অভিভাবক ইমরান নন; বরং দেশের জনগণ এর অভিভাবক।

‘কাশ্মীর নিয়েও প্রধানমন্ত্রী মন্তব্য করতে পারেন না। পাকিস্তানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে এর পরমাণু কর্মসূচি। এটি না থাকলে শুধু কাশ্মীর নয়, অন্য আরও অনেক বিষয় সামলানো লাগত।’

এর আগে মঙ্গলবার পাকিস্তানের পার্লামেন্টে পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে ইমরানের মন্তব্যের সমালোচনা করেন নওয়াজ শরীফের দল পিএমএল-এনের নেতারা।

তাদের অভিযোগ, পাকিস্তানকে পরমাণু কর্মসূচি থেকে সরানোর ‘বিদেশি এজেন্ডা’ বাস্তবায়ন করতে ক্রিকেটার থেকে রাজনীতিক বনে যাওয়া ইমরানকে ক্ষমতায় বসানো হয়েছে।

পিএমএল-এনের মহাসচিব আহসান ইকবাল বলেন, ‘পাকিস্তানের পরমাণু কর্মসূচি আলোচনাযোগ্য, এটি বলার অধিকার প্রধানমন্ত্রীকে কে দিয়েছে?

‘থলের বিড়াল এখন বেরিয়ে পড়েছে। পাকিস্তানের পরমাণু কর্মসূচি কমাতে ইমরান খানকে ক্ষমতায় আনা হয়েছে। এটি বিদেশি দাতাদের এজেন্ডা।’

আরও পড়ুন:
উইঘুর ট্রাইব্যুনালে গণহত্যার ইস্যুতে সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু
উইঘুরদের ওপর নজরদারি যন্ত্রের পরীক্ষা চালাচ্ছে চীন
উইঘুরদের প্রতি চীনের আচরণ ‘মানবতাবিরোধী অপরাধ’
উইঘুর: চীনা কর্মকর্তাদের ওপর পশ্চিমা দেশগুলোর অবরোধ
উইঘুরদের ওপর গণহত্যার অভিযোগ অযৌক্তিক: চীন

শেয়ার করুন

মোদির কাশ্মীর নীতিতে ভারতের বদনাম: মমতা

মোদির কাশ্মীর নীতিতে ভারতের বদনাম: মমতা

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ফাইল ছবি

‘বিষয়টা আমি খুব একটা অবগত না থাকার কারণে মন্তব্য করতে পারব না। তবে কাশ্মীর থেকে রাজ্যের মর্যাদা ছিনিয়ে নেয়া খুবই প্রয়োজন ছিল কি? এ কারণে কিন্তু কেন্দ্র সরকারের অনেক সমালোচনা হয়েছে।’

কাশ্মীর নিয়ে যখন কেন্দ্রের ডাকা সর্বদল বৈঠক চলছে, তখন কলকাতায় পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বললেন, ‘মানুষের থেকে স্বাধীনতা ছিনিয়ে নিলে, সবকিছু শেষ হয়ে যায়। মানুষের স্বাধীনতা না থাকলে, দেশের কোনো অর্থ থাকে না। সরকারের এই একনায়কতান্ত্রিক মনোভাবের কারণেই ভারতের নাম খারাপ হয়েছে বিশ্বমঞ্চে।’

জম্মু-কাশ্মীর থেকে বিশেষ রাজ্যের মর্যাদা ৩৭০ ধারা তুলে নেওয়ার পর, এই প্রথম কেন্দ্রের তরফে সর্বদল বৈঠক ডাকা হয়। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন কংগ্রেস, বিজেপি ছাড়া উপত্যকার রাজনৈতিক দলগুলোর নেতৃত্ব।

প্রথম থেকেই কাশ্মীর নিয়ে কেন্দ্রের পদক্ষেপের বিরুদ্ধে থাকা মমতা বললেন, ‘বিষয়টা আমি খুব একটা অবগত না থাকার কারণে মন্তব্য করতে পারব না। তবে কাশ্মীর থেকে রাজ্যের মর্যাদা ছিনিয়ে নেয়া খুবই প্রয়োজন ছিল কি? এ কারণে কিন্তু কেন্দ্র সরকারের অনেক সমালোচনা হয়েছে।’

২০১৮ সালে মেহবুবা মুফতি সরকার থেকে বিজেপির সমর্থন প্রত্যাহার করার পর থেকেই কাশ্মীরে রাষ্ট্রপতি শাসন চলছে। এরপর ২০১৯ সালের ৫ আগস্ট ভারতীয় সংবিধানের ৩৭০ ধারা বাতিলের মাধ্যমে কেন্দ্রের বিজেপি সরকার, বিশেষ পূর্ণ রাজ্যের মর্যাদা ছিনিয়ে নেয়।

জম্মু-কাশ্মীর পুনর্বিন্যাস বিলের মাধ্যমে জম্মু-কাশ্মীর এবং লাদাখকে দুটি পৃথক কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে ভাগ করে দেয়া হয়। এখন আবার সেখানে নির্বাচন নিয়ে জল্পনা শোনা যাচ্ছে। এর মধ্যে কেন্দ্র সর্বদলীয় বৈঠক ডেকেছে।

বৈঠকে কংগ্রেস, মেহবুবা মুফতি, ফারুক আব্দুল্লাহরা কাশ্মীরের পূর্ণ রাজ্যের মর্যাদা ফেরানোর দাবি তুললেও কেন্দ্রের তরফে জানানো হয়েছে, ‘এ বিষয়টি সঠিক সময়ে আলোচনা হবে। এখনও সময় আসেনি।’

আরও পড়ুন:
উইঘুর ট্রাইব্যুনালে গণহত্যার ইস্যুতে সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু
উইঘুরদের ওপর নজরদারি যন্ত্রের পরীক্ষা চালাচ্ছে চীন
উইঘুরদের প্রতি চীনের আচরণ ‘মানবতাবিরোধী অপরাধ’
উইঘুর: চীনা কর্মকর্তাদের ওপর পশ্চিমা দেশগুলোর অবরোধ
উইঘুরদের ওপর গণহত্যার অভিযোগ অযৌক্তিক: চীন

শেয়ার করুন

সুপ্রিম কোর্টই ভরসা রামদেবের

সুপ্রিম কোর্টই ভরসা রামদেবের

অ্যালোপ্যাথি নিয়ে নেতিবাচক মন্তব্য করায় সম্প্রতি আলোচনায় আসেন যোগগুরু রামদেব। ছবি: বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড

এফআইআরকে চ্যালেঞ্জ করে রামদেব চাইছেন শীর্ষ আদালত সব শাস্তিমূলক ব্যবস্থার বিরুদ্ধে তাকে রক্ষাকবচ দিক। পাশাপাশি সব মামলা দিল্লির আদালতে স্থানান্তরের আবেদন জানিয়েছেন তিনি।

‌‌‘অ্যালোপ্যাথি’ নিয়ে যোগগুরু রামদেবের বিতর্কিত মন্তব্যের জেরে রাজ্যে রাজ্যে মামলা হয়েছে। সেসব মামলায় স্থগিতাদেশ চেয়ে এবার সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন তিনি।

এফআইআরকে চ্যালেঞ্জ করে রামদেব চাইছেন শীর্ষ আদালত সব শাস্তিমূলক ব্যবস্থার বিরুদ্ধে তাকে রক্ষাকবচ দিক। পাশাপাশি সব মামলা দিল্লির আদালতে স্থানান্তরের আবেদন জানিয়েছেন তিনি।

এর আগে গ্রেপ্তার নিয়ে নেটমাধ্যমে সরাসরি প্রশাসনকে চ্যালেঞ্জ ছুড়তে দেখা গেছে রামদেবকে। টুইটারে ‘অ্যারেস্ট রামদেব’ ট্রেন্ড শুরু হতেই আসরে নামেন তিনি।

রীতিমতো হাসির ছলে কেন্দ্রকে নিশানা করে রামদেব বলেছিলেন, ‘ওর বাবাও গ্রেপ্তার করতে পারবে না। ওরা ঠগ রামদেব, গ্রেপ্তার রামদেব এসব ট্রেন্ড করাচ্ছে নেটমাধ্যমে। ওরা এ রকম করুক। আমার লোকেরা এসব দেখে অভ্যস্ত।’

গত মাসে দেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণের বিপর্যয়ের মধ্যে অ্যালোপ্যাথি ওষুধ এবং ভাইরাসের প্রতিষেধক হিসেবে এর প্রভাব সম্পর্কে বিভিন্ন বিভ্রান্তিমূলক মন্তব্য করেছিলেন রামদেব।

এক ভিডিওতে তিনি বলেন, ‘চিকিৎসা বা অক্সিজেন না পেয়ে যত মানুষ মারা গেছে, তার চেয়ে বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে অ্যালোপ্যাথি ওষুধ খেয়ে। অ্যালোপ্যাথি এক দেউলিয়া হওয়া বিজ্ঞান।’

ভিডিওতে তিনি আরও বলেন, ‘টিকার দুটি ডোজ পাওয়ার পরও ১ হাজার চিকিৎসক মারা গেছেন। নিজেদের বাঁচাতে না পারলে এরা কী ধরনের ডাক্তার?’

ওই ঘটনায় শোরগোল পড়ে যায় গোটা দেশে। নড়েচড়ে বসে ইন্ডিয়ান মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন। রামদেবকে আইনি নোটিশ ধরানো হয় সংস্থাটির পক্ষ থেকে।

১ হাজার কোটি টাকার মানহানির মামলা করে ইন্ডিয়ান মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন। প্রধানমন্ত্রীকে সরাসরি চিঠি লিখে হস্তক্ষেপেরও দাবি জানানো হয়।

এমন পরিস্থিতিতে ভারত সরকারের স্বাস্থ্যমন্ত্রী হর্ষবর্ধন আসরে নামেন। তিনি রামদেবকে মন্তব্যের জন্য ক্ষমা চাইতে অনুরোধ করেন।

রামদেব ভাঙেন তবু মচকাবেন না। মন্তব্য ফিরিয়ে নিলেও অ্যালোপ্যাথি চিকিৎসা নিয়ে ২৫টি প্রশ্ন ছুড়ে দেন তিনি।

তার মূল বক্তব্য, ২০০ বছরেও অ্যালোপ্যাথি বহু রোগ নিরাময় করতে পারেনি।

আরও পড়ুন:
উইঘুর ট্রাইব্যুনালে গণহত্যার ইস্যুতে সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু
উইঘুরদের ওপর নজরদারি যন্ত্রের পরীক্ষা চালাচ্ছে চীন
উইঘুরদের প্রতি চীনের আচরণ ‘মানবতাবিরোধী অপরাধ’
উইঘুর: চীনা কর্মকর্তাদের ওপর পশ্চিমা দেশগুলোর অবরোধ
উইঘুরদের ওপর গণহত্যার অভিযোগ অযৌক্তিক: চীন

শেয়ার করুন