‘শিশুদের শিশুর মতো থাকার সুযোগ ছিল না’

‘শিশুদের শিশুর মতো থাকার সুযোগ ছিল না’

সম্প্রতি কানাডার পরিত্যক্ত এই স্কুল থেকে ২১৫ শিশুর দেহাবশেষ পাওয়া যায়। ছবি: ক্যামলুপস দিজ উইক

রুলেট বলেন, স্কুলের প্রথম দিন খ্রিষ্টান এক সন্ন্যাসিনী তাকে পেন্সিল ও কাগজ দেন। কাগজে লেখার গতি ধীর হওয়ায় একপর্যায়ে তার মুখে ঘুষি মারেন ওই সন্ন্যাসিনী।

কানাডার আদিবাসী শিশুদের এক সময় জোর করে আবাসিক স্কুলে ভর্তি করানো হতো। ক্যাথলিক চার্চ পরিচালিত ওইসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের জীবন ছিল আধাসামরিক ধাঁচের। খুব সকালে ঘুম থেকে উঠে প্রার্থনা, লাইনে দাঁড়ানো, নিয়মিত মার খাওয়ার মধ্য দিয়ে স্কুলজীবন পার হতো তাদের।

আবাসিক স্কুলে শারীরিক ও মানসিক যন্ত্রণার মধ্য দিয়ে যাওয়া আদিবাসী শিক্ষার্থীরা বৃহস্পতিবার বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে এভাবেই নিজেদের অভিজ্ঞতার কথা বলেন ।

সম্প্রতি কানাডার পশ্চিমাঞ্চলে পরিত্যক্ত এক আবাসিক স্কুল থেকে ২১৫ শিশুর দেহাবশেষ উদ্ধারের ঘটনা দেশটির আদিবাসীদের তিক্ত অভিজ্ঞতা ফের মনে করিয়ে দেয়। রাডারের মাধ্যমে ওই শিশুদের গণকবরের খোঁজ পাওয়া যায়।

সরকারি নীতি অনুযায়ী কানাডার আদিবাসী শিশুদের জোর করে পরিবার থেকে আলাদা করে আবাসিক স্কুলে ভর্তি করানো হতো। পরে ওই নীতির নাম দেয়া হয় ‘সাংস্কৃতিক গণহত্যা’।

১৮৩১ সাল থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত বলবৎ থাকা ওই নীতির কারণে প্রায় দেড় লাখ আদিবাসী শিশুকে তাদের পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হতে হয়।

ক্যাথলিক চার্চ পরিচালিত আবাসিক স্কুলগুলো নিয়ে কয়েক বছর আগে তদন্ত করে কানাডিয়ান ট্রুথ অ্যান্ড রিকনসিলিয়েশন কমিশন (টিআরসি)।

২০১৫ সালে কমিশনের পক্ষ থেকে বলা হয়, শিশুরা ওইসব স্কুলে অপুষ্টিতে ভুগত। নিয়মিত তাদের পেটানো ও গালাগাল দেয়া হতো। ‘সাংস্কৃতিক গণহত্যা’ নামের ব্যবস্থার অংশ হিসেবে এসব করা হতো।

কানাডার মানিটোবা অঙ্গরাজ্যের লং প্লেইন ফার্স্ট নেশন রিসার্ভে বেড়ে ওঠেন রুথ রুলেট।

৬৯ বছর বয়সী রুলেট স্মৃতি ঘেঁটে রয়টার্সকে বলেন, প্রথমবার গাড়িতে চড়তে পেরে খুব আনন্দিত ছিলেন তিনি ও তার ভাইবোনেরা। লেক মানিটোবার কাছে স্যান্ডি বে আবাসিক স্কুলে তাদের নিয়ে যাওয়া হয়। স্কুলে পৌঁছার পরপরই ভাইদের কাছ থেকে রুলেট ও তার বোনদের বিচ্ছিন্ন করা হয় এবং তাদের চুল কেটে দেয়া হয়।

টিআরসির তথ্য অনুযায়ী, স্কুলে নিজেদের মাতৃভাষায় কথা বলা নিষিদ্ধ ছিল শিশুদের। পরিবারের দেয়া নাম বাদ দিয়ে ইউরোপীয় নাম দেয়া হতো তাদের।

রুলেট বলেন, স্কুলের প্রথম দিন খ্রিষ্টান এক সন্ন্যাসিনী তাকে পেন্সিল ও কাগজ দেন। কাগজে লেখার গতি ধীর হওয়ায় একপর্যায়ে তার মুখে ঘুষি মারেন ওই সন্ন্যাসিনী।

রুলেট বলেন, ‘চারদিক রক্তে ভেসে যায়। আমি বুঝছিলাম না, কী ভুলটা আমি করেছি। আমি শুধু কাঁদছিলাম। রক্ত আমাকেই পরিষ্কার করতে হয়।’

তিনি বলেন, তিনি ও তার বন্ধুরা স্কুল থেকে পালানোর চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু ধরা পড়ে যান। পালানোর চেষ্টা করায় তাদের মারধর করা হয়। এক সপ্তাহ তাদের শুধু গাজর খেতে দেয়া হয়।

রুলেট বলেন, ‘অদিবাসী শিশুদের শিশুর মতো থাকার সুযোগ ছিল না।’

স্কুলে ছাত্রদের ছুতার কাজসহ হাতেকলমে অন্যান্য শিক্ষা দেয়া হতো। আর ছাত্রীদের গৃহস্থালি কাজের প্রশিক্ষণ দেয়া হতো।

২০০৮ সালে আদিবাসী শিশুদের নিপীড়নের ঘটনায় ক্ষমা চায় কানাডা সরকার।

গত মাসে কানাডার পশ্চিমাঞ্চলে ব্রিটিশ কলাম্বিয়া অঙ্গরাজ্যে পরিত্যক্ত ক্যামলুপস ইন্ডিয়ান রেসিডেন্সিয়াল স্কুল থেকে শিশুদের দেহাবশেষ পাওয়ার ঘটনায় দেশটির প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো দুঃখ প্রকাশ করেন। ক্যাথলিক চার্চকে ওই ঘটনার দায় নিতে বলেন তিনি।

ব্রিটিশ কলাম্বিয়ায় শিশুদের দেহাবশেষ পাওয়ার ঘটনা বেদনাহত করেছে বলে জানান খ্রিষ্টানদের ক্যাথলিক সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মীয় নেতা পোপ ফ্রান্সিস। তবে ওই ঘটনার জন্য ক্ষমা চাননি তিনি।

ক্যামলুপস স্কুল প্রাঙ্গণ থেকে শিশুদের দেহাবশেষ পাওয়ার ঘটনায় কানাডিয়ান কনফারেন্স অফ ক্যাথলিক বিশপস এখন পর্যন্ত কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।

আরও পড়ুন:
ট্রাকহামলায় নিহতদের প্রতি কানাডার সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা
‘কানাডায় মুসলমানবিদ্বেষ অস্বীকারের সুযোগ নেই’
কানাডার মুসলমানদের পাশে ট্রুডো
কানাডায় মুসলমান পরিবারের ওপর ট্রাকহামলা, নিহত ৪
শিশুদের গণকবর: চার্চকে দায় নিতে বললেন ট্রুডো

শেয়ার করুন

মন্তব্য

কিশোরী চাচাতো বোনকে বিয়ে করতে গিয়ে কারাগারে

কিশোরী চাচাতো বোনকে বিয়ে করতে গিয়ে কারাগারে

বাল্যবিয়ের আসর থেকে গ্রেপ্তার বর। ছবি: নিউজবাংলা

ওসি বসির আহম্মেদ বাদল জানান, প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে বিচ্ছেদের পর দুই সন্তানের জনক মোশারফের সঙ্গে পারিবারিকভাবে তার ১৩ বছর বয়সী চাচাতো বোনের বিয়ে ঠিক হয়। সেই বিয়ের আসরে অভিযান চালায় ভ্রাম্যমাণ আদালত।

শেরপুরের নালিতাবাড়ীতে কিশোরী চাচাতো বোনকে বিয়ে করতে যাওয়ায় দুই সন্তানের জনককে তিন মাসের কারাদণ্ড দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।

উপজেলার আয়নাতলী গ্রামে শনিবার রাত ১০ টার দিকে বাল্যবিয়ের আসরে অভিযান চালিয়ে এই দণ্ড দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হেলেনা পারভীন।

নিউজবাংলাকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন নালিতাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বসির আহম্মেদ বাদল।

তিনি জানান, প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে বিচ্ছেদের ছয় মাস পর ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলার মোশারফের সঙ্গে পারিবারিকভাবে তার ১৩ বছর বয়সী চাচাতো বোনের বিয়ে ঠিক হয়।

বিয়ের জন্য কিশোরীকে নালিতাবাড়ীর আয়নাতলী গ্রামে তার নানার বাড়ি নেয়া হয়। সেখানে শনিবার রাতে বিয়ের আয়োজন চলছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সেখানে অভিযান চালায় ভ্রাম্যমাণ আদালত।

ইউএনও হেলেনা পারভীন বিয়ের আয়োজন বন্ধ করে মোশারফ হোসেনকে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন।

তিনি বলেন, ‘পূর্ণ বয়স্ক ছেলের সঙ্গে একজন অপ্রাপ্তবয়স্ক কিশোরী মেয়ের বিয়ের আয়োজন অমানবিক।’

ওসি বসির আহম্মেদ জানান, মোশারফকে রোববার সকালে শেরপুর জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

আরও পড়ুন:
ট্রাকহামলায় নিহতদের প্রতি কানাডার সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা
‘কানাডায় মুসলমানবিদ্বেষ অস্বীকারের সুযোগ নেই’
কানাডার মুসলমানদের পাশে ট্রুডো
কানাডায় মুসলমান পরিবারের ওপর ট্রাকহামলা, নিহত ৪
শিশুদের গণকবর: চার্চকে দায় নিতে বললেন ট্রুডো

শেয়ার করুন

আ.লীগ নেতার বিরুদ্ধে শ্মশানের জায়গা দখলের অভিযোগ

আ.লীগ নেতার বিরুদ্ধে শ্মশানের জায়গা দখলের অভিযোগ

নওগাঁয় শ্মশানের জায়গা দখলের অভিযোগ। ছবি: নিউজবাংলা।

স্থানীয় লোকজন জানান, শ্মশান হিসেবে ব্যবহৃত পুকুরপাড় ও সংলগ্ন জমির বেশ কিছু অংশ দুই মাস আগে কেটে জলাশয় বড় করেন আওয়ামী লীগ নেতা খালেকুজ্জামান। এ ঘটনার পর স্থানীয় প্রশাসনকে জানানো হলেও কোনো প্রতিকার পাওয়া যায়নি।

নওগাঁর নিয়ামতপুরে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মহাশ্মশানের জায়গা দখলের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতার বিরুদ্ধে।

এ বিষয়ে বারবার স্থানীয় প্রশাসনে জানানো হলেও কোনো প্রতিকার পাচ্ছেন না স্থানীয় লোকজন। উল্টো ওই আওয়ামী লীগ নেতাই নানাভাবে হুমকি দিচ্ছেন বলে জানান তারা।

স্থানীয় লোকজন জানান, চন্দননগর দরগাপাড়া ও তাতিহার গ্রামে তিন শতাধিক ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর বসবাস। দীর্ঘদিন ধরে এলাকার সরকারি লালমাটি পুকুরের উত্তরপাড়ের প্রায় ৬০ শতাংশ জমি মহাশ্মশান হিসেবে ব্যবহার করে আসছেন তারা।

প্রায় ১৫ থেকে ১৬ বছর ধরে সরকারি পুকুরটি লিজ নিয়ে মাছ চাষ করছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও চন্দননগর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান খালেকুজ্জামান। দুই মাস আগে শ্মশান হিসেবে ব্যবহৃত পুকুরপাড় ও সংলগ্ন জমির বেশ কিছু অংশ কেটে পুকুরে পরিণত করেন তিনি।

ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সদস্যরা জানান, বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসনকে জানানো হলেও কোনো প্রতিকার পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় চন্দননগর গ্রামের বাসিন্দা মতিলাল পাহান বলেন, ‘ওই শ্মশানে স্বজনদের মৃতদেহ সৎকার করতে গেলে সাবেক চেয়ারম্যান ও তার লোকজন বাধা দেন। তার বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করেও কোনো প্রতিকার পাওয়া যাচ্ছে না।’

তাতিহার গ্রামের বাসিন্দা রুপেন সরদার বলেন, ‘আমাদের পূর্বপুরুষরা ওই জায়গা শ্মশান হিসেবে ব্যবহার করেছেন। আমরাও ছোটবেলা থেকে জায়গাটিকে শ্মশান হিসেবেই চিনি। হঠাৎ করে খালেকুজ্জামান প্রভাব খাটিয়ে শ্মশানের জায়গাটি দখল করে নিয়েছেন। থানায় অভিযোগ করায় এখন ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন।’

স্থানীয় চন্দননগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বদিউজ্জামান বলেন, ‘অভিযোগ পেয়ে তিনি দুই পক্ষের সঙ্গে বসার চেষ্টা করেছিলেন। তবে খালেকুজ্জামান সালিশে বসতে রাজি না হওয়ায় বিষয়টি ওই অবস্থাতেই রয়েছে। বিষয়টির দ্রুত একটা সমাধান হওয়া উচিত।’

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মুঠোফোনে উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি খালেকুজ্জামান বলেন, ‘তারা আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ করছে, তা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও ভিত্তিহীন। যে জায়গার কথা বলা হচ্ছে, সেটা শ্মশান নয়। ওই জায়গা খাস সম্পত্তি। কোনো দিনই ওই জায়গা কবরস্থান কিংবা শ্মশান ছিল না। শ্মশানের জায়গা হলে আমি কোনো দিনই জবরদস্তি করতাম না।

‘আমি ২০ বছর ধরে চন্দননগরের চেয়ারম্যান ছিলাম। কেউ প্রমাণ দিতে পারবে না আমি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষের অধিকার নষ্ট করেছি। এগুলো মিথ্যা ও বানোয়াট।’

এ বিষয়ে নিয়ামতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জয়া মারীয়া পেরেরা বলেন, ‘ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মহাশ্মশানের জায়গা দখলের বিষয়ে তদন্তের জন্য উপজেলা সহকারী কমিশনারকে (এসি ল্যান্ড) নির্দেশ দেয়া হয়েছে। অভিযোগের সত্যতা পেলে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

আরও পড়ুন:
ট্রাকহামলায় নিহতদের প্রতি কানাডার সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা
‘কানাডায় মুসলমানবিদ্বেষ অস্বীকারের সুযোগ নেই’
কানাডার মুসলমানদের পাশে ট্রুডো
কানাডায় মুসলমান পরিবারের ওপর ট্রাকহামলা, নিহত ৪
শিশুদের গণকবর: চার্চকে দায় নিতে বললেন ট্রুডো

শেয়ার করুন

নারী মন্ত্রণালয় পাল্টে ‘ন্যায়-অন্যায়’ মন্ত্রণালয় করল তালেবান

নারী মন্ত্রণালয় পাল্টে ‘ন্যায়-অন্যায়’ মন্ত্রণালয় করল তালেবান

কাবুলে নারী মন্ত্রণালয়ের সাবেক নারী কর্মীরা ভবনে ঢুকতে গেলে তালেবানের বাধার মুখে পড়েন তারা। ছবি: সংগৃহীত

গত ৭ সেপ্টেম্বর অন্তর্বর্তী সরকারের মন্ত্রিসভা ঘোষণা করেছে তালেবান। তালিকায় ন্যায়ের প্রচার ও অন্যায় প্রতিরোধে ভারপ্রাপ্ত মন্ত্রীর নাম ছিল; ছিল না নারী মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর নাম। কিন্তু মন্ত্রণালয়টির অস্তিত্বই মুছে দেয়া হবে- এমন কিছুও তখন জানায়নি তালেবান।

আফগানিস্তানের ক্ষমতাচ্যুত বেসামরিক সরকারের নারী মন্ত্রণালয়ের নাম, কাজ বদলে দিয়েছে তালেবান সরকার। আফগান নারী মন্ত্রণালয় হয়েছে ‘ন্যায়-অন্যায়’ মন্ত্রণালয়, যার কাজ হবে ‘মোরাল পুলিশিং’ বা নীতিগত বিধিনিষেধ আরোপ ও বাস্তবায়ন করা।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়, রাজধানী কাবুলে অবস্থিত নারী মন্ত্রণালয় ভবনের সাইনবোর্ড শুক্রবার পালটে দেয় নতুন প্রশাসন। তার জায়গায় বসে তালেবানের ‘মোরাল পুলিশিং’বিষয়ক একটি সাইনবোর্ড।

নতুন সাইনবোর্ডে ফার্সি ভাষার আফগান উপভাষা দারি ও আরবির সমন্বয়ে লেখা নতুন মন্ত্রণালয়ের নামের ইংরেজি করলে দাঁড়ায়- ‘মিনিস্ট্রিজ অফ প্রেয়ার অ্যান্ড গাইডেন্স অ্যান্ড দ্য প্রমোশন অফ ভার্চু অ্যান্ড প্রিভেনশন অফ ভাইস।

এর বাংলা হতে পারে- ‘নামাজ ও নির্দেশনা এবং ন্যায়ের প্রচার ও অন্যায়ের প্রতিরোধবিষয়ক মন্ত্রণালয়’।

আগের নারী মন্ত্রণালয়ের সাবেক নারী কর্মীরা ভবনে ঢুকতে গেলে তাদের বাধা দেয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন। তারা জানান, কয়েক সপ্তাহ ধরেই কর্মক্ষেত্রে যোগ দেয়ার চেষ্টা করছিলেন তারা।

দেশের চলমান পরিস্থিতিতে নানা বাধা পেরিয়ে বাড়ি থেকে কোনোরকমে কর্মক্ষেত্রে পৌঁছেছিলেন তারা। কিন্তু এখন কাজে যোগ না দিয়ে ফিরে যেতে হচ্ছে তাদের। বৃহস্পতিবার ভবনের প্রবেশপথে তালাই ঝুলিয়ে দিয়েছে প্রশাসন।

এক নারী বলেন, ‘আমার পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি আমি। নারী মন্ত্রণালয়ে কাজ করতাম। এখন সেই মন্ত্রণালয়ই থাকছে না। আফগান নারী হিসেবে তাহলে কী করব আমি? কিভাবে পরিবারের মুখে খাবার তুলে দেব?’

এ বিষয়ে কথা বলতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সাড়া দেননি তালেবানের মুখপাত্র।

আফগানিস্তান থেকে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক জোটের সেনা প্রত্যাহার চলতে থাকার মধ্যেই গত মাসে দেশটির পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেয় কট্টরপন্থি তালেবান।

এর আগে ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সালে আফগানিস্তানে ধর্মভিত্তিক গোষ্ঠীটির প্রথম দফার শাসনামলে মেয়েশিশুদের স্কুলে যাওয়া, নারীদের শিক্ষাগ্রহণ ও জীবিকা উপার্জনের অধিকার ছিল না।

নব্বইয়ের দশকের সেই তালেবান সরকারের আমলেও ন্যায়ের প্রচার আর অন্যায় প্রতিরোধ মন্ত্রণালয় ছিল। ওই মন্ত্রণালয় গোষ্ঠীটির আদর্শ দৈনন্দিন জনজীবনে বাস্তবায়নের দায়িত্ব পালন করত।

মূলত তালেবানের দৃষ্টিকোণ থেকে শরিয়াহ আইনের বাস্তবায়ন দেখাই ছিল মন্ত্রণালয়টির কাজ। কঠিন রক্ষণশীল পোশাক-পরিচ্ছদের বিধান, প্রকাশ্যে মৃত্যুদণ্ড ও বেত্রাঘাতের মাধ্যমে শাস্তি কার্যকরের মতো কাজগুলো করতো ওই মন্ত্রণালয়।

গত ৭ সেপ্টেম্বর অন্তর্বর্তী সরকারের মন্ত্রিসভা ঘোষণা করেছে তালেবান। তালিকায় ন্যায়ের প্রচার ও অন্যায় প্রতিরোধে ভারপ্রাপ্ত মন্ত্রীর নাম ছিল; ছিল না নারী মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর নাম।

কিন্তু মন্ত্রণালয়টির অস্তিত্বই মুছে দেয়া হবে- এমন কিছুও তখন জানায়নি তালেবান।

চলতি সপ্তাজে এক জ্যেষ্ঠ তালেবান নেতা জানান, সরকারের কোনো মন্ত্রণালয়ে পুরুষদের সঙ্গে নারী কর্মীদের কাজের অনুমতি দেয়া হবে না।

এদিকে, আফগানিস্তানের সব স্কুলে ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত নিয়মিত পাঠদান কার্যক্রম শনিবার থেকে শুরুর নির্দেশ দিয়েছে শাসক দল তালেবান। কিন্তু শুক্রবারের এ নির্দেশনায় শুধু পুরুষ শিক্ষক ও ছেলেশিক্ষার্থীদের স্কুলে যাওয়ার অনুমতি দেয়া হয়েছে। মেয়ে শিক্ষার্থী ও শিক্ষিকাদের করণীয় উল্লেখ নেই নির্দেশনায়।

আরও পড়ুন:
ট্রাকহামলায় নিহতদের প্রতি কানাডার সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা
‘কানাডায় মুসলমানবিদ্বেষ অস্বীকারের সুযোগ নেই’
কানাডার মুসলমানদের পাশে ট্রুডো
কানাডায় মুসলমান পরিবারের ওপর ট্রাকহামলা, নিহত ৪
শিশুদের গণকবর: চার্চকে দায় নিতে বললেন ট্রুডো

শেয়ার করুন

১৮ বছর পর ক্যাডবেরির বিজ্ঞাপনে বিপরীত ভূমিকায় নারী

১৮ বছর পর ক্যাডবেরির বিজ্ঞাপনে বিপরীত ভূমিকায় নারী

চকলেট যে শুধু শিশুদের জন্য নয়, এ ধারণা পাল্টে দেয়ার জন্য সাধুবাদ কুড়িয়েছিল নিউইয়র্কভিত্তিক ব্রিটিশ বিজ্ঞাপনী সংস্থা ওগিলভি। নতুন শতকে একই পণ্যের বিজ্ঞাপন নতুন আঙ্গিকে টেলিভিশনের পর্দায় নিয়ে এসেছে ক্যাডবেরি ও ওগিলভি, যেখানে পাল্টে গেছে জেন্ডার ভূমিকা।

বহুজাতিক কনফেকশনারি জায়ান্ট ক্যাডবেরির নব্বইয়ের দশকের একটি বিজ্ঞাপন সাড়া জাগিয়েছিল ভারত উপমহাদেশে। ফুলেল পোশাকে ভারতীয় মডেল শিমোনা রাশিকে ওই বিজ্ঞাপনে দেখা গিয়েছিল ক্রিকেট ম্যাচ চলাকালীন স্টেডিয়ামে দর্শকের সারিতে বসে চকলেট খেতে।

প্রায় দুই দশক পর নতুন করে বিজ্ঞাপনটি তৈরি করেছে ক্যাডবেরি ডেইরি মিল্ক ইন্ডিয়া। মডেলরা তো আলাদা বটেই, সবচেয়ে বেশি চোখে পড়ার মতো বিষয়টি হলো- নতুন বিজ্ঞাপনে উল্টে গেছে নারী ও পুরুষের ভূমিকা।

১৯৯৩ সালের বিজ্ঞাপনটিতে বন্ধুর শেষ ব্যাটে দলের বিজয় নিশ্চিতের পর নিরাপত্তা ক্যামেরাকে ফাঁকি দিয়ে নাচতে নাচতে মাঠে ঢুকে গিয়েছিলেন শিমোনা। খেলোয়াড়ের ভূমিকায় সে সময় মাঠে ছিলেন শুধু পুরুষরাই।

বিজ্ঞাপনটি নির্মাণ করেছিল নিউইয়র্কভিত্তিক ব্রিটিশ বিজ্ঞাপনী সংস্থা ওগিলভি। চকলেট যে শুধু শিশুদের জন্য নয়, এ ধারণা পাল্টে দেয়া বিজ্ঞাপনের জন্য বেশ সাধুবাদ কুড়িয়েছিল প্রতিষ্ঠানটি।

বড়রাও যখন-তখন যে কোনো সময়, এমনকি সুসংবাদে মিষ্টিমুখের বদলেও চকলেট খেয়ে মুখ মিষ্টি করতে পারেন- সে ধারণারই প্রবর্তন করেছিল ওগিলভি।

নতুন শতকে একই পণ্যের বিজ্ঞাপন নতুন আঙ্গিকে টেলিভিশনের পর্দায় নিয়ে এসেছে ক্যাডবেরি ও ওগিলভি। এতে ভারতে ক্রিকেটকে পুরুষের খেলা হিসেবে প্রচলিত জনমত পাল্টে দিতে ব্যাটসম্যান, ফিল্ডার, উইকেট কিপারের ভূমিকায় দেখানো হয়েছে নারীদের।

শেষ ছক্কায় ম্যাচ জেতানো নারীকে স্বাগত জানাতে দর্শকের আসনে থেকে পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে নাচতে নাচতে মাঠে ঢোকেন তার পুরুষ বন্ধু, জড়িয়ে ধরেন নারী ব্যাটসম্যানকে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এবারও ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে নতুন এ বিজ্ঞাপন। ক্যাডবেরি-ওগিলভির নতুন-পুরোনো দুটি বিজ্ঞাপনই পেয়েছে কোটি কোটি শেয়ার।

পুরোনো বিজ্ঞাপনের মতোই নতুন বিজ্ঞাপনেরও থিম- ‘ওয়াক্ত বাদলা হ্যায়, জিন্দেগি কা সোয়াদ নেহি’; যার বাংলা করলে দাঁড়ায়- ‘সময় বদলেছে, জীবনের স্বাদ নয়’।

আরও পড়ুন:
ট্রাকহামলায় নিহতদের প্রতি কানাডার সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা
‘কানাডায় মুসলমানবিদ্বেষ অস্বীকারের সুযোগ নেই’
কানাডার মুসলমানদের পাশে ট্রুডো
কানাডায় মুসলমান পরিবারের ওপর ট্রাকহামলা, নিহত ৪
শিশুদের গণকবর: চার্চকে দায় নিতে বললেন ট্রুডো

শেয়ার করুন

শুধু ছাত্র-শিক্ষকদের স্কুলে যাওয়ার নির্দেশ তালেবানের

শুধু ছাত্র-শিক্ষকদের স্কুলে যাওয়ার নির্দেশ তালেবানের

কাবুলের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে একই শ্রেণিকক্ষে বসা পুরুষ ও নারী শিক্ষার্থীদের মাঝে পর্দা দিয়ে পাঠদান কার্যক্রম পরিচালনার ছবি প্রথমে ভাইরাল হয় টুইটারে। ছবি: টোলো নিউজ

নব্বইয়ের দশকে আফগানিস্তানে প্রথম দফার শাসনামলে মেয়েশিশু ও নারীদের শিক্ষা গ্রহণ ও জীবিকা উপার্জন নিষিদ্ধ করেছিল তালেবান। তবে গত মাসে বেসামরিক সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করে দ্বিতীয়বার দেশের নিয়ন্ত্রণ নেয়ার পর প্রথম থেকে ষষ্ঠ শ্রেণি পর্যন্ত মেয়েদের স্কুলে যাওয়ার অনুমতি দিয়েছিল গোষ্ঠীটি।

আফগানিস্তানের সব স্কুলে ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত নিয়মিত পাঠদান কার্যক্রম শনিবার থেকে শুরুর নির্দেশ দিয়েছে শাসক দল তালেবান। তবে শুধু পুরুষ শিক্ষক ও ছেলেশিক্ষার্থীদের স্কুলে যাওয়ার অনুমতি দেয়া হয়েছে।

তালেবান সরকারের শিক্ষা মন্ত্রণালয় শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এ বিষয়ে একটি বিবৃতি প্রকাশ করে। বিবৃতিতে একই বয়সী মেয়েশিশু ও কিশোরীদের শিক্ষা গ্রহণ নিয়ে কিছু বলা হয়নি।

ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়, মেয়ে শিক্ষার্থী ও শিক্ষিকাদের নিয়ে কোনো নির্দেশনা না থাকায় নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে আফগান জনমনে।

শরিয়াহ আইনের নামে আফগান নারী ও মেয়েশিশুদের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপের শঙ্কা বাস্তব হতে চলেছে বলে মনে করছেন অনেকে।

নব্বইয়ের দশকে আফগানিস্তানে প্রথম দফার শাসনামলে মেয়েশিশু ও নারীদের শিক্ষা গ্রহণ ও জীবিকা উপার্জন নিষিদ্ধ করেছিল তালেবান। তবে গত মাসে বেসামরিক সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করে দ্বিতীয়বার দেশের নিয়ন্ত্রণ নেয়ার পর প্রথম থেকে ষষ্ঠ শ্রেণি পর্যন্ত মেয়েদের স্কুলে যাওয়ার অনুমতি দিয়েছিল গোষ্ঠীটি।

কয়েকটি প্রদেশে বিভিন্ন পেশাজীবী আফগান নারীদের মধ্যে বেশির ভাগই এখনও কাজে ফেরার অনুমতি পাননি। ব্যতিক্রম কেবল স্বাস্থ্য বিভাগ, হাসপাতাল আর শিক্ষা খাতে কর্মরত নারীরা।

চলতি মাসের শুরুতে মুখ ও পুরো শরীর ঢাকা পোশাক পরে বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া আফগান তরুণীদের শ্রেণিকক্ষে যাওয়ার অনুমতি দেয় তালেবান সরকার।

তবে নিষিদ্ধ করা হয় সহশিক্ষা কার্যক্রম। সে সময় বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে একই শ্রেণিকক্ষে বসা পুরুষ ও নারী শিক্ষার্থীদের মাঝে পর্দা দিয়ে পাঠদান কার্যক্রম পরিচালনার ছবি প্রকাশ হয় আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে।

পুরুষ শিক্ষকদের জন্যও মেয়ে ও নারী শিক্ষার্থীদের পড়ানো নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

তালেবান সরকারের নতুন শিক্ষামন্ত্রী কট্টরপন্থি শাইখ আব্দুলবাকি হাক্কানি দায়িত্ব নেয়ার পরই শরিয়াহ আইন অনুযায়ী শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার ঘোষণা দিয়েছিলেন।

আরও পড়ুন:
ট্রাকহামলায় নিহতদের প্রতি কানাডার সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা
‘কানাডায় মুসলমানবিদ্বেষ অস্বীকারের সুযোগ নেই’
কানাডার মুসলমানদের পাশে ট্রুডো
কানাডায় মুসলমান পরিবারের ওপর ট্রাকহামলা, নিহত ৪
শিশুদের গণকবর: চার্চকে দায় নিতে বললেন ট্রুডো

শেয়ার করুন

বর্ণিল পোশাক পরে হিজাবের প্রতিবাদ আফগান নারীদের

বর্ণিল পোশাক পরে হিজাবের প্রতিবাদ আফগান নারীদের

ডয়চে ভেলের আফগান শাখার প্রধান ওয়াসলাত হাসরাত-নাজিমি (বামে) ও বিবিসির সাংবাদিক সানা সাফি। ছবি: সিএনএন

আমেরিকান ইউনিভার্সিটি অফ আফগানিস্তানের সাবেক ফ্যাকাল্টি মেম্বার বাহার জালালি টুইটবার্তায় বলেন, ‘আফগানিস্তানের ইতিহাসে কেউ কখনো এমন পোশাক পরেনি। এটি পুরোপুরি বিদেশি পোশাক। আফগান সংস্কৃতিতে এ ধরনের পোশাক প্রতিনিধিত্ব করে না।’

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নারীদের হিজাব পরা বাধ্যতামূলক করেছে তালেবান।

কট্টরপন্থি সংগঠনটির এ সিদ্ধান্তের নিন্দা জানিয়েছেন বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে থাকা আফগান নারীরা।

একই সঙ্গে প্রতিবাদের অংশ হিসেবে আফগানিস্তানের ঐতিহ্যগত রঙিন পোশাক পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেদের ছবি পোস্টও করেছেন তারা।

সম্প্রতি নারী-পুরুষের একসঙ্গে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ক্লাস করা নিষিদ্ধ করে তালেবান।

পাশাপাশি তালেবানের শরিয়াহ আইনের ব্যাখ্যা অনুযায়ী নারী শিক্ষার্থী, প্রভাষক ও কর্মচারীদের বাধ্যতামূলক হিজাব পরতে বলা হয়।

শনিবার সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত ছবিতে কাবুলের শহীদ রব্বানি বিশ্ববিদ্যালয়ে আপাদমস্তক ঢাকা পোশাকে তালেবানের পতাকা হাতে একদল শিক্ষার্থীকে ক্লাসে উপস্থিত থাকতে দেখা যায়।

বর্ণিল পোশাক পরে হিজাবের প্রতিবাদ আফগান নারীদের

প্রতিবাদে উজ্জ্বল ও রংবেরঙের আফগান পোশাক পরে নারীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মঙ্গলবার নিজেদের ছবি পোস্ট করেন।

কালো পোশাক ও পর্দা পরিহিত নারী শিক্ষার্থীদের বিষয়ে আমেরিকান ইউনিভার্সিটি অফ আফগানিস্তানের সাবেক ফ্যাকাল্টি মেম্বার বাহার জালালি টুইটবার্তায় বলেন, ‘আফগানিস্তানের ইতিহাসে কেউ কখনো এমন পোশাক পরেনি।

‘এটি পুরোপুরি বিদেশি পোশাক। আফগান সংস্কৃতিতে এ ধরনের পোশাক প্রতিনিধিত্ব করে না।

‘আফগানিস্তানের ঐতিহ্যগত পোশাক পরে আমি বিশ্ববাসীর সামনে আমাদের প্রকৃত সংস্কৃতি তুলে ধরতে চাইছি।

‘তালেবান নারীদের যে পোশাক পরতে বাধ্য করছে, তা আফগান নারীদের পোশাক নয়।’

সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়, জালালির ওই টুইট উৎসাহিত করে বিশ্বে ছড়িয়ে থাকা আরও আফগান নারীদের।

এদের মধ্যে রয়েছেন জার্মানিভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ডয়চে ভেলের আফগান শাখার প্রধান ওয়াসলাত হাসরাত-নাজিমি।

ওয়াসলাতও উজ্জ্বল পোশাকে হাজির হয়ে টুইটবার্তায় বলেন, ‘এটিই আফগান সংস্কৃতি। আফগান নারীরা এভাবেই পোশাক পরেন।’

বর্ণিল পোশাক পরে হিজাবের প্রতিবাদ আফগান নারীদের

সোদাবা হাইদারি (বামে) ও পেয়মানা আসাদ। ছবি: সিএনএন

লন্ডনে বিবিসির আলোচিত সাংবাদিক সানা সাফি নিজের ছবি পোস্ট করে বলেন, ‘আফগানিস্তানে থাকলে আমার মাথায়ও কাপড় থাকত।’

বিবিসির আরেক সাংবাদিক সোদাবা হাইদারি নিজের পোশাক সম্পর্কে বলেন, ‘এটি আমাদের ঐতিহ্যগত পোশাক। আমাদের পোশাক অনেক বর্ণিল।

‘এমনকি আমাদের চাল ও পতাকায়ও অনেক রঙের সমাবেশ দেখা যায়।’

আফগান বংশোদ্ভূত যুক্তরাজ্যের স্থানীয় রাজনীতিক পেয়মানা আসাদ বলেন, ‘তালেবান নারীদের যে পোশাক পরতে বলছে, তা আফগানিস্তানের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য নয়।’

আরও পড়ুন:
ট্রাকহামলায় নিহতদের প্রতি কানাডার সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা
‘কানাডায় মুসলমানবিদ্বেষ অস্বীকারের সুযোগ নেই’
কানাডার মুসলমানদের পাশে ট্রুডো
কানাডায় মুসলমান পরিবারের ওপর ট্রাকহামলা, নিহত ৪
শিশুদের গণকবর: চার্চকে দায় নিতে বললেন ট্রুডো

শেয়ার করুন

ফ্রান্সে প্রেসিডেন্ট হওয়ার দৌড়ে ২ নারী

ফ্রান্সে প্রেসিডেন্ট হওয়ার দৌড়ে ২ নারী

ফ্রান্সে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের দৌড়ে নাম লেখানো অ্যান ইদালগো (বামে) ও মেরি ল্যু পেন। ছবি: সংগৃহীত

বিভিন্ন জনমত জরিপে আভাস মিলছে যে ২০১৭ সালের নির্বাচনের মতো ২০২২ সালেও মূল প্রতিযোগিতা হবে মেরি ল্যু পেন আর ইম্যানুয়েল মাখোঁর মধ্যে। অ্যান ইদালগোকে নিয়ে এখনও নিশ্চিত নয় ফ্রান্স। তবে ইদালগোর যুক্তি- সবসময়েই জনমত জরিপকে ভুল প্রমাণ করে এসেছেন তিনি।

ফ্রান্সে আসন্ন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ইম্যানুয়েল মাখোঁকে হারানোর দৌড়ে এবার নাম লিখিয়েছেন দুই বর্ষীয়ান নারী রাজনীতিবিদ। রোববার থেকে প্রচার শুরু করেছেন কট্টর ডানপন্থি ন্যাশনাল র‍্যালির মেরি ল্যু পেন ও প্যারিসের সমাজবাদী মেয়র অ্যান ইদালগো।

টার্কিশ রেডিও অ্যান্ড টেলিভিশনের (টিআরটি) প্রতিবেদনে বলা হয়, আগামী বছরের এপ্রিলে দুই দফা ভোটের পর জানা যাবে, কে হবেন পরের প্রেসিডেন্ট। পেন বা ইদালগো, কোনো একজনেরও যদি ভাগ্যের শিঁকে ছেড়ে, তাহলে ইতিহাসে প্রথমবার নারী প্রেসিডেন্ট পাবে ফ্রান্স।

এরই মধ্যে নিজেদের নির্বাচনি প্রতিশ্রুতির মাধ্যমে জনপ্রিয়তাও পেতে শুরু করেছেন দুই নারী। শেষ পর্যন্ত জয় কার হবে, তা এখনই অনুমান করা যাচ্ছে না। তবে এখন পর্যন্ত মাখোঁর সঙ্গে লড়াইয়ে সবচেয়ে এগিয়ে তারাই।

মেরি ল্যু পেন

৫৩ বছর বয়সী এই কট্টর ডানপন্থি নারী নির্বাচনি প্রচার শুরু করেছেন দক্ষিণের শহর ফ্রেজাস থেকে।

অভিবাসীবিরোধী মনোভাবের জন্য ব্যাপক পরিচিত ল্যু পেন ফ্রান্সের কিছু অংশে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। অঞ্চলগুলোকে ‘তালেবানের আখড়া’ আখ্যা দিয়েছেন তিনি।

করোনাভাইরাস মহামারির সময়ে রেস্তোরাঁ, বারসহ বদ্ধ বিনোদনকেন্দ্রগুলোতে প্রবেশ করতে হলে টিকাগ্রহণ অথবা করোনা নেগেটিভ থাকার প্রমাণ দেখানো বাধ্যতামূলক করার ঘোষণা দিয়েছেন মাখোঁ। মাখোঁর এ পদক্ষেপকে পুঁজি করে বিরোধীদের সমর্থন পাওয়ারও চেষ্টা করছেন ল্যু পেন।

তিনি বলেন, ‘আমরা টিকার বিরুদ্ধে নই। কিন্তু টিকা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষেত্রে ব্যক্তিস্বাধীনতায় বিশ্বাস করি আমরা। কে টিকা নেবে, কে নেবে না- সে সিদ্ধান্ত তার ওপরেই ছেড়ে দেয়া উচিত।’

ল্যু পেনের বিশেষ কাউন্সিলর ফিলিপ অলিভিয়ার জানান, মধ্যপন্থি ভোটারদের সমর্থনও চান এই নারী রাজনীতিক। এজন্য সম্প্রতি বরাবরের গাঢ় নীল পোশাকের বদলে হালকা নীল পোশাক পরতে শুরু করেছেন তিনি। কারণ নির্বাচনকালীন এ সময়ে মধ্যপন্থিদের মধ্যে নিজেকে ‘কম পক্ষপাতদুষ্ট ও অনমনীয়’ দেখাতে চান তিনি।

অ্যান ইদালগো

নরম্যান্ডি অঞ্চলের রুয়েন শহর থেকে প্রার্থিতা ঘোষণা করেছেন ৬২ বছর বয়সী ইদালগো।

ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসের প্রশাসনিক দায়িত্ব নেয়া প্রথম নারী তিনি। প্যারিসের মেয়র হন ২০১৪ সালে। বর্তমানে সোশ্যালিস্ট পার্টির মনোনয়নে সবচেয়ে এগিয়ে তিনি।

কট্টর অভিবাসনবিরোধী ল্যু পেনের বিপরীতে জনসমর্থন আদায়ে পারিবারিক অভিবাসনের ইতিহাস আর নিজের হিস্প্যানিক বংশপরিচয়কে পুঁজি করেছেন হিদালগো।

স্বৈরাচারী স্প্যানিশ জেনারেল ফ্রান্সিসকো ফ্রাঙ্কোর শাসনামলে স্পেন থেকে পালিয়ে ফ্রান্সে আশ্রয় নেয় ইদালগোর পরিবার। সে সময় ইদালগোর বয়স ছিল মাত্র দুই বছর।

৬০ বছরের ব্যবধানে ফরাসি সমাজে বৈষম্য বেড়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘যেসব সুবিধা শৈশবে আমি ফ্রান্সে পেয়েছিলাম, তার সবটা এদেশের এখনকার সব শিশুর জন্য নিশ্চিত করতে চাই আমি।’

কর্মজীবী শ্রেণির নারী হিসেবে সামাজিক বিভাজন নির্মূলে অগ্রাধিকার দিচ্ছেন ইদালগো। বামপন্থি শাসনে হতাশ শ্রমিক সম্প্রদায়ের সমর্থনও বাড়ছে তার প্রতি।

নির্বাচনি প্রচারে পরিবেশবান্ধব পদক্ষেপের ওপর জোর দিচ্ছেন হিদালগো; ফ্রান্স ছেড়ে বাইরে স্থানান্তরিত শিল্পকারখানাগুলোকে দেশে ফিরিয়ে আনা, বেতনকাঠামো বৃদ্ধি ও শিক্ষার মানোন্নয়নের ওপরেও দিচ্ছেন গুরুত্ব।

নিজের পক্ষপাতহীন ভাবমূর্তির প্রচারে পুরো গ্রীষ্ম ফ্রান্সের প্রত্যন্ত গ্রাম ও মফস্বলে ঘুরে বেড়িয়েছেন ইদালগো।

করোনাভাইরাস মহামারির সময়ে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিতে এবং পরিবেশ দূষণ কমাতে সড়কে সাইকেলের জন্য আলাদা লেন তৈরি হয়েছে তারই উদ্যোগে।

তবে ভোটের রাজনীতিতে জিততে ইদালগোর এসব পদক্ষেপ কতটা কাজে দেবে, সে বিষয়টি এখনও নিশ্চিত নয়। দলের পূর্ণ সমর্থন পাওয়ার বিষয়ে আশাবাদী হলেও বামপন্থিদের মধ্যে বিভেদের কারণে মনোনয়ন পেতে বাধার মুখে পড়তে পারেন তিনি।

মাখোঁ কি পুনঃনির্বাচন করবেন?

ফ্রান্সের ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ প্রেসিডেন্ট ইম্যানুয়েল মাখোঁ। তিনি আবারও নির্বাচনে দাঁড়াবেন বলে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেননি। তবে চলতি মাসে মার্সেইল শহরে সফরের সময়ে শত-কোটি ডলারের উন্নয়নমূলক বিনিয়োগের আশ্বাস দেন তিনি, যেগুলো তার নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বলেই মনে করা হচ্ছে।

বিভিন্ন জনমত জরিপে আভাস মিলছে যে ২০১৭ সালের নির্বাচনের মতো ২০২২ সালেও মূল প্রতিযোগিতা হবে পেন আর মাখোঁর মধ্যে। ইদালগোকে নিয়ে এখনও নিশ্চিত নয় ফ্রান্স।

তবে প্যারিসে দেয়া বক্তব্যে ইদালগোর যুক্তি- সবসময়েই জনমত জরিপকে ভুল প্রমাণ করে এসেছেন তিনি।

আরও পড়ুন:
ট্রাকহামলায় নিহতদের প্রতি কানাডার সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা
‘কানাডায় মুসলমানবিদ্বেষ অস্বীকারের সুযোগ নেই’
কানাডার মুসলমানদের পাশে ট্রুডো
কানাডায় মুসলমান পরিবারের ওপর ট্রাকহামলা, নিহত ৪
শিশুদের গণকবর: চার্চকে দায় নিতে বললেন ট্রুডো

শেয়ার করুন