মোদিকে দাড়ি কাটতে ১০০ টাকা পাঠালেন চা বিক্রেতা

দাড়ি কাটার জন্য ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ১০০ টাকা মানি অর্ডার করেন চা বিক্রেতা অনিল মোরে। ছবি: এএনআই

মোদিকে দাড়ি কাটতে ১০০ টাকা পাঠালেন চা বিক্রেতা

অনিল বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী মোদি নিজের দাড়ি বাড়াচ্ছেন। কিন্তু আমার মনে হয়, সত্যিই যদি কিছু বাড়ানোর প্রয়োজন হয়ে থাকে, তা হলো কর্মসংস্থানের সুযোগ।’

ভারতের মহারাষ্ট্রের বারামতি শহরের ইন্দাপুরে বেসরকারি হাসপাতালের উল্টো দিকে ছোট্ট একটি গুমটিঘর। তাতেই চায়ের দোকান চালিয়ে কোনোমতে দিন গুজরান হয় অনিল মোরের। তবু নিজের সম্বল পুঁজি থেকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ১০০ টাকা পাঠালেন তিনি।

তবে এটা পিএম কেয়ার্স ফান্ডে আর্থিক অনুদান নয়। প্রধানমন্ত্রী যাতে দাড়ি কাটেন, সে জন্যই টাকাটা পাঠিয়েছেন ওই চা বিক্রেতা।

আর্থিক কষ্টের মধ্যেও প্রধানমন্ত্রীকে টাকা পাঠানো প্রসঙ্গে সংবাদমাধ্যমকে অনিল বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী মোদি নিজের দাড়ি বাড়াচ্ছেন। কিন্তু আমার মনে হয়, সত্যিই যদি কিছু বাড়ানোর প্রয়োজন হয়ে থাকে, তা হলো কর্মসংস্থানের সুযোগ।

‘প্রধানমন্ত্রীর উচিত দেশের টিকাকরণের গতি বাড়ানো, স্বাস্থ্য পরিকাঠামো মজবুত করা। গত দুটি লকডাউনের কারণে সাধারণ মানুষ যে সমস্যায় পড়েছে, তা দূর করা উচিত তার।’

প্রধানমন্ত্রী মোদিকে অসম্মান করার জন্য টাকা পাঠাচ্ছেন না বলে জানান অনিল।

তিনি বলেন, ‘আমি প্রধানমন্ত্রীকে অত্যন্ত সম্মান করি এবং উনি যেভাবে আজ আমাদের দেশের প্রধানমন্ত্রী হয়ে উঠেছেন, সেই প্রচেষ্টা ও কর্মফলকেও সাধুবাদ জানাই।

‘আমি নিজের জমানো টাকা থেকেই ওনাকে ১০০ টাকা পাঠাচ্ছি, যাতে উনি দাড়ি কেটে আমাদের আসল সমস্যাগুলোর ওপর নজর দেন।’

১০০ টাকার সঙ্গে অনিল প্রধানমন্ত্রীকে যে চিঠিটি লিখেছেন, তাতে তিনি আবেদন জানিয়ে বলেন, ‘করোনায় যেসব পরিবারের সদস্য মারা গেছেন, তাদের পাঁচ লাখ টাকা এবং লকডাউনের প্রভাবে যেসব পরিবার সম্বলহীন হয়ে পড়েছে, তাদের ৩০ হাজার টাকা করে যেন দেয়া হয়।’

গত দেড় বছর ধরে করোনা সংক্রমণ ও লকডাউনের প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়েছে নিম্নবিত্ত সাধারণ মানুষের ওপর। ব্যতিক্রম নন অনিল মোরেও। বারবার লকডাউনের প্রভাব পড়েছে চা ব্যবসাতেও।

সে কারণে রেগেমেগে প্রধানমন্ত্রীকে মানি অর্ডার করে ১০০ টাকা পাঠান তিনি।

আরও পড়ুন:
ভারতে করোনা আক্রান্ত শিশুদের রেমডিসিভির প্রয়োগে মানা
তালিকা সংশোধন, ভারতে ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু ৬ হাজার
মুম্বাইয়ে ভবন ধসে ৮ শিশুসহ ১১ জনের মৃত্যু
ভারতে ২৮ হাতি ও ৯ সিংহের করোনা

শেয়ার করুন

মন্তব্য

জনগণকে ১০০ কোটি টিকা দিল চীন

জনগণকে ১০০ কোটি টিকা দিল চীন

চীনের দক্ষিণাঞ্চলীয় গুয়াংডং প্রদেশে করোনার ডেল্টা ধরনের সংক্রমণ দেখা দেয়ায় মানুষজন টিকা নেয়ার ব্যাপারে ফের উদ্যোগী হয়।

করোনাভাইরাস প্রতিরোধী টিকার ১০০ কোটির বেশি ডোজ জনগণকে দিয়েছে চীনের সরকার। এ সংখ্যা বৈশ্বিকভাবে দেয়া করোনা টিকার এক তৃতীয়াংশের বেশি।

বিবিসির প্রতিবেদনে রোববার এ তথ্য জানানো হয়েছে।

চীনে করোনার প্রাদুর্ভাব কমে যাওয়ায় দেশটির জনগণের মধ্যে টিকা নেয়ার ক্ষেত্রে অনাগ্রহ দেখা দেয়।

তবে টিকা নিলে বিনা মূল্যে ডিমসহ অন্যান্য প্রণোদনা ও বিশ্বজুড়ে ডেল্টা ধরনের করোনার প্রকোপের পরিপ্রেক্ষিতে টিকা গ্রহণ বৃদ্ধি পায়।

চলতি বছরের জুলাইয়ের মধ্যে ১৪০ কোটি জনগোষ্ঠীর ৪০ শতাংশকে পুরোপুরি টিকার আওতায় আনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে চীনা কর্তৃপক্ষ।

নিজেদের তৈরি টিকা সিনোফার্ম ও সিনোভ্যাক নিচ্ছে চীনের মানুষ। উভয় টিকারই ডোজ দুটি।

চীনে করোনা মোকাবিলায় লকডাউন ও গণপরীক্ষা ভাইরাসটির সংক্রমণ অনেকাংশে কমিয়ে দেয়। চীনের অনেকের মধ্যে এসব কারণেও টিকা নেয়ার বিষয়ে উৎসাহের ঘাটতি দেখা যায়।

চীনের দক্ষিণাঞ্চলীয় গুয়াংডং প্রদেশে করোনার ডেল্টা ধরনের সংক্রমণ দেখা দেয়ায় মানুষজন টিকা নেয়ার ব্যাপারে ফের উদ্যোগী হয়।

চীনের জাতীয় স্বাস্থ্য কমিশন বলেছে, সম্প্রতি ১০ কোটি টিকা শেষ হতে মাত্র পাঁচ দিন সময় লাগে।

চীনের গুয়াংডং প্রদেশের গুয়াংঝাউ শহরের চিকিৎসকেরা দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমসকে বলেন, করোনার ডেল্টা ধরনের উপসর্গ ভিন্ন ও আরও বিপজ্জনক। ২০১৯ সালে উহান শহরে শনাক্ত হওয়া ধরন এত ঝুঁকিপূর্ণ ছিল না।

গুয়াংঝাউ শহরের কাছে শেনজেন শহরের এক বাসিন্দা বলেন, পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার কারণে টিকা নিতে চাননি। তবে এখন সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেছেন তিনি।

২৭ বছর বয়সী ওই বাসিন্দা বলেন, ‘আমি এখন টিকা নিতে চাই। তবে টিকার অ্যাপয়েন্টমেন্ট পাওয়া এখন বেশ কঠিন হয়ে পড়েছে। এখন আর টিকা নিলে বিনা মূল্যে ডিম দেয়া হচ্ছে না। টিকাকেন্দ্রে পৌঁছাতে ফ্রি রাইড দেয়াও এখন বন্ধ।’

আরও পড়ুন:
ভারতে করোনা আক্রান্ত শিশুদের রেমডিসিভির প্রয়োগে মানা
তালিকা সংশোধন, ভারতে ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু ৬ হাজার
মুম্বাইয়ে ভবন ধসে ৮ শিশুসহ ১১ জনের মৃত্যু
ভারতে ২৮ হাতি ও ৯ সিংহের করোনা

শেয়ার করুন

পাকিস্তানে যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটি হবে না: ইমরান

পাকিস্তানে যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটি হবে না: ইমরান

পাকিস্তানে যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটি হবে না বলে জানান প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান।

ইমরান বলেন, ‘আমরা কোনোভাবে পাকিস্তানে যুক্তরাষ্ট্রকে তাদের ঘাঁটি করতে দেব না। আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ অঞ্চল ব্যবহার করা যাবে না। যুক্তরাষ্ট্রকে এমন অনুমতি দেয়ার প্রশ্নই ওঠে না।’

আফগানিস্তানের সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিতে যুক্তরাষ্ট্রকে পাকিস্তানের ভূ-খণ্ড ব্যবহার করতে দেয়া হবে না বলে সোজাসাপ্টা জানিয়ে দিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ মন্তব্য করেন বলে শনিবার ডনের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

ইমরান বলেন, ‘আমরা কোনোভাবে পাকিস্তানে যুক্তরাষ্ট্রকে তাদের ঘাঁটি করতে দেব না। আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ অঞ্চল ব্যবহার করা যাবে না। যুক্তরাষ্ট্রকে এমন অনুমতি দেয়ার প্রশ্নই ওঠে না।’

আল-কায়েদা, আইএস বা তালেবানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার (সিআইএ) অভিযান চালাতে দেশটির সরকারকে অনুমতি দেয়া হবে কি না, সাক্ষাৎকারের একপর্যায়ে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরানকে এ প্রশ্ন করেন সাংবাদিক জোনাথান সোয়ান।

জবাবে যুক্তরাষ্ট্রকে কোনোভাবেই তাদের অভিযানের স্বার্থে পাকিস্তানের মাটি ব্যবহার করতে না দেয়ার কথা জোর দিয়ে বলেন ইমরান।

সম্প্রতি পাকিস্তানের সংসদে দেয়া ভাষণে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মাহমুদ কুরেশি বলেন, আফগানিস্তানে সন্ত্রাসবাদবিরোধী অভিযান চালাতে পাকিস্তানে যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটি হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই।

পাকিস্তানের মন্ত্রিসভার বৈঠকে দেশটির তথ্যমন্ত্রী চৌধুরী ফাওয়াদ হুসেইনও পাকিস্তানে যুক্তরাষ্ট্রের বিমানঘাঁটির সম্ভাবনার কথা উড়িয়ে দেন। তিনি বলেন, সব ঘাঁটি পাকিস্তান তার নিজের স্বার্থেই ব্যবহার করবে।

তথ্যমন্ত্রী ফাওয়াদ হুসেইন আরও বলেন, “পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) নেতৃত্বাধীন সরকার যুক্তরাষ্ট্রের ‘ড্রোন নজরদারি’ কার্যক্রম বন্ধ করেছে।

‘পাকিস্তানের সব বিমানঘাঁটি দেশের কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। এ মুহূর্তে এ সংক্রান্ত কোনো আলোচনা হচ্ছে না। কোনো দেশকেই পাকিস্তান তার বিমানঘাঁটি ব্যবহার করতে দেবে না।’

আরও পড়ুন:
ভারতে করোনা আক্রান্ত শিশুদের রেমডিসিভির প্রয়োগে মানা
তালিকা সংশোধন, ভারতে ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু ৬ হাজার
মুম্বাইয়ে ভবন ধসে ৮ শিশুসহ ১১ জনের মৃত্যু
ভারতে ২৮ হাতি ও ৯ সিংহের করোনা

শেয়ার করুন

আফগানিস্তানে ‘সত্যিকারের’ ইসলামি শাসন চায় তালেবান

আফগানিস্তানে ‘সত্যিকারের’ ইসলামি শাসন চায় তালেবান

গত সেপ্টেম্বরে দোহায় আফগান সরকার ও তালেবানের মধ্যকার বৈঠকে সংগঠনটির প্রতিনিধি দলের প্রধান মোল্লা আব্দুল গনি বারাদার বক্তব্য দেন। ছবি: রয়টার্স

তালেবানের রাজনৈতিক কার্যালয়ের প্রধান মোল্লা আব্দুল গনি বারাদার এক বিবৃতিতে বলেন, ‘আফগানিস্তানের সব অমীমাংসিত বিষয় সমাধানে সত্যিকারের ইসলামি ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠাই শ্রেষ্ঠ উপায়। শান্তি আলোচনার মধ্য দিয়ে পারস্পরিক বোঝাপড়ার ভিত্তিতে সব বিষয় সমাধানে বিশ্বাসী আমরা।’

আফগানিস্তানে স্বস্তি ফেরাতে চলমান শান্তি আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে তালেবান থেকে প্রতিশ্রুতি দেয়া হলেও দেশটিতে সত্যিকারের ইসলামি ব্যবস্থা কায়েম করার কথাও বলছে তারা।

ওই শাসনব্যবস্থায় দেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও ধর্মীয় অনুশাসনের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ নারী অধিকারসংক্রান্ত বিধান রাখা হবে বলে জানিয়েছে তালেবান।

ধর্মীয় সংগঠনটির পক্ষ থেকে রোববার এসব মন্তব্য আসে বলে বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

তালেবানের রাজনৈতিক কার্যালয়ের প্রধান মোল্লা আব্দুল গনি বারাদার এক বিবৃতিতে বলেন, ‘আফগানিস্তান থেকে বিদেশি সেনা চলে যাওয়ার পর দেশের শাসনব্যবস্থা কেমন হবে, তা নিয়ে খোদ দেশবাসী ও বিশ্ববাসীর মধ্যে প্রশ্ন রয়েছে।

‘আফগানিস্তানের সব অমীমাংসিত বিষয় সমাধানে সত্যিকারের ইসলামি ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠাই শ্রেষ্ঠ উপায়। শান্তি আলোচনার মধ্য দিয়ে পারস্পরিক বোঝাপড়ার ভিত্তিতে সব বিষয় সমাধানে বিশ্বাসী আমরা।’

তালেবান নেতা আব্দুল গনি জানান, আফগানিস্তানে নারী ও সংখ্যালঘুদের সুরক্ষা দেয়া হবে। এ ছাড়া কূটনীতিক ও এনজিও কর্মীরা নির্বিঘ্নে তাদের কাজ করতে সক্ষম হবেন।

তিনি বলেন, ‘দেশের সব নাগরিকের অধিকার নিশ্চিতে আমরা অঙ্গীকারবদ্ধ।ঐশ্বর্যমণ্ডিত ইসলাম ধর্মের নীতি ও আফগান সমাজের উন্নত ঐতিহ্যের সঙ্গে সংগতি রেখে নারী-পুরুষ সবাই যেন তাদের অধিকার ভোগ করতে পারেন, সে বিষয় নিশ্চিত করার দায়িত্ব আমাদের।’

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিজেদের শিক্ষিত করার পাশাপাশি নারীদের ঘরের বাইরে কাজ করারও সুযোগ দেয়া হবে বলে জানান আব্দুল গনি।

তবে সরকারি দায়দায়িত্বে আফগান নারীরা কাজ করতে পারবেন কি না বা কর্মস্থল ও স্কুল নারী-পুরুষভেদে আলাদা হবে কি না, সে বিষয়ে পরিষ্কার করেননি তালেবান নেতা।

চলতি বছরের মে মাসে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থার বিশ্লেষকরা জানিয়েছিলেন, আফগানিস্তানে ইসলামি চরমপন্থি দল ফের ক্ষমতায় এলে দেশটির নারী অধিকারের অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত হবে।

২০০১ সালে তালেবানকে ক্ষমতাচ্যুত করে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন বাহিনী। ক্ষমতায় থাকাকালে মেয়েদের স্কুলে যাওয়া নিষিদ্ধ ছিল দেশটিতে। পাশাপাশি ঘরের বাইরে কাজ করারও অনুমতি ছিল না আফগান নারীদের।

আরও পড়ুন:
ভারতে করোনা আক্রান্ত শিশুদের রেমডিসিভির প্রয়োগে মানা
তালিকা সংশোধন, ভারতে ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু ৬ হাজার
মুম্বাইয়ে ভবন ধসে ৮ শিশুসহ ১১ জনের মৃত্যু
ভারতে ২৮ হাতি ও ৯ সিংহের করোনা

শেয়ার করুন

বাড়ছে করোনা, গঙ্গাস্নানে হাজারো মানুষ

বাড়ছে করোনা, গঙ্গাস্নানে হাজারো মানুষ

পুণ্যার্থীদের মুখে ছিল না মাস্ক। ছিল না সামাজিক দূরত্ব মানার কোনো বালাই।

করোনাভাইরাসে বিপর্যস্ত ভারত। সম্প্রতি কিছুটা সংক্রমণ কমলেও জারি আছে করোনা নিয়ে নানা বিধিনিষেধ। এরই মধ্যে গঙ্গাস্নানে হাজার হাজার পুণ্যার্থীর ঢল নেমেছে।

দেশটির উত্তরাখন্ডের হরিদ্বার ও উত্তর প্রদেশের ফররুখাবাদে রোববার সকালে হাজার হাজার পুণ্যার্থীকে স্নান করতে নামতে দেখা গেছে।

ইন্ডিয়া টুডের প্রতিবেদনে বলা হয়, পুণ্যার্থীদের মুখে ছিল না কোনো মাস্ক, আর সামাজিক দূরত্ব মানার কোনো বালাইও ছিল না।

প্রতি বছর ফররুখাবাদে বড় পরিসরেই গঙ্গাস্নানের আয়োজন করে স্থানীয় প্রশাসন। কয়েকদিন ধরে চলে উৎসব। এবার পরিস্থিতি ভিন্ন হওয়ায় প্রশাসন আশা করেছিল, খুব বেশি পুণ্যার্থী আসবে না।

কিন্তু প্রশাসনের প্রত্যাশায় গুড়ে বালি দিয়ে হাজার হাজার পুণ্যার্থী নদীতে নেমে পড়েছে।

স্নান করতে আসা এক পুণ্যার্থী গৌরভ বলেন, ‘পবিত্র নদীতে স্নান করতে অনেক ভিড় লেগে আছে, কিন্তু কেউই স্বাস্থ্যবিধি মানছেন না।’

বাড়ছে করোনা, গঙ্গাস্নানে হাজারো মানুষ
উত্তরাখণ্ডের হরিদ্বারে গঙ্গাস্নানে পুণ্যার্থীদের ঢল

গৌরভ বলেন, ‘করোনারা নীতিমালা কেউ মানছে না। আমি নিজে মাস্ক পরেছি, সতর্ক আছি। যারা এখানে আসছেন তাদের আমি অনুরোধ জানাচ্ছি স্বাস্থ্যবিধি মানতে, মাস্ক পরতে, সামাজিক দূরুত্ব নিশ্চিত করতে। করোনাভাইরাস এখনও শেষ হয়নি।’

উত্তরাখণ্ডের হরিদ্বারেও একই চিত্র দেখা গেছে। সেখানেও কাউকে সামাজিক দূরত্ব মানতে, মাস্ক পরতে দেখা যায়নি। হরিদ্বারের পৌরঘাটে সকাল থেকেই পুণ্যার্থীদের ভিড় ছিল। স্থানীয় প্রশাসন চেষ্টা করেও কাউকে স্বাস্থ্যবিধি মানাতে পারেনি।

স্থানীয় প্রশাসনের এক কর্মকর্তা বলেন, তারা আরটি-পিসিআর পরীক্ষায় নেগেটিভ সনদ থাকলে নদীতে প্রবেশ করতে দিয়েছে। কিন্তু তারপরও অন্যরা চলে গেছে বলে জানান তিনি।

ভারতে করোনায় এখন পর্যন্ত মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ৮৬ হাজার ৭১৩ জন। আর আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছে দুই কোটি ৯৮ লাখ ৮১ হাজার ৯৬৫ জনের।

আরও পড়ুন:
ভারতে করোনা আক্রান্ত শিশুদের রেমডিসিভির প্রয়োগে মানা
তালিকা সংশোধন, ভারতে ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু ৬ হাজার
মুম্বাইয়ে ভবন ধসে ৮ শিশুসহ ১১ জনের মৃত্যু
ভারতে ২৮ হাতি ও ৯ সিংহের করোনা

শেয়ার করুন

রাইসি খুবই চরমপন্থি: ইসরায়েল

রাইসি খুবই চরমপন্থি: ইসরায়েল

ইরানের নতুন প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসিকে সবচেয়ে চরমপন্থি প্রেসিডেন্ট বলেছে ইসরায়েল। ছবি: এএফপি

হাজার হাজার রাজনৈতিক বন্দিকে মৃত্যুদণ্ড দেয়ার ঘটনা উল্লেখ করে বার্তায় রাইসিকে ‘তেহরানের কসাই’ হিসেবে অভিহিত করেন ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র।

ইব্রাহিম রাইসি ইরানের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ইসরায়েল। রাইসি খুবই চরমপন্থি প্রেসিডেন্ট হবেন বলে মন্তব্য ইহুদিবাদী দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্রের।

ইরানের নির্বাচনের ফল শনিবার ঘোষণার পর ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিওর হাইয়াত টুইট বার্তায় এসব কথা বলেন। ইরানের এই নতুন নেতা পরমাণু কার্যক্রম বাড়াবেন বলেও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সতর্ক করেন তিনি।

শনিবার রাতে কট্টর রক্ষণশীল রাইসিকে ইরানের প্রেসিডেন্ট ঘোষণা করা হয়। বিশাল ব্যবধানে প্রতিদ্বন্দ্বীদের পরাজিত করেন যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞায় থাকা ধর্মীয় এই নেতা।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের মধ্যপন্থি প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি আগস্টে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রধান বিচারপতি রাইসির হাতে দেশের শাসনভার তুলে দেবেন।

নির্বাচনে জয়ের খবর পেয়ে এক বিবৃতিতে ইরান সরকারের প্রতি জনগণের আস্থা শক্তিশালী করার অঙ্গীকার করেন রাইসি।

তিনি বলেন, ‘কঠোর পরিশ্রমী, বিপ্লবী ও দুর্নীতিবিরোধী সরকার গঠন করব আমি।’

ইরান ও ইসরায়েল দীর্ঘদিন ধরে ছায়া যুদ্ধে লিপ্ত। তবে সরাসরি সংঘাত থেকে দেশ দুটি এখন পর্যন্ত নিজেদের বিরত রেখেছে।

গত বছর শীর্ষ পরমাণু বিজ্ঞানী মোহসেন ফাখরিজাদেহ হত্যায় ইসরায়েলকে দায়ী করে ইরান। এ ছাড়া চলতি বছরের এপ্রিলে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্রে নাশকতার জন্যও ইসরায়েলের দিকে অভিযোগের আঙুল তোলে ইরান।

চলতি মাসের শুরুর দিকে বিজ্ঞানী ফাখরিজাদেহ হত্যা ও পরমাণু কেন্দ্রে নাশকতায় ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের জড়িত থাকার বিষয়টি সংস্থার সাবেক প্রধান ইয়োসি কোহেন পরোক্ষভাবে স্বীকার করেন।

এদিকে ইরানের নির্বাচনের ফল নিয়ে মন্তব্য করেছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির ভাষ্য, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মধ্য দিয়ে নিজেদের নেতা বাছাইয়ের অধিকার থেকে ইরানিদের বঞ্চিত করা হয়েছে।

ইরানে শুক্রবারের ১৩তম প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ৫০ শতাংশেরও কম ভোটার ভোটকেন্দ্রে যান, যা দেশটির ইতিহাসে সর্বনিম্ন। ২০১৭ সালে ৭০ শতাংশের বেশি ইরানি নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন।

ইরানের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অংশ নিতে প্রায় ৪০ নারীসহ ৬০০ প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন।

তাদের মধ্যে কেবল সাতজনকে নির্বাচনে দাঁড়ানোর অনুমতি দেয় দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনির নেতৃত্বাধীন পার্লামেন্টের অভিভাবক পরিষদ (গার্ডিয়ান কাউন্সিল)।

এতে অনেক ভোটার হতাশ হন। গার্ডিয়ান কাউন্সিলের তালিকায় ছিলেন না ইরানের একসময়ের জনপ্রিয় প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমাদিনেজাদ।

গার্ডিয়ান কাউন্সিলের সিদ্ধান্তের কারণে ইরানের ভিন্নমতাবলম্বী ও সংস্থারপন্থি শিবিরের অনেকে নির্বাচন বর্জনের ডাক দিয়েছিলেন।

তাদের ভাষ্য, গার্ডিয়ান কাউন্সিল বেশ কয়েকজন যোগ্য প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিল করেছে। এর মাধ্যমে নির্বাচনি লড়াইয়ে রাইসির শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বীদের সরিয়ে দেয়া হয়েছে।

হাজার হাজার রাজনৈতিক বন্দিকে মৃত্যুদণ্ড দেয়ার ঘটনা উল্লেখ করে বার্তায় রাইসিকে ‘তেহরানের কসাই’ হিসেবে অভিহিত করেন ইসরায়েলের মুখপাত্র হাইয়াত।

১৯৮৮ সালে হাজার হাজার মার্ক্সবাদী ও বামপন্থিদের মৃত্যুদণ্ড দেন ইরানের চার বিচারক। ওই চারজনের একজন ছিলেন রাইসি।

এদিকে ইরানের নতুন প্রেসিডেন্ট রাইসিকে অভিনন্দন জানিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।

এ ছাড়া সিরিয়া, ইরাক, তুরস্ক ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের নেতারাও রাইসিকে অভিনন্দন জানান।

আরও পড়ুন:
ভারতে করোনা আক্রান্ত শিশুদের রেমডিসিভির প্রয়োগে মানা
তালিকা সংশোধন, ভারতে ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু ৬ হাজার
মুম্বাইয়ে ভবন ধসে ৮ শিশুসহ ১১ জনের মৃত্যু
ভারতে ২৮ হাতি ও ৯ সিংহের করোনা

শেয়ার করুন

সৌদিতে সাড়ে ৩ বছরে গ্রেপ্তার ৫৬ লাখ প্রবাসী

সৌদিতে সাড়ে ৩ বছরে গ্রেপ্তার ৫৬ লাখ প্রবাসী

বিভিন্ন প্রদেশ ও অঞ্চলে মোট ৫৬ লাখ ১৫ হাজার ৮৮৪ জন নিয়ম লঙ্ঘনকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এ অভিযানে।

সৌদি আরবে ২০১৭ সালের নভেম্বর থেকে এ পর্যন্ত ৫৬ লাখ অবৈধ প্রবাসী গ্রেপ্তার হয়েছেন। তাদের মধ্যে ১৫ লক্ষাধিককে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে।

দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় শনিবার এ তথ্য জানায় বলে সৌদি গেজেটের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

এতে উল্লেখ করা হয়, আবাসন, শ্রম ও সীমান্ত নীতিমালা লঙ্ঘনের অভিযোগে গত সাড়ে তিন বছরে গ্রেপ্তার করা হয় বিপুলসংখ্যক প্রবাসীকে।

সৌদি আরবজুড়ে অনুপ্রবেশকারী বিদেশিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণে সমন্বিতভাবে এ অভিযান চালায় দেশটির মানবসম্পদ ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়, পাসপোর্ট মহাঅধিদপ্তরসহ সরকারের ১৯টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগ।

বিভিন্ন প্রদেশ ও অঞ্চলে মোট ৫৬ লাখ ১৫ হাজার ৮৮৪ জন নিয়ম লঙ্ঘনকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এ অভিযানে।

এদের মধ্যে আবাসন নীতিমালা মানেননি ৪৩ লাখের বেশি মানুষ। শ্রম আইন ভেঙেছেন ৮ লাখের বেশি। সীমান্তপথে অনুপ্রবেশকারী ৫ লাখের বেশি।

রিয়াদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ১ লাখ ১৬ হাজার ৯০৮ জনকে সৌদি আরবের দক্ষিণ সীমান্ত হয়ে অনুপ্রবেশের সময় গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এদের ৫৪ শতাংশ ইথিওপীয়, ৪৩ শতাংশ ইয়েমেনি। বাকিরা অন্য অনেক দেশের নাগরিক।

৯ হাজার ৫০৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে সৌদি আরব থেকে পালানোর সময়।

অবৈধ প্রবাসীদের থাকতে দেয়া ও বিভিন্ন জায়গায় যেতে সহযোগিতার অপরাধে গ্রেপ্তার করা হয় ৮ হাজার ২২২ জনকে। এদের মধ্যে ২ হাজার ৭৬৬ জন সৌদি নাগরিকের প্রায় সবাই বিচার ও শাস্তি ভোগ শেষে মুক্তি পেয়েছেন।

গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে প্রায় ৫৪ হাজার প্রবাসী এখনও আটক আছে। তাদের মধ্যে প্রায় ৫০ হাজার পুরুষ।

শাস্তি ভোগ সম্পন্ন করেছেন ৭ লাখের বেশি আইন অমান্যকারী।

দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে ১৫ লাখ ৫৩ হাজার ৬৬৭ জনকে।

নিজ নিজ দেশের দূতাবাস ও কনস্যুলেটের সহযোগিতায় অবিলম্বে দেশে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছেন সাড়ে ১৯ লাখ প্রবাসী।

আরও পড়ুন:
ভারতে করোনা আক্রান্ত শিশুদের রেমডিসিভির প্রয়োগে মানা
তালিকা সংশোধন, ভারতে ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু ৬ হাজার
মুম্বাইয়ে ভবন ধসে ৮ শিশুসহ ১১ জনের মৃত্যু
ভারতে ২৮ হাতি ও ৯ সিংহের করোনা

শেয়ার করুন

করোনা: ব্রাজিলে মৃত্যু ছাড়াল ৫ লাখ

করোনা: ব্রাজিলে মৃত্যু ছাড়াল ৫ লাখ

করোনাভাইরাসে প্রাণহানির দিক থেকে বিশ্বের দ্বিতীয় শীর্ষ দেশ ব্রাজিল। ছবি: এএফপি

ব্রাজিলের স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট ফিওক্রুজ জানিয়েছে, পরিস্থিতি ভীষণ সংকটজনক। টিকার দুই ডোজ নিয়েছেন ব্রাজিলের প্রাপ্তবয়স্কদের মাত্র ১৫ শতাংশ। মহামারির দেড় বছর পর দেশটিতে স্বাস্থ্য পরিস্থিতি সরকার কীভাবে সামলাচ্ছে, তা খতিয়ে দেখতে অনুসন্ধান শুরু করেছে ব্রাজিলের কংগ্রেস।

যুক্তরাষ্ট্রের পর বিশ্বের দ্বিতীয় দেশ হিসেবে করোনাভাইরাস মহামারিতে পাঁচ লাখের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে ব্রাজিলে।

বিশ্বের তৃতীয় দেশ হিসেবে ব্রাজিলের ১ কোটি ৭৯ লাখের কাছাকাছি মানুষের দেহে করোনা শনাক্ত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতে এ সংখ্যা যথাক্রমে প্রায় সাড়ে ৩ কোটি ও ৩ কোটি।

২৪ ঘণ্টার হিসাবে শনিবার ব্রাজিলে করোনায় প্রাণ গেছে ২ হাজার ২৪৭ জনের। শনাক্ত হয়েছে প্রায় ৮২ হাজার নতুন রোগী।

বিবিসির প্রতিবেদনে জানানো হয়, গত এক সপ্তাহে দেশটিতে দৈনিক ৭০ হাজার মানুষের দেহে করোনা শনাক্ত হয়। চলতি বছরের মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত অর্থাৎ প্রায় চার মাস ধরে ব্রাজিলে করোনায় দৈনিক মৃত্যুর গড় দেড় হাজারের বেশি।

এর মধ্যেই দেশটিতে মহামারি পরিস্থিতির আরও অবনতি হবে বলে শঙ্কা বিশেষজ্ঞদের। কারণ হিসেবে তারা বলছেন করোনা প্রতিরোধী টিকা কর্মসূচির ধীরগতি ও শীতের মৌসুম এগিয়ে আসতে থাকার কথা।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম টুইটারে ব্রাজিলের স্বাস্থ্যমন্ত্রী মার্সেলো কুইরোগা শোকাতুর লাখো পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।

তিনি লিখেন, ‘যারা মারা গেছেন, তাদের বাবা, মা, বন্ধুবান্ধব ও স্বজনদের প্রতি আমার সহমর্মিতা রয়েছে। মহামারির কারণে পাঁচ লাখ মানুষের মৃত্যু ব্রাজিলের জন্য ভীষণ দুঃখের।’

সম্প্রতি নতুন করে সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতি সত্ত্বেও ছোঁয়াচে ভাইরাসটির বিস্তার রোধে সামাজিক দূরত্ব রক্ষা ও স্বাস্থ্যবিধি আরোপের সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট জায়ের বলসোনারো।

‘পরিস্থিতি গুরুতর’

ব্রাজিলের স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট ফিওক্রুজ জানিয়েছে, পরিস্থিতি গুরুতর। টিকার দুই ডোজ নিয়েছেন ব্রাজিলের প্রাপ্তবয়স্কদের মাত্র ১৫ শতাংশ।

মহামারির দেড় বছর পর দেশটিতে স্বাস্থ্য পরিস্থিতি বলসোনারোর প্রশাসন কীভাবে সামলাচ্ছে, তা খতিয়ে দেখতে অনুসন্ধান শুরু করেছে ব্রাজিলের কংগ্রেস।

মহামারি নিয়ন্ত্রণে জাতীয় পর্যায়ে সমন্বিত ব্যবস্থা গ্রহণে ব্যর্থতা, টিকা-লকডাউন-স্বাস্থ্যবিধি ও মাস্ক পরার কার্যকারিতা নিয়ে সন্দেহ দেখিয়ে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েন ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট।

সে অবস্থান থেকে তিনি অনেকটা সরে এলেও বিরোধীদের অভিযোগ, রাজনৈতিক কারণে টিকা কিনতে দেরি করেছেন বলসোনারো। মহামারিকে গুরুত্বের সঙ্গে না নিয়ে পরিস্থিতিকে আরও সংকটজনক করে তুলেছেন তিনি।

করোনাভাইরাসের ক্রমাগত রূপ পরিবর্তন এবং একের পর এক অধিক সংক্রামক ভ্যারিয়েন্টের কারণে ব্রাজিলে মহামারি নতুন গতিতে বাড়ছে। এর মধ্যে আছে আমাজন বনাঞ্চলে প্রথম শনাক্ত করোনার গামা ভ্যারিয়েন্ট।

দেশটির বেশিরভাগ রাজ্যের হাসপাতালগুলোর নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) শয্যার তুলনায় রোগী ভর্তির হার ৮০ শতাংশের বেশি।

দক্ষিণ গোলার্ধ্বে আগামী সপ্তাহ থেকে শীতের মৌসুম শুরু হতে যাওয়ায় সামনের দিনগুলোতে করোনার সংক্রমণ আরও বাড়বে বলে শঙ্কা বাড়ছে।

ফিওক্রুজের ভাষ্য, ‘ব্রাজিলে স্থানীয়ভাবে সংক্রমণের হার অত্যাধিক...শীতের কারণে পরিস্থিতি জটিল হওয়ার ভয় বেশি।’

এমন পরিস্থিতিতে টিকা কার্যক্রমের ধীরগতির কারণে আরও অনেক প্রাণহানি হবে বলে সতর্ক করেছেন ব্রাজিলের স্বাস্থ্যবিষয়ক সংস্থা আনভিসার সাবেক প্রধান গনজালো ভেসিনা।

তিনি বলেন, ‘এখন পর্যন্ত পাঁচ লাখ প্রাণ চলে গেছে। এ সংখ্যা আরও বাড়তে থাকবে। কারণ টিকা কার্যক্রম সম্পন্নে অনেক সময় লাগবে।

‘হয়তো এ বছরে মৃত্যুর মিছিল থামবেও না। কারণ টিকা সরবরাহের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে আমাদের। এমনিতেই টিকা কেনাই হয়েছে দেরিতে।’

টিকা কার্যক্রমের গতি জোরদারের দাবিতে শনিকার ব্রাজিলের বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ করেছেন লাখো মানুষ।

আরও পড়ুন:
ভারতে করোনা আক্রান্ত শিশুদের রেমডিসিভির প্রয়োগে মানা
তালিকা সংশোধন, ভারতে ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু ৬ হাজার
মুম্বাইয়ে ভবন ধসে ৮ শিশুসহ ১১ জনের মৃত্যু
ভারতে ২৮ হাতি ও ৯ সিংহের করোনা

শেয়ার করুন