যুক্তরাজ্যে পৌঁছেই রাশিয়াকে বাইডেনের হুঁশিয়ারি

যুক্তরাজ্যে পৌঁছেই রাশিয়াকে বাইডেনের হুঁশিয়ারি

যুক্তরাষ্ট্রের ৪৬তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে প্রথম বিদেশ সফরের শুরুতে ইংল্যান্ডের মিল্ডেনহল বিমান ঘাঁটিতে জো বাইডেন। ছবি: এএফপি

বাইডেন জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট হিসেবে প্রথম রাষ্ট্রীয় সফরের প্রতিটি পদক্ষেপে তার বার্তা হবে, ‘যুক্তরাষ্ট্র পুরোনো রূপে ফিরছে। কঠিন থেকে কঠিনতম বাধা মোকাবিলায় এবং সুনিশ্চিত ভবিষ্যৎ গঠনে বৈশ্বিক গণতান্ত্রিক শক্তিগুলো ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করবে।’

রাশিয়া ‘ক্ষতিকর কর্মকাণ্ড’ থেকে বিরত না থাকলে কঠিন পরিণতির মুখোমুখি হবে বলে হুঁশিয়ারি দিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন।

রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার পর প্রথম বিদেশ সফরে বুধবার যুক্তরাজ্যে পৌঁছে এ কথা বলেন বাইডেন।

ইংল্যান্ডের মিল্ডেনহল বিমানঘাঁটিতে পা রেখে সেখানে নিয়োজিত যুক্তরাষ্ট্রের সেনা ও তাদের পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে বক্তব্য দেন বাইডেন।

রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে লক্ষ্য করে তিনি বলেন, ‘রাশিয়ার সঙ্গে সংঘাত আমাদের লক্ষ্য নয়। আমরা স্থিতিশীল ও স্বাভাবিক সম্পর্ক চাই… কিন্তু স্পষ্টভাবে জানাচ্ছি, রাশিয়ার সরকার যদি অসদুপায় অবলম্বন বন্ধ না করে, তাহলে এর যথোপযুক্ত জবাব দেবে যুক্তরাষ্ট্র।’

বিবিসির প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ইউরোপীয় মিত্রদের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদারের উদ্দেশ্য এরই মধ্যে স্পষ্ট করেছেন বাইডেন। পূর্বসূরি ডনাল্ড ট্রাম্পের শাসনামলে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের মিত্র বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সৃষ্ট দূরত্ব ঘোচানো মূল লক্ষ্য তার।

বাইডেন জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট হিসেবে প্রথম রাষ্ট্রীয় সফরে প্রতিটি পদক্ষেপে তার বার্তা হবে, ‘যুক্তরাষ্ট্র পুরোনো রূপে ফিরছে। কঠিন থেকে কঠিনতম বাধা মোকাবিলায় এবং সুনিশ্চিত ভবিষ্যৎ গঠনে বৈশ্বিক গণতান্ত্রিক শক্তিগুলো ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করবে।’

আট দিনের সফরের শুরুতে বৃহস্পতিবার ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনের সঙ্গে বৈঠক করবেন বাইডেন। নতুন ‘আটলান্টিক চার্টার’-এ স্বাক্ষর করবেন দুই নেতা।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষ হওয়ার পর ১৯৪১ সালে আটলান্টিক চার্টার নামক প্রথম সমঝোতা হয়েছিল। বৈশ্বিক স্বার্থরক্ষায় যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের সাধারণ লক্ষ্য নিয়ে ওই সমঝোতায় সই করেছিলেন তৎকালীন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী উইনস্টন চার্চিল ও আমেরিকান প্রেসিডেন্ট ফ্রাঙ্কলিন রুজভেল্ট।

করোনাভাইরাস মহামারি পরবর্তী বিশ্বে নতুন আটলান্টিক চার্টারে বাইডেন ও জনসনের নেতৃত্বে অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব ঠেকানো, নিরাপত্তাসহ সমসাময়িক বিভিন্ন বিষয়।

বিশ্লেষকরা বলছেন, বিগত ট্রাম্প প্রশাসনের বিভিন্ন বিতর্কিত সিদ্ধান্ত আর বৈশ্বিক মহামারির প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত কূটনীতি সারিয়ে তুলতে উদ্যোগী হয়েছেন বাইডেন ও জনসন।

ইউরোপে সপ্তাহব্যাপী এই সফরে উইন্ডসর ক্যাসেলে রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন বাইডেন; অংশ নেবেন বিশ্বের শীর্ষ সাত অর্থনীতির জোট জি সেভেনভুক্ত দেশগুলোর রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের সম্মেলনে; আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা জোট ন্যাটোর শীর্ষ সম্মেলনে প্রথমবারের মতো যোগ দেবেন প্রেসিডেন্ট হিসেবে।

সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় প্রতিদ্বন্দ্বী রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিনের সঙ্গে বৈঠকের মধ্য দিয়ে শেষ হবে তার এ সফর।

বেশ কিছু ইস্যুতে তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে ওয়াশিংটন-মস্কো সম্পর্ক।

হোয়াইট হাউসের আভাস, আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ন্ত্রণ, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব ঠেকানো, ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযান, মস্কোর সাইবার-হ্যাকিং কার্যক্রম, রাশিয়ায় কারাবন্দি প্রধান বিরোধীদলীয় নেতা অ্যালেক্সেই নাভালনির মুক্তিসহ বিভিন্ন বিষয়ে পুতিনকে চাপ দেয়ার চেষ্টা করবেন বাইডেন।

চলতি বছরের এপ্রিলে পশ্চিমা দেশগুলোর বিরুদ্ধে ‘রাশিয়ার পেছনে লেগে থাকার’ অভিযোগ করেন রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিন। সতর্ক করে বলেন, ‘সীমা অতিক্রম করলে ভুগতে হবে দেশগুলোকে’।

আরও পড়ুন:
যুক্তরাজ্য থেকে শুরু প্রেসিডেন্ট বাইডেনের বিদেশ সফর
এবার চীনা প্রতিষ্ঠানে বাইডেনের খড়গ
টিকা নিলে সিনেমা হলে মাস্ক পরা লাগবে না
ক্যালিফোর্নিয়ায় গুলিতে নিহত ৮
যুক্তরাষ্ট্রে এশীয়বিদ্বেষ ঠেকাতে ঐতিহাসিক আইন কার্যকর

শেয়ার করুন

মন্তব্য