শত কিলোমিটার পেরিয়ে বাংলাদেশে ভারতের বাঘ

ভারত থেকে ৪ মাসে ১০০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশে পৌঁছায় রেডিও কলার লাগানো এই বাঘ। ছবি: টুইটার

শত কিলোমিটার পেরিয়ে বাংলাদেশে ভারতের বাঘ

ভারতের বন বিভাগের কর্মকর্তা পারভীন কাসওয়ান মঙ্গলবার সকালে টুইটবার্তায় বলেন, ‘বাঘটি ভিসা ছাড়া ভারত থেকে ১০০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশে পৌঁছায়। খাড়ি, দ্বীপ ও সাগর অতিক্রম করে এটি।’

ভারতের সুন্দরবন থেকে বাংলাদেশের সুন্দরবনে এসে পৌঁছেছে গলায় রেডিও কলার বাঁধা এক বাঘ। ভিসা ছাড়া প্রতিবেশী দেশে আসতে এটির সময় লাগে চার মাস। এ সময় বাঘটি পাড়ি দেয় ১০০ কিলোমিটার পথ।

খুব মসৃণ ছিল না বাঘটির যাত্রা। বেশ কয়েকটি বাধার সম্মুখীন হতে হয় একে। পথে নদীও সাঁতরে পার হতে হয়। নদীগুলোর মধ্যে কয়েকটি এক কিলোমিটারের বেশি চওড়া ছিল।

পশ্চিমবঙ্গের প্রধান বন্য প্রাণী ওয়ার্ডেন ভি কে যাদব এমনই বলেন বলে ভারতের সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

বিভিন্ন প্রতিবেদনের বরাতে হিন্দুস্তান টাইমস জানায়, বনে জনবসতির কাছাকাছি এলে চলাচলের ধরন কেমন হয়, তা জানতে গত বছরের ডিসেম্বরে পশ্চিমবঙ্গের বশিরহাট রেঞ্জের অধীনে হরিখালি ক্যাম্পের উল্টো দিকে হরিণভাঙ্গা বন থেকে বাঘটিকে ধরা হয়।

পরে ২৭ ডিসেম্বর গলায় স্যাটেলাইট কলার লাগিয়ে পুরুষ বাঘটিকে ছেড়ে দেয়া হয়।

চার মাসের যাত্রায় বাঘটি কোনো মনুষ্য বসতিতে ঢোকেনি বলে মন্তব্য করেন যাদব।

তিনি বলেন, ‘ভারতের সুন্দরবন অংশে কিছুদিন ঘোরাফেরার পর বাংলাদেশের সুন্দরবনের তালপট্টি দ্বীপের দিকে এগোতে শুরু করে বাঘটি। ছোট, হরিখালি, বড় হরিখালি এমনকি রাইমঙ্গল নদীও এটি পার হয়।’

ট্যাগিংয়ের জন্য বন বিভাগের কর্মকর্তারা বাঘটিকে ধরার আগে এটি বাংলাদেশ থেকে এসে থাকতে পারে বলে জানান যাদব।

ভারতের বন বিভাগের কর্মকর্তা পারভীন কাসওয়ান মঙ্গলবার সকালে টুইটবার্তায় বলেন, ‘বাঘটি ভিসা ছাড়া ভারত থেকে ১০০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশে পৌঁছায়। খাড়ি, দ্বীপ ও সাগর অতিক্রম করে এটি।’

টাইমস অফ ইন্ডিয়াকে যাদব বলেন, ২৭ ডিসেম্বর থেকে ১১ মে পর্যন্ত ওই বাঘ তিনটি দ্বীপ অতিক্রম করে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে ভারতের সুন্দরবনে হরিণভাঙ্গা ও খাতুয়াঝুড়ি এবং বাংলাদেশের তালপট্টি।

১১ মের পর বাঘটির গলার রেডিও কলার থেকে সংকেত আসা বন্ধ হয়ে যায়। সংকেত অনুযায়ী বাঘটির সর্বশেষ অবস্থান ছিল তালপট্টি দ্বীপে।

যাদব বলেন, ‘কোনো কারণে বাঘটির মৃত্যু হলে তা রেডিও কলার জানাবে। কিন্তু এ ধরনের কোনো সংকেত আমরা পাইনি। এ ছাড়া কলার থেকে কোনো স্থির সংকেতও পাওয়া যায়নি। এর অর্থ বাঘটি নিরাপদেই আছে। এটির গলা থেকে কলারটি পড়ে যেতে পারে।’

আরও পড়ুন:
ট্রাকের ধাক্কায় আহত মেছোবাঘ ফিরল বনে
সুন্দরবনের ‘বাঘ হাবিব’ কারাগারে
জঙ্গল থেকে বাড়িতে ঢুকে সিঁড়িতে আটকা চিতাবাঘ
চৌদ্দতে বাবাকে, একুশে ছেলেকে মারল বাঘ
পরির ঘরে তিন অতিথি

শেয়ার করুন

মন্তব্য

জম্মু-কাশ্মিরকে পূর্ণ রাজ্যের মর্যাদা সময় মতো: মোদি

জম্মু-কাশ্মিরকে পূর্ণ রাজ্যের মর্যাদা সময় মতো: মোদি

কাশ্মীরের বিশেষ ক্ষমতা প্রত্যাহারের পর দীর্ঘদিন চলে কারফিউ। ছবি: এএফপি

কাশ্মিরের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও ন্যাশনাল কনফারেন্স নেতা ওমর আব্দুল্লাহ বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দুজনেই আশ্বাস দিয়েছেন যত শীঘ্র সম্ভব রাজ্যের তকমা ফেরানো হবে ও নির্বাচন প্রক্রিয়া শুরু হবে।’

২০১৯-এর তুমুল বিতর্ক তোলা সিদ্ধান্তের পর প্রথমবার ফারুক আব্দুল্লাহ, মেহবুবা মুফতিদের মুখোমুখি হলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, অমিত শাহরা।

গত কয়েকদিন ধরে তাই উপত্যকা নিয়ে জল্পনা ছিল তুঙ্গে। বৃহস্পতিবার দিল্লিতে সাড়ে তিন ঘণ্টা ধরে চলল সেই বৈঠক।

জম্মু-কাশ্মিরকে পূর্ণ রাজ্যের মর্যাদা বা দ্রুত বিধানসভা নির্বাচন শুরুর বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী মোদির কাছ থেকে কোনোও আশ্বাস দেয়া হয়নি।

প্রধানমন্ত্রী বৈঠকে উপস্থিত নেতৃবৃন্দকে বিধানসভা কেন্দ্রের সীমানা পুনঃনির্ধারণ প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে জোর দিয়েছেন।

কাশ্মির থেকে ৩৭০ ধারা তুলে নেওয়ার পর যে সব নেতাদের দীর্ঘদিন বন্দি করে রাখা হয়েছিল, তারাও এদিন সব সমস্যার কথা খুলে বলেছেন প্রধানমন্ত্রীকে।

বৈঠক শেষে এমনটাই জানিয়েছেন কাশ্মিরের নেতারা। সূত্রের খবর, রাজ্যের তকমা ফেরানো নিয়েও আলোচনা হয়েছে এ দিন। প্রধানমনন্ত্রী বলেছেন, ‘ঠিক সময়ে কাশ্মিরকে রাজ্যের মর্যাদা ফিরিয়ে দেয়া হবে।’

বৈঠক শেষে গুলাম নবী আজাদ বলেন, ‘কাশ্মিরকে রাজ্যের মর্যাদা ফিরিয়ে দেয়া, অবিলম্বে বিধানসভা নির্বাচন করে গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফেরানো, সব রাজনৈতিক বন্দিদের মুক্তি, ডোমিসাইল চালু এবং কাশ্মিরি পণ্ডিতদের পুনর্বাসন। এই পাঁচটি দাবি প্রধানমন্ত্রীর সামনে রাখা হয়েছিল।’

বৈঠক শেষে মোদি বলেন, ‘ভোট করে উপত্যকায় নির্বাচিত সরকার প্রতিষ্ঠা করা হবে।’

তিনি বলেন, ‘কাশ্মিরের নেতা-নেত্রীদের সঙ্গে বৈঠক আদতে উন্নয়নের পথে এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। কাশ্মিরের মানুষ, বিশেষত যুব সমাজের আশা পূরণ করা হবে।’

মেহবুবা মুফতি জানান, তিনি বৈঠকে ৩৭০ ধারা বা স্পেশাল স্টেটাস ফেরানোর পক্ষে সওয়াল করেছেন। বলেছেন, ‘এটা কাশ্মিরের আত্মপরিচয়ের প্রশ্ন। আমরা এই স্টেটাস পাকিস্তান থেকে পাইনি, ভারত সরকার আমাদের দিয়েছে। নেহরু আমাদের দিয়েছেন। তাই আমরা চাই কয়েক মাস লাগুক বা বছর, ৩৭০ ধারা ফেরাতেই হবে।’

এ দিন বৈঠক থেকে বেরিয়ে কাশ্মিরের আপনি পার্টির নেতা আলতাফ বুখারি বৈঠক শেষে জানিয়েছেন, কাশ্মিরে ভোটের জন্য প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী বলেছেন যে আমরা কাম্মিরকে রাজ্যের তকমা ফিরিয়ে দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’

বৈঠক নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে বুখার বলেন, ‘ভালো পরিবেশে আজ কথাবার্তা হয়েছে।’

একই কথা বলেছেন জম্মু ও কাশ্মিরের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ও ন্যাশনাল কনফারেন্স নেতা ওমর আব্দুল্লাহ। বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দুজনেই আশ্বাস দিয়েছেন যত শীঘ্র সম্ভব রাজ্যের তকমা ফেরানো হবে ও নির্বাচন প্রক্রিয়া শুরু হবে।’

‘দিল কি দূরি’ ও ‘দিল্লি কি দূরি’ মেটানোর পথে যে কেন্দ্র এগোচ্ছে সে কথাও জানিয়েছেন ওমর আব্দুল্লাহ।

ন্যাশনাল কনফারেন্স বিধানসভা কেন্দ্রের সীমানা পুনঃনির্ধারণ প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। যদিও আগে তারা ওই প্রক্রিয়া বয়কট করেছিল।

বৈঠকে পূর্ণ রাজ্যের মর্যাদার দাবিতে দলগুলোর মধ্যে ঐক্যমত থাকলেও প্রধানমন্ত্রী তাদেরকে বলেন যে, সীমানা নির্ধারণ প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পরে অন্যান্য সমস্ত বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন কাশ্মিরের আট রাজনৈতিক দলের ১৪ জন নেতা-নেত্রী। তাদের মধ্যে ছিলেন রাজ্যের চার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী।

২০১৮ -তে মেহবুবা মুফতি সরকারের ওপর থেকে সমর্থন তুলে নেয় বিজেপি। তারপর থেকেই রাষ্ট্রপতি শাসনে রয়েছে ভূ-স্বর্গ। ২০১৯-এর ১ অগস্ট শেষ বার প্রধানমন্ত্রীর মুখোমুখি হয়েছিলেন ফারুক ও ওমর আব্দুল্লাহ।

এর ঠিক তিনদিন পর ৪ অগস্ট তাঁদের আটক করা হয় ও কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ৩৭০ ধারা তুলে নেয়ার কথা ঘোষণা করা হয়।

বৈঠক শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ জানান, কাশ্মিরের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে এদিন।

তিনি উল্লেখ করেন, বৈঠকে প্রত্যেকেই সংবিধানের প্রতি গণতন্ত্রের প্রতি আস্থা রাখার কথা বলেছেন।

তিনি টুইটে লিখেছেন, ‘কাশ্মিরের সার্বিক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে চাই আমরা। শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচন হবে সেখানে।’

রাজ্যের স্বীকৃতি ফেরানোর ক্ষেত্রেও প্রতিশ্রুতির কথা উল্লেখ করেছেন তিনি। রাজনৈতিক মহলের মতে, গত দুবছর ধরে দমবন্ধ অবস্থায় থাকা কাশ্মীরের বরফ গলছে একটু একটু করে।

আরও পড়ুন:
ট্রাকের ধাক্কায় আহত মেছোবাঘ ফিরল বনে
সুন্দরবনের ‘বাঘ হাবিব’ কারাগারে
জঙ্গল থেকে বাড়িতে ঢুকে সিঁড়িতে আটকা চিতাবাঘ
চৌদ্দতে বাবাকে, একুশে ছেলেকে মারল বাঘ
পরির ঘরে তিন অতিথি

শেয়ার করুন

ডেল্টা প্লাস ধরন কি ডেকে আনবে তৃতীয় ধাক্কা

ডেল্টা প্লাস ধরন কি ডেকে আনবে তৃতীয় ধাক্কা

নতুন ডেল্টা প্লাস ধরন করোনার তৃতীয় ধাক্কার কারণ হতে পারে বলে শঙ্কা অনেকের। ছবি: ডিএনএইন্ডিয়া

ভারতে এখন পর্যন্ত ৪০ জন ডেল্টা প্লাস ধরনে আক্রান্ত হওয়ার খোঁজ মিলেছে। এরই মধ্যে তিন রাজ্য- মহারাষ্ট্র, কেরালা ও মধ্যপ্রদেশে বিশেষ সতর্কবার্তা পাঠিয়েছে কেন্দ্র। সংক্রমণ রুখতে কন্টেনমেন্ট পদ্ধতি অনুসরণ করতে বলা হয়েছে।

ভারতের তিন রাজ্যে করোনাভাইরাসের ডেল্টা প্লাস ধরনের খোঁজ মিলতেই তৈরি হয়েছে নতুন উদ্বেগ। ডেল্টা প্লাস ধরনে আক্রান্ত হওয়া এক নারীর মৃত্যু হয়েছে মধ্যপ্রদেশে।

এ ধরনে আক্রান্ত হওয়া রোগীর মধ্যে ওই রাজ্যে এটাই প্রথম মৃত্যু। মৃত নারী উজ্জয়িনীর বাসিন্দা।

সেখানকার স্থানীয় প্রশাসন বুধবার তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে।

অনেকেরই আশঙ্কা, তৃতীয় ধাক্কার কারণ হয়ে উঠতে পারে করোনার এই নতুন ধরন।

তবে ইনস্টিটিউট অফ জিনোমিক্স অ্যান্ড ইন্টেগ্রেটেড বায়োলজির পরিচালক ড. অনুরাগ আগরওয়াল জানান, এখনই আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই।

ভারতে করোনার দ্বিতীয় ধাক্কার জন্য ডেল্টা ধরনই দায়ী বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

ভাইরাসের এই ধরনের প্রথম খোঁজ মিলেছিল ভারতেই। জিনোম সিকোয়েন্সিংয়ের মাধ্যমে তা শনাক্ত হয়।

ভাইরাসের মিউটেশন হয়েছে কি না, তা জানার জন্য প্রয়োজন জিনোম সিকোয়েন্সিং। করোনায় আক্রান্তদের জিনোম সিকোয়েন্সিং করেই অস্তিত্ব মিলেছে ডেল্টা প্লাস ধরনের।

এ বিষয়ে আগরওয়াল বলেন, ‘আপাতত এমন কোনো প্রমাণ নেই যে, তৃতীয় ধাক্কার কারণ হিসেবে ডেল্টা প্লাস ধরনই দায়ী থাকবে।’

তিনি বলেন, ‘কেবল জুন মাসেই মহারাষ্ট্র থেকে সংগৃহীত ৩ হাজার ৫০০-এর বেশি নমুনার জিনোম সিকোয়েন্সিং করা হয়েছে। এ নমুনাগুলো এপ্রিল ও মে মাসে সংগ্রহ করা হয়। নমুনাতেই ডেল্টা প্লাস ধরনের খোঁজ মেলে।

‘তবে এখন পর্যন্ত এতে সংক্রমণের হার ১ শতাংশের কম। তৃতীয় ধাক্কা আসার আগে তা নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার চেয়ে দ্বিতীয় ধাক্কা এখনও কেন শেষ হয়নি, তা নিয়ে চিন্তিত হওয়া উচিত।’

একই সঙ্গে সংক্রমণ রুখতে যাবতীয় স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণের আবেদনও জানান তিনি।

ভারতে এখন পর্যন্ত ৪০ জন ডেল্টা প্লাস ধরনে আক্রান্ত হওয়ার খোঁজ মিলেছে। এরই মধ্যে তিন রাজ্য- মহারাষ্ট্র, কেরালা ও মধ্যপ্রদেশে বিশেষ সতর্কবার্তা পাঠিয়েছে কেন্দ্র। সংক্রমণ রুখতে কন্টেনমেন্ট পদ্ধতি অনুসরণ করতে বলা হয়েছে।

আরও পড়ুন:
ট্রাকের ধাক্কায় আহত মেছোবাঘ ফিরল বনে
সুন্দরবনের ‘বাঘ হাবিব’ কারাগারে
জঙ্গল থেকে বাড়িতে ঢুকে সিঁড়িতে আটকা চিতাবাঘ
চৌদ্দতে বাবাকে, একুশে ছেলেকে মারল বাঘ
পরির ঘরে তিন অতিথি

শেয়ার করুন

ইরানের যে দ্বীপ শুধু নারী জেলেদের

ইরানের যে দ্বীপ শুধু নারী জেলেদের

কঠিন পুরুষতান্ত্রিক ইরানের সঙ্গে তাল মিলিয়ে হেনগ্যাম দ্বীপটিতেও একসময় কেবল পুরুষ সদস্যরাই মাছ ধরার কাজ করতেন। পরিবারকে আর্থিকভাবে স্বচ্ছল করতে নারীরা বড় জোর কিছু হাতের কাজ করতেন কিংবা মাছের দোকানে বসতেন। তবে বদলে গেছে সেই দিন।

ইরানের ছোট্ট দ্বীপ হেনগ্যাম। ছোট ছোট নৌকায় কন্যা সন্তানদের নিয়ে জেলেদের মাছ ধরা সেখানকার প্রতিদিন ভোরের নিয়মিত দৃশ্য।

তীব্র স্রোতেও এই কিশোরী-তরুণী জেলেরা পিছু হটেন না। প্রতিদিনের মাছ ধরতে তাদের পারি দিতে হয় একের পর এক উঁচু ঢেউ। হাসিমুখেই সেসব ঢেউ পার করে মাছ নিয়ে ঘরে ফেরেন তারা।

কারণ তাদের মায়েরা একই শিক্ষা পেয়েছেন, একই শিক্ষা দিয়েছেন মেয়েদেরও।

ভাইস এর প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, রক্ষণশীল ইরানে হেনগ্যাম একমাত্র দ্বীপ যেখানে পুরুষের সাহায্য ছাড়াই কাজের জন্য সাগরে ভাসেন নারীরা।

ইরানের দক্ষিণে পারস্য উপসাগরীয় এই দ্বীপে বসবাস প্রায় ৫০০ পরিবারের। তাদের জীবিকার প্রধান উৎস মাছ ধরা।

কঠিন পুরুষতান্ত্রিক ইরানের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এই দ্বীপটিতেও একসময় কেবল পুরুষেরাই মাছ ধরতেন। পরিবারকে আর্থিকভাবে স্বচ্ছল করতে নারীরা বড় জোর কিছু হাতের কাজ করতেন বা মাছের দোকানে বসতেন।

তবে দৃশ্যপট বদলাতে শুরু করে কয়েক বছর আগে। বাড়তি আয় আর উন্নত জীবনের আশায় দ্বীপ ছেড়ে কাজের জন্য ইরানের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে জেলে পরিবারের তরুণেরা।

আর পরিবারের প্রধান আয়ের উৎস মাছ শিকার ধরে রাখতে এতে যুক্ত হতে শুরু করেন নারীরা।

বাবা, স্বামী, ভাই বা সন্তান যখন অন্য শহরে জীবিকা উপার্জনের আরও ভালো মাধ্যম খুঁজছে, তখন তাদের অনুপস্থিতিতে পরিবারের শক্তি হয়ে ওঠার লক্ষ্য নিতে শুরু করেন নারীরা।

এভাবেই দ্বীপটির নারীদের জীবিকা উপার্জনের প্রধান উৎস হয়ে উঠেছে মাছ ধরা।

ইরানের দক্ষিণ প্রান্তের দ্বীপটির আছে স্বতন্ত্র সংস্কৃতি। শিল্প, সঙ্গীত আর খাবারের ঐতিহ্যের পাশাপাশি কয়েক শ বছর ধরে সেখানে চল ছিল উন্নতমানের রেশম উৎপাদন।

দাস ব্যবসার জন্য মানুষ পাচারের অন্যতম রুটও ছিল এটি।

পুরোনো সব পেছনে ফেলে দ্বীপটির নারীরা এখন সাগরকে জীবীকার প্রধান অবলম্বন করতে উঠেপড়ে লেগেছেন।

তরুণী জেলে খাদিজা গোডসি বলেন. ‘আমরা মাছ ধরার সরকারি স্বীকৃতি পেলে জ্বালানি আর আমাদের নৌকার বিমায় ভর্তুকি পাব।’

একই কারণে দ্বীপের অন্য তরুণীরাও চান জেলে হিসেবে সরকারি স্বীকৃতি। এতে নৌকার দুর্ঘটনাজনিত ক্ষতিপূরণের পাশাপাশি পর্যটকদের সাগরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরিয়ে দেখাতে পারবেন তারা।

তবে এই সরকারি অনুমোদন পেতে পার হতে হবে বড় বাধা।

অনুমতিপত্রের জন্য নারীরা প্রথম আবেদন করার পর স্থানীয় মৎস্যবিভাগ জানায়, নিরাপত্তার কারণে দুইজন নারীকে একটি করে অনুমতিপত্র দেয়া হবে।

সে ক্ষেত্রে দুটি নৌকার মালিক দুইজন নারী আর তাদের অনুমতিপত্র একটি হলে সেটি কার কাছে থাকবে, মাছ ধরা ও আয়ের ভাগাভাগি কীভাবে হবে- ইত্যাদি প্রশ্নের উত্তর নেই।

বিষয়টির মীমাংসায় গভর্নরের কাছে মাসের পর মাস দেনদরবারের পর চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ৩০ জন নারীকে আলাদাভাবে জেলে হিসেবে স্বীকৃতি দেয়ার নিশ্চয়তা দেয় কর্তৃপক্ষ।

যদিও আবেদনের এক বছর পেরিয়ে গেলেও এখনও নিবন্ধন পাননি কেউ।

অনুমতিপত্রের জন্য অপেক্ষা করার সময়ে সংসার তো থেমে নেই। এ অবস্থায় আপাতত হাতে তৈরি বিভিন্ন পণ্য বিক্রি বা সেবা দিয়ে আয় করার চেষ্টা করছেন তারা।

আরও পড়ুন:
ট্রাকের ধাক্কায় আহত মেছোবাঘ ফিরল বনে
সুন্দরবনের ‘বাঘ হাবিব’ কারাগারে
জঙ্গল থেকে বাড়িতে ঢুকে সিঁড়িতে আটকা চিতাবাঘ
চৌদ্দতে বাবাকে, একুশে ছেলেকে মারল বাঘ
পরির ঘরে তিন অতিথি

শেয়ার করুন

পরমাণু নিয়ে মন্তব্য করার ইমরান কে: মরিয়ম নওয়াজ

পরমাণু নিয়ে মন্তব্য করার ইমরান কে: মরিয়ম নওয়াজ

পাকিস্তানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে মন্তব্য করার অধিকার ইমরান খানের নেই বলে মন্তব্য করেন মরিয়ম নওয়াজ। ছবি: এএফপি

পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফের মেয়ে মরিয়ম বলেন, ‘ইমরান পাকিস্তানের জনগণের প্রতিনিধিত্ব করেন না। তাকে মনোনীত করা হয়েছে। দেশের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে কোনো কথা তিনি বলতে পারেন না।’

পাকিস্তানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে মন্তব্য করার কোনো অধিকার দেশটির প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের নেই বলে মন্তব্য করেছেন পাকিস্তান মুসলিম লীগের (পিএমএল-এন) ভাইস প্রেসিডেন্ট মরিয়ম নওয়াজ।

ইমরানের সাক্ষাৎকারের প্রতিক্রিয়ায় বুধবার সাংবাদিকদের তিনি ওই কথা বলেন।

ডনের প্রতিবেদনে বলা হয়, শনিবার যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসকে সাক্ষাৎকার দেন ইমরান।

সেখানে তিনি বলেন, ‘কাশ্মীর নিয়ে মীমাংসায় পৌঁছানো গেলেই ভারত ও পাকিস্তান দুই প্রতিবেশী দেশ সভ্য মানুষের মতো বসবাস করা শুরু করবে। আমাদের পরমাণু অস্ত্রের দরকার পড়বে না।’

এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে চাওয়া হলে পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফের মেয়ে মরিয়ম বলেন, ‘ইমরান পাকিস্তানের জনগণের প্রতিনিধিত্ব করেন না। তাকে মনোনীত করা হয়েছে। দেশের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে কোনো কথা তিনি বলতে পারেন না।’

মরিয়ম আরও বলেন, ‘পাকিস্তানের পরমাণু কর্মসূচির অভিভাবক ইমরান নন; বরং দেশের জনগণ এর অভিভাবক।

‘কাশ্মীর নিয়েও প্রধানমন্ত্রী মন্তব্য করতে পারেন না। পাকিস্তানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে এর পরমাণু কর্মসূচি। এটি না থাকলে শুধু কাশ্মীর নয়, অন্য আরও অনেক বিষয় সামলানো লাগত।’

এর আগে মঙ্গলবার পাকিস্তানের পার্লামেন্টে পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে ইমরানের মন্তব্যের সমালোচনা করেন নওয়াজ শরীফের দল পিএমএল-এনের নেতারা।

তাদের অভিযোগ, পাকিস্তানকে পরমাণু কর্মসূচি থেকে সরানোর ‘বিদেশি এজেন্ডা’ বাস্তবায়ন করতে ক্রিকেটার থেকে রাজনীতিক বনে যাওয়া ইমরানকে ক্ষমতায় বসানো হয়েছে।

পিএমএল-এনের মহাসচিব আহসান ইকবাল বলেন, ‘পাকিস্তানের পরমাণু কর্মসূচি আলোচনাযোগ্য, এটি বলার অধিকার প্রধানমন্ত্রীকে কে দিয়েছে?

‘থলের বিড়াল এখন বেরিয়ে পড়েছে। পাকিস্তানের পরমাণু কর্মসূচি কমাতে ইমরান খানকে ক্ষমতায় আনা হয়েছে। এটি বিদেশি দাতাদের এজেন্ডা।’

আরও পড়ুন:
ট্রাকের ধাক্কায় আহত মেছোবাঘ ফিরল বনে
সুন্দরবনের ‘বাঘ হাবিব’ কারাগারে
জঙ্গল থেকে বাড়িতে ঢুকে সিঁড়িতে আটকা চিতাবাঘ
চৌদ্দতে বাবাকে, একুশে ছেলেকে মারল বাঘ
পরির ঘরে তিন অতিথি

শেয়ার করুন

মোদির কাশ্মির নীতিতে ভারতের বদনাম: মমতা

মোদির কাশ্মির নীতিতে ভারতের বদনাম: মমতা

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ফাইল ছবি

‘বিষয়টা আমি খুব একটা অবগত না থাকার কারণে মন্তব্য করতে পারব না। তবে কাশ্মির থেকে রাজ্যের মর্যাদা ছিনিয়ে নেয়া খুবই প্রয়োজন ছিল কি? এ কারণে কিন্তু কেন্দ্র সরকারের অনেক সমালোচনা হয়েছে।’

কাশ্মির নিয়ে যখন কেন্দ্রের ডাকা সর্বদল বৈঠক চলছে, তখন কলকাতায় পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি বললেন, ‘মানুষের থেকে স্বাধীনতা ছিনিয়ে নিলে, সবকিছু শেষ হয়ে যায়। মানুষের স্বাধীনতা না থাকলে, দেশের কোনো অর্থ থাকে না। সরকারের এই একনায়কতান্ত্রিক মনোভাবের কারণেই ভারতের নাম খারাপ হয়েছে বিশ্বমঞ্চে।’

জম্মু কাশ্মির থেকে বিশেষ রাজ্যের মর্যাদা ৩৭০ ধারা তুলে নেওয়ার পর, এই প্রথম কেন্দ্রের তরফে সর্বদল বৈঠক ডাকা হয়। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন কংগ্রেস, বিজেপি ছাড়া উপত্যকার রাজনৈতিক দলগুলোর নেতৃত্ব।

প্রথম থেকেই কাশ্মির নিয়ে কেন্দ্রের পদক্ষেপের বিরুদ্ধে থাকা মমতা বললেন, ‘বিষয়টা আমি খুব একটা অবগত না থাকার কারণে মন্তব্য করতে পারব না। তবে কাশ্মির থেকে রাজ্যের মর্যাদা ছিনিয়ে নেয়া খুবই প্রয়োজন ছিল কি? এ কারণে কিন্তু কেন্দ্র সরকারের অনেক সমালোচনা হয়েছে।’

২০১৮ সালে মেহবুবা মুফতি সরকার থেকে বিজেপির সমর্থন প্রত্যাহার করার পর থেকেই কাশ্মিরে রাষ্ট্রপতি শাসন চলছে। এরপর ২০১৯ সালের ৫ আগস্ট ভারতীয় সংবিধানের ৩৭০ ধারা বাতিলের মাধ্যমে কেন্দ্রের বিজেপি সরকার, বিশেষ পূর্ণ রাজ্যের মর্যাদা ছিনিয়ে নেয়।

জম্মু-কাশ্মির পুনর্বিন্যাস বিলের মাধ্যমে জম্মু কাশ্মির এবং লাদাখকে দুটি পৃথক কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে ভাগ করে দেয়া হয়। এখন আবার সেখানে নির্বাচন নিয়ে জল্পনা শোনা যাচ্ছে। এরমধ্যে কেন্দ্র সর্বদলীয় বৈঠক ডেকেছে।

বৈঠকে কংগ্রেস, মেহবুবা মুফতি, ফারুক আব্দুল্লাহরা কাশ্মিরের পূর্ণ রাজ্যের মর্যাদা ফেরানোর দাবি তুললেও কেন্দ্রের তরফে জানানো হয়েছে, ‘এ বিষয়টি সঠিক সময়ে আলোচনা হবে। এখনও সময় আসেনি।’

আরও পড়ুন:
ট্রাকের ধাক্কায় আহত মেছোবাঘ ফিরল বনে
সুন্দরবনের ‘বাঘ হাবিব’ কারাগারে
জঙ্গল থেকে বাড়িতে ঢুকে সিঁড়িতে আটকা চিতাবাঘ
চৌদ্দতে বাবাকে, একুশে ছেলেকে মারল বাঘ
পরির ঘরে তিন অতিথি

শেয়ার করুন

সুপ্রিম কোর্টই ভরসা রামদেবের

সুপ্রিম কোর্টই ভরসা রামদেবের

অ্যালোপ্যাথি নিয়ে নেতিবাচক মন্তব্য করায় সম্প্রতি আলোচনায় আসেন যোগগুরু রামদেব। ছবি: বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড

এফআইআরকে চ্যালেঞ্জ করে রামদেব চাইছেন শীর্ষ আদালত সব শাস্তিমূলক ব্যবস্থার বিরুদ্ধে তাকে রক্ষাকবচ দিক। পাশাপাশি সব মামলা দিল্লির আদালতে স্থানান্তরের আবেদন জানিয়েছেন তিনি।

‌‌‘অ্যালোপ্যাথি’ নিয়ে যোগগুরু রামদেবের বিতর্কিত মন্তব্যের জেরে রাজ্যে রাজ্যে মামলা হয়েছে। সেসব মামলায় স্থগিতাদেশ চেয়ে এবার সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন তিনি।

এফআইআরকে চ্যালেঞ্জ করে রামদেব চাইছেন শীর্ষ আদালত সব শাস্তিমূলক ব্যবস্থার বিরুদ্ধে তাকে রক্ষাকবচ দিক। পাশাপাশি সব মামলা দিল্লির আদালতে স্থানান্তরের আবেদন জানিয়েছেন তিনি।

এর আগে গ্রেপ্তার নিয়ে নেটমাধ্যমে সরাসরি প্রশাসনকে চ্যালেঞ্জ ছুড়তে দেখা গেছে রামদেবকে। টুইটারে ‘অ্যারেস্ট রামদেব’ ট্রেন্ড শুরু হতেই আসরে নামেন তিনি।

রীতিমতো হাসির ছলে কেন্দ্রকে নিশানা করে রামদেব বলেছিলেন, ‘ওর বাবাও গ্রেপ্তার করতে পারবে না। ওরা ঠগ রামদেব, গ্রেপ্তার রামদেব এসব ট্রেন্ড করাচ্ছে নেটমাধ্যমে। ওরা এ রকম করুক। আমার লোকেরা এসব দেখে অভ্যস্ত।’

গত মাসে দেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণের বিপর্যয়ের মধ্যে অ্যালোপ্যাথি ওষুধ এবং ভাইরাসের প্রতিষেধক হিসেবে এর প্রভাব সম্পর্কে বিভিন্ন বিভ্রান্তিমূলক মন্তব্য করেছিলেন রামদেব।

এক ভিডিওতে তিনি বলেন, ‘চিকিৎসা বা অক্সিজেন না পেয়ে যত মানুষ মারা গেছে, তার চেয়ে বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে অ্যালোপ্যাথি ওষুধ খেয়ে। অ্যালোপ্যাথি এক দেউলিয়া হওয়া বিজ্ঞান।’

ভিডিওতে তিনি আরও বলেন, ‘টিকার দুটি ডোজ পাওয়ার পরও ১ হাজার চিকিৎসক মারা গেছেন। নিজেদের বাঁচাতে না পারলে এরা কী ধরনের ডাক্তার?’

ওই ঘটনায় শোরগোল পড়ে যায় গোটা দেশে। নড়েচড়ে বসে ইন্ডিয়ান মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন। রামদেবকে আইনি নোটিশ ধরানো হয় সংস্থাটির পক্ষ থেকে।

১ হাজার কোটি টাকার মানহানির মামলা করে ইন্ডিয়ান মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন। প্রধানমন্ত্রীকে সরাসরি চিঠি লিখে হস্তক্ষেপেরও দাবি জানানো হয়।

এমন পরিস্থিতিতে ভারত সরকারের স্বাস্থ্যমন্ত্রী হর্ষবর্ধন আসরে নামেন। তিনি রামদেবকে মন্তব্যের জন্য ক্ষমা চাইতে অনুরোধ করেন।

রামদেব ভাঙেন তবু মচকাবেন না। মন্তব্য ফিরিয়ে নিলেও অ্যালোপ্যাথি চিকিৎসা নিয়ে ২৫টি প্রশ্ন ছুড়ে দেন তিনি।

তার মূল বক্তব্য, ২০০ বছরেও অ্যালোপ্যাথি বহু রোগ নিরাময় করতে পারেনি।

আরও পড়ুন:
ট্রাকের ধাক্কায় আহত মেছোবাঘ ফিরল বনে
সুন্দরবনের ‘বাঘ হাবিব’ কারাগারে
জঙ্গল থেকে বাড়িতে ঢুকে সিঁড়িতে আটকা চিতাবাঘ
চৌদ্দতে বাবাকে, একুশে ছেলেকে মারল বাঘ
পরির ঘরে তিন অতিথি

শেয়ার করুন

স্যানিটাইজ করার শর্তে বিজেপি থেকে তৃণমূলে ১৫০ কর্মী

স্যানিটাইজ করার শর্তে বিজেপি থেকে তৃণমূলে ১৫০ কর্মী

বীরভূমে তৃণমূলের ইলামবাজারের ব্লক সভাপতি দুলাল রায় বলেন, ‘বিজেপির কিছু করোনা ভাইরাস ছিল। তাদেরকে স্যানিটাইজ করে তৃণমূলে যোগদান করালাম।’

নরেন্দ্র মোদি-অমিত শাহ জুটির বাংলা দখলের স্বপ্ন ব্যর্থ হতেই পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য বিজেপিতে যে ভাঙন শুরু হয়েছে, তা আর থামছে না। ভুল বুঝতে পারা ১৫০ বিজেপি কর্মী স্যানিটাইজ করার শর্তে তৃণমূলে যোগ দিলেন।

বৃহস্পতিবার বীরভূমের ইলামবাজারের দেবীপুরের তৃণমূলের ব্লক সভাপতি ও অন্যান্য নেতৃত্বের উপস্থিতিতে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিতে ইচ্ছুক সমস্ত বিজেপি কর্মীদের স্যানিটাইজ করে, তাদের হাতে তৃণমূলের পতাকা তুলে দেয়া হয়।

তৃণমূলের ইলামবাজারের ব্লক সভাপতি দুলাল রায় বলেন, ‘বিজেপির কিছু করোনা ভাইরাস ছিল। তাদেরকে স্যানিটাইজ করে তৃণমূলে যোগদান করালাম।’

বিজেপিতে যোগ দিয়ে ভুল হয়ে হয়েছিল – তা বুঝতে পেরে অনেকদিন থেকে তৃণমূলে ফিরতে চাইছলেন অনেকে। তৃণমূলের স্থানীয় নেতৃত্বের তরফে শর্ত দেওয়া হয়, দলে ফেরার আগে স্যানিটাইজ করা হবে। সেই শর্তে রাজি হয়ে বিজেপি ছেড়ে ১৫০ কর্মী বৃহস্পতিবার তৃণমূলে যোগ দেন।

বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দেয়া রাজু দাস বলেন, ‘আমরা ভুলবশত বিজেপিতে গিয়েছিলাম। কিন্তু বিজেপি যেভাবে নোংরামি করছে, তাই তৃণমূলে যোগদান করলাম।’

এ বিষয়ে বিজেপির জেলা কমিটির সদস্য দিলীপ ঘোষ বলেন, ‘বাংলাতে গণতন্ত্র নেই। তৃণমূল সব থেকে বড় ভাইরাস। ওরা মানুষকে হেয় করে থাকে, তার জন্য এইরকম কাজ করছে।’

এর আগে রাজ্যে তৃণমূল কংগ্রেস সরকার গঠনের পর অনুব্রত মণ্ডলের গড় বীরভূমে কয়েকশ বিজেপি কর্মী তৃণমূলে যোগ দিয়েছিলেন। বৃহস্পতিবার তৃণমূলের ব্লক সভাপতির সামনে বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে যোগদানে ইচ্ছুক কর্মীদের রীতিমতো স্যানিটাইজ করে দলে ফেরানো হয়। তাদের হাতের পোস্টারে লেখা ছিল, ‘বিজেপি করে ভুল করেছি, তৃণমূলে যোগদান করতে চাই।’

আর এই নিয়ে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক টানাপড়েন। সম্প্রতি মুকুল রায় ও তার পুত্রের তৃণমূলের ফেরা নিয়ে কটাক্ষ করে অনেকে বলছেন, শুদ্ধিকরণ শুধু নিচের তলায় কেন?

আরও পড়ুন:
ট্রাকের ধাক্কায় আহত মেছোবাঘ ফিরল বনে
সুন্দরবনের ‘বাঘ হাবিব’ কারাগারে
জঙ্গল থেকে বাড়িতে ঢুকে সিঁড়িতে আটকা চিতাবাঘ
চৌদ্দতে বাবাকে, একুশে ছেলেকে মারল বাঘ
পরির ঘরে তিন অতিথি

শেয়ার করুন