মাখোঁ খেলেন চড়

ফ্রান্সের দক্ষিণাঞ্চলে সমর্থকদের ভিড় থেকে দেশটির প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁর মুখে চড় বসিয়ে দেন এক ব্যক্তি। ছবি: সংগৃহীত

মাখোঁ খেলেন চড়

কোভিড-১৯ মহামারি-পরবর্তী সময়ে কীভাবে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসা যায়, এ বিষয়ে কথা বলার জন্য মাখোঁ মঙ্গলবার দেশটির দক্ষিণ-পূর্ব ড্রোম অঞ্চলে গিয়েছিলেন। এ সময় সমর্থকদের ভিড় থেকে দেশটির প্রেসিডেন্টের মুখে চড় বসিয়ে দিলেন এক ব্যক্তি।

ফ্রান্সের দক্ষিণাঞ্চলে সমর্থকদের ভিড় থেকে দেশটির প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁর মুখে চড় বসিয়ে দিলেন এক ব্যক্তি।

কোভিড-১৯ মহামারি-পরবর্তী সময়ে কীভাবে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসা যায়, এ বিষয়ে কথা বলার জন্য মাখোঁ মঙ্গলবার দেশটির দক্ষিণ-পূর্ব ড্রোম অঞ্চলে গিয়েছিলেন।

সেখানে তিনি রেস্তোরাঁর কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে দেখা করেছিলেন। মাখোঁর হাঁটার পথটি লোহার রেলিং দিয়ে আলাদা করা ছিল। প্রেসিডেন্ট অনেকের সঙ্গে হাত মিলিয়ে যাচ্ছিলেন। এ সময় এক ব্যক্তির সঙ্গে হাত মেলাতে এগিয়ে গেলে ওই ব্যক্তি প্রেসিডেন্টের গালে চড় বসিয়ে দেন।

চড় মারার সময় ওই ব্যক্তি ‘ডাউন উইথ ম্যাক্রোনিয়া’ (আ বাস লা ম্যাক্রোনিয়া/মাখোঁ যুগের পতন হোক) বলে উচ্চ স্বরে চিৎকার করছিলেন।

এই ব্যক্তিটি ‘মন্টজয়ি সেইন্ট ডেনিস’ বলে স্লোগান দিচ্ছিলেন। যা ফ্রান্সের রাজতন্ত্রের সময় সেনাবাহিনীর কুচকাওয়াচে উচ্চারিত হতো।

চোখে রোদচশমা, মুখে মাস্ক ও সবুজ টি-শার্ট পরিহিত ওই ব্যক্তিকে সঙ্গে সঙ্গে আটক করে প্রেসিডেন্টের সঙ্গে থাকা দুই নিরাপত্তারক্ষী।

ঘটনার পর কিছুসময় প্রেসিডেন্ট ভিড়ের মধ্যে অবস্থান করেন এবং হামলাকারীর বিপরীত দিকে থাকা সর্মথকদের লক্ষ্য করে হাত নাড়ান। তবে সঙ্গে সঙ্গে নিরাপত্তারক্ষীরা তাকে সেখান থেকে সরিয়ে নেন।

দেশটির বিএফএম টিভি ও আরএমসি রেডিওর বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই ব্যক্তিসহ আরও একজনকে পরে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

মাখোঁ এক প্রতিক্রিয়ায় একে বিচ্ছিন্ন ঘটনা বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ‘ আমরা চাইবনা এমন উগ্রবাদী মানুষ আমাদের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে আসুক।’

দেশটির প্রধানমন্ত্রী জ্যাঁ ক্যাসেক্স এই হামলাকারীকে গণতন্ত্রের প্রতিপক্ষ বলে উল্লেখ করেন।

এর আগে, ২০১৬ সালে মাখোঁ যখন দেশটির অর্থমন্ত্রী ছিলেন, তখন শ্রমআইন সংস্কারের বিরুদ্ধে ডাকা বিক্ষোভ চলাকালে মাখোঁর ওপর ডিম ছুড়ে মেরেছিল কট্টর বামপন্থি শ্রমিক ইউনিয়নের কর্মীরা।

দুই বছর পর, দেশটিতে সরকারবিরোধী ইয়লো ভেস্ট আন্দোলন ছড়িয়ে পড়লে এক সমাবেশে তীব্র নিন্দার বাণে বিদ্ধ হয়েছিলেন তিনি। মাখোঁ বিরোধীরা তখন জানিয়েছিলেন যে এতে প্রেসিডেন্টের ভীত নড়ে গিয়েছিল।

আরও পড়ুন:
ফরাসি প্রেসিডেন্ট মাখোঁর করোনা
মাখোঁকে ‘হত্যার বাসনা’, এমপির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে জাপা
ফ্রান্সকে নিন্দা জানান, সরকারের প্রতি আহ্বান

শেয়ার করুন

মন্তব্য

রাজ্যপাল-রাজ্য সরকারের টুইট-যুদ্ধ

রাজ্যপাল-রাজ্য সরকারের টুইট-যুদ্ধ

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়। ফাইল ছবি

কেন্দ্রে ক্ষমতাসীন বিজেপির নিয়োগ করা রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড়ের সঙ্গে রাজ্যে ক্ষমতাসীন তৃণমূলের মতান্তর লেগেই রয়েছে। শুরু থেকেই দুই পক্ষ প্রতিপক্ষের মতো লড়াই করে চলেছে।

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড়ের তোলা রাজ্যের ভোট-পরবর্তী সহিংসতার অভিযোগের সঙ্গে সত্যের কোনো সম্পর্ক নেই বলে দাবি করেছে রাজ্য সরকার।

বুধবার পরপর পাঁচটি টুইটে রাজ্যপালের অভিযোগ খণ্ডন করে এ দাবি করা হয়। এর আগে একাধিক টুইটে ভোট-পরবর্তী সহিংসতার বিষয়ে অভিযোগ করেন রাজ্যপাল।

মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করতে দিল্লি যাওয়ার আগে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ভোট-পরবর্তী সহিংসতা নিয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠক ডাকার জন্য চিঠি লিখে পরামর্শ দিয়েছিলেন রাজ্যপাল।

কেন্দ্রে ক্ষমতাসীন বিজেপির নিয়োগ করা রাজ্যপাল ওই চিঠিতে লেখেন, ‘ভোটের পর বহু মানুষ সহিংসতার কবলে পড়ে প্রাণ হারিয়েছেন। বিরোধীদের প্রচুর সম্পত্তি নষ্ট হয়েছে। মানবাধিকার লঙ্ঘনের মতো ঘটনা অব্যাহত। চলছে নারী নির্যাতনও। এই পরিস্থিতি নিয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলেও আপনি নীরব থেকেছেন। এমনকি মন্ত্রিসভার বৈঠকেও এ নিয়ে কোনো আলোচনা করেননি।’

ধনকড় আরও লেখেন, ‘মুখ্যমন্ত্রী অবশ্যই এ বিষয়ে সহমত হবেন, রাজ্যে এই সন্ত্রাসের পরিবেশ গণতন্ত্রের পক্ষে বিপজ্জনক। গণতান্ত্রিক প্রথা মেনে ভোট দেয়ার পরেও এটা হতে দেয়া যায় কীভাবে?’

রাজ্যপাল-রাজ্য সরকারের টুইট-যুদ্ধ
রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড়। ছবি সংগৃহীত

পরে একাধিক টুইট করে সেই চিঠির বিষয়বস্তু প্রকাশ করে দেয়া হয়।

মুখ্যমন্ত্রীকে লেখা সেই চিঠি ও তার বিষয়বস্তু আচমকা টুইট করে প্রকাশ্যে আনায় হতবাক রাজ্য সরকার।

রাজ্যপালের টুইটের জবাবে রাজ্য স্বরাষ্ট্র দপ্তর টুইটে জানিয়েছে, ‘যোগাযোগের প্রথাগত ধারা লঙ্ঘন করেছেন রাজ্যপাল। মুখ্যমন্ত্রীকে লেখা একই চিঠি টুইটারে প্রকাশ করা হয়েছে। যা এ ধরনের যোগাযোগ নীতির পরিপন্থী।’

ভোট-পরবর্তী সহিংসতার অভিযোগের জবাবে লেখা হয়েছে, ‘নির্বাচন কমিশনের হাতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব থাকার সময়ে কিছু সমস্যা তৈরি হয়েছিল। কিন্তু নতুন সরকার শপথ নেয়ার পর স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরে এসেছে।’

সরকারের তরফে আইনশৃঙ্খলা ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপের নির্দেশ দেয়া হয়েছে বলে স্বরাষ্ট্র দপ্তরের টুইটে দাবি করা হয়েছে।

এর আগে ঘূর্ণিঝড় ইয়াস-পরবর্তী সময়ও দুই পক্ষের মধ্যে টুইট পাল্টা-টুইট করে পরস্পরকে দোষারোপ করতে দেখা যায়। একই পরিস্থিতি ছিল রাজের বিধানসভা নির্বাচনের পরবর্তী সময়েও।

আরও পড়ুন:
ফরাসি প্রেসিডেন্ট মাখোঁর করোনা
মাখোঁকে ‘হত্যার বাসনা’, এমপির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে জাপা
ফ্রান্সকে নিন্দা জানান, সরকারের প্রতি আহ্বান

শেয়ার করুন

সৌদিতে কৈশোরে গ্রেপ্তার বিক্ষোভকারীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর

সৌদিতে কৈশোরে গ্রেপ্তার বিক্ষোভকারীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর

সৌদি আরবে ১৭ বছর বয়সে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন মুস্তাফা হাশেম আল-দারবিশের। ছবি: রিপ্রাইভ

চলতি বছরের শুরুতে সৌদি আরবের মানবাধিকার কমিশন জানিয়েছিল, ২০২০ সালের তুলনায় এ বছর মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে কমিয়ে আনবে দেশটি। কিন্তু ২০২০ সালে সৌদি আরবে যতগুলো মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছিল, ২০২১ সালের ছয় মাস পার না হতেই একইসংখ্যক মৃত্যুদণ্ড দেশটিতে কার্যকর হয়ে গেছে বলে জানিয়েছে রিপ্রাইভ।

সৌদি আরবে কিশোর বয়সে গ্রেপ্তারের ছয় বছর পর এক বিক্ষোভকারীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে।

কিশোর বয়সে করা অপরাধের জন্য মৃত্যুদণ্ড দেয়া হবে না বলে সৌদি প্রশাসনের আশ্বাস সত্ত্বেও কার্যকর হলো এ সাজা।

এ ধরনের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড দেবে বলে গত বছর জানিয়েছিল রিয়াদ।

বিবিসির প্রতিবেদনে জানানো হয়, ২০১৫ সালে এক বিক্ষোভে অংশ নেয়ায় গ্রেপ্তার করা হয়েছিল মুস্তাফা হাশেম আল-দারবিশকে। সে সময় তার বয়স ছিল ১৭ বছর। দাম্মামে তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সময় বয়স হয়েছিল ২৬ বছর।

তার বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কার্যকলাপ ও সশস্ত্র বিদ্রোহ উসকে দেয়ার অভিযোগ প্রশাসনের।

কিন্তু মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলোর দাবি, দারবিশ সুষ্ঠু বিচার পাননি। তার মৃত্যুদণ্ড বন্ধের চেষ্টাও করেছিল বিভিন্ন সংগঠন।

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ও মৃত্যুদণ্ডবিরোধী দাতব্য সংস্থা রিপ্রাইভ জানিয়েছে, দারবিশ নিজের স্বীকারোক্তি প্রত্যাহার করেছিলেন বলে অবর্ণনীয় নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন।

এ অভিযোগের বিষয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি সৌদি প্রশাসন।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, আল-দারবিশের বিরুদ্ধে বিভেদ ছড়ানো ও নিরাপত্তা বাহিনীর শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ ছিল।

তার বিরুদ্ধে প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন করা হয় একটি ছবি, যার মাধ্যমে দাবি করা হয়, তিনি ‘নিরাপত্তা বাহিনীর প্রতি আক্রমণাত্মক আচরণ করেছিলেন’।

২০১১ ও ২০১২ সালে ১০টির বেশি ‘দাঙ্গা জাতীয়’ কর্মসূচিতে তিনি অংশ নেন বলেও রয়েছে অভিযোগ।

সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দাবি, স্থানীয় নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের হত্যার চেষ্টা করেছিলেন দারবিশ।

কিন্তু আদালতের নথিতে তার কথিত এসব অপরাধের কোনো নির্দিষ্ট তারিখ বা বিস্তারিত উল্লেখ নেই বলে জানিয়েছে রয়টার্স।

চলতি বছরের শুরুতে সৌদি আরবের মানবাধিকার কমিশন জানিয়েছিল, ২০২০ সালের তুলনায় এ বছর মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে কমিয়ে আনবে দেশটি।

কিন্তু ২০২০ সালে সৌদি আরবে যতগুলো মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছিল, ২০২১ সালের ছয় মাস পার না হতেই একইসংখ্যক মৃত্যুদণ্ড দেশটিতে কার্যকর হয়ে গেছে বলে জানিয়েছে রিপ্রাইভ।

আরও পড়ুন:
ফরাসি প্রেসিডেন্ট মাখোঁর করোনা
মাখোঁকে ‘হত্যার বাসনা’, এমপির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে জাপা
ফ্রান্সকে নিন্দা জানান, সরকারের প্রতি আহ্বান

শেয়ার করুন

মিয়ানমারের ৯ হাজার মানুষের আশ্রয় ভারতে

মিয়ানমারের ৯ হাজার মানুষের আশ্রয় ভারতে

মিয়ানমারের শান প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী সালাই লিয়ান লুয়াই পালিয়ে ভারতে আশ্রয় নিয়েছেন। ছবি: এনডিটিভি

চলতি বছরের ১ ফেব্রুয়ারি মিয়ানমারের গণতান্ত্রিক সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করে দেশের নিয়ন্ত্রণ নেয় সেনাবাহিনী। এরপর থেকে সংঘাত-সহিংসতার জেরে মিজোরামের বিভিন্ন জেলায় আশ্রয় নিয়েছে মিয়ানমারের ৯ হাজার ২৪৭ নাগরিক। এদের মধ্যে রাষ্ট্রীয় উপদেষ্টা অং সান সু চির ক্ষমতাচ্যুত দল ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টির আইনপ্রণেতা ২৪ জন।

মিয়ানমারের সংঘাতপ্রবণ শান প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী সালাই লিয়ান লুয়াই ভারতের মিজোরাম রাজ্যে আশ্রয় নিয়েছেন। তিনিসহ প্রতিবেশী দেশের রাজ্যটিতে গেছেন ৯ হাজার ২৪৭ জন।

সেনা অভ্যুত্থান পরবর্তী সহিংসতার কারণে নিজ দেশ ছেড়ে পালিয়ে প্রতিবেশী দেশে লুয়াই আশ্রয় নিয়েছেন বলে বুধবার নিশ্চিত করেছে ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

এনডিটিভির প্রতিবেদনে জানানো হয়, চলতি বছরের ১ ফেব্রুয়ারি মিয়ানমারের গণতান্ত্রিক সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করে দেশের নিয়ন্ত্রণ নেয় সেনাবাহিনী। এর পর থেকে সংঘাত-সহিংসতার জেরে মিজোরামের বিভিন্ন জেলায় আশ্রয় নিয়েছে মিয়ানমারের হাজার হাজার মানুষ।

এদের মধ্যে রাষ্ট্রীয় উপদেষ্টা অং সান সু চির ক্ষমতাচ্যুত দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসির (এনএলডি) আইনপ্রণেতা লুয়াইসহ ২৪ জন।

ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা জানান, মিজোরামের রাজধানী আইজল থেকে প্রায় ১৮৫ কিলোমিটার দূরে সীমান্ত শহর চাম্পাইয়ে সোমবার রাতে প্রবেশ করেন লুয়াই।

২০১৬ সাল থেকে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শানের দায়িত্বে ছিলেন তিনি।

চাম্পাইসহ মিজোরামের ছয়টি জেলার সঙ্গে মিয়ানমারের পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থিত শান প্রদেশের ৫১০ কিলোমিটার সীমান্ত রয়েছে। এ ছাড়া উত্তরে ভারতের মনিপুর রাজ্য ও দক্ষিণ-পশ্চিমে বাংলাদেশের সঙ্গেও সীমান্ত রয়েছে শানের।

সরকারি হিসাব অনুযায়ী, মিজোরামের আইজলে আশ্রয় নিয়েছেন ১ হাজার ৬৩৩ জন। এ ছাড়া লংত্লাইয়ে ১ হাজার ২৯৭, সিয়াহায় ৬৩৩, নাহথিয়ালে ৪৭৮, লুংলেইয়ে ১৬৭, সেরশিপে ১৪৩, সাইতুয়ালে ১১২, কোলাসিবে ৩৬ ও খাওজাওলে ২৮ জন আশ্রয় নেন।

তাদের আশ্রয় দেয়ার পাশাপাশি খাবারও দিচ্ছে স্থানীয় বাসিন্দা, অধিকার সংগঠন, শিক্ষার্থী, তরুণদের বিভিন্ন সংগঠন ও বেসরকারি সাহায্য সংস্থাগুলো।

মিজোরামের মুখ্যমন্ত্রী জোরামথাঙ্গা মঙ্গলবার জানান, আশ্রিতদের জন্য ত্রাণ সরবরাহে তহবিল বরাদ্দ দিয়েছে তার সরকার।

মিজোরামে আশ্রিত মিয়ানমারের বেশিরভাগ মানুষই শান সম্প্রদায়ের। জো হিসেবেও পরিচিত তারা।

মিজোরামের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী মিজোদের একই বংশ পরম্পরা বহন করে শান সম্প্রদায়ের জোরা।

আরও পড়ুন:
ফরাসি প্রেসিডেন্ট মাখোঁর করোনা
মাখোঁকে ‘হত্যার বাসনা’, এমপির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে জাপা
ফ্রান্সকে নিন্দা জানান, সরকারের প্রতি আহ্বান

শেয়ার করুন

যুক্তরাষ্ট্রে এফটিসির প্রধান হলেন পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত লিনা

যুক্তরাষ্ট্রে এফটিসির প্রধান হলেন পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত লিনা

যুক্তরাষ্ট্রে পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ সিনেটের শুনানিতে লিনা খান। ফাইল ছবি

বাজারব্যবস্থায় বড় বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের একচেটিয়া কর্তৃত্ব আরোপের তীব্র বিরোধী লিনা খান। অর্থনৈতিক খাতে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রভাব বিস্তার খর্ব করতে চাওয়া প্রগতিশীলরা লিনার নিয়োগকে বিজয় হিসেবে দেখছেন।

যুক্তরাষ্ট্রে ভোক্তা অধিকার সুরক্ষাবিষয়ক সংস্থা ফেডারেল ট্রেড কমিশনের (এফটিসি) প্রধান হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত নারী লিনা খান।

অ্যামাজন ডটকম, অ্যাপল, ফেসবুক ও অ্যালফাবেটের মতো প্রভাবশালী বহুজাতিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের কট্টর সমালোচক হিসেবে পরিচিত ৩২ বছর বয়সী এই নারী।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন মঙ্গলবার নিয়োগ দিয়েছেন লিনা খানকে। এর আগে পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ সিনেট তার নিয়োগ চূড়ান্ত করে।

বাজারব্যবস্থায় বড় বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের একচেটিয়া কর্তৃত্ব আরোপের তীব্র বিরোধী লিনা খান। অর্থনৈতিক খাতে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রভাব বিস্তার খর্ব করতে চাওয়া প্রগতিশীলরা লিনার নিয়োগকে বিজয় হিসেবে দেখছেন।

কলম্বিয়া ল’ স্কুলে অধ্যাপনা করেছেন লিনা খান। এর আগে কাজ করেছেন হাউস জুডিশিয়ারি কমিটির অ্যান্টিট্রাস্ট (একচেটিয়াত্ববিরোধী) প্যানেলের সদস্য হিসেবে।

কীভাবে অ্যামাজন, অ্যাপল, ফেসবুক ও অ্যালফাবেট বাজারে আধিপত্য বজায় রাখে, সে বিষয়ে বিস্তারিত প্রতিবেদন তৈরিতে সহযোগিতা করেছিলেন তিনি।

পরামর্শক সংস্থা পাবলিক সিটিজেন এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘প্রেসিডেন্ট বাইডেন ও সিনেটের এ সিদ্ধান্তকে আমরা সাধুবাদ জানাই। এর মাধ্যমে করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রভাব বিস্তারবিষয়ক সংকটকে স্বীকার করে নেয়া হলো।’

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বেশ কিছু মামলা ও অনুসন্ধানের উদ্যোগ নিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার ও বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য।

এরই মধ্যে ফেসবুকের বিরুদ্ধে মামলা করেছে এফটিসি। অনুসন্ধান শুরু করেছে অ্যামাজন ডটকমের বিরুদ্ধে। গুগলের বিরুদ্ধে মামলা করেছে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ।

এসব প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের নিয়ে গঠিত প্রতিষ্ঠান ইনফরমেশন টেকনোলজি অ্যান্ড ইনোভেশন ফাউন্ডেশন (আইটিআইএফ)।

লিনা খানকে এফটিসি প্রধান হিসেবে নিয়োগের প্রতিক্রিয়ায় আইটিআইএফ বলছে, এটি মানুষের অনাস্থাবিষয়ক দৃষ্টিভঙ্গিকে আরও উসকে দেবে। এতে লাভবান হবে বিদেশি ও কম মেধাবী প্রতিদ্বন্দ্বীরা; ক্ষতিগ্রস্ত হবে দেশীয় প্রতিষ্ঠান ও মেধাবীরা।

এ বিষয়ে আলাদাভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি অ্যাপল ও ফেসবুক। কথা বলতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে গুগল ও অ্যামাজন ডটকম।

এর আগে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর আরেক কট্টর সমালোচক টিম উকে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের সদস্য হিসেবে মনোনীত করেন বাইডেন।

আরও পড়ুন:
ফরাসি প্রেসিডেন্ট মাখোঁর করোনা
মাখোঁকে ‘হত্যার বাসনা’, এমপির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে জাপা
ফ্রান্সকে নিন্দা জানান, সরকারের প্রতি আহ্বান

শেয়ার করুন

হরিণের করোনা সুরক্ষায় পিপিই পরে কর্মীরা

হরিণের করোনা সুরক্ষায় পিপিই পরে কর্মীরা

পশ্চিমবঙ্গের শান্তিনিকেতনের অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র বোলপুরে হরিণের পরিচর্যায় ব্যস্ত কর্মীরা।

নারায়ণ মণ্ডল বলেন, ‘আমরা পশু চিকিৎসকদের পরামর্শ নিয়ে করোনা বিধি মেনে হরিণের পরিচর্যা করেছি। শুধু পিপিই কিট নয়, হরিণদের যে পাত্রে খাবার দেয়া হয়, যে ছাউনির তলায় তারা আশ্রয় নেয়, সে সব জায়গা নিয়মিত স্যানিটাইজ করা হচ্ছে।’

হরিণের করোনাভাইরাস সংক্রমণ ঠেকাতে পিপিই কিট পরে পরিচর্যা করছেন ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বনকর্মীরা।

শান্তিনিকেতনের অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র বোলপুর মহকুমার বল্লভপুর অভয়ারণ্যে দুই শর বেশি চিত্রা হরিণ রয়েছে। তাদের যাতে করোনা সংক্রমণ না ছড়ায়, সে বিষয়ে সতর্ক থাকতেই এমন ব্যবস্থা বনকর্মীদের।

বন দপ্তরের স্থানীয় রেঞ্জ অফিসার জয়ন্ত নারায়ণ মণ্ডল জানান, ‘এখন পর্যন্ত ভারতের কোনো বন্যপ্রাণীর করোনা সংক্রমণ দেখা যায়নি। তবে চেন্নাই, হায়দরাবাদে সিংহের মধ্যে মিলেছে করোনা সংক্রমণ।’

নারায়ণ মণ্ডল বলেন, ‘আমরা পশু চিকিৎসকদের পরামর্শ নিয়ে করোনাবিধি মেনে হরিণের পরিচর্যা করেছি। শুধু পিপিই কিট নয়, হরিণদের যে পাত্রে খাবার দেয়া হয়, যে ছাউনির তলায় তারা আশ্রয় নেয়, সে সব জায়গা নিয়মিত স্যানিটাইজ করা হচ্ছে।’

এ জন্য আটজন বনকর্মীর একটি বিশেষ দল গঠন করা হয়েছে। তারা স্বাস্থ্যকর্মীদের মতো হাতে গ্লাভস, ফেস শিল্ড এবং পিপিই কিট পরে তবেই ডিয়ার পার্কে চিত্রা হরিণের দেখভাল করতে যান।

এখন পর্যন্ত অভয়ারণ্যের কোনো কর্মী করোনায় সংক্রমিত হননি বলে জানিয়েছেন রেঞ্জ অফিসার জয়ন্ত নারায়ণ মণ্ডল।

অন্যদিকে বনমন্ত্রী হওয়ার পর এই প্রথম ১৫ জুন আলিপুর চিড়িয়াখানা পরিদর্শনে যান জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক। সেখানে বাঘ-সিংহের খাঁচার উচ্চতা বাড়ানোর কাজ কতটা এগিয়েছে তা খতিয়ে দেখেন তিনি।

এর আগে বাঘ ও সিংহের খাঁচায় পড়ে দুর্ঘটনা ঘটেছিল চিড়িয়াখানায়। তাই দর্শকদের নিরাপত্তার দিকটি তিনি খতিয়ে দেখেন।

বনমন্ত্রী জানান, বহু পুরোনো এই চিড়িয়াখানা। অনেক জিনিস কমজোরি হয়ে গেছে। সেগুলো বদলানোর কাজ শুরু হয়েছে।

জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক বলেন, ‘যদি করোনা বিধিনিষেধ শিথিল হয়, সে ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ মেনে দর্শকদের জন্য আলিপুর চিড়িয়াখানা খুলে দেয়া হবে।’

আরও পড়ুন:
ফরাসি প্রেসিডেন্ট মাখোঁর করোনা
মাখোঁকে ‘হত্যার বাসনা’, এমপির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে জাপা
ফ্রান্সকে নিন্দা জানান, সরকারের প্রতি আহ্বান

শেয়ার করুন

মানুষের পা পড়ার অপেক্ষায় চীনের মহাকাশ স্টেশন

মানুষের পা পড়ার অপেক্ষায় চীনের মহাকাশ স্টেশন

৩ নভোচারীকে মহাকাশ স্টেশনে পাঠাচ্ছে চীন। ছবি: এএফপি

চীনের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা জানিয়েছে, প্রায় তিন মাস সেখানে থাকবেন নভোচারীরা। তাদের প্রত্যেকের থাকার জন্য রয়েছে আলাদা মডিউল, একটি বাথরুম, খাবার রুম এবং ই-মেইল আদানপ্রদান ও পৃথিবীর সঙ্গে ভিডিও কলের মাধ্যমে যোগাযোগ স্থাপনে একটি বিশেষ কক্ষ।

চীনের নতুন মহাকাশ স্টেশনে প্রথমবার নভোচারীসহ রকেট পাঠাতে যাচ্ছে দেশটি। তিন নভোচারীকে নিয়ে রকেটটি রওনা দেবে বৃহস্পতিবার।

এটি হবে মহাকাশে চীনের এযাবৎকালের দীর্ঘতম মিশন, যেখানে মানুষ পাঠানো হচ্ছে। এ ছাড়া প্রায় পাঁচ বছরে প্রথমবার মহাকাশে মানুষ পাঠাতে যাচ্ছে বেইজিং।

ফ্রান্স টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, মহাকাশ স্টেশনটিতে নভোচারীদের জন্য থাকবে ১২০ ধরনের স্বাস্থ্যকর ও সুস্বাদু খাদ্য, শরীরচর্চার জন্য মহাকাশে চলতে সক্ষম বিশেষ ধরনের ট্রেডমিল ইত্যাদি।

চীনের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা জানিয়েছে, প্রায় তিন মাস সেখানে থাকবেন নভোচারীরা। তাদের প্রত্যেকের থাকার জন্য রয়েছে আলাদা মডিউল, একটি বাথরুম, খাবার রুম এবং ই-মেইল আদানপ্রদান ও পৃথিবীর সঙ্গে ভিডিও কলের মাধ্যমে যোগাযোগ স্থাপনে একটি বিশেষ কক্ষ।

চীনের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় গোবি মরুভূমিতে অবস্থিত জিউকুয়ান উৎক্ষেপণ কেন্দ্র থেকে স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা ২২ মিনিটে মহাকাশের উদ্দেশ্য রওনা দেবে লং মার্চ-টুএফ।

তিয়াংগং স্পেস স্টেশনের মূল অংশ তিয়ানহেতে অবতরণ করবে তাদের বহনকারী মহাকাশযানটি। গত ২৯ এপ্রিল পৃথিবীর কক্ষপথে স্থাপন করা হয় তিয়াংগং।

আগামী দেড় বছরের মধ্যে তিয়াংগংকে পরিপূর্ণ স্পেস স্টেশন হিসেবে রূপ দিতে আরও ১১টি অভিযান পরিচালনা করবে চীনের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা। এর মধ্যে আছে স্যোলার প্যানেল সংযুক্তিকরণ ও দুটি গবেষণাগার মডিউল।

মহাকাশে অন্তত ১০ বছর তিয়াংগংকে সচল রাখা লক্ষ্য চীনের।

মিশনের কমান্ডার নিয়ে হাইশেং বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘গত এক দশকে চীনের মহাকাশ বিজ্ঞানের ইতিহাসে অনেকগুলো উজ্জ্বল অধ্যায় যোগ করেছি আমরা। নতুন এই মিশন আমাদের জাতীয় প্রত্যাশা পূরণের সূচনা।’

মহাকাশের পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে এবং হাঁটাচলায় সুবিধা করতে তার দলের সদস্যরা ছয় হাজার ঘণ্টার বেশি সময় প্রশিক্ষণ নিয়েছেন।

চীনে নভোচারীর প্রশিক্ষণের জন্য বাছাইকৃত ১৯৯৮ সালের প্রথম দলটির একজন নিয়ে হাইশেং। এ পর্যন্ত মহাকাশে দুটি মিশনে অংশ নিয়েছেন তিনি।

তিনি ও তার দলের সবাই চীনা সেনাবাহিনীর সদস্য।

যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, কানাডা, ইউরোপ ও জাপানের সম্মিলিত অংশগ্রহণে নির্মিত মহাকাশের একমাত্র স্টেশন আইএসএসে চীনা নভোচারীদের নিষিদ্ধ করার পর থেকে মহাকাশে একক আধিপত্য তৈরির লক্ষ্য নেয় বেইজিং।

২০২৪ সালে শেষ হবে আইএসএসের মেয়াদ। এটি পুনরায় পূর্ণাঙ্গরূপে সচল হতে হতে ২০২৮ সাল পর্যন্ত সময় লেগে যেতে পারে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা।

আরও পড়ুন:
ফরাসি প্রেসিডেন্ট মাখোঁর করোনা
মাখোঁকে ‘হত্যার বাসনা’, এমপির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে জাপা
ফ্রান্সকে নিন্দা জানান, সরকারের প্রতি আহ্বান

শেয়ার করুন

পাকিস্তান পার্লামেন্টের অধিবেশনকক্ষ রণক্ষেত্র

পাকিস্তান পার্লামেন্টের অধিবেশনকক্ষ রণক্ষেত্র

পাকিস্তানের পার্লামেন্টে বাজেট অধিবেশনের সময় আইনপ্রণেতাদের মধ্যে নথি ছোড়াছুড়ি হয়। ছবি: ডন

সরকারদলীয় আইনপ্রণেতারা বাজেট অধিবেশনে বিরোধীদলীয় নেতা শেহবাজ শরিফের বক্তব্য দ্বিতীয় দিনের মতো ব্যাহত করলে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়।

সরকারদলীয় ও বিরোধী আইনপ্রণেতাদের সংঘর্ষে মঙ্গলবার কার্যত রণক্ষেত্রে পরিণত হয় পাকিস্তানের পার্লামেন্ট।

সরকারদলীয় আইনপ্রণেতারা বাজেট অধিবেশনে বিরোধীদলীয় নেতা শেহবাজ শরিফের বক্তব্য দ্বিতীয় দিনের মতো ব্যাহত করলে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়।

ওই সময় এক পক্ষ আরেক পক্ষের দিকে বাজেটের নথি ও বই ছুড়ে মারে।

দ্য ডনের প্রতিবেদনে জানানো হয়, সাপ্তাহিক মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে পার্লামেন্ট অধিবেশনে আসেন কয়েকজন জ্যেষ্ঠ মন্ত্রীসহ ট্রেজারি সদস্যরা। তারা শেহবাজ শরিফের বক্তব্যের সময় স্লোগান, শোরগোলের পাশাপাশি টেবিল চাপড়াতে থাকেন।

ওই সময় তাদের থামাতে ব্যর্থ হন স্পিকার আসাদ কায়সার। তাকে তিনবার পার্লামেন্ট কার্যক্রম স্থগিত করতে হয়।

অন্যদিকে সরকারদলীয় পার্লামেন্ট সদস্যদের যেকোনো আক্রমণ থেকে বাঁচাতে দলের সদস্যরা ঘিরে রাখেন পাকিস্তান মুসলিম লিগ (নওয়াজ) সভাপতি শেহবাজ শরিফকে।

স্পিকার পার্লামেন্টের অধিবেশন প্রথম স্থগিত করেন ৪০ মিনিটের জন্য। প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের বিশেষ সহকারী আলি নাওয়াজ খান বিরোধীদের দিকে একটি বই ছুড়ে মারার পর স্পিকারকে এ সিদ্ধান্ত নিতে হয়। অবশ্য সে বই আলি নাওয়াজের দিকে পাল্টা ছুড়ে মারেন বিরোধী এক আইনপ্রণেতা।

এ ঘটনার পর অস্ত্রধারী দুই ডজনের বেশি সার্জেন্ট দুই পক্ষের আইনপ্রণেতাদের মধ্যে মানবদেয়াল হয়ে দাঁড়ালে স্পিকার কার্যক্রম আবার শুরু করেন।

কয়েক দশক ধরে পার্লামেন্ট কাভার করা সাংবাদিকদের জন্য এটি ছিল নজিরবিহীন ঘটনা।

পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পর শেহবাজ শরিফ বক্তব্য শুরু করেন। তিনি অর্থনৈতিক বিভিন্ন নীতির জন্য সরকারের কঠোর সমালোচনা করেন।

তার বক্তব্যের জবাবে ট্রেজারি সদস্যরা দাঁড়িয়ে শোরগোল, টেবিল চাপড়ানো ও স্লোগান দিতে থাকেন। তারা বিরোধীদের উদ্দেশে ‘চোর, চোর’, ‘ডাকু, ডাকু’ স্লোগান দিতে থাকেন।

কিন্তু দমার পাত্র নন শেহবাজ শরিফ। তিনি বক্তব্য অব্যাহত রাখেন।

প্রতিক্রিয়া হিসেবে ট্রেজারি সদস্যরা বিরোধী বেঞ্চগুলোর দিকে অগ্রসর হন। তবে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা তাদের মাঝপথে আটকে দেন।

এ পর্যায়ে এসে ট্রেজারি সদস্যরা বিরোধীদের দিকে বই ও নথি ছুড়তে থাকেন। বিরোধীরাও একই কায়দায় সরকারি দলের সদস্যদের সামলান।

আলি নাওয়াজ আওয়ানসহ কয়েকজনকে অশ্লীল শব্দ উচ্চারণ করতে শোনা যায়। এ সময় দুই পক্ষের অনেক আইনপ্রণেতাকে দাঁড়িয়ে স্লোগান দিতে দেখা যায়।

আরও পড়ুন:
ফরাসি প্রেসিডেন্ট মাখোঁর করোনা
মাখোঁকে ‘হত্যার বাসনা’, এমপির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে জাপা
ফ্রান্সকে নিন্দা জানান, সরকারের প্রতি আহ্বান

শেয়ার করুন