কানাডায় মুসলমান পরিবারের ওপর ট্রাকহামলা, নিহত ৪

কানাডায় মুসলমান পরিবারের ওপর ট্রাকহামলা, নিহত ৪

নিহত মুসলমান পরিবারের প্রতি তাদের পরিচিত কানাডিয়ানদের শেষ শ্রদ্ধা নিবেদন। ছবি: এএফপি

ওন্টারিওর লন্ডন পুলিশ সার্ভিস সুপারিনটেন্ডেন্ট পল ওয়াইট এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘এ হামলা পূর্বপরিকল্পিত ছিল বলে প্রমাণ মিলেছে। কেবল ঘৃণার বশবর্তী হয়েই হামলা চালিয়েছে ঘাতক।’

কানাডার ওন্টারিও প্রদেশে এক মুসলমান পরিবারের ওপর ট্রাক উঠিয়ে দেয়ার ঘটনায় নিহত হয়েছে চারজন।

পরিবারের বেঁচে যাওয়া একমাত্র সদস্য নয় বছর বয়সী এক শিশু। গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছে সে।

আলজাজিরার প্রতিবেদনে জানানো হয়, ওন্টারিওর লন্ডন শহরে স্থানীয় সময় রোববার সন্ধ্যায় হয় এ হামলা হয়।

ট্রাক দিয়ে হামলাকারী ২০ বছর বয়সী নাথানিয়াল ভেল্টম্যানকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

পরিবারটি মুসলমান জেনেই ওই যুবক হামলা চালিয়েছে বলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

ঘটনাস্থলের ছয় কিলোমিটার দূরের একটি শপিং মল থেকে আটক করা হয় যুবককে। তার বিরুদ্ধে চারটি হত্যা মামলা ও একটি হত্যাচেষ্টা মামলা করা হয়েছে।

‘ঘৃণার অবর্ণনীয় বহিঃপ্রকাশ’ ও ইসলামভীতি আখ্যা দিয়ে এ ঘটনার নিন্দা জানিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় তিন দিনের শোক ঘোষণা করেছেন লন্ডনের মেয়র এড হোল্ডার।

নিহতদের মধ্যে আছেন ৭৭ ও ৪৪ বছর বয়সী দুই নারী, ১৫ বছরের এক কিশোরী ও ৪৬ বছর বয়সী এক পুরুষ। হতাহতদের নাম-পরিচয় প্রকাশ করেনি প্রশাসন।

লন্ডন পুলিশ সার্ভিস সুপারিনটেন্ডেন্ট পল ওয়াইট এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘এ হামলা পূর্বপরিকল্পিত ছিল বলে প্রমাণ মিলেছে। কেবল ঘৃণার বশবর্তী হয়েই হামলা চালিয়েছে ঘাতক।

‘ধারণা করা হচ্ছে, কেবল মুসলমান বলে হামলার শিকার হয়েছেন ভুক্তভোগীরা। কারণ ঘাতক ও হতাহতদের মধ্যে কোনো ধরনের পূর্বপরিচয় ছিল না।’

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম টুইটারে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো।

নিহতদের স্বজনদের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে তিনি লেখেন, ‘ওন্টারিওর এ ঘটনায় আমি আতঙ্কিত…সারা দেশের মুসলমান সম্প্রদায়ের সঙ্গে আছি আমরা। এ দেশে ইসলামভীতির জায়গা নেই। এ ধরনের আচরণ নিকৃষ্ট ও বিশ্বাসঘাতকতার শামিল। এগুলো বন্ধ করতেই হবে।’

এ ঘটনায় শোক জানিয়ে ন্যায়বিচারের আশ্বাস দিয়েছেন ওন্টারিওর প্রিমিয়ার ডাউগ ফোর্ড, কানাডার প্রতিরক্ষামন্ত্রী হারজিৎ সজ্জনসহ অনেক রাজনীতিক।

কানাডার বিভিন্ন প্রদেশে মুসলমানবিদ্বেষী ঘটনায় উদ্বেগ বাড়তে থাকার মধ্যেই হলো এ হামলা। জাতিবিদ্বেষ, সাম্প্রদায়িক সহিংসতা ও কট্টর ডানপন্থি গোষ্ঠীগুলোকে ঠেকাতে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য প্রশাসনের প্রতি দীর্ঘদিন ধরেই আহ্বান জানিয়ে আসছিলেন সংশ্লিষ্টরা।

কানাডার সরকারি পরিসংখ্যান সংস্থা চলতি বছরের মার্চ মাসে জানিয়েছে, ২০১৯ সালে মুসলমানদের ওপর ১৮১টি হামলার ঘটনা নথিবদ্ধ করেছে পুলিশ। ২০১৮ সালে এ সংখ্যা ছিল ১৬৬। কেবল ধর্মপরিচয়ের কারণে হামলার শিকার হয়েছেন তারা।

কানাডায় মুসলমান সম্প্রদায়ের কেন্দ্রীয় পরামর্শক সংগঠন ন্যাশনাল কাউন্সিল অফ কানাডিয়ান মুসলিমস।এর প্রধান নির্বাহী মুস্তাফা ফারুক বলেন, ‘প্রাণঘাতী এ হামলায় ভয়ের চেয়েও বেশি কিছুর পর্যায়ে আছি আমরা।

‘কানাডার মাটিতে এটি একটি সন্ত্রাসী হামলা এবং সেভাবেই এর বিচার হওয়া উচিত। সন্ত্রাসবাদের অভিযোগ বিবেচনাসহ হামলাকারীর সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিতে প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি আমরা।’

তিনি আরও বলেন, ‘ইসলামভীতির কারণে একটি পরিবার প্রায় নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। একটি শিশু তার পরিবারকে হারিয়েছে। এই ক্ষত সহজে মোছার নয়। কিন্তু এই শোকই হবে আমাদের ন্যায় প্রতিষ্ঠা ও দিন বদলের ভিত্তি।’

গত কয়েক মাসে আলবার্টা প্রদেশে মুসলমান নারীদের গালিগালাজ ও শারীরিক লাঞ্ছনার একাধিক ঘটনা ঘটেছে।

গত বছরের সেপ্টেম্বরে টরন্টোর পশ্চিমে একটি মসজিদের বাইরে ৫৮ বছর বয়সী মোহাম্মদ আসলিম জাফিস নামের একটি ব্যক্তিকে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে হত্যা করা হয়।

তবে কানাডার ইতিহাসে মুসলমান সম্প্রদায়ের ওপর সবচেয়ে ভয়াবহ হামলাটি হয় ২০১৭ সালের জানুয়ারিতে। কিউবেকের একটি মসজিদে এলোপাতাড়ি গুলি চালিয়ে ছয়জনকে হত্যা করে ঘাতক।

আরও পড়ুন:
শিশুদের গণকবর: চার্চকে দায় নিতে বললেন ট্রুডো
কানাডার আদিবাসী স্কুল থেকে ২১৫ শিশুর দেহাবশেষ উদ্ধার
হাজার ফুট ওপর থেকে পড়ে গেলেন পর্বতারোহী

শেয়ার করুন

মন্তব্য

রাষ্ট্রীয় বিমা বেসরকারীকরণের বিরুদ্ধে সরব তৃণমূল

রাষ্ট্রীয় বিমা বেসরকারীকরণের বিরুদ্ধে সরব তৃণমূল

পশ্চিমবঙ্গের অর্থমন্ত্রী অমিত মিত্র। ছবি: সংগৃহীত

কেন্দ্রের মোদি সরকারের রাষ্ট্রীয় বিমা সংস্থা বেসরকারীকরণের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট জানিয়েছিলেন, কেন্দ্রের জনবিরোধী সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রয়োজনে সর্বাত্মক আন্দোলনের পথে যাবেন তিনি। এরই অংশ হিসেবে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রীকে চিঠি দিয়ে সুর চড়াল তৃণমূল।

ফোনে আড়িপাতা নিয়ে ইসরায়েলি স্পাইওয়্যার পেগাসাস ইস্যুর পর এবার রাষ্ট্রীয় বিমা সংস্থা বেসরকারীকরণের বিরুদ্ধে সরব হলো তৃণমূল। কেন্দ্রীয় বিমা সংস্থা বেসরকারীকরণের পদক্ষেপের প্রতিবাদ জানিয়ে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামনকে কড়া চিঠি দিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের অর্থমন্ত্রী অমিত মিত্র।

মোদি সরকারের এই পদক্ষেপ কীভাবে দেশের অর্থনীতিতে ধস নামাবে তার সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা দিয়ে অবিলম্বে এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন তিনি।

ভারতীয় সংসদের ভেতরে-বাইরে ফোনে আড়িপাতা নিয়ে ইসরায়েলের স্পাইওয়্যার ইস্যুতে কোণঠাসা কেন্দ্র সরকারকে আরও কোণঠাসা করতে বিমা সংস্থা বেসরকারিকরণের মত ইস্যু সামনে আনছে পশ্চিমবঙ্গের শাসকদল তৃণমূল।

তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে বিমা সংস্থা বেসরকারীকরণ ইস্যুতে অলআউট ঝাঁপিয়ে পড়ার পরিকল্পনা নিয়েছে বলে আগেই জানিয়েছেন তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ ডেরেক ও ব্রায়েন।

কেন্দ্রের মোদি সরকারের রাষ্ট্রীয় বিমা সংস্থা বেসরকারীকরণের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট জানিয়েছিলেন, কেন্দ্রের জনবিরোধী সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রয়োজনে সর্বাত্মক আন্দোলনের পথে যাবেন তিনি। এরই অংশ হিসেবে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রীকে চিঠি দিয়ে সুর চড়াল তৃণমূল।

চিঠিতে সরকারি পরিসংখ্যান দিয়ে রাজ্যের অর্থমন্ত্রী অমিত মিত্র বলেন, ‘দেশের অর্থনীতির অন্যতম স্তম্ভ রাষ্ট্রীয় বিমা সংস্থাগুলো বেসরকারীকরণ করতে কেন্দ্রীয় সরকারের যে নীতিগত সিদ্ধান্ত সেটি দেশের মানুষের মনে নিরাপত্তাহীনতা সৃষ্টি করেছে। জানতে পেরেছি, চারটি সাধারণ রাষ্ট্রীয় বিমা সংস্থার মধ্যে প্রথমেই ইউনাইটেড ইন্ডিয়া ইন্স্যুরেন্স কোম্পানিকে বেসরকারি হাতে দিতে চাইছে মোদি সরকার।

কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামনকে দেয়া চিঠিতে তিনি বলেন, ‘আপনি জানেন, ইউনাইটেড ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির গ্রাহক ১ দশমিক ৭৪ কোটি। এরমধ্যে অনেকেই সমাজের প্রান্তিক শ্রেণীর প্রতিনিধি। এই সংস্থার কর্মী সংখ্যা ১৩ হাজার ৯৬১ জন । প্রিমিয়াম বাবদ আয় হয়ে থাকে ১৭ হাজার ৫১৫ কোটি টাকা। এই সংস্থা সরকারি সিকিউরিটি ও বন্ডে বিনিয়োগ করেছে ১১ হাজার ৩৯৬ কোটি টাকা।’

অর্থমন্ত্রী অমিত মিত্র চিঠিতে লিখেছেন, ‘ভারতীয় জীবনবীমা নিগমকেও (এলআইসি) বিক্রি করবে সরকার, এমন কথাও শুনেছি। এলআইসি দেশের নাগরিকদের কাছে অর্থনৈতিক নিরাপত্তার ভিত্তি। ১৯৫৬ সালে সংস্থার গোড়াপত্তনের দিন থেকে দেশ গড়ার কাজে মনোনিবেশ করেছে এলআইসি। যেখানে দিনের পর দিন ধরে দেশের সড়ক, রেল পরিবহন, বিদ্যুৎ, টেলিকম, কৃষি এবং বন্দরগুলোতে লগ্নি করেছে তারা।’

অমিত চিঠিতে আরও লিখেছেন, ‘সংস্থার বেসরকারীকরণের সরকারি সিদ্ধান্ত ১ কোটি ১৪ লাখ কর্মী এবং ১২ থেকে ১৫ লাখ বিমা এজেন্টের জীবন ও জীবিকা বিপন্ন করবে। ২০২০-২১ আর্থিক বছরে সংস্থার বিনিয়োগের পরিমাণ ৩৬ দশমিক ৭৬ কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকারি সিকিউরিটি আছে ২৩ দশমিক ৭৫ কোটি টাকা বিনিয়োগ।

‘সরকার, সরকারি সংস্থা ও কর্পোরেটগুলোকে এলআইসির পক্ষ থেকে মোট ঋণ দেয়া হয়েছে ২১ হাজার কোটি টাকা। এলআইসির বেসরকারিকরণ একটি প্যান্ডোরার বাক্স খুলে দেবে, যেখানে ৩০ কোটি বিমা গ্রহীতার স্বার্থ বিপন্ন হতে পারে।’

আরও পড়ুন:
শিশুদের গণকবর: চার্চকে দায় নিতে বললেন ট্রুডো
কানাডার আদিবাসী স্কুল থেকে ২১৫ শিশুর দেহাবশেষ উদ্ধার
হাজার ফুট ওপর থেকে পড়ে গেলেন পর্বতারোহী

শেয়ার করুন

হাঙ্গেরি-যুক্তরাষ্ট্রের কোলাজ, এক শহরের নয়

হাঙ্গেরি-যুক্তরাষ্ট্রের কোলাজ, এক শহরের নয়

এই কোলাজ ছবি ভিন্ন দুই শহরের, এক শহরের নয়। ছবি: ইন্ডিয়া টুডে

মূলত গাছ থাকা ও না থাকার কারণে একই শহরে একই সময়ে তাপমাত্রার যে ব্যাপক পার্থক্য হয়, তা বোঝানোই কোলাজটির মূল উদ্দেশ্য। তবে অনুসন্ধানে দেখা যায়, কোলাজে ব্যবহার করা ছবি দুটি এক শহরের নয়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সম্প্রতি এক কোলাজ ছবি ভাইরাল হয়। এতে বলা হয়, এক শহরের দুই জায়গায় একই সময়ে ছবি দুটি তোলা হয়েছে।

ওপরের ছবিতে কোনো গাছ নেই আর নিচের ছবিতে রাস্তার দুধার বড় বড় গাছে ঢাকা।

যে ছবিতে গাছ নেই তাতে তাপমাত্রা ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস থেকে ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াস লেখা।

আর গাছ থাকা এলাকায় তাপমাত্রা ১৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস থেকে ২৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে ওঠানামা করছে।

মূলত গাছ থাকা ও না থাকার কারণে একই শহরে একই সময়ে তাপমাত্রার যে ব্যাপক পার্থক্য হয়, তা বোঝানোই কোলাজটির মূল উদ্দেশ্য।

ইন্ডিয়া টুডের অ্যান্টি-ফেইক নিউজ ওয়ার রুম (এএফডব্লিউএ) ভাইরাল হওয়া কোলাজ ছবি নিয়ে অনুসন্ধান চালায়।

অনুসন্ধানে দেখা যায়, প্রথম ছবি যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় ইডাহো অঙ্গরাজ্যের টুইন ফলস শহর থেকে নেয়া। আর অন্যটি হাঙ্গেরির রাজধানী বুদাপেস্টের।

প্রথমে কোলাজের ওপরের ছবি নিয়ে অনুসন্ধান করে এএফডব্লিউএ। ছবির বাঁদিকে ‘ম্যাজিক ভ্যালি অটো পার্টস’ লেখা দোকানটি জুম করা হয়।

এরপর দোকানটির অবস্থান বের করতে গুগল ইমেজে অনুসন্ধান করা হলে একপর্যায়ে জানা যায়, ম্যাজিক ভ্যালি অটো পার্টস টুইন ফলসে অবস্থিত।

গুগল ইমেজে আরও অনুসন্ধান করে ইন্ডিয়া টুডের দল টুইন ফলসের তিনটি সবচেয়ে বাজে এলাকা নিয়ে লেখা একটি নিবন্ধের খোঁজ পায়। ২০১৭ সালের ২১ মার্চ নিবন্ধটি প্রকাশ হয়।

এরপর কোলাজের নিচের ছবি নিয়ে অনুসন্ধানে নামে এএফডব্লিউএ।

একপর্যায়ে হাউস অক্টোগন নামে এক হোটেলের ওয়েবসাইটে ওই ছবি পাওয়া যায়।

ওয়েবসাইটের ফটো গ্যালারির ‘হোটেলের চারপাশ’ অংশে ছবিটি পোস্ট করা হয়েছিল।

হাউস অক্টোগন বুদাপেস্টের অভিজাত অক্টোগন এলাকার ইয়োতভস সড়কে অবস্থিত।

এতে পরিষ্কার হয়, কোলাজে ব্যবহার করা ছবি দুটি একই শহরের নয়। একটি যুক্তরাষ্ট্রের আর অন্যটি হাঙ্গেরির।

আরও পড়ুন:
শিশুদের গণকবর: চার্চকে দায় নিতে বললেন ট্রুডো
কানাডার আদিবাসী স্কুল থেকে ২১৫ শিশুর দেহাবশেষ উদ্ধার
হাজার ফুট ওপর থেকে পড়ে গেলেন পর্বতারোহী

শেয়ার করুন

আগস্টেই তৃতীয় ঢেউয়ের শঙ্কা ভারতে

আগস্টেই তৃতীয় ঢেউয়ের শঙ্কা ভারতে

গণচিতা সাজিয়ে দাহ করার জন্য রাখা হয়েছে করোনায় মৃতদের দেহ। ছবি: পিটিআই

গবেষণাপত্রে বলা হয়েছে, আগস্টেই শুরু হতে পারে তৃতীয় ঢেউ। অক্টোবর মাসে সংক্রমণ পৌঁছে যেতে পারে শীর্ষে। কেরালা, মহারাষ্ট্রের মতো যেসব রাজ্যে সংক্রমণের হার বেশি, সেখানে সংক্রমণ নতুন রেকর্ড গড়তে পারে।

করোনা সংক্রমণ থামাতে ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে জারি হয়েছিল লকডাউন। বিধিনিষেধ শিথিল করতেই স্বাস্থ্যবিধির তোয়াক্কা না করে শুরু হয় মানুষের অসচেতন চলাচল। এ অবস্থায় সংক্রমণ বাড়ার পাশাপাশি চলতি মাসেই ভারতে আছড়ে পড়তে পারে করোনার তৃতীয় ঢেউ। এমন শঙ্কার ইঙ্গিত দিয়েছেন চিকিৎসাবিজ্ঞানী ও গবেষকরা।

হায়দরাবাদ ও কানপুরের ইন্ডিয়ান ইন্সটিটিউট অব টেকনোলজির গবেষক মাথুকুমালি বিদ্যাসাগর ও মনীন্দ্র আগরওয়াল সম্প্রতি প্রকাশ করেছেন একটি গবেষণাপত্র। সেখানে বলা হয়েছে, আগস্টেই শুরু হতে পারে তৃতীয় ঢেউ। অক্টোবর মাসে সংক্রমণ পৌঁছে যেতে পারে শীর্ষে। কেরালা, মহারাষ্ট্রের মতো যেসব রাজ্যে সংক্রমণের হার বেশি ছিল, সেখানে সংক্রমণ নতুন রেকর্ড গড়তে পারে।

ভারতে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ শেষ না হতেই জল্পনা শুরু হয়েছিল তৃতীয় ঢেউয়ের। সেপ্টেম্বরের শেষ ভাগে বা অক্টোবরের শুরুতে নতুন করে সংক্রমণ শুরু হবে বলে মত দিয়েছিলেন গবেষকরা।

দেশের অধিকাংশ রাজ্য থেকে লকডাউন উঠতেই মানুষের ঢল নামে। তখন গবেষকরা সতর্ক করে বলেছিলেন, সেপ্টেম্বর নয় আগস্টের শেষেই তৃতীয় ঢেউ আসতে পারে। তবে নতুন কোনো ভ্যারিয়েন্ট আত্মপ্রকাশ না করলে দ্বিতীয় ঢেউয়ের মতো ভয়াবহ আকার ধারণ করবে না তৃতীয় ঢেউ।

ভারতে দ্বিতীয় ঢেউয়ের সময় প্রতিদিন ৪ লাখের বেশি মানুষ করোনা আক্রান্ত হয়েছিলেন। তবে তৃতীয় ঢেউয়ে দৈনিক সর্বোচ্চ এক থেকে দেড় লাখ মানুষ করোনা আক্রান্ত হতে পারেন বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

টিকা কার্যক্রম দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলায় তৃতীয় ঢেউয়ে আক্রান্তের সংখ্যা তুলনামূলক কম হবে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে যে রাজ্যগুলো করোনার হটস্পট হিসেবে চিহ্নিত সেখানে ‘বিশেষ নজরদারির’ তাগাদা দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। এসব স্থানের সংগৃহীত নমুনার জিনোম সিকোয়েন্সিং করা প্রয়োজন। তাহলে করোনার নতুন কোনো ভ্যারিয়েন্ট তৈরি হলে, আগে থেকেই জানা যাবে।

ভারতে কয়েক সপ্তাহ ধরেই দৈনিক আক্রান্তের সংখ্যা ৪০ হাজারের গণ্ডিতে আছে। তার মধ্যে কেরল থেকেই মিলছে অর্ধেক আক্রান্তের খোঁজ। উত্তর-পূর্ব ভারতের বেশ কয়েকটি রাজ্যেও সংক্রমণ ঊর্ধ্বমুখী। সেসব বিবেচনায় তৃতীয় ঢেউয়ের হটস্পট হয়ে উঠতে পারে কেরল।

বিশেষজ্ঞরা জানান, দেশের মাত্র ৭ দশমিক ৬ শতাংশ জনগণ টিকার দুই ডোজ পেয়েছেন। তাতেই ‘হার্ড ইমিউনিটি’ তৈরি হয়েছে বলা যাবে না। সুতরাং কেরালার মতো রাজ্যে যদি একনাগাড়ে সংক্রমণ বৃদ্ধি পায়, তবে গোটা দেশেই তা ছড়িয়ে পড়বে। তখন পরিস্থিতি সামাল দেয়া কঠিন হয়ে পড়বে।

আরও পড়ুন:
শিশুদের গণকবর: চার্চকে দায় নিতে বললেন ট্রুডো
কানাডার আদিবাসী স্কুল থেকে ২১৫ শিশুর দেহাবশেষ উদ্ধার
হাজার ফুট ওপর থেকে পড়ে গেলেন পর্বতারোহী

শেয়ার করুন

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইহুদিবিদ্বেষের আখড়া: প্রতিবেদন

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইহুদিবিদ্বেষের আখড়া: প্রতিবেদন

ইহুদিবিদ্বেষী পোস্টের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যর্থ হয়েছে বলে একটি প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। ছবি: সংগৃহীত

প্রতিবেদনে বলা হয়, ইহুদিবিদ্বেষ ও তাদের নিয়ে প্রোপাগান্ডা ছড়ানো ৮৪ শতাংশ পোস্টের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সক্ষমতা দেখাতে পারেনি ফেসবুক, টুইটার, ইনস্টাগ্রাম, ইউটিউব ও টিকটক।

বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় পাঁচটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইহুদিবিদ্বেষের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে গুরুতর ও কাঠামোগতভাবে ব্যর্থ হয়েছে বলে একটি প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

ওই মাধ্যমগুলো ‘বর্ণবাদীদের নিরাপদ আখড়ায়’ পরিণত হয়েছে বলে প্রতিবেদনে মন্তব্য করা হয়েছে।

গবেষণা প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে দ্য গার্ডিয়ানের খবরে বলা হয়, ইহুদিবিদ্বেষ ও তাদের নিয়ে প্রোপাগান্ডা ছড়ানো ৮৪ শতাংশ পোস্টের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সক্ষমতা দেখাতে পারেনি ফেসবুক, টুইটার, ইনস্টাগ্রাম, ইউটিউব ও টিকটক।

চলতি বছরের শুরুর দিকে দেড় মাস সময় নিয়ে কয়েক শ ইহুদিবিদ্বেষী পোস্ট চিহ্নিত করেন যুক্তরাষ্ট্র-যুক্তরাজ্যের সংস্থা সেন্টার ফর কাউন্টারিং ডিজিটাল হেইটের (সিসিডিএইচ) গবেষকরা।

নাৎসি, নব্য নাৎসি, শ্বেতাঙ্গ আধিপত্যবাদসহ অন্যান্য বিদ্বেষী বক্তব্য সংবলিত ওইসব পোস্টে ৭৩ লাখের মতো মন্তব্য পড়ে।

এসব পোস্টের মধ্যে ৭১৪টি পরিষ্কারভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোর নীতি ভঙ্গ করে।

তবে ছয়টির মধ্যে একটিরও কম পোস্ট পরে সরানো হয় বা মডারেটরকে জানানোর পর মুছে ফেলা হয়।

গবেষণায় দেখা যায়, ইহুদিবিদ্বেষী ষড়যন্ত্র তত্ত্বের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সামাজিক মাধ্যমগুলো বেশ দুর্বল।

ধনী ইহুদি পরিবার রথশিল্ড, ইহুদি ধনকুবের জর্জ সরসকে ঘিরে কটূক্তি থেকে শুরু করে করোনা মহামারিকালে ইহুদিদের নিয়ে ভুল তথ্য ওইসব পোস্টে ছিল।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ইহুদিদের ওপর যে নারকীয় হত্যাযজ্ঞ চালানো হয়, সেই ঘটনার অস্বীকৃতি জানানো পোস্টও বহাল রয়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোতে।

ওই বিশ্বযুদ্ধের সময় ৬০ লাখ ইহুদি হত্যার ঘটনা চেপে যায় ৮০ শতাংশ পোস্ট। সে ক্ষেত্রেও কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।

গবেষণা করা পাঁচ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মধ্যে ফেসবুকের অবস্থা সবচেয়ে বাজে।

ইহুদিবিদ্বেষী পোস্টের মধ্যে কেবল ১০.৯ শতাংশের বিরুদ্ধে তারা ব্যবস্থা নিতে সক্ষম হয়েছে।

যদিও গত বছর ইহুদিবিদ্বেষী কন্টেন্টের বিষয়ে কঠোর নির্দেশনা প্রবর্তন করে ফেসবুক।

গত বছরের নভেম্বরে ইহুদি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা অস্বীকার বা বিকৃত করা কন্টেন্ট বন্ধ সংক্রান্ত নীতি হালনাগাদ করেছিল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমটি।

আরও পড়ুন:
শিশুদের গণকবর: চার্চকে দায় নিতে বললেন ট্রুডো
কানাডার আদিবাসী স্কুল থেকে ২১৫ শিশুর দেহাবশেষ উদ্ধার
হাজার ফুট ওপর থেকে পড়ে গেলেন পর্বতারোহী

শেয়ার করুন

বিল গেটসের টয়লেটে মল পরিণত হবে ‘সম্পদে’

বিল গেটসের টয়লেটে মল পরিণত হবে ‘সম্পদে’

স্যানিটেশন নিয়ে কাজ করছেন বিল গেটস। ছবি: গেটসনোটস

পৃথিবীর অর্ধেক জনগোষ্ঠীর (প্রায় ৩৬০ কোটি) টয়লেট নেই বা তারা অনিরাপদ স্যানিটেশন ব্যবহার করে। অনিরাপদ স্যানিটেশনের অর্থ দূষিত পানি ও মাটি। এতে অসুস্থতা, এমনকি মৃত্যুও হতে পারে।

অস্বাস্থ্যকর স্যানিটেশন ব্যবস্থা উন্নত করতে ১০ বছর আগে টয়লেট নতুন করে উদ্ভাবনের চ্যালেঞ্জ বিশ্বকে দিয়েছিল বিল গেটস ফাউন্ডেশন।

পৃথিবীর অর্ধেক জনগোষ্ঠীর (প্রায় ৩৬০ কোটি) টয়লেট নেই বা অনিরাপদ স্যানিটেশন ব্যবহার করে।

অনিরাপদ স্যানিটেশনের অর্থ দূষিত পানি ও মাটি। এতে অসুস্থতা, এমনকি মৃত্যুও হতে পারে।

সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, ডায়রিয়াসহ অন্যান্য স্যানিটেশন সংশ্লিষ্ট রোগে ভুগে বিশ্বজুড়ে প্রতি বছর পাঁচ বছরের কম বয়সী প্রায় পাঁচ লাখ শিশুর মৃত্যু হয়।

তবে এই স্যানিটেশন সমস্যার সমাধান হতে পারে বলে মনে করছেন বিল গেটস। তার ব্লগ সাইট গেটসনোটস-এ এমন তথ্য জানানো হয়েছে।

২০১১ সালে বিল গেটস ফাউন্ডেশনের ‘রিইনভেন্ট দ্য টয়লেট চ্যালেঞ্জ’ প্রকল্প গবেষকদের কাছ থেকে জানতে চায়, পয়নিষ্কাশন ব্যবস্থা বা প্রবাহমান পানির ওপর নির্ভর না করে নিরাপদ স্যানিটেশনের ব্যবস্থা করা যায় কি না।

বিল গেটস ফাউন্ডেশনের আহ্বানে সাড়া দিয়ে পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিজ্ঞানী ও প্রকৌশলীরা বেশ কিছু চমকপ্রদ চিন্তা হাজির করেন।

অল্প পানি ও বিদ্যুতের সাহায্যে বা এসবের সাহায্য ছাড়াই মানব বর্জ্য নিরাপদে প্রক্রিয়াজাত করার টয়লেট নকশা করেন তারা।

ওই বিজ্ঞানী ও প্রকৌশলীরা এমন এক ধরনের টয়লেট তৈরি করেন যেখানে সার, পরিষ্কার পানি ও বিদ্যুৎসহ মূল্যবান আরও সম্পদে পরিণত হয় মল।

অন্য গবেষকরা টয়লেট, সেপটিক ট্যাংক ও পয়নিষ্কাশন ব্যবস্থা থেকে মল প্রক্রিয়াজাত করার নতুন পদ্ধতি উদ্ভাবন করেন।

এর মাধ্যমে পুরো সম্প্রদায়ের বর্জ্য খাবার পানি ও বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে সক্ষম হয়।

ওমনি-প্রসেসরস নামে পরিচিত এসব যন্ত্র মলমূত্র ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্টও ব্যবহার করা যেতে পারে।

উদ্ভাবনের পরবর্তী ধাপে যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজির অধ্যাপক ড. শ্যানন ইর নেতৃাত্বধীন দল ওইসব চিন্তা থেকে কম খরচে কীভাবে টয়লেট উদ্ভাবন করা যায়, তা বের করবে।

এর নাম দেয়া হয়েছে জেনারেশন টু রিইনভেন্টেড টয়লেট।

বাজারে এসব উদ্ভাবন সামনে আনতে এখনও বেশ কিছু চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি গবেষকরা। তবে চ্যালেঞ্জ উতরানো গেলে এসব উদ্ভাবন কোটি কোটি মানুষের জীবনে পরিবর্তন আনবে।

মাইক্রোসফটের প্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস বলেন, ‘আমি এ বিষয়ে আশাবাদী। আগামী ১০ বছর বা তারও পরে আমরা লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারব।’

আরও পড়ুন:
শিশুদের গণকবর: চার্চকে দায় নিতে বললেন ট্রুডো
কানাডার আদিবাসী স্কুল থেকে ২১৫ শিশুর দেহাবশেষ উদ্ধার
হাজার ফুট ওপর থেকে পড়ে গেলেন পর্বতারোহী

শেয়ার করুন

কাশ্মীরে পাথর ছুড়লে মিলবে না পাসপোর্ট, সরকারি চাকরি

কাশ্মীরে পাথর ছুড়লে মিলবে না পাসপোর্ট, সরকারি চাকরি

জম্মু-কাশ্মীরে দায়িত্ব পালনরত নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা। ছবি: সংগৃহীত

জম্মু-কাশ্মীর উপত্যকায় যারা পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর পাথর ছুড়বে, তাদের পাসপোর্টের অনুমোদন মিলবে না। অন্যান্য সরকারি পরিষেবা দেওয়া হবে না। এমনকি সরকারি চাকরিও তারা পাবেন না।

কাশ্মীরে পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর পাথর ছোড়ার ঘটনা সামলাতে জারি হয়েছে নতুন নির্দেশনা। যারা পাথর ছুড়বেন তারা সরকারি চাকরি পাবেন না। তাদের পাসপোর্টও অনুমোদন করা হবে না।

জম্মু-কাশ্মীর পুলিশের গোয়েন্দা দপ্তরের (সিআইডি) জারি করা নির্দেশনায় বলা হয়, আইনশৃঙ্খলা ভঙ্গ করলে বা পুলিশের ওপর পাথর ছোড়ার মতো অপরাধ করলে কঠিন শাস্তি পেতে হবে। যারা পুলিশ-নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর পাথর ছুড়বে তাদের পাসপোর্টের অনুমোদন মিলবে না। অন্যান্য সরকারি পরিষেবা দেওয়া হবে না তাদের। এমনকি সরকারি চাকরিও তারা পাবেন না।

কাশ্মীর উপত্যকায় বিগত কয়েক বছরে পুলিশের ওপর পাথর ছুড়ে হামলা বা আইনশৃঙ্খলা ভঙ্গ করার একাধিক ঘটনা ঘটেছে। হামলা চালানোর কাজে কাশ্মীরি যুবক ও কিশোরদের ব্যবহার করা হচ্ছে অহরহ।

মূলত এসব পাথর নিক্ষেপকারীদের দমাতেই নতুন নির্দেশনা জারি করেছে সিআইডি।

সিআইডির এসএসপি আমোদ অশোক শনিবার নির্দেশিকা জারি করে বলেন, 'দেশবিরোধী কার্যকলাপের সঙ্গে যারা যুক্ত থাকবেন, তাদের বিরুদ্ধে কড়া শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে।’

জম্মু-কাশ্মীরে সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে আগে থেকেই একাধিক বিধিনিষেধের ঘেরাটোপ ছিল। এবার থেকে আরও কঠোর হলো নিয়ম।

সিআইডির নির্দেশনায় বলা হয়, সরকারি চাকরি, প্রকল্প কিংবা পাসপোর্ট ভেরিফিকেশনের আগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা ভঙ্গ, পাথর ছোড়ার ঘটনা বা অন্য কোনো অপরাধমূলক মামলা রয়েছে কি না, তা যাচাই করতে হবে। স্থানীয় থানা থেকে রেকর্ড যাচাই করতে হবে।

অপরাধ শনাক্তে ডিজিটাল রেকর্ড (যেমন: সিসিটিভি ফুটেজ, ছবি, ভিডিও বা অডিও ক্লিপ) থাকলে তা বিশ্লেষণ করতে হবে। আবেদনকারীর বিরুদ্ধে এ ধরনের ঘটনায় জড়িত থাকার প্রমাণ মিললে বাতিল হবে তার আবেদন।

কয়েক বছর ধরেই জম্মু-কাশ্মীরের যুবকরা অভিযোগ করে আসছেন, সরকারি চাকরি পাওয়ার জন্য তাদের সিকিউরিটি ক্লিয়ারেন্সের নামে হয়রানি করা হচ্ছে। বিভিন্ন নিয়মের কারণে তারা যোগ্য প্রার্থী হয়েও চাকরি পাচ্ছেন না। নতুন জারি করা নির্দেশনায় তাদের সমস্যা আরও বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে।

পুলিশ প্রশাসন দাবি করেছে, উপত্যকায় শান্তি বজায় রাখতে নতুন নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। যুব সম্প্রদায়কে বিপথে চালিত হওয়া থেকে রুখতেই এ ধরনের উদ্যোগ।

আরও পড়ুন:
শিশুদের গণকবর: চার্চকে দায় নিতে বললেন ট্রুডো
কানাডার আদিবাসী স্কুল থেকে ২১৫ শিশুর দেহাবশেষ উদ্ধার
হাজার ফুট ওপর থেকে পড়ে গেলেন পর্বতারোহী

শেয়ার করুন

ত্রিপুরায় বিজেপির হামলার মুখে অভিষেক

ত্রিপুরায় বিজেপির হামলার মুখে অভিষেক

তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ছবি: সংগৃহীত

ত্রিপুরেশ্বরী মন্দিরে পুজো দিতে যাওয়ার সময় গোটা রাস্তায় দফায় দফায় বিক্ষোভের মুখে পড়েন অভিষেকের কনভয়। তাদের গাড়ি আটকানোর সঙ্গে লাঠি দিয়ে মেরে গাড়ির কাঁচ ভেঙে দেয়া হয়। কালো পাতাকা দেখানোর পাশাপাশি ‘অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় গো ব্যাক’ ধ্বনি ওঠে। তৃণমূলের তরফেও ‘খেলা হবে’ স্লোগান দিলে উত্তেজনা চরমে ওঠে।

তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ত্রিপুরা সফরে গিয়ে বিজেপির হামলার মুখে পড়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

ত্রিপুরেশ্বরী মন্দিরে পুজো দিতে যাওয়ার সময় গোটা রাস্তায় দফায় দফায় বিক্ষোভের মুখে পড়েন অভিষেকের কনভয়। তাদের গাড়ি আটকানোর সঙ্গে লাঠি দিয়ে মেরে গাড়ির কাঁচ ভেঙে দেয়া হয়। কালো পাতাকা দেখানোর পাশাপাশি ‘অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় গো ব্যাক’ ধ্বনি ওঠে। তৃণমূলের তরফেও ‘খেলা হবে’ স্লোগান দিলে উত্তেজনা চরমে ওঠে।

এরপর বিজেপির হামলার ভিডিও টুইট করে অভিষেক লেখেন, ‘বিজেপির শাসনে ত্রিপুরার গণতন্ত্র! রাজ্যকে নয়া উচ্চতায় পৌঁছে দেবার জন্য ধন্যবাদ বিপ্লব দেব।’

আইপ্যাকের কর্মীদের হোটেল বন্দী করে রাখার ঘটনায় ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেব বলেছিলেন, ‘অতিথি দেব ভব।’ তাকেই কটাক্ষ করে এদিন, অভিষেক সাংবাদিকদের বলেন, “অতিথি দেব ভব’র নিদারুণ উদাহরণ! দিল্লির বিজেপি নেতারা বাংলায় এসে গণতন্ত্র নিয়ে গলা ফাটান। ত্রিপুরার মানুষ এর জবাব দেবেন।”

বিজেপির বিরুদ্ধে তৃণমূলের অভিযোগ, পতাকা লাগাতে বাধা দেয়া হয়েছে তৃণমূল নেতা-কর্মীদের।

সোমবার ২০০-২৫০ বিজেপি কর্মী অভিষেকের পথ আটকে বিক্ষোভ দেখায়। পুলিশ এই ঘটনায় নিষ্ক্রিয় ছিল বলে তৃণমূল অভিযোগ করেছে।

সোমবার সকালে ত্রিপুরার কুশা বাজার এলাকায় তৃণমূলের যুব নেতা দেবাংশু ভট্টাচার্য, জয়া দত্ত, সুদীপ লাহাদের পতাকা লাগানোর কাজে বাধা দিয়েছে বিজেপি। তাদের ওপর হামলা হয়েছে বলেও অভিযোগ।

সোমবার সকাল ১০টায় অভিষেক কলকাতা থেকে ত্রিপুরার উদ্দেশ্যে রওনা দেন। সেখানে পা রাখতেই প্রথমে স্কুলপড়ুয়াদের অবরোধের মুখে পড়েন তিনি। গাড়ি থেকে নেমে পড়ুয়াদের সঙ্গে কথা বলে অবরোধ থেকে বেরিয়ে যান। অভিষেকের সফরসঙ্গী ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু, আইনমন্ত্রী মলয় ঘটক।

২০২৩ সালে ত্রিপুরা বিধানসভা নির্বাচন। পশ্চিমবঙ্গ জয়ের পর এবার ত্রিপুরা জয়ের লক্ষ্যে ঝাঁপিয়ে পড়েছে তৃণমূল। এর আগে ভোট কুশলী প্রশান্ত কিশোরের সংস্থার কর্মীদের করোনার অজুহাতে হোটেল বন্দি করে রেখেছিল ত্রিপুরার বিজেপি সরকারের মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেব।

আরও পড়ুন:
শিশুদের গণকবর: চার্চকে দায় নিতে বললেন ট্রুডো
কানাডার আদিবাসী স্কুল থেকে ২১৫ শিশুর দেহাবশেষ উদ্ধার
হাজার ফুট ওপর থেকে পড়ে গেলেন পর্বতারোহী

শেয়ার করুন