হজ নিয়ে সৌদির পরিকল্পনা প্রকাশ দ্রুতই

হজ নিয়ে সৌদির পরিকল্পনা প্রকাশ দ্রুতই

গত বছর সামাজিক দূরত্ব মেনে হজ পালন করেন মুসল্লিরা। ছবি: এএফপি

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, করোনা মহামারির হালনাগাদ নিয়ে কাজ করছে সৌদি কর্তৃপক্ষ। হজ ও ওমরাহমন্ত্রী এবং স্বাস্থ্যমন্ত্রী শিগগিরই তাদের সিদ্ধান্ত জানাবেন।

করোনাভাইরাস মহামারির কারণে সৃষ্ট চ্যালেঞ্জ মূল্যায়নের কাজ শেষ করেছে সৌদি আরব। এর ভিত্তিতে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে এ বছরের পবিত্র হজ ও ওমরাহ ঘিরে পরিকল্পনা হাজির করতে যাচ্ছে দেশটি।

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে রোববার এক সংবাদ সম্মেলনে দেশটির গণমাধ্যমবিষয়ক ভারপ্রাপ্ত মন্ত্রী ড. মাজিদ আল কাসাবি এ বার্তা দেন বলে খালিজ টাইমসের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে আল কাসাবি বলেন, করোনা মহামারির হালনাগাদ নিয়ে কাজ করছে সৌদি কর্তৃপক্ষ। হজ ও ওমরাহমন্ত্রী এবং স্বাস্থ্যমন্ত্রী শিগগিরই তাদের সিদ্ধান্ত জানাবেন।

তিনি বলেন, ‘করোনার নিত্য-নতুন ধরনের কারণে রোগটির সংক্রমণের ভয়াবহতা সঠিকভাবে ও সতর্কতার সঙ্গে মূল্যায়ন করা জরুরি। আমরা চাই না, সৌদি আরব বা মুসলিম বিশ্ব এ বছর হজ পালনের মধ্য দিয়ে ভাইরাস সংক্রমণের কেন্দ্রে পরিণত হোক।’

করোনা মহামারিকালে বিশেষ পরিস্থিতির মধ্যেই সৌদি আরবের হজ ও ওমরাহ খাতে সেবা উন্নত করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে দেশটির হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয়।

সংবাদ সম্মেলনে সৌদি আরবের হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয়ের সহকারী সচিব ইঞ্জিনিয়ার হিশাম আব্দুলমোনেম সাইদ বলেন, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পবিত্র মক্কা শরিফের উদ্দেশে যাওয়া মুসল্লিদের সুরক্ষা দেয়া সরকারের লক্ষ্য। আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে তাদের প্রয়োজন মেটাতে সেবা উন্নত করাও অন্যতম লক্ষ্য।

তিনি বলেন, সৌদি ডাটা ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কর্তৃপক্ষ (এসডিএআইএ) উদ্ভাবিত ইতমারনা অ্যাপও অনুমতি পাওয়া আবেদনকারীদের স্বাস্থ্য যাচাই করবে। সরকারি, বেসরকারি ও স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার যৌথ অংশগ্রহণে হজে অংশগ্রহণকারীদের সেবা দেয়া হবে।

সহকারী সচিব হিশাম আব্দুলমোনেম সাইদ আরও বলেন, ‘হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, পবিত্র দুই মসজিদের জেনারেল প্রেসিডেন্সিসহ সংশ্লিষ্ট সব কর্তৃপক্ষের পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিতে হজযাত্রী ও দর্শনার্থীরা যাতে হজ ও ওমরাহ সহজে পালন করতে পারেন, তা নিশ্চিত করা হবে।’

গত বছর নিরাপদ পরিকল্পনা নেয়ার পর হজ ও ওমরাহ পালনের অনুমতি দেয় সৌদি আরব।

ইতমারনা অ্যাপসহ আধুনিক বিভিন্ন প্রযুক্তি ওই সময় ব্যবহার করা হয়। মক্কা ও মদিনার মসজিদে প্রার্থনার অনুমতি, ওমরাহ পালনের অনুমতি ও রাওদাহ প্রার্থনার অনুমতির জন্য ইতমারনা অ্যাপ ব্যবহারকারীরা অনুরোধ জানাতে পেরেছিলেন।

গত বছর দুই কোটির বেশি মানুষ ওই অ্যাপ ব্যবহার করে উপকার পায়। এ ছাড়া সৌদি আরবের বাইরে থেকে আসা ৩০ হাজারের বেশি মানুষ মক্কা ও মদিনায় অবস্থিত ইনায়া (কেয়ার) সেন্টারের সেবা নেয়।

ওই সময় মক্কা শরিফে যাওয়া-আসার পথে নিরাপদ পরিবহনের ব্যবস্থা করেছিল সৌদি আরবের হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয়।

আরও পড়ুন:
৫০০ ডলারে মালয়েশিয়া, শাহজালালে প্রতারক আটক
এবারও হজে যেতে পারবেন না বাংলাদেশিরা
হজ: ন্যায্য হিস্যা চায় ঢাকা
হজের অনুমতি মাত্র ৬০ হাজার জনের
অভিনয় ‘ভুলে’ গেছেন মেহজাবিন

শেয়ার করুন

মন্তব্য