গির্জায় যৌন নিপীড়নের প্রতিবাদে জার্মান কার্ডিনালের পদত্যাগপত্র

পোপ ফ্রান্সিসের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন জার্মান কার্ডিনাল রেইনহার্ড মার্কস। ছবি:সংগৃহীত

গির্জায় যৌন নিপীড়নের প্রতিবাদে জার্মান কার্ডিনালের পদত্যাগপত্র

জার্মান কার্ডিনাল রেইনহার্ড মার্কস বলেন, “ক্যাথলিক চার্চ একটি ‘ডেড পয়েন্ট’-এ পৌঁছেছে। আমি আশা করি, এমন পদত্যাগ থেকে নতুন কোনো পরিবর্তনের যাত্রা শুরু হতে পারে।’’

খ্রিষ্টানদের ক্যাথলিক সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মীয় নেতা পোপ ফ্রান্সিসের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন জার্মান কার্ডিনাল রেইনহার্ড মার্কস। মিউনিখ এবং ফ্রেইজিংয়ের আর্চবিশপের পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন রেইনহার্ড মার্কস।

তিনি বলেন, “ক্যাথলিক চার্চ একটি ‘ডেড পয়েন্ট’-এ পৌঁছেছে। আমি আশা করি, এমন পদত্যাগ থেকে নতুন কোনো পরিবর্তনের যাত্রা শুরু হতে পারে।’’

এই শীর্ষ পাদ্রি আরও বলেন, ‘সবশেষে আমি বলতে চাই, গত কয়েক দশক ধরে গির্জার কর্মকর্তাদের মাধ্যমে যৌন নির্যাতনের ঘটনায় যে ধরনের বিপর্যয় নেমে এসেছে, আমি তার দায় এড়াতে পারি না। তাই পদ থেকে সরে গিয়ে আমিও এর দায়ভার কাদে তুলে নিলাম।’

জার্মান সংবাদমাধ্যম ডয়েচে ভ্যালেতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, মার্কস তার এমন সিদ্ধান্তের পেছনের কারণগুলো ব্যাখ্যা করে পোপকে জানিয়েছেন।

মার্কস জানান, এ বিষয়ে গত দশ বছরের তদন্ত প্রতিবেদনগুলোতে উঠে এসেছে

ক্যাথলিক চার্চের এমন ভয়াবহ পরিণতির পেছনে ব্যক্তিগত পর্যায়ের ব্যর্থতা এবং প্রশাসনিক ত্রুটি ছাড়াও প্রাতিষ্ঠানিক এবং কাঠামোগত ব্যর্থতাও দায়ী।

সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন আলোচনায় উঠে এসেছে, যৌন-নিপীড়নের ঘটনায় গির্জার কেউ কেউ এর দায়ভার স্বীকার করতে চায় না এবং ক্ষমতার অপব্যবহার-সম্পর্কিত যেকোনও সংস্কার প্রস্তাবের বিরোধিতা করেন তারা।

গত ২১ মে পোপ ফ্রান্সিসকে পাঠানো এই চিঠিটি শুক্রবার মিউনিখে তার আর্চডিয়োসিসের মাধ্যমে প্রকাশিত হয়।

এই বিষয়ে আর্চডিয়োসিস তার বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, পোপ ফ্রান্সিস তখন থেকেই কার্ডিনাল মার্কসের চিঠি পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছিলেন। পোপ জানান যে তিনি এই চিঠিটি প্রকাশ করবেন এবং তার কাছে থেকে উত্তর না পাওয়া পর্যন্ত মার্কস যেন তার দায়িত্ব থেকে ইস্তফা না নেন।

ব্যক্তিপর্যায়ে দায়ভার নিতে প্রস্তুত

মার্কস জানিয়েছিলেন যে, কয়েক মাস ধরে তিনি পদ থেকে সরে যেতে বারবার চিন্তা করেছিলেন।

তিনি জানান, গত কয়েক সপ্তাহের ঘটনাপ্রবাহ এবং আলোচনাগুলো তার পদত্যাগের পেছনে কিছুটা প্রভাব ফেলেছে। তবে তিনি জোরালোভাবে জানান তার পদত্যাগের সিদ্ধান্তটি নেয়া হয়েছে ব্যক্তিগত কারণে।

তিনি আরও বলেন, ‘আমি স্পষ্ট করে বলতে চাই, আমি কেবল নিজের ভুলের জন্য নয়, একটি প্রতিষ্ঠান হিসেবে গির্জার পক্ষে দায়ভার নিতে প্রস্তুত। কারণ আমি কয়েক যুগ ধরে এই প্রতিষ্ঠানটি গড়ে তুলতে সহায়তা করেছি।’

সংস্কারের পক্ষে আইনি পদক্ষেপ

এর আগে গির্জায় যৌন নিপীড়নের শিকার ভুক্তভোগীদের কাছে ক্যাথলিক চার্চের পক্ষে ক্ষমা চেয়েছিলেন মার্কস।

মার্কস ২০১২ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত জার্মান বিশপস সম্মেলনের সভাপতি ছিলেন।

মার্কসের নেতৃত্বে জার্মান বিশপস কনফারেন্সের গঠিত কমিশনের ২০১৮ সালের সমীক্ষায় দেখা গেছে, ১৯৪৬ থেকে ২০১৪ পর্যন্ত ১৬৭০ ধর্মযাজক যৌন আক্রমণ চালিয়েছে ৩৬৭৭ জন শিশুর ওপর, যাদের বেশির ভাগই ছেলেশিশু।

সমীক্ষায় বলা হয়েছে, যে ভুক্তভোগীদের সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে।

জার্মানের গির্জায় যৌন নির্যাতনের বিষয়ে পোপের তদন্তের নির্দেশ

মে মাসে কোলনে শহরের ডায়োসিসে শিশু যৌন নির্যাতনের ওপর ‘সম্ভাব্য ভুল’ এড়িয়ে অধিকতর গ্রহণযোগ্য তদন্ত প্রতিবেদন করতে দুজন প্রতিনিধিকে পাঠিয়েছিলেন পোপ ফ্রান্সিস।

১৯৭৫ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে ১৪ বছরের কম বয়সী অন্তত তিন শতাধিক শিশু নিপীড়নের ঘটনা তদন্ত প্রতিবেদনে উঠে আসার পরে এমন সিদ্ধান্তের কথা জানান পোপ। এর মধ্যে দুই শতাধিক শিশুকে শারীরিকভাবে আহত করা হয়েছিল।

মার্চে জমা দেয়া প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অন্তত ৭৫টি নির্যাতনের ঘটনায় গির্জা কর্তৃপক্ষ নিপীড়ন রোধে তাদের দায়িত্বে অবহেলা করেছেন।

গির্জার পুরোহিতদের বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতনের এমন বিস্তারিত বিবরণ প্রতিবেদন উঠে আসার পরেও তা প্রকাশ না করায় সমালোচিত হয়েছিল কোলনের কার্ডিনাল রেনার মারিয়া ওলকি।

এ সময় তিনি দাবি করেন, বিভিন্ন ধরনের পদ্ধতিগত সীমাবদ্ধতা প্রতিবেদনটি প্রকাশ করতে বাধা হিসেবে কাজ করেছে।

চলতি মাসে কোলনে যাচ্ছেন এমন দুই পরিদর্শকের মধ্যে রয়েছেন স্টকহোম অ্যান্ডার্সের কার্ডিনাল আরবোরেলিয়াস এবং রটারড্যাম জোহানেসের বিশপ ভ্যান ডের হেন্ডে।

একের পর এক এমন কেলেঙ্কারির ঘটনায় জার্মানির সবচেয়ে বড় ডায়োসিস ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য হয়েছিলেন গির্জার হাজারো সদস্য।

কলোনের ক্যাথলিক চার্চ কিছু ব্যবস্থা গ্রহণ করার মধ্য দিয়ে বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ডায়োসিস ভ্যাটিকানের চেয়ে বেশি আয় করে।

২০১৯ সালে জার্মানির এই ক্যাথলিক চার্চের সদস্য সংখ্যা ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ। আর এটি ছিল দেশের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান।

আরও পড়ুন:
ইরাক সফর শেষ করলেন পোপ
আইএসের গুঁড়িয়ে দেয়া গির্জায় যাবেন পোপ
‘সভ্যতার আঁতুড়ঘরে’ যাচ্ছেন পোপ
ইরাকে যাচ্ছেন পোপ
বিশপ পরিষদে এই প্রথম নারী

শেয়ার করুন

মন্তব্য

নিজেদের উৎপাদিত করোনা টিকা নিলেন খামেনি

নিজেদের উৎপাদিত করোনা টিকা নিলেন খামেনি

শুক্রবার নিজেদের উদ্ভাবিত করোনার টিকা নিলেন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনি। ছবি: এএফপি

ইরানের বিজ্ঞানীদের উদ্দেশে টুইটবার্তায় খামেনি বলেন, ‘নিজেদের প্রজ্ঞার মাধ্যমে যারা দেশকে সক্ষম করে তুলেছেন, তাদের সবার প্রতি আমি কৃতজ্ঞ।’

ইরান উৎপাদিত করোনাভাইরাস প্রতিরোধী টিকার প্রথম ডোজ নিয়েছেন দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি।

৮১ বছর বয়সী এ নেতা শুক্রবার টুইটবার্তায় বিষয়টি জানান বলে বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

ইরানের বিজ্ঞানীদের উদ্দেশে টুইটবার্তায় খামেনি বলেন, ‘নিজেদের প্রজ্ঞার মাধ্যমে যারা দেশকে সক্ষম করে তুলেছেন, তাদের সবার প্রতি আমি কৃতজ্ঞ।’

ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশের বিজ্ঞানীদের উদ্ভাবিত কোভইরান বারেকাত টিকার প্রথম ডোজ নেন খামেনি।

১৪ জুন কোভইরান বারেকাতের জরুরি ব্যবহারের অনুমোদন দেয় ইরান।

করোনা টিকার বিষয়ে এর আগে ইরানের পক্ষ থেকে বলা হয়, দেশের ৮ কোটি ৩০ লাখ জনগোষ্ঠীর জন্য টিকা আমদানি করতে বেগ পেতে হচ্ছে। দেশটির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ থাকায় বিদেশি প্রতিষ্ঠানে অর্থ স্থানান্তর কঠিন হয়ে পড়েছে।

চলতি বছরের জানুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য উদ্ভাবিত করোনার টিকা আমদানি নিষিদ্ধ করেন খামেনি। ওইসব টিকা দেশকে ‘দূষিত’ করতে পারে বলে সে সময় মন্তব্য করেছিলেন তিনি।

করোনা মহামারির ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে ইরান। ভাইরাসটিতে আক্রান্ত ৩১ লাখ ইরানির মধ্যে এখন পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে ৮৩ হাজার ৫০০ জনের বেশি মানুষের।

ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়া করোনার টিকাদান কার্যক্রমের আওতায় ৪৪ লাখের বেশি মানুষ টিকার প্রথম ডোজ নিয়েছে।

এ মুহূর্তে করোনাভাইরাস প্রতিরোধে নিজেদের উদ্ভাবিত আরও চারটি টিকার ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল চলছে ইরানে।

আরও পড়ুন:
ইরাক সফর শেষ করলেন পোপ
আইএসের গুঁড়িয়ে দেয়া গির্জায় যাবেন পোপ
‘সভ্যতার আঁতুড়ঘরে’ যাচ্ছেন পোপ
ইরাকে যাচ্ছেন পোপ
বিশপ পরিষদে এই প্রথম নারী

শেয়ার করুন

শিগগির করোনার টিকা বানাবে পাকিস্তান

শিগগির করোনার টিকা বানাবে পাকিস্তান

পাকিস্তান নিজস্ব টিকা তৈরি করতে সফল হবে বলে দাবি করেছেন লাহোরের ইউভিএএস অধ্যাপক ড. তাহির ইয়াকুব। ছবি: সংগৃহীত

লাহোরের ইউভিএএসের অধ্যাপক ড. তাহির ইয়াকুব বলেন, ‘আমরা প্রথম নিজস্ব টিকার ট্রায়ালের ফলের অপেক্ষায় রয়েছি। দ্বিতীয় ধাপে বানরের ওপর পরীক্ষামূলক প্রয়োগ করা হবে টিকাটি। খুব শিগগির পাকিস্তান নিজস্ব করোনাভাইরাস টিকা তৈরি করতে সফল হবে।

পাকিস্তান করোনাভাইরাস প্রতিরোধে নিজস্ব টিকা তৈরি করতে সফল হবে বলে দাবি করেছেন লাহোরের ভেটেরিনারি অ্যান্ড অ্যানিম্যাল সায়েন্সেস ইউনিভার্সিটির (ইউভিএএস) অধ্যাপক ড. তাহির ইয়াকুব।

এ বিষয়ে ড. তাহির জানিয়েছেন, পরীক্ষামূলকভাবে একটি খরগোশকে করোনার টিকাটি প্রয়োগ করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা প্রথম নিজস্ব টিকার ট্রায়ালের ফলের অপেক্ষায় রয়েছি। দ্বিতীয় ধাপে বানরের ওপর পরীক্ষামূলক প্রয়োগ করা হবে টিকাটি।’

দেশটির সংবাদমাধ্যম জিও নিউজকে তিনি বলেন, ‘খুব শিগগির পাকিস্তান নিজস্ব করোনাভাইরাস টিকা তৈরি করতে সফল হবে।’

দ্য নেশনের বরাত দিয়ে জিও নিউজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউভিএএস পাকিস্তানের নিজস্ব করোনাভাইরাস টিকা তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে।

এ বিষয়ে একটি প্রস্তাবনা ইউএভিএস কর্মকর্তারা পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী উসমান বুজদারকে দিয়েছেন। টিকা প্রস্তুতের জন্য ১০ কোটি রুপি তহবিল বরাদ্দ দিতে সম্মত হয়েছেন মন্ত্রী।

ইউভিএএসের পরিচালক ড. তাহির বলেন, ‘আমরা টিকা তৈরির জন্য ছয় মাসের সময়সীমা চেয়েছি। টিকা উদ্ভাবনের জন্যে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়টিতে।’

বিশ্বের অধিকাংশ দেশেই করোনাভাইরাস প্রতিরোধী টিকা কার্যক্রম শুরু হয়ে গেলেও এ বিষয়ে তেমন কোনো আলাপ-আলোচনা নেই পাকিস্তানে। এমন অবস্থায় দেশটিকে টিকা সহায়তা দিতে এগিয়ে এসেছে চীন।

চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র হুয়া চুইং গত ২৩ জানুয়ারি জানান, তাদের সরকার ইসলামাবাদকে উপহার হিসেবে কিছু টিকা দেবে। সেই সঙ্গে পাকিস্তানে টিকা রপ্তানির প্রক্রিয়া দ্রুততর করতে চীনের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে তাড়া দেবে।

এ বিষয়ে শুক্রবার এক সংবাদ সম্মেলনে চুইং বলেন, ‘কোভিড-১৯ মহামারির শুরু থেকেই অসুবিধাগুলো উত্তরণে আমরা একসঙ্গে কাজ করছি।

বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার বন্ধুপ্রতীম ছয়টি দেশে ভারত উপহার হিসেবে করোনা প্রতিরোধী টিকা পাঠানো পর পাকিস্তানকে টিকা সহায়তা দেয়ার খবর দিল চীন।

অন্যদিকে, গ্লোবাল অ্যালায়েন্স ফর ভ্যাকসিন্স অ্যান্ড ইমিউনাইজেশন (গ্যাভি) কর্মসূচির আওতায় ভারতে উৎপাদিত করোনাভাইরাসের টিকার সাড়ে ৪ কোটি ডোজ যাচ্ছে পাকিস্তানে।

চলতি মাসেই টিকা পাকিস্তানে পৌঁছাবে বলে পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটিকে গত ১০ মার্চ জানিয়েছেন দেশটির ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিসের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি আশরাফ খাওয়াজা।

আরও পড়ুন:
ইরাক সফর শেষ করলেন পোপ
আইএসের গুঁড়িয়ে দেয়া গির্জায় যাবেন পোপ
‘সভ্যতার আঁতুড়ঘরে’ যাচ্ছেন পোপ
ইরাকে যাচ্ছেন পোপ
বিশপ পরিষদে এই প্রথম নারী

শেয়ার করুন

ভারতের তৈরি প্রথম বিমানবাহী রণতরী ‘আইএনএস বিক্রান্ত’

ভারতের তৈরি প্রথম বিমানবাহী রণতরী ‘আইএনএস বিক্রান্ত’

আইএনএস বিক্রান্ত ভারতের ৭৫তম স্বাধীনতা দিবসে আগামী বছর সমুদ্রে নামবে। ছবি: সংগৃহীত

আইএনএস বিক্রান্তের নির্মাণ ব্যয় ২৪ হাজার কোটি টাকা। এর দৈর্ঘ্য ২৮২ মিটার, প্রস্থ ৬২ মিটার। এই রণতরীতে একসঙ্গে ২৫-৪০ টি এয়ারক্রাফট থাকতে পারবে। এতে রয়েছে দুটি ৩২ সেল যুক্ত ভার্টিকাল লঞ্চ সিস্টেম, যেখান থেকে ৬২টি মিসাইল ছোড়া সম্ভব।

অবশেষে সব বাধা পেরিয়ে সমুদ্রে নামতে চলেছে ভারতে তৈরি প্রথম এয়ারক্রাফট কেরিয়ার ‘আইএনএস বিক্রান্ত’।

পরিকল্পনা শুরু হয়েছিল ৩০ বছর আগে। কাজ শুরু হয় ১৯৯৯ সালে। তারপর নানা কারণে পিছিয়ে যেতে থাকে কয়েক হাজার কোটি টাকার এই প্রকল্প।

তার মধ্যে কোভিডের দাপাদাপিতে নতুন করে ধাক্কা খায় প্রকল্পের অগ্রগতি। ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং শুক্রবার জানিয়েছেন, আগামী বছরেই শত্রু মোকাবিলায় সমুদ্রে নামবে এটি।

‘আইএনএস বিক্রান্ত’ ইন্ডিজেনাস এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ার ১ বা আইএসি-১ নামেও পরিচিত। কেরলের কোচি শিপইয়ার্ড লিমিটেডে নির্মিত হয়েছে এই যুদ্ধবিমানবাহী রণতরী।

কোচিতে সেই এয়ারক্রাফট কেরিয়ারের নির্মাণকাজ পরিদর্শন করে রাজনাথ সিং জানিয়েছেন, আগামী বছরই সমুদ্রে নামবে এই রণতরী। একই সময়ে ভারতের স্বাধীনতার ৭৫ বছরে পূর্ণ হবে। এই উপলক্ষে দেশের নৌবাহিনীতে যুক্ত হতে যাচ্ছে আইএনএস বিক্রান্ত।

২৪ হাজার কোটি টাকার এই প্রকল্প সম্পূর্ণ করার লক্ষ্য ছিল ২০১৮ সালে। কিন্তু নানা কারণে তা পিছিয়ে যায়। নৌবাহিনী সূত্রে খবর, ২০২০ সালের নভেম্বরে ট্রায়াল সম্পূর্ণ হয়েছে। এই রণতরীর ৪০ হাজার টন ওজন বহন করতে পারবে।

১৯৯৯ সালে তৎকালীন প্রতিরক্ষামন্ত্রী জর্জ ফার্নান্ডেজের তত্ত্বাবধানে প্রথম এই প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। ২০১১ সালে এর নির্মাণ কাজ মোটামুটিভাবে শেষ হয়। ২০১৩ সালের ১২ আগস্ট প্রথম জলে নামানো হয় এই রণতরীটিকে।

নৌবাহিনী সূত্রে জানা গিয়েছে, এ পর্যন্ত ভারতে যত রণতরী তৈরি হয়েছে তার মধ্যে এর নকশা সব চেয়ে জটিল। এটি দৈর্ঘ্যে ২৮২ মিটার, প্রস্থে ৬২ মিটার। এই রণতরীতে একসঙ্গে ২৫-৪০ টি এয়ারক্রাফট থাকতে পারবে। এই রণতরীতে যে যুদ্ধাস্ত্র আছে তাতে যে কোনও ধরনের রণকৌশলের সঙ্গে মোকাবিলা করতে পারবে। এতে রয়েছে দুটি ৩২ সেল যুক্ত ভার্টিকাল লঞ্চ সিস্টেম, যেখান থেকে ৬২টি মিসাইল ছোড়া সম্ভব। ইজরায়েলের তৈরি বারাক ওয়ান মিসাইল সিস্টেমও থাকবে আইএনএস বিক্রান্তে।

আরও পড়ুন:
ইরাক সফর শেষ করলেন পোপ
আইএসের গুঁড়িয়ে দেয়া গির্জায় যাবেন পোপ
‘সভ্যতার আঁতুড়ঘরে’ যাচ্ছেন পোপ
ইরাকে যাচ্ছেন পোপ
বিশপ পরিষদে এই প্রথম নারী

শেয়ার করুন

জলে ভাসতে যাচ্ছে ভারতে তৈরি প্রথম যুদ্ধবিমানবাহী রণতরী

জলে ভাসতে যাচ্ছে ভারতে তৈরি প্রথম যুদ্ধবিমানবাহী রণতরী

এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ার ‘আইএনএস বিক্রান্ত’।

নৌবাহিনী সূত্রে জানা গেছে, এ পর্যন্ত ভারতে যত রণতরী তৈরি হয়েছে এর মধ্যে এটির ডিজাইন সবচেয়ে জটিল। এটি দৈর্ঘ্যে ২৮২ মিটার, প্রস্থে ৬২ মিটার। রণতরীতে একসঙ্গে ২৫-৪০টি এয়ারক্রাফট থাকতে পারবে।

পরিকল্পনা শুরু হয়েছিল ৩০ বছর আগে। অবশেষে সব বাধা পেরিয়ে জলে নামতে চলেছে ভারতে তৈরি প্রথম এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ার ‘আইএনএস বিক্রান্ত’।

রণতরীটির নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছিল ১৯৯৯ এ। এরপর নানা কারণে পিছিয়ে যেতে থাকে কয়েক হাজার কোটি টাকার এই প্রকল্প। এর মধ্যে কোভিডের দাপাদাপিতে নতুন করে ধাক্কা খায় প্রকল্পের অগ্রগতি। ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং শুক্রবার জানিয়েছেন, আগামী বছরই শত্রু মোকাবিলায় সমুদ্রে নামবে রণতরীটি।

‘আইএনএস বিক্রান্ত’ ইন্ডিজেনাস এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ার ১ বা আইএসি-১ নামেও পরিচিত। কেরলের কোচি শিপইয়ার্ড লিমিটেডে নির্মিত হয়েছে এই যুদ্ধবিমানবাহী রণতরী। কোচিতে ওই এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ারের নির্মাণকাজ পরিদর্শন করে রাজনাথ সিং বলেন, ‘আগামী বছরই জলে নামবে এই রণতরী। আগামী বছর ভারতের স্বাধীনতার ৭৫ বছর পূর্ণ হবে। এ উপলক্ষে দেশের নৌবাহিনীতে বড় একটি সাফল্যের ঘোষণা হতে চলেছে।’

২৪ হাজার কোটি টাকার এই প্রকল্প শেষ করার লক্ষ্য ছিল ২০১৮ এ। তবে নানা কারণে সেটি পিছিয়ে যায়। নৌবাহিনীর একটি সূত্র জানিয়েছে, ২০২০ সালের নভেম্বরে রণতরীটির ট্রায়াল শেষ হয়েছে। এই রণতরীর ৪০ হাজার টন ওজন বহন করার ক্ষমতা থাকবে বলে জানা গেছে।

১৯৯৯ সালে তৎকালীন প্রতিরক্ষামন্ত্রী জর্জ ফার্নান্ডেজের তত্ত্বাবধানে প্রথম এই প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। ২০১১ সালে এর নির্মাণকাজ মোটামুটিভাবে শেষ হয়। ২০১৩-র ১২ আগস্ট প্রথম জলে নামানো হয় রণতরীটিকে।

নৌবাহিনী সূত্রে জানা গেছে, এ পর্যন্ত ভারতে যত রণতরী তৈরি হয়েছে এর মধ্যে এটির ডিজাইন সবচেয়ে জটিল। এটি দৈর্ঘ্যে ২৮২ মিটার, প্রস্থে ৬২ মিটার। রণতরীতে একসঙ্গে ২৫-৪০টি এয়ারক্রাফট থাকতে পারবে।

এই রণতরীতে যে যুদ্ধাস্ত্র আছে সেটি যে কোনো ধরনের রণকৌশলের সঙ্গে মোকাবিলা করতে পারবে। এতে রয়েছে দুটি ৩২ সেল যুক্ত ভার্টিকাল লঞ্চ সিস্টেম, যেখান থেকে ৬২টি মিসাইল ছোড়া সম্ভব। ইজরায়েলের তৈরি বারাক ওয়ান মিসাইল সিস্টেমও থাকবে আইএনএস বিক্রান্তে।

আরও পড়ুন:
ইরাক সফর শেষ করলেন পোপ
আইএসের গুঁড়িয়ে দেয়া গির্জায় যাবেন পোপ
‘সভ্যতার আঁতুড়ঘরে’ যাচ্ছেন পোপ
ইরাকে যাচ্ছেন পোপ
বিশপ পরিষদে এই প্রথম নারী

শেয়ার করুন

মোবাইলে ৫ মিনিটের বেশি কথা বললে কর

মোবাইলে ৫ মিনিটের বেশি কথা বললে কর

পাঁচ মিনিটেরও বেশি সময় মোবাইল ফোনে টানা কথা বললে তার ওপর কর আরোপ করবে পাকিস্তান সরকার। ছবি: সংগৃহীত

অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, ‘মোবাইলে পাঁচ মিনিটের বেশি কথা বললে ৭৫ পয়সা বেশি হারে সম্পূরক শুল্ক দিতে হবে। তবে এসএমএস এবং মোবাইল ফোনে ইন্টারনেট ব্যবহারের ওপর কোনো শুল্ক থাকছে না।’

পাঁচ মিনিটেরও বেশি সময় মোবাইল ফোনে টানা কথা বললে তার ওপর কর আরোপ করবে পাকিস্তান সরকার।

জাতীয় পরিষদের অধিবেশনে ২০২১-২২ অর্থবছরের বাজেটের ওপর বিতর্ক শেষে প্রধান অতিথির বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী শওকত তারিন এই ঘোষণা দেন।

ডেপুটি স্পিকার কাসিম সুরির সভাপতিত্বে এই অধিবেশনে রাজস্ব আদায়ের বিষয়ে সিনেটর ও বিরোধী দলের আইনপ্রণেতাদের সুপারিশের জবাবে এ ঘোষণা দেন অর্থমন্ত্রী ।

অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, ‘মোবাইলে পাঁচ মিনিটের বেশি কথা বললে ৭৫ পয়সা বেশি হারে সম্পূরক শুল্ক দিতে হবে। তবে এসএমএস এবং মোবাইল ফোনে ইন্টারনেট ব্যবহারের ওপর কোনো শুল্ক থাকছে না।’

দেশটির সংবাদমাধ্যম জিও নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান ও মন্ত্রিসভা মোবাইলে কথা বলার ওপর বাড়তি সারচার্জ আরোপের বিপক্ষে থাকলেও অর্থমন্ত্রীর কাছ থেকে হঠাৎই এমন ঘোষণা এসেছে।

দেশটির সরকার তার উচ্চাভিলাষী রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ৫ হাজার ৮০০ বিলিয়ন রুপি নির্ধারণ করেছে এবং মন্ত্রী জানান তাদের নেয়া সুপারিশ কার্যকর হলে ১২ ধরনের বকেয়া কর থেকে মুক্তি পাবে সরকার।

মোবাইলে ৫ মিনিটের বেশি কথা বললে কর

পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদের অধিবেশনে বাজেটের ওপর আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন অর্থমন্ত্রী শওকত তারিন। ছবি: সংগৃহীত

তিনি আরও জানান, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের হেনস্তার কারণে অনেক করদাতা তাদের রিটার্ন জমা দেয়া থেকে বিরত থাকেন। এক্ষেত্রে তিনি একটি নিরপেক্ষ তৃতীয় পক্ষের কাছে কর আদায়ের দায়িত্ব স্থানান্তরের কথা জানান।

আরও পড়ুন:
ইরাক সফর শেষ করলেন পোপ
আইএসের গুঁড়িয়ে দেয়া গির্জায় যাবেন পোপ
‘সভ্যতার আঁতুড়ঘরে’ যাচ্ছেন পোপ
ইরাকে যাচ্ছেন পোপ
বিশপ পরিষদে এই প্রথম নারী

শেয়ার করুন

করোনার নয়, হামের টিকা নিয়েছিলেন মিমি

করোনার নয়, হামের টিকা নিয়েছিলেন মিমি

করোনার বদলে হামের টিকা নিয়ে প্রতারণার শিকার হন পশ্চিমবঙ্গের সাংসদ ও অভিনেত্রী মিমি চক্রবর্তী। ছবি: সংগৃহীত

টিকাকরণে উৎসাহ দিতে ওই শিবির থেকে টিকা নেন যাদবপুরের সাংসদ মিমি চক্রবর্তী। কিন্তু টিকা নেয়ার মেসেজ তার ফোনে না আসায় সন্দেহ হয়। মিমি পুলিশকে জানালে ভুয়া টিকাকরণের বিষয়টি সামনে চলে আসে।

কলকাতা পুরসভার নামে করোনাভাইরাস সংক্রমণের ভুয়া প্রতিষেধক শিবির চালানোর অভিযোগে গ্রেপ্তার ভুয়া আইএএস কর্মকর্তা দেবাঞ্জন দেবকে জেরা করে একাধিক চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছেন তদন্তকারীরা। করোনার বদলে হাম বা বিসিজির টিকা নিয়ে প্রতারণার শিকার হন পশ্চিমবঙ্গের সাংসদ ও অভিনেত্রী মিমি চক্রবর্তীসহ অনেকে।

এ নিয়ে দেবাঞ্জন দেবের সঙ্গে শাসক দলের নেতা-মন্ত্রীদের একসঙ্গে উপস্থিতির ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করে এ ঘটনায় তৃণমূল যোগের অভিযোগ তুলে সরব হয়েছে বিজেপি।

ভুয়া টিকা শিবিরে কোভিশিল্ড বা কোভ্যাক্সিন নয়, তার বদলে বিসিজি বা হামের টিকা দেয়া হয়েছে বলে তদন্তকারীরা প্রাথমিকভাবে অনুমান করছেন।

এ প্রসঙ্গে বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ বলেন, 'এ রাজ্যে সবকিছু বেআইনিভাবে চলে, তা থেকে টাকা কামানোও হয় । এসবের মধ্যে তৃণমূলের নেতারাও যুক্ত। একজন সাংসদ কীভাবে এসব খোঁজখবর না নিয়ে গেলেন?'

কলকাতায় টিকা জালিয়াতি নিয়ে রাজ্য তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ বলেন, ‘কলকাতাসহ সারা রাজ্যে টিকা দেয়ার কাজ সন্তোষজনক। একজন অপরাধ করেছে। পুলিশ ব্যবস্থা নেবে।

‘নেতাদের সঙ্গে ছবি কিছু প্রমাণ করে না। তাহলে সামাজিক অনুষ্ঠানে গিয়ে সবার পরিচয় যাচাই করতে হয়।’

টানা ১০ দিন কলকাতা পুরসভার নামে কসবায় বিনা মূল্যে করোনার টিকাকরণের শিবির চালাচ্ছিলেন দেবাঞ্জন।

টিকাকরণে উৎসাহ দিতে ওই শিবির থেকে টিকা নেন যাদবপুরের সাংসদ মিমি চক্রবর্তী। কিন্তু টিকা নেয়ার মেসেজ তার ফোনে না আসায় সন্দেহ হয়।

মিমি পুলিশকে জানালে ভুয়া টিকাকরণের বিষয়টি সামনে চলে আসে।

তদন্তে নেমে দেবাঞ্জনকে জেরা করে পুলিশ জানতে পেরেছে, শুধু কসবা নয়, আমহার্স্ট স্ট্রিট সিটি কলেজেও দেবাঞ্জন একই রকম ভুয়া টিকাকরণের শিবির করেছিলেন।

কলকাতা পুরসভার নামে বেআইনি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলেছিলেন দেবাঞ্জন। ভারত সরকারের স্টিকার, নীল বাতি লাগানো সাদা টয়োটা গাড়ি চড়ে ঘুরে বেড়াতেন দেবাঞ্জন। এলাকায় প্রভাবশালী পরিচিত ছিলেন বলে পুলিশ জানতে পেরেছে।

দেবাঞ্জনের কাছ থেকে কলকাতা পুরসভার সিলমোহর, প্যাড, অন্যান্য কাগজপত্র এবং তার কসবার নিউমার্কেটের অফিস থেকে ভুয়া টিকা বাজেয়াপ্ত করেছেন তদন্তকারীরা।

প্রায় ২৫ লাখ টাকা মূল্যের মাস্ক, স্যানিটাইজার, হ্যান্ডওয়াশ ও অক্সিমিটার দেবাঞ্জন মজুত করেছিলেন পরে চড়া দামে বিক্রি করবেন বলে।

যে ক্ষুদ্র ঋণ সংস্থার কাছ থেকে পুরসভার নাম ভাঙিয়ে ঋণ নিয়েছিলেন দেবাঞ্জন, সে সংস্থা তালতলা থানায় অভিযোগ করেছে।

টিকা দেয়ার জন্য ১৩ জনের একটি দল গঠন করেছিলেন দেবাঞ্জন। এ দলে কারা ছিলেন, তারা ডাক্তার নাকি নার্স, এসব জানার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা।

শুক্রবার লালবাজারের তদন্তকারী কর্মকর্তা দেবাঞ্জনের কাছ থেকে জানতে চেষ্টা করবেন এ প্রতারণা চক্রের সঙ্গে আর কারা, কীভাবে যুক্ত। টিকার ভায়াল এল কোথা থেকে এবং আর কোথাও এমন ভুয়া শিবির চলছে কি না।

বাগরি মার্কেট থেকে কিনে এনে নকল স্টিকার লাগানো টিকার ভায়ালে কী ছিল, তা জানতে পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়েছে।

বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে, কলকাতা পুলিশ ও পুরসভার নজর এড়িয়ে ভুয়া টিকাকরণের এমন শিবির এতদিন ধরে চলল কী করে।

এদিকে ভুয়া টিকা নেয়া ব্যক্তিদের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া জানতে কলকাতা পুরসভা তাদের শারীরিক পরীক্ষা করছে।

ভুয়া টিকা নেয়া মিমি চক্রবর্তী শুক্রবার পরীক্ষা করাবেন বলে জানা গেছে।

আরও পড়ুন:
ইরাক সফর শেষ করলেন পোপ
আইএসের গুঁড়িয়ে দেয়া গির্জায় যাবেন পোপ
‘সভ্যতার আঁতুড়ঘরে’ যাচ্ছেন পোপ
ইরাকে যাচ্ছেন পোপ
বিশপ পরিষদে এই প্রথম নারী

শেয়ার করুন

চড়া দামে জাল টিকা বিক্রির অভিযোগ

চড়া দামে জাল টিকা বিক্রির অভিযোগ

কলকাতায় দেবাঞ্জন দেবের বিরুদ্ধে ভুয়া টিকা বিক্রির অভিযোগ ওঠে। ছবি: হিন্দুস্তান টাইমস

কলকাতা পুরসভার হাতে আসা এক নথিতে দেখা যায়, সরলা ডেভেলপমেন্ট মাইক্রোফিন্যান্স প্রাইভেট লিমিটেড নামের আর্থিক সংস্থাকে ১৭১টি করোনার টিকা বিক্রি করেছিলেন দেবাঞ্জন, যার দাম বাবদ ১.১১ লাখ টাকা দেবাঞ্জনকে দিয়েছিল সংস্থাটি।

কলকাতার কসবায় ভুয়া টিকাকরণ কেন্দ্র চালানোয় অভিযুক্ত দেবাঞ্জন দেবের বিরুদ্ধে ভুয়া টিকা বিক্রির অভিযোগ উঠেছে।

একটি আর্থিক সংস্থাকে চড়া মূল্যে ১৭১টি করোনার টিকা বিক্রি করেছিলেন দেবাঞ্জন। সেই টিকা আসল না নকল, তা খতিয়ে দেখছেন গোয়েন্দারা।

হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদনে শুক্রবার এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

কলকাতা পুরসভার হাতে আসা এক নথিতে দেখা যায়, সরলা ডেভেলপমেন্ট মাইক্রোফিন্যান্স প্রাইভেট লিমিটেড নামের আর্থিক সংস্থাকে ১৭১টি করোনার টিকা বিক্রি করেছিলেন দেবাঞ্জন, যার দাম বাবদ ১.১১ লাখ টাকা দেবাঞ্জনকে দিয়েছিল সংস্থাটি।

সেই টিকা জাল বলেই অনুমান তদন্তকারীদের। সঙ্গে আর কোনো সংস্থাকে দেবাঞ্জন এভাবে টিকা বিক্রি করেছিল কি না তা খতিয়ে দেখছেন গোয়েন্দারা।

এই চক্রে রাজ্য সরকার বা কলকাতা পুরসভার কোনো আধিকারিক যুক্ত কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

সপ্তাহ কয়েক আগে কসবায় নিজের অফিসের কর্মীদের টিকা দেন দেবাঞ্জন। তাদের স্পুতনিক ভি টিকা দেয়া হয় বলে দাবি।

তবে গোয়েন্দাদের প্রশ্ন, স্পুতনিক ভি টিকা দেবাঞ্জন পেলেন কোথা থেকে? কারণ কয়েক সপ্তাহ ধরে কলকাতায় পরীক্ষামূলকভাবে ওই টিকা দেয়া হচ্ছে। শহরে পৌঁছেছে অল্প কিছু টিকা। সেই টিকাও জাল বলেই মনে করছেন তদন্তকারীরা।

টিকা নেয়ার পর কর্মীদের কাছে কোনো এসএমএস পৌঁছায়নি বলে দাবি করেছেন তারা।

আরও পড়ুন:
ইরাক সফর শেষ করলেন পোপ
আইএসের গুঁড়িয়ে দেয়া গির্জায় যাবেন পোপ
‘সভ্যতার আঁতুড়ঘরে’ যাচ্ছেন পোপ
ইরাকে যাচ্ছেন পোপ
বিশপ পরিষদে এই প্রথম নারী

শেয়ার করুন