তৃণমূলের সর্বভারতীয় সম্পাদক হলেন অভিষেক

তৃণমূলের সর্বভারতীয় সম্পাদক হলেন অভিষেক

শনিবার ভাইপো অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সম্পাদক করেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ছবি: পিটিআই

পশ্চিমবঙ্গের এবারের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের বিপুল জয়ে তৃণমূল নেত্রী মমতার পাশাপাশি নেপথ্য নায়ক হিসেবে অভিষেকের নামও উঠে আসে। খোদ মমতা ভাইপোকে এই জয়ের কৃতিত্ব দিয়েছেন।

তৃণমূল ভবনে তৃণমূলের সাংগঠনিক বৈঠকে শনিবার অন্যান্য রদবদলের পাশাপাশি গুরত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি নিজের ভাইপো অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সম্পাদকের পদে বসিয়েছেন।

অভিষেককে এখন আর সেকেন্ড-ইন-কমান্ড বলতে অসুবিধা নেই। এ নিয়ে অভিষেকের অনুগামীদের মধ্যে খুশির হাওয়া বইছে।

পশ্চিমবঙ্গের এবারের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের বিপুল জয়ে তৃণমূল নেত্রী মমতার পাশাপাশি নেপথ্য নায়ক হিসেবে অভিষেকের নামও উঠে আসে। খোদ মমতা ভাইপোকে এই জয়ের কৃতিত্ব দিয়েছেন।

পিসির ভাইপো তকমা সরাতে অভিষেকও প্রকৃত নেতার মতো সারা রাজ্য চষে বেড়িয়েছেন। বিরোধীদের তোপের মুখে পড়েও ভাইপো ইস্যুতে অভিষেক পাল্টা আক্রমণ করেছেন।

এবারের ভোট শুধু মমতা নয়, অভিষেকের কাছেও ছিল অগ্নিপরীক্ষার। ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে ভরাডুবির পর ভোট-কুশলী প্রশান্ত কিশোরকে আনেন অভিষেক। মমতার সম্মতিতে প্রশান্ত কিশোর কাজ শুরু করলে দলে বিদ্রোহ দেখা দেয়।

একের পর এক বিধায়ক-সাংসদ ভোটের আগে দল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেন। বিজেপির নেতা থেকে শুরু করে তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেয়া নেতারাও তীব্র আক্রমণ করেন মমতা ও অভিষেককে।

তৃণমূল কংগ্রেস প্রশান্ত কিশোরের উপস্থিতিতে লিমিটেড কোম্পানিতে পরিণত হয়েছে বলে কটাক্ষ করেন তারা।

সিবিআই অভিষেকের স্ত্রীকে জেরা পর্যন্ত করতে চলে যায় বাড়িতে। ঠাণ্ডা মাথায় সব প্রশ্নের উত্তর দেন অভিষেক। নির্বাচনে জয়ের লক্ষ্যে মমতার পাশে যোগ্য সংগত করেন তৃণমূলের যুবনেতা অভিষেক।

পুরস্কার হিসেবে পিসির থেকে পেলেন মুকুল রায়ের ছেড়ে যাওয়া তৃণমূলের সর্বভারতীয় সম্পাদকের পদ।

পদ দিয়ে তৃণমূল নেত্রী অভিষেককে আরও বড় চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছেন।

সূত্রের খবর, ‘এক ব্যক্তি এক পদ' নীতি মেনে অভিষেককে ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের কথা মাথায় রেখে এ দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। যুব সভাপতির পদে অভিষেক ইস্তফা দিয়েছেন।

শনিবারের তৃণমূলের কোর কমিটির বৈঠকে ছিলেন সুব্রত বক্সী, পার্থ চট্টোপাধ্যায়, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, কাকলি ঘোষ দস্তিদার, ফিরহাদ হাকিম, গৌতম দেব, অরূপ বিশ্বাস, সুব্রত মুখোপাধ্যায়, শোভন দেব চট্টোপাধ্যায়।

সংগঠনকে মজবুত করতে বৈঠকে তৃণমূল নেত্রীর অন্যান্য সিদ্ধান্তের মধ্যে আছে দলের মুখপাত্র কুনাল ঘোষকে রাজ্য তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক, কাকলি ঘোষ দস্তিদারকে সর্বভারতীয় মহিলা তৃণমূলের সভানেত্রী ও তৃণমূলের সাংস্কৃতিক সভাপতি হিসেবে রাজ চক্রবর্তীকে নিয়োগ দেয়া।

এ ছাড়া বৈঠকে বঙ্গজননী সভাপতি করা হয়েছে মালা রায়কে। সর্বভারতীয় সভাপতি হিসেবে দোলা সেন ও রাজ্য সম্পাদকের পদ দেয়া হয়েছে সায়ন্তি বন্দ্যোপাধ্যায়কে। যুব তৃণমূলের নতুন সভাপতি হয়েছেন সায়নী ঘোষ। এ ছাড়া নয় জেলার তৃণমূলের সভাপতি পদে রদবদল করা হয়েছে।

বৈঠকে তৃণমূল নেত্রী বলেন, ‘দলে “এক পদ এক ব্যক্তি” কার্যকর করতে হবে। কোনো মন্ত্রী গাড়িতে লাল বাতি ব্যবহার করতে পারবেন না। দুর্নীতিতে যেন কারো নাম না জড়ায়।

‘কয়লা পাচার, বালি পাচারে কোনো নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ যেন না ওঠে। দুয়ারে ত্রাণ নিয়ে অভিযোগ উঠলে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেয়া হবে। স্বচ্ছতা বজায় রেখে সরকারি প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে হবে। সোশ্যাল মিডিয়ায় যখন যা খুশি বলা যাবে না।'

আরও পড়ুন:
মমতার দলে আলাপন, শোকজ কেন্দ্রের
দিল্লি যাননি আলাপন, মোদিকে মমতার চিঠি
আলাপনের বদলি ঘিরে ভারতে কেন্দ্র-রাজ্য সংঘাত তুঙ্গে
নারদা কাণ্ড: চার নেতা-মন্ত্রীর জামিন
করোনা বিধিনিষেধ বাড়ল পশ্চিমবঙ্গে

শেয়ার করুন

মন্তব্য