১৪ জুন নতুন প্রধানমন্ত্রী পেতে পারে ইসরায়েল

১৪ জুন নতুন প্রধানমন্ত্রী পেতে পারে ইসরায়েল

আস্থা ভোটে জিতলে ইসরায়েলের নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেবেন নাফতালি বেনেট। ছবি: এএফপি

নেসেটের স্পিকার ইয়ারিভ লেভিন এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনে স্পিকারের ঘোষণার পর সরকার গঠনের মৌলিক নীতিমালা অনুযায়ী বেঁধে দেয়া সময়ের মধ্যে বিতর্কের তারিখ নির্ধারণ করা হবে এবং সরকার প্রতিষ্ঠায় ভোট হবে।’

ইসরায়েলে নতুন সরকার গঠনে অনুমতি দিতে পার্লামেন্ট নেসেটে সোমবার বসবে অধিবেশন। সব ঠিক থাকলে ১৪ জুন হবে আস্থা ভোট। এতে জোট সরকারের পক্ষে রায় গেলে সেদিনই শপথ নিতে পারেন নতুন প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেট।

নেসেটের স্পিকার ইয়ারিভ লেভিন শুক্রবার এমন ঘোষণা দিয়েছেন।

এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনে স্পিকারের ঘোষণার পর সরকার গঠনের মৌলিক নীতিমালা অনুযায়ী বেঁধে দেয়া সময়ের মধ্যে বিতর্কের তারিখ নির্ধারণ করা হবে এবং সরকার প্রতিষ্ঠায় ভোট হবে।’

টাইমস অফ ইসরায়েলের প্রতিবেদনে জানানো হয়, এ ঘোষণা পার্লামেন্টে উপস্থাপনের সাত দিনের মধ্যে নতুন সরকারের ওপর আস্থা ভোট হওয়ার কথা। এ হিসাবে আস্থা ভোটের সম্ভাব্য তারিখ ১৪ জুন বলে মনে করা হচ্ছে।

যেকোনো মূল্যে এটি টেকানোর ঘোষণা দিয়েছে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ও ইসরায়েলের সবচেয়ে দীর্ঘমেয়াদি সরকারপ্রধান বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর দল লিকুদ পার্টি।

ইসরায়েলি দৈনিক হারেৎজের প্রতিবেদনে বলা হয়, স্পিকার লেভিন ক্ষমতাসীন লিকুদ পার্টির নেতা ও নেতানিয়াহুর সহযোগী বলে শঙ্কিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীকে উৎখাতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ বিরোধী দলগুলোর আইনপ্রণেতারা।

তাদের শঙ্কা, সংবিধান উপেক্ষা করে নতুন সরকার গঠন প্রক্রিয়া বিলম্বিত করার চেষ্টা করতে পারেন লেভিন।

এ অবস্থায় নতুন সরকার ক্ষমতা নেয়ার আগেই লেভিনকে সরিয়ে নতুন স্পিকার নিয়োগের কথাও ভাবছে নেতানিয়াহুবিরোধী জোট।

কিন্তু ইসরায়েলের আইন অনুযায়ী, নতুন সরকার শপথ নেয়ার পর পার্লামেন্টে নতুন স্পিকার নির্বাচন করা হয়।

এমন পরিস্থিতিতে নতুন সরকার গঠনের আগেই লেভিনকে স্পিকারের পদ থেকে সরাতে বৃহস্পতিবার তৎপরতা শুরু করেন জোটের প্রধান ইয়ার ল্যাপিড।

তিনি নিজ দল ইয়াশ আতিদের নেতা মিকি লেভিকে স্পিকার হিসেবে নিয়োগ দেয়ার চেষ্টা করলে আপত্তি জানায় জোটের অন্যতম প্রধান শরিক ইয়ামিনা পার্টি।

দলটির পক্ষ থেকে বলা হয়, নতুন সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পরই হবে স্পিকার পরিবর্তন।

এর পরপরই আবার ইয়াশ আতিদের সমর্থনে ‌আগেই স্পিকার পরিবর্তনের দাবি জানায় জোটের আরেক শরিক দল আরব-ইসরায়েলি রা’ম পার্টি।

এসব টানাপোড়েনের শেষটা নির্ভর করছে ১৪ জুন আস্থা ভোটের ওপর। আস্থা ভোটে জোট সরকার জয় না পেলে দুই বছরের মধ্যে পঞ্চম সাধারণ নির্বাচনের দিকে ধাবিত হবে ইসরায়েল।

ইসরায়েলের ঝুলন্ত রাজনীতি

গত দুই বছরে ইসরায়েলে চারটি সাধারণ নির্বাচন হয়েছে। কোনোবারই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি কোনো দল। জোট সরকার গঠনেও কোনো দল সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেনি বলে প্রতিবার নতুন সাধারণ নির্বাচনের দিকে ধাবিত হয়েছে দেশটি।

চলতি বছরের মার্চে সাধারণ নির্বাচনে সবচেয়ে বেশি আসন পেলেও সরকার গঠনের জন্য পার্লামেন্টে ন্যূনতম আসন নিশ্চিতে ব্যর্থ হয় ক্ষমতাসীন লিকুদ পার্টি।

দলটি জোট সরকার গঠনে ব্যর্থ হলে সুযোগ দেয়া হয় দ্বিতীয় সর্বাধিক ১৭টি আসন পাওয়া সাবেক অর্থমন্ত্রী ইয়ার ল্যাপিডের ইয়াশ আতিদ পার্টিকে।

নির্দিষ্ট সময় শেষ হওয়ার দিনই গত বুধবার বেনেটের দল ইয়ামিনা পার্টি ও আরও ছয়টি দলের সঙ্গে জোট গঠনে সফল হওয়ার ঘোষণা দেন জোটের প্রধান ল্যাপিড।

জোটের বাকি দলগুলো হলো আরব-ইসরায়েলি রা’ম পার্টি, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেনি গানৎজের মধ্যপন্থি ব্লু অ্যান্ড হোয়াইট, মধ্য-ডানপন্থি ও ডানপন্থি জাতীয়তাবাদী ইসরায়েল বেইতেইনু, সমাজতান্ত্রিক ও গণতন্ত্রপন্থি লেবার পার্টি, মধ্য-ডানপন্থি ও ডানপন্থি নিউ হোপ এবং বামপন্থি ও সমাজতান্ত্রিক-গণতান্ত্রিক মেরেৎজ।

সবগুলো দল মিলে সরকার গঠনে ১২০ আসনের পার্লামেন্টে ন্যূনতম ৬১টি আসন নিশ্চিত করেছে।

জোট গঠনে হওয়া চুক্তি অনুসারে, নাফতালি বেনেটের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রিত্ব ভাগ করে নেবেন ইয়ার ল্যাপিড। কারণ কৌশলগত দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ ছয় আসনে জয় পেয়ে শক্ত অবস্থানে আছে বেনেটের দল ইয়ামিনা পার্টি।

আস্থা ভোটে জয় পেলে সরকারের এক মেয়াদে পালাক্রমে প্রধানমন্ত্রী হবেন বেনেট ও ল্যাপিড। নতুন সরকারের মেয়াদের মাঝামাঝি সময়ে ২০২৩ সালের ২৭ আগস্ট ল্যাপিডের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করবেন বেনেট।

নেতানিয়াহুর দীর্ঘ শাসনকাল

২০০৯ সাল থেকে টানা প্রধানমন্ত্রী পদে আছেন নেতানিয়াহু। এর আগে ১৯৯৬ থেকে ১৯৯৯ সাল পর্যন্তও প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

সব মিলিয়ে ইসরায়েলের ৭৩ বছরের ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘমেয়াদি প্রধানমন্ত্রী ৭১ বছর বয়সী নেতানিয়াহু। আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগে বিচার চলছে তার বিরুদ্ধে।

এ অবস্থায় আদর্শগত অবস্থান থেকে এক না হলেও নেতানিয়াহুকে উৎখাতের লক্ষ্যে মরিয়া হয়ে এক কাতারে আসে ইসরায়েলের ডান, বাম ও মধ্যপন্থিরা।

আরও পড়ুন:
নেতানিয়াহুর পতনে বাকি এক ধাপ

শেয়ার করুন

মন্তব্য