নিরাপত্তা বাড়ছে পরিবহনমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমের

নারদাকাণ্ডে জামিনে মুক্ত তৃণমূল নেতা ও পরিবহনমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমের নিরাপত্তা জোরদার। ছবি: সংগৃহীত

নিরাপত্তা বাড়ছে পরিবহনমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমের

পরিবহনমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম দিনের অনেকটা সময় প্রশাসনিক কাজে পুরভবনে থাকেন। সেখানে বহু মানুষ প্রতিদিন যাওয়া আসা করেন। সে জন্য ফিরহাদের নিরাপত্তায় বিশেষ জোর দেয়া হচ্ছে।

নারদাকাণ্ডে অন্তর্বর্তী জামিনে মুক্ত তৃণমূল নেতা ফিরহাদ হাকিমের নিরাপত্তায় জোর দিচ্ছে পশ্চিমবঙ্গের পুলিশ প্রশাসন।

কলকাতা পৌর প্রশাসকমণ্ডলীর চেয়ারম্যান ও রাজ্য মন্ত্রিসভার সদস্য ফিরহাদ হাকিমের নিরাপত্তা জোরদার করতে শুক্রবার কলকাতা পুলিশ ও স্পেশাল ব্রাঞ্চের অফিসাররা পুরভবনে গিয়ে মন্ত্রীর নিরাপত্তা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখেন।

পরিবহনমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম দিনের অনেকটা সময় প্রশাসনিক কাজে পুরভবনে থাকেন। সেখানে বহু মানুষ প্রতিদিন যাওয়া আসা করেন। সে জন্য ফিরহাদের নিরাপত্তায় বিশেষ জোর দেয়া হচ্ছে বলে সূত্রের খবর।

পুরো ভবনে ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা বাড়ানোর পাশাপাশি পুলিশের নজরদারি বাড়ানো হবে। বিভিন্ন কাজে পুরভবনে আসা মানুষদের ওপর নজরদারি বাড়ানো হবে।

এদিকে নারদাকাণ্ডে ফিরহাদ হাকিম অন্য তিন অভিযুক্তের সঙ্গে শুক্রবার সকালে ব্যাঙ্কশাল কোর্টে হাজিরা দেন।

আইনজীবী অনিন্দ্য কিশোর রাউত জানান, জামিনের শর্ত মেনে চার নেতা- মন্ত্রী আদালতে হাজির হয়েছেন।পরবর্তী হাজিরার দিন পরে জানানো হবে বলে আদালত সূত্রে জানা গেছে।

শেয়ার করুন

মন্তব্য

ভূমধ্যসাগরে ২৬৪ বাংলাদেশিসহ ২৬৭ অভিবাসী উদ্ধার

ভূমধ্যসাগরে ২৬৪ বাংলাদেশিসহ ২৬৭ অভিবাসী উদ্ধার

তিউনিসিয়ার বেন গুয়েরদান বন্দরে উদ্ধারকৃত বাংলাদেশি অভিবাসনপ্রত্যাশীদের একটি অংশ। ছবি: এএফপি

উদ্ধারের পর তাদের লিবিয়া সীমান্তের কাছে তিউনিসিয়ার দক্ষিণাঞ্চলীয় বেন গুয়েরদান বন্দরে নিয়ে যায় তিউনিসীয় নৌবাহিনী। এরপর তাদের আইওএম এবং আন্তর্জাতিক দাতব্য সংস্থা রেড ক্রিসেন্টের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

ভূমধ্যসাগরের তিউনিসিয়া উপকূল থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ২৬৪ জন বাংলাদেশিসহ মোট ২৬৭ জন অভিবাসনপ্রত্যাশীকে। বাকি তিনজন মিসরীয়।

আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা আইওএম জানিয়েছে, লিবিয়া হয়ে সাগরপথে ইউরোপে যাওয়ার সময় বৃহস্পতিবার তাদের উদ্ধার করে তিউনিসীয় কোস্টগার্ড।

কোস্টগার্ডের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, নৌকার ইঞ্জিন নষ্ট হয়ে যাওয়ায় সাগরে ভাসছিলেন এই বিপুলসংখ্যক মানুষ।

তাদের উদ্ধারের পর লিবিয়া সীমান্তের কাছে তিউনিসিয়ার দক্ষিণাঞ্চলীয় বেন গুয়েরদান বন্দরে নিয়ে যায় তিউনিসীয় নৌবাহিনী।

এরপর তাদের আইওএম এবং আন্তর্জাতিক দাতব্য সংস্থা রেড ক্রিসেন্টের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

আইওএম জানিয়েছে, তিউনিসিয়ার জেরবা দ্বীপের একটি হোটেলে কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে এই বিপুলসংখ্যক অভিবাসনপ্রত্যাশীকে।

আইওএম জানিয়েছে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত লিবিয়া হয়ে সাগরপথে ইউরোপে যেতে গিয়ে তিউনিসিয়ায় পৌঁছেছেন এক হাজারের বেশি অভিবাসনপ্রত্যাশী। এ সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে।

জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালের জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত লিবিয়া থেকে ইউরোপের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছে ১১ হাজার মানুষ। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এ সংখ্যা ৭০ শতাংশ বেশি।

ইউএনএইচসিআর জানিয়েছে, লিবিয়া আর তিউনিসিয়ায় অভিবাসীদের অবস্থা দিন দিন খারাপের দিকে যাচ্ছে। ফলে সাম্প্রতিক সময়ে উত্তর আফ্রিকা উপকূল থেকে বিপজ্জনকভাবে সাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপের দিকে যাত্রা বাড়ছে মরিয়া এসব মানুষের।

রেড ক্রিসেন্ট কর্মকর্তা মোঙ্গি স্লিম জানিয়েছে, তিউনিসিয়ায় অভিবাসনপ্রত্যাশীদের কেন্দ্রগুলোতে আশ্রিত মানুষের সংখ্যা ধারণক্ষমতা ছাড়িয়ে গেছে।

জাতিসংঘ জানিয়েছে, চলতি বছরের প্রথম পাঁচ মাসে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিতে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন কমপক্ষে ৭৬০ জন অভিবাসনপ্রত্যাশী।

করোনাভাইরাস মহামারির মধ্যেও গত বছর একই সময়ে এ সংখ্যা ছিল ১ হাজার ৪০০।

শেয়ার করুন

চীনের মার্শাল আর্ট স্কুলে আগুনে মৃত্যু ১৮ শিশুর

চীনের মার্শাল আর্ট স্কুলে আগুনে মৃত্যু ১৮ শিশুর

প্রতীকী ছবি

ঝিচেং কাউন্টি সরকার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, আগুন নেভানো হয়েছে। অগ্নিকাণ্ডের কারণ জানতে তদন্ত শুরু হয়েছে। মার্শাল আর্ট স্কুলটির ব্যবস্থাপককে গ্রেপ্তার করেছে হেনান পুলিশ।

চীনে একটি মার্শাল আর্ট স্কুলে আগুনে প্রাণ গেছে কমপক্ষে ১৮ জনের। দগ্ধ হয়েছে আরও ১৬ জন।

দেশটির মধ্যাঞ্চলীয় হেনান প্রদেশের ঝিচেং কাউন্টিতে স্থানীয় সময় শুক্রবার ভোররাতে ঘটে এ ঘটনা।

স্থানীয় বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের বরাত দিয়ে ফ্রান্স টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রতিবেদনে জানানো হয়, মার্শাল স্কুলটি আবাসিক ছিল। এতে হতাহতদের সবাই ওই স্কুলের শিক্ষার্থী। তাদের বয়স সাত বছর থেকে ১৬ বছরের মধ্যে।

অগ্নিদগ্ধদের মধ্যে চারজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাদের বাঁচাতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।

যে সময় আগুন লেগেছিল, তখন সেখানে ছিল ৩৪ শিশু-কিশোর।

ঝিচেং কাউন্টি সরকার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, আগুন নেভানো হয়েছে। অগ্নিকাণ্ডের কারণ জানতে তদন্ত শুরু হয়েছে।

মার্শাল আর্ট স্কুলটির ব্যবস্থাপককে গ্রেপ্তার করেছে হেনান পুলিশ।

চীনের ঐতিহ্যবাহী মার্শাল আর্ট চর্চার জন্মভূমি হিসেবে সুপরিচিত হেনান প্রদেশ। অঞ্চলটিতে আছে বিপুলসংখ্যক কুং ফু অ্যাকাডেমি।

হেনানের সবচেয়ে বড় ও বিখ্যাত মার্শাল আর্ট স্কুল হলো শাওলিন। প্রতিষ্ঠানটির ওয়েবসাইট থেকে জানা যায়, কয়েক হাজার প্রশিক্ষক ও শিক্ষার্থী আত্মরক্ষা ও শরীরচর্চার কৌশল শিখছেন সেখানে।

দেংফেং শহরের শাওলিন মনাস্টেরিও বৌদ্ধ ভিক্ষুদের মার্শাল আর্ট প্রশিক্ষণ দেয়ার জন্য বিখ্যাত।

প্রাদেশিক সরকারের কর্মকর্তা লু ইয়াংশেং স্থানীয় গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ভবিষ্যৎ দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমাতে মর্মান্তিক এই ঘটনা থেকে শিক্ষা নেবে হেনানের সব শহর ও গ্রাম।

চীনে দুর্বল নিরাপত্তা ব্যবস্থার কারণে এ ধরনের অগ্নিকাণ্ড সাধারণ ঘটনায় পরিণত হয়েছে।

গত কয়েক সপ্তাহে বেশ কয়েকটি খনিতে দুর্ঘটনার কারণে হেনান, জিয়াংশি ও হুবেই প্রদেশে কয়লা উত্তোলন স্থগিত করা হয়।

এ মাসের এক সপ্তাহে হেনান ও হুবেই প্রদেশের গ্যাসের খনিতে বিস্ফোরণে প্রাণ যায় ৩০ জনের বেশি শ্রমিকের।

শেয়ার করুন

কানাডার সেই স্কুলে ৭৫১ কবর শনাক্ত

কানাডার সেই স্কুলে ৭৫১ কবর শনাক্ত

কানাডার সাসকাচোয়ান প্রদেশে দুই যুগ আগে পর্যন্ত আবাসিক স্কুল হিসেবে ব্যবহৃত এই এলাকার সমাধিক্ষেত্রে মিলেছে ৭৫১টি অচিহ্নিত কবর। ছবি: ফেডারেশন অব সভরেইন ইনডিজেনাস নেশন্স

একসময়ের মেরিভ্যাল ইন্ডিয়ান রেসিডেন্সিয়াল স্কুলপ্রাঙ্গণে শ শ কবর শনাক্তের ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো। তিনি বলেন, ‘যে আঘাত ও মানসিক চাপের মধ্য দিয়ে কানাডার আদিবাসীরা যাচ্ছেন, সে বোঝা কমানোর দায়িত্ব পুরো দেশের।’

কানাডার সাসকাচোয়ান প্রদেশে একটি স্কুলপ্রাঙ্গণে আবিষ্কৃত কবরের সংখ্যা সাড়ে সাত শর বেশি।

প্রদেশটিতে এ ধরনের কবর শনাক্তের ঘটনা এটাই প্রথম।

কানাডার সাম্প্রতিক ইতিহাসেও এর আগে একসঙ্গে এত বেশি অচিহ্নিত কবর শনাক্ত হয়নি।

স্থানীয় আদিবাসীদের সংগঠন কাওয়েসেস ফার্স্ট নেশন স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছে এসব তথ্য।

সংগঠনটির প্রধান কাডমুস ডেলোরমির বরাত দিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়, শনাক্ত ৭৫১টি কবরের মধ্যে শিশুদের কবর কতগুলো, সে বিষয়ে এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

লোকমুখে ছড়ানো ঘটনা সত্য হলে সেখানে অনেক প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের কবরও থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ঘটনাস্থল মেরিভ্যাল ইন্ডিয়ান রেসিডেন্সিয়াল স্কুল আবাসিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে কার্যক্রম পরিচালনা করেছে ১৮৯৯ থেকে ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত।

নানান বিতর্কের মুখে রোমান ক্যাথলিক চার্চ পরিচালিত স্কুলটি ১৯৯৯ সালে ভেঙে দিয়ে চালু করা হয় অনাবাসিক একটি স্কুল। সেখানে রয়ে গেছে গির্জা, ধর্মযাজকব্যবস্থা আর সমাধিস্থল।

ডেলোরমির অভিযোগ, যে গির্জা কর্তৃপক্ষের অধীনে মেরিভ্যাল ইন্ডিয়ান রেসিডেন্সিয়াল স্কুল পরিচালিত হতো, তারাই অচিহ্নিত এসব কবরের সমাধিফলক সরিয়েছে।

বিষয়টির মীমাংসায় পুলিশকে হস্তক্ষেপ করতে হবে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘সমাধিফলক সরানো কানাডার আইনে অপরাধ। এই সমাধিক্ষেত্রকে তাই অপরাধস্থল বলে মনে করছি আমরা।’

অচিহ্নিত কবর শনাক্তে ব্যবহার করা হয়েছে গ্রাউন্ড-পেনিট্রেটিং রাডার। যন্ত্রটি মেরিভ্যালের মাটিতে মোট ৭৫১টি জায়গা কবর হিসেবে চিহ্নিত করেছে। বলা হচ্ছে, ১০ শতাংশ যান্ত্রিক ত্রুটি ধরে নিলেও ছয় শতাধিক কবর আছে এলাকাটিতে।

মে মাসে ব্রিটিশ কলাম্বিয়া প্রদেশের কামলুপসে আদিবাসী শিশুদের একটি আবাসিক স্কুলপ্রাঙ্গণে অপ্রাপ্তবয়স্ক ২১৫ জনের দেহাবশেষের সন্ধান মেলে। এরপরই কানাডায় আদিবাসীদের ওপর একসময়ের ঔপনিবেশিক বর্বরতার বিষয়টি নতুন করে সামনে আসে।

একসময়ের মেরিভ্যাল ইন্ডিয়ান রেসিডেন্সিয়াল স্কুলপ্রাঙ্গণে শ শ কবর শনাক্তের ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো।

তিনি বলেন, ‘যে আঘাত ও মানসিক চাপের মধ্য দিয়ে কানাডার আদিবাসীরা যাচ্ছেন, সে বোঝা কমানোর দায়িত্ব পুরো দেশের।’

১৮৩১ থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত কানাডার আবাসিক শিক্ষাব্যবস্থার আওতায় পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলা হয়েছিল দেড় লাখ আদিবাসী শিশুকে। তাদের জোর করে খ্রিষ্টানদের আবাসিক স্কুলে রেখে দেয়া হতো, খেতে দেয়া হতো না; চালানো হতো শারীরিক ও যৌন নির্যাতন।

কানাডার তৎকালীন কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে এসব কার্যক্রম পরিচালনা করত ক্যাথলিক চার্চগুলো।

সাসকাচোয়ান প্রদেশের ৭৪টি আদিবাসী গোষ্ঠীর জোট ফেডারেশন অব সভরেইন ইনডিজেনাস নেশন্সের (এফএসআইএন) প্রধান ববি ক্যামেরন বলেন, ‘আদিবাসীদের নির্মূল করার চেষ্টা চালানো একটি জাতি হিসেবে একদিন পরিচিত হবে কানাডা। এটা তো কেবল শুরু।’

শেয়ার করুন

মায়ামিতে বহুতল ভবন ধসে নিহত ১, নিখোঁজ ৯৯

মায়ামিতে বহুতল ভবন ধসে নিহত ১, নিখোঁজ ৯৯

মায়ামি বিচ এলাকার উত্তরের এই ভবনটির আংশিক ধসে পড়ে স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায়। ছবি: এএফপি

মায়ামির মেয়র ড্যানিয়েল লেভিন-শাভা জানিয়েছেন, স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে ভবনটি ধসে পড়ার সময় সেখানে কতজন অবস্থান করছিলেন, সে বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে শতাধিক ব্যক্তি জীবিত বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের মায়ামি শহরে একটি ১২ তলা আবাসিক ভবনের আংশিক ধসে প্রাণ গেছে কমপক্ষে একজনের। এ ঘটনায় নিখোঁজ হয়েছে ৯৯ জন।

বিবিসির প্রতিবেদনে জানানো হয়, নিখোঁজ ব্যক্তিদের বেশির ভাগই লাতিন আমেরিকার বিভিন্ন দেশের নাগরিক বলে নিশ্চিত করেছে কয়েকটি দেশের কনস্যুলেট।

মায়ামির মেয়র ড্যানিয়েল লেভিন-শাভা জানিয়েছেন, স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে ভবনটি ধসে পড়ার সময় সেখানে কতজন অবস্থান করছিলেন, সে বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে শতাধিক ব্যক্তি জীবিত বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

১৯৮১ সালে সার্ফসাইড শহরে নির্মাণ হয় আবাসন কমপ্লেক্সটি। ভবন ধসের ফলে কমপ্লেক্সের ১৩০টি ইউনিটের অর্ধেকই ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

ভবন ধসের পরপর ছোটখাটো অগ্নিকাণ্ডও হয় সেখানে। ২০ মিনিটের মধ্যে আগুন নিয়ন্ত্রণেও আনে ফায়ার ব্রিগেড।

এ পর্যন্ত ৩৫ জনকে ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। এখনও চলছে উদ্ধারকাজ।

ধ্বংসস্তূপ সরাতে ক্রেনসহ বিভিন্ন ভারী সরঞ্জাম ব্যবহার করা হচ্ছে। মানুষের সন্ধান পেতে সহযোগিতা করছে পুলিশের প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কুকুর।

নিখোঁজ ব্যক্তিদের মধ্যে আছেন প্যারাগুয়ের ফার্স্ট লেডির বোন, ভগ্নিপতি, তাদের তিন সন্তান ও একজন গৃহকর্মী।

ধসের কারণ জানা যায়নি। তবে ভবনটির ছাদে সংস্কারকাজ চলছিল।

ক্ষয়ক্ষতির কারণ জানতে এবং ধসের কারণ অনুসন্ধানে ঘটনাস্থলে কাজ করছেন প্রকৌশলীরা।

শেয়ার করুন

জম্মু-কাশ্মীরকে পূর্ণ রাজ্যের মর্যাদা সময়মতো: মোদি

জম্মু-কাশ্মীরকে পূর্ণ রাজ্যের মর্যাদা সময়মতো: মোদি

কাশ্মীরের বিশেষ ক্ষমতা প্রত্যাহারের পর দীর্ঘদিন চলে কারফিউ। ছবি: এএফপি

কাশ্মীরের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও ন্যাশনাল কনফারেন্স নেতা ওমর আব্দুল্লাহ বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দুজনই আশ্বাস দিয়েছেন শিগগিরই রাজ্যের তকমা ফেরানো হবে এবং নির্বাচনপ্রক্রিয়া শুরু হবে।’

২০১৯-এর তুমুল বিতর্ক তোলা সিদ্ধান্তের পর প্রথমবার ফারুক আব্দুল্লাহ, মেহবুবা মুফতিদের মুখোমুখি হলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, অমিত শাহরা।

কয়েক দিন ধরে তাই উপত্যকা নিয়ে জল্পনা ছিল তুঙ্গে। বৃহস্পতিবার দিল্লিতে সাড়ে তিন ঘণ্টা চলল সেই বৈঠক।

জম্মু-কাশ্মীরকে পূর্ণ রাজ্যের মর্যাদা বা দ্রুত বিধানসভা নির্বাচন শুরুর বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী মোদির কাছ থেকে কোনও আশ্বাস দেয়া হয়নি।

প্রধানমন্ত্রী বৈঠকে উপস্থিত নেতাদের বিধানসভা কেন্দ্রের সীমানা পুনর্নির্ধারণপ্রক্রিয়ায় অংশ নিতে জোর দিয়েছেন।

কাশ্মীর থেকে ৩৭০ ধারা তুলে নেওয়ার পর যেসব নেতাকে দীর্ঘদিন বন্দি করে রাখা হয়েছিল, তারাও এদিন সব সমস্যার কথা খুলে বলেছেন প্রধানমন্ত্রীকে।

বৈঠক শেষে এমনটাই জানিয়েছেন কাশ্মীরের নেতারা। সূত্রের খবর, রাজ্যের তকমা ফেরানো নিয়েও আলোচনা হয়েছে এদিন। প্রধানমনন্ত্রী বলেছেন, ‘ঠিক সময়ে কাশ্মীরকে রাজ্যের মর্যাদা ফিরিয়ে দেয়া হবে।’

বৈঠক শেষে গুলাম নবী আজাদ বলেন, ‘কাশ্মীরকে রাজ্যের মর্যাদা ফিরিয়ে দেয়া, অবিলম্বে বিধানসভা নির্বাচন করে গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফেরানো, সব রাজনৈতিক বন্দির মুক্তি, ডোমিসাইল চালু এবং কাশ্মীরি পণ্ডিতদের পুনর্বাসন। এই পাঁচটি দাবি প্রধানমন্ত্রীর সামনে রাখা হয়েছিল।’

বৈঠক শেষে মোদি বলেন, ‘ভোট করে উপত্যকায় নির্বাচিত সরকার প্রতিষ্ঠা করা হবে।’

তিনি বলেন, ‘কাশ্মীরের নেতা-নেত্রীদের সঙ্গে বৈঠক আদতে উন্নয়নের পথে এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। কাশ্মীরের মানুষ, বিশেষত যুবসমাজের আশা পূরণ করা হবে।’

মেহবুবা মুফতি জানান, তিনি বৈঠকে ৩৭০ ধারা বা স্পেশাল স্ট্যাটাস ফেরানোর পক্ষে সওয়াল করেছেন। বলেছেন, ‘এটা কাশ্মীরের আত্মপরিচয়ের প্রশ্ন। আমরা এই স্ট্যাটাস পাকিস্তান থেকে পাইনি, ভারত সরকার আমাদের দিয়েছে। নেহরু আমাদের দিয়েছেন। তাই আমরা চাই কয়েক মাস লাগুক বা বছর, ৩৭০ ধারা ফেরাতেই হবে।’

এদিন বৈঠক থেকে বেরিয়ে কাশ্মীরের আপনি পার্টির নেতা আলতাফ বুখারি বৈঠক শেষে জানিয়েছেন, কাশ্মীরে ভোটের জন্য প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী বলেছেন যে আমরা কাশ্মীরকে রাজ্যের তকমা ফিরিয়ে দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’

বৈঠক নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে বুখারি বলেন, ‘ভালো পরিবেশে আজ কথাবার্তা হয়েছে।’

একই কথা বলেছেন জম্মু ও কাশ্মীরের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও ন্যাশনাল কনফারেন্স নেতা ওমর আব্দুল্লাহ। বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দুজনই আশ্বাস দিয়েছেন শিগগিরই রাজ্যের তকমা ফেরানো হবে ও নির্বাচনপ্রক্রিয়া শুরু হবে।’

‘দিল কি দূরি’ ও ‘দিল্লি কি দূরি’ মেটানোর পথে যে কেন্দ্র এগোচ্ছে সে কথাও জানিয়েছেন ওমর আব্দুল্লাহ।

ন্যাশনাল কনফারেন্স বিধানসভা কেন্দ্রের সীমানা পুনর্নির্ধারণপ্রক্রিয়ায় অংশ নিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। যদিও আগে তারা ওই প্রক্রিয়া বয়কট করেছিল।

বৈঠকে পূর্ণ রাজ্যের মর্যাদার দাবিতে দলগুলোর মধ্যে ঐকমত্য থাকলেও প্রধানমন্ত্রী তাদের বলেন যে, সীমানা নির্ধারণপ্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর অন্য সব বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন কাশ্মীরের আট রাজনৈতিক দলের ১৪ জন নেতা-নেত্রী। তাদের মধ্যে ছিলেন রাজ্যের সাবেক চার মুখ্যমন্ত্রী।

২০১৮ সালে মেহবুবা মুফতি সরকারের ওপর থেকে সমর্থন তুলে নেয় বিজেপি। তারপর থেকেই রাষ্ট্রপতি শাসনে রয়েছে ভূ-স্বর্গ। ২০১৯-এর ১ অগস্ট শেষবার প্রধানমন্ত্রীর মুখোমুখি হয়েছিলেন ফারুক ও ওমর আব্দুল্লাহ।

এর ঠিক তিন দিন পর ৪ অগস্ট তাদের আটক করা হয় ও কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ৩৭০ ধারা তুলে নেয়ার কথা ঘোষণা করা হয়।

বৈঠক শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ জানান, কাশ্মীরের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে এদিন।

তিনি উল্লেখ করেন, বৈঠকে প্রত্যেকেই সংবিধানের প্রতি গণতন্ত্রের প্রতি আস্থা রাখার কথা বলেছেন।

তিনি টুইটে লিখেছেন, ‘কাশ্মীরের সার্বিক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে চাই আমরা। শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচন হবে সেখানে।’

রাজ্যের স্বীকৃতি ফেরানোর ক্ষেত্রেও প্রতিশ্রুতির কথা উল্লেখ করেছেন তিনি। রাজনৈতিক মহলের মতে, গত দুই বছর দমবন্ধ অবস্থায় থাকা কাশ্মীরের বরফ গলছে একটু একটু করে।

শেয়ার করুন

ডেল্টা প্লাস ধরন কি ডেকে আনবে তৃতীয় ধাক্কা

ডেল্টা প্লাস ধরন কি ডেকে আনবে তৃতীয় ধাক্কা

নতুন ডেল্টা প্লাস ধরন করোনার তৃতীয় ধাক্কার কারণ হতে পারে বলে শঙ্কা অনেকের। ছবি: ডিএনএইন্ডিয়া

ভারতে এখন পর্যন্ত ৪০ জন ডেল্টা প্লাস ধরনে আক্রান্ত হওয়ার খোঁজ মিলেছে। এরই মধ্যে তিন রাজ্য- মহারাষ্ট্র, কেরালা ও মধ্যপ্রদেশে বিশেষ সতর্কবার্তা পাঠিয়েছে কেন্দ্র। সংক্রমণ রুখতে কন্টেনমেন্ট পদ্ধতি অনুসরণ করতে বলা হয়েছে।

ভারতের তিন রাজ্যে করোনাভাইরাসের ডেল্টা প্লাস ধরনের খোঁজ মিলতেই তৈরি হয়েছে নতুন উদ্বেগ। ডেল্টা প্লাস ধরনে আক্রান্ত হওয়া এক নারীর মৃত্যু হয়েছে মধ্যপ্রদেশে।

এ ধরনে আক্রান্ত হওয়া রোগীর মধ্যে ওই রাজ্যে এটাই প্রথম মৃত্যু। মৃত নারী উজ্জয়িনীর বাসিন্দা।

সেখানকার স্থানীয় প্রশাসন বুধবার তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে।

অনেকেরই আশঙ্কা, তৃতীয় ধাক্কার কারণ হয়ে উঠতে পারে করোনার এই নতুন ধরন।

তবে ইনস্টিটিউট অফ জিনোমিক্স অ্যান্ড ইন্টেগ্রেটেড বায়োলজির পরিচালক ড. অনুরাগ আগরওয়াল জানান, এখনই আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই।

ভারতে করোনার দ্বিতীয় ধাক্কার জন্য ডেল্টা ধরনই দায়ী বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

ভাইরাসের এই ধরনের প্রথম খোঁজ মিলেছিল ভারতেই। জিনোম সিকোয়েন্সিংয়ের মাধ্যমে তা শনাক্ত হয়।

ভাইরাসের মিউটেশন হয়েছে কি না, তা জানার জন্য প্রয়োজন জিনোম সিকোয়েন্সিং। করোনায় আক্রান্তদের জিনোম সিকোয়েন্সিং করেই অস্তিত্ব মিলেছে ডেল্টা প্লাস ধরনের।

এ বিষয়ে আগরওয়াল বলেন, ‘আপাতত এমন কোনো প্রমাণ নেই যে, তৃতীয় ধাক্কার কারণ হিসেবে ডেল্টা প্লাস ধরনই দায়ী থাকবে।’

তিনি বলেন, ‘কেবল জুন মাসেই মহারাষ্ট্র থেকে সংগৃহীত ৩ হাজার ৫০০-এর বেশি নমুনার জিনোম সিকোয়েন্সিং করা হয়েছে। এ নমুনাগুলো এপ্রিল ও মে মাসে সংগ্রহ করা হয়। নমুনাতেই ডেল্টা প্লাস ধরনের খোঁজ মেলে।

‘তবে এখন পর্যন্ত এতে সংক্রমণের হার ১ শতাংশের কম। তৃতীয় ধাক্কা আসার আগে তা নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার চেয়ে দ্বিতীয় ধাক্কা এখনও কেন শেষ হয়নি, তা নিয়ে চিন্তিত হওয়া উচিত।’

একই সঙ্গে সংক্রমণ রুখতে যাবতীয় স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণের আবেদনও জানান তিনি।

ভারতে এখন পর্যন্ত ৪০ জন ডেল্টা প্লাস ধরনে আক্রান্ত হওয়ার খোঁজ মিলেছে। এরই মধ্যে তিন রাজ্য- মহারাষ্ট্র, কেরালা ও মধ্যপ্রদেশে বিশেষ সতর্কবার্তা পাঠিয়েছে কেন্দ্র। সংক্রমণ রুখতে কন্টেনমেন্ট পদ্ধতি অনুসরণ করতে বলা হয়েছে।

শেয়ার করুন

ইরানের যে দ্বীপ শুধু নারী জেলেদের

ইরানের যে দ্বীপ শুধু নারী জেলেদের

কঠিন পুরুষতান্ত্রিক ইরানের সঙ্গে তাল মিলিয়ে হেনগ্যাম দ্বীপটিতেও একসময় কেবল পুরুষ সদস্যরাই মাছ ধরার কাজ করতেন। পরিবারকে আর্থিকভাবে স্বচ্ছল করতে নারীরা বড় জোর কিছু হাতের কাজ করতেন কিংবা মাছের দোকানে বসতেন। তবে বদলে গেছে সেই দিন।

ইরানের ছোট্ট দ্বীপ হেনগ্যাম। ছোট ছোট নৌকায় কন্যা সন্তানদের নিয়ে জেলেদের মাছ ধরা সেখানকার প্রতিদিন ভোরের নিয়মিত দৃশ্য।

তীব্র স্রোতেও এই কিশোরী-তরুণী জেলেরা পিছু হটেন না। প্রতিদিনের মাছ ধরতে তাদের পারি দিতে হয় একের পর এক উঁচু ঢেউ। হাসিমুখেই সেসব ঢেউ পার করে মাছ নিয়ে ঘরে ফেরেন তারা।

কারণ তাদের মায়েরা একই শিক্ষা পেয়েছেন, একই শিক্ষা দিয়েছেন মেয়েদেরও।

ভাইস এর প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, রক্ষণশীল ইরানে হেনগ্যাম একমাত্র দ্বীপ যেখানে পুরুষের সাহায্য ছাড়াই কাজের জন্য সাগরে ভাসেন নারীরা।

ইরানের দক্ষিণে পারস্য উপসাগরীয় এই দ্বীপে বসবাস প্রায় ৫০০ পরিবারের। তাদের জীবিকার প্রধান উৎস মাছ ধরা।

কঠিন পুরুষতান্ত্রিক ইরানের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এই দ্বীপটিতেও একসময় কেবল পুরুষেরাই মাছ ধরতেন। পরিবারকে আর্থিকভাবে স্বচ্ছল করতে নারীরা বড় জোর কিছু হাতের কাজ করতেন বা মাছের দোকানে বসতেন।

তবে দৃশ্যপট বদলাতে শুরু করে কয়েক বছর আগে। বাড়তি আয় আর উন্নত জীবনের আশায় দ্বীপ ছেড়ে কাজের জন্য ইরানের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে জেলে পরিবারের তরুণেরা।

আর পরিবারের প্রধান আয়ের উৎস মাছ শিকার ধরে রাখতে এতে যুক্ত হতে শুরু করেন নারীরা।

বাবা, স্বামী, ভাই বা সন্তান যখন অন্য শহরে জীবিকা উপার্জনের আরও ভালো মাধ্যম খুঁজছে, তখন তাদের অনুপস্থিতিতে পরিবারের শক্তি হয়ে ওঠার লক্ষ্য নিতে শুরু করেন নারীরা।

এভাবেই দ্বীপটির নারীদের জীবিকা উপার্জনের প্রধান উৎস হয়ে উঠেছে মাছ ধরা।

ইরানের দক্ষিণ প্রান্তের দ্বীপটির আছে স্বতন্ত্র সংস্কৃতি। শিল্প, সঙ্গীত আর খাবারের ঐতিহ্যের পাশাপাশি কয়েক শ বছর ধরে সেখানে চল ছিল উন্নতমানের রেশম উৎপাদন।

দাস ব্যবসার জন্য মানুষ পাচারের অন্যতম রুটও ছিল এটি।

পুরোনো সব পেছনে ফেলে দ্বীপটির নারীরা এখন সাগরকে জীবীকার প্রধান অবলম্বন করতে উঠেপড়ে লেগেছেন।

তরুণী জেলে খাদিজা গোডসি বলেন. ‘আমরা মাছ ধরার সরকারি স্বীকৃতি পেলে জ্বালানি আর আমাদের নৌকার বিমায় ভর্তুকি পাব।’

একই কারণে দ্বীপের অন্য তরুণীরাও চান জেলে হিসেবে সরকারি স্বীকৃতি। এতে নৌকার দুর্ঘটনাজনিত ক্ষতিপূরণের পাশাপাশি পর্যটকদের সাগরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরিয়ে দেখাতে পারবেন তারা।

তবে এই সরকারি অনুমোদন পেতে পার হতে হবে বড় বাধা।

অনুমতিপত্রের জন্য নারীরা প্রথম আবেদন করার পর স্থানীয় মৎস্যবিভাগ জানায়, নিরাপত্তার কারণে দুইজন নারীকে একটি করে অনুমতিপত্র দেয়া হবে।

সে ক্ষেত্রে দুটি নৌকার মালিক দুইজন নারী আর তাদের অনুমতিপত্র একটি হলে সেটি কার কাছে থাকবে, মাছ ধরা ও আয়ের ভাগাভাগি কীভাবে হবে- ইত্যাদি প্রশ্নের উত্তর নেই।

বিষয়টির মীমাংসায় গভর্নরের কাছে মাসের পর মাস দেনদরবারের পর চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ৩০ জন নারীকে আলাদাভাবে জেলে হিসেবে স্বীকৃতি দেয়ার নিশ্চয়তা দেয় কর্তৃপক্ষ।

যদিও আবেদনের এক বছর পেরিয়ে গেলেও এখনও নিবন্ধন পাননি কেউ।

অনুমতিপত্রের জন্য অপেক্ষা করার সময়ে সংসার তো থেমে নেই। এ অবস্থায় আপাতত হাতে তৈরি বিভিন্ন পণ্য বিক্রি বা সেবা দিয়ে আয় করার চেষ্টা করছেন তারা।

শেয়ার করুন