আলাপন চ্যাপ্টার ইজ ক্লোজড মমতা

পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যসচিব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়। ফাইল ছবি

আলাপন চ্যাপ্টার ইজ ক্লোজড মমতা

সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে আলাপন ইস্যুতে মমতা বলেন, ‘অবসর নিয়ে ফেলেছেন আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়। সরকার পূর্ণ সহযোগিতা করবে তাকে। আলাপনকে নিয়ে কোনো প্রশ্ন করবেন না। আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায় চ্যাপ্টার ইজ ক্লোজড।’

রাজ্যের সাবেক মুখ্যসচিব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঘিরে কেন্দ্র-রাজ্য সংঘাতের মাঝে বুধবার পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বললেন, এটি এখন ‘ক্লোজড’ বিষয়।

নবান্নের সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে আলাপন ইস্যুতে মমতা বলেন, ‘অবসর নিয়ে ফেলেছেন আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়। সরকার পূর্ণ সহযোগিতা করবে তাকে। আলাপনকে নিয়ে কোনো প্রশ্ন করবেন না। আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায় চ্যাপ্টার ইজ ক্লোজড।’

এর আগে আলাপন ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে লেখা চিঠিতে মুখ্যমন্ত্রী লেখেন, ‘মুখ্যসচিবকে সঙ্গে নিয়ে দীঘা যাওয়ার অনুমতি প্রধানমন্ত্রী দিয়েছিলেন। কিন্তু বলা হচ্ছে কলাইকুন্ডায় প্রধানমন্ত্রীর ইয়াস পরবর্তী রিভিউ মিটিংয়ে না থেকে আলাপন বিপর্যয় মোকাবিলার আইন লঙ্ঘন করেছেন।’

ভারত সরকার পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যসচিব আলাপনকে বদলি করে দিল্লিতে ডিওপিডি দপ্তরে সোমবার সকাল ১০টার মধ্যে যোগ দিতে বলা হয়েছিল। আলাপন দিল্লি যাননি। কেন্দ্রের তিন মাসের চাকরির মেয়াদ বৃদ্ধি, তাও তিনি গ্রহণ করেননি। তিনি তার পূর্ব নির্ধারিত অবসর গ্রহণের দিন অবসর গ্রহণ করেছেন।

রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি তাকে মুখ্যমন্ত্রীর মুখ্য উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ করেছেন। এরপর কেন্দ্রের তরফে আলাপনকে শোকজ নোটিশ ধরানো হয়। এই নোটিশের উত্তর বৃহস্পতিবারের মধ্যে দিতে বলা হয়েছে।

জানা গেছে, মমতার মুখ্য উপদেষ্টা আলাপন শোকজ নোটিশের জবাবে জানাবেন, যে তারা প্রধানমন্ত্রীর অনুমতি নিয়েই দীঘা গিয়েছিলেন। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ মানতে তিনি বাধ্য ছিলেন। তাছাড়া, মুখ্যমন্ত্রী ও তার জন্য দীঘায় সরকারি কর্মকর্তারা অপেক্ষা করছিলেন ।

কেন্দ্র এই উত্তরে সন্তুষ্ট না হলে, তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা করতে পারে। অভিযোগ প্রমাণ হলে, আলাপনের জেল-জরিমনা দুটোই হতে পারে।

বুধবারই দক্ষিণ ২৪ পরগনা পাথর প্রতীমায় দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে তৃণমূল যুব নেতা অভিষেক ব্যানার্জি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বিরুদ্ধে এই একই আইন প্রয়োগ করা হোক। দেশে যখন করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে মানুষ মারা যাচ্ছে, যখন সবাইকে বাড়িতে থাকার কথা বলা হচ্ছে, তখন এরা রাজ্যে এসে সভা করছেন, আর বলছেন, এত বড় সভা কোনদিন দেখেননি। এদের বিরুদ্ধে ও দুর্যোগ মোকাবিলার আইন প্রয়োগ হওয়া উচিত।’

আরও পড়ুন:
শোকজের জবাব দেবেন আলাপন
মমতার দলে আলাপন, শোকজ কেন্দ্রের

শেয়ার করুন

মন্তব্য

সুইস ব্যাংকে ভারতীয় আমানত ১৩ বছরে সর্বোচ্চ

সুইস ব্যাংকে ভারতীয় আমানত ১৩ বছরে সর্বোচ্চ

জুরিখের সুইস ন্যাশনাল ব্যাংক ভবন। ফাইল ছবি।

২০১৪ সালের লোকসভা ভোটের আগে অন্যতম ইস্যু ছিল কালো টাকা। নরেন্দ্র মোদি আশ্বাস দিয়েছিলেন, ক্ষমতায় এলে বিদেশ থেকে কালো টাকা ফেরাবেন তিনি। সেই টাকা দিয়ে ভারতের নাগরিকদের ১৫ লাখ টাকা দেয়া যাবেও বলে জানিয়েছিলেন মোদি।

১৩ বছরে সবেচেয়ে বেশি। একলাফে ২৬৮ শতাংশ বৃদ্ধি। রিপোর্ট বলছে, ২০১৯ সালের শেষে সুইস ব্যাংকে ভারতীয়দের ৬ হাজার ৬২৫ কোটি টাকা জমা ছিল। সেখানে ২০২০ সালের শেষে দাঁড়িয়েছে ২০ হাজার ৭০০ কোটি টাকায়।

এই অঙ্ক ১৩ বছরে সবচেয়ে বেশি। সুইস সেন্ট্রাল ব্যাংকের এই বার্ষিক প্রতিবেদনের পর প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়েছে কেন্দ্রীয় সরকারকে।

এ বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয় বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছে, একাধিক সংবাদ মাধ্যমে যে দাবি করা হচ্ছে তা সঠিক নয়। কারণ সুইস ব্যাংকের যে তথ্য প্রকাশিত হয়েছে, সেখান থেকে বলা যায় না ভারতীয়দের কালো টাকা রফতানির পরিমাণ বেড়েছে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের দাবি, যে তথ্য প্রকাশিত হয়েছে, তাতে সুইসের ব্যাংকের একাধিক ভারতীয় শাখার অর্থ জমা রয়েছে। তাই কালো টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে এ কথা বলা যাবে না।

সুইস ব্যাংকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, আমানতের যে পরিসংখ্যান দেয়া হয়েছে, তাতে একটা কিন্তু আছে।

‘গ্রাহক অ্যাকাউন্টে আমানত’ হিসাবে শ্রেণিবদ্ধ ফান্ডগুলি প্রকৃতপক্ষে ২০১৯ সালে ৫৫০ মিলিয়ন সুইস ফ্র্যাঙ্ক (৪,৪৪২ কোটি রুপিরও বেশি) থেকে কমে ২০২০ সালে দাঁড়িয়েছে ৫০৩.৯ মিলিয়ন ফ্র্যাঙ্ক (চার হাজার কোটি টাকার সামান্য বেশি)।

ট্রাস্ট রক্ষক ও ট্রাস্টের মাধ্যমে প্রাপ্ত অর্থও আলোচ্য সময়ে ৭.৪ মিলিয়ন সুইস ফ্র্যাঙ্ক (৫৯.৭৬ কোটি টাকা) থেকে কমে ২ মিলিয়ন সুইস ফ্র্যাঙ্ক (১৬.৫ কোটি) হয়েছে।

যদিও গ্রাহকদের অ্যাকাউন্টে জমা অর্থ কমলেও বন্ড, সিকিউরিটিজ ও অন্যভাবে সুইস ব্যাংকে গচ্ছিত অর্থ বিপুলভাবে বেড়েছে।

অর্থ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যে অঙ্কের টাকা বৃদ্ধির কথা বলা হয় তা সুইস ন‍্যাশনাল ব‍্যাংকের পরিসংখ্যান। কিন্তু আদৌ তা হিসেব বহির্ভূত টাকা কী না, কিংবা কত টাকা রয়েছে, সেই তথ্য রিপোর্টে উল্লেখ নেই।

২০১৪ সালের লোকসভা ভোটের আগে অন্যতম ইস্যু ছিল কালো টাকা। নরেন্দ্র মোদি আশ্বাস দিয়েছিলেন, ক্ষমতায় এলে বিদেশ থেকে কালো টাকা ফেরাবেন তিনি। সেই টাকা দিয়ে ভারতের নাগরিকদের ১৫ লাখ টাকা দেয়া যাবেও বলে জানিয়েছিলেন মোদি।

কিন্তু তারই ক্ষমতাসীন অবস্থায় সুইস ব্যাংকে টাকা বৃদ্ধির তথ্যে সুর চড়িয়েছে বিরোধীরা। কংগ্রেসের দাবি, সুইস ব্যাঙ্কে কী পরিমাণ কালো টাকা রয়েছে তার শ্বেতপত্র প্রকাশ করুক কেন্দ্রীয় সরকার।

আরও পড়ুন:
শোকজের জবাব দেবেন আলাপন
মমতার দলে আলাপন, শোকজ কেন্দ্রের

শেয়ার করুন

প্রধান বিচারপতি থেকে ইরানের প্রেসিডেন্ট

প্রধান বিচারপতি থেকে ইরানের প্রেসিডেন্ট

প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে এব্রাহিম রাইসির কাছে পাত্তাই পায়নি তার প্রতিদ্বন্দ্বীরা। ছবি: এএফপি

প্রাথমিক ফলাফলে দেখা যায়, ১ কোটি ৭৮ লাখ ভোট পেয়েছেন রাইসি। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী রেজাই পেয়েছেন ৩৩ লাখ ভোট। সেই হিসাবে রেজাইয়ের চেয়ে রাইসি ১ কোটি ৪৫ লাখ বেশি ভোটে এগিয়ে।

ইরানের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বিশাল ব্যবধানে জয় পেয়েছেন দেশটির কট্টর রক্ষণশীল ধর্মীয় নেতা ও প্রধান বিচারপতি এব্রাহিম রাইসি। তার কাছে পাত্তাই পায়নি তিন প্রতিপক্ষ।

শনিবার দ্য গার্ডিয়ানআরব নিউজের প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

স্থানীয় সময় শুক্রবার সকালে ইরানের ১৩তম প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ভোট গ্রহণ শুরু হয়।

প্রেসিডেন্ট পদে প্রার্থী ছিলেন এব্রাহিম রাইসি, মোহসেন রেজাই, আমির হোসেন গাজিজাদেহ হাশেমি ও আব্দলনাসের হেম্মাতি।

মতামত জরিপে শুরু থেকেই এগিয়ে ছিলেন ইরানের শিয়া সম্প্রদায়ের নেতা রাইসি।

ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি এবং তিন প্রার্থী রেজাই, হাশেমি ও হেম্মাতি এরই মধ্যে রাইসিকে অভিনন্দন জানিয়েছেন।

প্রাথমিক ফলাফলে দেখা যায়, ১ কোটি ৭৮ লাখ ভোট পেয়েছেন রাইসি। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী রেজাই পেয়েছেন ৩৩ লাখ ভোট। সেই হিসাবে রেজাইয়ের চেয়ে রাইসি ১ কোটি ৪৫ লাখ বেশি ভোটে এগিয়ে রয়েছেন।

ইরানের কর্মকর্তারা জানান, ৯০ শতাংশ ভোট গণনা শেষ হয়েছে। প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ৬ কোটি ভোটারের মধ্যে ২ কোটি ৮৬ লাখ মানুষ ভোট দেন। ২০১৭ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ৪ কোটি ১ লাখের বেশি মানুষ নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন।

নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক ফল শনিবার রাতের দিকে ঘোষণা করা হবে। তবে তার আগেই রাইসির জয় নিশ্চিত হয়ে গেছে। এখন পর্যন্ত পাওয়া ফলে এটি স্পষ্ট, ৫০ শতাংশের বেশি ভোট পেয়েছেন রাইসি।

ইরানে চার বছরের মেয়াদে টানা দুবার ক্ষমতায় থাকা প্রেসিডেন্ট রুহানির স্থলাভিষিক্ত হবেন রাইসি। আগস্টে রাইসির কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করবেন রুহানি।

টেলিভিশনে দেয়া ভাষণে কোনো নাম উল্লেখ না করে রুহানি বলেন, ‘জনগণের পছন্দকে আমি অভিনন্দন জানাই। আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি। এটি এলেই বিজয়ীকে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিনন্দন জানাব। নির্বাচনে কার জয় হয়েছে, তা এখন পরিষ্কার।’

রক্ষণশীল প্রার্থী মোহসেন রেজাই ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাবেক প্রধান মধ্যপন্থি আব্দলনাসের হেম্মাতি রাইসিকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। রেজাইয়ের পরের প্রতিদ্বন্দ্বী সংস্কারপন্থি হেম্মাতি পেয়েছেন ২৪ লাখ ভোট।

হেম্মাতি তার ইনস্টাগ্রাম পেজে রাইসির উদ্দেশে বলেন, ‘আশা করি, আপনার প্রশাসন ইরানের অর্থনীতির উন্নয়ন ঘটাবে। আপনার নেতৃত্বে জনগণের সমৃদ্ধি ও উন্নত জীবিকার ব্যবস্থা হবে।’

২০১৭ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ১ কোটি ৫৮ লাখ ভোট পেয়ে রুহানির কাছে পরাজয় হয়েছিল রাইসির।

ইরানের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অংশ নিতে প্রায় ৪০ নারীসহ ৬০০ প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন।

তাদের মধ্যে কেবল সাতজনকে নির্বাচনে দাঁড়ানোর অনুমতি দেয় দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনির নেতৃত্বাধীন পার্লামেন্টের অভিভাবক পরিষদ (গার্ডিয়ান কাউন্সিল)।

এতে অনেক ভোটার হতাশ হন। গার্ডিয়ান কাউন্সিলের তালিকায় ছিলেন না ইরানের একসময়ের জনপ্রিয় প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমাদিনেজাদ।

গার্ডিয়ান কাউন্সিলের সিদ্ধান্তের কারণে ইরানের ভিন্নমতাবলম্বী ও সংস্থারপন্থি শিবিরের অনেকে নির্বাচন বর্জনের ডাক দিয়েছিলেন। তাদের ভাষ্য, গার্ডিয়ান কাউন্সিল বেশ কয়েকজন যোগ্য প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিল করেছে। এর মাধ্যমে নির্বাচনি লড়াইয়ে রাইসির শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বীদের সরিয়ে দেয়া হয়েছে।

নির্বাচনের দুই দিন আগে বুধবার সাত প্রার্থীর মধ্যে তিনজন রাইসির প্রতি সমর্থন জানিয়ে নিজেদের নির্বাচনি লড়াই থেকে সরিয়ে নেন। তারা হলেন সংস্কারপন্থি মোহসেন মেহরালিজাদেহ, চরমপন্থি আলিরেজা জাকানি ও রক্ষণশীল সাঈদ জালিলি।

আরও পড়ুন:
শোকজের জবাব দেবেন আলাপন
মমতার দলে আলাপন, শোকজ কেন্দ্রের

শেয়ার করুন

মিয়ানমার নিয়ে জাতিসংঘের বিবৃতিতে সই করেনি ভারত, চীন, রাশিয়া

মিয়ানমার নিয়ে জাতিসংঘের বিবৃতিতে সই করেনি ভারত, চীন, রাশিয়া

ভারত জানিয়েছে প্রতিবেশী দেশ হিসেবে মিয়ানমার ভারতের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। জাতিসংঘে নিযুক্ত ভারতের স্থায়ী প্রতিনিধি টি এস তিরুমূর্তি বলেন, ‘মিয়ানমার নিয়ে আমাদের অবস্থান স্পষ্ট। সে দেশে বন্দি গণতান্ত্রিক সরকারের প্রতিনিধিদের মুক্তির দাবি জানানো হচ্ছে। হিংসা কখনই সমর্থনযোগ্য নয়। মিয়ানমারে গণতন্ত্র ফেরাতে সবরকমভাবে চেষ্টা করে যাবে ভারত।’

মিয়ানমারের ওপর নেওয়া জাতিসংঘের বিবৃতিতে সই করেনি ভারত, চীন ও রাশিয়া।

ভারত জানিয়েছে প্রতিবেশী দেশ হিসেবে মিয়ানমার ভারতের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। তাই আন্তর্জাতিক মঞ্চের উচিত আরও গঠনমূলক আলোচনা শেষে সিদ্ধান্ত নেওয়া।

যদিও জাতিসংঘে নিযুক্ত ভারতের স্থায়ী প্রতিনিধি টি এস তিরুমূর্তি বলেন, ‘‌মিয়ানমার নিয়ে আমাদের অবস্থান স্পষ্ট। সে দেশে বন্দি গণতান্ত্রিক সরকারের প্রতিনিধিদের মুক্তির দাবি জানানো হচ্ছে। হিংসা কখনই সমর্থনযোগ্য নয়। মিয়ানমারে গণতন্ত্র ফেরাতে সবরকমভাবে চেষ্টা করে যাবে ভারত।’‌

জাতিসংঘের গৃহীত বিবৃতিতে অবিলম্বে মিয়ানমারে গণতন্ত্রের পক্ষে সওয়াল করা হয়েছে। সেই বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘মিয়ানমারের সশস্ত্র বাহিনীর উচিত মানুষের ইচ্ছাকে সম্মান করা। গত বছর ৮ নভেম্বরে হওয়া সাধারণ নির্বাচনের ফল মেনে জরুরি অবস্থার অবসান ঘটানো।

‘রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা সামরিকতন্ত্র থেকে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় শান্তিপূর্ণ হস্তান্তর এবং গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত আইনপ্রণেতাদের পার্লামেন্টে যেতে দেওয়া। পাশাপাশি প্রজাতন্ত্রকে প্রাধান্য দিয়ে সব জাতীয় প্রতিষ্ঠান এমনকি সামরিক বাহিনীকে কাজ করতে দেওয়া।’

এই বিবৃতিতে সই করেছে বিশ্বের ১১৯টি দেশ। ভোটদানে বিরত থেকেছে ৩৬টি দেশ। একমাত্র বেলারুশ বিবৃতির বিপক্ষে ভোট দিয়েছে। ভারত, রাশিয়া-সহ চীন সই দেয়া থেকে বিরত ছিল।

ফেব্রুয়ারি মাসে সেনা অভ্যুত্থানের পর থেকে অন্তত ৪ থেকে ৬ হাজার মিয়ানমারের শরণার্থী ভারতে আশ্রয় নিয়েছে। এমনটাই জানিয়েছে জাতিসংঘ। বিশ্বসংস্থাটির মহাসচিবের মুখপাত্র জানিয়েছেন, মিয়ানমারে সেনাদের নির্যাতন যেভাবে বেড়েছে তাতে বহু মানুষ দেশ ছেড়ে শরণার্থী হয়েছেন প্রতিবেশী দেশগুলোতে।

জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক দপ্তর জানিয়েছে, মে মাসের প্রথম সপ্তাহের পরিসংখ্যান অনুযায়ী কমপক্ষে ৬০ হাজারের বেশি মহিলা-শিশু এবং পুরুষ ঘরছাড়া।

মার্চ-এপ্রিলে ১৭০০-র বেশি শরণার্থী প্রতিবেশী দেশ থাইল্যান্ডে আশ্রয় নিয়েছেন। তাদের মধ্যে অনেকে ফিরেও এসেছেন। ৪ থেকে ৬ হাজার মানুষ ভারতে আশ্রয় নিয়েছেন বলে মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেসের মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিক একটি প্রেস বিবৃতিতে একথা বলেন।

ভারতের সঙ্গে মিয়ানমারের ১৬০০ কিমির বেশি দীর্ঘ কাঁটাতারহীন নো মেন্স ল্যান্ড এলাকা রয়েছে। তার পাশাপাশি বঙ্গোপসাগরও রয়েছে। চারটি উত্তর-পূর্বের রাজ্য অরুণাচল প্রদেশ, নাগাল্যান্ড, মণিপুর এবং মিজোরামের সঙ্গে সীমান্ত রয়েছে মিয়ানমারের।

উল্লেখ্য, গত ফেব্রুয়ারি মাসে সেনাঅভ্যুত্থানের পর থেকেই মিয়ানমারের পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠে। গণতন্ত্রকামীদের প্রবল বিক্ষোভের পর বার্মিজ সেনার বিরুদ্ধে মোর্চা খুলেছে বেশ কয়েকটি বিচ্ছিন্নতাবাদী সশস্ত্র সংগঠন। সামরিক জান্তার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ লড়াইয়ের ডাক দিয়েছে একাধিক বিদ্রোহী সংগঠন। এবার জাতিসংঘেরও চাপের মুখে পড়ে মিয়ানমারের সেনাশাসকরা।

আরও পড়ুন:
শোকজের জবাব দেবেন আলাপন
মমতার দলে আলাপন, শোকজ কেন্দ্রের

শেয়ার করুন

যুক্তরাষ্ট্রে কসমেটিক্স পণ্যে উচ্চ মাত্রার ফ্লোরিন

যুক্তরাষ্ট্রে কসমেটিক্স পণ্যে উচ্চ মাত্রার ফ্লোরিন

নতুন গবেষণায় বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় পাওয়া যায় এমন ২৩১টি কসমেটিক্স পণ্যের মধ্যে ৫২ শতাংশ পণ্যে উচ্চ মাত্রায় ফ্লোরিনের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। এর অর্থ ওইসব পণ্যে পিএফএএস থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় বিক্রি হওয়া বিপুল সংখ্যক কসমেটিক্স পণ্যে উচ্চ মাত্রায় ফ্লোরিন পাওয়া গেছে। ওইসব পণ্যে ‘ফরেভার কেমিক্যাল’ নামে পরিচিত সম্ভাব্য ক্ষতিকর পার-অ্যান্ড পলিফ্লুরোঅ্যালকাইল সাবসটেন্সেস (পিএফএএস) থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সায়েন্স এলার্টের শনিবারের প্রতিবেদনে বলা হয়, মানুষের তৈরি হাজার হাজার যৌগিক পদার্থের সংমিশ্রণ পিএফএএস। বিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময় থেকে গৃহস্থালী ও বাণিজ্যিক পণ্য উৎপাদনে এসব যৌগ ব্যবহার হয়ে আসছে।

গত কয়েক দশকের গবেষণায় দেখা যায়, টেকসই পিএফএএস পরিবেশে ব্যাপক মাত্রায় পাওয়া যায়। মানুষ ও জীবজন্তুর স্বাস্থ্য সংক্রান্ত ক্ষতিকর প্রভাবের সঙ্গে পিএফএএস যৌগিক পদার্থের উচ্চ মাত্রায় উপস্থিতির যোগসূত্র রয়েছে।

পিএফএএস সম্ভাব্য ও অজানা ঝুঁকির কারণ হলেও এতে বিভিন্ন ধরনের যৌগ উপস্থিত থাকায় অনেক ‘ফরেভার কেমিক্যাল’ এখনও বিভিন্ন পণ্যে ব্যবহৃত হচ্ছে। ইউরোপ ও এশিয়ার কসমেটিক্স পণ্যে এই কেমিক্যাল পাওয়ার ঘটনা আগের এক গবেষণায় জানা যায়।

বিজ্ঞানীদের গবেষণায় সম্প্রতি দেখা যায়, উত্তর আমেরিকায় বিক্রি হওয়া কসমেটিক্স পণ্যে পিএফএএস কেমিক্যাল রয়েছে।

নতুন ওই গবেষণায় বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় পাওয়া যায় এমন ২৩১টি কসমেটিক্স পণ্যের মধ্যে ৫২ শতাংশ পণ্যে উচ্চ মাত্রায় ফ্লোরিনের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। এর অর্থ ওইসব পণ্যে পিএফএএস থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অফ নটর ডেমের পদার্থবিদ গ্রাহাম পিয়াসলি বলেন, ‘এসব কসমেটিক্স পণ্য চোখ ও মুখের চারদিকে দেয়া হয়। চামড়া, টিয়ার ডাক্টের পাশাপাশি শ্বাস বা খাবার গ্রহণের সময় এসব যৌগ শরীরের ভেতরে প্রবেশ করতে পারে।’

তিনি বলেন, ‘পিএফএএস স্থির কেমিক্যাল। রক্তপ্রবাহে একবার ঢুকলে এটি সেখানেই থাকে ও জমাটবদ্ধ হয়।’

পরীক্ষা-নিরীক্ষায় লিপস্টিক, ফাউন্ডেশন, কনসিলারসহ আরও অনেক কসমেটিক্স পণ্যে উচ্চ মাত্রায় ফ্লোরিনের উপস্থিতি পাওয়া গেছে।

ওয়াটারপ্রুফ মাসকারায় অনেক বেশি মাত্রায় ফ্লোরিন পাওয়া গেছে। পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা মাসকারার মধ্যে ৮২ শতাংশ মাসকারায় ওই কেমিক্যাল পাওয়া যায়।

মুখে ব্যবহার করা প্রসাধন সামগ্রীর (পাউডার, ব্লাশ, ব্রোঞ্জার, হাইলাইটার, প্রাইমার, স্প্রে) ৪০ শতাংশের মধ্যে ফ্লোরিন পাওয়া গেছে।

গবেষণা প্রতিবেদনে বিজ্ঞানীরা বলেন, “উচ্চ মাত্রার ফ্লোরিনের উপস্থিতি থাকা পণ্যের (ফাউন্ডেশন, লিকুইড লিপস্টিক, ওয়াটারপ্রুফ মাসকারাসহ অন্যান্য কসমেটিক্স) বিজ্ঞাপনে ‘পানি ও তেল প্রতিরোধী’ বা ‘দীর্ঘস্থায়ী’এসব কথা লেখা থাকে।”

গবেষনায় কসমেটিক্স পণ্যে পিএফএএসের উপস্থিতি ধরা পড়লেও এগুলোর মড়কে ভিন্ন কথা লেখা রয়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসনের (এফডিএ) নীতিমালার লঙ্ঘন।

গবেষকেরা বলেন, ‘২৩১ কসমেটিক্স পণ্যের মধ্যে মাত্র ৮ শতাংশ পণ্যের মড়কে উপাদানের অংশে পিএফএএসের উল্লেখ ছিল। আর ২৯টি পণ্যের মধ্যে কেবল ৩ শতাংশ পণ্যের উপাদানে পিএফএএস যুক্ত ছিল।’

আরও পড়ুন:
শোকজের জবাব দেবেন আলাপন
মমতার দলে আলাপন, শোকজ কেন্দ্রের

শেয়ার করুন

নির্ধারিত সময়ের আগেই ভারতে করোনার তৃতীয় ঢেউয়ের শঙ্কা

নির্ধারিত সময়ের আগেই ভারতে করোনার তৃতীয় ঢেউয়ের শঙ্কা

অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অফ মেডিক্যাল সায়েন্সের ডিরেক্টর রণদীপ গুলেরিয়া বলেন, ‘বিভিন্ন রাজ্যে আনলক পর্যায় শুরু হতেই জনগণের মধ্যে সচেতনতা উধাও। প্রথম ও দ্বিতীয় ঢেউ থেকে আমরা যেকোনো শিক্ষা নিইনি। তা বোঝা যাচ্ছে। আবার নানা জায়গায় জমায়েত হচ্ছে। মানুষ ভিড় করছে। সংক্রমণের সংখ্যা বাড়তে যদিও সময় লাগবে। তবে এভাবে চললে ৬–৮ সপ্তাহের মধ্যে তৃতীয় ঢেউ আসতে পারে।’

করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউ নিয়ন্ত্রণে আসতেই শুরু ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে শুরু হয়েছে ‘আনলক’ প্রক্রিয়া। আর সেই আনলক পর্বে মানুষের অসচেতনতায় উদ্বিগ্ন বিচারপতি-চিকিৎসক-বিশেষজ্ঞরা। তাদের আশঙ্কা নির্ধারিত সময়ের আগেই শুরু হয়ে যেতে পারে করোনার তৃতীয় ঢেউ।

শুক্রবারেই সাবধানী বাণী শুনিয়েছে দিল্লি হাইকোর্ট। দীর্ঘ দেড় মাসেরও বেশি সময় লকডাউনে বন্দি থাকার পর সংক্রমণের হার ৫ শতাংশের নিচে নামায় ধীরে ধীরে আনলক প্রক্রিয়া ঘোষণা করেছিলেন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল। এই সিদ্ধান্ত বড় বিপদ ডেকে আনতে পারে বলেই আশঙ্কা প্রকাশ করে দিল্লি হাইকোর্ট।

শুক্রবার সকালে হাইকোর্টের তরফে সতর্ক করে বলা হয়, ‘কোভিড নিয়মবিধি ভঙ্গ হলে সংক্রমণের তৃতীয় ঢেউই এগিয়ে আসবে।’

এদিন রাতেই মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী উদ্ধব ঠাকরের গঠিত টাস্কফোর্সের বিশেষজ্ঞদের হুঁশিয়ারি, আনলক পর্ব শুরু হতেই যে হারে জনগণের ভিড় দেখা যাচ্ছে, তাতে নির্ধারিত সময়ের আগেই সংক্রমণের তৃতীয় ঢেউ আছড়ে পড়তে পারে।

আবার শনিবার সকালেই এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অফ মেডিক্যাল সায়েন্সের ডিরেক্টর রণদীপ গুলেরিয়া বলেন, ‘বিভিন্ন রাজ্যে আনলক পর্যায় শুরু হতেই জনগণের মধ্যে সচেতনতা উধাও। প্রথম ও দ্বিতীয় ঢেউ থেকে আমরা যেকোনো শিক্ষা নিইনি। তা বোঝা যাচ্ছে। আবার নানা জায়গায় জমায়েত হচ্ছে। মানুষ ভিড় করছে। সংক্রমণের সংখ্যা বাড়তে যদিও সময় লাগবে। তবে এভাবে চললে ৬–৮ সপ্তাহের মধ্যে তৃতীয় ঢেউ আসতে পারে।’

এরপরই গুলেরিয়ার সংযোজন, ‘কোভিড বিধি সঠিকভাবে মানার উপরই সবকিছু নির্ভর করছে। ভিড় একদমই করা চলবে না।’

সংক্রমণের দুটি ঢেউয়েই সবচেয়ে বেশি বিপর্যস্ত হয়েছিল মহারাষ্ট্র, দিল্লি। তাই এবারও আগে থেকেই প্রস্তুতি নিয়ে রাখতে চান মুখ্যমন্ত্রী উদ্ধব ঠাকরে, অরবিন্দ কেজরিওয়ালরা। সেই কারণেই তৃতীয় ঢেউয়ের সম্ভাবনা ও তীব্রতা নিয়ে কোভিড টাস্ক ফোর্সের মতামত চেয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী।

এ বিষয়ে টাস্ক ফোর্সের সদস্য ড. রাহুল পণ্ডিত বলেন, ‘যদি সময়ের আগেই তৃতীয় ঢেউ আছড়ে পড়ে, তার জন্য আমাদের আগে থেকেই প্রস্তুতি নিতে হবে। আমাদের কিছু গাণিতিক মডেল অনুসরণ করে এবং তারপর বিশ্বের বাকি দেশগুলিতে সংক্রমণের ঢেউগুলি কেমন ছিল, তা যাচাই করেই পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নিতে হবে।’

রাহুল জানান, গাণিতিক মডেলের হিসাব অনুযায়ী দুটি ঢেউয়ের মাঝে ১০০ থেকে ১২০ দিনের ব্যবধান থাকে। বেশ কয়েকটি দেশে ১৪-১৫ সপ্তাহ পরেও সংক্রমণের ঢেউ আছড়ে পড়েছে। আবার কোনো দেশে ৮ সপ্তাহের ব্যবধানেই ফের সংক্রমণ বেড়েছে।

‘সুতরাং আমাদের আগে থেকেই প্রস্তুতি নিতে হবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে রাজ্যে সক্রিয় রোগীর সংখ্যা দেড় লক্ষের কাছাকাছি হলেও তৃতীয় ঢেউ সর্বোচ্চ শিখরে পৌঁছলে সক্রিয় রোগীর সংখ্যা ৮ লক্ষে পৌঁছতে পারে। সংক্রমণের দুটি ঢেউয়ে সংক্রমণ যারা এড়িয়ে গেছেন, এবার তাদের সংক্রমিত হওয়ার সম্ভাবনাই সবচেয়ে বেশি বলে মনে করছেন কোভিড টাস্ক ফোর্সের সদস্যারা।’

যশলোক হাসপাতালের চিকিৎসক ওম শ্রীবাস্তব বলেন, ‘সংক্রমণের এই ঢেউয়ে শিশুদের আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে আগে থেকেই কিছু বলা খুব কঠিন। যারা আগের দুটি ঢেউ এড়িয়ে গিয়েছেন, তাদের এই ঢেউয়ে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি।’

ধীরে ধীরে সংক্রমণ কমায় একে একে সমস্ত পরিষেবা আনলকের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল। তবে বাজারহাট, শপিং মল খুলতেই উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যায় সর্বত্র। কয়েক মাসের বিপর্যয় কাটিয়েও সাধারণ মানুষের এই অসচেতনতা বড় বিপদ ডেকে আনবে বলে আগেই সতর্ক করেছিলেন চিকিৎসকরা।

চলতি মাসের শুরুতেই মুখ্যমন্ত্রী কেজরিওয়াল জানিয়েছিলেন, করোনা তৃতীয় ঢেউ কবে রাজ্যে আছড়ে পড়তে পারে, তা নিয়ে আগাম সতর্কতা জানাতে একটি কোভিড টাস্ক ফোর্স তৈরি করা হয়েছে। বিভিন্ন হাসপাতালে আইসিইউ বেড ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সামগ্রীর পরিমাণও বাড়ানো হচ্ছে।

আরও পড়ুন:
শোকজের জবাব দেবেন আলাপন
মমতার দলে আলাপন, শোকজ কেন্দ্রের

শেয়ার করুন

রক্ষণশীল রায়েসি হচ্ছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট

রক্ষণশীল রায়েসি হচ্ছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট

তেহরানের কাছে শাহর-ই রে এলাকায় শুক্রবার ভোট দেয়ার পর ইব্রাহিম রায়েসি। ছবি: ফার্স

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, এখন পর্যন্ত গণনা হয়েছে প্রায় ৯০ শতাংশ ভোট। এর মধ্যে রায়েসি পেয়েছেন এক কোটি ৭৮ লাখ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মোহসেন রেজাই ভোট পেয়েছেন ৩৩ লাখ।

ইরানের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বড় ব্যবধানে জয়ী হতে চলেছেন রক্ষণশীল সাইয়েদ ইব্রাহিম রায়েসি।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রকাশিত প্রাথমিক ফলে এমন আভাস পাওয়া গেছে।

ইরানের উপ-স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জামাল ওর্ফের বরাত দিয়ে রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভির শনিবারের প্রতিবেদনে জানানো হয়, শুক্রবারের নির্বাচনে ২ কোটি ৮৬ লাখ নাগরিক ভোট দিয়েছেন।

তিনি জানান, এখন পর্যন্ত গণনা হয়েছে প্রায় ৯০ শতাংশ ভোট। এর মধ্যে রায়েসি পেয়েছেন এক কোটি ৭৮ লাখ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মোহসেন রেজাই ভোট পেয়েছেন ৩৩ লাখ।

অন্য দুই প্রার্থীর মধ্যে নাসের হেম্মাতি পেয়েছেন ২৪ লাখ ভোট। আমির হোসেন গাজিজাদেহ-হাশেমি ভোট পান প্রায় ১০ লাখ।

ওর্ফ বলেন, তিনি সুনির্দিষ্ট সংখ্যা এখনই প্রকাশ করতে চান না। কারণ ভোটগণনা চলছে। তিনি শুধু প্রাথমিক তথ্য দিয়েছেন।

আল জাজিরার প্রতিবেদনে জানানো হয়, ভোটের ফল প্রকাশের মধ্যেই ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি হোসেইনি খামেনির অনুসারী রায়েসির কাছে পরাজয় স্বীকার করে নিয়েছেন বাকি তিন প্রার্থী।

চার প্রার্থীর মধ্যে একমাত্র সংস্কারপন্থি ও ইরানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাবেক গভর্নর হেম্মাতি এক চিঠিতে লেখেন, ‘আমার আশা, সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির নেতৃত্বে আপনার (রায়েসি) সরকার জাতির জীবনে স্বস্তি ও সমৃদ্ধি নিয়ে আসবে।’

তবে হেম্মাতি বা রেজাইয়ের পরাজয় মেনে নেয়াকে তাৎক্ষণিকভাবে স্বীকৃতি দেননি রায়েসি।

গাজিজাদেহ-হাশেমি রাখঢাক না রেখেই অভিনন্দন জানিয়েছেন রায়েসিকে।

তিনি বলেন, ‘দেশের মানুষের মাধ্যমে নির্বাচিত রায়েসিকে আমি অভিনন্দন জানাই।’

এদিকে এক বিবৃতিতে ইরানের বিদায়ি প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি নির্বাচনে অভূতপূর্ব উপস্থিতির জন্য দেশটির জনগণ ও সর্বোচ্চ নেতাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন।

এর আগে রুহানি রায়েসির নাম উল্লেখ না করে ‘জনগণের নির্বাচিত’কে অভিনন্দন জানান।

আরও পড়ুন:
শোকজের জবাব দেবেন আলাপন
মমতার দলে আলাপন, শোকজ কেন্দ্রের

শেয়ার করুন

কাশ্মীরে বিধানসভা ভোটের প্রস্তুতি, ২৪ জুন সর্বদলীয় বৈঠক

কাশ্মীরে বিধানসভা ভোটের প্রস্তুতি, ২৪ জুন সর্বদলীয় বৈঠক

কাশ্মীরের বিশেষ ক্ষমতা প্রত্যাহারের পর দীর্ঘদিন চলে কারফিউ। ছবি: এএফপি

উপত্যকায় গণতান্ত্রিক রীতি মেনেই সম্পন্ন হয়েছে জেলা উন্নয়ন পর্যদের নির্বাচনও। এবার তাই জম্মু-কাশ্মীরে আরও বৃহৎ রাজনৈতিক পদক্ষেপের তোড়জোড় শুরু করল কেন্দ্র।

কাশ্মীর আপাতত শান্ত। ত্বরান্বিত হচ্ছে উন্নয়নকাজ। উপত্যকার উন্নয়ন নিয়ে শুক্রবারই জম্মু ও কাশ্মীরের লেফটেন্যান্ট গভর্নর মনোজ সিনহা, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল, স্বরাষ্ট্রসচিব অজয় ভাল্লা, ইন্টেলিজেন্স ব্যুরো (আইবি) ডিরেক্টর অরবিন্দ কুমার, ‘র’ প্রধান সামন্ত কুমার গোয়েল, কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর ডিরেক্টর জেনারেল কুলদীপ সিং এবং জম্মু ও কাশ্মীরের ডিজিপি দিলবাগ সিংয়ের সঙ্গে বিশেষ বৈঠক করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।

এর মধ্যেই উপত্যকায় গণতান্ত্রিক রীতি মেনেই সম্পন্ন হয়েছে জেলা উন্নয়ন পর্যদের নির্বাচনও। এবার তাই জম্মু-কাশ্মীরে আরও বৃহৎ রাজনৈতিক পদক্ষেপের তোড়জোড় শুরু করল কেন্দ্র।

২৪ জুন নয়াদিল্লিতে সর্বদলীয় বৈঠকের ডাক দিয়েছে ভারত সরকার। মূলত কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে বিধানসভাভিত্তিক এলাকা পুনর্গঠন নিয়ে এই বৈঠকে আলোচনা হবে বলে জানা গেছে।

কবে হতে পারে জম্মু-কাশ্মীরের বিধানসভা ভোট। তা নিয়ে কৌতূহল তুঙ্গে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের অনেকেই মনে করছেন, উপত্যকার রাজনৈতিক দলগুলোকে নিয়ে কেন্দ্রের এই বৈঠকই জম্মু-কাশ্মীরের আগামী বিধানসভা ভোটের প্রথম পদক্ষেপ।

২০১৯ সালের ৫ আগস্ট ভারত সরকার সংবিধান থেকে ৩৭০ অনুচ্ছেদ মুছে দেয়ায় জম্মু-কাশ্মীরের ‘বিশেষ মর্যাদা’ বিলোপ পায় উপত্যকার। জম্মু ও কাশ্মীরকে ভেঙে দুটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল হিসেবে ঘোষণা করা হয়। এরপরই দীর্ঘ সময় ধরে উপত্যকায় শান্তি বজায় রাখতে জারি ছিল কারফিউ।

৩৭০ অনুচ্ছেদ বিলুপ্ত করার পর থেকেই কেন্দ্রের শাসক দল বিজেপির বিরুদ্ধে চলে যায় জম্মু-কাশ্মীরের সব রাজনৈতিক দল। সেই সময়ে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন মেহবুবা মুফতি, ফারুক আবদুল্লা, ওমর আবদুল্লার মতো শীর্ষ নেতারা।

সর্বদলে যোগ দেয়ার জন্য কেন্দ্রের পক্ষে এরই মধ্যে জম্মু-কাশ্মীরের রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে আহ্বান পৌঁছেছে।

তবে বিজেপি বিরোধী গুপকার জোট এই বৈঠকে অংশ নেবে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়।

একটি ইংরেজি দৈনিককে এই তথ্য জানিয়েছেন পিডিপি নেত্রী মেহেবুবা মুফতি।

এক সপ্তাহ আগেই গুপকার জোটের বৈঠক হয়। সেখানেই জোটের চেয়ারপারসন তথা ন্যাশনাল কনফারেন্স প্রধান ফারুখ আবদুল্লাহ বলেছিলেন, ‘আমরা কেন্দ্রের সঙ্গে আলোচনার দরজা বন্ধ করে রাখিনি। প্রস্তাব এলে ভেবে দেখা যাবে।’

সূত্রের খবর, জম্মু-কাশ্মীরের ডিলিমিটেশন কমিটি উপত্যকার ২০টি জেলা প্রশাসনকে গত মঙ্গলবার চিঠি দিয়ে প্রতি জেলা ও বিধানসভার জনঘনত্ব, স্থানবিবরণের তথ্য চেয়ে পাঠায়।

এর মধ্যেই প্রায় সব জেলাই তথ্য কমিশনের কাছে জমা করেছে। ২০২০ সালের মার্চে উপত্যকা ডিলিমিটেশন কমিশন গঠন করা হয়েছিল। যার মেয়াদ এ বছর মার্চে এক বছরের জন্য বৃদ্ধি করা হয়েছে।

চলতি বছর ফেব্রুয়ারিতে অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি রঞ্জন প্রকাশ দেশাইয়ের নেতৃত্বে এই কমিশনের বৈঠকে মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং ও সাংসদ যুগল কিশোর ছাড়া বাকি তিন সদস্য অংশ নেননি।

এই কমিশনের বাকি সদস্যরা হলেন ফারুখ আবদুল্লাহ, মহম্মদ আকবর ও হাসনয়েন মাসুদি।

সরকারের একটি সূত্র জানাচ্ছে, ‘সুরক্ষা থেকে উন্নয়ন, কাশ্মীরের পরিস্থিতি আপাতত নিয়ন্ত্রণে। এখনই পরবর্তী রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড শুরুর সেরা সময়। তাই সর্বদল বৈঠকের ডাক দিয়েছে কেন্দ্র। ফলে এই কেন্দ্র শাসিত অঞ্চলের উন্নয়নের পর্যালোচনা বৈঠকও ডাকা হয়েছে।’

এটা কি আসলে জম্মু-কাশ্মীরের বিধানসভা ভোটের প্রধান পদক্ষেপ? কেন্দ্রীয় সরকারের সূত্র জানাচ্ছে, ‘সে রকমটা হতে পারে। পরিস্থিতি ঠিক থাকলে চলতি বছরের শেষেই সেখানে বিধানসভা ভোটের ঘোষণা করা যেতে পারে। তবে ডিলিমিটেশন কমিশনের রিপোর্ট জমার পরই সবকিছু চূড়ান্ত হবে।’

আরও পড়ুন:
শোকজের জবাব দেবেন আলাপন
মমতার দলে আলাপন, শোকজ কেন্দ্রের

শেয়ার করুন