শোকজের জবাব দেবেন আলাপন

পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যসচিব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়। ফাইল ছবি

শোকজের জবাব দেবেন আলাপন

২৮ মে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ডাকা বৈঠক এড়িয়ে বিধি ভাঙার অভিযোগে পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যসচিব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়কে ৩১ মে রাতে শোকজ করে কেন্দ্রীয় সচিবালয়।

ভারতের কেন্দ্রীয় সচিবালয় থেকে করা শোকজের জবাব প্রথমে দিতে না চাইলেও চিঠির জবাব দেবেন বলে জানিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যসচিব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়।

নবান্নের একটি সূত্র বলছে, অবসর নেয়ার চার বছরের মধ্যে সরকারি চিঠির জবাব দিতে বাধ্যবাধকতা রয়েছে কর্মকর্তাদের। এ জন্যই আলাপন শোকজের জবাব দেবেন।

বুধবার বা বৃহস্পতিবারের মধ্যেই তিনি শোকজ চিঠির জবাব পাঠিয়ে দেবেন বলেও জানা গেছে।

২৮ মে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ডাকা বৈঠক এড়িয়ে বিধি ভাঙার অভিযোগে পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যসচিব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়কে ৩১ মে রাতে শোকজ করে কেন্দ্রীয় সচিবালয়।

দুর্যোগ মোকাবিলা আইনে করা শোকজে কেন আলাপনের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে না, তার জবাব তিন দিনের মধ্যে দিতে বলা হয় চিঠিতে।

কিন্তু চাকরির মেয়াদ শেষ হওয়ায় ৩১ মে অবসর নেয়ায় প্রথমে শোকজের জবাব দিতে না চাইলেও পরে মত পাল্টেছেন আলাপন।

জবাবি চিঠিতে আলাপন জানাতে পারেন, দীঘায় তার পূর্বনির্ধারিত বৈঠক ছিল। প্রধানমন্ত্রীর অনুমতি নিয়েই কলাইকুন্ডা ছেড়েছিলেন তিনি।

দীঘায় তার আর মুখ্যমন্ত্রীর জন্য প্রশাসনিক কর্মকর্তারাও অপেক্ষায় ছিলেন। তাছাড়া রাজ্যের মুখ্যসচিব হিসেবে মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ মানতে তিনি বাধ্য।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সেই বৈঠকে উপস্থিত না থাকায় সে রাতেই আলাপনকে পশ্চিমবঙ্গ থেকে বদলি করে দিল্লিতে পাঠানোর আদেশ দেয়া হয়। এরপর বিষয়টি নিয়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

আলাপনের চাকরির মেয়াদ শেষ হলেও তাকে ৩১ মে থেকে আরও তিন মাসের জন্য মেয়াদ বাড়ানো হয়। কিন্তু নতুন করে কাজে যোগ না দিয়ে তিনি ইস্তফা দেন। পরে মুখ্যমন্ত্রী মমতা আলাপনকে তার মুখ্য পরামর্শক হিসেবে নিয়োগ দেন।

মমতা আলাপনের বদলিকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার আদেশ বলে উল্লেখ করেন। ঘটনাটি শুধু পশ্চিমবঙ্গের না থেকে পুরো ভারতেও সমালোচনা শুরু হয়। বিভিন্ন রাজ্যের বিরোধীরা, দেশটির প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেসও এর প্রতিক্রিয়া জানায়।

আরও পড়ুন:
মমতার দলে আলাপন, শোকজ কেন্দ্রের

শেয়ার করুন

মন্তব্য

বঙ্গ রাজনীতিতে মুকুল অ্যাফেক্ট

বঙ্গ রাজনীতিতে মুকুল অ্যাফেক্ট

তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় মুকুল রায়কে উত্তরীয় পরিয়ে স্বাগত জানান।

মুকুলের তৃণমূলে নাটকীয় প্রত্যাবর্তনে ‘সোনার কেল্লা’ সিনেমার ছোট্ট মুকুলের কথাই ভার্চুয়াল দেয়ালে উদ্ভাসিত হয়ে ওঠে, যেখানে শিশু অভিনেতা কুশল চক্রবর্তীর ছবি দিয়ে নিচে লিখে দেয়া হয়েছে 'আমি বাড়ি যাব' কিংবা 'ওরা দুষ্ট লোক'। আর মুহূর্তেই তা ভাইরাল।

মুকুল রায়ের আবার দল বদলে তৃণমূলে পুনর্মিলন, বিজেপিতে ভাঙন আর নেট মাধ্যমে 'দুষ্ট মুকুল' ভাইরাল হয়েছে ।

বিজেপির সর্বভারতীয় সহসভাপতি মুকুল রায় তৃণমূল কংগ্রেসে ফিরে আসায় তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের মধ্যে পুনর্মিলনের আনন্দ দেখা দিয়েছে।

উল্টো দিকে বিজেপির মধ্যে অন্তর্দ্বন্দ্ব আর সংগঠনের দুর্বল দিকটাই বেরিয়ে পড়েছে, যা নিয়ে নেটিজেনরা রঙ্গরসিকতায় ব্যস্ত থেকেছেন সারা দিন। কেননা মুকুল রায়ের হাত ধরেই রাজ্যে বিজেপির নব উত্থান হয়েছিল। তবে বিজেপিতে যাওয়া যে ভুল হয়েছিল, তা অবশ্য স্বীকার করে নেন মুকুল।

এরপর পরম্পরা মেনে গাঠিয়া চিপস দিয়ে মুড়ি মেখে তৃণমূল ভবনে চলে আড্ডা। পুরোনো দিনের গল্প। পুনর্মিলনের আনন্দে মশগুল হয়ে যান তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব।

পুনর্মিলন আড্ডার পরই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সাংবাদিক বৈঠক করেন। সেখানে মুকুল ও শুভ্রাংশুর তৃণমূলে যোগ দেয়ার কথা ঘোষণা করেন তৃণমূলের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায়।

আর এ সময় মুকুলের তৃণমূলে নাটকীয় প্রত্যাবর্তনে ‘সোনার কেল্লা’ সিনেমার ছোট্ট মুকুলের কথাই ভার্চুয়াল দেয়ালে উদ্ভাসিত হয়ে ওঠে, যেখানে শিশু অভিনেতা কুশল চক্রবর্তীর ছবি দিয়ে নিচে লিখে দেয়া হয়েছে 'আমি বাড়ি যাব' কিংবা 'ওরা দুষ্ট লোক।' আর মুহূর্তেই তা ভাইরাল।

অনেকে বলেন, বাংলা রাজনীতির চাণক্য মমতা। আবার কেউ কেউ বলেন, মুকুল রায় বাংলা রাজনীতির চাণক্য।

সে যে-ই হোক, মমতা-মুকুলের রাজনৈতিক যুগলবন্দী কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের ৩৪ বছরের বামফ্রন্ট সরকারকে ছুড়ে ফেলে রাজ্যে তৃণমূল কংগ্রেস সরকার গঠন করে ইতিহাস সৃষ্টি করেছিল ২০১১ সালে।

তাই এই জুটির বিচ্ছেদ বা মিলন ঐতিহাসিক। শুক্রবার তৃণমূল ভবনে তেমনই এক ইতিহাস সৃষ্টি হলো।

বিজেপির সর্বভারতীয় সহসভাপতি মুকুল রায় ও তার ছেলে শুভ্রাংশু রায় বিজেপি ছেড়ে আবার তাদের পুরোনো দল তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দেন। আর তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় তাদের উত্তরীয় পরিয়ে স্বাগত জানান।

২০১৭ সালে মুকুল রায় তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন। প্রায় চার বছর পর মুকুলের আবার তৃণমূলে ফিরে আসা নিয়ে তৃণমূল নেত্রী মমতা বলেছেন, 'ঘরের ছেলে ঘরে ফিরল। ও আমাদের পুরোনো পরিবারের লোক। ঘরে ফিরে মানসিক শান্তি পেয়েছে।'

মুকুল রায় ও তার ছেলে শুভ্রাংশু রায়ের তৃণমূলের ফেরা নিয়ে তৃণমূল নেত্রী মমতা আরও বলেন, 'চরমপন্থি নরমপন্থি বলে একটা ব্যাপার আছে। যারা দলের বিরুদ্ধে গিয়ে নিম্নরুচির আক্রমণ করেছে, সেই গাদ্দারদের ফেরাব না।'

বিজেপি ছেড়ে আবার তৃণমূলে ফেরা নিয়ে মুকুল রায় বলেন, 'বিজেপি করা যায় না, তাই ফিরে এলাম। কেন ফিরলাম তা পরে বিস্তারিত জানাব। নিজের জায়গায় ফিরতে পেরে ভালো লাগছে। বাংলা নিজের জায়গায় ফিরছে। তাদের সামনে থেকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন বাংলার নেত্রী দেশের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।'

বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের পর থেকে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য বিজেপিতে ভাঙন ধরেছে। আদি বিজেপি নব্য বিজেপির অন্তর্কলহ প্রকট হয়েছে। মুকুল রায় বিজেপি ছাড়ায় তা প্রকাশ্যে এসে পড়েছে।

বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষের সঙ্গে বিজেপির সর্বভারতীয় সহসভাপতি মুকুল রায়ের সম্পর্ক একেবারেই ভালো যাচ্ছিল না। দিলীপের কথায়, 'তিনি (মুকুল) থাকায় লাভ তো বিশেষ কিছু হয়নি। ক্ষতি আর কী হবে?'

বিজেপির কেন্দ্রীয় সম্পাদক অনুপম হাজরা টুইটবার্তায় বলেন, 'নির্বাচন চলাকালে দু-একজন নেতাকে নিয়ে অতি মাতামাতি এবং যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও লবিবাজি করে বাকিদের বসিয়ে রেখে অবজ্ঞা বা অপমান করার করুণ পরিণতি।'

বিজেপির রাজ্য সহসভাপতি রাজকমল পাঠক বলেন, 'যারা দেশের মানুষের সেবার জন্য একটা আদর্শ নিয়ে পার্টি করে, নিজের স্বার্থসিদ্ধির জন্য নয়, তারা দল বদল করে না। এর থেকে আমাদের শিক্ষা নিয়ে আগামী দিনে এগোতে হবে।'

বিজেপি নেতা অর্জুন সিংহ বলেন, 'মুকুল রায়ের সম্পর্কে সব সময় সন্দেহ ছিল । তিনি আমাদের দলের খবর তৃণমূলে দিতেন। ফলে আমাদের হার হয়েছে।'

বর্ষীয়ান বিজেপি নেতা তথাগত রায় বলেন, 'মলমূত্র ত্যাগ করলে মানুষ দুর্বল হয় না, সবলই হয়।'

আর এই আশু ভাঙনের প্রতিক্রিয়ায় বিজেপি নেতা শমীক ভট্টাচার্য বলেন, 'দু-একজন চলে গেলে কিছু এসে যায় না। আমাদের দল নেতানির্ভর নয়।'

তৃণমূলে অভিষেক-মুকুল বিরোধ নিয়ে তৃণমূল নেত্রী মমতা বলেন, 'ওদের মধ্যে কোনো দিন বিরোধ ছিল না।' মুকলও সে কথা স্বীকার করেন।

আর তাই রাতে মুকুলের তৃণমূলে ফেরা নিয়ে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক টুইট করে লেখেন, 'তৃণমূল পরিবারে মুকুল রায়কে স্বাগত জানিয়ে আমি খুশি। বিজেপিতে তার বিভিন্ন সংগ্রামের সঙ্গে আমরা সহমর্মী। তাকে আশ্বাস দিচ্ছি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে ভারতবাসীর উজ্জ্বল ভবিষ্যতের লক্ষ্যে আমরা দল হিসেবে একসঙ্গে কাজ করব।'

সূত্রের খবর, মুকুল রায় যখন সল্টলেকের বাড়ি থেকে বেরিয়ে গাড়ি নিয়ে দল বদলের লক্ষ্যে তৃণমূল ভবনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিলেন, তখন একের পর এক ফোন আসছিল বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের পক্ষ থেকে।

এমনকি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও মুকুলকে ফোন করেছিলেন বলে সূত্রের খবর। কিন্তু মুকুল একটিও ফোন ধরেননি।

আরও পড়ুন:
মমতার দলে আলাপন, শোকজ কেন্দ্রের

শেয়ার করুন

উইঘুর মুসলমান নির্যাতন: পুলিৎজার পেলেন মেঘা

উইঘুর মুসলমান নির্যাতন: পুলিৎজার পেলেন মেঘা

উইঘুর নিয়ে প্রতিবেদনের জন্য পুলিৎজার পুরস্কার পান সাংবাদিক মেঘা রাজাগোপালান। ছবি: পুলিৎজার সেন্টার

শিনজিয়াং প্রদেশে উইঘুরসহ অন্যান্য সম্প্রদায়ের মুসলমানদের আটকে রাখতে গোপনে নির্মিত বন্দিশিবিরের ওপর অনুসন্ধানী সিরিজ প্রতিবেদন করেন মেঘা ও তার দুই সহযোগী। বিশ্বজুড়ে সাড়া ফেলা ওই প্রতিবেদনই তাদের এনে দিয়েছে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি।

চীনের শিনজিয়াং প্রদেশে উইঘুর সম্প্রদায়ের ওপর দেশটির সরকারের অবর্ণনীয় নির্যাতনের ওপর অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের জন্য পুলিৎজার পেয়েছেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত সাংবাদিক মেঘা রাজাগোপালান। এই প্রতিবেদন তৈরিতে সহযোগিতা করায় তার সঙ্গে এই পুরস্কার পেয়েছেন আরও দুই কন্ট্রিবিউটর।

শিনজিয়াং প্রদেশে উইঘুরসহ অন্যান্য সম্প্রদায়ের মুসলমানদের আটকে রাখতে গোপনে নির্মিত বন্দিশিবিরের ওপর অনুসন্ধানী প্রতিবেদনটি করেন তারা। তাদের ওই সিরিজ প্রতিবেদনে নির্যাতনের ওই সব অবকাঠামো প্রকাশ্যে আসে।

পিটিআইয়ের প্রতিবেদনে শনিবার বলা হয়, শিনজিয়াংকে ঘিরে মেঘার সিরিজ প্রতিবেদন ইন্টারন্যাশনাল রিপোর্টিং ক্যাটাগরিতে পুলিৎজার পুরস্কার জিতে নেয়।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম বাজফিড নিউজে কর্মরত মেঘা।

বাজফিড নিউজের পক্ষ থেকে বলা হয়, ২০১৭ সালে শিনজিয়াংয়ের বন্দিশিবিরে কয়েক হাজার মুসলমানকে আটকে রাখা শুরু করে চীন। ওই বছর মেঘাই প্রথম ওই সব শিবিরে যান। বন্দিশিবিরের অস্তিত্বের অভিযোগ সে সময় বারবার অস্বীকার করেছিল চীন।

মেঘার পুলিৎজার জেতা নিয়ে বাজফিড বলেছে, ‘চীন সরকার মেঘার অনুসন্ধানী কাজ বন্ধ করে দিতে চেয়েছিল। তার ভিসা বাতিল এবং তাকে দেশ থেকে বের করে দিতে চেয়েছিল।

‘পুরো শিনজিয়াং প্রদেশে পশ্চিমা দেশের নাগরিকসহ সাংবাদিকদের প্রবেশ বন্ধ করার উদ্যোগ নিয়েছিল চীন। তখন বন্দিদের নিয়ে প্রাথমিক তথ্য পাওয়াও কঠিন হয়ে পড়ে।’

তবে চীন সরকারের এসব বাধার সামনে দমে যাননি মেঘা। কর্মস্থল লন্ডন থেকে দুই কন্ট্রিবিউটরকে সঙ্গে নিয়ে শিনজিয়াংয়ে উইঘুর নির্যাতন নিয়ে প্রতিবেদনের কাজ অব্যাহত রাখেন তিনি।

উইঘুর মুসলমান নির্যাতন: পুলিৎজার পেলেন মেঘা

শিনজিয়াংয়ে উইঘুরদের ওপর নির্যাতনের নিন্দা জানিয়ে ইস্তাম্বুলে চীনের কনস্যুলেটের বাইরে বিক্ষোভ। ছবি: এএফপি

কন্ট্রিবিউটরদের একজন স্থপতি অ্যালিসন কিলিং। ফরেন্সিক অ্যানালাইসিস অফ আর্কিটেকচার ও স্যাটেলাইট ইমেজেস অফ বিল্ডিং বিষয়ে বিশেষজ্ঞ তিনি। অন্যজন প্রোগ্রামার ক্রিস্টো বুসচেক।

বাজফিড নিউজের প্রধান সম্পাদক মার্ক স্কুফস বলেন, ‘এ সময়ের অন্যতম ভয়াবহ মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়ে বিশ্ববাসীকে জানাতে শিনজিয়াং প্রতিবেদন খুবই দরকারী ছিল।’

পুলিৎজার পুরস্কার জয়ের পর লন্ডন থেকে মেঘা বাজফিড নিউজকে জানান, টেলিভিশনে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান দেখা হয়নি তার। কারণ পুরস্কার জিতবেন, তা তিনি আশাই করেননি। সম্পাদক স্কুফস তাকে ফোনে সুখবরটি দেন।

মেঘা বলেন, শিনজিয়াংয়ের প্রতিবেদন তৈরিতে সহযোগিতা করা পুরো দলের প্রতি গভীরভাবে কৃতজ্ঞ তিনি।

দুই কন্ট্রিবিউটর কিলিং ও বুসচেক, তার সম্পাদক অ্যালেক্স ক্যাম্পবেল, বাজফিড নিউজের জনসংযোগ বিভাগের দল, তহবিল দেয়া সংস্থা ও পুলিৎজার সেন্টারকে ধন্যবাদ জানান মেঘা।

আরও পড়ুন:
মমতার দলে আলাপন, শোকজ কেন্দ্রের

শেয়ার করুন

মেয়াদ শেষের আগে ক্ষমতা টেকাতে মরিয়া নেতানিয়াহু

মেয়াদ শেষের আগে ক্ষমতা টেকাতে মরিয়া নেতানিয়াহু

তেল আবিবে পার্লামেন্টের কাছে শুক্রবার বিক্ষোভ করেন নেতানিয়াহুর সমর্থকরা। ছবি: এএফপি

বিশ্লেষকরা বলছেন, রোববার নতুন সরকারের শপথ গ্রহণ ঠেকাতে নেতানিয়াহু আর তার সমর্থকরা কতোটা মরিয়া, তারই ইঙ্গিত মিলেছে সম্ভাব্য বিদায়ী প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক বক্তব্যে। তার হুমকি দেয়ার এ ভঙ্গি ইসরায়েলের গত এক দশকের রাজনীতিতে অপরিচিত কিছু নয়।

সব ঠিক থাকলে রোববারই সমাপ্ত হবে ইসরায়েলের ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘমেয়াদি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর শাসনকাল। এমন পরিস্থিতিতে তার আভাস, খুব সহজে রাজনীতির মঞ্চ ছাড়ছেন না তিনি।

বার্তা সংস্থা এপির প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, প্রতিপক্ষদের বিরুদ্ধে ভোটারদের সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগ তুলেছেন ১২ বছরের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু।

তার দাবি, তিনি ‘রাষ্ট্রীয় ষড়যন্ত্রের বলি’ হয়েছেন।

চলতি সপ্তাহে চ্যানেল টোয়েন্টিকে একটি সাক্ষাৎকার দেন নেতানিয়াহু।

নতুন নেতৃত্বে দেশকে কেমন অবস্থায় তিনি দেখেন জানতে চাইলে রহস্যের সুরে কথা বলেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘তারা ভালোদের মূলোৎপাটন করছে। আর খারাপ ও বিপজ্জনকদের ক্ষমতায় আনছে। এই জাতির ভাগ্য নিয়ে আমি শঙ্কিত।’

নেতানিয়াহুর এমন বক্তব্যে ইসরায়েলের রাজনীতিতে নতুন করে উত্তাপ দেখা দিয়েছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, রোববার নতুন সরকারের শপথ গ্রহণ ঠেকাতে নেতানিয়াহু আর তার সমর্থকরা কতোটা মরিয়া, তারই ইঙ্গিত মিলেছে সম্ভাব্য বিদায়ী প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক বক্তব্যে। তার হুমকি দেয়ার এ ভঙ্গি ইসরায়েলের গত এক দশকের রাজনীতিতে অপরিচিত কিছু নয়।

এর মধ্যে শুক্রবার পার্লামেন্ট নেসেটের বাইরে বিশাল বিক্ষোভ করেছেন নেতানিয়াহুর সমর্থকরা।

জাতীয় নিরাপত্তার দোহাই দিয়ে প্রায় নিয়মিত ইসরায়েলকে রক্ষায় একমাত্র সক্ষম ব্যক্তি হিসেবে নিজেকে উপস্থাপন করেন নেতানিয়াহু।

নিরপেক্ষ থিংক-ট্যাঙ্ক ইসরায়েল ডেমোক্রেসি ইনস্টিটিউটের প্রেসিডেন্ট ইয়েহানান প্লেজনার বলেন, ‘নেতানিয়াহুর শাসনামলে ব্যক্তিকেন্দ্রিক রাজনীতি যেভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, ইসরায়েলে এর আগে এমনটি কখনো দেখা যায়নি।’

বরাবরই প্রতিদ্বন্দ্বীদের তাচ্ছিল্য করে এসেছেন নেতানিয়াহু। বিভাজন তৈরির মাধ্যমে জয়ের কৌশল তার।

ইহুদিদের মধ্যে যারা বিরোধী, তাদের দুর্বল ও আত্মবিদ্বেষী ‘বামপন্থি’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন তিনি। আর আরবদের আখ্যায়িত করেন সন্ত্রাসীঘেঁষা বলে।

বিশ্লেষকদের মতে, এ কৌশলে ভালোই লাভবান হয়েছেন নেতানিয়াহু। ডানপন্থি লিকুদ পার্টিকে এভাবেই ১৫ বছরের বেশি সময় ধরে শক্ত হাতে নিয়ন্ত্রণ করছেন তিনি।

ফিলিস্তিনিদের সংকট সমাধানে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার চাপকে বুড়ো আঙুল দেখিয়েছেন নেতানিয়াহু।

ইরানের সঙ্গে পরমাণু চুক্তির বিরোধিতা করে ২০১৫ সালে খোদ আমেরিকান কংগ্রেসের অধিবেশনে দাঁড়িয়ে ঔদ্ধত্য দেখান তিনি।

সে সময় চুক্তি আটকাতে না পারলেও পরবর্তীতে ওবামার উত্তরসূরী আরেক সাবেক প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের কাছ থেকে জেরুজালেমের জন্য ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি আদায় করে ছেড়েছেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী। এমনটি চারটি আরব রাষ্ট্রের সঙ্গে কূটনীতি পুনঃপ্রতিষ্ঠাও করেছেন।

ইরানের বিরুদ্ধে ছায়া যুদ্ধ উস্কে দিতে নেতানিয়াহু সফল হয়েছেন বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা। অন্যদিকে অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় তিনবারের যুদ্ধ বাদ দিলে ফিলিস্তিনিদের সঙ্গে কয়েক দশকের সংঘাতপ্রবণ সম্পর্কে তেমন কোনো পরিবর্তন আসেনি।

ইয়েহানান প্লেজনার বলেন, ‘নেতানিয়াহু ইসরায়েলের ক্ষমতায় আসার আগে ফিলিস্তিনের সঙ্গে সংকট যে অবস্থায় ছিল, এখনও তাই আছে। উল্লেখযোগ্য কোনো পরিবর্তন বা কূটনীতিতে সাফল্য কিছুই তেমনভাবে ঘটেনি। ভূমি দখলও আগের মতোই হচ্ছে।’

কিন্তু এখন নেতানিয়াহুর কিছু কৌশল বুমেরাং হয়ে তার ওপরই আঘাত হানার পথে। ইসরায়েলের দীর্ঘকালের মিত্র যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক হলেও, সাবেক ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে তার সুসম্পর্কে কারণে ক্ষমতাসীন ডেমোক্রেটিক পার্টিতে গ্রহণযোগ্যতা বেশ হারিয়েছেন নেতানিয়াহু।

দুর্নীতির অভিযোগে নিজ দেশেও আগের মতো জনসমর্থন নেই তার। সংবাদমাধ্যম, বিচার বিভাগ, পুলিশ, মধ্যপন্থি, বামপন্থি, এমনকি এক সময়ের মিত্র কট্টর জাতীয়তাবাদীদেরও ক্ষেপিয়ে তুলেছেন নেতানিয়াহু।

২০০৯ সাল থেকে টানা প্রধানমন্ত্রী পদে আছেন নেতানিয়াহু। এর আগে ১৯৯৬ থেকে ১৯৯৯ সাল পর্যন্তও প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। অথচ গত দুই বছরে ইসরায়েলে চারটি সাধারণ নির্বাচনেই সবচেয়ে বেশি আসন পেলেও একটিতেও সরকার গঠনে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি তার দল।

সবশেষ চলতি বছরের মার্চে সাধারণ নির্বাচনের পর জোট বেঁধেছে ইয়াশ আতিদ, ইয়ামিনা, আরবভিত্তিক রা’ম পার্টিসহ আটটি দল। মতাদর্শগত পার্থক্য সত্ত্বেও কেবল নেতানিয়াহুকে উৎখাতে এক হয়েছে দলগুলো।

সবশেষ ধাপ পার্লামেন্টে আস্থা ভোটে জয় পেলেই ক্ষমতা নেবে নতুন সরকার।

তা না হলে পঞ্চম সাধারণ নির্বাচনের দিকে ধাবিত হবে ইসরায়েল।

আরও পড়ুন:
মমতার দলে আলাপন, শোকজ কেন্দ্রের

শেয়ার করুন

তলানিতে রাশিয়া-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক: পুতিন

তলানিতে রাশিয়া-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক: পুতিন

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। ছবি: এএফপি

পুতিন বলেন, ‘বাইডেন একেবারেই অন্য মানুষ। ট্রাম্পের একদম উল্টো। এটা কিছু দিক থেকে কল্যাণকর, কিছু দিক থেকে নয়। বর্তমান আমেরিকার প্রেসিডেন্টের কাছ থেকে আবেগের বশবর্তী হয়ে কোনো সিদ্ধান্ত বা অনিশ্চিত আচরণ আমাদের প্রত্যাশিত নয়।’

রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের কূটনীতি সাম্প্রতিককালের সবচেয়ে তিক্ততার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।

এনবিসি নিউজে শুক্রবার প্রচারিত এক সাক্ষাৎকারে এ কথা বলেন তিনি।

আল জাজিরার প্রতিবেদনে জানানো হয়, সাক্ষাৎকারে যুক্তরাষ্ট্রের বিতর্কিত সাবেক প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের প্রশংসাও করেছেন পুতিন।

আগামী ১৬ জুন আমেরিকান প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সঙ্গে জেনেভায় বৈঠক করবেন রুশ প্রেসিডেন্ট। বাইডেন ক্ষমতা গ্রহণের পর দুই রাষ্ট্রনেতার এটি প্রথম বৈঠক।

এর আগে ‘ক্ষতিকর কর্মকাণ্ড’ থেকে বিরত না থাকলে ‘মারাত্মক পরিণতি’ বরণ করতে হবে বলে রাশিয়াকে সতর্ক করেন যুক্তরাজ্য সফররত বাইডেন।

তিনি বলেছিলেন, ‘রাশিয়ার সঙ্গে সংঘাত আমাদের লক্ষ্য নয়। আমরা স্থিতিশীল ও স্বাভাবিক সম্পর্ক চাই… কিন্তু স্পষ্টভাবে জানাচ্ছি, রাশিয়ার সরকার যদি অসদুপায় অবলম্বন বন্ধ না করে, তাহলে এর যথোপযুক্ত জবাব দেবে যুক্তরাষ্ট্র।’

জবাবে পুতিন বলেছেন, ‘আমাদের যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আছে, তা সাম্প্রতিককালের সবচেয়ে অবনতির মুখে চলে গেছে আগেই।’

যুক্তরাষ্ট্রে সাইবার হামলার নেপথ্যে থাকা, রাশিয়ার প্রধান বিরোধী দলীয় নেতা ও পুতিন কট্টর সমালোচক অ্যালেক্সেই নাভালনির বন্দি থাকাসহ নানা ইস্যুতে উত্তপ্ত ওয়াশিংটন-মস্কো সম্পর্ক।

ট্রাম্পকে প্রশংসায় ভাসিয়েছেন পুতিন

সাক্ষাৎকারে পুতিন বলেন, ‘ট্রাম্প অনন্য সাধারণ ও মেধাবী একজন ব্যক্তি। তা না হলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হতে পারতেন না তিনি।’

ট্রাম্পের উত্তরসূরী হিসেবে বাইডেন পুরোপুরি আলাদা বলেও উল্লেখ করেন রুশ প্রেসিডেন্ট।

পুতিন বলেন, ‘ট্রাম্পকে আপনি পছন্দ করুন বা না করুন, তিনি নানা রঙে সমন্বিত একজন মানুষ। যুক্তরাষ্ট্রের শাসনব্যবস্থার মধ্য থেকে উঠে আসেননি তিনি। রাজনীতিও করেননি আগে। তারপরেও তিনি প্রেসিডেন্ট হতে পেরেছেন। এটা ফেলনা বিষয় নয়।’

অন্যদিকে বাইডেনকে পুতিন আখ্যায়িত করেন রাজনীতিতে জীবন উৎসর্গ করা ব্যক্তি হিসেবে।

পুতিন বলেন, ‘বাইডেন একেবারেই অন্য মানুষ। ট্রাম্পের একদম উল্টো। এটা কিছু দিক থেকে কল্যাণকর, কিছু দিক থেকে নয়। বর্তমান আমেরিকার প্রেসিডেন্টের কাছ থেকে আবেগের বশবর্তী হয়ে কোনো সিদ্ধান্ত বা অনিশ্চিত আচরণ আমাদের প্রত্যাশিত নয়।’

বাইডেন-পুতিন বৈঠককে যুক্তরাষ্ট্র-রাশিয়ার সম্পর্কোন্নয়নের সুযোগ বলে মনে করছেন আমেরিকান রাজনীতিবিদরা।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে রাশিয়ার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ওয়াশিংটনের কাছ থেকে মিশ্র বার্তা পেয়েছেন তারা।

আরও পড়ুন:
মমতার দলে আলাপন, শোকজ কেন্দ্রের

শেয়ার করুন

পুলিৎজার পেলেন ফ্লয়েড হত্যার ভিডিও করা কিশোরী

পুলিৎজার পেলেন ফ্লয়েড হত্যার ভিডিও করা কিশোরী

২০২০ সালের ২৫ মে জর্জ ফ্লয়েডকে হত্যার দৃশ্য ধারণ করার সময় ডার্নেলা ফ্রেজিয়ার (ডান থেকে তৃতীয়, নীল ট্রাউজার পরিহিত)। ছবি: এপি

সংবাদমাধ্যম ও সাংবাদিকতার বাইরে নিতান্ত অনভিজ্ঞ কারও তোলা ছবি বা ভিডিওতে পুলিৎজারের স্বীকৃতি বিরল ঘটনা। নাগরিক সাংবাদিকতা হিসেবে বিশেষ বিবেচনায় এ স্বীকৃতি পেয়েছেন বর্তমানে ১৮ বছর বয়সী ফ্রেজিয়ার। পুলিৎজার বোর্ডের সহসভাপতি মিন্ডি মার্কেজ অনলাইনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বলেন, ফ্রেজিয়ারের ধারণকৃত ভিডিওটি সমাজে পরিবর্তন আনতে বাধ্য করেছে। দর্শকদের নাড়া দিয়েছে ভিডিওটি। বিশ্বব্যাপী পুলিশের নির্মমতার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ উসকে দিয়েছে এটি।

যুক্তরাষ্ট্রে পুলিশি হেফাজতে কৃষ্ণাঙ্গ জর্জ ফ্লয়েড হত্যাকাণ্ডের দৃশ্য ভিডিও করা কিশোরী ডার্নেলা ফ্রেজিয়ার পেলেন পুলিৎজার সম্মাননা।

পুলিশের সামনে দাঁড়িয়ে পুলিশেরই নির্মমতার ভিডিও ধারণ ও প্রকাশ করে সাহসিকতার স্বীকৃতি হিসেবে মর্যাদাপূর্ণ এ পুরস্কার পেলেন কৃষ্ণাঙ্গ এই কিশোরী।

পুলিৎজার বোর্ড শুক্রবার ডার্নেলা ফ্রেজিয়ারকে বিশেষ অবদানের জন্য পুরস্কৃত করে।

যুক্তরাষ্ট্রে সাংবাদিকতায় সবচেয়ে বড় সম্মাননা এটি। সংবাদমাধ্যম, ম্যাগাজিন, অনলাইন সাংবাদিকতা ছাড়াও সাহিত্য, সংগীত আর নাটকেও অবদান রাখার স্বীকৃতি হিসেবে দেয়া হয় পুরস্কার।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়, ২০২০ সালের ২৫ মে জর্জ ফ্লয়েড হত্যার সময় ১৭ বছর বয়স ছিল ফ্রেজিয়ারের।

রাস্তার ওপর ফ্লয়েডকে হত্যার ঘটনা নিজের মুঠোফোনে ধারণ করেছিলেন ফ্রেজিয়ার। এরপর সেটি অনলাইনে ও সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হলে চাঞ্চল্য তৈরি হয় সারা বিশ্বে।

সবচেয়ে উন্নত বলে স্বীকৃত রাষ্ট্রে এমন ঘটনায় ফুঁসে উঠেছিল যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশ। মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের মিনেপোলিস শহরের এ ঘটনার জেরে সৃষ্ট ‘ব্ল্যাক লাইফ ম্যাটার্স’ বিক্ষোভ পরে রূপ নেয় বিশ্বব্যাপী বর্ণবাদবিরোধী গণ-আন্দোলনে।

এর জেরে বিচারের আওতায় নেয়া হয় মূল অভিযুক্ত ডেরেক শভিনকে, দায়ের করা হয় হত্যা মামলা। বহিষ্কার করা হয় শভিনসহ ঘটনাস্থলে উপস্থিত চার শ্বেতাঙ্গ পুলিশ কর্মকর্তার প্রত্যেককে।

যুক্তরাষ্ট্রের পুলিশ বিভাগের ইতিহাসে এসবই নজিরবিহীন। এমনকি এর ধারাবাহিকতায় পরিবর্তনের আওয়াজ ওঠে দেশটির পুলিশ প্রশিক্ষণ পদ্ধতিতেও।

ফ্রেজিয়ারের ধারণ করা ৯ মিনিটের বেশি সময়ের ভিডিওটিতে দেখা গিয়েছিল, ৪৬ বছর বয়সী কৃষ্ণাঙ্গ আমেরিকান ফ্লয়েডের ঘাড়ে ৯ মিনিটের বেশি সময় হাঁটু দিয়ে জোরে চাপ দিয়ে রাখেন শ্বেতাঙ্গ শভিন। একপর্যায়ে দম আটকে ফ্লয়েড নিস্তেজ হয়ে পড়লেও তাতে তোয়াক্কা ছিল না উপস্থিত পুলিশ কর্মকর্তাদের।

সংবাদমাধ্যম ও সাংবাদিকতার বাইরে নিতান্ত অনভিজ্ঞ কারও তোলা ছবি বা ভিডিওতে পুলিৎজারের স্বীকৃতি বিরল ঘটনা। নাগরিক সাংবাদিকতা হিসেবে বিশেষ বিবেচনায় এ স্বীকৃতি পেয়েছেন বর্তমানে ১৮ বছর বয়সী ফ্রেজিয়ার।

পুলিৎজার বোর্ডের সহসভাপতি মিন্ডি মার্কেজ অনলাইনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বলেন, ফ্রেজিয়ারের ধারণকৃত ভিডিওটি সমাজে পরিবর্তন আনতে বাধ্য করেছে। দর্শকদের নাড়া দিয়েছে ভিডিওটি। বিশ্বব্যাপী পুলিশের নির্মমতার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ উসকে দিয়েছে এটি।

বিশ্বকে নাড়িয়ে দেয়া এ ভিডিও ফ্লয়েড হত্যাকাণ্ডকে আলোচনায় আনলেও গত এক বছরে ফ্রেজিয়ার নিজে কখনো আলোচনায় আসেননি।

চলতি বছর শভিনের বিচার শুনানির সময় আদালতে সাক্ষী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তিনি।

ফ্লয়েড হত্যার ভিডিও আদালতে যতবার চালানো হয়েছে, প্রতিবারই চোখ সরিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছেন ফ্লয়েডের পরিবারের সদস্যরা।

বিচারকদের ফ্রেজিয়ার জানান, নাশতা কিনতে দোকানে যাওয়ার পথে ‘আতঙ্কিত এক ব্যক্তিকে প্রাণভিক্ষার আকুতি জানাতে’ দেখেন তিনি। সে সময় নিজের সঙ্গে থাকা ফোন বের করে ভিডিও ধারণ করেন। সেই রাতেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে সেটি প্রকাশ করেন।

বিশ্বের কোটি কোটি মানুষ দেখেছে সে ভিডিও।

ফ্লয়েড হত্যায় দোষী সাব্যস্ত শভিনের বিরুদ্ধে আগামী ২৫ জুন শাস্তি ঘোষণা করবে আদালত।

পুরস্কৃত হওয়ার বিষয়ে ফ্রেজিয়ারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

যুক্তরাষ্ট্রে সংখ্যালঘু কৃষ্ণাঙ্গদের ওপর পুলিশের কঠোর হওয়া এতই নিয়মিত যে ফ্রেজিয়ারের ভিডিওটি ভাইরাল না হলে ফ্লয়েড হত্যাকাণ্ড স্থানীয় সংবাদমাধ্যমেও হয়তো জায়গা পেত না।

পুলিৎজার কর্তৃপক্ষ বলছে, ‘সত্য ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় সাংবাদিকদের ভূমিকা বলিষ্ঠ করতে সাধারণ নাগরিক হয়েও ফ্রেজিয়ার যে ভূমিকা রেখেছেন’, তা সারা বিশ্বের জন্য উদাহরণ।

এর আগে ২০২০ সালে ভিডিওটির জন্য পেন আমেরিকার বেনেনসন কারেজ অ্যাওয়ার্ড পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন ফ্রেজিয়ার।

আরও পড়ুন:
মমতার দলে আলাপন, শোকজ কেন্দ্রের

শেয়ার করুন

সৌদি আরবে ভিসার মেয়াদ বাড়াতে ই-সেবা চালু

সৌদি আরবে ভিসার মেয়াদ বাড়াতে ই-সেবা চালু

সৌদি আরবের দাম্মামে কিং ফাহাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অপেক্ষারত ভারতীয় প্রবাসীরা। ছবি: এএফপি

করোনাভাইরাস মহামারির কারণে সৌদি আরবের সঙ্গে দীর্ঘদিন আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চলাচল বন্ধ থাকার পর গত ১৭ মে পুনরায় চালু হয়। কিন্তু মহামারির ব্যাপ্তির কারণে ২০টি দেশের সঙ্গে ফ্লাইট চলাচলে নিষেধাজ্ঞা বহাল রেখেছে রিয়াদ।

সৌদি আরবের বাইরে অবস্থানরত প্রবাসীদের ভিসার মেয়াদ বাড়ানো সুবিধাজনক করতে চালু হয়েছে ইলেক্ট্রনিক বা ই-সেবা।

সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় শনিবার এ সেবা চালু করার কথা জানায়।

সৌদি গেজেটের প্রতিবেদনে জানানো হয়, বর্তমানে যে ২০টি দেশ থেকে সৌদি আরবে সরাসরি প্রবেশ স্থগিত রয়েছে, সেসব দেশের নাগরিকরা নতুন এ সুবিধার আওতাভুক্ত হবেন।

করোনাভাইরাস মহামারির কারণে সৌদি আরবের সঙ্গে দীর্ঘদিন আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চলাচল বন্ধ থাকার পর গত ১৭ মে পুনরায় চালু হয়।

কিন্তু মহামারির ব্যাপ্তির কারণে ২০টি দেশের সঙ্গে ফ্লাইট চলাচলে নিষেধাজ্ঞা বহাল রেখেছে রিয়াদ।

দেশগুলো হলো আর্জেন্টিনা, সংযুক্ত আরব আমিরাত, জার্মানি, যুক্তরাষ্ট্র, ইন্দোনেশিয়া, আয়ারল্যান্ড, ইতালি, পাকিস্তান, ব্রাজিল, পর্তুগাল, যুক্তরাজ্য, তুরস্ক, দক্ষিণ আফ্রিকা, সুইডেন, সুইজারল্যান্ড, ফ্রান্স, লেবানন, মিসর, ভারত ও জাপান।

এ তালিকায় নেই বাংলাদেশ।

নতুন এ সেবার ফলে আগামী ৩১ জুলাই পর্যন্ত কোনো ধরনের জরিমানা ছাড়া বিনা মূল্যে সৌদি আরবে প্রবেশাধিকার পাবেন প্রবাসীরা। দেশটিতে ভ্রমণ, বহির্গমন ও ফের প্রবেশে ভিসার মেয়াদ বাড়ানো যাবে এর মাধ্যমে।

মহামারি নিয়ন্ত্রণে পূর্বসতকর্তামূলক পদক্ষেপের অংশ হিসেবে সমন্বিতভাবে ই-সেবা চালু করেছে সৌদি আরবের স্বরাষ্ট্র ও অর্থ মন্ত্রণালয়।

করোনাভাইরাস মহামারি পরিস্থিতিতে জনজীবন স্বাভাবিক রাখার প্রচেষ্টা হিসেবে সরকার এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।

আরও পড়ুন:
মমতার দলে আলাপন, শোকজ কেন্দ্রের

শেয়ার করুন

যার স্পর্শে বালুচর এখন গহিন বন

যার স্পর্শে বালুচর এখন গহিন বন

ভারতের অসমের যাদব পায়েং জীবনের ৩০ বছরই কাটিয়েছেন গাছ লাগিয়ে। ছবি: সংগৃহীত

৩০ বছরে ব্রহ্মপুত্রের একটি অনুর্বর বালুচরের ১ হাজার ৩৬০ একর জমি শুধু গাছ লাগিয়ে বনে রূপান্তর করেছেন যাদব। যা এখন পরিচিত ‘মোলাই কাঠোনি’ হিসেবে।

ভারতের ‘বনমানব’ হিসেবে পরিচিত যাদব পায়েং। ৬২ বছর বয়সী যাদব তার জীবনের ৩০ বছরই কাটিয়েছেন গাছের চারা রোপণ করে। ৪ কোটি গাছ লাগিয়ে তিনি অসম রাজ্যের ব্রহ্মপুত্র-বিধৌত একটি অনুর্বর বালুচরকে পুরো বনে রূপান্তর করেছেন।

সেই বনে এখন বাসা বেঁধেছে বাঘ, হরিণ, হাতি, খরগোশসহ অসংখ্য প্রজাতির প্রাণী, পাখি।

এবার সেই ‘বনমানব’কে গাছ লাগাতে ডেকেছে দক্ষিণ আমেরিকার দেশ মেক্সিকো।

গত ডিসেম্বরে যাদব পায়েং এনজিও ফাউন্ডেশন অ্যাজটেকার সঙ্গে মেক্সিকোতে গাছ লাগানোর চুক্তি করেছেন। যাদব সেই চুক্তি মোতাবেক ৭০ লাখ গাছ লাগাবেন মেক্সিকোতে।

মেক্সিকোর সরকার দেশটিকে সবুজে ভরিয়ে তুলতে এমন পদক্ষেপ নিয়েছে বলে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে

যাদব পায়েং স্থানীয়ভাবে পরিচিত মোলাই পায়েং নামে। এ ছাড়া পুরো ভারত, এমনকি পুরো বিশ্বে এখন তার পরিচয় ‘ভারতের বনমানব’ হিসেবে।

৩০ বছরে ব্রহ্মপুত্রের একটি অনুর্বর বালুচরের ১ হাজার ৩৬০ একর জমি শুধু গাছ লাগিয়ে বনে রূপান্তর করেছেন যাদব। যা এখন পরিচিত ‘মোলাই কাঠোনি’ হিসেবে।

ভারতের অসম রাজ্যের জোহাট জেলার ককিলামুখের কাছে সেই বন মোলাই কাঠোনি।

যার স্পর্শে বালুচর এখন গহিন বন
ব্রহ্মপুত্রের অনুর্বর বালুচরকে গাছ লাগিয়ে বনে রূপান্তর করেছেন অসমের যাদব পায়েং

যে এলাকাটিতে এখন রয়েছে বাঘ, সিংহ, হাতি, খরগোশসহ অসংখ্য প্রজাতির প্রাণীর বাস। এ ছাড়া হাজার প্রজাতির গাছের বনটিতে এখন পরিযায়ী অসংখ্য প্রাণী এসে বাসা বেঁধেছে।

মেক্সিকোতে আট লাখ হেক্টর জমিতে বনায়ন প্রকল্পের অংশ হিসেবে যাদব পায়েং গাছ রোপণ করবেন বলে জানান।

মেক্সিকান সরকার যাদবকে ১০ বছরের জন্য ভিসা দিয়েছে। চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে যাদব উড়াল দেবেন মেক্সিকোতে। এরপর ১০ বছর তিনি সেখানে গাছ লাগানোর কাজ করবেন।

যাদব বলেন, ‘আমি প্রতিবছর তিন মাস করে মেক্সিকোতে থাকব। সেপ্টেম্বর, অক্টোবর ও নভেম্বর; এই সময়টা মেক্সিকোতে গাছ লাগানোর উপযুক্ত সময়। এই সময় আমি প্রতিদিন এক লাখ শিক্ষার্থী সঙ্গে নিয়ে চারা রোপণ করব।’

যার স্পর্শে বালুচর এখন গহিন বন
নিজের রোপণ করা গাছের নিচে বসে যাদব পায়েং

যাদবের বয়স যখন ১৬ বছর, তখন তিনি দেখেন ব্রহ্মপুত্রের সেসব বালুচরে বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পর প্রচণ্ড গরমে অসংখ্য সাপ মরে পড়ে আছে। সেটা তাকে খুব ব্যথিত করে। এরপর যাদব ব্রহ্মপুত্রতীরের বালুচরে বাঁশের ২০টি চারা রোপণ করেন।

১৯৭৯ সালে সামাজিক বনায়ন বিভাগ অসমের গোলারহাট জেলায় গাছ রোপণের একটি পরিকল্পনা ঘোষণা করে। সেই পরিকল্পনায় ২০০ হেক্টর জমিতে গাছ রোপণ শুরু হয়।

ওই জমিটি অরুণা চাপড়ি এলাকায়, যা যাদবের এলাকা থেকে ৫ কিলোমিটার দূরে। সেই সামাজিক বনায়নের কর্মসূচিতে একজন শ্রমিক হিসেবে কাজ শুরু করেন যাদব। সেখানে বনায়ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন হয় পাঁচ বছর পর।

উন্নয়নশীল দেশের পরিবেশ সুরক্ষায় ও ভারসাম্য রক্ষায় অবদান রাখায় যাদব পায়েংকে ২০১৫ সালে ভারত সরকার পদ্মশ্রী পুরস্কারে সম্মানিত করে।

যাদব বলেন, ‘সব দেশেরই উচিত প্রচুর পরিমাণে গাছ লাগানো। আমাদের মনে রাখতে হবে, পরিবেশ রক্ষা করতে না পারলে আমরা টিকে থাকব না। বিশ্বব্যাপী এখন লকডাউন চলছে, এই সময়ে গাছ রোপণের উপযুক্ত সময়।

‘পরিবেশকে নিজের জায়গায় ফিরিয়ে আনতে গাছ লাগানোর বিকল্প নেই। আমি বিশ্ববাসীর কাছে আবেদন জানাই, পরিবেশ রক্ষায় প্রতিটি ফাঁকা জায়গায় চারা রোপণ করুন।’

রোপণের জন্য যাদব ভারত থেকে নারকেল ও সুপারির চারা নিয়ে যাবেন মেক্সিকোতে।

অসমের বনমন্ত্রী পরিমল শুক্লাবৈদ্য মেক্সিকোতে নতুন মিশনের জন্য যাদবকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। তার প্রশংসা করে করেছেন একটি টুইটও।

আরও পড়ুন:
মমতার দলে আলাপন, শোকজ কেন্দ্রের

শেয়ার করুন