চীনের আরেকটি টিকা পেল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অনুমোদন

চীনের আরেকটি টিকা পেল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অনুমোদন

ডব্লিউএইচওর এমন অনুমোদনের মধ্যে দিয়ে চীনা ওষুধ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান সিনোভ্যাক বায়োটেকের তৈরি করোনাভ্যাক টিকাটি দরিদ্র দেশগুলোতে পাঠাতে আর কোনো বাধা থাকল না।

চীনের উদ্ভাবিত করোনাভাইরাস প্রতিরোধী আরেকটি টিকা জরুরি ব্যবহারের অনুমোদন পেয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও)।

এমন অনুমোদনের মধ্যে দিয়ে চীনা ওষুধ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান সিনোভ্যাক বায়োটেকের তৈরি করোনাভ্যাক টিকাটি দরিদ্র দেশগুলোতে পাঠাতে আর কোনো বাধা থাকল না।

বিশ্ব সংস্থাটির বিশেষজ্ঞ প্যানেল জানিয়েছে টিকাটির কার্যকারিতা ও নিরাপত্তার মাত্রা বিবেচনা করে দেয়া হয়েছে এমন অনুমোদন। টিকাটি ১৮ বছরের বেশি যেকোনো ব্যক্তির ওপর প্রয়োগ করা যাবে।

প্যানেল তাদের সুপারিশে জানিয়েছে, শিশুদের ওপর টিকাটি প্রয়োগে বাধা থাকলেও বয়স্কদেরকে ওপর প্রয়োগে কোনো বিধিনিষেধ নেই।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে ডব্লিউএইচওর মহাপরিচালক টেডরোস আধানম গেব্রিয়েসুস এই অনুমোদনকে স্বাগত জানিয়েছেন।

এর আগে ৮ মে দেশটির রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান সিনোফার্ম উদ্ভাবিত টিকা বিবিআইবিপি-করভির অনুমোদন দিয়েছিল ডব্লিউএইচও।

এর মধ্য দিয়ে ডব্লিউএইচও পশ্চিমা বিশ্বের বাইরে অন্য কোনো দেশের টিকায় অনুমোদন দিল বলে বিবিসির প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

সিনোফার্মের টিকাটি এরই মধ্যে চীনের কয়েক কোটি মানুষকে দেয়া হয়েছে। বাংলাদেশেও জরুরি ব্যবহারের অনুমোদন পেয়েছে এ টিকা।

সিনোফার্মের আগে ডব্লিউএইচও অনুমোদন দিয়েছিল ফাইজার, মডার্না, অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকা ও জনসনের টিকার।

চীনের টিকার অনুমোদন নিয়ে টেডরোস আধানম গেব্রিয়েসুস শুক্রবার জানান, করোনা প্রতিরোধে সুরক্ষা, কার্যকারিতা ও মান যথেষ্ট থাকায় তারা চীনের এ টিকার অনুমোদন দিয়েছেন।

ডব্লিউএইচও জানায়, ১৮ বছরের বেশি বয়সীদের ওপর এ টিকার দুই ডোজ প্রয়োগ করা যাবে। চীনের টিকাকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে টিকার সুষম বণ্টনের উদ্যোগ কোভ্যাক্সের আওতায় আনারও অনুমোদন দেয় সংস্থাটি।

আরও পড়ুন:
আরও ছয় লাখ টিকা উপহার দেবে চীন
উপহারের ৫ লাখ টিকা পাঠাতে বাংলাদেশকে চীনের চিঠি

শেয়ার করুন

মন্তব্য

মুসলিমবিদ্বেষ রোধে তৎপর কানাডার আইনপ্রণেতারা

মুসলিমবিদ্বেষ রোধে তৎপর কানাডার আইনপ্রণেতারা

কানাডার হাউজ অফ কমন্সে প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো। ফাইল ছবি

কানাডার ওন্টারিও প্রদেশের লন্ডন শহরে স্থানীয় সময় ৬ জুন সন্ধ্যায় একটি মুসলমান পরিবারের ওপর বিদ্বেষপ্রসূত ট্রাক হামলা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে হাউজ অফ কমন্সে শুক্রবার উপস্থাপিত প্রস্তাবটির ওপর ভোট হয়। সব দলের আইনপ্রণেতাদের সর্বসম্মতিতে অনুমোদন পায় প্রস্তাবটি।

কানাডায় ইসলামভীতি ও মুসলিমবিদ্বেষ ঠেকাতে জাতীয় কর্মপরিকল্পনা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন আইনপ্রণেতারা। এ লক্ষ্যে পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ হাউজ অফ কমন্সে একটি প্রস্তাব পাস হয়েছে।

এ প্রস্তাব পাস হওয়ায় জুলাইয়ের শেষের দিকে এ বিষয়ে জাতীয় পর্যায়ে একটি শীর্ষ সম্মেলন হবে। এতে অংশ নেবেন কেন্দ্রীয় ও সব প্রদেশের শীর্ষ রাজনীতিক, আইনপ্রণেতা ও সরকারি কর্মকর্তারা।

জাতীয় ওই সম্মেলনের বিষয়ে কানাডা সরকারের পক্ষ থেকে বিস্তারিত জানানো হয়নি।

গ্লোবাল নিউজ কানাডার প্রতিবেদনে জানানো হয়, হাউজ অফ কমন্সে শুক্রবার উপস্থাপিত প্রস্তাবটির ওপর ভোট হয়েছে। সব দলের আইনপ্রণেতাদের সর্বসম্মতিতে অনুমোদন পায় প্রস্তাবটি।

কানাডার ওন্টারিও প্রদেশের লন্ডন শহরে স্থানীয় সময় ৬ জুন সন্ধ্যায় একটি মুসলমান পরিবারের ওপর বিদ্বেষপ্রসূত ট্রাক হামলা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে এলো এ পদক্ষেপ।

ওই হামলায় প্রাণ গেছে একই পরিবারের চার সদস্যের। বেঁচে যাওয়া একমাত্র সদস্য ৯ বছরের ছেলেশিশু হাসপাতালে গুরুতর আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন।

পুলিশ জানিয়েছে, ধর্মবিশ্বাসের কারণেই হামলার লক্ষ্য হয় পরিবারটি। তাদের সঙ্গে ট্রাকচালকের কোনো পূর্বপরিচয় ছিল না।

ঘটনাটিকে ‘সন্ত্রাসী হামলা’ আখ্যা দিয়েছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো। একই অভিযোগে নিন্দা জানিয়েছেন ওন্টারিওর প্রিমিয়ার ডাউগ ফোর্ড ও কানাডার মুসলমানদের সংগঠন ন্যাশনাল কাউন্সিল অফ কানাডিয়ান মুসলিমস।

কিন্তু এ ঘটনায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে কোনো অভিযোগ করা হয়নি। চারটি হত্যা মামলা ও একটি হত্যাচেষ্টা মামলা করা হয়েছে ২০ বছর বয়সী ট্রাকচালক নাথানিয়েল ভেল্টম্যানের বিরুদ্ধে।

এর আগে কানাডায় ইহুদিবিরোধিতার বিরুদ্ধেও একটি সম্মেলনের পরিকল্পনার কথা জানায় দেশটির সরকার।

মুসলিমবিদ্বেষের পাশাপাশি গত কয়েক মাসে কানাডায় ইহুদিদের ওপরও আক্রমণাত্মক আচরণের ঘটনা বেড়েছে।

আরও পড়ুন:
আরও ছয় লাখ টিকা উপহার দেবে চীন
উপহারের ৫ লাখ টিকা পাঠাতে বাংলাদেশকে চীনের চিঠি

শেয়ার করুন

কমলা হ্যারিসের যত সম্পদ

কমলা হ্যারিসের যত সম্পদ

যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিসের সম্পদের পরিমাণ আনুমানিক ৭০ লাখ ডলার। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের দুই ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স ও কমলা হ্যারিস তাদের পদের বিপরীতে সরকারের তরফ থেকে ১০ লাখ ডলার করে পেনশন হিসেবে পাবেন। তবে পার্থক্য হলো যে, বর্তমান ভাইস প্রেসিডেন্টের হাজার কোটি ডলারের বিনিয়োগ রয়েছে আবাসন খাতে। কমলা হ্যারিসের আনুমানিক সম্পদের পরিমাণ ৭০ লাখ ডলার। সিনেটর থেকে ভাইস প্রেসিডেন্ট পদে উন্নীত হবার পর তার আয় বেড়েছে প্রায় ৩৩ শতাংশ।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম এশীয়-আমেরিকান ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিসের আনুমানিক সম্পদের পরিমাণ ৭০ লাখ ডলার। স্বামী সেকেন্ড জেন্টেলম্যান ডগলাস এমহফের সঙ্গে তার যৌথ সম্পদের মধ্যে রয়েছে লসএঞ্জেলস ও ওয়াশিংটন ডিসিতে ৫০ লাখ ডলারের দুটি বাড়ি।

ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নরের দায়িত্ব পালন করায় হ্যারিসের একটি ১০ লাখ ডলার সমমূল্যের পেনশন রয়েছে। আর চাকরি থেকে অবসরে যাওয়ায় তার স্বামী পেয়েছেন ১০ লাখ ২০ হাজার ডলার সমপরিমাণের পেনশন।

ব্যবসাবিষয়ক যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী সাময়িকী ফোর্বসের এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এসব তথ্য।

আমেরিকার প্রথম নারী ভাইস প্রেসিডেন্ট পদে নির্বাচিত হয়ে ইতিহাস গড়েন জো বাইডেনের রানিং মেট কমলা হ্যারিস। একই সঙ্গে দেশটির প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ ভাইস প্রেসিডেন্টও তিনি।

৫৬ বছর বয়সী ক্যালিফোর্নিয়ার এই সিনেটর ভারতীয় বংশোদ্ভূত। তার পূর্বপুরুষের ভিটা তামিলনাডুর তিরুভারু জেলায়। তার মা শ্যামলা গোপালন এই জেলাই থাকতেন এক সময়। বাবা জ্যামাইকান। দুজনেই যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসী হয়েছেন।

ক্যালিফোর্নিয়ার অঙ্গরাজ্যের জনবহুল শহর ওকল্যান্ডে এমন এক অভিবাসী বাবা-মায়ের সংসারে জন্ম কমলা হ্যারিসের। জামাইকা ও ভারত থেকে যুক্তরাষ্ট্রে এসে নাগরিকত্ব পেয়েছেন তারা। কমলা হ্যারিসের ছোট বোনের জন্মের পরেই তাদের বাবা ও মায়ের ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়।

ছোট বোন আর হ্যারিসকে নিয়ে তাদের মা কানাডার মন্ট্রিয়লে চলে আসেন। তখন হ্যারিসের বয়স মাত্র ১২। তাদের মা পেশায় একজন স্তন ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ।

কানাডায় স্কুলের পাঠ শেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের হাওয়ার্ড কলেজে ভর্তি হন হ্যারিস। আইন বিষয়ে উচ্চ শিক্ষা নিতে তিনি ফিরে যান জন্মস্থান ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যে।

১৯৮৯ সালে স্নাতকোত্তর শেষে তিনি কাজ শুরু করেন জন্মস্থান অকল্যান্ডের আলামেডা কাউন্টির ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ে। ৯ বছর পরে তিনি বদলি হন ক্যালিফোর্নিয়া রাজ্যের আরেক জনবহুল শহর সানফ্রান্সিসকোর ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ে।

এসময় তিনি সো’মা শহরতলীতে প্রায় ৩ লাখ ডলার মূল্যের একটি অ্যাপার্টমেন্ট (কন্ডো) কিনেন। ভাইস প্রেসিডেন্ট হবার পর চলতি বছরের মার্চে তিনি সেই কন্ডোটি বেচে দেন তিনগুণ দামে।

২০০৩ সালে স্থানীয় নির্বাচনে জয় পেয়ে তিনি সানফ্রান্সিসকোর ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির পদে নিযুক্ত হন। এসময় তার বার্ষিক আয় ছিল ১ লাখ ৪০ হাজার ডলারের কিছু বেশি। সে সময়কার তার দেয়া আয়করের নথি থেকে এমন তথ্য পাওয়া যায়।

৭ বছর পর ২০১০ সালে হ্যারিস দেশটির গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গরাজ্য ক্যালিফোর্নিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেল পদে নিযুক্ত হন। এ পদে তিনিই ছিলেন প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ নারী।

২০১৪ সালে তিনি সংসার শুরু করেন এমহফের সঙ্গে। এতে আরও সম্পদশালী হয়ে উঠেন তিনি। আগের স্ত্রীর সঙ্গে ঘর ভাঙার সময় এমহফের বার্ষিক আয় ছিল ১০ লাখ ডলার। সে সময় তিনি লসএঞ্জেলসের একটি বিনোদনমূলক ফার্মের আইনি পরামর্শকের দায়িত্বে ছিলেন।

হ্যারিস বনাম পেন্স

দুই ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স ও কমলা হ্যারিস তাদের পদের বিপরীতে সরকারের তরফ থেকে ১০ লাখ ডলার করে পেনশন হিসেবে পাবেন।

তবে পার্থক্য হলো যে, বর্তমান ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিসের হাজার কোটি ডলারের বিনিয়োগ রয়েছে আবাসন খাতে।

সিনেটর হবার লড়াইয়ে নামার আগে ২০১৫ সালে হ্যারিস তার সম্পদের হিসাব জমা দেন সরকারের কাছে। এসময় স্বামী এমহফসহ তাদের যৌথ সম্পদের পরিমাণ ছিল প্রায় ৪০ লাখ ডলার।

হ্যারিসের তারকাখ্যাতি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে থাকে তার আয়ও। ২০১৯ সালে প্রকাশিত তার লেখা আত্মজীবনীমূলক বই দ্য ট্রুথস উই হোল্ডের অন্তত ২ লাখ কপি বিক্রি হয় দেশটিতে। এ তথ্য দিয়েছে এনপিডি বুকস্ক্যান।

২০১৮ সালের পর থেকে কেবল লেখালিখি থেকে বছরে তিনি আয় করতে শুরু করে ৮ লাখ ৮০ হাজার ডলার। তার আয়কর হিসাব থেকে এমন তথ্য পাওয়া যায়।

সিনেটর থেকে ভাইস প্রেসিডেন্ট পদে উন্নীত হবার পর তার আয় বেড়েছে প্রায় ৩৩ শতাংশ।

ছোট ছোট ত্যাগ স্বীকার মানুষের জীবনে অনেক বড় ধরনের ফল নিয়ে আসে। জো বাইডেন যখন দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্টের দায়িত্বে ছিলেন তখন তার স্ত্রীসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতেন। এসময় তিনি দুটি বই প্রকাশ করেছিলেন। এসব থেকে তাদের চার বছরে আয় ছাড়িয়ে গিয়েছিলো ১ কোটি ৭০ লাখ ডলার।

অন্যদিকে কয়েক মাস আগে ভাইস প্রেসিডেন্ট পদ থেকে ইস্তফা দেয়ার পর বইয়ের দুটি প্রকাশনীর সঙ্গে মাইক পেন্সের চুক্তি হয়েছে প্রায় ৪০ লাখ ডলারের।

কোটি নারীর কাছে রোল মডেল হিসেবে সুপরিচিত এক উদ্যোমী নারীর নাম কমলা হ্যারিস। এটি বলা বেশি হবে না যে, তিনি দেশটির এমন শীর্ষ পদ থেকে অবসরে যাওয়ার পর তার সঙ্গে শত কোটি ডলারের চুক্তি সই করতে মরিয়া হবে বিভিন্ন প্রকাশনীর কর্ণধারেরা।

আরও পড়ুন:
আরও ছয় লাখ টিকা উপহার দেবে চীন
উপহারের ৫ লাখ টিকা পাঠাতে বাংলাদেশকে চীনের চিঠি

শেয়ার করুন

২৯০ শতাংশ মৃত্যু কম দেখিয়েছে মধ্যপ্রদেশ

২৯০ শতাংশ মৃত্যু কম দেখিয়েছে মধ্যপ্রদেশ

ভারতের মধ্যপ্রদেশে করোনায় মৃত্যুর সংখ্যা আরও বেশি বলে দাবি করা হচ্ছে। ছবি: এএফপি

করোনাভাইরাস মহামারির মধ্যে চলতি বছরের এপ্রিল ও মে এই দুই মাসে মধ্যপ্রদেশে মারা গেছে দুই লাখ ৩০ হাজার মানুষ। এই মৃত্যু স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে ২৯০ শতাংশ বেশি।

ভারতের মধ্যপ্রদেশে করোনার দ্বিতীয় ধাক্কায় যত মানুষ মারা যাওয়ার হিসাব দিয়েছে দেশটির সরকার, সেই সংখ্যা নিয়ে এবার প্রশ্ন উঠেছে। মহামারির আগের সময় ও চলতি বছরের সময়ে মৃত্যুর তুলনা করে এই দাবি করা হচ্ছে।

এ ছাড়া করোনায় মৃত্যুর বিষয়টি নিয়ে একটি অনুসন্ধান করেছে সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি। তারাও মধ্যপ্রদেশের রাজধানী ভূপাল জেলায় গত এপ্রিলে যে মৃত্যুর সংখ্যা পেয়েছে সেটি সরকারের দেয়া সংখ্যার চেয়ে ঢের বেশি।

মধ্যপ্রদেশে গত কয়েক মাসে যে পরিমাণ মানুষ মারা গেছে তা করোনার আগে মারা যাওয়া মানুষের চেয়ে অন্তত তিন গুণ বেশি বলে এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে জানান হচ্ছে।

প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, সরকারি পরিসংখ্যান থেকে করোনায় মৃত্যুর একটা অংশ মাত্র জানা যাচ্ছে। কিন্তু প্রকৃত সংখ্যা ঢের বেশি।

সিভিল রেজিস্ট্রেশন সিস্টেমের তথ্য অনুসারে, প্রথমবারের মতো সাংবাদিক রুক্মিনি এস মধ্যপ্রদেশে ২০১৮ ও ২০১৯ সালের মৃত্যুর সংখ্যা প্রকাশ করেছেন। সেই দুই বছরের এপ্রিল ও মে দুই মাসে মধ্যপ্রদেশে মৃত্যুর সংখ্যা ছিল গড়ে ৫৯ হাজার।

করোনাভাইরাস মহামারির মধ্যে চলতি বছরের এপ্রিল ও মে এই দুই মাসে মধ্যপ্রদেশে মারা গেছে দুই লাখ ৩০ হাজার মানুষ। এই মৃত্যু স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে ২৯০ শতাংশ বেশি।

সবচেয়ে বেশি মৃত্যু অর্থাৎ ১ লাখ ৭৪ হাজার রেকর্ড হয়েছে শুধু মে মাসে। এপ্রিলে এই মৃত্যু ছিল এক লাখ ৫৬ হাজার।

মধ্যপ্রদেশের সরকার গত এপ্রিল ও মে মাসে রাজ্যটিতে করোনায় মোট চার হাজার ১০০ মানুষের মৃত্যুর খবর দিয়েছে।

এমন হিসাব সামনে আসার পর মধ্যপ্রদেশে করোনায় মৃত্যু নিয়ে আবারও জোরালো প্রশ্ন উঠেছে।

রাজ্যটিতে করোনায় মৃত্যু নিয়ে প্রশ্ন তোলার বিষয়টি এটাই প্রথম নয়। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি মধ্যপ্রদেশের ভূপাল জেলার শ্মশান ও কবরস্থানে খোঁজ করে চলতি বছরের এপ্রিলে করোনায় ৩ হাজার ৮১১ জনের মৃত্যুর তথ্য পেয়েছে।

কিন্তু সরকারি তথ্য বলছে, এপ্রিলে জেলায় মাত্র ১০৪ জন করোনায় মারা গেছেন।

বিষয়টি নিয়ে এনডিটিভি রাজ্য সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করলেও মন্তব্য করতে রাজি হননি কোনো কর্মকর্তা।

গত বৃহস্পতিবার বিহার রাজ্য সরকার মহামারিতে প্রাণহানির সংশোধিত তালিকা প্রকাশের ফলে এক দিনে মৃত্যুর রেকর্ড হয় ভারতে। সেদিন মৃত্যুর হিসাব দেয়া হয় ৬ হাজার ১৪৮ জনের। যা এক দিনে সর্বোচ্চ।

এ ছাড়া মহারাষ্ট্রেও করোনায় মৃত্যুর সংখ্যার সংশোধিত তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে।

ভারতে ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হয়ে এখন পর্যন্ত মারা গেছে তিন লাখ ৬৭ হাজারের বেশি মানুষ।

আরও পড়ুন:
আরও ছয় লাখ টিকা উপহার দেবে চীন
উপহারের ৫ লাখ টিকা পাঠাতে বাংলাদেশকে চীনের চিঠি

শেয়ার করুন

২৪৪ বছরে প্রথম মুসলমান ফেডারেল বিচারক যুক্তরাষ্ট্রে

২৪৪ বছরে প্রথম মুসলমান ফেডারেল বিচারক যুক্তরাষ্ট্রে

যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম মুসলমান ফেডারেল বিচারক জাহিদ কুরাইশি। ছবি: টুইটার

কুরাইশির নিয়োগে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সংখ্যালঘু মুসলমান সম্প্রদায়ের মধ্যে। উদ্বেগ জানিয়েছে দেশটিতে মুসলমান নাগরিকদের অধিকারবিষয়ক সংগঠন সিএআইআর।

যুক্তরাষ্ট্রে ফেডারেল বিচারক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত জাহিদ কুরাইশি।

তার এ নিয়োগের মধ্য দিয়ে ২৪৪ বছরের ইতিহাসে প্রথম মুসলমান ফেডারেল বিচারক পেল দেশটি।

১৭৭৬ সালের ৪ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে গৃহীত হয় স্বাধীনতার ঘোষণা। সে সময় থেকে ধরলে আগামী ৪ জুলাই ২৪৫ বছর হবে দেশটির।

দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে জানানো হয়, কুরাইশির নিয়োগে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সংখ্যালঘু মুসলমান সম্প্রদায়ের মধ্যে। উদ্বেগ জানিয়েছে দেশটিতে মুসলমান নাগরিকদের অধিকারবিষয়ক সংগঠন সিএআইআর।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন নিজেই মনোনীত করেছেন রাটগার্স ল’ স্কুল থেকে স্নাতক সম্পন্ন করা কুরাইশিকে। এরপর চলতি সপ্তাহে পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ সিনেটে ৬৫ ভোটের ব্যবধানে ফেডারেল বিচারক হিসেবে তার নিয়োগ চূড়ান্ত হয়।

কুরাইশিকে নিয়োগের পক্ষে ভোট দিয়েছেন ৮১ জন আইনপ্রণেতা; বিপক্ষে ছিলেন ১৬ জন।

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশের শাসনামলে দেশটির অভিবাসন ও শুল্কবিষয়ক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর (আইস) সঙ্গে কাজ করেছেন কুরাইশি। ইরাক যুদ্ধে অবদানের জন্যও ব্যাপক সমালোচিত তিনি।

কাউন্সিল অন আমেরিকান ইসলামিক রিলেশনস (সিএআইআর) চলতি বছরের এপ্রিলে একটি বিবৃতি প্রকাশ করে। সেখানে কুরাইশির পেশাজীবনের অতীত নিয়ে উদ্বেগ জানানো হয়।

এ বিষয়ে সিএআইআরের সরকারি সিদ্ধান্তবিষয়ক বিভাগের পরিচালক রবার্ট ম্যাকাও বলেন, ‘বিচারক কুরাইশির অতীত কর্মজীবন ও অভিজ্ঞতা নিয়ে স্বচ্ছতার অভাব রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন সিএআইআর। ইরাকযুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ ছিল। সে সময় বন্দিদের আটকবিষয়ক আইনি পরামর্শ দিয়ে সেনাবাহিনীর পক্ষে কাজ করেছিলেন কুরাইশি।

‘বুশ প্রশাসনের মেয়াদের শেষ বছরে আইসের সঙ্গেও কাজ করেছেন তিনি। যুক্ত ছিলেন অভিবাসীবিরোধী সিদ্ধান্তের সঙ্গে।’

রবার্ট ম্যাকাও আরও বলেন, ‘এসব কর্মকাণ্ডের বিষয়ে এখন না কুরাইশি নিজে কোনো কথা বলছেন, না হোয়াইট হাউস বা কংগ্রেস থেকে কিছু বলা হচ্ছে। খুব সচেতনভাবে কুরাইশির অতীত কর্মজীবন এখন এড়িয়ে যাওয়া হচ্ছে।

‘কুরাইশির প্রতি এ বিষয়গুলো নিয়ে জবাবদিহির আহ্বান জানাচ্ছে সিএআইআর। একই সঙ্গে মুসলমানসহ যুক্তরাষ্ট্রের সব নাগরিকের অধিকারের সমতা নিশ্চিতে বিচারক হিসেবে তার দায়িত্ব পালনেরও আহ্বান জানাচ্ছি।’

পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত কুরাইশির জন্মও যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কে। বেড়ে উঠেছেন যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সিতে।

আইন পাস করার পর ২০০৪ ও ২০০৬ সালে ইরাকে সামরিক কৌঁসুলি হিসেবে দুইবার নিয়োগ পান কুরাইশি। সেনাবাহিনীতে ‘ক্যাপ্টেন’ পদমর্যাদাও দেয়া হয় তাকে।

আরও পড়ুন:
আরও ছয় লাখ টিকা উপহার দেবে চীন
উপহারের ৫ লাখ টিকা পাঠাতে বাংলাদেশকে চীনের চিঠি

শেয়ার করুন

হলিউডে কোটি ডলারে বিকোচ্ছে সৌদি শিল্পীর চিত্রকর্ম

হলিউডে কোটি ডলারে বিকোচ্ছে সৌদি শিল্পীর চিত্রকর্ম

নিজের আঁকা ছবির সামনে দাঁড়িয়ে শিল্পী আবদুল রহমান হামদি। ছবি সংগৃহীত

আবদুল রহমান হামদির শিল্পকর্ম হলিউডের বিলাসবহুল বাড়ির দেয়ালের সৌন্দর্য বহুগুণ বাড়িয়ে দিচ্ছে। এই সৌন্দর্যের মূল্য এতটাই যে, দেড় কোটি ডলারের বেশি দাম দিয়ে হলেও এই ছবি কিনতে রাজি ধনী হলিউডবাসী।

হলিউডের সবচেয়ে বিলাসবহুল বাড়িগুলোতে এখন শোভা পাচ্ছে এক সৌদি শিল্পীর চিত্রকর্ম।

চলচ্চিত্র দুনিয়ার রাজধানীতে আবদুল রহমান হামদি সম্প্রতিক সময়ে ঝড় তোলা এক নাম। যার হাতের জাদুর ছোঁয়া হলিউডি বিলাসকে নিয়ে গেছে ভিন্ন এক উচ্চতায়। তার একেকটি ছবি বিকোচ্ছে দেড় কোটি ডলারের বেশি মূল্যে।

রোজ সকালে তার বিমূর্ত চিত্রকর্ম নতুন এক অর্থ নিয়ে ধরা দেয় বাড়ির বাসিন্দাদের চোখে। অর্থের এই ভিন্নতাই ছবির গ্রহণযোগ্যতাকে বাড়িয়ে দিয়েছে বহুগুণ।

হামদি পেশাদার শিল্পী হলেও প্রাতিষ্ঠানিক এলেম নিয়েছেন আইন বিষয়ে। সে চর্চা ছেড়ে এখন তার সমস্ত মনযোগ আঁকাআঁকিতে। শৈশব থেকে এ পর্যন্ত শিল্পী হয়ে ওঠার বৈরী এক যাত্রায় মায়ের সহযোগিতা পেয়েছেন নিরবচ্ছিন্নভাবে।

হামদির সাফল্যে দরজা খুলে যায় যুক্তরাষ্ট্রের বিলাসবহুল ইন্টেরিয়র ডিজাইন কোম্পানি প্রিমিয়ার স্টেজারের সঙ্গে কাজ শুরু করার পর। তার চিত্রকর্মের সবচেয়ে বড় ক্রেতা এই কোম্পানিটি।

হলিউডে কোটি ডলারে বিকোচ্ছে সৌদি শিল্পীর চিত্রকর্ম
হামদির ছবি হলিউডের একটি বাড়ির দেয়ালে। ছবি: সংগৃহীত

সম্প্রতি তার চিত্রকর্ম নিয়ে প্রচ্ছদ করেছে লস অ্যাঞ্জেলেসভিত্তিক আবাসন বিষয়ক একটি সাময়িকী। ‘ভোগ এরাবিয়া’ তার আরেকটি চিত্রকর্ম নিয়ে নিবন্ধ প্রকাশ করেছে।

হামদির শিল্প প্রতিভার প্রকাশ ঘটে কিন্ডারগার্টেনে পড়ার সময় থেকেই। তার সহপাঠীদের ওই সময়গুলো কাটত ফুটবলের মাঠে বা অঙ্ক খাতার পৃষ্ঠায়। আঁকাপ্রীতির কারণে বহুবার শিক্ষকদের বিদ্রুপেরও শিকার হতে হয়েছে তাকে।

বর্তমানে লস অ্যাঞ্জেলেসে বসবাসকারী হামদি আরব নিউজকে দেয়া এক সাক্ষতকারে বলেন, এক সময় ছবি আঁকা তাকে পুরোপুরি আচ্ছন্ন করে ফেলে, ‘ওই সময়টা আমার কিন্ডারগার্টেনের সহপাঠীরা খেলার ক্লাসের জন্য অপেক্ষা করত। আর আমি প্রহর গুনতাম কখন ড্রয়িং ক্লাস শুরু হবে। ঈদের সময় আত্মীয়-স্বজনের কাছ থেকে যে সালামি পেতাম সেটাও যত্ন করে রেখে দিতাম রং, পেন্সিল আর তুলি কেনার জন্য।’

হলিউডে কোটি ডলারে বিকোচ্ছে সৌদি শিল্পীর চিত্রকর্ম
এভাবেই ছবি আঁকেন হামদি। ছবি: সংগৃহীত

এক সময় বিমূর্ত চিত্রকর্মের প্রতি তার আগ্রহ বাড়তে থাকে। ওই সময় তিনি ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে, বিশেষ করে ইন্টাগ্রামে দিতে শুরু করেন। আশা ছিল এক সময় পেশাদার শিল্পী হয়ে উঠবেন।

‘বিমূর্ত শিল্প আমার কাছে একটি বড় সুযোগ হয়ে ধরা দেয়। এ ধরনের ছবির সবচেয়ে মজার দিকটি হচ্ছে, প্রতিদিন এর একটি নতুন দিক আপনার সামনে উন্মোচিত হবে।’

হামদি জানান, ২০১৪ সাল তার জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বছর। ওই বছর ভয়াবহ এক দুর্ঘটনার কারণে বিছানাবন্দী হয়ে পড়েন তিনি। হামদি বলছিলেন, যন্ত্রণা আর হতাশায় ডুবে গিয়েছিলাম আমি। স্মৃতি হাতড়ানো ছাড়া করার মতো আর কোনো কাজই ছিল না।

হলিউডে কোটি ডলারে বিকোচ্ছে সৌদি শিল্পীর চিত্রকর্ম
দেয়ালে দেয়ালে হামদির চিত্রকর্ম। ছবি: সংগৃহীত

‘নিজের কষ্ট, যন্ত্রণা কাউকে বলতেও পারতাম না। পুরোপুরি ভেঙে পড়েছিলাম। তখন বুঝতে পারি, এই কষ্ট থেকে একমাত্র ছবি আঁকাই আমাকে মুক্তি দিতে পারে। এই দুঃসময় কেটে যাওয়ার পর আমি আবার রঙ দিয়ে খেলতে শুরু করি। আমাকে অন্য এক জগতে নিয়ে যায় এই রঙ। জীবন এক ভিন্ন মাত্রা পায়। আমি নতুন করে বাঁচতে শুরু করি।’

গোড়ার দিকে মানুষকে নিজের আঁকা ছবি দেখাতে অস্বস্তি হতো। এক প্রদর্শনীতে তার ছবি প্রত্যাখ্যাত হওয়ার পর এই অস্বস্তি আরও বেড়ে যায়।

তিনি প্রথম চিত্র প্রদর্শনীতে অংশ নেন ২০১৭ সালে। প্রদর্শনীর নাম ছিল মিনস্ক হিস্টরিক জেদ্দা। পরের বছর আবার মিনস্ক আর্টে অংশ নেন তিনি। এর পর আর তাকে পিছে ফিরে তাকাতে হয়নি।

আরও পড়ুন:
আরও ছয় লাখ টিকা উপহার দেবে চীন
উপহারের ৫ লাখ টিকা পাঠাতে বাংলাদেশকে চীনের চিঠি

শেয়ার করুন

টিকার সব তথ্য প্রকাশ করল ভারত-বায়োটেক

টিকার সব তথ্য প্রকাশ করল ভারত-বায়োটেক

কোম্পানিটি জানিয়েছে, তথ্যের স্বচ্ছতা প্রকাশে সর্বোচ্চ সর্তকতা নিয়েছে তারা। মানুষের দেহে ট্রায়ালের যাবতীয় তথ্য প্রকাশের ক্ষেত্রে এই প্রতিষ্ঠান দেশে অন্যদের চেয়ে এগিয়ে রয়েছে। ভারতীয় জনগণের উপর ট্রায়ালে সবচেয়ে বেশী সফলতার রেকর্ড রয়েছে এই টিকার।

ভারতে করোনাভাইরাস প্রতিরোধী টিকা কোভ্যাকসিন তৈরি বিষয়ক সব ধরনের গবেষণা পত্র প্রকাশ করেছে দেশটির শীর্ষস্থানীয় বহুজাতিক ওষুধ প্রস্তুককারক প্রতিষ্ঠান ভারত-বায়োটেক।

দেশীয় প্রযুক্তি ও উপাদান ব্যবহার করে ভারত-বায়োটেকের তৈরি কোভ্যাকসিন টিকার কার্যকারিতা নিয়ে বিতর্ক দেখা গেলে প্রতিষ্ঠানটির কর্তৃপক্ষ এমন পদক্ষেপ নেয়।

এদিকে প্রতিষ্ঠানটি তাদের উৎপাদিত টিকার কার্যকারিতা ও সুরক্ষার উপর করা অন্তত ৯টি গবেষণাপত্র এরিই মধ্যে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় ৫টি সাময়িকীতে গত এক বছরে প্রকাশ করেছে।

দেশটির ওষুধ নিয়ন্ত্রক সংস্থা এর আগে, এই টিকার পরীক্ষামূলক প্রয়োগের (ট্রায়াল) তৃতীয় ধাপের তথ্য প্রকাশের নির্দেশ দিয়েছিল। প্রতিষ্ঠানটি প্রথম ও দ্বিতীয় ধাপের ট্রায়ালের তথ্য প্রকাশ করেছিল। তবে চলতি মাসের ২০ তারিখে তাদের তৃতীয় ধাপের ট্রায়ালের তথ্য প্রকাশ করার কথা রয়েছে।

৬ মাস আগে, জরুরী ব্যবহারের জন্যে অনুমোদন পায় কোভ্যাকসিনের টিকাটি। এর পর থেকেই টিকাটির কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠে নানা মহলে। তৃতীয় ধাপের ট্রায়ালের তথ্য প্রকাশ করার জন্যে এরিই মধ্যে দুইবার তারিখ পিছিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

দেশটির সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিয়ান টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে শনিবার এক বিবৃতিতে এসব কথা জানিয়েছে ভারত-বায়োটেক।

কোম্পানিটি জানিয়েছে, তথ্যের স্বচ্ছতা প্রকাশে সর্বোচ্চ সর্তকতা নিয়েছে তারা। মানুষের দেহে প্রয়োগের যাবতীয় তথ্য প্রকাশের ক্ষেত্রে এই প্রতিষ্ঠান দেশে অন্যদের চেয়ে এগিয়ে রয়েছে। ভারতীয় জনগণের উপর ট্রায়ালে সবচেয়ে বেশী সফলতার রেকর্ড রয়েছে এই টিকার।

এর আগে, গত ৯ মার্চ ভারতের উদ্ভাবিত করোনাভাইরাস প্রতিরোধী টিকা ‘কোভ্যাকসিন’ নিরাপদ বলে মত দিয়েছে চিকিৎসাবিষয়ক সাময়িকী দ্য ল্যানসেট।

দ্বিতীয় ধাপের ট্রায়ালের ফল পর্যালোচনা শেষে এই তথ্য জানিয়েছে সাময়িকীটি।

তাদের পর্যালোচনায় বলা হয়, দ্বিতীয় ধাপের ট্রায়াল শেষে টিকাটির কার্যকারিতা সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যায়নি। তবে এটি নিরাপদ। ট্রায়ালে অংশ নেয়া স্বেচ্ছাসেবীদের মধ্যে গুরুতর কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দেয়নি।

তৃতীয় ধাপের ট্রায়ালের পর টিকাটির কার্যকারিতা জানা যাবে।

ভারতে প্রাথমিকভাবে দুটি টিকা দেয়া হচ্ছে প্রথম সারির করোনাযোদ্ধাদের। একটি অক্সফোর্ড ও অ্যাস্ট্রাজেনেকা উদ্ভাবিত ‘কোভিশিল্ড’। ভারতের সিরাম ইনস্টিটিউট টিকাটি উৎপাদন করছে।

অন্যটি সম্পূর্ণ দেশীয় পদ্ধতিতে তৈরি কোভ্যাকসিন। ভারত-বায়োটেক এই ভ্যাকসিন তৈরি করেছে।

প্রথম থেকেই কোভ্যাকসিন নিয়ে বিতর্ক ওঠে। অভিযোগ, তৃতীয় পর্যায়ের পরীক্ষার আগেই এই ভ্যাকসিনকে ছাড়পত্র দিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। দেশের বিভিন্ন রাজ্যে ভারত-বায়োটেকের টিকা সরবরাহ করা হলেও অনেকেই সেই ভ্যাকসিন নিতে চাইছেন না।

আরও পড়ুন:
আরও ছয় লাখ টিকা উপহার দেবে চীন
উপহারের ৫ লাখ টিকা পাঠাতে বাংলাদেশকে চীনের চিঠি

শেয়ার করুন

মানুষের মাংস খাবারে দেয় না ম্যাকডোনাল্ডস

মানুষের মাংস খাবারে দেয় না ম্যাকডোনাল্ডস

ফাস্টফুড কোম্পানিটির বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ নিয়ে ফ্যাক্টচেক করে রয়টার্স। এতে দেখা যায়, ম্যাকডোনাল্ডস তাদের পণ্যে মানুষের মাংস ব্যবহার করে না। ব্যঙ্গাত্মক একটি নিবন্ধ থেকে এ অপপ্রচারের সূত্রপাত হয়।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ফাস্টফুড কোম্পানি ম্যাকডোনাল্ডস তাদের খাবারে মানুষের মাংস ব্যবহার করে বলে বিভিন্ন মহলে দীর্ঘদিন ধরে গুঞ্জন রয়েছে। অনেকে ওই গুঞ্জনকে সত্য হিসেবে ধরে নেন।

ম্যাকডোনাল্ডসের খাবারে মানুষের মাংস ব্যবহারের দাবিকে গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে ‘খুবই খারাপ’, ‘বিরক্তিকর’, ‘পাগলের কর্মকাণ্ড’ লিখে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মন্তব্যও করেন অনেকে।

ফাস্টফুড কোম্পানিটির বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ নিয়ে ফ্যাক্টচেক করে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। এতে দেখা যায়, ম্যাকডোনাল্ডস তাদের পণ্যে মানুষের মাংস ব্যবহার করে না। ব্যঙ্গাত্মক একটি নিবন্ধ থেকে এ অপপ্রচারের সূত্রপাত হয়।

গুগলে সার্চ দিয়ে রয়টার্স জানতে পারে, শিকাগোভিত্তিক ব্যঙ্গাত্মক ব্লগ হাজলারসে একবার এক নিবন্ধ প্রকাশ হয়। নিবন্ধটির শিরোনাম ছিল, ‘মানুষের মাংস ব্যবহারের জন্য উন্মোচিত হলো ম্যাকডোনাল্ডস!’

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কয়েকটি পোস্ট ও হাজলারসের নিবন্ধে বলা হয়, অকলাহোমা শহরের একটি কারখানার ফ্রিজারে মানুষের মাংস পাওয়া যায়।

নিবন্ধ লেখকের নামের নিচে লেখা, ‘যা দেখ, তার অর্ধেক বিশ্বাস করো এবং অনলাইনে যা পড়ো, তার কিছু্ই বিশ্বাস করো না।’

ওই নিবন্ধকে ‘ব্যঙ্গাত্মক’ হিসেবে উল্লেখ করেছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সাময়িকী কলাম্বিয়া জার্নালিজম রিভিউ।

এর আগে নিজেদের ওয়েবসাইটকে মিথ্যা ও ব্যঙ্গের মিশ্রণ বলেছিলেন হাজলারসের প্রতিষ্ঠাতা।

খাবারে মানুষের মাংস ব্যবহার করা হয় কি না, তা একবার ম্যাকডোনাল্ডসের ওয়েবসাইটে একজন জানতে চান। জবাবে ক্রেতাদের নিশ্চিত করে ম্যাকডোনাল্ডস জানায়, তাদের পণ্যে শতভাগ বিশুদ্ধ গরু ও মুরগি ব্যবহার করা হয়।

সাত বছরের বেশি সময় ধরে ম্যাকডোনাল্ডসকে ঘিরে এ ধরনের অপপ্রচার চলছে। অবশ্য ২০১৪ সালে ফ্যাক্টচেকিং ওয়েবসাইট স্নোপস মানুষের মাংস ব্যবহারের দাবি মিথ্যা প্রমাণ করে।

আরও পড়ুন:
আরও ছয় লাখ টিকা উপহার দেবে চীন
উপহারের ৫ লাখ টিকা পাঠাতে বাংলাদেশকে চীনের চিঠি

শেয়ার করুন