টিকা রপ্তানিতে ভারতের নিষেধাজ্ঞা: ঝুঁকিতে ৯১ দেশ

বিশ্বের সবচেয়ে বড় টিকা তৈরির প্রতিষ্ঠান ভারতের সিরাম ইনস্টিটিউট। ফাইল ছবি

টিকা রপ্তানিতে ভারতের নিষেধাজ্ঞা: ঝুঁকিতে ৯১ দেশ

ডব্লিউএইচওর প্রধান বিজ্ঞানী ড. সৌম্য স্বামীনাথন জানিয়েছেন, এমন নিষেধাজ্ঞার ফলে ভাইরাসটির ভারতীয় ধরনের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকিতে থাকা আফ্রিকার কয়েকটি দেশে টিকার মজুত প্রায় ফুরিয়ে এসেছে।

করোনার টিকা রপ্তানির ওপর ভারত সরকার নিষেধাজ্ঞা দেয়ায় বিশ্বের ৯১টি দেশে ভাইরাসটির সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়ে গেছে।

এমন নিষেধাজ্ঞার ফলে ভাইরাসটির ভারতীয় ধরনের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকিতে থাকা আফ্রিকার কয়েকটি দেশে টিকার মজুত প্রায় ফুরিয়ে এসেছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) প্রধান বিজ্ঞানী ড. সৌম্য স্বামীনাথন ভারতের সংবাদমাধ্যম এনডিটিভিকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে এমন মন্তব্য করেছেন। সোমবার এই সাক্ষাৎকার প্রকাশিত হয়েছে এনডিটিভির প্রতিবেদনে।

ভারতের সিরাম ইনস্টিটিউটে উৎপাদিত অক্সফোর্ড–অ্যাস্ট্রাজেনেকার করোনার টিকার এক বিলিয়ন ডোজ নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে সরবরাহের কথা ছিল।

কেবল ২০২০ সালেই জাতিসংঘের উদ্যোগ কোভ্যাক্সের আওতায় এসব দেশে ৪০ কোটি ডোজ করোনার টিকা সরবরাহের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল ভারতীয় প্রতিষ্ঠানটি।

সাক্ষাৎকারে সৌম্য স্বামীনাথন জানিয়েছেন, করোনার এমন ঊর্ধ্বমুখী সংক্রমণ থেকে বাঁচতে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে কার্যকর উপায় হচ্ছে টিকা। অথচ সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউয়ের ধাক্কা কিংবা তৃতীয় ঢেউয়ের ঝুঁকির মুখেও অনেক দেশ প্রয়োজনীয় টিকা পাচ্ছে না।

এদিকে, ডব্লিউএইচও সোমবার জানিয়েছে, ‘ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট’ করোনাভাইরাসের প্রথম ধরন পাওয়া গেছে ভারতে। এর আগে, বিশ্বসংস্থাটি ভারতে পাওয়া ধরনটির নাম দিয়েছিল কাপ্পা।

আরও পড়ুন:
মজুত শেষ, দ্বিতীয় ডোজের অনিশ্চয়তায় ২০ হাজার মানুষ
টিকা পেতে রাশিয়ার সঙ্গে চুক্তি ‘ফাইনাল স্টেজে’
সিনোফার্মের টিকা শিক্ষার্থীদের আগে দিতে নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

শেয়ার করুন

মন্তব্য

চীনকে রুখতে জি-সেভেনের পরিকল্পনা

চীনকে রুখতে জি-সেভেনের পরিকল্পনা

যুক্তরাজ্যে জি-সেভেন জোটভুক্ত দেশের প্রতিনিধিরা। ছবি: সংগৃহীত

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের নেয়া হাজার কোটি ডলারের বেল্ট অ্যান্ড রোডস ইনিশিয়েটিভ কর্মসূচীর (বিআরআই) প্রভাব থেকে বিশ্বের শতাধিক দেশকে মুক্ত করতেই পাল্টা পরিকল্পনা নিয়েছেন জি-সেভেনভুক্ত দেশগুলোর প্রতিনিধিরা।

বিশ্বে চীনের আধিপত্য ও আগ্রাসন রুখে দিতে কৌশলগত পরিকল্পনা ঘোষণা করতে যাচ্ছে ধনী দেশের জোট গ্রুপ অব সেভেনভুক্ত (জি-সেভেন) দেশগুলো।

যুক্তরাজ্যের দক্ষিণপশ্চিমাঞ্চলে চলা জি-সেভেন সামিটে এমন পরিকল্পনা চূড়ান্ত করেছে এই জোটভুক্ত দেশের প্রতিনিধিরা।

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের নেয়া হাজার কোটি ডলারের বেল্ট অ্যান্ড রোডস ইনিশিয়েটিভ কর্মসূচীর (বিআরআই) প্রভাব থেকে বিশ্বের শতাধিক দেশকে মুক্ত করতেই পাল্টা পরিকল্পনা নিয়েছেন তারা।

একইসঙ্গে, গত ৪ দশক ধরে অর্থনৈতিক ও সামরিক শক্তিতে অপ্রতিরোধ্য চীন ও শি জিনপিংয়ের নেতৃত্বে নতুন মাত্রা পাওয়া দেশটিকে পরিকল্পনা অনুযায়ী রুখতে মরিয়া হয়ে উঠেন জোটের নেতারা।

বিল্ড ব্যাক বেটার ওয়ার্ল্ড (বি৩ডব্লিউ) কর্মসূচীর আওতায় উন্নয়নশীল দেশগুলোতে কাঠামোগত উন্নয়নে বিশাল অঙ্কের সহায়তা দিতে যাচ্ছে জি- সেভেন। এর আওতায় ২০৩৫ সালের মধ্যে ৪০ ট্রিলিয়ন ডলার সহায়তা দেয়া হতে পারে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স ও সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে উঠে আসে এমন তথ্য।

২০১৩ সালে হাজার কোটি ডলারের বিআরআই কর্মসূচী হাতে নেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। এর আওতাভুক্ত দেশগুলো এশিয়া থেকে ইউরোপ পর্যন্ত এবং এর সীমাও ছাড়িয়ে গেছে।

এক শর বেশি দেশ এখন পর্যন্ত এই পরিকল্পনার আওতাভুক্ত হয়েছে। এবং চীনের সঙ্গে চুক্তি সই করে নিজ দেশের রেল, বন্দর, মহাসড়ক ও অন্যান্য অবকাঠামোগত তৈরিতে কাজ করছে।

এদিকে, জি-সেভেনভুক্ত দেশগুলোর প্রতিনিধিদের দাবি, মানবাধিকার লঙ্ঘন ও করোনাভাইরাসের উৎস অনুসন্ধানে চীনের গড়িমসি, তাইওয়ান ইস্যুতে বেইজিংয়ের বিতর্কিত ভূমিকা দেশটির বিরুদ্ধে এমন পদক্ষেপ নিতে বাধ্য করেছে তাদের।

এ বিষয়ে জো বাইডেনের এক প্রতিনিধি জানান, চীনের ভেতরে জোরপূর্বক শ্রম ও মানবাধিকার লঙ্ঘনরোধে বেইজিংয়ের বিরুদ্ধে জোটভুক্ত দেশগুলোর জোরালো পদক্ষেপ নেয়া উচিত।

এদিকে, চীনের বিরুদ্ধে এমন পদক্ষেপ না নিতে জোটের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে অনুরোধ জানিয়েছেন জি-সেভের বর্তমান চেয়ারম্যান ও ইতালির প্রধানমন্ত্রী মারিয়ো দ্রাঘি। তিনি বলেন, ‘ চীনের বিরুদ্ধে এমন পাল্টা পদক্ষেপ নিলে বিশ্বে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু যেমন জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব প্রতিরোধে আমরা চীনের সহযোগিতা হারাতে পারি।’

আরও পড়ুন:
মজুত শেষ, দ্বিতীয় ডোজের অনিশ্চয়তায় ২০ হাজার মানুষ
টিকা পেতে রাশিয়ার সঙ্গে চুক্তি ‘ফাইনাল স্টেজে’
সিনোফার্মের টিকা শিক্ষার্থীদের আগে দিতে নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

শেয়ার করুন

নাইজেরিয়ায় বন্দুকধারীদের গুলিতে অর্ধশতাধিক গ্রামবাসী নিহত

নাইজেরিয়ায় বন্দুকধারীদের গুলিতে অর্ধশতাধিক গ্রামবাসী নিহত

নাইজেরিয়ায় বন্দুকধারীর গুলিতে শুক্রবার ৫৩ গ্রামবাসী নিহত হয়।

দাউরানের বাসিন্দা মুসা আরজিকা বলেন, ‘নিহতদের দাফনকাজ করা বিপজ্জনক; কারণ দস্যুরা পাশের জুরমি বনে আশ্রয় নিয়েছে। দাফনে তারা হামলা চালাতে পারে।’

নাইজেরিয়ার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় জামফারা রাজ্যে সশস্ত্র গবাদিপশু চোরদের গুলিতে ৫৩ গ্রামবাসী নিহত হয়েছে।

শনিবার দেশটির পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের বরাতে বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

স্থানীয়দের কাছে ‘দস্যু’ নামে পরিচিত বন্দুকধারীরা জামফারা রাজ্যের জুরমি জেলায় বৃহস্পতি ও শুক্রবার টানা দুই দিন মোটরসাইকেলে চড়ে তাণ্ডব চালায়।

ওই সময় জেলার কাদাওয়া, কোয়াতা, মাদুবা, গান্দা সামু, সাউলাওয়া ও আসকাওয়া গ্রাম দখলে নেয় বন্দুকধারীরা। দখল চলাকালে গ্রামবাসীর উদ্দেশে গুলি ছোড়ে তারা।

জামফারা পুলিশের মুখপাত্র মোহাম্মদ শেহু বলেন, শুক্রবার নিহত ১৪ জনের মরদেহ রাজ্যের রাজধানী গুসাউতে পাঠানো হয়েছে। হামলার পর এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, আরও ৩৯ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। পার্শ্ববর্তী শহর দাউরানে ওই সব মরদেহ কবর দেয়া হয়।

দাউরানের বাসিন্দা হারুনা আব্দুল করিম বলেন, ‘গতকাল (শুক্রবার) আমরা ২৮ জনের মরদেহ উদ্ধার করেছি। আজ সকালে বিভিন্ন গ্রাম থেকে আরও ১১টি মরদেহ উদ্ধার হয়।’

দাউরানের আরেক বাসিন্দা মুসা আরজিকা বলেন, ‘নিহতদের দাফনকাজ করা বিপজ্জনক; কারণ দস্যুরা পাশের জুরমি বনে আশ্রয় নিয়েছে। দাফনে তারা হামলা চালাতে পারে।’

জুরমি জেলার বিভিন্ন গ্রামে প্রায়ই হানা দেয় দস্যুরা। গত সপ্তাহে হামলা বন্ধে কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়ে মহাসড়ক আটকে দিয়েছিল গ্রামবাসী।

শুক্রবার ‘খুনি দস্যুদের’ হাত থেকে নিজেদের আত্মরক্ষায় গ্রামবাসীর প্রতি আহ্বান জানান জামফারা রাজ্যের গভর্নর বেলো মাতাওয়ালে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নাইজেরিয়ার উত্তর-পশ্চিম ও মধ্যাঞ্চলের গ্রামে গ্রামে হামলা চালানো অব্যাহত রেখেছে দেশটির গবাদিপশু চোর ও অপহরণকারীরা। খুনোখুনি, গ্রামবাসী অপহরণ, গবাদিপশু চুরির পাশাপাশি বাড়িঘর লুটপাট করে জ্বালিয়ে দেয় তারা।

সম্প্রতি দেশটির দুর্বৃত্তরা মুক্তিপণের দাবিতে স্কুলে হামলা চালিয়ে শিক্ষার্থী অপহরণ করা শুরু করেছে।

গত বছরের ডিসেম্বর থেকে এখন পর্যন্ত সাড়ে আট শর বেশি শিক্ষার্থী অপহরণ করা হয়। তাদের বেশির ভাগকে মুক্তিপণ দেয়ার পর ছেড়ে দেয়া হয়।

টাকাপয়সার লোভে দস্যুরা এসব অপরাধ কর্মকাণ্ড চালায় বলে ধারণা করা হয়। তাদের মতাদর্শগত কোনো অবস্থান নেই।

তবে নাইজেরিয়ার উত্তর-পূর্বে ১২ বছর ধরে ইসলামিক স্টেট (আইএস) প্রতিষ্ঠার লড়াই চলছে। সেখান থেকে আইএস জঙ্গিরা দস্যু দলে যোগ দিতে পারে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে স্থানীয়রা।

আরও পড়ুন:
মজুত শেষ, দ্বিতীয় ডোজের অনিশ্চয়তায় ২০ হাজার মানুষ
টিকা পেতে রাশিয়ার সঙ্গে চুক্তি ‘ফাইনাল স্টেজে’
সিনোফার্মের টিকা শিক্ষার্থীদের আগে দিতে নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

শেয়ার করুন

তিমির মুখের ভেতর থেকে ফিরলেন জেলে

তিমির মুখের ভেতর থেকে ফিরলেন জেলে

সমুদ্রবিষয়ক বিজ্ঞানীরা বলেন, পূর্ণ বয়স্ক মানুষকে গিলে খাওয়া হ্যাম্পবেক তিমির পক্ষে প্রায় অসম্ভব। ছবি: সংগৃহীত

৫৬ বছর বয়সী প্যাকার্ড মনে করেছিলেন, তাকে সাদা হাঙর মুখে পুরে নিয়েছে। কিন্তু তিনি অনুভব করেন সেখানে কোনো দাঁত নেই। তিনি বুঝতে পারেন তাকে হাঙর নয়, গিলে নিচ্ছে কোনো বিশালাকার তিমি। হঠাৎ বিশাল জলজপ্রাণীটি পানির উপরিভাগে আসে এবং তাকে উগরে ফেলে দিতে মাথা সজোরে ঝাঁকাতে থাকে এবং শূন্যে ছুড়ে ফেলে তাকে।

জলযান থেকে বিশেষ পোশাক পরে সমুদ্রের পানিতে ঝাঁপ দেয়ার সঙ্গে সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের এক জেলেকে মুখে পুরে নেয় এক বিশালাকার তিমি।

মাইকেল প্যাকার্ড নামের ওই লবস্টারম্যান এ সময় প্রচণ্ড ধাক্কা অনুভব করেছিলেন এবং মুহূর্তের মধ্যে তিনি গভীর অন্ধকারে তলিয়ে যান। ৩০-৪০ সেকেন্ড তিমির মুখগহ্বরে ছিলেন তিনি।

এ সময় ৫৬ বছর বয়সী প্যাকার্ড মনে করেছিলেন, তাকে সাদা হাঙর মুখে পুরে নিয়েছে। কিন্তু তিনি অনুভব করেন সেখানে কোনো দাঁত নেই। তিনি বুঝতে পারেন তাকে হাঙর নয়, গিলে নিচ্ছে কোনো বিশালাকার তিমি।

উপকূলবর্তী হায়ানিসের কেপ কড হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়ে সাংবাদিকদের এমন বিরল ঘটনার বর্ণনা দেন চিংড়ি শিকারি এই জেলে।

তিনি বলেন, ‘তিমিটি আমাকে গিলে ফেলার চেষ্টা করেছিল। আমি মনে করেছিলাম, আমি মরতে যাচ্ছি। আমার স্ত্রী, ১২ ও ১৫ বছর বয়সী দুই ছেলের মুখ আমার সামনে ভেসে আসতে লাগল।

‘ঠিক সেই সময় বিশাল জলজপ্রাণীটি পানির উপরিভাগে আসে এবং আমাকে উগরে ফেলে দিতে তার মাথা সজোরে ঝাঁকাতে থাকে। আমাকে শূন্যে ছুড়ে ফেলে সে। আমি মুক্ত হয়ে যাই এবং পানিতে আছড়ে পড়ি।’

তিমির মুখের ভেতর থেকে ফিরলেন জেলে

মাইকেল প্যাকার্ড নামের ওই লবস্টারম্যান ৩০-৪০ সেকেন্ড সময় তিমির মুখগহব্বরে ছিলেন। ছবি: সংগৃহীত

তিনি আরও বলেন, ‘আমি ভেবেছিলাম আমার হাঁটু প্রাণীটি তার দন্তহীন চোয়াল দিয়ে গুঁড়িয়ে দিয়েছে। পরে বুঝতে পারলাম, সেটা তেমন কোনো বড় ধরনের আঘাত ছিল না। কেবল কিছুটা স্থানচ্যুত হয়েছিল হাঁটু।’

সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে উঠে আসে এমন ঘটনার বর্ণনা।

ম্যাসাচুসেটস অঙ্গরাজ্যের প্রোভিন্সটাউনের উপকূলে স্থানীয় সময় শুক্রবার এটি ঘটেছিল। পরে ঘটনাস্থলের কাছে থেকেই জলযানে থাকা সহকর্মীরা প্যাকার্ডকে উদ্ধার করেন।

শুক্রবার সকালে আবহাওয়ার অবস্থা ভালো ছিল এবং পানির অন্তত ২০ ফুট পর্যন্ত সূর্যের আলোয় আলোকিত ছিল।

হ্যাম্পবেক প্রজাতির এমন তিমি সর্বোচ্চ ৫০ ফুট লম্বা হয় এবং ওজন ৩৬ টন হয়ে থাকে। ওয়ার্ল্ড ওয়াইল্ডলাইফ ফান্ডের তথ্যমতো এমন তিমির সংখ্যা পৃথিবীতে ৬০ হাজারের মতো।

সমুদ্রবিষয়ক বিজ্ঞানীরা বলেন, ‘হ্যাম্পবেক তিমি বিশালাকার হাঁ করে অনেক পরিমাণে ছোট মাছ (বিশেষত ক্রিল) পানির সঙ্গে মুখে পুরে নেয়। প্যাকার্ডের সঙ্গে যে ঘটনাটি ঘটেছে তা কেবল দুর্ঘটনা ছিল। বাস্তবিক পক্ষে একজন পূর্ণ বয়স্ক মানুষকে গিলে খাওয়া হ্যাম্পবেক তিমির পক্ষে প্রায় অসম্ভব।

৫৬ বছর বয়সী প্যাকার্ড চার দশকের বেশি সময় সমুদ্রের জলে লবস্টার শিকার করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন। যদিও তার স্ত্রী বহুবার তাকে এমন ঝুঁকিপূর্ণ পেশা ছেড়ে দেয়ার অনুরোধ করেছেন।

আরও পড়ুন:
মজুত শেষ, দ্বিতীয় ডোজের অনিশ্চয়তায় ২০ হাজার মানুষ
টিকা পেতে রাশিয়ার সঙ্গে চুক্তি ‘ফাইনাল স্টেজে’
সিনোফার্মের টিকা শিক্ষার্থীদের আগে দিতে নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

শেয়ার করুন

‘করোনা দেবীর’ কাছে প্রার্থনা গ্রামবাসীর

‘করোনা দেবীর’ কাছে প্রার্থনা গ্রামবাসীর

করোনার সংক্রমণ থেকে মুক্তি পেতে ‘করোনা দেবীর’ সামনে প্রার্থনা করেন উত্তর প্রদেশের গ্রামবাসী। ছবি: এএনআই

সঙ্গীতা নামের এক গ্রামবাসী শুক্রবার রয়টার্সকে বলেন, ‘মায়ের আশীর্বাদে আমাদের গ্রাম, গ্রামবাসী থেকে শুরু করে সবাই করোনা থেকে মুক্তি পাবে।’

করোনাভাইরাসের ভয়াবহ সংক্রমণের হাত থেকে মুক্তি পেতে বেদি নির্মাণ করা হয়েছে। তাতে বসানো হয়েছে ‘করোনা দেবীর’ মূর্তি। ঐশ্বরিক হস্তক্ষেপে করোনা দূর হবে, এই আশায় প্রতিদিনই দেবীর সামনে প্রার্থনা হয়।

ভারতের উত্তর প্রদেশ রাজ্যের প্রতাপগড় শহরের শুখলাপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটেছে বলে বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

চলতি সপ্তাহে উজ্জ্বল হলুদ রঙের বেদিতে ‘করোনা মাতাকে’ বসানো হয়। দেবীর সামনে পবিত্র পানি ও ফুল রেখে প্রার্থনা করেন শুখলাপুর গ্রামের উপাসকরা।

সঙ্গীতা নামের এক গ্রামবাসী শুক্রবার রয়টার্সকে বলেন, ‘মায়ের আশীর্বাদে আমাদের গ্রাম, গ্রামবাসী থেকে শুরু করে সবাই করোনা থেকে মুক্তি পাবেন।’

চলতি বছরের এপ্রিল ও মে মাসে করোনার দ্বিতীয় ধাক্কায় ব্যাপক সংক্রমণ দেখা দেয় ভারতে। প্রতিদিন লাখের ওপর মানুষের দেহে ভাইরাসটির উপস্থিতি পাওয়া যায়। এর কারণে মৃত্যু হয় লাখ লাখ ভারতীয়র।

‘করোনা দেবীর’ কাছে প্রার্থনা গ্রামবাসীর

শুক্রবার দুই মাসের বেশি সময় পর ৯০ হাজারের কম মানুষের শরীরে করোনার সংক্রমণ দেখা যায়। ওই দিন ৮৪ হাজার ৩৩২ জনের দেহে করোনা শনাক্ত হয়।

তবে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের শঙ্কা, আগামী কয়েক মাসের মধ্যে করোনার তৃতীয় ধাক্কায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে।

ভারতে এখন পর্যন্ত করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৩ লাখ ৫৯ হাজার ১৫৫। এদের মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ৩ লাখ ৬৭ হাজার ৮১ জনের।

করোনার দ্বিতীয় ঢেউ অনেকটা নিয়ন্ত্রণে চলে আসার পথে থাকলেও জনসাধারণকে স্বাস্থ্যবিধি যথাযথভাবে মেনে চলার পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

মন্ত্রণালয়ের ব্রিফিংয়ে যুগ্ম সচিব লাভ আগারওয়াল বলেন, ‘কোভিড থেকে সুরক্ষায় আমাদের দৈনন্দিন চলাফেরায় যথাযথ আচরণ অব্যাহত রাখতে হবে।’

আরও পড়ুন:
মজুত শেষ, দ্বিতীয় ডোজের অনিশ্চয়তায় ২০ হাজার মানুষ
টিকা পেতে রাশিয়ার সঙ্গে চুক্তি ‘ফাইনাল স্টেজে’
সিনোফার্মের টিকা শিক্ষার্থীদের আগে দিতে নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

শেয়ার করুন

বঙ্গ রাজনীতিতে মুকুল অ্যাফেক্ট

বঙ্গ রাজনীতিতে মুকুল অ্যাফেক্ট

তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় মুকুল রায়কে উত্তরীয় পরিয়ে স্বাগত জানান।

মুকুলের তৃণমূলে নাটকীয় প্রত্যাবর্তনে ‘সোনার কেল্লা’ সিনেমার ছোট্ট মুকুলের কথাই ভার্চুয়াল দেয়ালে উদ্ভাসিত হয়ে ওঠে, যেখানে শিশু অভিনেতা কুশল চক্রবর্তীর ছবি দিয়ে নিচে লিখে দেয়া হয়েছে 'আমি বাড়ি যাব' কিংবা 'ওরা দুষ্ট লোক'। আর মুহূর্তেই তা ভাইরাল।

মুকুল রায়ের আবার দল বদলে তৃণমূলে পুনর্মিলন, বিজেপিতে ভাঙন আর নেট মাধ্যমে 'দুষ্ট মুকুল' ভাইরাল হয়েছে ।

বিজেপির সর্বভারতীয় সহসভাপতি মুকুল রায় তৃণমূল কংগ্রেসে ফিরে আসায় তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের মধ্যে পুনর্মিলনের আনন্দ দেখা দিয়েছে।

উল্টো দিকে বিজেপির মধ্যে অন্তর্দ্বন্দ্ব আর সংগঠনের দুর্বল দিকটাই বেরিয়ে পড়েছে, যা নিয়ে নেটিজেনরা রঙ্গরসিকতায় ব্যস্ত থেকেছেন সারা দিন। কেননা মুকুল রায়ের হাত ধরেই রাজ্যে বিজেপির নব উত্থান হয়েছিল। তবে বিজেপিতে যাওয়া যে ভুল হয়েছিল, তা অবশ্য স্বীকার করে নেন মুকুল।

এরপর পরম্পরা মেনে গাঠিয়া চিপস দিয়ে মুড়ি মেখে তৃণমূল ভবনে চলে আড্ডা। পুরোনো দিনের গল্প। পুনর্মিলনের আনন্দে মশগুল হয়ে যান তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব।

পুনর্মিলন আড্ডার পরই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সাংবাদিক বৈঠক করেন। সেখানে মুকুল ও শুভ্রাংশুর তৃণমূলে যোগ দেয়ার কথা ঘোষণা করেন তৃণমূলের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায়।

আর এ সময় মুকুলের তৃণমূলে নাটকীয় প্রত্যাবর্তনে ‘সোনার কেল্লা’ সিনেমার ছোট্ট মুকুলের কথাই ভার্চুয়াল দেয়ালে উদ্ভাসিত হয়ে ওঠে, যেখানে শিশু অভিনেতা কুশল চক্রবর্তীর ছবি দিয়ে নিচে লিখে দেয়া হয়েছে 'আমি বাড়ি যাব' কিংবা 'ওরা দুষ্ট লোক।' আর মুহূর্তেই তা ভাইরাল।

অনেকে বলেন, বাংলা রাজনীতির চাণক্য মমতা। আবার কেউ কেউ বলেন, মুকুল রায় বাংলা রাজনীতির চাণক্য।

সে যে-ই হোক, মমতা-মুকুলের রাজনৈতিক যুগলবন্দী কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের ৩৪ বছরের বামফ্রন্ট সরকারকে ছুড়ে ফেলে রাজ্যে তৃণমূল কংগ্রেস সরকার গঠন করে ইতিহাস সৃষ্টি করেছিল ২০১১ সালে।

তাই এই জুটির বিচ্ছেদ বা মিলন ঐতিহাসিক। শুক্রবার তৃণমূল ভবনে তেমনই এক ইতিহাস সৃষ্টি হলো।

বিজেপির সর্বভারতীয় সহসভাপতি মুকুল রায় ও তার ছেলে শুভ্রাংশু রায় বিজেপি ছেড়ে আবার তাদের পুরোনো দল তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দেন। আর তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় তাদের উত্তরীয় পরিয়ে স্বাগত জানান।

২০১৭ সালে মুকুল রায় তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন। প্রায় চার বছর পর মুকুলের আবার তৃণমূলে ফিরে আসা নিয়ে তৃণমূল নেত্রী মমতা বলেছেন, 'ঘরের ছেলে ঘরে ফিরল। ও আমাদের পুরোনো পরিবারের লোক। ঘরে ফিরে মানসিক শান্তি পেয়েছে।'

মুকুল রায় ও তার ছেলে শুভ্রাংশু রায়ের তৃণমূলের ফেরা নিয়ে তৃণমূল নেত্রী মমতা আরও বলেন, 'চরমপন্থি নরমপন্থি বলে একটা ব্যাপার আছে। যারা দলের বিরুদ্ধে গিয়ে নিম্নরুচির আক্রমণ করেছে, সেই গাদ্দারদের ফেরাব না।'

বিজেপি ছেড়ে আবার তৃণমূলে ফেরা নিয়ে মুকুল রায় বলেন, 'বিজেপি করা যায় না, তাই ফিরে এলাম। কেন ফিরলাম তা পরে বিস্তারিত জানাব। নিজের জায়গায় ফিরতে পেরে ভালো লাগছে। বাংলা নিজের জায়গায় ফিরছে। তাদের সামনে থেকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন বাংলার নেত্রী দেশের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।'

বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের পর থেকে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য বিজেপিতে ভাঙন ধরেছে। আদি বিজেপি নব্য বিজেপির অন্তর্কলহ প্রকট হয়েছে। মুকুল রায় বিজেপি ছাড়ায় তা প্রকাশ্যে এসে পড়েছে।

বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষের সঙ্গে বিজেপির সর্বভারতীয় সহসভাপতি মুকুল রায়ের সম্পর্ক একেবারেই ভালো যাচ্ছিল না। দিলীপের কথায়, 'তিনি (মুকুল) থাকায় লাভ তো বিশেষ কিছু হয়নি। ক্ষতি আর কী হবে?'

বিজেপির কেন্দ্রীয় সম্পাদক অনুপম হাজরা টুইটবার্তায় বলেন, 'নির্বাচন চলাকালে দু-একজন নেতাকে নিয়ে অতি মাতামাতি এবং যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও লবিবাজি করে বাকিদের বসিয়ে রেখে অবজ্ঞা বা অপমান করার করুণ পরিণতি।'

বিজেপির রাজ্য সহসভাপতি রাজকমল পাঠক বলেন, 'যারা দেশের মানুষের সেবার জন্য একটা আদর্শ নিয়ে পার্টি করে, নিজের স্বার্থসিদ্ধির জন্য নয়, তারা দল বদল করে না। এর থেকে আমাদের শিক্ষা নিয়ে আগামী দিনে এগোতে হবে।'

বিজেপি নেতা অর্জুন সিংহ বলেন, 'মুকুল রায়ের সম্পর্কে সব সময় সন্দেহ ছিল । তিনি আমাদের দলের খবর তৃণমূলে দিতেন। ফলে আমাদের হার হয়েছে।'

বর্ষীয়ান বিজেপি নেতা তথাগত রায় বলেন, 'মলমূত্র ত্যাগ করলে মানুষ দুর্বল হয় না, সবলই হয়।'

আর এই আশু ভাঙনের প্রতিক্রিয়ায় বিজেপি নেতা শমীক ভট্টাচার্য বলেন, 'দু-একজন চলে গেলে কিছু এসে যায় না। আমাদের দল নেতানির্ভর নয়।'

তৃণমূলে অভিষেক-মুকুল বিরোধ নিয়ে তৃণমূল নেত্রী মমতা বলেন, 'ওদের মধ্যে কোনো দিন বিরোধ ছিল না।' মুকলও সে কথা স্বীকার করেন।

আর তাই রাতে মুকুলের তৃণমূলে ফেরা নিয়ে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক টুইট করে লেখেন, 'তৃণমূল পরিবারে মুকুল রায়কে স্বাগত জানিয়ে আমি খুশি। বিজেপিতে তার বিভিন্ন সংগ্রামের সঙ্গে আমরা সহমর্মী। তাকে আশ্বাস দিচ্ছি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে ভারতবাসীর উজ্জ্বল ভবিষ্যতের লক্ষ্যে আমরা দল হিসেবে একসঙ্গে কাজ করব।'

সূত্রের খবর, মুকুল রায় যখন সল্টলেকের বাড়ি থেকে বেরিয়ে গাড়ি নিয়ে দল বদলের লক্ষ্যে তৃণমূল ভবনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিলেন, তখন একের পর এক ফোন আসছিল বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের পক্ষ থেকে।

এমনকি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও মুকুলকে ফোন করেছিলেন বলে সূত্রের খবর। কিন্তু মুকুল একটিও ফোন ধরেননি।

আরও পড়ুন:
মজুত শেষ, দ্বিতীয় ডোজের অনিশ্চয়তায় ২০ হাজার মানুষ
টিকা পেতে রাশিয়ার সঙ্গে চুক্তি ‘ফাইনাল স্টেজে’
সিনোফার্মের টিকা শিক্ষার্থীদের আগে দিতে নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

শেয়ার করুন

সৌদিবাসীর বাইরে এবারও হজ নয়

সৌদিবাসীর বাইরে এবারও হজ নয়

সৌদির স্বাস্থ্য ও হজ মন্ত্রণালয় শনিবার জানিয়েছে, এবার মাত্র ৬০ হাজার মুসল্লিকে হজের অনুমতি দেয়া হবে। এদের সবাই হবেন সৌদি আরবেরই বাসিন্দা। তাদের বয়স হতে হবে ১৮ থেকে ৬৫ বছরের মধ্যে।

করোনাভাইরাসের মহামারির কারণে গত বছরের মতো এবারও সৌদি আরবের বাইরে কাউকে হজ করার অনুমতি দিচ্ছে না দেশটি।

সৌদির স্বাস্থ্য ও হজ মন্ত্রণালয় শনিবার জানিয়েছে, এবার মাত্র ৬০ হাজার মুসল্লিকে হজের অনুমতি দেয়া হবে। এদের সবাই হবেন সৌদি আরবেরই বাসিন্দা।

৬০ হাজার জনকে বেছে নিতে কিছু শর্তও বেধে দিয়েছে সৌদি আরব কর্তৃপক্ষ। হজে যারা অংশ নেবেন তাদের সবাইকে হতে হবে সৌদি আরবের বাসিন্দা। দীর্ঘমেয়াদী কোনো রোগ থাকা যাবে না। বয়স হতে হবে ১৮ থেকে ৬৫ বছরের মধ্যে। আগেভাগেই নিতে হবে করোনারোধী টিকা।

সৌদি আরব থেকে এই বার্তা পেয়েছে ধর্ম মন্ত্রণালয়ও। শনিবার বিকেল পৌনে পাঁচটার দিকে ধর্ম মন্ত্রণালয় থেকে বলা হয়, সৌদি সরকার জানিয়েছে, কোভিড-১৯ করোনা মহামারি পরিস্থিতি বিবেচনায় এ বছরও সৌদি আরবের বাইরের কোনো দেশ হতে হজযাত্রীগণ হজের সুযোগ পাবেন না। সৌদি আরবের নাগরিক এবং সৌদি আরবে অবস্থানকারী অন্যান্য দেশের মুসলিমদের নিয়ে সীমিত আকারে হজ পালিত হবে।

শনিবার বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেনের সঙ্গে সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান আল সৌদের সঙ্গে ফোলালাপেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

তখন সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, এ বছর করোনা মহামারির কারণে অন্য দেশ থেকে কোনো ব্যক্তি সৌদি আরবে গিয়ে হজ পালন করার সুযোগ পাবেন না। তবে সৌদিতে অবস্থানরত সৌদি নাগরিকের পাশাপাশি অন্য দেশের নাগরিকরাও হজ পালনের সুযোগ পাবেন।

করোনার কারণে গত বছরও খুব সীমিত পরিসরে হজের আনুষ্ঠানিকতা আয়োজন করেছিল সৌদি আরব। হজে অংশগ্রহণের সুযোগ দেয়া হয় হাজার খানেক মানুষকে, যাদের বেশির ভাগই ছিলেন সৌদি ভূখণ্ডে অবস্থানকারী।

আরও পড়ুন:
মজুত শেষ, দ্বিতীয় ডোজের অনিশ্চয়তায় ২০ হাজার মানুষ
টিকা পেতে রাশিয়ার সঙ্গে চুক্তি ‘ফাইনাল স্টেজে’
সিনোফার্মের টিকা শিক্ষার্থীদের আগে দিতে নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

শেয়ার করুন

উইঘুর মুসলমান নির্যাতন: পুলিৎজার পেলেন মেঘা

উইঘুর মুসলমান নির্যাতন: পুলিৎজার পেলেন মেঘা

উইঘুর নিয়ে প্রতিবেদনের জন্য পুলিৎজার পুরস্কার পান সাংবাদিক মেঘা রাজাগোপালান। ছবি: পুলিৎজার সেন্টার

শিনজিয়াং প্রদেশে উইঘুরসহ অন্যান্য সম্প্রদায়ের মুসলমানদের আটকে রাখতে গোপনে নির্মিত বন্দিশিবিরের ওপর অনুসন্ধানী সিরিজ প্রতিবেদন করেন মেঘা ও তার দুই সহযোগী। বিশ্বজুড়ে সাড়া ফেলা ওই প্রতিবেদনই তাদের এনে দিয়েছে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি।

চীনের শিনজিয়াং প্রদেশে উইঘুর সম্প্রদায়ের ওপর দেশটির সরকারের অবর্ণনীয় নির্যাতনের ওপর অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের জন্য পুলিৎজার পেয়েছেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত সাংবাদিক মেঘা রাজাগোপালান। এই প্রতিবেদন তৈরিতে সহযোগিতা করায় তার সঙ্গে এই পুরস্কার পেয়েছেন আরও দুই কন্ট্রিবিউটর।

শিনজিয়াং প্রদেশে উইঘুরসহ অন্যান্য সম্প্রদায়ের মুসলমানদের আটকে রাখতে গোপনে নির্মিত বন্দিশিবিরের ওপর অনুসন্ধানী প্রতিবেদনটি করেন তারা। তাদের ওই সিরিজ প্রতিবেদনে নির্যাতনের ওই সব অবকাঠামো প্রকাশ্যে আসে।

পিটিআইয়ের প্রতিবেদনে শনিবার বলা হয়, শিনজিয়াংকে ঘিরে মেঘার সিরিজ প্রতিবেদন ইন্টারন্যাশনাল রিপোর্টিং ক্যাটাগরিতে পুলিৎজার পুরস্কার জিতে নেয়।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম বাজফিড নিউজে কর্মরত মেঘা।

বাজফিড নিউজের পক্ষ থেকে বলা হয়, ২০১৭ সালে শিনজিয়াংয়ের বন্দিশিবিরে কয়েক হাজার মুসলমানকে আটকে রাখা শুরু করে চীন। ওই বছর মেঘাই প্রথম ওই সব শিবিরে যান। বন্দিশিবিরের অস্তিত্বের অভিযোগ সে সময় বারবার অস্বীকার করেছিল চীন।

মেঘার পুলিৎজার জেতা নিয়ে বাজফিড বলেছে, ‘চীন সরকার মেঘার অনুসন্ধানী কাজ বন্ধ করে দিতে চেয়েছিল। তার ভিসা বাতিল এবং তাকে দেশ থেকে বের করে দিতে চেয়েছিল।

‘পুরো শিনজিয়াং প্রদেশে পশ্চিমা দেশের নাগরিকসহ সাংবাদিকদের প্রবেশ বন্ধ করার উদ্যোগ নিয়েছিল চীন। তখন বন্দিদের নিয়ে প্রাথমিক তথ্য পাওয়াও কঠিন হয়ে পড়ে।’

তবে চীন সরকারের এসব বাধার সামনে দমে যাননি মেঘা। কর্মস্থল লন্ডন থেকে দুই কন্ট্রিবিউটরকে সঙ্গে নিয়ে শিনজিয়াংয়ে উইঘুর নির্যাতন নিয়ে প্রতিবেদনের কাজ অব্যাহত রাখেন তিনি।

উইঘুর মুসলমান নির্যাতন: পুলিৎজার পেলেন মেঘা

শিনজিয়াংয়ে উইঘুরদের ওপর নির্যাতনের নিন্দা জানিয়ে ইস্তাম্বুলে চীনের কনস্যুলেটের বাইরে বিক্ষোভ। ছবি: এএফপি

কন্ট্রিবিউটরদের একজন স্থপতি অ্যালিসন কিলিং। ফরেন্সিক অ্যানালাইসিস অফ আর্কিটেকচার ও স্যাটেলাইট ইমেজেস অফ বিল্ডিং বিষয়ে বিশেষজ্ঞ তিনি। অন্যজন প্রোগ্রামার ক্রিস্টো বুসচেক।

বাজফিড নিউজের প্রধান সম্পাদক মার্ক স্কুফস বলেন, ‘এ সময়ের অন্যতম ভয়াবহ মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়ে বিশ্ববাসীকে জানাতে শিনজিয়াং প্রতিবেদন খুবই দরকারী ছিল।’

পুলিৎজার পুরস্কার জয়ের পর লন্ডন থেকে মেঘা বাজফিড নিউজকে জানান, টেলিভিশনে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান দেখা হয়নি তার। কারণ পুরস্কার জিতবেন, তা তিনি আশাই করেননি। সম্পাদক স্কুফস তাকে ফোনে সুখবরটি দেন।

মেঘা বলেন, শিনজিয়াংয়ের প্রতিবেদন তৈরিতে সহযোগিতা করা পুরো দলের প্রতি গভীরভাবে কৃতজ্ঞ তিনি।

দুই কন্ট্রিবিউটর কিলিং ও বুসচেক, তার সম্পাদক অ্যালেক্স ক্যাম্পবেল, বাজফিড নিউজের জনসংযোগ বিভাগের দল, তহবিল দেয়া সংস্থা ও পুলিৎজার সেন্টারকে ধন্যবাদ জানান মেঘা।

আরও পড়ুন:
মজুত শেষ, দ্বিতীয় ডোজের অনিশ্চয়তায় ২০ হাজার মানুষ
টিকা পেতে রাশিয়ার সঙ্গে চুক্তি ‘ফাইনাল স্টেজে’
সিনোফার্মের টিকা শিক্ষার্থীদের আগে দিতে নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

শেয়ার করুন