দিল্লি যাননি আলাপন, মোদিকে মমতার চিঠি

দিল্লি যাননি আলাপন, মোদিকে মমতার চিঠি

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যসচিব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়। ফাইল ছবি

২৮ মে আলাপনের বদলির নির্দেশ আসে। বদলির নির্দেশ প্রত্যাহারের জন্য রাজ্য সরকারের পক্ষে আবেদন করা হয়। সোমবার সকাল পর্যন্ত তার কোনো জবাব আসেনি সরকারের কাছ থেকে।

ভারতের কেন্দ্রীয় সচিবালয় থেকে চিঠি দিয়ে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য সচিব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়কে আজ সোমবার সকাল ১০টার মধ্যে দিল্লির কর্মিদপ্তরে যোগদানের নির্দেশ দিয়েছিল দেশটির সরকার। রাজ্য সরকার ছাড়পত্র না দেয়ায় দিল্লি গেলেন না আলাপন।

মুখ্য সচিব আলাপনের চাকরিজীবন থেকে অবসরের দিন ছিল সোমবার। কিন্তু রাজ্যের কোভিড পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে আলাপনের মতো দক্ষ প্রশাসকের চাকরির মেয়াদ বাড়ানোর জন্য রাজ্যের আবেদনে সাড়া দিয়ে তিন মাস মেয়াদ বাড়ায় সরকার।

এরপর আচমকা ২৮ মে আলাপনের বদলির নির্দেশ আসে। বদলির নির্দেশ প্রত্যাহারের জন্য রাজ্য সরকারের পক্ষে আবেদন করা হয়। সোমবার সকাল পর্যন্ত তার কোনো জবাব আসেনি সরকারের কাছ থেকে।

এই পরিস্থিতিতে জনস্বার্থে আলাপনের বদলির নির্দেশ প্রত্যাহারের আবেদন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে পাঁচ পাতার চিঠি দিয়েছেন পশ্চিবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

চিঠিতে মমতা লেখেন, ‘রাজ্যে এখন কঠিন পরিস্থিতি চলছে। এর মধ্যে আলাপনের বদলির নির্দেশ। চার দিনের মধ্যে দুরকম নির্দেশ। নির্দেশ বদলের কারণ বুঝতে পারছি না। রাজ্যের সঙ্গে কোনো রকম আলোচনা না করে কেন্দ্রের একতরফা নির্দেশে আমি স্তম্ভিত ও বিস্মিত। এই নির্দেশ বেআইনি, নজিরবিহীন, অসাংবিধানিক। এই নির্দেশ প্রত্যাহার করা হোক। আশা করছি, কলাইকুন্ডা বৈঠকের সঙ্গে আলাপনের বদলির কোনো যোগ নেই।’

২৮ মে কলাইকুন্ডার এয়ারবেসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ডাকা ঘূর্ণিঝড় ইয়াস নিয়ে রিভিউ মিটিংয়ে ক্ষয়ক্ষতি পর্যালোচনায় হাজির থাকেননি মুখ্যমন্ত্রী ও মুখ্য সচিব দুজনই।

প্রধানমন্ত্রীর হাতে রাজ্যের ক্ষয়ক্ষতির প্রতিবেদন তুলে দিয়ে দেড় মিনিটের মধ্যে বিদায় নিয়ে চলে যান তারা। দেশজুড়ে যা নিয়ে বিজেপির নেতা মন্ত্রীরা প্রধানমন্ত্রীর প্রতি মমতার ‘অসৌজন্য’ আচরণ উল্লেখ করে টুইট করেন। তার কয়েক ঘণ্টা পরেই আসে আলাপনের বদলির চিঠি।

চিঠিতে মমতা লেখেন, ‘মাত্র দিন কয়েক দিন আগে মুখ্য সচিবের মেয়াদ বাড়িয়েছে কেন্দ্র। সোমবার মুখ্যসচিবের চাকরিজীবনের শেষ দিন হলেও আমাদের অনুরোধে তিন মাস তার চাকরি জীবনের মেয়াদ বৃদ্ধির অনুমোদন দিয়েছে ভারত সরকার। কোভিড পরিস্থিতির কারণেই এই আবেদন ছিল আমাদের তরফে। কিন্তু কী এমন হল যে তাকে ডেকে নেয়া হচ্ছে?’

কেন্দ্রের এই পদক্ষেপকে প্রতিহিংসামূলক বলে মন্তব্য করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতাও।

কংগ্রেসের পক্ষে বিবৃতিতে দিয়ে বলা হয়েছে, ‘যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোকে ধ্বংস করার চেষ্টা হচ্ছে।’

কেন্দ্রের এক শীর্ষ কর্তার বলছেন, ‘কেন্দ্র যে সিদ্ধান্ত পাঠিয়েছে তা একতরফা। ইন্ডিয়ান অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস (ক্যাডার) রুলস-র ৬(১) বিধি বলছে, একজন অফিসার কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের সম্মতিতে নিযুক্ত হতে পারে।

‘কেন্দ্র-রাজ্য মতের ফারাক হলে, কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত। কিন্তু এ ক্ষেত্রে মুখ্য সচিব হিসেবে তিন মাস মেয়াদ বৃদ্ধি নিয়ে একমত হয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে। তারপর আবার বদলি, রাজ্যের সঙ্গে আলোচনা ছাড়াই। কেন্দ্রের নির্দেশ একতরফাই।’

আলাপন দিল্লি না গেলেও নবান্নে মুখ্যমন্ত্রীর ডাকা বৈঠকে উপস্থিত থাকবেন বলে জানা গেছে।

আরও পড়ুন:
আলাপনের বদলি ঘিরে ভারতে কেন্দ্র-রাজ্য সংঘাত তুঙ্গে
নারদা কাণ্ড: চার নেতা-মন্ত্রীর জামিন
করোনা বিধিনিষেধ বাড়ল পশ্চিমবঙ্গে
ইয়াসে ১ কোটি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত: মমতা
সুপ্রিম কোর্টে প্রশ্নের মুখে সিবিআই, নারদা মামলা প্রত্যাহার

শেয়ার করুন

মন্তব্য

দেশকে পিছিয়ে দিচ্ছে স্বার্থপর বিরোধীরা: মোদি

দেশকে পিছিয়ে দিচ্ছে স্বার্থপর বিরোধীরা: মোদি

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ছবি: সংগৃহীত

সংসদের চলতি বর্ষাকালীন অধিবেশন শুরুর দিন থেকে বিরোধীরা পেগাসাস আড়িপাতা কেলেংকারি, তিনটি নতুন কৃষি আইন, মূল্যবৃদ্ধির বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট নিয়মের আওতায় আলোচনার দাবি জানিয়ে আসছে। প্রধানমন্ত্রী সংসদে সব বিষয়ে আলোচনার আশ্বাস দিলেও পেগাসাস কেলেংকারিকে ‘নন ইস্যু’ আখ্যা দিয়ে আলোচনার দাবি মানতে অস্বীকার করেছেন সংসদীয় মন্ত্রী প্রহ্লাদ যোশী।

ভারতীয় সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশনের শুরু থেকে বিরোধীদের বিক্ষোভে কার্যত বারবার উত্তাল হয়েছে রাজ্যসভা ও লোকসভা। সংসদে ২২টি বিল পাশ হয়েছে আলোচনা ছাড়াই। এমন পরিস্থিতিতে আগেও বিরোধীদের দোষারোপ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

আবার একবার নাম না করে বৃহস্পতিবার বিরোধীদের বিরুদ্ধে আক্রমণ শানালেন তিনি। বিরোধীরা নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থ চরিতার্থ করতে দেশকে পিছিয়ে নিয়ে যাচ্ছে বলে দাবি করলেন মোদি।

তার কথায়, ‘এভাবে দেশের অগ্রগতি আটকানো যাবে না।’

উত্তর প্রদেশে ‘প্রধানমন্ত্রী গরিব কল্যাণ অন্নযোজনা’র প্রাপকদের উদ্দেশে ভাষণ দিতে গিয়ে এ কথা বলেন মোদি।

সংসদের চলতি বর্ষাকালীন অধিবেশন শুরুর দিন থেকে বিরোধীরা পেগাসাস আড়িপাতা কেলেংকারি, তিনটি নতুন কৃষি আইন, মূল্যবৃদ্ধির বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট নিয়মের আওতায় আলোচনার দাবি জানিয়ে আসছে।

প্রধানমন্ত্রী সংসদে সব বিষয়ে আলোচনার আশ্বাস দিলেও পেগাসাস কেলেংকারিকে ‘নন ইস্যু’ আখ্যা দিয়ে আলোচনার দাবি মানতে অস্বীকার করেছেন সংসদীয় মন্ত্রী প্রহ্লাদ যোশী।

ভার্চুয়াল মাধ্যমে ভাষণ দিতে গিয়ে এদিন মোদি বলেন, ‘একদিকে আমার দেশ, দেশের যুব সম্প্রদায় জয়ের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। আর বিরোধীরা রাজনৈতিক স্বার্থ চরিতার্থ করতে এমন কাজ করছে, যাতে তারাই আত্মঘাতী গোল করছে। নিজের স্বার্থে দেশের সময় নষ্ট করছে।’

প্রধানমন্ত্রীর কথায়, ‘দেশ কী চায়, দেশ কী পাচ্ছে, দেশ কীভাবে বদলাচ্ছে তাতে কিছু যায় আসে না বিরোধীদের।’

এদিন তিনি বিরোধীদের বার্তা দিয়ে সাফ জানান, বিরোধীদের জন্য দেশ কখনও থেমে থাকবে না, দেশের অগ্রগতি আটকানো যাবে না।

বিরোধীদের প্রতি মোদির ক্ষোভ নতুন নয়। এর আগে কংগ্রেস, তৃণমূল কংগ্রেসসহ বিরোধী সাংসদদের বার্তা দিয়েছেন তিনি। এর আগে দলীয় সাংসদদের বৈঠকে একই বার্তা দিয়েছিলেন তিনি।

রাজ্যসভার তৃণমূল সাংসদ শান্তনু সেনের প্রসঙ্গে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘যিনি কাগজ ছিনিয়ে নিয়ে ছিঁড়ে ফেললেন, তার কোনো অনুতাপ নেই।’

টুইটে ডেরেক ও ব্রায়েন বিল পাস করানোকে ‘পাপড়ি চাট’ তৈরির সঙ্গে তুলনা করেছিলেন। বৈঠকে সেই প্রসঙ্গ টেনে মোদি বলেন, ‘বিল পাস করানো নিয়ে একজন বর্ষীয়ান সাংসদ অপমানজনক মন্তব্য করেছেন। এর আগে সরাসরি কংগ্রেসের নাম করে দলীয় বৈঠকে বার্তা দেন তিনি। কংগ্রেস অধিবেশনে কোনো কাজ করতে দিচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছিলেন তিনি।’

এ প্রসঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ সুখেন্দু শেখর রায় বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির হাতে দেশের নিরাপত্তা সুরক্ষিত নয়। ভারতের ইতিহাসে কখনও ফোনে আড়িপাতার মতো ঘটনা ঘটেনি। পেগাসাস স্পাইওয়্যার কিনে সেগুলো ব্যবহার করা হয়েছে।’

সাংসদের দাবি, এই অভিযোগ নিয়ে নরেন্দ্র মোদি ও অমিত শাহ দুজনেই রহস্যজনকভাবে নিরব। কেন গণতন্ত্র মানা হচ্ছে না, সেটি নিয়ে মুখ খোলার দাবি জানিয়েছেন তিনি। সুখেন্দু শেখরের প্রশ্ন, ‘এ বিষয়ে সংসদে আলোচনা হবে না তো কোথায় হবে?’

আরও পড়ুন:
আলাপনের বদলি ঘিরে ভারতে কেন্দ্র-রাজ্য সংঘাত তুঙ্গে
নারদা কাণ্ড: চার নেতা-মন্ত্রীর জামিন
করোনা বিধিনিষেধ বাড়ল পশ্চিমবঙ্গে
ইয়াসে ১ কোটি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত: মমতা
সুপ্রিম কোর্টে প্রশ্নের মুখে সিবিআই, নারদা মামলা প্রত্যাহার

শেয়ার করুন

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় জানা যাবে ভবিষ্যৎ

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় জানা যাবে ভবিষ্যৎ

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ভবিষ্যৎ আগেই জানাবে বলে জানায় যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহিনীর কর্মকর্তা জেনারেল গ্লেন ডি ভ্যানহার্ক বলেন, ‘তথ্য ও ডেটা কীভাবে আমরা ব্যবহার করব, সে বিষয়ে জিআইডিই মৌলিক পরিবর্তন হাজির করেছে। এর মাধ্যমে কৌশলগত পর্যায়ে নেতাদের সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষেত্র বাড়বে। শুধু সামরিক নেতাই নন, বেসামরিক নেতারাও এতে উপকৃত হবেন।’

সময়ের সঙ্গে সঙ্গে উন্নত হচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবস্থা। নানা ধরনের বিস্ময়কর কাজ করতে সক্ষম হচ্ছে এআই।

তবে এবার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে ভবিষ্যৎ নিয়ে তাক লাগানো কাজে হাত দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী। এর মাধ্যমে ভবিষ্যতের ঘটনা আগেই জানিয়ে দেবে এআই।

যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর পরীক্ষামূলক এই কাজের নাম দেয়া হয়েছে গ্লোবাল ইনফরমেশন ডমিনেন্স এক্সপেরিমেন্টস (জিআইডিই)। বেশ কয়েকটি ধাপে এ পরীক্ষা চলবে।

স্যাটেলাইট ছবি, গোয়েন্দা প্রতিবেদন, সেন্সর, রাডার থেকে শুরু করে আরও অনেক সূত্র থেকে পাওয়া ডেটা ওই সব পরীক্ষায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

এ পরীক্ষায় ক্লাউড কম্পিউটিংও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। এতে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সংগ্রহ করা ডেটা দক্ষতার সঙ্গে প্রক্রিয়াজাত করা সম্ভব হবে।

সামরিক কর্মকর্তা বা সংস্থা যাদের এসব ডেটার প্রয়োজন পড়বে, তারা তা ব্যবহারের সুযোগ পাবে।

গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহিনীর কর্মকর্তা জেনারেল গ্লেন ডি ভ্যানহার্ক এক প্রেস ব্রিফিংয়ে বলেন, ‘তথ্য ও ডেটা কীভাবে আমরা ব্যবহার করব, সে বিষয়ে জিআইডিই মৌলিক পরিবর্তন হাজির করেছে।

‘এর মাধ্যমে কৌশলগত পর্যায়ে নেতাদের সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষেত্র বাড়বে। শুধু সামরিক নেতাই নন, বেসামরিক নেতারাও এতে উপকৃত হবেন।’

সায়েন্স এলার্টের প্রতিবেদনে বলা হয়, অন্যান্য দেশের পদক্ষেপ সময়ের আগেই এই প্রযুক্তির মাধ্যমে জানা যাবে।

এতে সংঘর্ষ বা শত্রুতামূলক কর্মকাণ্ড শুরুর আগেই সতর্কতা ও প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা নেয়া সহজ হবে।

উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, বন্দর ছাড়ার আগে সাবমেরিনের গতিপথ নিয়ে প্রস্তুতি নেয়া থাকে। সাগরে ভাসার পর এটির চলাচল জানাই থাকে।

তবে এআই এ ক্ষেত্রে যা করবে তা হচ্ছে, সাবমেরিনসংক্রান্ত সব তথ্য একত্রিত করে আগেই অনেক দ্রুত জানাবে।

ভ্যানহার্ক বলেন, ‘আমরা ডেটাগুলো সহজলভ্য করে ক্লাউডে শেয়ার করছি। সেখানে মেশিন লার্নিং ও এআই ডেটাগুলো খতিয়ে দেখবে।

‘পরে এআই সেগুলো দ্রুত প্রক্রিয়াজাত করে সিদ্ধান্ত গ্রহণকারীদের কাছে পাঠাবে।’

তিনি বলেন, ‘এর মাধ্যমে আমরা অগ্রিম সতর্কবার্তা পাব এবং সেই অনুযায়ী কাজ করতে সক্ষম হব।’

এআইয়ের এই নতুন ব্যবস্থা ঠিক কীভাবে কাজ করবে বা সংগ্রহ করা তথ্য কীভাবে প্রক্রিয়াজাত করা হবে, সেসব বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।

তবে যা জানা গেছে তা হলো, দ্রুততম সময়ে এখন ডেটা প্রক্রিয়াজাত করা সম্ভব।

জিআইডিইর তৃতীয় ধাপের পরীক্ষা সম্প্রতি শেষ হয়েছে। চতুর্থ ধাপের পরীক্ষার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন:
আলাপনের বদলি ঘিরে ভারতে কেন্দ্র-রাজ্য সংঘাত তুঙ্গে
নারদা কাণ্ড: চার নেতা-মন্ত্রীর জামিন
করোনা বিধিনিষেধ বাড়ল পশ্চিমবঙ্গে
ইয়াসে ১ কোটি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত: মমতা
সুপ্রিম কোর্টে প্রশ্নের মুখে সিবিআই, নারদা মামলা প্রত্যাহার

শেয়ার করুন

টেক্সাসে সড়ক দুর্ঘটনায় ১০ অভিবাসনপ্রত্যাশীর মৃত্যু

টেক্সাসে সড়ক দুর্ঘটনায় ১০ অভিবাসনপ্রত্যাশীর মৃত্যু

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে সড়ক দুর্ঘটনায় বুধবার ১০ অভিবাসনপ্রত্যাশীর মৃত্যু হয়। ছবি: এএফপি

টেক্সাসের জননিরাপত্তা দপ্তরের (ডিপিএস) পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়, মেক্সিকো সীমান্ত থেকে কয়েক মাইল দূরে অঙ্গরাজ্যের ফালফুরিয়াস শহরে দুর্ঘটনাটি হয়। এ বিষয়ে তদন্ত চলছে।

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যে মেক্সিকো সীমান্তের কাছে অভিবাসনপ্রত্যাশী বহনকারী ভ্যান দুর্ঘটনায় কমপক্ষে ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে।

স্থানীয় সময় বুধবার বিকেলে এ ঘটনা ঘটে বলে টেক্সাস কর্তৃপক্ষের বরাতে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি

টেক্সাসের জননিরাপত্তা দপ্তরের (ডিপিএস) পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়, মেক্সিকো সীমান্ত থেকে কয়েক মাইল দূরে অঙ্গরাজ্যের ফালফুরিয়াস শহরে দুর্ঘটনাটি হয়। এ বিষয়ে তদন্ত চলছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বুধবার বিকেল ৪টার দিকে যাত্রীবাহী একটি ভ্যান নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মহাসড়ক থেকে হঠাৎ ছিটকে রাস্তার ধারে খুঁটিকে ধাক্কা দেয়।

টেক্সাস হাইওয়ে প্যাট্রোল এক বিবৃতিতে জানায়, ভ্যানের চালকসহ ১০ যাত্রীর ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয়।

টেক্সাসের ব্রুকস কাউন্টির শেরিফ উরবিনো মারটিনেজের বরাতে দ্য নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, ভ্যানটিতে ৩০ জন যাত্রী ছিল।

টেক্সাসের জননিরাপত্তা দপ্তরের মুখপাত্র সার্জেন্ট নাথান ব্র্যান্ডলি এএফপিকে বলেন, ‘ধারণা করা হচ্ছে, ভ্যানে থাকা যাত্রীরা নথিবিহীন অভিবাসী। এ বিষয়ে দূতাবাসের সঙ্গে আমরা কথা বলব।’

এর আগে জননিরাপত্তা দপ্তর জানিয়েছিল, দুর্ঘটনার পর আহত ২০ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

পাচারকারীরা প্রায়ই ভ্যানগাড়িতে গাদাগাদি করে মেক্সিকো থেকে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের পাচার করে।

চলতি বছরের মার্চে ক্যালিফোর্নিয়ার দক্ষিণাঞ্চলে ভারী ট্রাকের সঙ্গে অভিবাসনপ্রত্যাশী বহনকারী গাড়ির সংঘর্ষে ১৩ জন প্রাণ হারায়।

ওই ঘটনায় পাচারের অভিযোগে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়।

আরও পড়ুন:
আলাপনের বদলি ঘিরে ভারতে কেন্দ্র-রাজ্য সংঘাত তুঙ্গে
নারদা কাণ্ড: চার নেতা-মন্ত্রীর জামিন
করোনা বিধিনিষেধ বাড়ল পশ্চিমবঙ্গে
ইয়াসে ১ কোটি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত: মমতা
সুপ্রিম কোর্টে প্রশ্নের মুখে সিবিআই, নারদা মামলা প্রত্যাহার

শেয়ার করুন

ব্লাসফেমি মামলায় জামিন, মন্দির ভাঙচুর

ব্লাসফেমি মামলায় জামিন, মন্দির ভাঙচুর

পাকিস্তানে বুধবার এক মন্দিরে হামলা হয়। ছবি: ডন

পাকিস্তানের একটি মাদ্রাসার অভিযোগের ভিত্তিতে হিন্দু ধর্মাবলম্বী ​৯ বছরের ছেলেকে গ্রেপ্তার করা হয়। আদালত শিশুটিকে জামিন দিলে মেনে নিতে পারেননি স্থানীয়রা। লাঠিসোঁটা ও রড নিয়ে গণেশ মন্দির ভাঙচুর করেন তারা।

ব্লাসফেমি মামলায় হিন্দু ধর্মাবলম্বী ৯ বছরের এক ছেলেকে জামিন দেয়ায় পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশে একটি মন্দির ভাঙচুর করেছে ইসলাম ধর্মাবলম্বী শতাধিক মানুষ।

পাঞ্জাবের রহিম ইয়ার খান জেলার ভং শহরে বুধবার ওই ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে বলে ডন ও বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

ডনের প্রতিবেদনে বলা হয়, ভং শহরে এক মাদ্রাসায় শিশুছেলেটি প্রস্রাব করেছিল বলে অভিযোগ আছে।

সূত্রের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়, ২৪ জুলাই দারুল উলুম আরবিয়া তেলিমুল কোরান মাদ্রাসার হাফেজ মোহাম্মদ ইব্রাহিমের অভিযোগের ভিত্তিতে ৯ বছরের ছেলেটির বিরুদ্ধে মামলা করে ভং পুলিশ।

পাকিস্তান দণ্ডবিধির ২৯৫-এ ধারায় মামলাটি হয়।

মামলার পর মাদ্রাসা প্রশাসনের কাছে ক্ষমা চান স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের বয়োজ্যেষ্ঠরা। তাদের ভাষ্য, আসামি অপ্রাপ্তবয়স্ক এবং মানসিক প্রতিবন্ধী।

তবে চার দিন আগে ওই ছেলে জামিন পাওয়ায় বুধবার কয়েকজন ব্যক্তি আদালতের জামিন নির্দেশের বিরুদ্ধে স্থানীয়দের প্ররোচিত করেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া এক ভিডিওতে দেখা যায়, লোকজন লাঠিসোঁটা ও রড নিয়ে গণেশ মন্দির ভাঙচুর করছেন। পরে ভাঙচুরকারীরা তিন ঘণ্টারও বেশি সুক্কুর-মুলতান সড়ক অবরোধ করেন।

স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা রিয়াসাত আলী বলেন, ‘ভাঙচুরে মন্দির ভবনের আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।’

রহিম ইয়ার খান জেলা পুলিশের মুখপাত্র আহমেদ নাওয়াজ চীমা জানান, ওই এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

চীমা জানান, আসামি অপ্রাপ্তবয়স্ক। তবে তার মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে এখন পর্যন্ত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

নিরাপত্তার স্বার্থে ওই ছেলেকে রহিম ইয়ার খান জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলেও জানান তিনি।

বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, ওই অঞ্চলে হিন্দু ও মুসলমানদের মধ্যে অর্থসংক্রান্ত বিরোধ চলছিল, যা বিশৃঙ্খলার মূল কারণ হিসেবে ধারণা করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন:
আলাপনের বদলি ঘিরে ভারতে কেন্দ্র-রাজ্য সংঘাত তুঙ্গে
নারদা কাণ্ড: চার নেতা-মন্ত্রীর জামিন
করোনা বিধিনিষেধ বাড়ল পশ্চিমবঙ্গে
ইয়াসে ১ কোটি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত: মমতা
সুপ্রিম কোর্টে প্রশ্নের মুখে সিবিআই, নারদা মামলা প্রত্যাহার

শেয়ার করুন

সু চির মুখটি ফটোশপে বসানো

সু চির মুখটি ফটোশপে বসানো

ফেসবুকে ভাইরাল এ পোস্টটি শেয়ার করেছিলেন ১৭ হাজারের বেশি মানুষ। ছবি: বুমলাইভ ডটইন

বর্তমানে দুর্নীতি ও রাষ্ট্রীয় গোপনীয়তা লঙ্ঘন আইনসহ বেশ কয়েকটি মামলায় বিচারাধীন সু চি। তবে বন্দি থাকলেও কমলা রঙের পোশাকে কারাবন্দি সু চির ভাইরাল ছবিটি সত্য নয়। ফ্যাক্ট চেকে বেরিয়ে এসেছে, আসল ছবিতে যে নারীকে দেখা যায়, সেই নারী সু চি নন।

মিয়ানমারের ক্ষমতাচ্যুত রাষ্ট্রীয় উপদেষ্টা অং সান সু চির কারাবন্দি একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে। ছবিটি দেখেছেন কয়েক লাখ মানুষ।

চলতি বছরের ২২ জুলাই ফেসবুকে ছবিসংবলিত একটি পোস্ট শেয়ার করেছেন ১৭ হাজারের বেশি মানুষ। ছবিটির ক্যাপশনে বাংলায় লেখা, ‘ক্ষমতা কারো স্থায়ী থাকে না’।

ছবিতে দেখা যায়, কারাগারের একটি কক্ষে বিছানায় বসে বাইরের দিকে তাকিয়ে আছেন কমলা রঙের পোশাক পরা সু চি।

মিয়ানমারে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসির (এনএলডি) নেতা সু চি চলতি বছরের ১ ফেব্রুয়ারি সেনা অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হন। তিনিসহ ক্ষমতাসীন দলের অন্যান্য আইনপ্রণেতা ও নেতা, আর প্রেসিডেন্টকেও তৎক্ষণাৎ গ্রেপ্তার করে সেনাবাহিনী।

বর্তমানে দুর্নীতি ও রাষ্ট্রীয় গোপনীয়তা লঙ্ঘন আইনসহ বেশ কয়েকটি মামলায় বিচারাধীন তিনি।

তবে বন্দি থাকলেও কমলা রঙের পোশাকে কারাবন্দি সু চির ভাইরাল ছবিটি সত্য নয়। ফ্যাক্ট চেকে বেরিয়ে এসেছে, আসল ছবিতে যে নারীকে দেখা যায়, সেই নারী সু চি নন।

সু চির মুখটি ফটোশপে বসানো
উইকিমিডিয়া কমন্সে ২০১৩ সালের ১২ জুলাই প্রকাশিত মূল ছবি এটি। ছবি: বুমলাইভ ডটইন

আসল ছবিটি অনলাইন লাইব্রেরি উইকিমিডিয়া কমন্সে ২০১৩ সালের ১২ জুলাই প্রথম প্রকাশ হয়। ছবিটি অন্য এক নারীর, যার মুখের ওপর সু চির মুখের ছবি যোগের কারসাজি করা হয়েছে ফটোশপের মাধ্যমে।

অফিসার বিম্বলবারিকে কৃতিত্ব দিয়ে প্রকাশিত আসল ছবির ক্যাপশনে লেখা, ‘ছোট্ট কারা কক্ষের ভেতরে এক নারী বন্দি। এই কক্ষেই তার বিছানা, টয়লেট। এই গারদ দিয়েই বাইরের সবকিছুর সঙ্গে যোগাযোগবিচ্ছিন্ন তিনি। কয়েদিদের স্বস্তি ও সুবিধার পাশাপাশি জনসাধারণের কথা মাথায় রেখে এ কারাকক্ষের নকশা করা হয়েছে।

উইকিমিডিয়া ফাউন্ডেশনের আওতাধীন উইকিমিডিয়া কমন্সে ছবি, শব্দ ও যোগাযোগের অন্যান্য মাধ্যম বিনা মূল্যে প্রকাশ ও ব্যবহার করা যায়।

ডিজিটাল ভেরিফিকেশন টুল ইনভিড-উইভেরিফাইয়ে মেটাডেটা তথ্যেও আসল ছবিটির প্রকাশকাল ২০১৩ সালের ১২ জুলাই।

আরও পড়ুন:
আলাপনের বদলি ঘিরে ভারতে কেন্দ্র-রাজ্য সংঘাত তুঙ্গে
নারদা কাণ্ড: চার নেতা-মন্ত্রীর জামিন
করোনা বিধিনিষেধ বাড়ল পশ্চিমবঙ্গে
ইয়াসে ১ কোটি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত: মমতা
সুপ্রিম কোর্টে প্রশ্নের মুখে সিবিআই, নারদা মামলা প্রত্যাহার

শেয়ার করুন

ইসরায়েল-ফিলিস্তিনের কিডনি বিনিময়

ইসরায়েল-ফিলিস্তিনের কিডনি বিনিময়

ফিলিস্তিনি শিশুকে কিডনি দিয়ে জীবন বাঁচানো ইসরায়েলি নারী ইদিত হারেল সেগাল। ছবি: আরব নিউজ

যেদিন সন্তানের দেহে এক ইসরায়েলির কিডনি প্রতিস্থাপিত হয়েছে, সেদিনই ফিলিস্তিনি বাবাও নিজের কিডনি দান করেন ২৫ বছর বয়সী এক ইসরায়েলি তরুণীকে। এ ঘটনাকে বিশ্বের সবচেয়ে বৈরী সম্পর্কের দুটি পক্ষের মধ্যে সেতুবন্ধন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ইসরায়েলের নাগরিক ইদিত হারেল সেগাল বিশেষ কিছু করে নিজের ৫০তম জন্মদিন উদযাপন করতে চেয়েছিলেন। এরই অংশ হিসেবে তিনি সিদ্ধান্ত নেন, অপরিচিত কোনো মৃত্যুপথযাত্রীকে একটি কিডনি দান করবেন তিনি।

কিডনি প্রয়োজন, এমন একজন মানুষ খুঁজে বের করতে এবং তাকে কিডনি দানের পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্নে প্রায় ৯ মাস সময় লেগেছে সেগালের।

আরব নিউজের প্রতিবেদনে জানানো হয়, শেষ পর্যন্ত কিডনির প্রয়োজন এমন কাউকে খুঁজে পান সেগাল। তার কিডনি গ্রহীতা হলো ফিলিস্তিনি এক শিশু; যে ফিলিস্তিনের সঙ্গে ইসরায়েলের দ্বন্দ্ব-সহিংসতার ইতিহাস কয়েক দশকের।

সেগালের কিডনি নেয়া তিন বছরের ছোট্ট শিশুটি ইসরায়েল কর্তৃক অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকার বাসিন্দা।

পেশায় কিন্ডারগার্টেন স্কুলের শিক্ষক সেগাল নিজেকে একজন গর্বিত ইসরায়েলি বলে জানান। জন্মলগ্ন থেকে সীমান্ত নিয়ে অব্যাহত বিতর্ক, সংঘাতে জড়িয়ে থাকা ইসরায়েলের এই নাগরিক উদারতার উদাহরণ দাঁড় করাতে চেয়েছিলেন, তা পেরেছেনও।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নাৎসিদের ইহুদিবিরোধী বর্বরতার শিকার প্রয়াত দাদার স্মৃতিতে উদ্দীপ্ত সেগাল। তাকে অর্থপূর্ণ জীবন গড়ে তোলার উপদেশ দিয়ে গিয়েছিলেন দাদাই। বলেছিলেন, ইহুদি ধর্মের শিক্ষায় অন্যের জীবন বাঁচানোর চেয়ে বড় কোনো দায়িত্ব হয় না। সেই উপদেশ আমলে নিয়েই কিডনিদাতা ও গ্রহীতাদের প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে যোগাযোগ করতে শুরু করেন তিনি। এর মাধ্যমেই খোঁজ পান ফিলিস্তিনি শিশুটির।

ইসরায়েলি নাগরিকের সাহায্য দেয়া-নেয়া স্পর্শকাতর বিষয় বলে শিশুটির নাম-পরিচয় গোপন রাখার অনুরোধ করেছেন তার মা-বাবা।

এই কিডনি বিনিময় প্রক্রিয়ায় সমন্বয়ে সহযোগিতা করেছে জেরুজালেমভিত্তিক বেসরকারি সাহায্য সংস্থা মাতনাত শাইম।

প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী শ্যারোনা শারম্যান জানান, গাজার শিশুটি ভীষণ অসুস্থ ছিল। তাকে বাঁচাতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তার বাবার সঙ্গে যোগাযোগ করে ইসরায়েলি দাতার কাছ থেকে কিডনি নেয়ার বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে বলে। শিশুটির সঙ্গে কিডনি ‘ম্যাচ’ না করায় নিজের কিডনি দিতে পারেননি বাবা।

তবে যেদিন সন্তানের দেহে এক ইসরায়েলির কিডনি প্রতিস্থাপিত হয়েছে, সেদিনই ফিলিস্তিনি শিশুটির বাবাও নিজের কিডনি দান করেন ২৫ বছর বয়সী এক ইসরায়েলি তরুণীকে। ওই তরুণীও দুই সন্তানের মা।

সেগালের কিডনিতে শিশুটির জীবন বেঁচে যাওয়ায় এবং এর পরিপ্রেক্ষিতে শিশুটির বাবার এক ইসরায়েলিকে কিডনি দেয়ার ঘটনায় বিশ্বের সবচেয়ে বৈরী সম্পর্কের দুটি পক্ষের মধ্যে সেতুবন্ধন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ফিলিস্তিনি বাবার কিডনি দান করাকে বেশ ভালোভাবেই গ্রহণ করছেন ইসরায়েলিরা। ঘটনাটিকে তারা দেখছেন, অঙ্গপ্রত্যঙ্গ দানে অঞ্চল দুটির মানুষের উৎসাহ বৃদ্ধির সুযোগ হিসেবে।

অস্ত্রোপচারের আগে ফিলিস্তিনি শিশুটির মা-বাবার সঙ্গে দেখা করেছেন সেগাল, তাদের মধ্যে এখনও যোগাযোগও আছে।

ফিলিস্তিনি শিশুটিকে কিডনির সঙ্গে একটি চিঠিও দিয়েছেন সেগাল। হিব্রু ভাষায় লেখা চিঠিতে শিশুটির উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘তুমি আমাকে চিনবে না। কিন্তু খুব শিগগিরই এক সুতোয় বাঁধা পড়ব আমরা, তোমার শরীরে আমার কিডনি থাকবে যখন।

‘আমি মনেপ্রাণে চাই, এই অস্ত্রোপচার সফল হোক, তুমি বেঁচে যাও। তুমি দীর্ঘকাল বেঁচে থেকো, সুস্থ থেকো, অর্থবহুল জীবন হোক তোমার।’

চলতি বছরের মে মাসেই সবশেষ সহিংসতায় জড়ায় ইসরায়েল-ফিলিস্তিন। ইসরায়েলের ১১ দিনের বিমান হামলায় গাজা উপত্যকাসহ ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের বিভিন্ন অঞ্চলে প্রাণ যায় আড়াই শর বেশি মানুষের, যাদের বেশির ভাগই নারী ও শিশু। ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন ও গাজার শাসক দল হামাসের রকেট হামলায় ইসরায়েলি ভূখণ্ডেও প্রাণ যায় ১৩ জনের।

ওই সহিংসতার পরপরই, গত ১৬ জুন ফিলিস্তিনি শিশুটির দেহে সেগালের কিডনি প্রতিস্থাপন হয়।

সেগাল লিখেছেন, ‘আমি আমার ক্ষোভ আর হতাশা বিসর্জন দিয়েছি। সামনে কেবল শান্তি আর ভালোবাসা দেখেছি। আমাদের মতো আরও অনেক মানুষ এগিয়ে এলে একসময় লড়াই করার জন্য আর কোনো কারণ পাব না আমরা।’

ইসরায়েল-ফিলিস্তিনের রক্তক্ষয়ী ইতিহাসের কারণে ফিলিস্তিনি শিশুকে কিডনি দান করার সিদ্ধান্ত নেয়া খুব একটা সহজ ছিল না সেগালের জন্য। এ জন্য পরিবারের সদস্যদের মুখোমুখি হতে হয়েছে তাকে। তার স্বামী ও তিন সন্তানের মধ্যে বড় সন্তান সেগালের এ সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধী ছিলেন। সেগালের বাবাও মেয়ের সঙ্গে কথা বলা বন্ধ করে দিয়েছিলেন। অস্ত্রোপচারের আগ মুহূর্তে অবশ্য পুরো পরিবারকেই পাশে পেয়েছিলেন তিনি।

তাদের কাছে মনে হয়েছিল, অযথাই নিজের জীবন বিপণ্ন করছেন সেগাল। বিশেষ করে ফিলিস্তিনিদের সঙ্গে সংঘাতে সেগালের দাদা-দাদিসহ তিন স্বজনের মৃত্যুর ইতিহাস পরিস্থিতি আরও কঠিন করে তুলেছিল।

সেগাল বলেন, ‘পরিবারের প্রতিটি মানুষ আমার বিরুদ্ধে ছিলেন। স্বামী, বোন, বোনের স্বামী। ন্যূনতম যেটুকু সমর্থন শেষ দিকে পেয়েছি, সেটা বাবাই দিয়েছেন। তারা ভয় পেয়েছিলেন।’

ইসরায়েলের উত্তরে ইশার এলাকায় একটি পাহাড়ের চূড়ায় নিজ বাড়িতে বসে সেগাল জানান, শিশুটির পরিচয় জানার পর কয়েক মাস কাউকে কিছু বলেননি তিনি।

তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয়েছিল যে কিডনি দিচ্ছি জানার প্রতিক্রিয়াই যদি এমন হয়, তাহলে যে শিশুটি কিডনি নিচ্ছে, তার পরিবারের সদস্যদের জন্য হয়তো পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে যাবে।’

২০০৭ সালে গাজার নিয়ন্ত্রণ নেয় ইসরায়েলের অস্তিত্ববিরোধী হামাস। তখন থেকেই উপত্যকা অঞ্চলটি কঠোরভাবে অবরোধ করে রেখেছে ইসরায়েল। অবরোধের কারণে দারিদ্র্যে জর্জরিত ফিলিস্তিনিরা; ভঙ্গুর তাদের স্বাস্থ্য-শিক্ষাসহ প্রায় সব খাত। এ পর্যন্ত চারটি রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে জড়িয়েছে চিরশত্রু পক্ষ দুটি।

দাতার স্বেচ্ছায় অঙ্গ দানের বিষয়টি নিয়ে প্রশ্নের কারণে বিশ্বের অনেক দেশেই পারস্পরিক অঙ্গ প্রতিস্থাপনের অনুমতি নেই। একটি নীতিতেই অঙ্গ দানের পুরো প্রক্রিয়াটি ঘটে। আর তা হলো, দাতা স্বেচ্ছায় নিজের অঙ্গ দান করবেন, কিন্তু বিনিময়ে কিছু পাবেন না।

আরও পড়ুন:
আলাপনের বদলি ঘিরে ভারতে কেন্দ্র-রাজ্য সংঘাত তুঙ্গে
নারদা কাণ্ড: চার নেতা-মন্ত্রীর জামিন
করোনা বিধিনিষেধ বাড়ল পশ্চিমবঙ্গে
ইয়াসে ১ কোটি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত: মমতা
সুপ্রিম কোর্টে প্রশ্নের মুখে সিবিআই, নারদা মামলা প্রত্যাহার

শেয়ার করুন

বুস্টার স্থগিত করুন, দরিদ্রদের টিকা দিন: ডব্লিউএইচও

বুস্টার স্থগিত করুন, দরিদ্রদের টিকা দিন: ডব্লিউএইচও

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার টেড্রোস আধানম। ফাইল ছবি

বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে করোনাভাইরাসের রূপ পরিবর্তিত অধিক সংক্রামক ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের বিস্তার আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে। এ অবস্থায় ইসরায়েল, জার্মানিসহ বেশ কয়েকটি দেশ করোনা প্রতিরোধী টিকার তৃতীয় ডোজ দেয়ার কথা জানিয়েছে।

করোনাভাইরাস প্রতিরোধে টিকার ‘বুস্টার শট’ হিসেবে তৃতীয় ডোজ দেয়ার পরিকল্পনা স্থগিতের আহ্বান জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। দরিদ্র দেশগুলোতে টিকার পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিতে বিশ্বনেতাদের প্রতি এ আহ্বান জানানো হয়।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, অন্তত অক্টোবরের আগ পর্যন্ত করোনা টিকার বুস্টার ডোজ কর্মসূচি শুরু না করার আহ্বান জানিয়েছেন ডব্লিউএইচওর মহাপরিচালক টেড্রোস আধানম।

তার মতে, এ কর্মসূচি স্থগিত রাখলে সবগুলো দেশে মোট জনগোষ্ঠীর কমপক্ষে ১০ শতাংশকে অন্তত এক ডোজ করে টিকা দেয়া সম্ভব হবে।

বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে করোনাভাইরাসের রূপ পরিবর্তিত অধিক সংক্রামক ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের বিস্তার আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে। এ অবস্থায় ইসরায়েল, জার্মানিসহ বেশ কয়েকটি দেশ করোনা প্রতিরোধী টিকার তৃতীয় ডোজ দেয়ার কথা জানিয়েছে।

অথচ দরিদ্র দেশগুলোর সিংহভাগ মানুষ এক ডোজ টিকাও পাচ্ছে না বলে সতর্ক করেছে ডব্লিউএইচও।

ডব্লিউএইচওর তথ্য অনুযায়ী, পর্যাপ্ত সরবরাহ না থাকায় স্বল্প আয়ের দেশগুলোতে প্রতি ১০০ জনে টিকাগ্রহীতার হার মাত্র দেড় শতাংশ।

আধানম জানান, এ চিত্র পাল্টাতে হলে টিকার বড় অংশ এখন পাঠাতে হবে স্বল্প আয়ের দেশগুলোতে।

তিনি বলেন, ‘সব সরকারই চাইছে নিজ দেশের মানুষের নিরাপত্তা আগে নিশ্চিত করতে। তাদের উদ্বেগ আমরা বুঝি। কিন্তু যেসব দেশে সবচেয়ে বেশি টিকা নিয়েছে, তারাই আরও বেশি টিকা নেবে, এটা কিছুতেই গ্রহণযোগ্য নয়।’

উচ্চ ও স্বল্প আয়ের দেশগুলোতে টিকার ভারসাম্যহীনতা বাড়তে থাকার মধ্যেই এ সতর্কবার্তা দিল ডব্লিউএইচও। সেপ্টেম্বরের মধ্যে বিশ্বের প্রতিটি দেশের অন্তত ১০ শতাংশ মানুষকে টিকার আওতায় আনতে চেয়েছিল সংস্থাটি। কিন্তু টিকা কার্যক্রমের বর্তমান ধারা বজায় থাকলে তা অসম্ভব।

লাতিন আমেরিকার দেশ হাইতি আর আফ্রিকার কঙ্গো প্রজাতন্ত্রে একজন ব্যক্তিও দুই ডোজ করে টিকা পাননি।

আওয়ার ওয়ার্ল্ড ইন ডেটার তথ্য অনুযায়ী, গত কয়েক মাসে ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের ব্যাপক সংক্রমণে বিপর্যস্ত দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশ ইন্দোনেশিয়ায় দুই ডোজ টিকা নিয়েছে মোট জনগোষ্ঠীর মাত্র সাত দশমিক নয় শতাংশ।

অথচ এরই মধ্যে ষাটোর্ধ্বদের তৃতীয় ডোজ দিতে শুরু করেছে ইসরায়েল। শিগগিরই বুস্টার শট দেয়ার পরিকল্পনা মঙ্গলবার ঘোষণা করেছে জার্মানি। ঝুঁকিতে থাকা জনগোষ্ঠীকে সেপ্টেম্বর নাগাদ তৃতীয় ডোজ দেয়া শুরু করতে চায় যুক্তরাজ্য।

করোনা টিকার বুস্টার শট নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র কোনো পরিকল্পনার ঘোষণা এখনও দেয়নি। তবে হোয়াইট হাউজ বুধবার নিশ্চিত করেছে যে আমেরিকান জনগোষ্ঠীকে দুই ডোজ দেয়ার পরেও তৃতীয় ডোজ দেয়ার মতো টিকা মজুত আছে তাদের।

ধনী দেশগুলোতে শিশু-কিশোরদের টিকা দেয়ার পরিকল্পনা স্থগিত রেখে অতিরিক্ত ডোজ দান করতে গত মে মাসেও আহ্বান জানান ডব্লিউএইচও প্রধান।

বিশ্বের দরিদ্র দেশগুলোতে টিকার সুষম বণ্টন নিশ্চিতে জাতিসংঘের কোভ্যাক্স কর্মসূচির আওতায় আরও টিকা প্রয়োজন বলেও জানিয়েছেন তিনি।

আরও পড়ুন:
আলাপনের বদলি ঘিরে ভারতে কেন্দ্র-রাজ্য সংঘাত তুঙ্গে
নারদা কাণ্ড: চার নেতা-মন্ত্রীর জামিন
করোনা বিধিনিষেধ বাড়ল পশ্চিমবঙ্গে
ইয়াসে ১ কোটি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত: মমতা
সুপ্রিম কোর্টে প্রশ্নের মুখে সিবিআই, নারদা মামলা প্রত্যাহার

শেয়ার করুন