আলাপনের বদলি ঘিরে ভারতে কেন্দ্র-রাজ্য সংঘাত তুঙ্গে

আলাপনের বদলি ঘিরে ভারতে কেন্দ্র-রাজ্য সংঘাত তুঙ্গে

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যসচিব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কলাইকুন্ডার ইয়াস পরবর্তী রিভিউ মিটিংয়ে শুক্রবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় না থেকে সামান্য সময়ের জন্য দেখা করেন। পশ্চিমবঙ্গের ইয়াসের ক্ষয়ক্ষতির প্রতিবেদন প্রধানমন্ত্রীর হাতে তুলে দিয়েই চলে যাওয়াকে কেন্দ্র ও বিজেপি অসৌজন্য হিসেবে দেখে এমন আক্রমণ করেছে।

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যসচিব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়ের বদলির নির্দেশ ঘিরে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে রাজ্য প্রশাসন ও শাসক দলের ভেতর।

মুখ্যসচিব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়কে রাজ্য থেকে সরিয়ে নিয়ে দিল্লিতে কেন্দ্রের কর্মীবর্গ ও প্রশিক্ষণ মন্ত্রকে বা ডিওপিডিতে ৩১ মে সকাল ১০টার মধ্যে যোগ দেয়ার জন্য নির্দেশ পাঠিয়েছে ভারত সরকার।

সরকারের এই নির্দেশ আসার পর নবান্নের সঙ্গে দিল্লির সংঘাতে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে বলে পর্যবেক্ষকরা মত দিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কলাইকুন্ডার ইয়াস পরবর্তী রিভিউ মিটিংয়ে শুক্রবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় না থেকে সামান্য সময়ের জন্য দেখা করেন। পশ্চিমবঙ্গের ইয়াসের ক্ষয়ক্ষতির প্রতিবেদন প্রধানমন্ত্রীর হাতে তুলে দিয়েই চলে যাওয়াকে কেন্দ্র ও বিজেপি অসৌজন্য হিসেবে দেখে এমন আক্রমণ করেছে।

রাজ্য বিজেপির সহ-পর্যবেক্ষক অমিত মালব্য অভিযোগ করেন, ‘প্রধানমন্ত্রী চপার থেকে নামার পর তাকে স্বাগত জানানোর জন্য রাজ্যের কোনো প্রতিনিধি ছিলেন না। অথচ মুখ্যমন্ত্রী ওই চত্বরে ছিলেন। কলাইকুন্ডায় রাজ্যের প্রতিনিধিদের জন্য আধঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়েছে প্রধানমন্ত্রীকে।’

প্রধানমন্ত্রী রিভিউ মিটিংয়ে মুখ্যমন্ত্রীর না থাকা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে টুইট করেন, রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড়। ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ পর্যন্ত মমতার ‘ঔদ্ধত্য’ নিয়ে টুইট করেন ।

কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিংহ টুইটে লেখেন, ‘পশ্চিমবঙ্গে যা ঘটলো তা দুর্ভাগ্যজনক। প্রধানমন্ত্রী বা মুখ্যমন্ত্রী একক কোনো ব্যক্তি নন, বরং প্রতিষ্ঠান। দুজনেই জনসেবার জন্য দায়বদ্ধ; সংবিধান মেনে শপথ নিয়েছেন।’

বিজেপি সভাপতি জেপি নাড্ডা লেখেন, ‘মমতাজির উচিত ছিল, জনগণের কল্যাণার্থে নিজের অহংকে বিসর্জন দেয়া।’

এরপরই শুক্রবার রাতে রাজ্যের মুখ্যসচিব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়ের বদলির নির্দেশ আসে কেন্দ্র থেকে।

এ ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে তৃণমূল মুখপাত্র কুণাল ঘোষ বলেন, ‘ভোটে হেরে কেন্দ্র ও বিজেপি প্রতিহিংসার পথে হাঁটছে। আমরা এর তীব্র বিরোধিতা করছি। করোনা পরিস্থিতিতে এই বদলির নির্দেশ পশ্চিমবঙ্গ সরকার ও পশ্চিমবঙ্গের মানুষের ক্ষতি করার জন্য নেয়া হয়েছে।’

তৃণমূল সাংসদ সৌগত রায় বলেন, ‘ভোটে হারার পর যত রকম ভাবে নোংরামো করা যায় ওরা তা করছে।’

কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতিহিংসার রাজনীতির বিরুদ্ধে টুইট করে তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র লেখেন, ’৩০ মিনিট অপেক্ষা করানোর অভিযোগ নিয়ে এতো হৈ চৈ? ভারতীয়রা ১৫ লাখ টাকা পাওয়ার জন্য ৭ বছর অপেক্ষা করছেন। এটিএমে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেন, টিকা পাওয়ার জন্য মাসের পর মাস অপেক্ষায়- মাঝেমধ্যে আপনিও কিছুক্ষণ অপেক্ষা করুন।’

আলাপনের বদলির কেন্দ্রীয় নির্দেশে বাম নেতা দীপঙ্কর ভট্টাচার্যের মতে, মোদি সরকার আক্রমণাত্মক, সাম্রাজ্যবাদী শক্তির মত আচরণ করছে। করোনা বিধ্বস্ত একটি রাজ্যের মুখ্যসচিবকে বদলির নির্দেশ নিম্ন রুচির পরিচয় বলে মনে করেন তিনি।

বিজেপি নেতা সায়ন্তন বসু বলেন, ‘এই বিষয়ের সঙ্গে আমরা যুক্ত নয়। এটা রাজনীতির বিষয় নয়, পুরোপুরি প্রশাসনিক বিষয়। এর সঙ্গে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার জড়িত।’

১৯৮৭ সালের আইএএস আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির অন্যতম আস্থাভাজন আমলা। দীর্ঘ প্রশাসনিক জীবনে একাধিকবার বিভিন্ন সমস্যা দক্ষ হাতে সামলেছেন তিনি।

এর আগে স্বরাষ্ট্রসচিবও ছিলেন আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়। গত বছর অক্টোবর থেকে মুখ্যসচিবের দায়িত্ব সামলাচ্ছেন।

কিছুদিন আগে মুখ্যমন্ত্রী সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, ‘আমাদের মুখ্যসচিবের মেয়াদ তিন মাস বাড়িয়েছে কেন্দ্র। সুতরাং আমরা খুশি হয়েছি।’

গতকালের কলাইকুন্ডায় প্রধানমন্ত্রীর মিটিংয়ে মমতার না থাকার প্রতিক্রিয়া বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।

এ দিকে নবান্ন সূত্রে খবর, আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়ের বদলির কেন্দ্রীয় নির্দেশের বিরোধিতা করে চিঠি দিতে চলেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়।

আরও পড়ুন:
নারদা কাণ্ড: চার নেতা-মন্ত্রীর জামিন
করোনা বিধিনিষেধ বাড়ল পশ্চিমবঙ্গে
ইয়াসে ১ কোটি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত: মমতা
সুপ্রিম কোর্টে প্রশ্নের মুখে সিবিআই, নারদা মামলা প্রত্যাহার
নুন আনতে পান্তা ফুরায় যে বিধায়কদের

শেয়ার করুন

মন্তব্য