ভারতে আসন্ন মহামারির তৃতীয় ধাক্কা, এবার ঝুঁকিতে শিশুরা

ভারতে আসন্ন মহামারির তৃতীয় ধাক্কা, এবার ঝুঁকিতে শিশুরা

নয়াদিল্লিতে করোনায় মৃত শিশুর মরদেহ সৎকারের জন্য নিয়ে যাচ্ছেন এক স্বেচ্ছাসেবক। ছবি: এএফপি

উত্তর প্রদেশে ১২ বছরের কমবয়সী সন্তান আছে- এমন মা-বাবাদের টিকার আওতায় আনার ঘোষণা দিয়েছে রাজ্য সরকার। গোয়ায় টিকা কার্যক্রমে অগ্রাধিকার দেয়া হবে দুই বছরের কমবয়সী শিশুদের মায়েদের, যারা সন্তানকে বুকের দুধ খাওয়াচ্ছেন। পশ্চিমবঙ্গ, উত্তর প্রদেশ, তামিলনাড়ু, ওড়িশা, মহারাষ্ট্র, মধ্য প্রদেশ, হরিয়ানা, গোয়া ও ছত্তিশগড়ে সব হাসপাতালে করোনায় আক্রান্ত শিশুদের জন্য আলাদা শয্যার ব্যবস্থা ও ওয়ার্ড তৈরি করা হচ্ছে।

করোনাভাইরাস মহামারির দ্বিতীয় ধাক্কার বিপর্যয় কাটিয়ে ওঠার লড়াইয়ে হিমশিম খাচ্ছে ভারত। এর মধ্যেই তৃতীয় ধাক্কায় বিপুল প্রাণহানি এড়াতে প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে বিভিন্ন রাজ্য।

টাইমস অফ ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মহামারির এ পর্যায়ে আসন্ন তৃতীয় ধাক্কায় শিশু-কিশোরদের বড় অংশ করোনায় আক্রান্ত হবে বলে আশঙ্কা করছেন ভারতের অনেক স্বাস্থ্যবিদ।

এমন পরিস্থিতিতে রাজ্যে রাজ্যে বিভিন্ন হাসপাতালে শিশুদের জন্য আলাদা শয্যার ব্যবস্থা থেকে শুরু করে নানা পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে।

এছাড়া হাসপাতালগুলোতে অক্সিজেন সরবরাহ নির্বিঘ্ন রাখতে এবং নমুনা পরীক্ষা বাড়াতেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

গত বছর সেপ্টেম্বরে প্রথমবার করোনাভাইরাস মহামারির বড় ধাক্কা লাগে ভারতে। নভেম্বর থেকে ভাইরাসের সংক্রমণ ক্রমশ নিম্নমুখী ছিল চলতি বছরের মার্চ মাসের মাঝামাঝি পর্যন্ত। এরপরই আবার ঊর্ধ্বমুখী হতে শুরু করে সংক্রমণ।

মহামারির দ্বিতীয় ধাক্কায় একরকম মৃত্যুপুরীতে পরিণত হয় ভারত।

এপ্রিলজুড়ে দেশটিতে ৬৬ লাখের বেশি মানুষের দেহে করোনা শনাক্ত হয়, যা মার্চেও ছিল মাত্র সোয়া ১০ লাখ। আর চলতি মে মাসের ২৭ দিনে এ সংখ্যা রেকর্ড ৮৪ লাখ।

এ মাসে রেকর্ড ১ লাখ ৭ হাজার মৃত্যু দেখেছে ভারতবাসী। এপ্রিলে এ সংখ্যা ছিল অর্ধেকেরও কম, ৪৫ হাজার। আর তার আগের মার্চ মাসে এ সংখ্যা ছিল মাত্র সাড়ে পাঁচ হাজার।

এনডিটিভির প্রতিবেদনে জানানো হয়, ভারতে মহামারির চলমান দ্বিতীয় ধাক্কার শিকার প্রায় ১০ শতাংশ রোগীই ২ থেকে ১৮ বছর বয়সী। দিন দিন এ হার বাড়ছে।

এ অবস্থায় উত্তর প্রদেশে ১২ বছরের কমবয়সী সন্তান আছে- এমন মা-বাবাদের টিকার আওতায় আনার ঘোষণা দিয়েছে রাজ্য সরকার।

গোয়ায় টিকা কার্যক্রমে অগ্রাধিকার দেয়া হবে দুই বছরের কমবয়সী শিশুদের মায়েদের, যারা সন্তানকে বুকের দুধ খাওয়াচ্ছেন।

পশ্চিমবঙ্গ, উত্তর প্রদেশ, তামিলনাড়ু, ওড়িশা, মহারাষ্ট্র, মধ্য প্রদেশ, হরিয়ানা, গোয়া ও ছত্তিশগড়ে সব হাসপাতালে করোনায় আক্রান্ত শিশুদের জন্য আলাদা শয্যার ব্যবস্থা ও ওয়ার্ড তৈরি করা হচ্ছে।

মহারাষ্ট্রের হাসপাতালগুলোতে করোনায় আক্রান্ত শিশুদের জন্য বেডের সংখ্যা ৬০০ থেকে বাড়িয়ে ২ হাজার ৩০০ করা হচ্ছে। এর মধ্যে শুধু মুম্বাইতেই যোগ হবে ৫০০ বেড।

শিশুদের চিকিৎসায় সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা ও কাঠামো প্রণয়ন করছে পশ্চিমবঙ্গ ও তামিলনাড়ু।

মহারাষ্ট্র, দিল্লি, উত্তরাখণ্ড, ঝাড়খণ্ড, গোয়া ও হিমাচল প্রদেশে শিশু বিশেষজ্ঞদের নিয়ে টাস্ক ফোর্স গঠন করা হয়েছে।

বেশিরভাগ রাজ্যে শিশুদের করোনা ওয়ার্ডে পেডিয়াট্রিক ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট (পিআইসিইউ), নিওন্যাটাল ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট (এনআইসিইউ) ও সিক নিউবর্ন কেয়ার ইউনিটের জন্য (এসআইসিইউ) আলাদা বেডের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

এছাড়া মহামারির তৃতীয় ধাক্কা দ্রুত কাটিয়ে ওঠার সমন্বিত প্রস্তুতির অংশ হিসেবে অক্সিজেন প্ল্যান্ট বসাচ্ছে পশ্চিমবঙ্গ, মহারাষ্ট্র ও উত্তর প্রদেশ।

প্রায় দেড় বছরে সারা বিশ্বে প্রায় ১৭ কোটি মানুষের দেহে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে; মারা গেছে সোয়া ৩৫ লাখের বেশি।

শুধু ভারতেই করোনা শনাক্ত হয়েছে পৌনে তিন কোটির বেশি মানুষের দেহে; প্রাণহানি ৩ লাখ ১৯ হাজার।

করোনায় প্রাণহানিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রাজিলের পর তৃতীয় এবং শনাক্তের দিক থেকে যুক্তরাষ্ট্রের পর বিশ্বের দ্বিতীয় শীর্ষ দেশ ভারত।

মহামারির দ্বিতীয় ধাক্কায় বিপর্যস্ত দেশটিতে অক্সিজেনের জন্য হাহাকার, হাসপাতালের ধারণক্ষমতার কয়েক গুণ রোগীর কারণে বেডের তীব্র সংকট, চিকিৎসা পেয়েই অসংখ্য রোগীর মৃত্যুর খবর বারবার উঠে এসেছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের শিরোনামে।

এছাড়া করোনার টেস্ট কিট, ওষুধসহ বিভিন্ন চিকিৎসা সরঞ্জাম এবং রোগীর বিপরীতে স্বাস্থ্য খাতে লোকবল সংকটও প্রকট।

চলতি সপ্তাহে দৈনিক সংক্রমণ ও মৃত্যু কিছুটা কমে এলেও প্রতি দিনই দীর্ঘ হচ্ছে মৃত্যুর মিছিল। এ অবস্থায় শ্মশান, কবরস্থানগুলোতেও স্বজনদের মরদেহ নিয়ে প্রতিদিন ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে অসংখ্য মানুষকে।

মহামারির এই দ্বিতীয় ধাক্কা অব্যাহত থাকার মধ্যেই জোরালো হচ্ছে তৃতীয় ধাক্কার শঙ্কা।

আরও পড়ুন:
করোনায় মৃত কর্মীদের পরিবারের দায়িত্ব টাটার
ভারতে কৃত্রিম অ্যান্টিবডিতে করোনার চিকিৎসা
প্রথম ডোজ কোভিশিল্ডে, দ্বিতীয়টি কোভ্যাক্সিনে
ভারতে নমুনা পরীক্ষায় রেকর্ড, শনাক্ত ২ লাখ

শেয়ার করুন

মন্তব্য

লোকসভার নিরাপত্তা কর্মীকে নিগ্রহের অভিযোগ তৃণমূল সাংসদদের বিরুদ্ধে

লোকসভার নিরাপত্তা কর্মীকে নিগ্রহের অভিযোগ তৃণমূল সাংসদদের বিরুদ্ধে

ভারতের সংসদ। ফাইল ছবি

রাজ্যসভার কাচের দরজা ভেঙে আহত হওয়ার ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ জানিয়ে লোকসভার সচিবকে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন নারী নিরাপত্তাকর্মী চন্দ্রকলা। এ ঘটনায় অল্পবিস্তর জখম হয়েছেন সাংসদ অর্পিতা ঘোষও।

রাজ্যসভা থেকে সাসপেন্ড হওয়া তৃণমূল সাংসদদের বিরুদ্ধে দুর্ব্যবহার এবং শারীরিক নিগ্রহের অভিযোগ এনেছেন লোকসভার নারী নিরাপত্তাকর্মী চন্দ্রকলা।

রাজ্যসভার কাচের দরজা ভেঙে আহত হওয়ার ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ জানিয়ে লোকসভার সচিবকে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন তিনি। এ ঘটনায় অল্পবিস্তর জখম হয়েছেন সাংসদ অর্পিতা ঘোষও।

সব মিলিয়ে বুধবার রাজ্যসভায় তৃণমূল সাংসদদের বরখাস্ত হওয়ার ঘটনার রেশ তো কাটলই না, বরং নতুন মাত্রা পেল।

তৃণমূল অবশ্য বুধবার থেকেই অন্য দাবি জানিয়ে আসছে। বৃহস্পতিবার সময় ধরে ধরে ওই দিনের ঘটনার বিবরণ দিয়েছেন তৃণমূল সাংসদ ডেরেক ও ব্রায়েন।

টুইটারে একটি ভিডিও তুলে দিয়ে ডেরেক লিখেছেন, সকাল সাড়ে ১১টার দিকে পেগাসাস কাণ্ডে আলোচনা করতে রাজি হয়নি সরকার। এরপর ৩০ জন বিরোধী সাংসদ ওয়েলে নেমে বিক্ষোভ দেখাতে থাকে। সকাল ১১টা ১৩ মিনিটের দিকে প্ল্যাকার্ড হাতে থাকার কারণে বরখাস্ত করা হয় ছয় সাংসদকে।

দুপুর ৩টা ৩৫ মিনিটের দিকে সেদিনের মতো স্থগিত হওয়ার পরই তিন তৃণমূল সাংসদকে সংসদ কক্ষে ঢুকতে বাধা দেন একজন পুরুষ মার্শাল। গোটা ঘটনা তুলে ধরে ডেরেকের প্রশ্ন, ‘এটা কী গণতন্ত্র চলছে?’

তৃণমূলের যুক্তি, সদনের মধ্যে রাজ্যসভায় সাংসদ দোলা সেনের ব্যাগ রয়ে গিয়েছিল। তিনি সেটি আনতে যেতে চাইলেও তাকে আনতে দেয়া হচ্ছিল না। অথচ অধিবেশন শেষ হয়ে গিয়েছিল সেদিনের মতো অর্থাৎ সাসপেনশান উঠেও গিয়েছিল।

পরে ডেরেক ও ব্রায়েন নিয়ম দেখিয়ে সুর চড়াতেই সুর নরম করে সরকার পক্ষ। ঘটনা পরম্পরা বলছে একদিনে পেগাসাস নিয়ে যেমন বিরোধী-সরকার দ্বন্দ্ব চরমে, তখন নিরাপত্তার প্রশ্নটি নতুন মাত্রা নিতে পারে।

তৃণমূল ছেড়ে কথা বলবে না। দেখার বিষয় সরকার কী অবস্থান নেয়। একটি সূত্রের খবর, চারদিক থেকে কোণঠাসা সরকার চাইছে যত দ্রুত সম্ভব লোকসভা অধিবেশন শেষ করতে।

আরও পড়ুন:
করোনায় মৃত কর্মীদের পরিবারের দায়িত্ব টাটার
ভারতে কৃত্রিম অ্যান্টিবডিতে করোনার চিকিৎসা
প্রথম ডোজ কোভিশিল্ডে, দ্বিতীয়টি কোভ্যাক্সিনে
ভারতে নমুনা পরীক্ষায় রেকর্ড, শনাক্ত ২ লাখ

শেয়ার করুন

ইরানে হামলায় প্রস্তুত ইসরায়েল

ইরানে হামলায় প্রস্তুত ইসরায়েল

ইরানে হামলায় নিজের সেনাবাহিনী প্রস্তুত বলে বৃহস্পতিবার জানান ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী বেনি গানৎজ। ছবি: এএফপি

সাক্ষাৎকারে ইরানের ওপর হামলা চালাতে ইসরায়েল প্রস্তুত কি না, জানতে চাইলে ইসরায়েলের মন্ত্রী গানৎজ বলেন, ‘হ্যাঁ, আমরা প্রস্তুত। ইরান বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক সমস্যার জন্য দায়ী। কয়েকটি ফ্রন্টে হামলা হতে পারে।’

ইরানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ইসরায়েলের সেনাবাহিনী প্রস্তুত বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী বেনি গানৎজ।

আরব অঞ্চলে চলমান উত্তেজনার মধ্যে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ওয়াইনেটে বৃহস্পতিবার সাক্ষাৎকারে তিনি এ মন্তব্য করেন বলে আল-জাজিরার প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

গত সপ্তাহে ওমান উপসাগরে ইসরায়েলের ট্যাংকারে ভয়াবহ ড্রোন হামলা হয়। একে ঘিরে ওই অঞ্চলে আক্রমণাত্মক অবস্থানে রয়েছে ইসরায়েল।

ওই হামলায় ইরানকে দায়ী করে ইসরায়েল জানিয়েছে, ট্যাংকার মারসার স্ট্রিটে হামলার পেছনে ইরানের যে হাত রয়েছে, তার প্রমাণ মিত্রদের দেয়া হবে।

তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানায়নি ইহুদি রাষ্ট্রটি।

ইসরায়েলি ট্যাংকার হামলায় ইরানকে দায়ী করে পাল্টা জবাবের অঙ্গীকার করে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য।

হামলায় যুক্তরাজ্য ও রোমানিয়ার দুই ক্রু নিহত হয়।

ইসরায়েলসহ পশ্চিমা দুই দেশের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে ইরান জানায়, কোনো দেশ তেহরানের স্বার্থে আঘাত হানার সিদ্ধান্ত নিলে সমুচিত জবাব দেয়া হবে।

সাক্ষাৎকারে ইরানের ওপর হামলা চালাতে ইসরায়েল প্রস্তুত কি না, জানতে চাইলে ইসরায়েলের মন্ত্রী গানৎজ বলেন, ‘হ্যাঁ, আমরা প্রস্তুত।’

তিনি বলেন, ‘ইরান বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক সমস্যার জন্য দায়ী। কয়েকটি ফ্রন্টে হামলা হতে পারে।’

এ বিষয়ে ইরানের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানা যায়নি।

ইরানের কট্টরপন্থি নতুন প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসি পার্লামেন্টে শপথ নেয়ার দিনই ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী গানৎজ এ হুঁশিয়ারি দিলেন।

বুধবার ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড করপসের (আইআরজিসি) সেনাপ্রধান হোসেন সালামি জানান, ইসরায়েলসহ যেসব দেশ হুমকি দিচ্ছে, তাদের ইরানের আত্মরক্ষামূলক ও আক্রমণাত্মক সক্ষমতা বিবেচনা করা উচিত।

আরও পড়ুন:
করোনায় মৃত কর্মীদের পরিবারের দায়িত্ব টাটার
ভারতে কৃত্রিম অ্যান্টিবডিতে করোনার চিকিৎসা
প্রথম ডোজ কোভিশিল্ডে, দ্বিতীয়টি কোভ্যাক্সিনে
ভারতে নমুনা পরীক্ষায় রেকর্ড, শনাক্ত ২ লাখ

শেয়ার করুন

দেশকে পিছিয়ে দিচ্ছে স্বার্থপর বিরোধীরা: মোদি

দেশকে পিছিয়ে দিচ্ছে স্বার্থপর বিরোধীরা: মোদি

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ছবি: সংগৃহীত

সংসদের চলতি বর্ষাকালীন অধিবেশন শুরুর দিন থেকে বিরোধীরা পেগাসাস আড়িপাতা কেলেংকারি, তিনটি নতুন কৃষি আইন, মূল্যবৃদ্ধির বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট নিয়মের আওতায় আলোচনার দাবি জানিয়ে আসছে। প্রধানমন্ত্রী সংসদে সব বিষয়ে আলোচনার আশ্বাস দিলেও পেগাসাস কেলেংকারিকে ‘নন ইস্যু’ আখ্যা দিয়ে আলোচনার দাবি মানতে অস্বীকার করেছেন সংসদীয় মন্ত্রী প্রহ্লাদ যোশী।

ভারতীয় সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশনের শুরু থেকে বিরোধীদের বিক্ষোভে কার্যত বারবার উত্তাল হয়েছে রাজ্যসভা ও লোকসভা। সংসদে ২২টি বিল পাশ হয়েছে আলোচনা ছাড়াই। এমন পরিস্থিতিতে আগেও বিরোধীদের দোষারোপ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

আবার একবার নাম না করে বৃহস্পতিবার বিরোধীদের বিরুদ্ধে আক্রমণ শানালেন তিনি। বিরোধীরা নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থ চরিতার্থ করতে দেশকে পিছিয়ে নিয়ে যাচ্ছে বলে দাবি করলেন মোদি।

তার কথায়, ‘এভাবে দেশের অগ্রগতি আটকানো যাবে না।’

উত্তর প্রদেশে ‘প্রধানমন্ত্রী গরিব কল্যাণ অন্নযোজনা’র প্রাপকদের উদ্দেশে ভাষণ দিতে গিয়ে এ কথা বলেন মোদি।

সংসদের চলতি বর্ষাকালীন অধিবেশন শুরুর দিন থেকে বিরোধীরা পেগাসাস আড়িপাতা কেলেংকারি, তিনটি নতুন কৃষি আইন, মূল্যবৃদ্ধির বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট নিয়মের আওতায় আলোচনার দাবি জানিয়ে আসছে।

প্রধানমন্ত্রী সংসদে সব বিষয়ে আলোচনার আশ্বাস দিলেও পেগাসাস কেলেংকারিকে ‘নন ইস্যু’ আখ্যা দিয়ে আলোচনার দাবি মানতে অস্বীকার করেছেন সংসদীয় মন্ত্রী প্রহ্লাদ যোশী।

ভার্চুয়াল মাধ্যমে ভাষণ দিতে গিয়ে এদিন মোদি বলেন, ‘একদিকে আমার দেশ, দেশের যুব সম্প্রদায় জয়ের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। আর বিরোধীরা রাজনৈতিক স্বার্থ চরিতার্থ করতে এমন কাজ করছে, যাতে তারাই আত্মঘাতী গোল করছে। নিজের স্বার্থে দেশের সময় নষ্ট করছে।’

প্রধানমন্ত্রীর কথায়, ‘দেশ কী চায়, দেশ কী পাচ্ছে, দেশ কীভাবে বদলাচ্ছে তাতে কিছু যায় আসে না বিরোধীদের।’

এদিন তিনি বিরোধীদের বার্তা দিয়ে সাফ জানান, বিরোধীদের জন্য দেশ কখনও থেমে থাকবে না, দেশের অগ্রগতি আটকানো যাবে না।

বিরোধীদের প্রতি মোদির ক্ষোভ নতুন নয়। এর আগে কংগ্রেস, তৃণমূল কংগ্রেসসহ বিরোধী সাংসদদের বার্তা দিয়েছেন তিনি। এর আগে দলীয় সাংসদদের বৈঠকে একই বার্তা দিয়েছিলেন তিনি।

রাজ্যসভার তৃণমূল সাংসদ শান্তনু সেনের প্রসঙ্গে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘যিনি কাগজ ছিনিয়ে নিয়ে ছিঁড়ে ফেললেন, তার কোনো অনুতাপ নেই।’

টুইটে ডেরেক ও ব্রায়েন বিল পাস করানোকে ‘পাপড়ি চাট’ তৈরির সঙ্গে তুলনা করেছিলেন। বৈঠকে সেই প্রসঙ্গ টেনে মোদি বলেন, ‘বিল পাস করানো নিয়ে একজন বর্ষীয়ান সাংসদ অপমানজনক মন্তব্য করেছেন। এর আগে সরাসরি কংগ্রেসের নাম করে দলীয় বৈঠকে বার্তা দেন তিনি। কংগ্রেস অধিবেশনে কোনো কাজ করতে দিচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছিলেন তিনি।’

এ প্রসঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ সুখেন্দু শেখর রায় বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির হাতে দেশের নিরাপত্তা সুরক্ষিত নয়। ভারতের ইতিহাসে কখনও ফোনে আড়িপাতার মতো ঘটনা ঘটেনি। পেগাসাস স্পাইওয়্যার কিনে সেগুলো ব্যবহার করা হয়েছে।’

সাংসদের দাবি, এই অভিযোগ নিয়ে নরেন্দ্র মোদি ও অমিত শাহ দুজনেই রহস্যজনকভাবে নিরব। কেন গণতন্ত্র মানা হচ্ছে না, সেটি নিয়ে মুখ খোলার দাবি জানিয়েছেন তিনি। সুখেন্দু শেখরের প্রশ্ন, ‘এ বিষয়ে সংসদে আলোচনা হবে না তো কোথায় হবে?’

আরও পড়ুন:
করোনায় মৃত কর্মীদের পরিবারের দায়িত্ব টাটার
ভারতে কৃত্রিম অ্যান্টিবডিতে করোনার চিকিৎসা
প্রথম ডোজ কোভিশিল্ডে, দ্বিতীয়টি কোভ্যাক্সিনে
ভারতে নমুনা পরীক্ষায় রেকর্ড, শনাক্ত ২ লাখ

শেয়ার করুন

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় জানা যাবে ভবিষ্যৎ

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় জানা যাবে ভবিষ্যৎ

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ভবিষ্যৎ আগেই জানাবে বলে জানায় যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহিনীর কর্মকর্তা জেনারেল গ্লেন ডি ভ্যানহার্ক বলেন, ‘তথ্য ও ডেটা কীভাবে আমরা ব্যবহার করব, সে বিষয়ে জিআইডিই মৌলিক পরিবর্তন হাজির করেছে। এর মাধ্যমে কৌশলগত পর্যায়ে নেতাদের সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষেত্র বাড়বে। শুধু সামরিক নেতাই নন, বেসামরিক নেতারাও এতে উপকৃত হবেন।’

সময়ের সঙ্গে সঙ্গে উন্নত হচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবস্থা। নানা ধরনের বিস্ময়কর কাজ করতে সক্ষম হচ্ছে এআই।

তবে এবার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে ভবিষ্যৎ নিয়ে তাক লাগানো কাজে হাত দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী। এর মাধ্যমে ভবিষ্যতের ঘটনা আগেই জানিয়ে দেবে এআই।

যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর পরীক্ষামূলক এই কাজের নাম দেয়া হয়েছে গ্লোবাল ইনফরমেশন ডমিনেন্স এক্সপেরিমেন্টস (জিআইডিই)। বেশ কয়েকটি ধাপে এ পরীক্ষা চলবে।

স্যাটেলাইট ছবি, গোয়েন্দা প্রতিবেদন, সেন্সর, রাডার থেকে শুরু করে আরও অনেক সূত্র থেকে পাওয়া ডেটা ওই সব পরীক্ষায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

এ পরীক্ষায় ক্লাউড কম্পিউটিংও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। এতে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সংগ্রহ করা ডেটা দক্ষতার সঙ্গে প্রক্রিয়াজাত করা সম্ভব হবে।

সামরিক কর্মকর্তা বা সংস্থা যাদের এসব ডেটার প্রয়োজন পড়বে, তারা তা ব্যবহারের সুযোগ পাবে।

গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহিনীর কর্মকর্তা জেনারেল গ্লেন ডি ভ্যানহার্ক এক প্রেস ব্রিফিংয়ে বলেন, ‘তথ্য ও ডেটা কীভাবে আমরা ব্যবহার করব, সে বিষয়ে জিআইডিই মৌলিক পরিবর্তন হাজির করেছে।

‘এর মাধ্যমে কৌশলগত পর্যায়ে নেতাদের সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষেত্র বাড়বে। শুধু সামরিক নেতাই নন, বেসামরিক নেতারাও এতে উপকৃত হবেন।’

সায়েন্স এলার্টের প্রতিবেদনে বলা হয়, অন্যান্য দেশের পদক্ষেপ সময়ের আগেই এই প্রযুক্তির মাধ্যমে জানা যাবে।

এতে সংঘর্ষ বা শত্রুতামূলক কর্মকাণ্ড শুরুর আগেই সতর্কতা ও প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা নেয়া সহজ হবে।

উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, বন্দর ছাড়ার আগে সাবমেরিনের গতিপথ নিয়ে প্রস্তুতি নেয়া থাকে। সাগরে ভাসার পর এটির চলাচল জানাই থাকে।

তবে এআই এ ক্ষেত্রে যা করবে তা হচ্ছে, সাবমেরিনসংক্রান্ত সব তথ্য একত্রিত করে আগেই অনেক দ্রুত জানাবে।

ভ্যানহার্ক বলেন, ‘আমরা ডেটাগুলো সহজলভ্য করে ক্লাউডে শেয়ার করছি। সেখানে মেশিন লার্নিং ও এআই ডেটাগুলো খতিয়ে দেখবে।

‘পরে এআই সেগুলো দ্রুত প্রক্রিয়াজাত করে সিদ্ধান্ত গ্রহণকারীদের কাছে পাঠাবে।’

তিনি বলেন, ‘এর মাধ্যমে আমরা অগ্রিম সতর্কবার্তা পাব এবং সেই অনুযায়ী কাজ করতে সক্ষম হব।’

এআইয়ের এই নতুন ব্যবস্থা ঠিক কীভাবে কাজ করবে বা সংগ্রহ করা তথ্য কীভাবে প্রক্রিয়াজাত করা হবে, সেসব বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।

তবে যা জানা গেছে তা হলো, দ্রুততম সময়ে এখন ডেটা প্রক্রিয়াজাত করা সম্ভব।

জিআইডিইর তৃতীয় ধাপের পরীক্ষা সম্প্রতি শেষ হয়েছে। চতুর্থ ধাপের পরীক্ষার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন:
করোনায় মৃত কর্মীদের পরিবারের দায়িত্ব টাটার
ভারতে কৃত্রিম অ্যান্টিবডিতে করোনার চিকিৎসা
প্রথম ডোজ কোভিশিল্ডে, দ্বিতীয়টি কোভ্যাক্সিনে
ভারতে নমুনা পরীক্ষায় রেকর্ড, শনাক্ত ২ লাখ

শেয়ার করুন

টেক্সাসে সড়ক দুর্ঘটনায় ১০ অভিবাসনপ্রত্যাশীর মৃত্যু

টেক্সাসে সড়ক দুর্ঘটনায় ১০ অভিবাসনপ্রত্যাশীর মৃত্যু

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে সড়ক দুর্ঘটনায় বুধবার ১০ অভিবাসনপ্রত্যাশীর মৃত্যু হয়। ছবি: এএফপি

টেক্সাসের জননিরাপত্তা দপ্তরের (ডিপিএস) পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়, মেক্সিকো সীমান্ত থেকে কয়েক মাইল দূরে অঙ্গরাজ্যের ফালফুরিয়াস শহরে দুর্ঘটনাটি হয়। এ বিষয়ে তদন্ত চলছে।

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যে মেক্সিকো সীমান্তের কাছে অভিবাসনপ্রত্যাশী বহনকারী ভ্যান দুর্ঘটনায় কমপক্ষে ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে।

স্থানীয় সময় বুধবার বিকেলে এ ঘটনা ঘটে বলে টেক্সাস কর্তৃপক্ষের বরাতে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি

টেক্সাসের জননিরাপত্তা দপ্তরের (ডিপিএস) পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়, মেক্সিকো সীমান্ত থেকে কয়েক মাইল দূরে অঙ্গরাজ্যের ফালফুরিয়াস শহরে দুর্ঘটনাটি হয়। এ বিষয়ে তদন্ত চলছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বুধবার বিকেল ৪টার দিকে যাত্রীবাহী একটি ভ্যান নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মহাসড়ক থেকে হঠাৎ ছিটকে রাস্তার ধারে খুঁটিকে ধাক্কা দেয়।

টেক্সাস হাইওয়ে প্যাট্রোল এক বিবৃতিতে জানায়, ভ্যানের চালকসহ ১০ যাত্রীর ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয়।

টেক্সাসের ব্রুকস কাউন্টির শেরিফ উরবিনো মারটিনেজের বরাতে দ্য নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, ভ্যানটিতে ৩০ জন যাত্রী ছিল।

টেক্সাসের জননিরাপত্তা দপ্তরের মুখপাত্র সার্জেন্ট নাথান ব্র্যান্ডলি এএফপিকে বলেন, ‘ধারণা করা হচ্ছে, ভ্যানে থাকা যাত্রীরা নথিবিহীন অভিবাসী। এ বিষয়ে দূতাবাসের সঙ্গে আমরা কথা বলব।’

এর আগে জননিরাপত্তা দপ্তর জানিয়েছিল, দুর্ঘটনার পর আহত ২০ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

পাচারকারীরা প্রায়ই ভ্যানগাড়িতে গাদাগাদি করে মেক্সিকো থেকে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের পাচার করে।

চলতি বছরের মার্চে ক্যালিফোর্নিয়ার দক্ষিণাঞ্চলে ভারী ট্রাকের সঙ্গে অভিবাসনপ্রত্যাশী বহনকারী গাড়ির সংঘর্ষে ১৩ জন প্রাণ হারায়।

ওই ঘটনায় পাচারের অভিযোগে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়।

আরও পড়ুন:
করোনায় মৃত কর্মীদের পরিবারের দায়িত্ব টাটার
ভারতে কৃত্রিম অ্যান্টিবডিতে করোনার চিকিৎসা
প্রথম ডোজ কোভিশিল্ডে, দ্বিতীয়টি কোভ্যাক্সিনে
ভারতে নমুনা পরীক্ষায় রেকর্ড, শনাক্ত ২ লাখ

শেয়ার করুন

ব্লাসফেমি মামলায় জামিন, মন্দির ভাঙচুর

ব্লাসফেমি মামলায় জামিন, মন্দির ভাঙচুর

পাকিস্তানে বুধবার এক মন্দিরে হামলা হয়। ছবি: ডন

পাকিস্তানের একটি মাদ্রাসার অভিযোগের ভিত্তিতে হিন্দু ধর্মাবলম্বী ​৯ বছরের ছেলেকে গ্রেপ্তার করা হয়। আদালত শিশুটিকে জামিন দিলে মেনে নিতে পারেননি স্থানীয়রা। লাঠিসোঁটা ও রড নিয়ে গণেশ মন্দির ভাঙচুর করেন তারা।

ব্লাসফেমি মামলায় হিন্দু ধর্মাবলম্বী ৯ বছরের এক ছেলেকে জামিন দেয়ায় পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশে একটি মন্দির ভাঙচুর করেছে ইসলাম ধর্মাবলম্বী শতাধিক মানুষ।

পাঞ্জাবের রহিম ইয়ার খান জেলার ভং শহরে বুধবার ওই ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে বলে ডন ও বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

ডনের প্রতিবেদনে বলা হয়, ভং শহরে এক মাদ্রাসায় শিশুছেলেটি প্রস্রাব করেছিল বলে অভিযোগ আছে।

সূত্রের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়, ২৪ জুলাই দারুল উলুম আরবিয়া তেলিমুল কোরান মাদ্রাসার হাফেজ মোহাম্মদ ইব্রাহিমের অভিযোগের ভিত্তিতে ৯ বছরের ছেলেটির বিরুদ্ধে মামলা করে ভং পুলিশ।

পাকিস্তান দণ্ডবিধির ২৯৫-এ ধারায় মামলাটি হয়।

মামলার পর মাদ্রাসা প্রশাসনের কাছে ক্ষমা চান স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের বয়োজ্যেষ্ঠরা। তাদের ভাষ্য, আসামি অপ্রাপ্তবয়স্ক এবং মানসিক প্রতিবন্ধী।

তবে চার দিন আগে ওই ছেলে জামিন পাওয়ায় বুধবার কয়েকজন ব্যক্তি আদালতের জামিন নির্দেশের বিরুদ্ধে স্থানীয়দের প্ররোচিত করেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া এক ভিডিওতে দেখা যায়, লোকজন লাঠিসোঁটা ও রড নিয়ে গণেশ মন্দির ভাঙচুর করছেন। পরে ভাঙচুরকারীরা তিন ঘণ্টারও বেশি সুক্কুর-মুলতান সড়ক অবরোধ করেন।

স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা রিয়াসাত আলী বলেন, ‘ভাঙচুরে মন্দির ভবনের আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।’

রহিম ইয়ার খান জেলা পুলিশের মুখপাত্র আহমেদ নাওয়াজ চীমা জানান, ওই এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

চীমা জানান, আসামি অপ্রাপ্তবয়স্ক। তবে তার মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে এখন পর্যন্ত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

নিরাপত্তার স্বার্থে ওই ছেলেকে রহিম ইয়ার খান জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলেও জানান তিনি।

বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, ওই অঞ্চলে হিন্দু ও মুসলমানদের মধ্যে অর্থসংক্রান্ত বিরোধ চলছিল, যা বিশৃঙ্খলার মূল কারণ হিসেবে ধারণা করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন:
করোনায় মৃত কর্মীদের পরিবারের দায়িত্ব টাটার
ভারতে কৃত্রিম অ্যান্টিবডিতে করোনার চিকিৎসা
প্রথম ডোজ কোভিশিল্ডে, দ্বিতীয়টি কোভ্যাক্সিনে
ভারতে নমুনা পরীক্ষায় রেকর্ড, শনাক্ত ২ লাখ

শেয়ার করুন

সু চির মুখটি ফটোশপে বসানো

সু চির মুখটি ফটোশপে বসানো

ফেসবুকে ভাইরাল এ পোস্টটি শেয়ার করেছিলেন ১৭ হাজারের বেশি মানুষ। ছবি: বুমলাইভ ডটইন

বর্তমানে দুর্নীতি ও রাষ্ট্রীয় গোপনীয়তা লঙ্ঘন আইনসহ বেশ কয়েকটি মামলায় বিচারাধীন সু চি। তবে বন্দি থাকলেও কমলা রঙের পোশাকে কারাবন্দি সু চির ভাইরাল ছবিটি সত্য নয়। ফ্যাক্ট চেকে বেরিয়ে এসেছে, আসল ছবিতে যে নারীকে দেখা যায়, সেই নারী সু চি নন।

মিয়ানমারের ক্ষমতাচ্যুত রাষ্ট্রীয় উপদেষ্টা অং সান সু চির কারাবন্দি একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে। ছবিটি দেখেছেন কয়েক লাখ মানুষ।

চলতি বছরের ২২ জুলাই ফেসবুকে ছবিসংবলিত একটি পোস্ট শেয়ার করেছেন ১৭ হাজারের বেশি মানুষ। ছবিটির ক্যাপশনে বাংলায় লেখা, ‘ক্ষমতা কারো স্থায়ী থাকে না’।

ছবিতে দেখা যায়, কারাগারের একটি কক্ষে বিছানায় বসে বাইরের দিকে তাকিয়ে আছেন কমলা রঙের পোশাক পরা সু চি।

মিয়ানমারে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসির (এনএলডি) নেতা সু চি চলতি বছরের ১ ফেব্রুয়ারি সেনা অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হন। তিনিসহ ক্ষমতাসীন দলের অন্যান্য আইনপ্রণেতা ও নেতা, আর প্রেসিডেন্টকেও তৎক্ষণাৎ গ্রেপ্তার করে সেনাবাহিনী।

বর্তমানে দুর্নীতি ও রাষ্ট্রীয় গোপনীয়তা লঙ্ঘন আইনসহ বেশ কয়েকটি মামলায় বিচারাধীন তিনি।

তবে বন্দি থাকলেও কমলা রঙের পোশাকে কারাবন্দি সু চির ভাইরাল ছবিটি সত্য নয়। ফ্যাক্ট চেকে বেরিয়ে এসেছে, আসল ছবিতে যে নারীকে দেখা যায়, সেই নারী সু চি নন।

সু চির মুখটি ফটোশপে বসানো
উইকিমিডিয়া কমন্সে ২০১৩ সালের ১২ জুলাই প্রকাশিত মূল ছবি এটি। ছবি: বুমলাইভ ডটইন

আসল ছবিটি অনলাইন লাইব্রেরি উইকিমিডিয়া কমন্সে ২০১৩ সালের ১২ জুলাই প্রথম প্রকাশ হয়। ছবিটি অন্য এক নারীর, যার মুখের ওপর সু চির মুখের ছবি যোগের কারসাজি করা হয়েছে ফটোশপের মাধ্যমে।

অফিসার বিম্বলবারিকে কৃতিত্ব দিয়ে প্রকাশিত আসল ছবির ক্যাপশনে লেখা, ‘ছোট্ট কারা কক্ষের ভেতরে এক নারী বন্দি। এই কক্ষেই তার বিছানা, টয়লেট। এই গারদ দিয়েই বাইরের সবকিছুর সঙ্গে যোগাযোগবিচ্ছিন্ন তিনি। কয়েদিদের স্বস্তি ও সুবিধার পাশাপাশি জনসাধারণের কথা মাথায় রেখে এ কারাকক্ষের নকশা করা হয়েছে।

উইকিমিডিয়া ফাউন্ডেশনের আওতাধীন উইকিমিডিয়া কমন্সে ছবি, শব্দ ও যোগাযোগের অন্যান্য মাধ্যম বিনা মূল্যে প্রকাশ ও ব্যবহার করা যায়।

ডিজিটাল ভেরিফিকেশন টুল ইনভিড-উইভেরিফাইয়ে মেটাডেটা তথ্যেও আসল ছবিটির প্রকাশকাল ২০১৩ সালের ১২ জুলাই।

আরও পড়ুন:
করোনায় মৃত কর্মীদের পরিবারের দায়িত্ব টাটার
ভারতে কৃত্রিম অ্যান্টিবডিতে করোনার চিকিৎসা
প্রথম ডোজ কোভিশিল্ডে, দ্বিতীয়টি কোভ্যাক্সিনে
ভারতে নমুনা পরীক্ষায় রেকর্ড, শনাক্ত ২ লাখ

শেয়ার করুন