ত্রাণের অর্থে ‘হাত দেবে না’ হামাস

ত্রাণের অর্থে ‘হাত দেবে না’ হামাস

গাজা উপত্যকার দক্ষিণে রাফাহ এলাকায় জাতিসংঘের একটি গুদাম থেকে ত্রাণ নিয়ে যাচ্ছে এক ফিলিস্তিনি কিশোর। ছবি: এএফপি

ব্লিঙ্কেনের মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় ইয়াহিয়া সিনওয়ার বলেন, ‘উপত্যকা পুনর্গঠন ও মানবিক সহায়তার লক্ষ্যে পাঠানো একটি পয়সায় আমরা হাত দেবো না। অতীতে কখনো এ অর্থ আমরা ছুঁয়ে দেখিনি।’

ইসরায়েলের আগ্রাসনে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া গাজা উপত্যকায় মৌলিক অবকাঠামো পুনর্নির্মাণে পাঠানো আন্তর্জাতিক সহায়তার অর্থ দলীয় কাজে লাগাবে না বলে জানিয়েছে হামাস।

অবরুদ্ধ গাজার শাসক দলের রাজনৈতিক শাখার প্রধান ইয়াহিয়া সিনওয়ার দিয়েছেন এমন ঘোষণা।

গাজায় অস্ত্রবিরতি কার্যকরের ষষ্ঠ দিন বুধবার তিনি বলেন, ‘গাজাকে সহযোগিতার লক্ষ্যে আরব রাষ্ট্র ও অন্যান্য দেশের প্রচেষ্টাকে আমরা স্বাগত জানাচ্ছি। ত্রাণের বণ্টন স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ রাখার আশ্বাস দিচ্ছি।’

আল জাজিরার প্রতিবেদনে জানানো হয়, এক দিন আগেই গাজা পুনর্গঠনে সর্বোচ্চ সহযোগিতার আশ্বাস দেন মধ্যপ্রাচ্যে সফররত যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন। কিন্তু এ সাহায্য যেন কোনোভাবে হামাসের উপকারে না আসে, তা নিশ্চিতের ওপরও জোর দেন তিনি।

ব্লিঙ্কেনের এ মন্তব্যের প্রতিক্রিয়াতেই ইয়াহিয়া সিনওয়ার বলেন, ‘উপত্যকা পুনর্গঠন ও মানবিক সহায়তার লক্ষ্যে পাঠানো একটি পয়সায় আমরা হাত দেবো না। অতীতে কখনো এ অর্থ আমরা ছুঁয়ে দেখিনি।’

গত ১০ থেকে ২০ মে পর্যন্ত গাজায় ইসরায়েলের বিমান হামলায় নিহত হয়েছে কমপক্ষে ৬৬ শিশুসহ ২৫৪ ফিলিস্তিনি। আহত হয়েছে আরও দুই হাজার মানুষ।

সহিংসতায় গৃহহীন হয়েছে এক লাখের বেশি মানুষ। ধ্বংস হয়েছে স্কুল ও হাসপাতাল ভবনসহ হাজারো বেসামরিক স্থাপনা।

১১ দিনের সহিংসতার পর গত বৃহস্পতিবার মধ্যরাত থেকে অস্ত্রবিরতি কার্যকর হলেও আল-আকসায় অভিযান চালিয়েছে ইসরায়েলি সেনারা।

এমন পরিস্থিতিতে ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংকট নিরসন এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের নিষিদ্ধ তালিকাভুক্ত হামাসের শক্তি খর্বে অবরুদ্ধ পশ্চিম তীরের রামাল্লাহভিত্তিক ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কাজ করছে যুক্তরাষ্ট্র।

সিনাওয়ার বলেন, ‘ব্লিঙ্কেনের এসব মন্তব্য হামাস ও ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষের মধ্যে বিভক্তি তৈরির কৌশল। কিন্তু আমরা কখনোই এ ফাঁদে পা দেবো না।’

হামাস-ফাতাহ বিভাজন

প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের দল মধ্যপন্থি ফাতাহর নিয়ন্ত্রণে কাজ করে ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষ। ইসলামপন্থি হামাসের সঙ্গে ফাতাহর দ্বন্দ্ব দীর্ঘদিনের।

২০০৬ সালের নির্বাচনে হামাসের জয়ের পর ২০০৭ সালে গাজা থেকে ফাতাহকে উৎখাত করে সশস্ত্র সংগঠনটি। তখন থেকে অবরুদ্ধ পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকা অল্প কিছু অংশ শাসন করছে ফাতাহ।

ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে অস্ত্রবিরতি স্থায়ী করতে কাজ করার আশ্বাস দিয়েছেন ব্লিঙ্কেন।

দুই পক্ষের মধ্যে সাম্প্রতিক বিরোধের শুরু ইসরায়েলের বিভিন্ন দখলদার প্রতিষ্ঠানের করা মামলায় শেখ জারাহ এলাকায় বসবাসরত ফিলিস্তিনিদের জোরপূর্বক উচ্ছেদ থেকে। এর জেরে চলতি মাসের শুরুতে সেখানে ব্যাপক বিক্ষোভ করে ফিলিস্তিনিরা।

উত্তেজনা গড়ায় পবিত্র আল-আকসা মসজিদ পর্যন্ত। পবিত্র রমজান মাসজুড়ে পূর্ব জেরুজালেমের ফিলিস্তিনি অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে দফায় দফায় অভিযান চালায় ইসরায়েলের সেনারা। সংঘর্ষে আহত হয় কয়েক শ মুসল্লি।

এমন পরিস্থিতিতে হামাস আল-আকসা থেকে সরে যাওয়ার হুঁশিয়ারি হিসেবে ইসরায়েলের দিকে রকেট ছোড়ে।

এর ধারাবাহিকতায় ২০১৪ সালের পর গত প্রায় দুই সপ্তাহে সবচেয়ে বেশি রক্তক্ষয়ী আক্রমণের শিকার হয় অবরুদ্ধ গাজার বাসিন্দারা। ইসরায়েল, যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমাদের কাছে ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ হিসেবে বিবেচিত হামাসের বিরুদ্ধে গাজা ও পশ্চিম তীরে বিমান হামলা শুরু করে ইসরায়েল।

গাজায় আন্তর্জাতিক সহায়তা

জাতিসংঘের ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের সহায়তাবিষয়ক সংস্থা ইউএনআরডব্লিউএর মাধ্যমে গাজায় ৩২ লাখ পাউন্ড সহযোগিতা পাঠানোর কথা জানিয়েছে যুক্তরাজ্য।

অন্যদিকে ফিলিস্তিনিদের জন্য মানবিক সহায়তা বাড়িয়ে ৮০ লাখ ইউরো করার কথা জানিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন।

আরও পড়ুন:
কেউ ইসরায়েল গেলে বিচার: পররাষ্ট্রমন্ত্রী
ফিলিস্তিনে জরুরি সহায়তা যাচ্ছে আজ
গাজা পুনর্নির্মাণে ওয়াশিংটন প্রতিজ্ঞাবদ্ধ: অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন
গাজায় ত্রাণ ঢুকতে দিচ্ছে না ইসরায়েল
আল-আকসা মসজিদে মুসল্লিদের ওপর হামলা

শেয়ার করুন

মন্তব্য