ইয়াসে ১ কোটি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত: মমতা

ইয়াসে ১ কোটি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত: মমতা

‘৪৮ ঘণ্টা না গেলে কতটা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলা যাবে না। প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে ১ কোটি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। ক্ষতির পরিমাণ হিসেব হয়ে গেলে, তারপর আস্তে আস্তে পুনর্বাসন এবং ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করা হবে। যাতে কারও অসুবিধা না হয়, আমরা দেখে নেব।’

ভারতের ওড়িশার বালেশ্বরে বুধবার সকালে ১৫৫ কিলোমিটার বেগে আঘাত হানে ঘূর্ণিঝড় ইয়াস। প্রায় ৯ ঘণ্টা পর শক্তি হারিয়ে নিম্নচাপে পরিণত হয়।

প্রথম তিন ঘণ্টা শক্তিশালী ছিল ইয়াস। পরের ছয় ঘণ্টা দুর্বল হতে হতে সাধারণ ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়। ক্ষয়ক্ষতি তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

শুক্রবার আকাশপথে ইয়াসের তাণ্ডবে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনে যাবেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি।

বুধবার বিভিন্ন দপ্তরের আধিকারিকদের সঙ্গে এক ভার্চুয়াল বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী। সেখানে তিনি বলেন, ‘৪৮ ঘণ্টা না গেলে কতটা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলা যাবে না। ক্ষতির পরিমাণ হিসেব হয়ে গেলে, তারপর আস্তে আস্তে পুনর্বাসন এবং ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করা হবে। যাতে কারও অসুবিধা না হয়, আমরা দেখে নেব।’

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা ইমিডিয়েট, ৪৮ ঘণ্টা, যেটা বলছি, লোল্যান্ড যেখানে, দয়া করে ফিরবেন না। ত্রাণ শিবিরে বা যেখানে নিরাপদে আছেন, সেখানেই থাকুন।

কেননা অনেকে ভাবছেন আজকে ইয়াস হয়ে গেছে, চলো ফিরে যাই। দেখছেন তো বাঁধগুলো যেভাবে জলের স্রোতে ভেঙে নিয়ে চলে যাচ্ছে, তাতে একটার পর একটা গ্রাম ভেসে যাচ্ছে।

ইয়াসে ১ কোটি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত: মমতা

‘আপনাদের আমি রিকোয়েস্ট করব, আপনারা সব কথা শুনেছেন, কিন্তু নিজের জীবন সবচেয়ে বেশি দামি এবং আপনাদের সম্পত্তি নষ্ট হলে আমরা সবাই চেষ্টা করব শেয়ার করে নেয়ার।

‘আমরা যতটা পারব সাহায্য করব কিন্তু জীবন চলে গেলে জীবন পাওয়া যাবে না। কাজেই এটা একটু দেখে নেবেন দয়া করে। আর কলকাতাতে যেখানে যেখানে জল উঠেছে আজকে (বুধবার) দুপুর বেলায়। তারা সতর্ক থাকবেন। তারা যদি প্রয়োজন হয় আশেপাশের বড় বিল্ডিংয়ে আশ্রয় নেবেন।

‘সেখানে ক্লাব পুজো কমিটি ছেলেদের বলব, একটু সাহায্য করতে। আর পুলিশকে বলব যেখানে জল উঠেছে, সেখানে একটু মাইকে প্রচার করে দিতে।'

মুখ্যমন্ত্রী আধিকারিকদের বলেন, ‘বন্যা পরবর্তী পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্য ব্যবস্থার দিকে নজর দিতে হবে। পরিশোধিত পানীয় জল সরবরাহ বজায় রাখতে হবে। বৃহস্পতিবার বানের জল ঢুকতে পারে। সেজন্য সতর্ক থাকতে হবে। বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে হবে। যাতে কেউ বিদ্যুৎপৃষ্ট না হয় দেখতে হবে।

‘দক্ষিণ ২৪ পরগনা, মেদিনীপুরে বহু জায়গা এবং কলকাতার কালীঘাট চেতলা রাসবিহারীতে জল উঠেছে।

‘নোনাজল ঢোকায় কৃষি ও মাছ চাষের ক্ষতি হয়েছে। ১৩৪ টি বাঁধ ভেঙে গেছে। মানুষ সমান উঁচু হয়ে উঠেছে। ১৫ লাখের বেশি মানুষকে রেস্কিউ সেন্টারে রাখা হয়েছে। ৩ লাখের বেশি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।’

ইয়াসে ১ কোটি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত: মমতা

লবণাক্ত জমিতে ধান চাষ করতে হবে। নোনা জলের মাছ চাষ করতে হবে। বাঁধ রক্ষণাবেক্ষণের কাজে আরও জোর দিতে টাস্কফোর্স গঠন করা হবে। গাছ লাগিয়ে বাঁধকে শক্তিশালী করতে জোর দিতে হবে বলে, মুখ্যমন্ত্রী এদিনের ভার্চুয়াল বৈঠকে, আধিকারিকদের জানান।

এদিকে নবান্নে মুখ্যসচিব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, আগামী ২৮ মে দুদিনের সফরে আকাশপথে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সাগর, হিঙ্গলগঞ্জ হয়ে দীঘা যাবেন । সেখানে ২৯ মে তিনি ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে একটি পর্যালোচনা বৈঠক করবেন।

তিনি আরও বলেন, প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে ১ কোটি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। ১০ কোটি টাকার ত্রাণ পাঠানো হয়েছে।

এদিনের ভার্চুয়াল বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি এ কথা জানান। পাথরপ্রতিমা, হিঙ্গলগঞ্জ, সন্দেশখালি, দীঘা, সাগর,রামনগর, নন্দীগ্রাম, দুই পরগনা সব থেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ৭২ ঘণ্টা না গেলে, মোট ক্ষয়ক্ষতির হিসাব পাওয়া যাবে না।

আরও পড়ুন:
ঘূর্ণিঝড় ইয়াস: ঝুঁকি নেবেন না মমতা

শেয়ার করুন

মন্তব্য

পেগাসাস কাণ্ডে বিক্ষোভ, ৬ তৃণমূল সাংসদকে সাসপেন্ড

পেগাসাস কাণ্ডে বিক্ষোভ, ৬ তৃণমূল সাংসদকে সাসপেন্ড

ভারতের সংসদ ভবন। ছবি; সংগৃহীত

টুইটে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় লিখেছেন, ‘আমাদের সাংসদদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ প্রমাণ করে দিচ্ছে যে ৫৬ ইঞ্চির গডফাদার হার মেনেছেন। আপনি আমাদের সাসপেন্ড করতে পারেন কিন্তু চুপ করাতে পারেন না। আমরা মানুষের জন্য লড়াই করে যাব, সত্যের জন্য লড়াই করে যাব। শেষ রক্তবিন্দু দিয়েও লড়াই করব।’

ফোনে আড়িপাতার ঘটনায় বিক্ষোভ করায় তৃণমূল কংগ্রেসের ছয় সাংসদকে একদিনের জন্য সাসপেন্ড করেছেন ভারতীয় সংসদের উচ্চকক্ষের (রাজ্যসভা) চেয়ারম্যান বেঙ্কাইয়া নাইডু।

ওই সাংসদদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, পেগাসাস কেলেংকারি নিয়ে আলোচনার দাবিতে সংসদের ওয়েলে নেমে প্ল্যাকার্ড হাতে বিক্ষোভ দেখিয়ে নিজেদের পদকে অসম্মান করেছেন তারা।

সাসপেন্ড হওয়া তৃণমূল সাংসদরা হলেন দোলা সেন, শান্তা ছেত্রী, মৌসম নূর, মুহম্মদ নাদিমুল হক, আবীর রঞ্জন বিশ্বাস এবং অর্পিতা ঘোষ। এর আগে সংসদ থেকে সাসপেন্ড করা হয়েছিল তৃণমূলের আরেক সাংসদ শান্তনু সেনকে।

পেগাসাস কাণ্ডে আলোচনা এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিবৃতি দাবিতে বুধবার রাজ্যসভার ওয়েলে নেমে প্ল্যাকার্ড হাতে বিক্ষোভ দেখাচ্ছিলেন তৃণমূল সাংসদরা৷

রাজ্যসভার চেয়ারম্যান বেঙ্কাইয়া নাইডু বারবার তাদের সতর্ক করে নিজেদের জায়গায় ফিরে যেতে অনুরোধ করেন৷ সংসদীয় রীতি ভেঙে বিক্ষোভ দেখানোয় শাস্তি দেয়ার হুঁশিয়ারিও দেন তিনি৷ কিন্তু তাতেও শান্ত হননি তৃণমূল সাংসদরা৷

এরপরেই ছয় সাংসদকে সাসপেন্ড করার সিদ্ধান্ত নেন চেয়ারম্যান৷ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়ে টুইট করেছেন তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ ডেরেক ও ব্রায়েন।

সব বিরোধী একজোট হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়ে টুইটে তিনি লিখেন, ‘সরকার বিরোধীদের মধ্যে ভাঙন ধরানোর চেষ্টা করছে, কিন্তু তাতে তারা ব্যর্থ।’

সাংসদদের সাসপেন্ড করার পর টুইটে বিজেপিকে কটাক্ষ করে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্তব্য, ‘হার মেনেছেন ৫৬ ইঞ্চির গডফাদার।’

টুইটে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক লিখেছেন, ‘আমাদের সাংসদদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ প্রমাণ করে দিচ্ছে যে ৫৬ ইঞ্চির গডফাদার হার মেনেছেন। আপনি আমাদের সাসপেন্ড করতে পারেন কিন্তু চুপ করাতে পারেন না। আমরা মানুষের জন্য লড়াই করে যাব, সত্যের জন্য লড়াই করে যাব। শেষ রক্তবিন্দু দিয়েও লড়াই করব।’

তৃণমূল সাংসদদের বিরুদ্ধে সম্প্রতি সংসদকে অসম্মান করার অভিযোগ তুলেছেন খোদ প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীরা। বুধবার তৃণমূল সাংসদের টুইট প্রসঙ্গে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী মুক্তার আব্বাস নকভি বলেন, ‘যদি পাপড়ি চাটে অ্যালার্জি থাকে, তাহলে মাছের ঝোল খান। কিন্তু সংসদকে মাছের বাজারে পরিণত করবেন না। যেভাবে ষড়যন্ত্র করে সংসদকে অমর্যাদা করা হয়েছে, তা আগে কখনও দেখা যায়নি।’

সোমবারই টুইটে ডেরেক লিখেছিলেন, ‘প্রতি সাত মিনিটে একটি করে বিল পাশ করা হয়েছে। এটা কি বিল পাশ নাকি পাপড়ি চাট বানানো?’

টুইটে ডেরেক হিসেব দিয়ে দেখিয়েছিলেন অধিবেশনের প্রথম ১০ দিনের মধ্যে ১২টি বিল পাশ করানো হয়েছে। গড়ে সাত মিনিটে এক একটি বিল পাশ করানো হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

এছাড়া মঙ্গলবারই বিজেপির একটি বৈঠকে তৃণমূল সাংসদের প্রসঙ্গ তুলে ক্ষোভ উগরে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, তারা সংসদকে অপমান করছেন, মানুষকে অপমান করছেন।

আরও পড়ুন:
ঘূর্ণিঝড় ইয়াস: ঝুঁকি নেবেন না মমতা

শেয়ার করুন

ধারণার চেয়েও পুরোনো মাচু পিচু

ধারণার চেয়েও পুরোনো মাচু পিচু

১৫ শতকে নির্মিত ইনকা সভ্যতার নিদর্শন পেরুর মাচু পিচু বিশ্বের অন্যতম সপ্তাশ্চর্য। ছবি: এএফপি

পূর্বধারণা অনুযায়ী, মাচু পিচুর নির্মাণকাল ১৪৪০ থেকে ১৪৫০ সালের আশপাশে। কিন্তু সেখানে পাওয়া মানুষের ২৬টি দেহাবশেষ বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানীরা বলছেন, ১৪২০ থেকে ১৫৩০ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত টানা ১১০ বছর ব্যবহার হয়েছে মাচু পিচু।

বিশ্বের সপ্তাশ্চর্যের অন্যতম পেরুর মাচু পিচু। প্রাচীন ইনকা সভ্যতার স্থাপনাটির নির্মাণকাল ১৪৩৮ খ্রিস্টাব্দের পরে বলে ধারণা প্রতিষ্ঠিত ছিল এতদিন। কিন্তু নতুন গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এর চেয়েও কমপক্ষে ২০ বছর আগে তৈরি হয়েছে প্রত্নতত্ত্বের অনন্য এ নিদর্শন।

জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতিবিষয়ক সংস্থা ইউনেস্কোঘোষিত বিশ্ব ঐতিহ্যের একটি মাচু পিচু। ইনকা সাম্রাজ্যের সময়ে এটি প্রাসাদ হিসেবে ব্যবহৃত হতো বলে ধারণা করা হয়।

দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়, ৭৫ বছরের বেশি সময় ধরে মাচু পিচু নিয়ে কাজ করেছেন অনেক ইতিহাসবিদ, প্রত্নতত্ত্ববিদ ও বিজ্ঞানীরা। যে অঞ্চলে এটির অবস্থান, ১৬ শতকে সেখানে স্প্যানিশ সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা হয়। এর ভিত্তিতে মাচু পিচু ১৫ শতকে তৈরি বলে ধারণা করে আসছিলেন তারা।

কিন্তু রেডিওকার্বন ডেটিং পদ্ধতিতে মাচু পিচুর ধ্বংসাবশেষ থেকে সংগৃহীত নমুনা বিশ্লেষণের মাধ্যমে আরও আগে এটি তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন গবেষকরা।

পূর্বধারণা অনুযায়ী, মাচু পিচুর নির্মাণকাল ১৪৪০ থেকে ১৪৫০ সালের আশপাশে। কিন্তু সেখানে পাওয়া মানুষের ২৬টি দেহাবশেষ বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানীরা বলছেন, ১৪২০ থেকে ১৫৩০ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত টানা ১১০ বছর ব্যবহার হয়েছে মাচু পিচু। দেহাবশেষ বিশ্লেষণে ‘অ্যাক্সিলারেটর ম্যাস স্পেকট্রোমেট্রি’ ডেটিং পদ্ধতি ব্যবহার করেছেন তারা।

মাচু পিচু নিয়ে সম্পূর্ণ বিজ্ঞাননির্ভর এ গবেষণার ফলে আধুনিক পশ্চিমা ইতিহাসবিদদের দেয়া ঔপনিবেশিক তথ্যের নির্ভরযোগ্যতা এখন প্রশ্নের মুখে।

গবেষণা প্রতিবেদনের প্রধান লেখক ইয়েল ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক রিচার্ড বার্গার বলেন, ‘সাম্প্রতিক গবেষণার ফল থেকে এটাই প্রমাণ হয় যে, ইনকা সাম্রাজ্য গড়ে ওঠা নিয়ে যা কিছু আমরা জানি, তা ঔপনিবেশিক শাসনামলে নথিভুক্ত তথ্যনির্ভর, প্রাথমিক এবং এসব রেকর্ড সংশোধন করতে হবে।

‘ঐতিহাসিক তথ্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক আধুনিক রেডিওকার্বন পদ্ধতিতে প্রাপ্ত তথ্য। কিন্তু ইনকা সময়কাল বোঝার এটা আরও ভালো উপায়।’

বিশ্বে এখন পর্যন্ত যত প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন কেন্দ্র আবিষ্কার ও জনপ্রিয় হয়েছে, সেগুলোর অন্যতম মাচু পিচু।

এটির অতীত ইতিহাস ও পরিত্যক্ত হওয়ার আগ পর্যন্ত অঞ্চলটিতে বসবাস করা মানুষ আজও রহস্য, যা উদঘাটনের চেষ্টা করে যাচ্ছেন পশ্চিমা ইতিহাসবিদরা।

আরও পড়ুন:
ঘূর্ণিঝড় ইয়াস: ঝুঁকি নেবেন না মমতা

শেয়ার করুন

ঘরের সিংহ হারালেন আফ্রিদি

ঘরের সিংহ হারালেন আফ্রিদি

শহীদ আফ্রিদির বাড়ির সিংহ সরিয়ে ফেলেছে ডিএইচএ কর্তৃপক্ষ। ছবি: সংগৃহীত

আফ্রিদির বাসায় ২০১৮ সাল থেকে একটি সিংহ খাচায় রাখা ছিল। সিংহের পাশাপাশি হরিণসহ আরও কিছু প্রাণী ছিল। সেগুলো ডিএইচএ কর্তৃপক্ষ সরিয়ে ফেলেছে।

পাকিস্তান ক্রিকেট দলের সাবেক ক্যাপ্টেন শহীদ আফ্রিদির বাসা থেকে সিংহসহ বেশ কয়েকটি বন্যপ্রাণী সরিয়ে নিয়েছে ডিফেন্স হাউজিং অথোরিটি (ডিএইচএ)।

করাচিতে ডিএইচএস থেকে এক বাসিন্দা শহীদ আফ্রিদির বাড়িতে বন্যপ্রাণী রাখা আছে বলে কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ করেন।

জিও নিউজের খবরে বলা হয়, অভিযোগ পেয়ে বুধবার ডিএইচএ কর্তৃপক্ষ আফ্রিদির বাসায় অভিযান চালায়। এরপর তার বাড়িতে থাকা বন্যপ্রাণীগুলো নিয়ে যায়।

ডিএইচএ কর্তৃপক্ষ বলছে, তারা এর আগেও বাড়ি থেকে বন্যপ্রাণী সরিয়ে ফেলার জন্য আফ্রিদিকে বলেছিল। বলার পরও আফ্রিদি প্রাণীগুলো সরিয়ে নেননি।

ঘরের সিংহ হারালেন আফ্রিদি
আফ্রিদির বাড়িতে ছিল হরিণও

আফ্রিদির বাসায় ২০১৮ সাল থেকে একটি সিংহ খাচায় রাখা ছিল। সিংহের পাশাপাশি হরিণসহ আরও কিছু প্রাণী ছিল।

বাসায় বন্যপ্রাণী রাখার অভিযোগের পর দেশটির বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ বিভাগ একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।

তদন্ত করে পরে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানিয়েছে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ বিভাগ।

দেশটির আইনে বন্যপ্রাণী বাড়িতে বন্দি রাখা অপরাধ।

আরও পড়ুন:
ঘূর্ণিঝড় ইয়াস: ঝুঁকি নেবেন না মমতা

শেয়ার করুন

অক্সফোর্ডের টিকা উদ্ভাবকের বারবি

অক্সফোর্ডের টিকা উদ্ভাবকের বারবি

করোনাভাইরাস প্রতিরোধী অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার গবেষণালব্ধ টিকার নকশাকারী অধ্যাপক সারাহ গিলবার্ট। ছবি: সংগৃহীত

বারবি পুতুলে নারীত্বের অবাস্তব এক প্রতিচ্ছবি ফুটিয়ে তোলার জন্য ব্যাপক সমালোচিত খেলনা নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ম্যাটেল। কয়েক বছর ধরেই সমালোচনার জবাব দিতে নানা উদ্যোগ নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। এ বছর বারবির আদলে অস্ট্রেলিয়ার এক চিকিৎসক আর ব্রাজিলের এক বায়োমেডিক্যাল গবেষকের পুতুলও তৈরি করেছে ম্যাটেল।

করোনাভাইরাস প্রতিরোধী অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার গবেষণালব্ধ টিকার ডিজাইনার সারাহ ক্যাথরিন গিলবার্টের আদলে তৈরি করা হয়েছে একটি বারবি পুতুল।

অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটির ৫৯ বছর বয়সী অধ্যাপকের আদলে পুতুলটি তৈরি করেছে বারবি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ম্যাটেল।

বিশ্বজুড়ে শিশুদের বিনোদনের জন্য ম্যাটেলের তৈরি বারবি পুতুলে রাজকুমারী বা আধুনিক কেতাদুরস্ত, তথাকথিত দেখতে সুন্দর মুখ আর আকৃতির প্রাধান্য নিয়ে রয়েছে বেশ বিতর্ক।

বিবিসির প্রতিবেদনে জানানো হয়, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল আর গণিতে কর্মরত পাঁচ নারীকে সম্মাননা জানানোর সিদ্ধান্ত নেয় ম্যাটেল। তাদেরই একজন ড. গিলবার্ট।

নিজের আদলে বারবি পুতুল দেখে চমকে যাওয়ার কথা জানিয়ে গিলবার্ট বলেন, ‘শুরুতে বিষয়টি অদ্ভূত মনে হয়েছিল। কিন্তু পরে ভাবলাম আমার মতো পুতুল দেখে হয়তো পেশা নিয়ে সচেতন নয়, এমন শিশুরাও সচেতন হবে। টিকা গবেষক বা এমন অন্য পেশায় তারা আগ্রহী হবে।’

ভ্যাকসিনোলজিস্ট বা টিকা গবেষক সারাহ গিলবার্ট ব্রিটিশ রানির জন্মদিন উপলক্ষে দেয়া খেতাব ‘ডেমহুড’ পেয়েছেন।

চীনে করোনার অস্তিত্ব শনাক্তের পর ২০২০ সালের শুরুতেই ভাইরাসটির টিকা উদ্ভাবনের গবেষণায় যোগ দেন ড. গিলবার্ট। করোনাভাইরাস প্রতিরোধে সারা বিশ্বে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত তার উদ্ভাবিত অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা। ১৭০টির বেশি দেশে কোটি মানুষ নিয়েছেন টিকাটি।

তিনি বলেন, ‘নতুন প্রজন্মের মেয়েদের বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল আর গণিতভিত্তিক পেশায় আগ্রহী দেখতে চাই। বর্তমান বিশ্বে বিজ্ঞাননির্ভর পেশা কতটা গুরুত্বপূর্ণ, তা যদি আমার পুতুল নিয়ে খেলা করা শিশুরা উপলব্ধি করতে পারে, সেটাই যথেষ্ট।’

বারবি পুতুলে নারীত্বের অবাস্তব এক প্রতিচ্ছবি ফুটিয়ে তোলার জন্য ব্যাপক সমালোচিত খেলনা নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ম্যাটেল। গত কয়েক বছর ধরেই সমালোচনার জবাব দিতে নানা উদ্যোগ নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

এ বছর বারবির আদলে অস্ট্রেলিয়ার এক চিকিৎসক আর ব্রাজিলের এক বায়োমেডিক্যাল গবেষকের পুতুলও তৈরি করেছে ম্যাটেল।

এ ছাড়া সম্প্রতি ম্যাটেলের তৈরি করা পুতুলে ফায়ার সার্ভিসের কর্মী, চিকিৎসক, নভোচারীসহ নানা পেশায় কর্মরত নারীদের তুলে ধরা হচ্ছে। ১৯৫৯ সালে প্রথম বাজারে আসার পর থেকে দীর্ঘদিন পর্যন্ত কেবল সোনালি চুলের শ্বেতাঙ্গ পুতুল তৈরি করলেও ইদানীং ভিন্ন রং-বর্ণের মানুষের পুতুলও তৈরি হচ্ছে।

মহামারিকালে ঘরবন্দি জীবনের কারণে শিশুদের খেলনায় ঝোঁক বাড়ায় গত বছর ছয় বছরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বিক্রি দেখেছে বারবি।

আরও পড়ুন:
ঘূর্ণিঝড় ইয়াস: ঝুঁকি নেবেন না মমতা

শেয়ার করুন

আবার হাসপাতালে বুদ্ধদেব, নেয়া হয়েছে আইসিইউতে

আবার হাসপাতালে বুদ্ধদেব, নেয়া হয়েছে আইসিইউতে

সাহিত্যিক বুদ্ধদেব গুহ। ছবি: আনন্দবাজার

সাহিত্যিক বুদ্ধদেব গুহ গত এপ্রিলে করোনায় আক্রান্ত হয়েছিলেন। এর পর থেকে তিনি বিভিন্ন সমস্যায় ভুগছিলেন।

শ্বাসকষ্ট ও বার্ধক্যজনিত একাধিক সমস্যা নিয়ে ফের হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন সাহিত্যিক বুদ্ধদেব গুহ। তাকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) নেয়া হয়েছে।

কয়েক দিন আগে করোনাভাইরাস থেকে সেরে উঠে বাড়ি ফিরেছিলেন বুদ্ধদেব। ফের শারীরিক সমস্যা দেখা দেয়ায় রোববার তাকে কলকাতার বেলভিউ নার্সিং হোমে ভর্তি করা হয়। সেখানেই তার চিকিৎসা চলছিল। মঙ্গলবার রক্তচাপ কমে গেলে তাকে আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়।

গত এপ্রিলে বুদ্ধদেব গুহ করোনায় আক্রান্ত হয়েছিলেন। এর পর থেকে তিনি বিভিন্ন সমস্যায় ভুগছিলেন।

হাসপাতাল সূত্রের খবর, শ্বাসকষ্টের পাশাপাশি বুদ্ধদেবের মূত্রনালিতে সংক্রমণ ধরা পড়েছে। কিডনি, লিভারের সমস্যাও রয়েছে তার।

সাহিত্যিক বুদ্ধদেব গুহের আবার করোনা পরীক্ষা করা হলে প্রতিবেদন নেগেটিভ এসেছে। তার শরীরে অ্যামোনিয়ার মাত্রা বেশি বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। দরকার হলে প্রতি মিনিটে তাকে দুই লিটার করে অক্সিজেন দিতে হবে।

করোনামুক্ত হয়ে ৩৩ দিন পর হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরেছিলেন বুদ্ধদেব। সে সময় তিনি বলেছিলেন, ‘আমি এখনই ফুরোব না।’

জঙ্গলমহল, মাধুকরী, ঋজুদার সঙ্গে জঙ্গলের স্রষ্টা সাহিত্যিক বুদ্ধদেব গুহের অসুস্থতার খবরে উদ্বিগ্ন তার ভক্তরা।

আরও পড়ুন:
ঘূর্ণিঝড় ইয়াস: ঝুঁকি নেবেন না মমতা

শেয়ার করুন

নিউইয়র্কে বাড়ির বাইরে গেলে থাকতে হবে টিকা সনদ

নিউইয়র্কে বাড়ির বাইরে গেলে থাকতে হবে টিকা সনদ

যুক্তরাষ্ট্রে করোনা প্রতিরোধী টিকা নেয়ার প্রমাণ হিসেবে বেশিরভাগ মানুষই সিডিসি কর্তৃক সরবরাহকৃত এই ভ্যাকসিন কার্ড পেয়েছেন। ছবি: ইউএসএ টুডে

ধারণা করা হচ্ছে, মাস্ক পরা ও গত বছর ঘরে থাকার নির্দেশনার মতোই সবাইকে করোনার টিকার আওতায় আনার এ প্রচেষ্টা নিয়েও বিরোধিতার মুখে পড়বে যুক্তরাষ্ট্রের সরকার। এরই মধ্যে আমেরিকান জনগণ, বিশেষ করে রক্ষণশীলদের মধ্যে সরকারের ‘ভ্যাকসিন পাসপোর্ট’ কর্মসূচি নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম শহর হিসেবে ‘ভ্যাকসিন পাস’ বা টিকা সনদ চালু করল নিউইয়র্ক। অর্থাৎ বাড়ি থেকে বের হতে হলে নগরবাসীদের সঙ্গে থাকতে হবে করোনাভাইরাস প্রতিরোধী টিকা নেয়ার প্রমাণপত্র।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়, বিশেষ করে যে কোনো রেস্তোরাঁ, জিম ও অন্যান্য ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে প্রবেশ করার আগে দেখাতে হবে টিকা সনদ।

নিউইয়র্কের মেয়র বিল ডি ব্লাসিও জানান, আগামী ১৩ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হবে নতুন নিয়ম। কমপক্ষে এক ডোজ টিকা নেয়ার প্রমাণ দেখাতে হবে নগরবাসীকে।

যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে রূপ পরিবর্তিত করোনাভাইরাসের ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের বিস্তার বাড়তে থাকার মধ্যেই এলো এ ঘোষণা।

গত বছরের মতো এ বছরও সবকিছু বন্ধ রেখে জনগণকে ঘরবন্দি না রাখতে বিকল্প খুঁজছে প্রশাসন। সংক্রমণ বৃদ্ধির বাস্তবতা মাথায় রেখেই চলছে অর্থনীতি সচলের চেষ্টা। তাই টিকা সহজলভ্য হতে থাকায় সবাইকে ডোজ নিয়ে ও মাস্ক পরে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার আহ্বান জানানো হচ্ছে।

এদিকে, ডেল্টার বিস্তারের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র (সিডিসি) নতুন একটি নির্দেশনা জারি করেছে। এতে উচ্চ সংক্রমিত এলাকাগুলো থেকে বাসিন্দাদের বের হওয়া বন্ধে ৬০ দিনের স্থগিতাদেশ রয়েছে।

যদিও এ ধরনের স্থগিতাদেশ কার্যকরে কংগ্রসকে নতুন আইন পাস করতে হবে বলে চলতি বছরের জুনে এক সিদ্ধান্তে জানায় যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট।

যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় সরকার এবং বেশ কয়েকটি অঙ্গরাজ্য হাসপাতাল ও বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মীদের জন্য টিকাগ্রহণ বাধ্যতামূলক করেছে। গুগল, ফেসবুক, টাইসন ফুডসসহ বেশ কয়েকটি বেসরকারি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানও কর্মীদের জন্য একই নীতিমালা নিয়েছে।

ধারণা করা হচ্ছে, মাস্ক পরা ও গত বছর ঘরে থাকার নির্দেশনার মতোই সবাইকে করোনার টিকার আওতায় আনার এ প্রচেষ্টা নিয়েও বিরোধিতার মুখে পড়বে যুক্তরাষ্ট্রের সরকার।

এরই মধ্যে আমেরিকান জনগণ, বিশেষ করে রক্ষণশীলদের মধ্যে সরকারের ‘ভ্যাকসিন পাসপোর্ট’ কর্মসূচি নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ নিয়ন্ত্রক সংস্থা (এফডিএ) সেপ্টেম্বরের শুরুতেই ফাইজার-বায়োএনটেকের টিকায় পূর্ণ অনুমোদন দিতে পারে বলে সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে নিউইয়র্ক টাইমস। করোনা প্রতিরোধী সব টিকাই এখন পর্যন্ত দেয়া হচ্ছে জরুরি অনুমোদন সাপেক্ষে।

আরও পড়ুন:
ঘূর্ণিঝড় ইয়াস: ঝুঁকি নেবেন না মমতা

শেয়ার করুন

দলিত শিশুকে ‘ধর্ষণ-হত্যায়’ উত্তাল দিল্লি

দলিত শিশুকে ‘ধর্ষণ-হত্যায়’ উত্তাল দিল্লি

কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী বুধবার দলিত শিশুর বাড়িতে গিয়ে কথা বলেন পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে। ছবি: সংগৃহীত

শিশুর মা সুনীতা দেবী অভিযোগ করেন, তাদের সম্মতি ছাড়াই পুরাতন নাঙ্গল শ্মশানে শিশুকে দাহ করা হয়। ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনা আড়াল করতেই এ কাজ করেছেন অপরাধীরা।

নয় বছরের এক দলিত শিশুকে ‘ধর্ষণ ও খুনের’ ঘটনায় উত্তাল ভারতের রাজধানী শহর দিল্লি।

এ ঘটনায় জনতার বিক্ষোভ ও প্রতিবাদে শামিল হয়েছেন রাজনৈতিক নেতারা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও চলছে প্রতিক্রিয়া।

দিল্লি ক‌্যান্টনমেন্টের পুরাতন নাঙ্গল এলাকার ৯ বছর বয়সী এক দলিত শিশুকে ধর্ষণ করে পুড়িয়ে মারার অভিযোগ উঠেছে। রোববার সন্ধ্যার এ ঘটনায় তিন দিন ধরে চলছে প্রতিবাদ। ক্ষোভের দাবানল ছড়িয়ে পড়ছে দিল্লির অলিগলিতে। সরকার ও প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে উঠেছে বিস্তর প্রশ্ন।

কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী বুধবার সকালে ছুটে গেছেন ওই শিশুর বাড়িতে। ন্যায়বিচার না পাওয়া পর্যন্ত তিনি দলিত পরিবারটির পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন।

শিশুর অভিভাবকদের সঙ্গে কথার বলার পর গণমাধ্যমের মুখোমুখি হন কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধী।

তিনি বলেন, ‘আমি নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে কথা বলেছি। তারা ন্যায়বিচার চান; সেটা পাচ্ছেন না। ন্যায়বিচার পাইয়ে দিতে আমরা তাদের সাহায্য করব।’

বিচার না পাওয়া পর্যন্ত পরিবারটির পাশে থাকার আশ্বাস দেন রাহুল।

মর্মান্তিক এই ঘটনায় মঙ্গলবারও নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান কংগ্রেসের এ নেতা। তিনি টুইট করে শিশুটিকে ‘দেশের মেয়ে’ বলে অভিহিত করে প্রশাসনের ভূমিকার সমালোচনা করেন।

যে ঘটনায় বিক্ষোভ

দিল্লি ক‌্যান্টনমেন্টের পুরাতন নাঙ্গল এলাকায় বসবাস এক দলিত পরিবারের। রোববার বিকেল পাঁচটা নাগাদ এ পরিবারের ৯ বছর বয়সী শিশু মায়ের অনুমতি নিয়েই ঠান্ডা পানি নিতে পাশের শ্মশান চত্বরে যায়। সেখানকার কুলার মেশিন থেকে পানি নিয়ে শিশুটি আর বাড়ি ফেরেনি।

সন্ধ্যা ছয়টার দিকে শ্মশানের পুরোহিত রাধে শ্যাম কয়েকজনকে নিয়ে পৌঁছান শিশুর বাড়িতে। তিনি শিশুর বাবা-মাকে জানান, কুলারে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা গেছে শিশুটি। তার বাম হাতের কবজি ও কনুইয়ের অংশ পুড়ে গেছে। নীল হয়ে গেছে ঠোঁটসহ শরীরের একাংশ।

শিশুর মা পুলিশকে ফোন করতে চাইলে বাধা দেয়া হয়। পুরোহিত তখন জানান, পুলিশ জানলে মামলা হবে। ময়নাতদন্তের সময় অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ চুরি হয়ে যাওয়ার শঙ্কার কথাও বলা হয়।

শিশুর মা সুনীতা দেবী অভিযোগ করেন, তাদের সম্মতি ছাড়াই পুরাতন নাঙ্গল শ্মশানে শিশুকে দাহ করা হয়। ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনা আড়াল করতেই এ কাজ করেছেন অপরাধীরা।

ঘটনা জানাজানি হতেই এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। খবর দেয়া হয় পুলিশে। শ্মশান ঘেরাও করেন স্থানীয় লোকজন।

এ ঘটনায় অভিযুক্ত পুরোহিত রাধে শ্যাম ছাড়াও কুলদীপ কুমার, লক্ষ্মী নারাইন ও মহম্মদ সেলিম নামে তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।

আলোচিত এ ঘটনায় দিল্লি পুলিশের পাশাপাশি নারী কমিশনের পক্ষ থেকে একটি তদন্ত শুরু হয়েছে।

ভারতের রাজধানী দিল্লিতে ২০১২ সালে চলন্ত বাসে নির্ভয়া নামের তরুণীকে ধর্ষণের পর হত্যাচেষ্টা করা হয়। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় নির্ভয়ার মৃত্যু হয়।

সে সময়ে নির্ভয়াকাণ্ডের প্রতিবাদে মাঠে নামে হাজার হাজার মানুষ। রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন শামিল হয় জোরালো এ প্রতিবাদে। বিচার শেষে নির্ভয়া হত্যা মামলার চার আসামির এরই মধ্যে ফাঁসি কার্যকর হয়েছে।

নির্ভয়া হত্যার মতোই দলিত শিশু হত্যার এ ঘটনায় আবার উত্তাল হয়ে উঠেছে রাজধানী।

সরকারবিরোধীরা মাঠে

শুধু কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধী নন, দিল্লির এ ঘটনায় টুইটারে সরব তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও।

তিনি বলেন, ‘একটি নয় বছরের মেয়েকে ধর্ষণের পর জোর করে দাহ করা হয়েছে। এ দেশের তফসিলি মেয়েদের প্রতিদিন যে ধরনের অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যেতে হয়, তাতে বোঝা যায় আমাদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সত্যিই কতটা অসংবেদনশীল।’

অন্যদিকে দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল জানিয়েছেন, তিনি শিশুটির পরিবারের সঙ্গে দেখা করে আইনি লড়াইয়ে সাহায্য করবেন।

এরই মধ্যে দলিত নেতা তথা ভিম সেনার প্রধান শেখর আজাদ মেয়েটির পরিবারের সঙ্গে দেখা করেছেন। নাঙ্গাল গ্রামের আন্দোলনে তিনি যোগ দেবেন বলে জানিয়েছেন।

ক্ষোভ প্রকাশ করে আজাদ বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী থেকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, সকলেই এখানে থাকেন। তবুও নারী সুরক্ষা নেই কেন? এখন পর্যন্ত মুখ্যমন্ত্রী দেখা করতে আসেননি কেন?’

আরও পড়ুন:
ঘূর্ণিঝড় ইয়াস: ঝুঁকি নেবেন না মমতা

শেয়ার করুন