ভারতের সাইক্লোনম্যান ওড়িশার মৃত্যুঞ্জয়

ভারতের সাইক্লোন ম্যান নামে পরিচিত ওড়িশার মৃত্যুঞ্জয় মহাপাত্র। ছবি: সংগৃহীত

ভারতের সাইক্লোনম্যান ওড়িশার মৃত্যুঞ্জয়

সেই ছোট্টবেলা থেকেই মনে মনে তিনি মানুষের জীবন বাঁচানোর পণ করেন। ফাইলিন ঘূর্ণিঝড়ের গতিবেগ, গতিপথ নির্ভুল বলে দিয়ে প্রথম খবরে আসেন মৃত্যুঞ্জয়। এরপর ক্রমশ তিনি পরিচিতি পেতে শুরু করেন ভারতের সাইক্লোনম্যান হিসেবে।

কেবল ফাইলিন নয়; তিতলি, ফণী, আইলা, আম্পানের মতো ঘূর্ণিঝড়ের নির্ভুল গতিপথ, গতিবেগ বলে দিয়েছেন তিনি। তার দেয়া আগাম বার্তার জন্য সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেয়ার সুযোগ পেয়েছে ঘূর্ণিঝড়কবলিত রাজ্য কর্তৃপক্ষগুলো। সময়মতো পৌঁছে গেছে ত্রাণসামগ্রী ও ওষুধ, বেঁচেছে বহু প্রাণ ও স্থাপনা। তিনি ওড়িশার মৃত্যুঞ্জয় মহাপাত্র, যিনি ভারতের সাইক্লোনম্যান নামে বেশি পরিচিত।

১৯৭১ সালে ঝড়ের কবলে পড়ে ওড়িশা। তখন মৃত্যুঞ্জয়ের বয়স মাত্র ছয় বছর। একটা শিশু ঘূর্ণিঝড়ের যে ভয়াবহ তাণ্ডব দেখেছে, নিজের চোখের সামনে তার গ্রাম ধ্বংস, স্বজনদের মৃত্যু, সেই সব দৃশ্য কোনো দিন ভুলতে পারেনি ছোট্ট মৃত্যুঞ্জয়।

সেই ছোট্টবেলা থেকেই মনে মনে তিনি মানুষের জীবন বাঁচানোর পণ করেন। ফাইলিন ঘূর্ণিঝড়ের গতিবেগ, গতিপথ নির্ভুল বলে দিয়ে প্রথম খবরে আসেন মৃত্যুঞ্জয়। এরপর ক্রমশ তিনি পরিচিতি পেতে শুরু করেন ভারতের সাইক্লোনম্যান হিসেবে।

মৃত্যুঞ্জয়ের কর্মজীবন শুরু হয় পুনের আবহাওয়া অফিসে। এরপর ওড়িশার বালাসরে ডিআরডিওতে কিছুকাল কাজ করেন তিনি। ২০০৮ সালে ভারতীয় আবহাওয়া বিজ্ঞানের আঞ্চলিক শাখার প্রধান হিসেবে নিযুক্ত হন মৃত্যুঞ্জয়। ২০১৯ সাল থেকে ভারতীয় আবহাওয়া বিজ্ঞান দপ্তরের প্রধান হিসেবে পাঁচ বছর মেয়াদে কাজ করছেন তিনি।

১৯৯২ সালে পদার্থবিজ্ঞান বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নিয়ে মৃত্যুঞ্জয় যখন পুনের আবহাওয়া দপ্তরে কাজ শুরু করেন, তখন সেখানে ভালো যন্ত্রপাতি ছিল না। তার হাত ধরেই হাওয়া অফিসে প্রথম আধুনিকতার ছোঁয়া লাগে।

তিনি ওয়ার্ল্ড মেটিওরলজিক্যাল অর্গানাইজেশন বা ডব্লিউএমওর স্থায়ী সদস্য ছিলেন। ২০১৩ সাল পর্যন্ত তিনি এই সংস্থার এক্সিকিউটিভ কাউন্সিলের সদস্য ছিলেন।

প্রবল গতিবেগ, বিপুল শক্তি নিয়ে ধেয়ে আসা ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের নির্ভুল পূর্বাভাস দিয়ে সাইক্লোনম্যান হিসেবে পরিচিত মৃত্যুঞ্জয় মহাপাত্র আবারও খবরের শিরোনাম হয়ে ওঠেন।

আরও পড়ুন:
ইয়াসের আগে টর্নেডোতে পশ্চিমবঙ্গে দুইজনের মৃত্যু
ছুটির দিনেও খোলা থাকবে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়
ইয়াস মোকাবিলায় প্রয়োজনে সেনা: মমতা
উপকূলের বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে নেয়ার আহ্বান ফখরুলের
ঘূর্ণিঝড় ইয়াস: ধান কেটে ঘরে তুলছেন কৃষকেরা

শেয়ার করুন

মন্তব্য

শান্তি সূচকে সাত ধাপ এগিয়ে ৯১তম বাংলাদেশ

শান্তি সূচকে সাত ধাপ এগিয়ে ৯১তম বাংলাদেশ

বৈশ্বিক শান্তি সূচকে ১৬৩টি দেশের মধ্যে ৯১তম অবস্থানে বাংলাদেশ।

বৈশ্বিক শান্তি সূচকে ২.০৬৮ স্কোর করে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। দেশটির উপরে আছে ভুটান ও নেপাল।

বৈশ্বিক শান্তি সূচক-২০২১ এ গত বছরের চেয়ে সাত ধাপ এগিয়ে ১৬৩টি দেশের মধ্যে ৯১তম স্থান অর্জন করেছে বাংলাদেশ।

অস্ট্রেলিয়াভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইনস্টিটিউট অফ ইকোনমিক্স অ্যান্ড পিস প্রতি বছর বৈশ্বিক শান্তি সূচক তৈরি করে।

নিরাপত্তা ও সুরক্ষা, সামরিকীকরণ এবং অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক সংঘাতের মাত্রার ওপর ভিত্তি করে সবচেয়ে বেশি শান্তিপূর্ণ থেকে সবচেয়ে কম শান্তিপূর্ণ দেশের তালিকা করা হয়।

চলতি বছরের সূচক বৃহস্পতিবার প্রকাশ করেছে ইনস্টিটিউট অফ ইকোনমিক্স অ্যান্ড পিস

বৈশ্বিক শান্তি সূচকে ২.০৬৮ স্কোর করে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। দেশটির উপরে আছে ভুটান ও নেপাল।

শান্তি সূচকে ২.০৩৩ স্কোর করে ৮৫তম অবস্থান নিয়ে দক্ষিণ এশিয়ায় দ্বিতীয় অবস্থানে নেপাল। প্রথম স্থানে আছে ১.৫১ স্কোর করা ভুটান। তালিকায় দেশটির অবস্থান ২২।

২০২১ সালের সূচকে এশীয় দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে শান্তিপূর্ণ দেশ সিঙ্গাপুর। বিশ্বে দেশটির অবস্থান ১১।

এ বছরের সূচকে দেখা যায়, বৈশ্বিক শান্তির গড় মাত্রা ০.০৭ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। গত ১৩ বছরে এ নিয়ে নয়বার টানা বৈশ্বিক শান্তিতে অবনমন ঘটে।

বিশ্বের ৮৭টি দেশের শান্তি পরিস্থিতি উন্নতি ঘটেছে। অন্যদিকে ৭৩টি দেশের পরিস্থিতি ক্রমাগত অবনতির দিকে।

সূচক অনুযায়ী শান্তিপূর্ণ দেশের তালিকার সবার উপরে আছে আইসল্যান্ড। ২০০৮ সাল থেকেই দেশটি টানা ১ম অবস্থানে রয়েছে। আর দক্ষিণ এশিয়ার দেশ আফগানিস্তান শান্তিপূর্ণ দেশের তালিকার সবার নিচে অবস্থান করছে। এ নিয়ে টানা চারবার দেশটি ১৬৩টি তম অবস্থান ধরে রখেছে।

ভারত ২.৫৫৩ স্কোর করে তালিকায় ১৩৫তম অবস্থানে রয়েছে। অন্যদিকে পাকিস্তান ২.৮৬৮ স্কোর করে ১৬৩টি দেশের মধ্যে পাকিস্তানের অবস্থান ১৫০তম। আর ২.০৮৩ স্কোর করে ৯৫ স্থানে রয়েছে শ্রীলঙ্কা।

আরও পড়ুন:
ইয়াসের আগে টর্নেডোতে পশ্চিমবঙ্গে দুইজনের মৃত্যু
ছুটির দিনেও খোলা থাকবে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়
ইয়াস মোকাবিলায় প্রয়োজনে সেনা: মমতা
উপকূলের বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে নেয়ার আহ্বান ফখরুলের
ঘূর্ণিঝড় ইয়াস: ধান কেটে ঘরে তুলছেন কৃষকেরা

শেয়ার করুন

ভারতে চাকরি হারাবেন ৩০ লাখ আইটি কর্মী

ভারতে চাকরি হারাবেন ৩০ লাখ আইটি কর্মী

এক রিপোর্টে বলা হয়েছে, অটোমেশনের কারণে কম দক্ষতা লাগে এমন পরিষেবায় নিযুক্ত ৩০ লাখ কর্মী ছাঁটাই হতে চলেছে। শুধু রোবট প্রসেস অটোমেশনের জন্যই চাকরি হারাতে পারেন ৭ লাখ জন। বাকিরা তথ্যপ্রযুক্তির সংস্থার অন্যান্য আধুনিক প্রযুক্তি কারণে চাকরি হারাতে পারেন।

অর্থনীতি এবং কর্মসংস্থান, ভারতে কোনো ক্ষেত্রেই আশাব্যঞ্জক কিছু শোনাতে পারছেন না বিশেষজ্ঞরা। ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাংকের জুন মাসের বুলেটিনে জানানো হয়েছে, ২০২১-২২ অর্থবছরে করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের কারণে ২ লাখ কোটি টাকা ক্ষতি হবে দেশের অর্থনীতির।

তথ্যপ্রযুক্তি এবং আউটসোর্সিং ক্ষেত্রের বাণিজ্যিক সংগঠন ‘ন্যাসকম’ বলছে, ২০২২ সালের মধ্যে তথ্য ও প্রযুক্তি সংস্থাগুলোতে কাজ হারাতে পারেন ৩০ লাখ কর্মী।

তবে করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের কারণে অর্থনীতির ক্ষতি হলেও চাকরি হারানোর পেছনে কাজ করছে প্রযুক্তির অত্যাধুনিকীকরণ। তবে শুধু ভারতেই নয়, ব্যাংক অফ আমেরিকার রিপোর্ট অনুযায়ী, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে কাজ হারাবেন তথ্য ও প্রযুক্তি ক্ষেত্রের ১০ লাখ কর্মী।

ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাংকের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, মানুষের সচেতনতা বৃদ্ধি পেলেও করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের সঙ্গে রীতিমতো লড়াই করতে হচ্ছে ভারতের অর্থনীতিকে। দ্বিতীয় ঢেউ মূলত প্রভাব ফেলেছে গার্হস্থ্য চাহিদার ওপরেই। আর সে কারণে বিপুল ক্ষতির আশঙ্কা করছে রিজার্ভ ব্যাংক।

তবে এর সঙ্গে দেশের মোট জিডিপির সরাসরি কোনো যোগ নেই বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

রিজার্ভ ব্যাংক জানিয়েছে, ব্যাংকে সঞ্চিত মানুষের আমানত ক্রমে কমছে। এই ঘটনা বুঝিয়ে দিচ্ছে, মানুষের হাতে নগদ টাকা কমেছে, যার প্রভাব পড়ছে দৈনন্দিন গার্হস্থ্য চাহিদার ওপরে।

একইভাবে রাষ্ট্রায়ত্ত সেন্ট্রাল ব্যাংক অফ ইন্ডিয়া তাদের মাসিক বুলেটিন প্রকাশ করেছে। সেই বুলেটিনে ভারতের অর্থনীতির সামগ্রিক অবস্থা, আর্থিক কাঠামো এবং দেশের সার্বিক উৎপাদনের রেখাচিত্র তিনটি আলাদা অধ্যায়ে তুলে ধরা হয়েছে। সেখানেও অর্থনীতির ক্ষতির কথা বলা হয়েছে। তাদের মতে, যত দ্রুত বেশিসংখ্যক টিকাকরণ হবে, তত দ্রুত এই সমস্যার থেকে বেরিয়ে আসবে ভারত।

অন্যদিকে ভারতের তথ্যপ্রযুক্তি এবং আউটসোর্সিং খাতের বাণিজ্যিক সংস্থাগুলোর যৌথ মঞ্চ ন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অফ সফটওয়্যার অ্যান্ড সার্ভিস কোম্পানিজ বা ন্যাসকম জানিয়েছে, এখন ভারতে তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থাগুলোয় মোট কর্মিসংখ্যা প্রায় ১ কোটি ৬০ লাখ। মোট কর্মীর মধ্যে ৯০ লাখ বিপিও বা কম দক্ষতা লাগে এমন পরিষেবায় নিযুক্ত। তাদের মধ্যে ৩০ লাখ কর্মীই ২০২২ সালের মধ্যে কাজ হারাতে পারেন।

এ ক্ষেত্রে কারণ করোনা নয়, বরং প্রযুক্তির উন্নয়ন। অত্যাধুনিক রোবট প্রসেস অটোমেশন (‌আরপিএ)‌ ব্যবহার করছে সংস্থাগুলো। এই আরপিএ আসলে রোবট নয়। একটি অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যার, যা ব্যাপক মাত্রায় রুটিন কাজ করতে পারে। টানা ২৪ ঘণ্টাই কাজ করতে পারে। ফলে এতসংখ্যক কর্মী রাখার আর প্রয়োজন পড়বে না আইটি সংস্থাগুলোর।

রিপোর্টে বলা হয়েছে, এই আরপিএ-এর কারণে টাটা কনসালটেন্সি সার্ভিস (টিসিএস), ইনফোসিস, উইপ্রো, এইচসিএল, টেক মাহিন্দ্রা, কগনিজেন্টসহ অন্যান্য সংস্থায় কম দক্ষতা লাগে এমন পরিষেবায় নিযুক্ত ৩০ লাখ কর্মী ছাঁটাই হতে চলেছে।

রোবট প্রসেস অটোমেশনের জন্যই চাকরি হারাতে পারেন ৭ লাখ জন। বাকিরা তথ্যপ্রযুক্তির সংস্থার অন্যান্য আধুনিক প্রযুক্তি কারণে চাকরি হারাতে পারেন। এই কর্মচ্যুতির ফলে সংস্থাগুলো কর্মীদের বেতন বাবদ প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা সাশ্রয় করবে।

আরও পড়ুন:
ইয়াসের আগে টর্নেডোতে পশ্চিমবঙ্গে দুইজনের মৃত্যু
ছুটির দিনেও খোলা থাকবে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়
ইয়াস মোকাবিলায় প্রয়োজনে সেনা: মমতা
উপকূলের বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে নেয়ার আহ্বান ফখরুলের
ঘূর্ণিঝড় ইয়াস: ধান কেটে ঘরে তুলছেন কৃষকেরা

শেয়ার করুন

ছাড়া পেলেন সিএএ বিরোধী আন্দোলনের তিন নেত্রী

ছাড়া পেলেন সিএএ বিরোধী আন্দোলনের তিন নেত্রী

ছবি: এএফপি

গত বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে সিএএ-এর প্রতিবাদে আগুন জ্বলে ওঠে দিল্লিতে। মারা যান ৫০ জন। আহত হয় প্রায় ২০০। সেই হিংসায় প্ররোচনার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয় ওই তিন সমাজকর্মীকে।

দিল্লি হাইকোর্টের নির্দেশে অবশেষে জামিনে ছাড়া পেলেন বিতর্কিত নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের (সিএএ) বিরুদ্ধে আন্দোলনকারী নাতাশা নরওয়াল, দেবাঙ্গনা কলিতা ও আসিফ ইকবাল তানহা।

প্রথমে আধার যাচাইয়ের জন্য নির্দিষ্ট সময়ে তিহার জেল থেকে তাদের ছাড়েনি পুলিশ। এরপর দিল্লি হাইকোর্ট তাদের দ্রুত জেল থেকে ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়ার পরই বৃহস্পতিবার সন্ধ্যে নাগাদ ছাড়া পান ওই তিন জন।

ছাড়া পেয়ে দেবাঙ্গনা বলেন, ‘আমরা বেঁচেছি কারণ, বন্ধু শুভাকাঙ্খীরা আমাদের সমর্থন জুগিয়েছে। তাঁদের আমি ধন্যবাদ জানাই।’

নাতাশা নরওয়াল বিচারাধীন বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে না চাইলেও দিল্লি হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণকে সাধুবাদ জানান।

২০২০'-এর মে মাসে গ্রেপ্তার করা হয় নাতাশা নারওয়াল, দেবাঙ্গনা কালিতা এবং আসিফ ইকবাল তানহাকে। নাতাশা আর দেবাঙ্গনা ‘‌পিঞ্জরা তোড়’‌ নামে ছাত্রীদের একটি সংগঠনের সদস্য। ৫০ হাজার টাকা বন্ডের বিনিময়ে তাঁদের জামিন হয়। পাসপোর্টও জমা রাখতে বলে দিল্লি হাইকোর্ট। জানিয়ে দেয়, বুধবার দুপুর ১টার মধ্যে জেল থেকে ছাড়তে হবে তাদের।

এই রায়ের বিরুদ্ধে ট্রায়াল কোর্টে যায় দিল্লি পুলিশ। জানায়, অভিযুক্তদের ঠিকানা, আধার কার্ড ইত্যাদি খতিয়ে দেখতে সময় লাগবে। তাই তিন দিনের আগে তাদের ছাড়া যাবে না।

তিন জনের আইনজীবী জানান, পুলিশের কাজ করতে দেরি হলে সেই দায় তার মক্কেলদের নয়। নাতাশার জামিনদার হয়ে আদালতে হাজির ছিলেন সিপিএম পলিটব্যুরোর সদস্য বৃন্দা কারাত।

দায়রা আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, দিল্লি হাইকোর্ট জামিন দিয়ে দিয়েছে। এক্ষেত্রে তাদের আর কিছু করার নেই। এর পরেই সুপ্রিম কোর্টে জামিনের নির্দেশ নাকচ করার আবেদন জানায় দিল্লি পুলিশ। শুক্রবার সেই আবেদনের শুনানি হবে সুপ্রিম কোর্টে।

গত ফেব্রুয়ারি মাসে সিএএ-এর প্রতিবাদে আগুন জ্বলে ওঠে দিল্লিতে। মারা যান ৫০ জন। আহত হয় প্রায় ২০০। সেই হিংসায় প্ররোচনার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয় ওই তিন সমাজকর্মীকে।

দিল্লিতে হিংসা ছড়ানো ও শান্তি বিঘ্নিত করার অভিযোগে নাতাশা নরওয়াল, দেবাঙ্গনা কলিতা ও ইকবাল তানহাকে গ্রেপ্তার করেছিল দিল্লি পুলিশ। প্রায় ১ বছরেরও বেশি সময় পর হাইকোর্টের বিচারপতি সিদ্ধার্থ মৃদুল, বিচারপতি অনুপ জয়রাম ভম্বানির বেঞ্চ মঙ্গলবার জামিনের নির্দেশ দিয়েছিল। পর্যবেক্ষণে বেঞ্চ জানিয়েছিল, প্রতিবাদের অধিকার ও সন্ত্রাসমূলক কাজের মধ্যে বিচ্যুতি রেখাটা ঝাপসা হয়ে যাচ্ছে। এই মনোভাব যদি বেশি করে আকর্ষিত হয়, তা হলে তা গণতন্ত্রের জন্য সবচেয়ে খারাপ দিন হবে।

আরও পড়ুন:
ইয়াসের আগে টর্নেডোতে পশ্চিমবঙ্গে দুইজনের মৃত্যু
ছুটির দিনেও খোলা থাকবে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়
ইয়াস মোকাবিলায় প্রয়োজনে সেনা: মমতা
উপকূলের বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে নেয়ার আহ্বান ফখরুলের
ঘূর্ণিঝড় ইয়াস: ধান কেটে ঘরে তুলছেন কৃষকেরা

শেয়ার করুন

ইরানে নির্বাচন কাল, ‘তুমুল’ লড়াইয়ের সম্ভাবনা

ইরানে নির্বাচন কাল, ‘তুমুল’ লড়াইয়ের সম্ভাবনা

ইরানের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ৪ প্রার্থী (বাম থেকে) আব্দলনাসের হেম্মাতি, মোহসেন রেজাই, আমির হোসেন গাজিজাদেহ হাশেমি ও এব্রাহিম রাইসি।

১২ সদস্যের গার্ডিয়ান কাউন্সিলের প্রধান খাদখোদেঈ বলেন, ‘সংবাদমাধ্যম ও জনগণই বলছে, শুক্রবার প্রার্থীদের মধ্যে জোর প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে।’

ইরানে আগামীকালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে চার প্রার্থীর মধ্যে তুমুল লড়াই হবে বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির পার্লামেন্টের অভিভাবক পরিষদের (গার্ডিয়ান কাউন্সিল) প্রধান আব্বাস আলী খাদখোদেঈ।

সংবাদ সম্মেলনে বৃহস্পতিবার তিনি এ মন্তব্য করেন বলে বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

১২ সদস্যের গার্ডিয়ান কাউন্সিলের প্রধান খাদখোদেঈ বলেন, ‘সংবাদমাধ্যম ও জনগণ বলছে, শুক্রবার প্রার্থীদের মধ্যে জোর প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে।’

ইরানের প্রায় ৬ কোটি ভোটারকে কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিতে আহ্বান জানান তিনি।

বিশ্লেষকদের ধারণা, নির্বাচনে দেশটির কট্টর রক্ষণশীল প্রার্থী প্রধান বিচারপতি এব্রাহিম রাইসির জয়ের সম্ভাবনা বেশি।

খাদখোদেঈ বলেন, নির্বাচনে অংশ নেয়া প্রার্থীরা টেলিভিশনে তিনটি বিতর্কে গুরুতর বাগযুদ্ধে জড়িয়েছেন। এতেই বোঝা যায়, নির্বাচনে তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে।

শুক্রবারের নির্বাচনে জয়ী ব্যক্তি ইরানের মধ্যপন্থি প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানিকে স্থলাভিষিক্ত করবেন। টানা দুইবার চার বছর মেয়াদে দেশটির প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন রুহানি। আগস্টে তার দায়িত্ব হস্তান্তরের কথা।

ইরানের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অংশ নিতে প্রায় ৬০০ প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন। এদের মধ্যে কেবল সাতজনকে নির্বাচনে দাঁড়ানোর অনুমতি দেয় গার্ডিয়ান কাউন্সিল। এতে অনেক ভোটারই হতাশ হন।

গার্ডিয়ান কাউন্সিলের বাদ পড়া তালিকায় ইরানের পার্লামেন্টের সাবেক স্পিকার আলি লারিজানিসহ ছিলেন আরও অনেক আলোচিত ব্যক্তি। প্রার্থীতা থেকে বাদ দেয়ার সব কারণ আনুষ্ঠানিক ও সর্বসমক্ষে প্রকাশের জন্য কাউন্সিলের প্রতি দাবি জানিয়েছিলেন লারিজানি।

রুহানি পরে জানান, নির্বাচনে জোর প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য চিঠিতে দেশের সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনিকে আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

অনেক যোগ্য প্রার্থী নির্বাচনে দাড়াঁনোর সুযোগ থেকে বঞ্চিত হওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেন খামেনি। রুহানির চিঠির জবাবে তিনি বলেন, কয়েকজন প্রার্থী ও তাদের পরিবারের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ থাকায় অন্যায়ভাবে তাদের প্রার্থীতা বাতিল করা হয়েছে।

এদিকে নির্বাচনের শেষ সময়ে বুধবার সাত প্রার্থীর মধ্যে তিন প্রার্থী নিজেদের নির্বাচনি লড়াই থেকে সরিয়ে নেন। এরা হলেন সংস্কারপন্থি মোহসেন মেহরালিজাদেহ, চরমপন্থি আলিরেজা জাকানি ও রক্ষণশীল সাঈদ জালিলি।

নির্বাচনে রক্ষণশীল প্রার্থী মোহসেন রেজাই, আমির হোসেন গাজিজাদেহ হাশেমি ও এব্রাহিম রাইসির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের ময়দানে সংস্কারপন্থিদের মধ্যে রয়েছেন অপেক্ষাকৃত কম পরিচিত ইরানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধান আব্দলনাসের হেম্মাতি।

প্রেসিডেন্ট প্রার্থী রাইসিকে ‘বড় ধরনের শয়তান’ হিসেবে অভিহিত করে থাকে যুক্তরাষ্ট্র।

আরও পড়ুন:
ইয়াসের আগে টর্নেডোতে পশ্চিমবঙ্গে দুইজনের মৃত্যু
ছুটির দিনেও খোলা থাকবে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়
ইয়াস মোকাবিলায় প্রয়োজনে সেনা: মমতা
উপকূলের বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে নেয়ার আহ্বান ফখরুলের
ঘূর্ণিঝড় ইয়াস: ধান কেটে ঘরে তুলছেন কৃষকেরা

শেয়ার করুন

স্বরা ভাস্করের বিরুদ্ধে ঘৃণা ছড়ানোর অভিযোগ

স্বরা ভাস্করের বিরুদ্ধে ঘৃণা ছড়ানোর অভিযোগ

বলিউড অভিনেত্রী স্বরা ভাস্কর। ছবি: সংগৃহীত

দাঙ্গায় উসকানি দেয়া ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিঘ্নিত করার অভিযোগে বলিউড অভিনেত্রীসহ অন্যদের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ১৫৩, ১৫৩এ, ২৫৯এ, ৫০৫ ও ১২০বি ধারার ভিত্তিতে অভিযোগ করা হয়েছে।

দিল্লি লাগোয়া উত্তর প্রদেশের গাজিয়াবাদে এক মুসলমান নিগ্রহের ঘটনায় ভুয়া খবর ছড়ানোর অভিযোগে বলিউড অভিনেত্রী স্বরা ভাস্করের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছে।

বুধবার দিল্লির তিলক মার্গ থানায় অমিত আচার্য নামের এক আইনজীবী স্বরা ভাস্করসহ আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ জানিয়েছেন, যাতে স্পষ্ট এফআইআরের আবেদন জানানো হয়েছে।

দাঙ্গায় উসকানি দেয়া ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিঘ্নিত করার অভিযোগে বলিউড অভিনেত্রীসহ অন্যদের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ১৫৩, ১৫৩এ, ২৫৯এ, ৫০৫ ও ১২০বি ধারার ভিত্তিতে অভিযোগ করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার দিল্লি পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়, স্বরা ভাস্কর, টুইটারের ভারতীয় ব্যবস্থাপনা পরিচালক মনীশ মাহেশ্বরী, সাংবাদিক আফরা খানুম শেরওয়ানিসহ আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে তারা অভিযোগ পেয়েছে।

সংশ্লিষ্ট অভিযোগনামায় বলা হয়, তারা প্রত্যেকেই গাজিয়াবাদের প্রবীণ নাগরিকের বিরুদ্ধে ভুয়া খবর শেয়ার করে সেটাকে সাম্প্রদায়িকতার রং দেয়ার চেষ্টা করেন।

গাজিয়াবাদের মুসলমান বৃদ্ধকে নিগ্রহের ঘটনায় এখন পর্যন্ত তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, আবদুল সামাদ সাইফি নামের ওই বৃদ্ধকে অটোরিকশায় করে বাড়ি পৌঁছে দেয়ার নামে নির্জন এলাকায় নিয়ে যান অভিযুক্তরা। এরপর সেখানে তাকে মারধর করা হয় এবং জয় শ্রীরাম বলার জন্য চাপ দেয়া হয়।

তবে পুলিশের দাবি, অভিযুক্তরা ওই বৃদ্ধকে মারধর করেন, কারণ তার থেকে কেনা তাবিজে কোনো কাজ হয়নি বলে। আর সেই ঘটনাকেই সাম্প্রদায়িকতার রং দেয়ার চেষ্টা করেন স্বরা, এমনটাই অভিযোগ উত্তর প্রদেশ পুলিশের।

উত্তর প্রদেশ পুলিশের অভিযোগের ভিত্তিতে এবং কেন্দ্রের নয়া ডিজিটাল নীতি অনুসরণ না করায় টুইটারের আইনি সুরক্ষা তুলে নেয়া হয়।

পরে দিল্লি পুলিশের কাছেও টুইটের মাধ্যমে বিদ্বেষ ছড়ানোর অভিযোগ জানান এক আইনজীবী। তিনি অভিনেত্রী স্বরা ভাস্কর, সাংবাদিক আফরা খানুম, আসিফ খান ও টুইটার অধিকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন।

তার অভিযোগ, গোটা ঘটনার সত্যতা যাচাই না করে তারা নিজেদের টুইটার অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের মধ্যে হিংসা ছড়ানোর চেষ্টা করেছিলেন।

অবশ্য এর পরিপ্রেক্ষিতে এখনও কোনো এফআইআর করা হয়নি বলে জানিয়েছে দিল্লি পুলিশ।

অন্যদিকে ভারতে টুইটার অধিকর্তা হিসেবে মনীশ মাহেশ্বরীও গোটা বিষয় সম্পর্কে কোনো পদক্ষেপ নেননি এবং ভুয়া টুইটগুলোও সরিয়ে ফেলেননি।

এর আগে উত্তর প্রদেশ পুলিশের পক্ষ থেকেও একই অভিযোগ আনা হয় টুইটারের বিরুদ্ধে।

আরও পড়ুন:
ইয়াসের আগে টর্নেডোতে পশ্চিমবঙ্গে দুইজনের মৃত্যু
ছুটির দিনেও খোলা থাকবে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়
ইয়াস মোকাবিলায় প্রয়োজনে সেনা: মমতা
উপকূলের বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে নেয়ার আহ্বান ফখরুলের
ঘূর্ণিঝড় ইয়াস: ধান কেটে ঘরে তুলছেন কৃষকেরা

শেয়ার করুন

চীনের ঋণে ফাঁসছে পাকিস্তান

চীনের ঋণে ফাঁসছে পাকিস্তান

চীনের কাছ থেকে নেয়া ১০০ কোটি ডলার ঋণ পরিশোধে আরও ১ বছরের সময় চান পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। ছবি: সংগৃহীত

ষাটের দশক থেকেই চীন ও পাকিস্তান ঘনিষ্ঠ মিত্র হয়ে উঠেছে। গত কয়েক বছরে চীন-পাকিস্তান ইকোনমিক করিডর (সিপিইসি) পরিকল্পনার আওতায় বেশ কিছু বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করেছে পাকিস্তান। এর মধ্যে ১০০ কোটি ডলার পরিশোধের কথা আছে আগামী ২৩ জুলাই। কিন্তু এক বছর সময় চেয়ে চিঠি দিয়েছেন ইমরান খান। যদিও এর আগে ৩০০ কোটি ডলারের ঋণ পুনর্গঠনের চিঠি প্রত্যাখ্যান করেছে চীন।

ঘনিষ্ঠ মিত্র চীনের কাছ থেকে বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে নেয়া ঋণ এখন গলার কাঁটা হচ্ছে পাকিস্তানের। সময়মতো পরিশোধ করতে না পেরে এখন এক বছরের সময় চেয়ে আবেদন করেছে ইসলামাবাদ। তবে বেইজিং কোনো সাড়া দিচ্ছে না।

পাকিস্তানের দৈনিক দ্য ফ্রন্টিয়ার পোস্টের প্রতিবেদন উল্লেখ করে ভারতীয় বার্তা সংস্থা এএনআইয়ের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চীনের কাছ থেকে ১০০ কোটি ডলারের ঋণ পরিশোধ না করে এক বছর সময় চেয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান।

আগামী ২৩ জুলাই পাকিস্তানের ওই ঋণ পরিশোধের কথা আছে। তবে গত ৮ জুলাই তিনি চীনের স্টেট কাউন্সিলের প্রধান লি কেকিয়াংকে চিঠি লিখে আরও এক মাস সময় দেয়ার প্রস্তাব রাখেন।

এই বাড়তি সময়ের জন্য ইমরান ১ শতাংশ করে সুদ পরিশোধের প্রস্তাব রাখেন।

ষাটের দশক থেকেই চীন ও পাকিস্তান ঘনিষ্ঠ মিত্র হয়ে উঠেছে। গত কয়েক বছরে চীন-পাকিস্তান ইকোনমিক করিডর (সিপিইসি) পরিকল্পনার আওতায় বেশ কিছু বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করেছে পাকিস্তান। এসব বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে ঋণ এখন পাকিস্তানের জন্য বোঝা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

চীনের ঋণে ফাঁসছে পাকিস্তান

পাকিস্তানে চীনের অর্থায়নে ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াটের একটি বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ হয়।

আগেও চীনের কাছ থেকে নেয়া ঋণ পরিশোধ করা নিয়ে বিপাকে পড়েছে পাকিস্তান। চলতি বছরেই ৩০০ কোটি ডলারের একটি ঋণ পুনর্গঠনের জন্য বেইজিংয়ের কাছে আবেদন জানিয়েছিল ইসলামাবাদ। সেই ঋণও বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের জন্যই নেয়া হয়। কিন্তু চীন এই আবেদন রাখেনি।

বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তি নিয়ে ইসলামাবাদের ফের আলোচনার অনুরোধে প্রত্যাখ্যান করে চীন। দেশটির পক্ষ থেকে বলা হয়, ঋণ মওকুফ করতে হলে সে ক্ষেত্রে চীনের ব্যাংকের শর্ত সংশোধন করা লাগবে।

পাকিস্তানের অনুরোধের জবাবে চীন আরও জানায়, সরকারের সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তির ধারা আবার পুনর্বিবেচনায় রাজি নয় চায়না ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক, এক্সপোর্ট-ইমপোর্ট ব্যাংক অফ চায়নাসহ অন্যান্য ব্যাংক।

পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের মার্চের শেষের দিকে পাকিস্তানের ঋণ ও দেনা ৪৫ দশমিক ৪৭০ ট্রিলিয়ন রুপিতে উন্নীত হয়, যা আগের বছরের চেয়ে ২ দশমিক ৬৬৬ ট্রিলিয়ন রুপি বা ৬ দশমিক ২ শতাংশ বৃদ্ধি। এই অঙ্ক পাকিস্তানের মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপির ১০৯ শতাংশ।

এই ঋণের একটি বড় অংশ বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য নেয় পাকিস্তান।

২০১৮ সালেও পাকিস্তানের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে ঋণের পরিমাণ ছিল ৭২০ কোটি ডলার। চলতি বছরের মধ্যে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৫৮০ কোটি ডলারে। চক্রবৃদ্ধি হারে বেড়ে চার বছরের মধ্যে তা গিয়ে ঠেকবে ২ হাজার ৬৩০ কোটি ডলারে।

চীনের ঋণে ফাঁসছে পাকিস্তান

চীনের স্টেট কাউন্সিলের প্রধান লি কেকিয়াংয়ের সঙ্গে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান।

এসব কেন্দ্রের ক্যাপাসিটি চার্জ হিসেবেই পরিশোধ করতে হচ্ছে ৫৯০ কোটি ডলারের সমপরিমাণ অর্থ। কয়েক বছরের মধ্যে তা বেড়ে দাঁড়াবে ৯৮০ কোটি ডলারে। সব মিলিয়ে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে পাকিস্তানের মোট ঋণের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে দেশটির জিডিপির ১১ শতাংশে।

বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ হলেও সেগুলোর সঞ্চালনব্যবস্থা ভালো নয়। ফলে গ্রাহকরা এর সুবিধা পাচ্ছেন না। এ কারণে দেশটিতে ব্যাপক বিদ্যুৎ-সংকট রয়েই গেছে।

আরও পড়ুন:
ইয়াসের আগে টর্নেডোতে পশ্চিমবঙ্গে দুইজনের মৃত্যু
ছুটির দিনেও খোলা থাকবে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়
ইয়াস মোকাবিলায় প্রয়োজনে সেনা: মমতা
উপকূলের বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে নেয়ার আহ্বান ফখরুলের
ঘূর্ণিঝড় ইয়াস: ধান কেটে ঘরে তুলছেন কৃষকেরা

শেয়ার করুন

রাজ্যপালকে ‘বাচ্চা ছেলে’ বললেন মমতা

রাজ্যপালকে ‘বাচ্চা ছেলে’ বললেন মমতা

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ছবি: পিটিআই

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বলেন, ‘রাজ্যপাল যখন করা হয়েছিল, তখন আমাকে জিজ্ঞেস করা হয়নি। নিয়ম হচ্ছে, রাজ্যের সঙ্গে পরামর্শ করে রাজ্যপাল পাঠানো। উনি কাদের সঙ্গে দেখা করবেন, তার ব্যাপার। উনি তো বিজেপির লোক।’

পশ্চিমবঙ্গের ভোট-পরবর্তী সহিংসতা নিয়ে অতি সক্রিয় রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড়ের দিল্লি সফরকে কটাক্ষ করে বৃহস্পতিবার নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সাংবাদিকদের বলেন, ‘তাকে সরানোর জন্য প্রধানমন্ত্রীকে দু-তিনবার চিঠি লিখেছি। বাচ্চা ছেলে তো নয়, যে বকাঝকা করে চুপ করিয়ে দেব।’

মুখ্যমন্ত্রী এদিন বলেন, ‘রাজ্যপাল যখন করা হয়েছিল, তখন আমাকে জিজ্ঞেস করা হয়নি। নিয়ম হচ্ছে, রাজ্যের সঙ্গে পরামর্শ করে রাজ্যপাল পাঠানো। উনি কাদের সঙ্গে দেখা করবেন, তার ব্যাপার। উনি তো বিজেপির লোক।’

বিধানসভা নির্বাচনের এক মাস পরও রাজ্যের ভোট-পরবর্তী সহিংসতা নিয়ে রাজ্যপাল ও রাজ্য সরকারের সংঘাত সমানে চলছে।

বিরামহীন টুইটযুদ্ধে রাজ্য রাজনীতি উত্তপ্ত। রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা নিয়ে বারবার সোচ্চার হয়েছেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড়।

এর ফলে রাজ্যপাল ও রাজ্য সরকারের সম্পর্কের অবনতি হয়েছে। এই পরিপ্রেক্ষিতে রাজ্যপালের দিল্লি গিয়ে রাষ্ট্রপতিকে রাজ্যের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে নোট দেয়া খুবই ইঙ্গিতপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

ভোট-পরবর্তী সহিংসতায় রাজ্যে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি নিয়ে সোচ্চার বিজেপির দুই রাজ্য নেতা।

সোমবার বিজেপির ৫০ বিধায়ককে সঙ্গে নিয়ে বৈঠক করেন রাজ্যপাল। তারপর দিল্লি যান তিনি।

বৃহস্পতিবার নবান্নে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বলেন, ‘বাংলায় কোনো রাজনৈতিক সহিংসতা হচ্ছে না। বিজেপির গিমিক ভায়োলেন্স চলছে। বঙ্গভঙ্গ হতে দেব না। কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল মানে কী?

‘জলপাইগুড়ি, শিলিগুড়ির জমি বিক্রি করে দেব নাকি? আমাদের এখানে কোনো গণ্ডগোল নেই । দিল্লি পুলিশের থেকে আমাদের পুলিশ ভালো কাজ করছে।’

আরও পড়ুন:
ইয়াসের আগে টর্নেডোতে পশ্চিমবঙ্গে দুইজনের মৃত্যু
ছুটির দিনেও খোলা থাকবে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়
ইয়াস মোকাবিলায় প্রয়োজনে সেনা: মমতা
উপকূলের বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে নেয়ার আহ্বান ফখরুলের
ঘূর্ণিঝড় ইয়াস: ধান কেটে ঘরে তুলছেন কৃষকেরা

শেয়ার করুন