আইসিইউতে বুদ্ধদেব

পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য। ফাইল ছবি

আইসিইউতে বুদ্ধদেব

বুদ্ধদেবের শরীরে বাইপ্যাপের সাহায্যে অক্সিজেনের মাত্রা ঠিক রাখা হচ্ছিল। তার ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিজ (সিওপিডি) রয়েছে। তাই অক্সিজেনের মাত্রা কমে গেলে চিকিৎসকরা আর বাড়িতে রাখার ঝুঁকি নেননি।

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও ভারতের কমিউনিস্ট পার্টির পলিটব্যুরোর সদস্য বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়েছে। মঙ্গলবার তাকে কলকাতার আলিপুরে একটি বেসরকারি হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) ভর্তি করানো হয়েছে ।

এর আগে কলকাতার পাম অ্যাভিনিউয়ের বাড়িতেই তার চিকিৎসা চলছিল। বুদ্ধদেবকন্যা সুচেতনা ভট্টাচার্য জানিয়েছিলেন গত দুই দিন তার শারীরিক অবস্থার উন্নতি হচ্ছিল।

স্বজনরা জানিয়েছেন, সোমবার তার শরীরে অক্সিজেনের মাত্রা ৯০-এর নিচে নেমে যায় । মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করানো হয় ।

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, বুদ্ধদেবের শরীরে বাইপ্যাপের সাহায্যে অক্সিজেনের মাত্রা ঠিক রাখা হচ্ছিল। তার ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিজ (সিওপিডি) রয়েছে। তাই অক্সিজেনের মাত্রা কমে গেলে চিকিৎসকরা আর বাড়িতে রাখার ঝুঁকি নেননি।

বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য এবং তার স্ত্রী মীরা ভট্টাচার্য একই সঙ্গে করোনায় আক্রান্ত হয়েছিলেন । বুদ্ধদেবকে তার ইচ্ছা অনুযায়ী বাড়িতে রেখে চিকিৎসা করানো হলেও মীরা ভট্টাচার্যের চিকিৎসা চলছিল হাসপাতালে।

সোমবার করোনা মুক্ত হয়ে বাড়ি ফিরেছেন মীরা ভট্টাচার্য। আগামী সাত দিন তাকে হোম আইসোলেশনে থাকতে হবে।

করোনা মোকাবিলায় পশ্চিমবঙ্গে লকডাউনের ফল মিলতে শুরু করেছে বলে মনে করছেন চিকিৎসকরা।

গত দুই দিনে দৈনিক সংক্রমণের সংখ্যা ১৮ হাজারের নিচে নেমেছে । রোববার সকাল ৯টা থেকে সোমবার সকাল ৯টা পর্যন্ত রাজ্যে ১৭ হাজার ৮৮৩ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে।

রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তরের বুলেটিন অনুযায়ী, ২৪ ঘণ্টায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ১৫৩ জন। এ পর্যন্ত রাজ্যে মোট মৃত্যু হয়েছে ১৪ হাজার ৫১৭ জনের।

আরও পড়ুন:
হাসপাতালে পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব

শেয়ার করুন

মন্তব্য

২৯০ শতাংশ মৃত্যু কম দেখিয়েছে মধ্যপ্রদেশ

২৯০ শতাংশ মৃত্যু কম দেখিয়েছে মধ্যপ্রদেশ

ভারতের মধ্যপ্রদেশে করোনায় মৃত্যুর সংখ্যা আরও বেশি বলে দাবি করা হচ্ছে। ছবি: এএফপি

করোনাভাইরাস মহামারির মধ্যে চলতি বছরের এপ্রিল ও মে এই দুই মাসে মধ্যপ্রদেশে মারা গেছে দুই লাখ ৩০ হাজার মানুষ। এই মৃত্যু স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে ২৯০ শতাংশ বেশি।

ভারতের মধ্যপ্রদেশে করোনার দ্বিতীয় ধাক্কায় যত মানুষ মারা যাওয়ার হিসাব দিয়েছে দেশটির সরকার, সেই সংখ্যা নিয়ে এবার প্রশ্ন উঠেছে। মহামারির আগের সময় ও চলতি বছরের সময়ে মৃত্যুর তুলনা করে এই দাবি করা হচ্ছে।

এ ছাড়া করোনায় মৃত্যুর বিষয়টি নিয়ে একটি অনুসন্ধান করেছে সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি। তারাও মধ্যপ্রদেশের রাজধানী ভূপাল জেলায় গত এপ্রিলে যে মৃত্যুর সংখ্যা পেয়েছে সেটি সরকারের দেয়া সংখ্যার চেয়ে ঢের বেশি।

মধ্যপ্রদেশে গত কয়েক মাসে যে পরিমাণ মানুষ মারা গেছে তা করোনার আগে মারা যাওয়া মানুষের চেয়ে অন্তত তিন গুণ বেশি বলে এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে জানান হচ্ছে।

প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, সরকারি পরিসংখ্যান থেকে করোনায় মৃত্যুর একটা অংশ মাত্র জানা যাচ্ছে। কিন্তু প্রকৃত সংখ্যা ঢের বেশি।

সিভিল রেজিস্ট্রেশন সিস্টেমের তথ্য অনুসারে, প্রথমবারের মতো সাংবাদিক রুক্মিনি এস মধ্যপ্রদেশে ২০১৮ ও ২০১৯ সালের মৃত্যুর সংখ্যা প্রকাশ করেছেন। সেই দুই বছরের এপ্রিল ও মে দুই মাসে মধ্যপ্রদেশে মৃত্যুর সংখ্যা ছিল গড়ে ৫৯ হাজার।

করোনাভাইরাস মহামারির মধ্যে চলতি বছরের এপ্রিল ও মে এই দুই মাসে মধ্যপ্রদেশে মারা গেছে দুই লাখ ৩০ হাজার মানুষ। এই মৃত্যু স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে ২৯০ শতাংশ বেশি।

সবচেয়ে বেশি মৃত্যু অর্থাৎ ১ লাখ ৭৪ হাজার রেকর্ড হয়েছে শুধু মে মাসে। এপ্রিলে এই মৃত্যু ছিল এক লাখ ৫৬ হাজার।

মধ্যপ্রদেশের সরকার গত এপ্রিল ও মে মাসে রাজ্যটিতে করোনায় মোট চার হাজার ১০০ মানুষের মৃত্যুর খবর দিয়েছে।

এমন হিসাব সামনে আসার পর মধ্যপ্রদেশে করোনায় মৃত্যু নিয়ে আবারও জোরালো প্রশ্ন উঠেছে।

রাজ্যটিতে করোনায় মৃত্যু নিয়ে প্রশ্ন তোলার বিষয়টি এটাই প্রথম নয়। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি মধ্যপ্রদেশের ভূপাল জেলার শ্মশান ও কবরস্থানে খোঁজ করে চলতি বছরের এপ্রিলে করোনায় ৩ হাজার ৮১১ জনের মৃত্যুর তথ্য পেয়েছে।

কিন্তু সরকারি তথ্য বলছে, এপ্রিলে জেলায় মাত্র ১০৪ জন করোনায় মারা গেছেন।

বিষয়টি নিয়ে এনডিটিভি রাজ্য সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করলেও মন্তব্য করতে রাজি হননি কোনো কর্মকর্তা।

গত বৃহস্পতিবার বিহার রাজ্য সরকার মহামারিতে প্রাণহানির সংশোধিত তালিকা প্রকাশের ফলে এক দিনে মৃত্যুর রেকর্ড হয় ভারতে। সেদিন মৃত্যুর হিসাব দেয়া হয় ৬ হাজার ১৪৮ জনের। যা এক দিনে সর্বোচ্চ।

এ ছাড়া মহারাষ্ট্রেও করোনায় মৃত্যুর সংখ্যার সংশোধিত তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে।

ভারতে ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হয়ে এখন পর্যন্ত মারা গেছে তিন লাখ ৬৭ হাজারের বেশি মানুষ।

আরও পড়ুন:
হাসপাতালে পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব

শেয়ার করুন

২৪৪ বছরে প্রথম মুসলমান ফেডারেল বিচারক যুক্তরাষ্ট্রে

২৪৪ বছরে প্রথম মুসলমান ফেডারেল বিচারক যুক্তরাষ্ট্রে

যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম মুসলমান ফেডারেল বিচারক জাহিদ কুরাইশি। ছবি: টুইটার

কুরাইশির নিয়োগে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সংখ্যালঘু মুসলমান সম্প্রদায়ের মধ্যে। উদ্বেগ জানিয়েছে দেশটিতে মুসলমান নাগরিকদের অধিকারবিষয়ক সংগঠন সিএআইআর।

যুক্তরাষ্ট্রে ফেডারেল বিচারক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত জাহিদ কুরাইশি।

তার এ নিয়োগের মধ্য দিয়ে ২৪৪ বছরের ইতিহাসে প্রথম মুসলমান ফেডারেল বিচারক পেল দেশটি।

১৭৭৬ সালের ৪ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে গৃহীত হয় স্বাধীনতার ঘোষণা। সে সময় থেকে ধরলে আগামী ৪ জুলাই ২৪৫ বছর হবে দেশটির।

দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে জানানো হয়, কুরাইশির নিয়োগে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সংখ্যালঘু মুসলমান সম্প্রদায়ের মধ্যে। উদ্বেগ জানিয়েছে দেশটিতে মুসলমান নাগরিকদের অধিকারবিষয়ক সংগঠন সিএআইআর।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন নিজেই মনোনীত করেছেন রাটগার্স ল’ স্কুল থেকে স্নাতক সম্পন্ন করা কুরাইশিকে। এরপর চলতি সপ্তাহে পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ সিনেটে ৬৫ ভোটের ব্যবধানে ফেডারেল বিচারক হিসেবে তার নিয়োগ চূড়ান্ত হয়।

কুরাইশিকে নিয়োগের পক্ষে ভোট দিয়েছেন ৮১ জন আইনপ্রণেতা; বিপক্ষে ছিলেন ১৬ জন।

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশের শাসনামলে দেশটির অভিবাসন ও শুল্কবিষয়ক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর (আইস) সঙ্গে কাজ করেছেন কুরাইশি। ইরাক যুদ্ধে অবদানের জন্যও ব্যাপক সমালোচিত তিনি।

কাউন্সিল অন আমেরিকান ইসলামিক রিলেশনস (সিএআইআর) চলতি বছরের এপ্রিলে একটি বিবৃতি প্রকাশ করে। সেখানে কুরাইশির পেশাজীবনের অতীত নিয়ে উদ্বেগ জানানো হয়।

এ বিষয়ে সিএআইআরের সরকারি সিদ্ধান্তবিষয়ক বিভাগের পরিচালক রবার্ট ম্যাকাও বলেন, ‘বিচারক কুরাইশির অতীত কর্মজীবন ও অভিজ্ঞতা নিয়ে স্বচ্ছতার অভাব রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন সিএআইআর। ইরাকযুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ ছিল। সে সময় বন্দিদের আটকবিষয়ক আইনি পরামর্শ দিয়ে সেনাবাহিনীর পক্ষে কাজ করেছিলেন কুরাইশি।

‘বুশ প্রশাসনের মেয়াদের শেষ বছরে আইসের সঙ্গেও কাজ করেছেন তিনি। যুক্ত ছিলেন অভিবাসীবিরোধী সিদ্ধান্তের সঙ্গে।’

রবার্ট ম্যাকাও আরও বলেন, ‘এসব কর্মকাণ্ডের বিষয়ে এখন না কুরাইশি নিজে কোনো কথা বলছেন, না হোয়াইট হাউস বা কংগ্রেস থেকে কিছু বলা হচ্ছে। খুব সচেতনভাবে কুরাইশির অতীত কর্মজীবন এখন এড়িয়ে যাওয়া হচ্ছে।

‘কুরাইশির প্রতি এ বিষয়গুলো নিয়ে জবাবদিহির আহ্বান জানাচ্ছে সিএআইআর। একই সঙ্গে মুসলমানসহ যুক্তরাষ্ট্রের সব নাগরিকের অধিকারের সমতা নিশ্চিতে বিচারক হিসেবে তার দায়িত্ব পালনেরও আহ্বান জানাচ্ছি।’

পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত কুরাইশির জন্মও যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কে। বেড়ে উঠেছেন যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সিতে।

আইন পাস করার পর ২০০৪ ও ২০০৬ সালে ইরাকে সামরিক কৌঁসুলি হিসেবে দুইবার নিয়োগ পান কুরাইশি। সেনাবাহিনীতে ‘ক্যাপ্টেন’ পদমর্যাদাও দেয়া হয় তাকে।

আরও পড়ুন:
হাসপাতালে পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব

শেয়ার করুন

হলিউডে কোটি ডলারে বিকোচ্ছে সৌদি শিল্পীর চিত্রকর্ম

হলিউডে কোটি ডলারে বিকোচ্ছে সৌদি শিল্পীর চিত্রকর্ম

নিজের আঁকা ছবির সামনে দাঁড়িয়ে শিল্পী আবদুল রহমান হামদি। ছবি সংগৃহীত

আবদুল রহমান হামদির শিল্পকর্ম হলিউডের বিলাসবহুল বাড়ির দেয়ালের সৌন্দর্য বহুগুণ বাড়িয়ে দিচ্ছে। এই সৌন্দর্যের মূল্য এতটাই যে, দেড় কোটি ডলারের বেশি দাম দিয়ে হলেও এই ছবি কিনতে রাজি ধনী হলিউডবাসী।

হলিউডের সবচেয়ে বিলাসবহুল বাড়িগুলোতে এখন শোভা পাচ্ছে এক সৌদি শিল্পীর চিত্রকর্ম।

চলচ্চিত্র দুনিয়ার রাজধানীতে আবদুল রহমান হামদি সম্প্রতিক সময়ে ঝড় তোলা এক নাম। যার হাতের জাদুর ছোঁয়া হলিউডি বিলাসকে নিয়ে গেছে ভিন্ন এক উচ্চতায়। তার একেকটি ছবি বিকোচ্ছে দেড় কোটি ডলারের বেশি মূল্যে।

রোজ সকালে তার বিমূর্ত চিত্রকর্ম নতুন এক অর্থ নিয়ে ধরা দেয় বাড়ির বাসিন্দাদের চোখে। অর্থের এই ভিন্নতাই ছবির গ্রহণযোগ্যতাকে বাড়িয়ে দিয়েছে বহুগুণ।

হামদি পেশাদার শিল্পী হলেও প্রাতিষ্ঠানিক এলেম নিয়েছেন আইন বিষয়ে। সে চর্চা ছেড়ে এখন তার সমস্ত মনযোগ আঁকাআঁকিতে। শৈশব থেকে এ পর্যন্ত শিল্পী হয়ে ওঠার বৈরী এক যাত্রায় মায়ের সহযোগিতা পেয়েছেন নিরবচ্ছিন্নভাবে।

হামদির সাফল্যে দরজা খুলে যায় যুক্তরাষ্ট্রের বিলাসবহুল ইন্টেরিয়র ডিজাইন কোম্পানি প্রিমিয়ার স্টেজারের সঙ্গে কাজ শুরু করার পর। তার চিত্রকর্মের সবচেয়ে বড় ক্রেতা এই কোম্পানিটি।

হলিউডে কোটি ডলারে বিকোচ্ছে সৌদি শিল্পীর চিত্রকর্ম
হামদির ছবি হলিউডের একটি বাড়ির দেয়ালে। ছবি: সংগৃহীত

সম্প্রতি তার চিত্রকর্ম নিয়ে প্রচ্ছদ করেছে লস অ্যাঞ্জেলেসভিত্তিক আবাসন বিষয়ক একটি সাময়িকী। ‘ভোগ এরাবিয়া’ তার আরেকটি চিত্রকর্ম নিয়ে নিবন্ধ প্রকাশ করেছে।

হামদির শিল্প প্রতিভার প্রকাশ ঘটে কিন্ডারগার্টেনে পড়ার সময় থেকেই। তার সহপাঠীদের ওই সময়গুলো কাটত ফুটবলের মাঠে বা অঙ্ক খাতার পৃষ্ঠায়। আঁকাপ্রীতির কারণে বহুবার শিক্ষকদের বিদ্রুপেরও শিকার হতে হয়েছে তাকে।

বর্তমানে লস অ্যাঞ্জেলেসে বসবাসকারী হামদি আরব নিউজকে দেয়া এক সাক্ষতকারে বলেন, এক সময় ছবি আঁকা তাকে পুরোপুরি আচ্ছন্ন করে ফেলে, ‘ওই সময়টা আমার কিন্ডারগার্টেনের সহপাঠীরা খেলার ক্লাসের জন্য অপেক্ষা করত। আর আমি প্রহর গুনতাম কখন ড্রয়িং ক্লাস শুরু হবে। ঈদের সময় আত্মীয়-স্বজনের কাছ থেকে যে সালামি পেতাম সেটাও যত্ন করে রেখে দিতাম রং, পেন্সিল আর তুলি কেনার জন্য।’

হলিউডে কোটি ডলারে বিকোচ্ছে সৌদি শিল্পীর চিত্রকর্ম
এভাবেই ছবি আঁকেন হামদি। ছবি: সংগৃহীত

এক সময় বিমূর্ত চিত্রকর্মের প্রতি তার আগ্রহ বাড়তে থাকে। ওই সময় তিনি ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে, বিশেষ করে ইন্টাগ্রামে দিতে শুরু করেন। আশা ছিল এক সময় পেশাদার শিল্পী হয়ে উঠবেন।

‘বিমূর্ত শিল্প আমার কাছে একটি বড় সুযোগ হয়ে ধরা দেয়। এ ধরনের ছবির সবচেয়ে মজার দিকটি হচ্ছে, প্রতিদিন এর একটি নতুন দিক আপনার সামনে উন্মোচিত হবে।’

হামদি জানান, ২০১৪ সাল তার জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বছর। ওই বছর ভয়াবহ এক দুর্ঘটনার কারণে বিছানাবন্দী হয়ে পড়েন তিনি। হামদি বলছিলেন, যন্ত্রণা আর হতাশায় ডুবে গিয়েছিলাম আমি। স্মৃতি হাতড়ানো ছাড়া করার মতো আর কোনো কাজই ছিল না।

হলিউডে কোটি ডলারে বিকোচ্ছে সৌদি শিল্পীর চিত্রকর্ম
দেয়ালে দেয়ালে হামদির চিত্রকর্ম। ছবি: সংগৃহীত

‘নিজের কষ্ট, যন্ত্রণা কাউকে বলতেও পারতাম না। পুরোপুরি ভেঙে পড়েছিলাম। তখন বুঝতে পারি, এই কষ্ট থেকে একমাত্র ছবি আঁকাই আমাকে মুক্তি দিতে পারে। এই দুঃসময় কেটে যাওয়ার পর আমি আবার রঙ দিয়ে খেলতে শুরু করি। আমাকে অন্য এক জগতে নিয়ে যায় এই রঙ। জীবন এক ভিন্ন মাত্রা পায়। আমি নতুন করে বাঁচতে শুরু করি।’

গোড়ার দিকে মানুষকে নিজের আঁকা ছবি দেখাতে অস্বস্তি হতো। এক প্রদর্শনীতে তার ছবি প্রত্যাখ্যাত হওয়ার পর এই অস্বস্তি আরও বেড়ে যায়।

তিনি প্রথম চিত্র প্রদর্শনীতে অংশ নেন ২০১৭ সালে। প্রদর্শনীর নাম ছিল মিনস্ক হিস্টরিক জেদ্দা। পরের বছর আবার মিনস্ক আর্টে অংশ নেন তিনি। এর পর আর তাকে পিছে ফিরে তাকাতে হয়নি।

আরও পড়ুন:
হাসপাতালে পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব

শেয়ার করুন

টিকার সব তথ্য প্রকাশ করল ভারত-বায়োটেক

টিকার সব তথ্য প্রকাশ করল ভারত-বায়োটেক

কোম্পানিটি জানিয়েছে, তথ্যের স্বচ্ছতা প্রকাশে সর্বোচ্চ সর্তকতা নিয়েছে তারা। মানুষের দেহে ট্রায়ালের যাবতীয় তথ্য প্রকাশের ক্ষেত্রে এই প্রতিষ্ঠান দেশে অন্যদের চেয়ে এগিয়ে রয়েছে। ভারতীয় জনগণের উপর ট্রায়ালে সবচেয়ে বেশী সফলতার রেকর্ড রয়েছে এই টিকার।

ভারতে করোনাভাইরাস প্রতিরোধী টিকা কোভ্যাকসিন তৈরি বিষয়ক সব ধরনের গবেষণা পত্র প্রকাশ করেছে দেশটির শীর্ষস্থানীয় বহুজাতিক ওষুধ প্রস্তুককারক প্রতিষ্ঠান ভারত-বায়োটেক।

দেশীয় প্রযুক্তি ও উপাদান ব্যবহার করে ভারত-বায়োটেকের তৈরি কোভ্যাকসিন টিকার কার্যকারিতা নিয়ে বিতর্ক দেখা গেলে প্রতিষ্ঠানটির কর্তৃপক্ষ এমন পদক্ষেপ নেয়।

এদিকে প্রতিষ্ঠানটি তাদের উৎপাদিত টিকার কার্যকারিতা ও সুরক্ষার উপর করা অন্তত ৯টি গবেষণাপত্র এরিই মধ্যে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় ৫টি সাময়িকীতে গত এক বছরে প্রকাশ করেছে।

দেশটির ওষুধ নিয়ন্ত্রক সংস্থা এর আগে, এই টিকার পরীক্ষামূলক প্রয়োগের (ট্রায়াল) তৃতীয় ধাপের তথ্য প্রকাশের নির্দেশ দিয়েছিল। প্রতিষ্ঠানটি প্রথম ও দ্বিতীয় ধাপের ট্রায়ালের তথ্য প্রকাশ করেছিল। তবে চলতি মাসের ২০ তারিখে তাদের তৃতীয় ধাপের ট্রায়ালের তথ্য প্রকাশ করার কথা রয়েছে।

৬ মাস আগে, জরুরী ব্যবহারের জন্যে অনুমোদন পায় কোভ্যাকসিনের টিকাটি। এর পর থেকেই টিকাটির কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠে নানা মহলে। তৃতীয় ধাপের ট্রায়ালের তথ্য প্রকাশ করার জন্যে এরিই মধ্যে দুইবার তারিখ পিছিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

দেশটির সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিয়ান টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে শনিবার এক বিবৃতিতে এসব কথা জানিয়েছে ভারত-বায়োটেক।

কোম্পানিটি জানিয়েছে, তথ্যের স্বচ্ছতা প্রকাশে সর্বোচ্চ সর্তকতা নিয়েছে তারা। মানুষের দেহে প্রয়োগের যাবতীয় তথ্য প্রকাশের ক্ষেত্রে এই প্রতিষ্ঠান দেশে অন্যদের চেয়ে এগিয়ে রয়েছে। ভারতীয় জনগণের উপর ট্রায়ালে সবচেয়ে বেশী সফলতার রেকর্ড রয়েছে এই টিকার।

এর আগে, গত ৯ মার্চ ভারতের উদ্ভাবিত করোনাভাইরাস প্রতিরোধী টিকা ‘কোভ্যাকসিন’ নিরাপদ বলে মত দিয়েছে চিকিৎসাবিষয়ক সাময়িকী দ্য ল্যানসেট।

দ্বিতীয় ধাপের ট্রায়ালের ফল পর্যালোচনা শেষে এই তথ্য জানিয়েছে সাময়িকীটি।

তাদের পর্যালোচনায় বলা হয়, দ্বিতীয় ধাপের ট্রায়াল শেষে টিকাটির কার্যকারিতা সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যায়নি। তবে এটি নিরাপদ। ট্রায়ালে অংশ নেয়া স্বেচ্ছাসেবীদের মধ্যে গুরুতর কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দেয়নি।

তৃতীয় ধাপের ট্রায়ালের পর টিকাটির কার্যকারিতা জানা যাবে।

ভারতে প্রাথমিকভাবে দুটি টিকা দেয়া হচ্ছে প্রথম সারির করোনাযোদ্ধাদের। একটি অক্সফোর্ড ও অ্যাস্ট্রাজেনেকা উদ্ভাবিত ‘কোভিশিল্ড’। ভারতের সিরাম ইনস্টিটিউট টিকাটি উৎপাদন করছে।

অন্যটি সম্পূর্ণ দেশীয় পদ্ধতিতে তৈরি কোভ্যাকসিন। ভারত-বায়োটেক এই ভ্যাকসিন তৈরি করেছে।

প্রথম থেকেই কোভ্যাকসিন নিয়ে বিতর্ক ওঠে। অভিযোগ, তৃতীয় পর্যায়ের পরীক্ষার আগেই এই ভ্যাকসিনকে ছাড়পত্র দিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। দেশের বিভিন্ন রাজ্যে ভারত-বায়োটেকের টিকা সরবরাহ করা হলেও অনেকেই সেই ভ্যাকসিন নিতে চাইছেন না।

আরও পড়ুন:
হাসপাতালে পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব

শেয়ার করুন

মানুষের মাংস খাবারে দেয় না ম্যাকডোনাল্ডস

মানুষের মাংস খাবারে দেয় না ম্যাকডোনাল্ডস

ফাস্টফুড কোম্পানিটির বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ নিয়ে ফ্যাক্টচেক করে রয়টার্স। এতে দেখা যায়, ম্যাকডোনাল্ডস তাদের পণ্যে মানুষের মাংস ব্যবহার করে না। ব্যঙ্গাত্মক একটি নিবন্ধ থেকে এ অপপ্রচারের সূত্রপাত হয়।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ফাস্টফুড কোম্পানি ম্যাকডোনাল্ডস তাদের খাবারে মানুষের মাংস ব্যবহার করে বলে বিভিন্ন মহলে দীর্ঘদিন ধরে গুঞ্জন রয়েছে। অনেকে ওই গুঞ্জনকে সত্য হিসেবে ধরে নেন।

ম্যাকডোনাল্ডসের খাবারে মানুষের মাংস ব্যবহারের দাবিকে গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে ‘খুবই খারাপ’, ‘বিরক্তিকর’, ‘পাগলের কর্মকাণ্ড’ লিখে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মন্তব্যও করেন অনেকে।

ফাস্টফুড কোম্পানিটির বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ নিয়ে ফ্যাক্টচেক করে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। এতে দেখা যায়, ম্যাকডোনাল্ডস তাদের পণ্যে মানুষের মাংস ব্যবহার করে না। ব্যঙ্গাত্মক একটি নিবন্ধ থেকে এ অপপ্রচারের সূত্রপাত হয়।

গুগলে সার্চ দিয়ে রয়টার্স জানতে পারে, শিকাগোভিত্তিক ব্যঙ্গাত্মক ব্লগ হাজলারসে একবার এক নিবন্ধ প্রকাশ হয়। নিবন্ধটির শিরোনাম ছিল, ‘মানুষের মাংস ব্যবহারের জন্য উন্মোচিত হলো ম্যাকডোনাল্ডস!’

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কয়েকটি পোস্ট ও হাজলারসের নিবন্ধে বলা হয়, অকলাহোমা শহরের একটি কারখানার ফ্রিজারে মানুষের মাংস পাওয়া যায়।

নিবন্ধ লেখকের নামের নিচে লেখা, ‘যা দেখ, তার অর্ধেক বিশ্বাস করো এবং অনলাইনে যা পড়ো, তার কিছু্ই বিশ্বাস করো না।’

ওই নিবন্ধকে ‘ব্যঙ্গাত্মক’ হিসেবে উল্লেখ করেছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সাময়িকী কলাম্বিয়া জার্নালিজম রিভিউ।

এর আগে নিজেদের ওয়েবসাইটকে মিথ্যা ও ব্যঙ্গের মিশ্রণ বলেছিলেন হাজলারসের প্রতিষ্ঠাতা।

খাবারে মানুষের মাংস ব্যবহার করা হয় কি না, তা একবার ম্যাকডোনাল্ডসের ওয়েবসাইটে একজন জানতে চান। জবাবে ক্রেতাদের নিশ্চিত করে ম্যাকডোনাল্ডস জানায়, তাদের পণ্যে শতভাগ বিশুদ্ধ গরু ও মুরগি ব্যবহার করা হয়।

সাত বছরের বেশি সময় ধরে ম্যাকডোনাল্ডসকে ঘিরে এ ধরনের অপপ্রচার চলছে। অবশ্য ২০১৪ সালে ফ্যাক্টচেকিং ওয়েবসাইট স্নোপস মানুষের মাংস ব্যবহারের দাবি মিথ্যা প্রমাণ করে।

আরও পড়ুন:
হাসপাতালে পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব

শেয়ার করুন

চীনকে রুখতে জি-সেভেনের পরিকল্পনা

চীনকে রুখতে জি-সেভেনের পরিকল্পনা

যুক্তরাজ্যে জি-সেভেন জোটভুক্ত দেশের প্রতিনিধিরা। ছবি: সংগৃহীত

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের নেয়া হাজার কোটি ডলারের বেল্ট অ্যান্ড রোডস ইনিশিয়েটিভ কর্মসূচীর (বিআরআই) প্রভাব থেকে বিশ্বের শতাধিক দেশকে মুক্ত করতেই পাল্টা পরিকল্পনা নিয়েছেন জি-সেভেনভুক্ত দেশগুলোর প্রতিনিধিরা।

বিশ্বে চীনের আধিপত্য ও আগ্রাসন রুখে দিতে কৌশলগত পরিকল্পনা ঘোষণা করতে যাচ্ছে ধনী দেশের জোট গ্রুপ অব সেভেনভুক্ত (জি-সেভেন) দেশগুলো।

যুক্তরাজ্যের দক্ষিণপশ্চিমাঞ্চলে চলা জি-সেভেন সামিটে এমন পরিকল্পনা চূড়ান্ত করেছে এই জোটভুক্ত দেশের প্রতিনিধিরা।

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের নেয়া হাজার কোটি ডলারের বেল্ট অ্যান্ড রোডস ইনিশিয়েটিভ কর্মসূচীর (বিআরআই) প্রভাব থেকে বিশ্বের শতাধিক দেশকে মুক্ত করতেই পাল্টা পরিকল্পনা নিয়েছেন তারা।

একইসঙ্গে, গত ৪ দশক ধরে অর্থনৈতিক ও সামরিক শক্তিতে অপ্রতিরোধ্য চীন ও শি জিনপিংয়ের নেতৃত্বে নতুন মাত্রা পাওয়া দেশটিকে পরিকল্পনা অনুযায়ী রুখতে মরিয়া হয়ে উঠেন জোটের নেতারা।

বিল্ড ব্যাক বেটার ওয়ার্ল্ড (বি৩ডব্লিউ) কর্মসূচীর আওতায় উন্নয়নশীল দেশগুলোতে কাঠামোগত উন্নয়নে বিশাল অঙ্কের সহায়তা দিতে যাচ্ছে জি- সেভেন। এর আওতায় ২০৩৫ সালের মধ্যে ৪০ ট্রিলিয়ন ডলার সহায়তা দেয়া হতে পারে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স ও সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে উঠে আসে এমন তথ্য।

২০১৩ সালে হাজার কোটি ডলারের বিআরআই কর্মসূচী হাতে নেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। এর আওতাভুক্ত দেশগুলো এশিয়া থেকে ইউরোপ পর্যন্ত এবং এর সীমাও ছাড়িয়ে গেছে।

এক শর বেশি দেশ এখন পর্যন্ত এই পরিকল্পনার আওতাভুক্ত হয়েছে। এবং চীনের সঙ্গে চুক্তি সই করে নিজ দেশের রেল, বন্দর, মহাসড়ক ও অন্যান্য অবকাঠামোগত তৈরিতে কাজ করছে।

এদিকে, জি-সেভেনভুক্ত দেশগুলোর প্রতিনিধিদের দাবি, মানবাধিকার লঙ্ঘন ও করোনাভাইরাসের উৎস অনুসন্ধানে চীনের গড়িমসি, তাইওয়ান ইস্যুতে বেইজিংয়ের বিতর্কিত ভূমিকা দেশটির বিরুদ্ধে এমন পদক্ষেপ নিতে বাধ্য করেছে তাদের।

এ বিষয়ে জো বাইডেনের এক প্রতিনিধি জানান, চীনের ভেতরে জোরপূর্বক শ্রম ও মানবাধিকার লঙ্ঘনরোধে বেইজিংয়ের বিরুদ্ধে জোটভুক্ত দেশগুলোর জোরালো পদক্ষেপ নেয়া উচিত।

এদিকে, চীনের বিরুদ্ধে এমন পদক্ষেপ না নিতে জোটের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে অনুরোধ জানিয়েছেন জি-সেভের বর্তমান চেয়ারম্যান ও ইতালির প্রধানমন্ত্রী মারিয়ো দ্রাঘি। তিনি বলেন, ‘ চীনের বিরুদ্ধে এমন পাল্টা পদক্ষেপ নিলে বিশ্বে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু যেমন জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব প্রতিরোধে আমরা চীনের সহযোগিতা হারাতে পারি।’

আরও পড়ুন:
হাসপাতালে পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব

শেয়ার করুন

নাইজেরিয়ায় বন্দুকধারীদের গুলিতে অর্ধশতাধিক গ্রামবাসী নিহত

নাইজেরিয়ায় বন্দুকধারীদের গুলিতে অর্ধশতাধিক গ্রামবাসী নিহত

নাইজেরিয়ায় বন্দুকধারীর গুলিতে শুক্রবার ৫৩ গ্রামবাসী নিহত হয়।

দাউরানের বাসিন্দা মুসা আরজিকা বলেন, ‘নিহতদের দাফনকাজ করা বিপজ্জনক; কারণ দস্যুরা পাশের জুরমি বনে আশ্রয় নিয়েছে। দাফনে তারা হামলা চালাতে পারে।’

নাইজেরিয়ার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় জামফারা রাজ্যে সশস্ত্র গবাদিপশু চোরদের গুলিতে ৫৩ গ্রামবাসী নিহত হয়েছে।

শনিবার দেশটির পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের বরাতে বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

স্থানীয়দের কাছে ‘দস্যু’ নামে পরিচিত বন্দুকধারীরা জামফারা রাজ্যের জুরমি জেলায় বৃহস্পতি ও শুক্রবার টানা দুই দিন মোটরসাইকেলে চড়ে তাণ্ডব চালায়।

ওই সময় জেলার কাদাওয়া, কোয়াতা, মাদুবা, গান্দা সামু, সাউলাওয়া ও আসকাওয়া গ্রাম দখলে নেয় বন্দুকধারীরা। দখল চলাকালে গ্রামবাসীর উদ্দেশে গুলি ছোড়ে তারা।

জামফারা পুলিশের মুখপাত্র মোহাম্মদ শেহু বলেন, শুক্রবার নিহত ১৪ জনের মরদেহ রাজ্যের রাজধানী গুসাউতে পাঠানো হয়েছে। হামলার পর এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, আরও ৩৯ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। পার্শ্ববর্তী শহর দাউরানে ওই সব মরদেহ কবর দেয়া হয়।

দাউরানের বাসিন্দা হারুনা আব্দুল করিম বলেন, ‘গতকাল (শুক্রবার) আমরা ২৮ জনের মরদেহ উদ্ধার করেছি। আজ সকালে বিভিন্ন গ্রাম থেকে আরও ১১টি মরদেহ উদ্ধার হয়।’

দাউরানের আরেক বাসিন্দা মুসা আরজিকা বলেন, ‘নিহতদের দাফনকাজ করা বিপজ্জনক; কারণ দস্যুরা পাশের জুরমি বনে আশ্রয় নিয়েছে। দাফনে তারা হামলা চালাতে পারে।’

জুরমি জেলার বিভিন্ন গ্রামে প্রায়ই হানা দেয় দস্যুরা। গত সপ্তাহে হামলা বন্ধে কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়ে মহাসড়ক আটকে দিয়েছিল গ্রামবাসী।

শুক্রবার ‘খুনি দস্যুদের’ হাত থেকে নিজেদের আত্মরক্ষায় গ্রামবাসীর প্রতি আহ্বান জানান জামফারা রাজ্যের গভর্নর বেলো মাতাওয়ালে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নাইজেরিয়ার উত্তর-পশ্চিম ও মধ্যাঞ্চলের গ্রামে গ্রামে হামলা চালানো অব্যাহত রেখেছে দেশটির গবাদিপশু চোর ও অপহরণকারীরা। খুনোখুনি, গ্রামবাসী অপহরণ, গবাদিপশু চুরির পাশাপাশি বাড়িঘর লুটপাট করে জ্বালিয়ে দেয় তারা।

সম্প্রতি দেশটির দুর্বৃত্তরা মুক্তিপণের দাবিতে স্কুলে হামলা চালিয়ে শিক্ষার্থী অপহরণ করা শুরু করেছে।

গত বছরের ডিসেম্বর থেকে এখন পর্যন্ত সাড়ে আট শর বেশি শিক্ষার্থী অপহরণ করা হয়। তাদের বেশির ভাগকে মুক্তিপণ দেয়ার পর ছেড়ে দেয়া হয়।

টাকাপয়সার লোভে দস্যুরা এসব অপরাধ কর্মকাণ্ড চালায় বলে ধারণা করা হয়। তাদের মতাদর্শগত কোনো অবস্থান নেই।

তবে নাইজেরিয়ার উত্তর-পূর্বে ১২ বছর ধরে ইসলামিক স্টেট (আইএস) প্রতিষ্ঠার লড়াই চলছে। সেখান থেকে আইএস জঙ্গিরা দস্যু দলে যোগ দিতে পারে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে স্থানীয়রা।

আরও পড়ুন:
হাসপাতালে পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব

শেয়ার করুন