নারদা কাণ্ড: সিবিআইয়ের আবেদন সুপ্রিম কোর্টে খারিজ

নারদা কাণ্ড: সিবিআইয়ের আবেদন সুপ্রিম কোর্টে খারিজ

সিবিআই যেভাবে সুপ্রিম কোর্টে গেছে সেটি দুঃখজনক মন্তব্য করে গ্রেপ্তার তৃণমূল নেতাদের পক্ষের আইনজীবী অভিষেক মনু সিংভি বলেন, ‘শুনানি প্রক্রিয়া দেরি করতে ইচ্ছাকৃতভাবে জটিলতা সৃষ্টি করছে সিবিআই। স্পিকারের অনুমতি না নিয়ে এই নেতাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গণতন্ত্রের অনুমতি প্রক্রিয়ায় এই গ্রেপ্তার হয়নি।’ 

চার নেতাকে জামিন দেয়া বা গৃহবন্দি রাখার বিরোধিতা করে সিবিআইয়ের করা আবেদন সুপ্রিম কোর্টে খারিজ হয়ে গেছে। সিবিআইয়ের বক্তব্যে অস্পষ্টতা এবং ভুল থাকায় আবেদনটি খারিজ করে দিয়েছে সুপ্রিমকোর্ট।

নারদা কাণ্ডে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতা হাইকোর্টের ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে গঠিত বৃহত্তর বেঞ্চে চার নেতার জামিন মামলার শুনানির শুরু থেকেই সিবিআইয়ের পক্ষে সুপ্রিম কোর্টে মামলার আবেদন করা হয়েছে জানিয়ে হাইকোর্টের শুনানি বন্ধ রাখার আর্জি জানালে তা খারিজ করে দেয় হাইকোর্ট। সুপ্রিম কোর্টে সিবিআইয়ের আবেদন খারিজ হয়ে গেছে, সে খবর তখনও আসেনি।

পরে দীর্ঘ শুনানি শেষে বৃহত্তর বেঞ্চ এই জামিন মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেছে বুধবার।

সিবিআই যেভাবে সুপ্রিম কোর্টে গেছে সেটি দুঃখজনক মন্তব্য করে গ্রেপ্তার তৃণমূল নেতাদের পক্ষের আইনজীবী অভিষেক মনু সিংভি বলেন, ‘শুনানি প্রক্রিয়া দেরি করতে ইচ্ছাকৃতভাবে জটিলতা সৃষ্টি করছে সিবিআই। স্পিকারের অনুমতি না নিয়ে এই নেতাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গণতন্ত্রের অনুমতি প্রক্রিয়ায় এই গ্রেপ্তার হয়নি।’

সলিসিটর জেনারেলের পাল্টা প্রশ্ন, ‘এই বক্তব্য কি মূল ইস্যুর সঙ্গে জড়িত? আমার মনে হয় মূল ইস্যু থেকে আমরা সরে যাচ্ছি। আমি এ বিষয়ে কিছু বলতে চাই না।’

জবাবে সিংভি বলেন, ‘আমি মূল ইস্যুতে আছি।’

তৃণমূল নেতাদের পক্ষে সিংভি প্রশ্ন তোলেন, ‘বলা হচ্ছে পরিস্থিতির জন্য নিম্ন আদালতে ভার্চুয়াল শুনানি করাতে হয়েছে। সেখানে আদালতের বিচারপতি কি অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন? তাহলে অভিযুক্তদের আদালতে সশরীরে না আনাকে যুক্তি হিসেবে দেখানো হচ্ছে কেন?’

সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা বলেন, ‘যেভাবে নেতা-মন্ত্রীদের গ্রেপ্তার করা নিয়ে বিক্ষোভ দেখানো হয়েছে, তা আদালতের নজরে আনা হয়েছে। বিক্ষোভ দেখিয়েই বিচার প্রক্রিয়ায় বাধা দেয়া হয়েছে, তা কি বিবেচ্য হতে পারে না?’

বিচারপতি ইন্দ্র প্রসন্ন মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘আমি একটা অস্থায়ী পর্যবেক্ষণ দিতে চাই। একটা বিষয়ে ৭ বছর ধরে তদন্ত চলাকালে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করা হলো না কেন? আর এখন হঠাৎ চার্জশিট দেয়ার পর গ্রেপ্তার করার প্রয়োজন পড়ল কেন?’

গ্রেপ্তারদের পক্ষে আইনজীবী সিদ্ধার্থ লুথরা বলেন, ‘নেতা-মন্ত্রীদের যে আইন মোতাবেক গ্রেপ্তার করা হয়নি, তা তদন্তকারী সংস্থা এড়িয়ে যাচ্ছে।’

জবাবে, কেন্দ্রের সলিসিটর জেনারেল বলেন, ‘মুখ্যমন্ত্রী বলছেন, আমাকে গ্রেপ্তার করুন। এটা কি আইন অনুযায়ী হয়েছিল? আমার মনে হয়, এসব প্রসঙ্গ তুলে, রাস্তাঘাটের ঝগড়ার স্তরে নিজেদের নামানো উচিত না।’

বিচারপতি ইন্দ্রপ্রসন্ন মুখোপাধ্যায় তদন্তের সময় অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করা হয়েছিল কি না জানতে চাইলে, জবাবে তুষার মেহতা বলেন, ‘তাদের কখনো গ্রেপ্তার করা হয়নি।’

আইনজীবী সিংভি বলেন, ‘৪০৭ ধারা ব্যবহার করে আগেই জামিন পাওয়া ৪ নেতা-মন্ত্রীর জামিনে কি স্থগিতাদেশ দিতে পারে? স্থগিতাদেশ দেয়ার আগে অভিযুক্তদের বক্তব্য না শোনাকে কি সুবিচার বলা হবে? সিবিআই যা যা আদালতকে জানিয়েছে তার ৯৫ শতাংশ ভিত্তিহীন।’

আরও পড়ুন:
ঘূর্ণিঝড় ইয়াস: ঝুঁকি নেবেন না মমতা
জেলবন্দি বাবার জন্য ফিরহাদকন্যার টুইট
মোদির বৈঠকে আমন্ত্রণ পেয়েও কথা বলতে পারলেন না মমতা
নারদাকাণ্ডে গ্রেপ্তার চার নেতার জামিন শুনানি স্থগিত
পশ্চিমবঙ্গে চার নেতার গ্রেপ্তারে বিজেপিবিরোধীরা এককাট্টা

শেয়ার করুন

মন্তব্য