বিমানের দিক পরিবর্তন করিয়ে বেলারুশের সাংবাদিক গ্রেপ্তার

বেলারুশের সাংবাদিক ও অধিকারকর্মী রোমান প্রোটাসেভিচ। ছবি: সংগৃহীত

বিমানের দিক পরিবর্তন করিয়ে বেলারুশের সাংবাদিক গ্রেপ্তার

বেলারুশের প্রেসিডেন্টের প্রেস সার্ভিস জানায়, সাংবাদিক প্রোটাসেভিচকে বহনকারী রায়ানএয়ার বিমানকে মিনস্ক বিমানবন্দরে নামতে মিগ-২৯ যুদ্ধবিমান পাঠানোর নির্দেশ দেন লুকাশেঙ্কো।

বিমানে গ্রিস থেকে লিথুয়ানিয়ার দিকে যাচ্ছিলেন ইউরোপের পূর্বাঞ্চলীয় দেশ বেলারুশের সাংবাদিক ও অধিকারকর্মী রোমান প্রোটাসেভিচ। তবে বেলারুশের প্রেসিডেন্টের নির্দেশে জোর করে ওই বিমানকে রাজধানী মিনস্কে অবতরণ করানো হয়।

বিমানবন্দরেই একপর্যায়ে গ্রেপ্তার হন ২৬ বছর বয়সী প্রোটাসেভিচ। বর্তমানে তিনি পুলিশের হেফাজতে রয়েছেন।

স্থানীয় সময় রোববার এসব ঘটনা ঘটে বলে বিবিসি, দ্য গার্ডিয়ানআল জাজিরার প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

পোল্যান্ডভিত্তিক অনলাইন নিউজ সার্ভিস নেক্সটায় কাজ করতেন ভিন্ন মতাবলম্বী সাংবাদিক প্রোটাসেভিচ। তিনি নেক্সটা চ্যানেলের সহপ্রতিষ্ঠাতাও।

গত বছর ম্যাসেজিং অ্যাপ টেলিগ্রামের মাধ্যমে বেলারুশের প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার লুকাশেঙ্কোর বিরুদ্ধে গণবিক্ষোভের ফুটেজ সম্প্রচার করে নেক্সটা। গত বছরই নেক্সটাকে ‘চরমপন্থি’ ঘোষণা করে বেলারুশ সরকার।

বেশ কয়েকটি অভিযোগ থাকা প্রোটাসেভিচ গত বছর দেশ ছেড়ে পোল্যান্ডে পালিয়ে যান। দোষী সাব্যস্ত হলে ১৫ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে তার।

বেলারুশের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, বোমা হুমকির কারণে প্রেসিডেন্ট লুকাশেঙ্কো বিমানটি বেলারুশে অবতরণের নির্দেশ দিয়েছিলেন।

অবশ্য বিমানটিতে কোনো বোমা পাওয়া যায়নি।

গত বছরের আগস্টে বিতর্কিত নির্বাচনে জয়ী হন ৬৬ বছর বয়সী প্রেসিডেন্ট লুকাশেঙ্কো। ১৯৯৪ সাল থেকে দেশটি শাসন করছেন তিনি।

সব ধরনের বিরোধী মতকে কঠোরভাবে দমন করে আসছেন লুকাশেঙ্কো। বিরোধী অনেক নেতা-কর্মীকে কারাগারে ঢুকিয়েছেন তিনি। অনেক ভিন্ন মতাবলম্বী দেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্যও হয়েছেন।

বেলারুশের প্রেসিডেন্টের প্রেস সার্ভিস জানায়, সাংবাদিক প্রোটাসেভিচকে বহনকারী রায়ানএয়ার বিমানকে মিনস্ক বিমানবন্দরে নামতে মিগ-২৯ যুদ্ধবিমান পাঠানোর নির্দেশ দেন লুকাশেঙ্কো।

এদিকে বিমানের গতিপথের জোরপূর্বক পরিবর্তন ও বেলারুশের সাংবাদিককে গ্রেপ্তারের ঘটনার নিন্দা জানিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ), যুক্তরাষ্ট্রসহ আন্তর্জাতিক মহল।

সাংবাদিক প্রোটাসেভিচের মুক্তি ও ঘটনা তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে। এ ছাড়া বেলারুশের ওপর নতুন করে অবরোধ আরোপেরও দাবি ওঠে।

বিরোধী মতের ওপর দমনপীড়নের কারণে আগে থেকেই ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা, সম্পদ বাজেয়াপ্তকরণসহ ইইউর আরও কয়েকটি নিষেধাজ্ঞার মধ্যে রয়েছেন বেলারুশের প্রেসিডেন্টসহ বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন বলেন, ‘ইইউভুক্ত দুটি সদস্য রাষ্ট্রের একটি জোর করে বিমানের দিক পরিবর্তন করেছে। এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।

‘একই সঙ্গে সাংবাদিক রোমান প্রোটাসেভিচকে গ্রেপ্তারেরও নিন্দা জানাচ্ছি। আমরা তার দ্রুত মুক্তির দাবি করছি।’

শেয়ার করুন

মন্তব্য

মারা গেছে বাইডেনের কুকুর চ্যাম্প

মারা গেছে বাইডেনের কুকুর চ্যাম্প

চ্যাম্পের এই ছবিটিই ফেসবুকে শেয়ার করেছেন বাইডেন। ছবি: সংগৃহীত

মার্কিন প্রেসিডেন্টের কুকুর প্রীতি রয়েছে। হোয়াইট হাউস তার পরিবারের সঙ্গে দুইটি কুকুরও বাস করে। তারই একটি চ্যাম্প। আরেকটি কুকুরের নাম মেজর।

মার্কিন প্রেসিসেডন্ট জো বাইডেনের প্রিয় কুকুর ‘চ্যাম্প’ মারা গেছে। জার্মান শেফার্ড জাতের এই কুকুরটি বাইডেন পরিবারের সঙ্গে হোয়াইট হাউসেই ছিল।

বাইডেন স্থানীয় সময় শনিবার সকালে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে কুকুরটির মৃত্যুর খবর জানান। স্ট্যাটাসে কুকুরটির অতি শৈশব থেকে শেষ দিন পর্যন্ত নানা সময়ের স্মৃতিচারণ করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

কুকুরদের প্রতি বিশেষ দুর্বলতা রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের। অন্তত দুইটি কুকুর তার সঙ্গে হোয়াইট হাউসেই থাকে বলে জানা যায়।

এর আগেও মেজর নামের তার আরেকটি কুকুর হোয়াইট হাউসের বেশ কয়েকজন কর্মীকে কামড়ে খবরের শিরোনাম হয়।

প্রেসিডেন্ট বাইডেন তার স্ট্যাটাসে লেখেন, ‘গত ১৩ বছর ধরে বাইডেন পরিবারের অত্যন্ত প্রিয় সঙ্গী ছিল চ্যাম্প। গত মাস থেকেই ও দুর্বল হয়ে পড়ছিল। তার পরও আমরা কেউ ঘরে ঢোকার সঙ্গে সঙ্গে ও আমাদের কাছ এসে দাঁড়াত। কান সোজা করত বা দুই পা তুলে দাঁড়াত যেন আমরা ওর পেটে হাত বুলিয়ে দেই।’

আরও পড়ুন: কামড়ে চলছে বাইডেনের কুকুর

‘আমরা যেখানেই যাই, ও সঙ্গে যেতে চাইত। ওর কাছে থাকলে মুহূর্তেই পরিবেশ পাল্টে যেত। সুন্দর করে যেত। দিন শেষে ফায়ারপ্লেসের সামনে আমাদের পায়ের কাছে কুণ্ডলি পাকিয়ে শুয়ে থাকাই ছিল ওর সবচেয়ে পছন্দের কাজ।’

বাইডেন লিখেছেন, ‘বহু সভায় ও আমার সঙ্গে গেছে। হোয়াইট হাউসের বাগানে খেলে বেড়িয়েছে।’

‘ছোট বেলায় দৌড়ে গলফের বল কুড়িয়ে আনতে খুব ভালোবাসত ও। আমাদের নাতি-নাতনিদের সঙ্গে বাগানে ছুটোছুটি করে খেলা করত। ডেলাওয়ারের ওই দিনগুলো আজীবন মনে থাকবে। জীবনের সবচেয়ে মধুর সময় আর সবচেয়ে বিষাদের সময় ও আমাদের সঙ্গে ছিল। আমাদের না বলা বহু কথা, আবেগ বুঝতে পারত ও।’

‘আমাদের মিষ্টি, লক্ষ্মী ছেলে, তোমার কথা সব সময় মনে পড়বে।’ বলে স্ট্যাটাসের ইতি টানেন বাইডেন।

শেয়ার করুন

ইব্রাহিম রাইসিকে ইরানের প্রেসিডেন্ট ঘোষণা

ইব্রাহিম রাইসিকে ইরানের প্রেসিডেন্ট ঘোষণা

৬০ বছর বয়সী ইব্রাহিম রাইসিকে নতুন প্রেসিডেন্ট ঘোষণা দিয়েছে ইরান। ছবি: এএফপি

ইরানের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নির্বাচনে ৬১ দশমিক ৯৫ শতাংশ ভোট পেয়েছেন রাইসি। এবারের নির্বাচনে ৪৮ দশমিক ৮ শতাংশ ভোট পড়েছে, যা ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পরে সর্বনিম্ন ভোট পড়েছে এবার।

সাবেক প্রধান বিচারপতি কট্টর রক্ষণশীল ইব্রাহিম রাইসিকে নতুন প্রেসিডেন্ট হিসেবে ঘোষণা করেছে ইরানের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

শনিবার আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে তথ্য জানানো হয়েছে।

ইরানের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নির্বাচনে ৬১ দশমিক ৯৫ শতাংশ ভোট পেয়েছেন রাইসি। এবারের নির্বাচনে ৪৮ দশমিক ৮ শতাংশ ভোট পড়েছে, যা ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পরে সর্বনিম্ন ভোট পড়েছে এবার।

আগস্টে দেশটির মধ্যপন্থি প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানির কাছ থেকে দায়িত্ব বুঝে নেবেন তিনি।

সমালোচকদের ভাষ্য, রাইসিকে জেতানোর জন্য তার শক্ত প্রতিপক্ষদের নির্বাচনে দাঁড়াতে দেননি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনি।

তবে পশ্চিমাদের টক্কর দিতে ও অর্থনৈতিক সংকটে নিমজ্জিত দেশকে পুনরুদ্ধারে রাইসির বিকল্প নেই বলে মনে করেন তার সমর্থকেরা।

সংবাদ সম্মেলনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আবদল রেজা রাহমানি-ফাজলি বলেন, ‘নির্বাচনে এমন কিছু ঘটে নি, যা ফলাফলের ওপরে গুরুতর প্রভাব ফেলতে পারে।’

ইরানের অনেক সংবাদমাধ্যম মনে করে, সামনের মাসে ৮২ বছরে পা দিতে যাওয়া সর্বোচ্চ নেতা খামেনির সম্ভাব্য উত্তরসূরি হতে পারেন রাইসি।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান আটলান্টিক কাউন্সিলের প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৮ সালে পরমাণু চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের বেরিয়ে যাওয়ার ঘটনায় ইরানের অন্যান্য রক্ষণশীলদের মতো রুহানি শিবিরের কড়া সমালোচনা করেন রাইসি। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি রুহানির শান্তিপ্রয়াসী বন্ধুত্বপূর্ণ নীতি মানেননি তিনি।

এ ছাড়া খামেনির যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী নীতির সমর্থন করেন রাইসি।

ইরানের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় পবিত্র শহর মাশহাদে ১৯৬০ সালে জন্মগ্রহণ করেন রাইসি। তরুণ বয়সেই উচ্চ পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তা পদে পদোন্নতি হয় তার।

১৯৭৯ সালে যুক্তরাষ্ট্র সমর্থিত রাজতন্ত্রকে ক্ষমতাচ্যুত করে ইরানের ইসলামিক বিপ্লব। সে সময় রাইসির বয়স ছিল মাত্র ২০ বছর। রাজধানী তেহরানের উপকণ্ঠে আলবোর্জ প্রদেশের রাজধানী খারাজের প্রসিকিউটর-জেনারেল হিসেবে নিয়োগ পান রাইসি।

১৯৮৮ সালে মার্ক্সবাদী ও বামপন্থিদের গণফাঁসির ঘটনায় অবধারিতভাবেই রাইসির নাম নেন অধিকার সংগঠন ও ইরান থেকে নির্বাসিত বিরোধী মতাবলম্বী ব্যক্তিরা। রাইসি সে সময় তেহরানের রেভ্যুলুশনারি কোর্টের ডেপুটি প্রসিকিউটর ছিলেন।

আশির দশকের গণফাঁসি ও পরবর্তী সময়ে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে রাইসিসহ কয়েকজনের ওপর ২০১৯ সালে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্র।

২০১৯ সালে রাইসিকে ইরানের প্রধান বিচারপতি করেন খামেনি। দেশটির সর্বোচ্চ নেতা মনোনয়ন দেয়া বিশেষজ্ঞ কমিটিরও সদস্য রাইসি।

তেহরানের শাহিদ-বেহেশ্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা বিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক জামিলেহ আলামোলহোদাকে বিয়ে করেন রাইসি। তাদের দুটি মেয়ে আছে।

শেয়ার করুন

ডাস্টবিনে ৩৫০ বছরের পুরনো তৈলচিত্র

ডাস্টবিনে ৩৫০ বছরের পুরনো তৈলচিত্র

ছবিটি নেদারল্যান্ডসের বিখ্যাত শিল্পী স্যামুয়েল ফন হুগসট্রাটেনের আসল চিত্রকর্ম বলে ধারণা করা হচ্ছে।

জার্মান পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়, একজন শিল্পবোদ্ধা বাঁধাই করা শিল্পকর্মগুলো মূল্যায়ন করেছেন। প্রাথমিক মূল্যায়নে সেগুলো আসল বলে মতামত দেন তিনি।

জার্মানিতে রাস্তার ধারে এক ডাস্টবিনে সপ্তদশ শতাব্দীর দুটি মূল্যবান তৈলচিত্র পাওয়া গেছে। পুলিশের ভাষ্য, কুড়িয়ে পাওয়া শিল্পকর্মগুলো ইতালি ও নেদারল্যান্ডসের দুই শিল্পীর বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিবিসির শনিবারের প্রতিবেদনে বলা হয়, গত মাসে জার্মানির বাভারিয়া অঙ্গরাজ্যের উজবুর্গ শহরের একটি মোটরওয়ে সার্ভিস স্টেশনে এক ব্যক্তি ওই ছবি দুটি দেখতে পান। পরে কোলন শহরের পুলিশের কাছে ছবিগুলো হস্তান্তর করেন তিনি।

এখন পর্যন্ত ছবি দুটির স্বত্ব কেউ দাবি করেননি।

জার্মান পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়, একজন শিল্পবোদ্ধা বাঁধাই করা শিল্পকর্মগুলো মূল্যায়ন করেছেন। প্রাথমিক মূল্যায়নে সেগুলো আসল বলে মতামত দেন তিনি।

তৈলচিত্রের একটিতে লাল টুপি পরা এক ছেলে হাস্যোজ্জ্বল মুখে তাকিয়ে রয়েছে। পুলিশ বলছে, স্যামুয়েল ফন হুগসট্রাটেন নামে নেদারল্যান্ডসের বিখ্যাত চিত্রশিল্পী ও লেখক ছবিটি আঁকেন। ১৬২৭ সালে জন্মগ্রহণ করে ১৬৭৮ সালে মৃত্যু হয় ওই শিল্পীর।

ইতালীয় শিল্পী পিয়েত্রো বেল্লোত্তির হাসিখুশি আত্মপ্রতিকৃতিও পাওয়া যায় ডাস্টবিনটিতে। ১৬২৫ সালে জন্ম নিয়ে ১৭০০ সালে মারা যান স্বল্প পরিচিত ওই শিল্পী।

ডাস্টবিনে ৩৫০ বছরের পুরনো তৈলচিত্র

ইতালির পিয়েত্রো বেল্লোত্তির হাসিখুশি আত্মপ্রতিকৃতি।

শিল্পকর্মগুলোর মালিক কে বা কীভাবে সেগুলো ডাস্টবিনে এলো এই সংক্রান্ত তথ্য জানাতে সবার প্রতি আহ্বান জানিয়েছে কোলন শহরের পুলিশ।

২০১৯ সালে লন্ডনে বিখ্যাত নিলামকারী প্রতিষ্ঠান বনহ্যামস ডাচ শিল্পী হুগসট্রাটেনের ষষ্ঠদশ শতাব্দীর ছবি (যেখানে এক রাখাল গাছের নিচে বিশ্রাম নিচ্ছে) ৫৮ লাখ টাকায় বিক্রি করে।

শেয়ার করুন

সারদা মামলায় দেবযানীর জামিন

সারদা মামলায় দেবযানীর জামিন

দেবযানী মুখোপাধ্যায়। ফাইল ছবি

শনিবার সারদা মামলায় পশ্চিমবঙ্গের সবকটি সারদা মামলায় দেবযানী মুখোপাধ্যায় জামিন পেলেও ওড়িশা, অসমে তার বিরুদ্ধে সিবিআই, ইডির মামলা রয়েছে। তাই তিনি এখনই জেল থেকে ছাড়া পাবেন কিনা সে ব্যাপারে নিশ্চিত নয়।

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে সারদা চিটফান্ড মামলার অন্যতম অভিযুক্ত দেবযানী মুখোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে চলা পশ্চিমবঙ্গের সব কটি মামলায় জামিন দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, ব্যক্তিগত ২ লাখ টাকার মুচলেকায় সারদা গোষ্ঠীর সেকেন্ড-ইন-কমান্ডকে জামিন দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট ।

জামিনের শর্তে বলা হয়েছে, নিজের বাড়ির থানা এলাকার বাইরে কোথাও যেতে পারবেন না দেবজানী।

সপ্তাহে একবার সিবিআই তদন্তকারী কর্মকর্তাদের সঙ্গে দেখা করতে হবে। জেলের বাইরে থাকবার সময় কোনো সাক্ষীর সঙ্গে যোগাযোগ বা যোগাযোগের চেষ্টা করতে পারবেন না দেবযানী।

সারদা চিটফান্ড কেলেংকারিতে ১৫ জুন আরসি সিক্সের একটি মামলায় কলকাতা হাইকোর্টে জামিনের জন্য আবেদন করেন দেবযানী ।

১৬ জুন কলকাতা হাইকোর্ট জানিয়ে দেয়, রাজ্যের সবকটি সারদা মামলার শুনানি শেষ। সেদিন ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি রাজেশ বিন্দলের ডিভিশন বেঞ্চ, রায়দান স্থগিত রাখে।

শনিবার শর্তসাপেক্ষে দেবযানীর জামিন দেয় হাইকোর্ট।

সারদা গোষ্ঠীর এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর ছিলেন দেবযানী মুখোপাধ্যায়। সারদার প্রধান সুদীপ্ত সেনের পর তিনি ছিলেন সর্বময় কর্তা। সারদা গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে বাজার থেকে কয়েক হাজার কোটি টাকা তোলার অভিযোগ প্রকাশ্যে এলে গ্রেপ্তারি এড়াতে দেবযানী মুখোপাধ্যায়কে সঙ্গে নিয়ে সারদাকর্তা সুদীপ্ত সেন পালিয়ে যান।

২০১৩ সালের এপ্রিল মাসে দেবযানী সুদীপ্ত সেনের সঙ্গে কাশ্মীরে ধরা পড়েন। রাজ্য পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হন দেবযানী মুখোপাধ্যায়, সুদীপ্ত সেন। সেই থেকে জেলে। পরবর্তীতে এই মামলার তদন্ত ভার সিবিআইয়ের হাতে চলে যায়।

তবে শনিবার সারদা মামলায় পশ্চিমবঙ্গের সবকটি সারদা মামলায় দেবযানী মুখোপাধ্যায় জামিন পেলেও ওড়িশা, অসমে তার বিরুদ্ধে সিবিআই, ইডির মামলা রয়েছে। তাই তিনি এখনই জেল থেকে ছাড়া পাবেন কিনা সে ব্যাপারে নিশ্চিত নয়।

শেয়ার করুন

ইরানের হবু প্রেসিডেন্ট কে এই রাইসি

ইরানের হবু প্রেসিডেন্ট কে এই রাইসি

ইরানের প্রেসিডেন্ট হচ্ছেন ৬০ বছর বয়সী কট্টর রক্ষণশীল ইব্রাহিম রাইসি। ছবি: এএফপি

রাইসি ইরানের রাজনীতিতে চটকদারিত্বের জন্য বিখ্যাত নন। বরং বিচার বিভাগের প্রধান হিসেবে দেশের দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জনপ্রিয় প্রচারের জন্য সুপরিচিত তিনি।

মাথায় কালো পাগড়ি ও ধর্মীয় পোশাক পরা কট্টর রক্ষণশীল ইব্রাহিম রাইসি কঠোর জীবনযাপনে অভ্যস্ত। দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সবসময় সোচ্চার তিনি।

ইরানের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বিশাল ব্যবধানে জয় পান ৬০ বছর বয়সী রাইসি। আগস্টে দেশটির মধ্যপন্থি প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানির কাছ থেকে দায়িত্ব বুঝে নেবেন তিনি।

সমালোচকদের ভাষ্য, রাইসিকে জেতানোর জন্য তার শক্ত প্রতিপক্ষদের নির্বাচনে দাঁড়াতে দেননি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনি।

তবে পশ্চিমাদের টক্কর দিতে ও অর্থনৈতিক সংকটে নিমজ্জিত দেশকে পুনরুদ্ধারে রাইসির বিকল্প নেই বলে মনে করেন তার সমর্থকেরা।

বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়, রাইসি ইরানের রাজনীতিতে চটকদারিত্বের জন্য বিখ্যাত নন। বরং বিচার বিভাগের প্রধান হিসেবে দেশের দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জনপ্রিয় প্রচারের জন্য সুপরিচিত তিনি।

নির্বাচনি প্রচারে রাইসি অঙ্গীকার করেছিলেন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে তার লড়াই জারি থাকবে।

পাশাপাশি নিম্ন আয়ের পরিবারের জন্য ৪০ লাখ ঘর নির্মাণ ও ‘শক্তিশালী ইরানের জন্য জনগণের সরকার’ প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি সে সময় দেন তিনি।

ইরানের অনেক সংবাদমাধ্যম মনে করে, সামনের মাসে ৮২ বছরে পা দিতে যাওয়া সর্বোচ্চ নেতা খামেনির সম্ভাব্য উত্তরসূরি হতে পারেন রাইসি।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান আটলান্টিক কাউন্সিলের প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৮ সালে পরমাণু চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের বেরিয়ে যাওয়ার ঘটনায় ইরানের অন্যান্য রক্ষণশীলদের মতো রুহানি শিবিরের কড়া সমালোচনা করেন রাইসি। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি রুহানির শান্তিপ্রয়াসী বন্ধুত্বপূর্ণ নীতি মানেননি তিনি।

এ ছাড়া খামেনির যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী নীতির সমর্থন করেন রাইসি।

তার মতে, যুক্তরাষ্ট্র আস্থা রাখার মতো দেশ নয়। দেশটির অবরোধ তুলে ফেলার ওপর ইরানের অর্থনৈতিক সমস্যার সমাধান নিহিত নয়। বরং স্বনির্ভর ও স্থানীয় উৎপাদনকে উৎসাহ জোগানোর মধ্য দিয়ে ‘প্রতিরোধমূলক অর্থনীতি’ দাঁড় করানোই বেশি জরুরি।

ইরানের হবু প্রেসিডেন্ট কে এই রাইসি

অবশ্য ইরানের রাজনীতিকদের মতো রাইসিও মনে করেন, দেশের অর্থনৈতিক সংকট থেকে উত্তোরণে ২০১৫ সালের পরমাণু চুক্তিতে ফিরে যাওয়ার দরকার রয়েছে।

ইরানের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় পবিত্র শহর মাশহাদে ১৯৬০ সালে জন্মগ্রহণ করেন রাইসি। তরুণ বয়সেই উচ্চ পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তা পদে পদোন্নতি হয় তার।

১৯৭৯ সালে যুক্তরাষ্ট্র সমর্থিত রাজতন্ত্রকে ক্ষমতাচ্যুত করে ইরানের ইসলামিক বিপ্লব। সে সময় রাইসির বয়স ছিল মাত্র ২০ বছর। রাজধানী তেহরানের উপকণ্ঠে আলবোর্জ প্রদেশের রাজধানী খারাজের প্রসিকিউটর-জেনারেল হিসেবে নিয়োগ পান রাইসি।

১৯৮৮ সালে মার্ক্সবাদী ও বামপন্থিদের গণফাঁসির ঘটনায় অবধারিতভাবেই রাইসির নাম নেন অধিকার সংগঠন ও ইরান থেকে নির্বাসিত বিরোধী মতাবলম্বী ব্যক্তিরা। রাইসি সে সময় তেহরানের রেভ্যুলুশনারি কোর্টের ডেপুটি প্রসিকিউটর ছিলেন।

২০১৮ সালে এমনকি গত বছরও রাজবন্দিদের গণফাঁসির বিষয়ে জিজ্ঞেস করা হলে রাইসি তার সংশ্লিষ্টতার কথা অস্বীকার করেন।

আশির দশকের গণফাঁসি ও পরবর্তী সময়ে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে রাইসিসহ কয়েকজনের ওপর ২০১৯ সালে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্র।

রাইসির বিচারিক অভিজ্ঞতা কয়েক দশকের। ১৯৮৯ থেকে ১৯৯৪ সাল পর্যন্ত তেহরানের প্রসিকিউটর-জেনারেল ছিলেন তিনি।

২০০৪ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত উপপ্রধান বিচারপতির দায়িত্ব পালন করেন রাইসি। ২০১৪ সালেই ন্যাশনাল প্রসিকিউটর-জেনারেল হন তিনি।

রাইসির জীবনীতে বলা রয়েছে, সর্বোচ্চ নেতা খামেনির অধীনে ধর্মতত্ত্ব ও ইসলামিক আইনশাস্ত্র নিয়ে পড়াশোনা করেন তিনি।

২০১৬ সালে রাইসিকে একটি দাতব্য সংস্থার প্রধান করেন খামেনি। সংস্থাটি মাশহাদ শহরের ইমাম রেজার মাজার পরিচালনার পাশাপাশি ইরানের বড় শিল্পও নিয়ন্ত্রণ করে থাকে।

তিন বছর পর ২০১৯ সালে রাইসিকে ইরানের প্রধান বিচারপতি করেন খামেনি। দেশটির সর্বোচ্চ নেতা মনোনয়ন দেয়া বিশেষজ্ঞ কমিটিরও সদস্য রাইসি।

তেহরানের শাহিদ-বেহেশ্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা বিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক জামিলেহ আলামোলহোদাকে বিয়ে করেন রাইসি। তাদের দুটি মেয়ে আছে।

শেয়ার করুন

সুইস ব্যাংকে ভারতীয় আমানত ১৩ বছরে সর্বোচ্চ

সুইস ব্যাংকে ভারতীয় আমানত ১৩ বছরে সর্বোচ্চ

জুরিখের সুইস ন্যাশনাল ব্যাংক ভবন। ফাইল ছবি।

২০১৪ সালের লোকসভা ভোটের আগে অন্যতম ইস্যু ছিল কালো টাকা। নরেন্দ্র মোদি আশ্বাস দিয়েছিলেন, ক্ষমতায় এলে বিদেশ থেকে কালো টাকা ফেরাবেন তিনি। সেই টাকা দিয়ে ভারতের নাগরিকদের ১৫ লাখ টাকা দেয়া যাবেও বলে জানিয়েছিলেন মোদি।

১৩ বছরে সবেচেয়ে বেশি। একলাফে ২৬৮ শতাংশ বৃদ্ধি। রিপোর্ট বলছে, ২০১৯ সালের শেষে সুইস ব্যাংকে ভারতীয়দের ৬ হাজার ৬২৫ কোটি টাকা জমা ছিল। সেখানে ২০২০ সালের শেষে দাঁড়িয়েছে ২০ হাজার ৭০০ কোটি টাকায়।

এই অঙ্ক ১৩ বছরে সবচেয়ে বেশি। সুইস সেন্ট্রাল ব্যাংকের এই বার্ষিক প্রতিবেদনের পর প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়েছে কেন্দ্রীয় সরকারকে।

এ বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয় বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছে, একাধিক সংবাদ মাধ্যমে যে দাবি করা হচ্ছে তা সঠিক নয়। কারণ সুইস ব্যাংকের যে তথ্য প্রকাশিত হয়েছে, সেখান থেকে বলা যায় না ভারতীয়দের কালো টাকা রফতানির পরিমাণ বেড়েছে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের দাবি, যে তথ্য প্রকাশিত হয়েছে, তাতে সুইসের ব্যাংকের একাধিক ভারতীয় শাখার অর্থ জমা রয়েছে। তাই কালো টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে এ কথা বলা যাবে না।

সুইস ব্যাংকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, আমানতের যে পরিসংখ্যান দেয়া হয়েছে, তাতে একটা কিন্তু আছে।

‘গ্রাহক অ্যাকাউন্টে আমানত’ হিসাবে শ্রেণিবদ্ধ ফান্ডগুলি প্রকৃতপক্ষে ২০১৯ সালে ৫৫০ মিলিয়ন সুইস ফ্র্যাঙ্ক (৪,৪৪২ কোটি রুপিরও বেশি) থেকে কমে ২০২০ সালে দাঁড়িয়েছে ৫০৩.৯ মিলিয়ন ফ্র্যাঙ্ক (চার হাজার কোটি টাকার সামান্য বেশি)।

ট্রাস্ট রক্ষক ও ট্রাস্টের মাধ্যমে প্রাপ্ত অর্থও আলোচ্য সময়ে ৭.৪ মিলিয়ন সুইস ফ্র্যাঙ্ক (৫৯.৭৬ কোটি টাকা) থেকে কমে ২ মিলিয়ন সুইস ফ্র্যাঙ্ক (১৬.৫ কোটি) হয়েছে।

যদিও গ্রাহকদের অ্যাকাউন্টে জমা অর্থ কমলেও বন্ড, সিকিউরিটিজ ও অন্যভাবে সুইস ব্যাংকে গচ্ছিত অর্থ বিপুলভাবে বেড়েছে।

অর্থ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যে অঙ্কের টাকা বৃদ্ধির কথা বলা হয় তা সুইস ন‍্যাশনাল ব‍্যাংকের পরিসংখ্যান। কিন্তু আদৌ তা হিসেব বহির্ভূত টাকা কী না, কিংবা কত টাকা রয়েছে, সেই তথ্য রিপোর্টে উল্লেখ নেই।

২০১৪ সালের লোকসভা ভোটের আগে অন্যতম ইস্যু ছিল কালো টাকা। নরেন্দ্র মোদি আশ্বাস দিয়েছিলেন, ক্ষমতায় এলে বিদেশ থেকে কালো টাকা ফেরাবেন তিনি। সেই টাকা দিয়ে ভারতের নাগরিকদের ১৫ লাখ টাকা দেয়া যাবেও বলে জানিয়েছিলেন মোদি।

কিন্তু তারই ক্ষমতাসীন অবস্থায় সুইস ব্যাংকে টাকা বৃদ্ধির তথ্যে সুর চড়িয়েছে বিরোধীরা। কংগ্রেসের দাবি, সুইস ব্যাঙ্কে কী পরিমাণ কালো টাকা রয়েছে তার শ্বেতপত্র প্রকাশ করুক কেন্দ্রীয় সরকার।

শেয়ার করুন

যুক্তরাষ্ট্রে কসমেটিক্স পণ্যে উচ্চ মাত্রার ফ্লোরিন

যুক্তরাষ্ট্রে কসমেটিক্স পণ্যে উচ্চ মাত্রার ফ্লোরিন

নতুন গবেষণায় বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় পাওয়া যায় এমন ২৩১টি কসমেটিক্স পণ্যের মধ্যে ৫২ শতাংশ পণ্যে উচ্চ মাত্রায় ফ্লোরিনের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। এর অর্থ ওইসব পণ্যে পিএফএএস থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় বিক্রি হওয়া বিপুল সংখ্যক কসমেটিক্স পণ্যে উচ্চ মাত্রায় ফ্লোরিন পাওয়া গেছে। ওইসব পণ্যে ‘ফরেভার কেমিক্যাল’ নামে পরিচিত সম্ভাব্য ক্ষতিকর পার-অ্যান্ড পলিফ্লুরোঅ্যালকাইল সাবসটেন্সেস (পিএফএএস) থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সায়েন্স এলার্টের শনিবারের প্রতিবেদনে বলা হয়, মানুষের তৈরি হাজার হাজার যৌগিক পদার্থের সংমিশ্রণ পিএফএএস। বিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময় থেকে গৃহস্থালী ও বাণিজ্যিক পণ্য উৎপাদনে এসব যৌগ ব্যবহার হয়ে আসছে।

গত কয়েক দশকের গবেষণায় দেখা যায়, টেকসই পিএফএএস পরিবেশে ব্যাপক মাত্রায় পাওয়া যায়। মানুষ ও জীবজন্তুর স্বাস্থ্য সংক্রান্ত ক্ষতিকর প্রভাবের সঙ্গে পিএফএএস যৌগিক পদার্থের উচ্চ মাত্রায় উপস্থিতির যোগসূত্র রয়েছে।

পিএফএএস সম্ভাব্য ও অজানা ঝুঁকির কারণ হলেও এতে বিভিন্ন ধরনের যৌগ উপস্থিত থাকায় অনেক ‘ফরেভার কেমিক্যাল’ এখনও বিভিন্ন পণ্যে ব্যবহৃত হচ্ছে। ইউরোপ ও এশিয়ার কসমেটিক্স পণ্যে এই কেমিক্যাল পাওয়ার ঘটনা আগের এক গবেষণায় জানা যায়।

বিজ্ঞানীদের গবেষণায় সম্প্রতি দেখা যায়, উত্তর আমেরিকায় বিক্রি হওয়া কসমেটিক্স পণ্যে পিএফএএস কেমিক্যাল রয়েছে।

নতুন ওই গবেষণায় বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় পাওয়া যায় এমন ২৩১টি কসমেটিক্স পণ্যের মধ্যে ৫২ শতাংশ পণ্যে উচ্চ মাত্রায় ফ্লোরিনের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। এর অর্থ ওইসব পণ্যে পিএফএএস থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অফ নটর ডেমের পদার্থবিদ গ্রাহাম পিয়াসলি বলেন, ‘এসব কসমেটিক্স পণ্য চোখ ও মুখের চারদিকে দেয়া হয়। চামড়া, টিয়ার ডাক্টের পাশাপাশি শ্বাস বা খাবার গ্রহণের সময় এসব যৌগ শরীরের ভেতরে প্রবেশ করতে পারে।’

তিনি বলেন, ‘পিএফএএস স্থির কেমিক্যাল। রক্তপ্রবাহে একবার ঢুকলে এটি সেখানেই থাকে ও জমাটবদ্ধ হয়।’

পরীক্ষা-নিরীক্ষায় লিপস্টিক, ফাউন্ডেশন, কনসিলারসহ আরও অনেক কসমেটিক্স পণ্যে উচ্চ মাত্রায় ফ্লোরিনের উপস্থিতি পাওয়া গেছে।

ওয়াটারপ্রুফ মাসকারায় অনেক বেশি মাত্রায় ফ্লোরিন পাওয়া গেছে। পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা মাসকারার মধ্যে ৮২ শতাংশ মাসকারায় ওই কেমিক্যাল পাওয়া যায়।

মুখে ব্যবহার করা প্রসাধন সামগ্রীর (পাউডার, ব্লাশ, ব্রোঞ্জার, হাইলাইটার, প্রাইমার, স্প্রে) ৪০ শতাংশের মধ্যে ফ্লোরিন পাওয়া গেছে।

গবেষণা প্রতিবেদনে বিজ্ঞানীরা বলেন, “উচ্চ মাত্রার ফ্লোরিনের উপস্থিতি থাকা পণ্যের (ফাউন্ডেশন, লিকুইড লিপস্টিক, ওয়াটারপ্রুফ মাসকারাসহ অন্যান্য কসমেটিক্স) বিজ্ঞাপনে ‘পানি ও তেল প্রতিরোধী’ বা ‘দীর্ঘস্থায়ী’এসব কথা লেখা থাকে।”

গবেষনায় কসমেটিক্স পণ্যে পিএফএএসের উপস্থিতি ধরা পড়লেও এগুলোর মড়কে ভিন্ন কথা লেখা রয়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসনের (এফডিএ) নীতিমালার লঙ্ঘন।

গবেষকেরা বলেন, ‘২৩১ কসমেটিক্স পণ্যের মধ্যে মাত্র ৮ শতাংশ পণ্যের মড়কে উপাদানের অংশে পিএফএএসের উল্লেখ ছিল। আর ২৯টি পণ্যের মধ্যে কেবল ৩ শতাংশ পণ্যের উপাদানে পিএফএএস যুক্ত ছিল।’

শেয়ার করুন