আবার জেগেছে নিরাগঙ্গো, আতঙ্কে ডিআর কঙ্গো

আবার জেগেছে নিরাগঙ্গো, আতঙ্কে ডিআর কঙ্গো

গোমা থেকে বেশ দূরে কিভু হ্রদ এলাকা থেকেও স্পষ্ট নিরাগঙ্গোর অগ্ন্যুৎপাত। ছবি: এএফপি

আগ্নেয়গিরিতে একটি নতুন ফাটল সৃষ্টি হওয়ায় গোমার দক্ষিণের দিকে বয়ে যেতে শুরু করেছে উত্তপ্ত লাভা। সেদিক থেকে শহরের পূর্ব প্রান্তে অবস্থিত বিমানবন্দরের দিকে এগোচ্ছে লাভার স্রোত।

গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রে (ডিআর কঙ্গো) প্রায় দুই দশকের ব্যবধানে আবারও পূর্ণোদ্যমে সক্রিয় হয়ে উঠেছে নিরাগঙ্গো আগ্নেয়গিরি। ভয়াবহ মাত্রায় উদগিরণ শুরু হওয়ায় পূর্বাঞ্চলীয় শহর গোমা থেকে বাসিন্দাদের সরিয়ে নিচ্ছে প্রশাসন।

গোমা থেকে মাত্র ১০ কিলোমিটার দূরে নিরাগঙ্গো শেষ বার জেগে উঠেছিল ২০০২ সালে। সে সময় অগ্ন্যুৎপাতে প্রাণ যায় আড়াই শ মানুষের। গৃহহীন হয় এক লাখ ২০ হাজার মানুষ।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০ লাখ বাসিন্দার শহরটির রাতের আকাশ নিরাগঙ্গোর আগুনে কমলা রং ধারণ করেছে। জ্বলন্ত লাভার বিস্ফোরণে দূর-দূরান্তে গিয়ে পড়ছে আগুনের ফুলকি।

উত্তপ্ত লাভার ঢলের আতঙ্কে প্রাণ বাঁচাতে শহর ছেড়ে পালাতে শুরু করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। দলে দলে হেঁটেই ছাড়ছেন শহর। উদগিরণ শুরু হওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর সরকারি ঘোষণা এলেও এর আগেই পূর্বাঞ্চলে রুয়ান্ডা সীমান্তের উদ্দেশে ছুটতে শুরু করেন হাজারো মানুষ।

আবার জেগেছে নিরাগঙ্গো, আতঙ্কে ডিআর কঙ্গো
অগ্ন্যুৎপাত আতঙ্কে শহর ছেড়ে প্রতিবেশী দেশ রুয়ান্ডার দিকে ছুটছেন কঙ্গোর হাজারো মানুষ। ছবি: এএফপি

রুয়ান্ডার প্রশাসন জানিয়েছে, এরই মধ্যে তিন হাজার মানুষ গোমা সীমান্ত পার করেছেন বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। বাকিদের অনেকেই শহরের পশ্চিমাঞ্চলের উঁচু এলাকায় গিয়ে আশ্রয় নিচ্ছেন।

আবার জেগেছে নিরাগঙ্গো, আতঙ্কে ডিআর কঙ্গো
নিরাপদ আশ্রয়ের অপেক্ষায় ছুটতে ছুটতে ক্লান্ত হয়ে পথেই ঘুমিয়ে নিচ্ছে অনেকে। ছবি: এএফপি

বার্তা সংস্থা এপিকে জাখারি পালুকু নামের এক নাগরিক বলেন, ‘আমাদের মাথা খারাপ হয়ে যাচ্ছে। সবাই ভয় পেয়ে আছে, পালাচ্ছে। কী করা উচিত আমাদের, বুঝতে পারছি না।’

আগ্নেয়গিরিতে একটি নতুন ফাটল সৃষ্টি হওয়ায় গোমার দক্ষিণের দিকে বয়ে যেতে শুরু করেছে উত্তপ্ত লাভা। সেদিক থেকে শহরের পূর্ব প্রান্তে অবস্থিত বিমানবন্দরের দিকে এগোচ্ছে লাভার স্রোত।

আবার জেগেছে নিরাগঙ্গো, আতঙ্কে ডিআর কঙ্গো
অগ্ন্যুৎপাতের আতঙ্কে শহর ছাড়ছেন গোমার হাজারো মানুষ। ছবি: এএফপি

পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কায় শহরের বড় অংশজুড়ে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন রাখা হয়েছে। লাভার কারণে বন্ধ হয়ে গেছে গোমার সঙ্গে বেনি শহরের সড়ক যোগাযোগ। বিষাক্ত সালফারের গন্ধ মিশে যাচ্ছে দূরের বাতাসেও।

ভিরুঙ্গা ন্যাশনাল পার্কে অবস্থিত আগ্নেয়গিরিটির এবারের অগ্ন্যুৎপাতও ২০০২ সালের মতোই ভয়াবহ রূপ নেয়ার পথে বলে সতর্ক করেছেন পার্কটির এক কর্মকর্তা। কর্মীদের উদ্দেশে দেয়া চিঠিতে বিমানবন্দরের কাছে অবস্থানরত প্রত্যেককে অবিলম্বে সরে যাওয়ার নির্দেশও দিয়েছেন তিনি।

চলমান পরিস্থিতিতে রাজধানী কিনশাসায় জরুরি বৈঠক করেছেন কঙ্গোর প্রধানমন্ত্রী জ্যঁ-মিখাইল সামা লুকোঁদ।

আবার জেগেছে নিরাগঙ্গো, আতঙ্কে ডিআর কঙ্গো
নিরাপদ আশ্রয়ের অপেক্ষায় ছুটে চলা পরিবারের হারিয়ে যাওয়া একটি শিশু রাস্তার পাশে। ছবি: এএফপি

বাসিন্দাদের শান্ত থাকার পরামর্শ দিচ্ছে প্রশাসন। যদিও অনেকেই অভিযোগ করেছেন, সরকারের পক্ষ থেকে পর্যাপ্ত তথ্য সরবরাহ না করায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেক বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াচ্ছে। এতে মানুষের মধ্যে অস্থিরতা বাড়ছে।

আবার জেগেছে নিরাগঙ্গো, আতঙ্কে ডিআর কঙ্গো
রুয়ান্ডা সীমান্তে অপেক্ষারত কঙ্গোর আশ্রয়হীন এক কিশোর। ছবি: এএফপি

বিশ্বের অন্যতম সক্রিয় আগ্নেয়গিরি নিরাগঙ্গো। দুর্নীতির অভিযোগে বিশ্ব ব্যাংকের তহবিল বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর থেকে আগ্নেয়গিরিটির বিষয়ে গোমা ভলকানো অবজারভেটরির যথাযথ তথ্য সংগ্রহ বিঘ্নিত হচ্ছিল।

গত ১০ মে নিরাগঙ্গোর আশপাশে ভূ-কম্পনের বিষয়ে সতর্ক করেছিল অবজারভেটরি।

নিরাগঙ্গো পর্বতের সবচেয়ে প্রাণঘাতী অগ্ন্যুৎপাত হয় ১৯৭৭ সালে। সে সময় মারা যায় ছয় শতাধিক মানুষ।

আরও পড়ুন:
ভাঙল ৮০০ বছরের ঘুম

শেয়ার করুন

মন্তব্য