গাজায় ত্রাণ যাওয়া শুরু

গাজায় ত্রাণ যাওয়া শুরু

গাজায় যুদ্ধবিরতির পর পৌঁছেছে ত্রাণ। ছবি: এএফপি

ইসরায়েল সরকার সীমান্তের কেরেম শালোম ক্রসিং খুলে দেয়ার পর ওষুধ, খাদ্য ও জ্বালানি নিয়ে জাতিসংঘের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানসহ বেশ কিছু দাতব্য সংস্থার ট্রাক পৌঁছেছে গাজায়।

ইসরায়েলি আগ্রাসনে বিধ্বস্তপ্রায় গাজায় ত্রাণ পৌঁছানো শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে অস্ত্রবিরতি কার্যকর হওয়ার পরদিনই ত্রাণবাহী প্রথম গাড়িবহরটি পৌঁছায় অবরুদ্ধ উপত্যকায়।

বিবিসির প্রতিবেদনে জানানো হয়, ইসরায়েলের সেনাবাহিনীর নির্বিচার বিমান হামলা থেকে প্রাণ বাঁচাতে ঘরবাড়ি ছেড়ে পালানো হাজারও ফিলিস্তিনি বাসভূমিতে ফিরতে শুরু করেছেন। অবশ্য ১১ দিনের ধ্বংসযজ্ঞের পর বেশির ভাগ মানুষই মাথার উপরে ছাদ খুঁজে পাচ্ছেন না।

স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, ধ্বংসের ব্যাপকতা এতই বেশি যে বিধ্বস্ত অবকাঠামো পুনর্নির্মাণে লেগে যেতে পারে কয়েক বছর। আগে থেকেই দারিদ্র্য ও করোনাভাইরাস মহামারিতে জর্জরিত অঞ্চলটি পুনর্গঠনে লেগে যাবে কয়েক কোটি ডলার।

হামলায় আহত ব্যক্তিদের চিকিৎসার জন্য নিরাপদে সরিয়ে নিতে আলাদা করিডরের ব্যবস্থা করার আহ্বান জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)।

ডব্লিউএইচওর মুখপাত্র মার্গারেট হ্যারিস বলেন, গাজার ভঙ্গুর স্বাস্থ্য খাতে বোমায় আহত হাজারও মানুষের চিকিৎসার ব্যবস্থা করে ওঠা প্রায় অসম্ভব। তাই অবিলম্বে বিপুল পরিমাণ চিকিৎসা সরঞ্জাম ও স্বাস্থ্যকর্মী পাঠানো দরকার সেখানে।

১০ থেকে ২০ মে পর্যন্ত ইসরায়েলি বাহিনীর বিমান হামলায় প্রাণ গেছে ৬৫ শিশুসহ ২৫০ জনের বেশি ফিলিস্তিনির। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে ১০০ জন নারী। আহত দুই হাজারের বেশি। ভিটেমাটি হারিয়েছে এক লাখের বেশি মানুষ।

সহিংসতায় দুর্গতদের জন্য ওষুধ, খাদ্য ও জ্বালানি নিয়ে জাতিসংঘের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানসহ বেশ কিছু দাতব্য সংস্থার ট্রাক পৌঁছেছে গাজায়।

গাজায় ত্রাণ যাওয়া শুরু
গাজায় ত্রাণের গাড়ি পৌঁছেছে শুক্রবার। ছবি: এএফপি

ইসরায়েল সরকার সীমান্তের কেরেম শালোম ক্রসিং খুলে দেয়ার পরই ত্রাণ নিয়ে গাজায় প্রবেশ করতে শুরু করে ট্রাকগুলো।

জাতিসংঘের শিশুবিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ জানিয়েছে, গাজায় এ মুহূর্তে বিশুদ্ধ পানি পাচ্ছে না আট লাখের বেশি মানুষ।

সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাস চোরাই পথে অস্ত্র সংগ্রহ করে, এমন অভিযোগে গাজায় কয়েক দশক ধরে অবরোধ আরোপ করে রেখেছে ইসরায়েল ও মিসর। এতে দুর্বিষহ জীবন কাটছে অঞ্চলটির সাধারণ বাসিন্দাদের।

জাতিসংঘের ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের সহায়তা সংস্থা ইউএনআরডব্লিউএ জানিয়েছে, এ মুহূর্তে গাজায় আশ্রয়হীন লাখো মানুষকে শনাক্ত ও সহযোগিতা করাই প্রথম লক্ষ্য। এ জন্য এখনই দরকার প্রায় চার কোটি ডলার।

২০১৪ সালের পর সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী বিমান হামলায় অঞ্চলটিতে পুরোপুরি বিধ্বস্ত হয়েছে এক হাজার বাড়িঘর। বসবাসের অনুপযোগী আরও ১ হাজার ৮০০ আবাসিক ভবন।

ইসরায়েলের দাবি, কেবল হামাসের স্থাপনা লক্ষ্য করেই হামলা চালানো হয়েছে এবং নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে কমপক্ষে ২২৫ জন হামাস যোদ্ধা।

দুই সপ্তাহের কম সময়ে ইসরায়েলি ভূখণ্ড লক্ষ্য করে প্রায় সাড়ে চার হাজার ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে গাজার শাসক দল হামাসসহ সশস্ত্র অন্য সংগঠনগুলো।

ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সশস্ত্র গোষ্ঠীটির রকেট হামলায় ইসরায়েলে এক সেনা, তিন বিদেশি, দুই শিশুসহ নিহত হয়েছে ১৩ জন। যদিও লক্ষ্যে আঘাত হানার আগেই আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আয়রন ডোম ব্যবহার করে ৯০ শতাংশ ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করে দিয়েছে ইসরায়েলি সেনারা।

অস্ত্রবিরতি কার্যকরের ফলে বোমা থেকে বাঁচার আশ্রয়কেন্দ্র থেকে বেরিয়ে বাড়ি ফিরেছে অনেক ইহুদি পরিবার। জরুরি অবস্থা তুলে নিয়ে রোববার থেকে খুলে দেয়া হচ্ছে ইসরায়েলের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।

ইসলাম ও ইহুদি ধর্মাবলম্বীদের কাছে পবিত্র ভূমি খ্যাত পূর্ব জেরুজালেমের প্রাচীন শহরে আল-আকসা মসজিদে সংঘর্ষের ঘটনাকে ঘিরে কয়েক সপ্তাহ ধরে চলছিল উত্তেজনা। এর জেরেই শুরু হয় সহিংসতা।

আল-আকসা থেকে সরে যাওয়ার জন্য সতর্কবার্তা হিসেবে ইসরায়েলে রকেট ছোড়ে হামাস। ইসরায়েল, যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমাদের কাছে ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ হিসেবে বিবেচিত গোষ্ঠীটির বিরুদ্ধে অভিযানে নেমে বিমান হামলা শুরু করে ইসরায়েল।

অতীতে একাধিকবার অস্ত্রবিরতি কার্যকরের পরও ইসরায়েল ও হামাসের যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার নজির রয়েছে। এবারও অস্ত্রবিরতি কার্যকরের পর আল-আকসায় অভিযান চালিয়েছে ইসরায়েলি সেনারা।

আরও পড়ুন:
গাজায় কীভাবে সহায়তা যাবে, ব্যাখ্যা দিলেন ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রদূত
যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও আল-আকসায় ইসরায়েলের হামলা
গাজায় হামলা: বায়তুল মোকাররমে বিক্ষোভ
জাতিসংঘে ফিলিস্তিন সংকটের স্থায়ী সমাধান চাইল বাংলাদেশ
অস্ত্রবিরতি রক্ষায় কাজ করবেন বাইডেন

শেয়ার করুন

মন্তব্য